পিরোজপুরে নিজ গোপনাঙ্গ কেটে ফেললেন যুবক

পিরোজপুরের নাজিরপুরে নিজ পুরুষাঙ্গ কেটে ফেললেন মো. বায়েজিদ শিকদার (২৮) নামে এক যুবক। তিনি উপজেলার মাটিভাঙ্গা ইউনিয়নের দক্ষিণ বানিয়ারী গ্রামের এমেদুল শিকদারের ছেলে।

রোববার (২৭ এপ্রিল) দুপুরে নিজ বাড়ির বসত ঘরে বসে ওই যুবক এ ঘটনা ঘটান। মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডাক্তার শিমুল কৌশিক সাহা বলেন, রোববার দুপুরে ওই যুবককে হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে আসা হয়। তার পুরুষাঙ্গ সম্পূর্ণ কেটে বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। তার অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

ওই যুবকের চাচি জানান, যুবকের পিতা মাঠে ধান কাটার কাজে ও মা পরিবারের কাজে ব্যস্ত থাকায় দুপুরে তিনি তার নিজ বাড়ির বসত ঘরের বিল্ডিংয়ের দরজা আটকে নিজের পুরুষাঙ্গ কেটে বিচ্ছিন্ন করে ফেলে। এতে গুরুতর আহত হলে পরিবারের লোকজন তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। তিনি আরও বলেন, ওই যুবক মানসিক ভারসাম্যহীন। এর আগে গত বছর তিনি আত্মহত্যার উদ্দেশে নিজ বাড়ির ছাদ থেকে লাফিয়ে আহত হয়েছিলেন।

এ ব্যাপারে নাজিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহমুদ আল ফরিদ ভুইয়া বলেন, ঘটনাটি শুনেছি। এ বিষয়ে খোঁজ নিচ্ছি।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




খাল বাঁচলেই বরগুনা বাঁচবে: এখনও সম্ভব ভাড়ানি খাল রক্ষা

ভাড়ানি খাল বরগুনা শহরের প্রাণ। একসময় যেখানে ছিল খরস্রোতা নৌপথ, এখন সেখানে জমেছে আবর্জনা, দখল আর বিষাক্ত বর্জ্য। তবে পরিবেশবাদীরা বলছেন—আশা এখনও শেষ হয়নি, চাই শুধু কার্যকর পদক্ষেপ।

বরগুনা শহরের বুক চিরে খাকদোন নদী থেকে পায়রা নদীতে মিশে যাওয়া খালটির গুরুত্ব অপূরণীয়। পরিবেশ, নৌ-যোগাযোগ, শহরের সৌন্দর্য এবং পানির উৎস—সব কিছুর কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে এই খালটি। অথচ দখলদারদের দাপট, পৌরসভার অবহেলা ও নাগরিকদের অসচেতনতার কারণে খালটি আজ মৃত্যুর মুখে।

২০১৮ সালে ‘বেলা’র করা মামলার রায়ে হাইকোর্ট খালের দুই কিলোমিটার এলাকার দখল উচ্ছেদের নির্দেশ দিলেও বাস্তবে তার অল্পই বাস্তবায়ন হয়েছে। ২০১৯ সালে ৫০টির বেশি স্থাপনা উচ্ছেদ করা হলেও বর্তমানে ১৫০টির বেশি অবৈধ স্থাপনা আবার গড়ে উঠেছে খাল ঘিরে। নিয়মিত আবর্জনা ফেলা, বাজার ও বাসাবাড়ির বর্জ্য নিঃসংশয়ে নিক্ষেপ—এটাই এখন বাস্তবতা।

পরিবেশ আন্দোলনকারীরা বলছেন, এটি শুধু খাল রক্ষার প্রশ্ন নয়, পুরো শহরের অস্তিত্ব রক্ষার বিষয়। বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) বরগুনা শাখার সভাপতি মুশফিক আরিফ বলেন, “এই খাল শহরের অন্যতম জলাবদ্ধতা প্রতিরোধকারী প্রাকৃতিক ব্যবস্থাও বটে। এটি শুকিয়ে গেলে শহর বৃষ্টিতে ডুববে, বাস্তুতন্ত্র ভেঙে পড়বে।”

বরগুনা স্বাস্থ্য ফোরামের সিনিয়র সহসভাপতি জাহাঙ্গীর কবীর মৃধা বলেন, “মুরগির বর্জ্য, মাছ বাজারের আবর্জনা এই খালে পড়ছে, আর সেই পানি দিয়েই অনেক পরিবার রান্না ও গোসল করছে—এটা মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে।”

জনসাধারণ ও পরিবেশকর্মীরা একমত—খাল রক্ষা করতে হলে প্রয়োজন ৩টি প্রধান পদক্ষেপ:

  1. নিয়মিত খাল পরিষ্কার কার্যক্রম
  2. নতুন দখল রোধে কঠোর নজরদারি
  3. জনসচেতনতা ও গণমাধ্যমে প্রচার

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন—এভাবে চলতে থাকলে একদিন পুরো খালটাই কেবল মানচিত্রেই থাকবে, বাস্তবে নয়। বরগুনাবাসী এখন পৌরসভার দৃশ্যমান পদক্ষেপের অপেক্ষায়, যাতে ভাড়ানি খাল ফিরে পায় তার হারানো প্রাণ ও গৌরব।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




পরিবারতন্ত্র আর আত্মীয়তাই বরগুনা বিএনপির পতনের কারণ?

বরগুনা জেলা বিএনপির সাংগঠনিক দুর্বলতা এখন এক প্রজন্মের রাজনৈতিক ব্যর্থতার প্রতিচ্ছবি। সরকারের পতনের পরও দলটি সেখানে তেমন কোনো কার্যকর প্রতিরোধ গড়তে পারেনি। বরং বরগুনার রাজনীতিতে এখনো আওয়ামী লীগের একতরফা দাপটই পরিলক্ষিত হচ্ছে।

স্থানীয় রাজনীতিবিদ ও পর্যবেক্ষকদের মতে, বিএনপির এই দুর্বলতার অন্যতম কারণ দলীয় নেতৃত্বের পরিবারতন্ত্র এবং আওয়ামী লীগের সঙ্গে আত্মীয়তাপূর্ণ সম্পর্ক। বরগুনায় বিএনপির নেতৃত্ব দীর্ঘদিন ধরে একই পরিবারের হাতে থাকলেও দলের সাংগঠনিক কাঠামো মজবুত হয়নি। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের প্রায় সব পদেই নিয়োজিত রয়েছেন মোল্লা পরিবারের সদস্যরা। অভিযোগ রয়েছে, দলীয় পদ-পদবি ব্যবহার করে তারা ব্যক্তি স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়েছেন।

বিএনপির জেলা অফিসের একাংশ বলছে, এই পরিবারতন্ত্রের ফলে দলের মধ্যে কোনো গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি গড়ে ওঠেনি। বরং পদ বিক্রির অভিযোগে কেন্দ্র থেকে পর্যন্ত বিলুপ্ত করা হয়েছে জেলা কমিটি। সেই সঙ্গে রয়েছে আত্মীয়তাজনিত দ্বৈত রাজনৈতিক সম্পর্ক। একদিকে বিএনপি, অন্যদিকে পরিবারের অনেক সদস্যই সরাসরি আওয়ামী লীগের পদ-পদবিধারী। ফলে রাজনৈতিকভাবে পক্ষান্তর ঘটেছে নিঃশব্দে, কার্যত আওয়ামী লীগেরই ছায়ায় সক্রিয় রয়েছেন অনেকে।

২০২৫ সালের আগস্টে শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তনের দাবিতে বরগুনায় যে মিছিল-সমাবেশ হয়, তা আওয়ামী লীগের সক্রিয়তা এবং বিএনপির নীরবতার একটি বড় উদাহরণ হয়ে দাঁড়ায়। ওই কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতা জাহাঙ্গীর কবির পরে গ্রেপ্তার হলেও দ্রুত জামিন পান। ফেসবুক লাইভে ঈদ উপহার বিতরণ, শহীদবেদিতে ফুল দেওয়া, গান প্রকাশসহ বিভিন্ন কর্মসূচি আওয়ামী লীগ অব্যাহত রাখলেও বিএনপি বরাবরই ছিল নিষ্ক্রিয়। এমনকি পুলিশের ভূমিকাও প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে উঠেছে—বিএনপির পক্ষ থেকে মামলা করতে গেলে তা গ্রহণ না করার অভিযোগ উঠেছে বর্তমান পুলিশ সুপারের বিরুদ্ধে।

এদিকে আওয়ামী লীগ নেতাদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাগুলো দুর্বল তদন্ত ও প্রমাণের অভাবে বারবার জামিনযোগ্য হয়ে উঠছে বলে দাবি করেছে বিএনপি। বরগুনা বিএনপির অনেক নেতাকর্মী বলেন, “পুলিশ ও প্রশাসন একপক্ষের হয়ে কাজ করছে। কিন্তু সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে আমাদের নিজেদের অভ্যন্তরীণ নেতৃত্ব সংকট।”

অভিযোগ অস্বীকার করে মোল্লা পরিবারের প্রবীণ নেতা নজরুল ইসলাম মোল্লা বলেন, “বরগুনায় বিএনপি মানেই মোল্লা পরিবার। আমরা দলের শেল্টার দিই, আত্মীয়ের রাজনৈতিক মতামতের দায় আমরা নিই না।” তবে স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাজনৈতিক বিভাজনের পাশাপাশি পারিবারিক আত্মীয়তার জাল থেকে বের হতে না পারলে বরগুনা বিএনপি কখনোই পুনরুত্থান ঘটাতে পারবে না।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




ভূমি জটিলতায় থমকে বরিশাল-ফরিদপুর ৬ লেন মহাসড়ক প্রকল্প

বরিশাল-ফরিদপুর এবং বরিশাল-পায়রা-কুয়াকাটা জাতীয় মহাসড়ক ৬ লেনে উন্নীত করার প্রকল্প দীর্ঘসূত্রতার কবলে পড়ে চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছে। ভূমি অধিগ্রহণে দীর্ঘ বিলম্ব এবং ব্যয় তিনগুণ বেড়ে যাওয়ায় এখনো চূড়ান্ত হয়নি সংশোধিত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি)। ফলে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের বহুপ্রতীক্ষিত এ সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

দক্ষিণাঞ্চলের ১১টি জেলার যাতায়াত ব্যবস্থা এই প্রকল্পের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু ভূমি অধিগ্রহণে দেরির কারণে প্রকল্পের ব্যয় ১,৮৬৭ কোটি টাকা থেকে বেড়ে প্রায় ৬,৫০০ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। পরিকল্পনা কমিশনে সংশোধিত ডিপিপি আটকে থাকায় কাজ এগোচ্ছে না। সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো একাধিক বৈঠক করলেও এখনো প্রকল্প চূড়ান্ত হয়নি।

২০১৫ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে এডিবি’র অর্থায়নে ২১১ কিলোমিটার দীর্ঘ এই মহাসড়কের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা ও নকশা তৈরি হয়। তখনই ধরা হয় প্রকল্পের সম্ভাব্য ব্যয় প্রায় ২১ হাজার কোটি টাকা। ২০১৮ সালে আলাদা একটি প্রকল্পে ভূমি অধিগ্রহণের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয় ১,৮৬৭ কোটি টাকা। নির্ধারিত সময় ছিল ২০২১ সালের জুন, যা পরে বাড়িয়ে ২০২৪ করা হয়। তবুও অর্ধেক জমিও অধিগ্রহণ হয়নি।

তথ্য মতে, জমির দাম বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি নতুন বাইপাস নির্মাণ, বরিশাল বিমানবন্দর ডাইভার্শন এবং কিছু স্থাপনা পুনর্বাসনের প্রয়োজন হওয়ায় অতিরিক্ত ২০০ হেক্টরের মতো জমি অধিগ্রহণের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। এতে ব্যয় বেড়ে দাঁড়াবে ৬,৫০০ কোটির বেশি। ইতোমধ্যে বরিশালের ৩৩ কিমি ও মাদারীপুরের ১০ কিমি এলাকায় ভূমি অধিগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে, কিন্তু গত অর্থবছরের বরাদ্দের ৮৯০ কোটি টাকার প্রায় সবটাই ফেরত গেছে।

সড়ক ও সেতু মন্ত্রণালয় এবং সড়ক অধিদপ্তর জানিয়েছে, ভূমি অধিগ্রহণ নিয়ে জটিলতা এবং ছয়টি জেলার প্রশাসনিক গাফিলতির কারণে প্রকল্পটির অগ্রগতি ব্যাহত হচ্ছে। এদিকে এডিবি পুরনো সমীক্ষা ও নকশা বাতিল করে নতুন করে কাজ শুরুর শর্ত দিয়েছে, কিন্তু সে দিকেও অগ্রগতি নেই।

পদ্মা সেতু চালুর পর বরিশাল অঞ্চলের সঙ্গে ঢাকার সরাসরি যোগাযোগ আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কিন্তু মহাসড়কের দুরবস্থা এবং বাড়তি যানবাহনের কারণে বরিশাল থেকে ফরিদপুর অংশে ৯১ কিমি রাস্তা অতিক্রম করতে ৪ ঘণ্টা পর্যন্ত সময় লাগছে। পাশাপাশি বাড়ছে দুর্ঘটনাও।

পরিকল্পনা কমিশনের উচ্চ পর্যায় থেকে সরেজমিন পরিদর্শনে ইতিবাচক মনোভাব দেখা গেলেও এখনো প্রকল্পটি বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি)-তে অন্তর্ভুক্ত হয়নি। সংশ্লিষ্টরা আশাবাদী হলেও বাস্তবতা এখনো হতাশাজনক।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




বরিশালে ইসলামী ব্যাংকের ত্রৈমাসিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত

ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি-এর বরিশাল জোনে অনুষ্ঠিত হয়েছে ত্রৈমাসিক ব্যবসায় উন্নয়ন সম্মেলন।
শনিবার (২৬ এপ্রিল) বরিশাল জোনাল অফিসের কনফারেন্স রুমে এই আয়োজনটি অনুষ্ঠিত হয়।

সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্যাংকের ম্যানেজিং ডাইরেক্টর (চলতি দায়িত্ব) মো. ওমর ফারুক খান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অ্যাডিশনাল ম্যানেজিং ডাইরেক্টর মো. আলতাফ হুসাইন, ডেপুটি ম্যানেজিং ডাইরেক্টর মুহাম্মদ সাঈদ উল্লাহ এবং এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট আবু নোমান মো. সিদ্দিকুর রহমান।

সম্মেলনের সভাপতিত্ব করেন বরিশাল জোনপ্রধান মো. সারোয়ার হোসাইন। এতে জোনের আওতাধীন সব শাখা ও উপশাখার প্রধানগণ অংশগ্রহণ করেন।

ব্যবসায়িক কার্যক্রমের অগ্রগতি, সেবা উন্নয়ন এবং ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে সম্মেলনে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /


 




গরমে রাস্তার পাশের শরবতে সর্বনাশ!

গরমে শরীর থেকে ঘাম বের হয়, যা শরীরকে দুর্বল করে ফেলে। বিশেষ করে শিশু, বৃদ্ধ, অসুস্থ ব্যক্তি এবং যারা বাইরে কাজ করেন, তাদের জন্য এই ঘাটতি পূরণে পানি ও শরবত পান করা খুবই জরুরি। তবে গরমে তৃষ্ণা মেটাতে রাস্তার পাশে পাওয়া শরবত অনেকেই খেয়ে থাকেন, কিন্তু এই শরবত আসলেই স্বাস্থ্যসম্মত কি না, তা নিয়ে রয়েছে শঙ্কা।

রাস্তার পাশে শরবত: বিপদ কি না?

গরমের সময় রাস্তাঘাটে পাওয়া যায় লেবু, বেল, কাঁচা আমের শরবতসহ নানা রকম শরবত। সস্তা হওয়ায় এগুলো তৃষ্ণা মেটাতে অনেকেই পান করে থাকেন। তবে চিকিৎসকরা এসব শরবতকে বিপদজনক বলে দাবি করেছেন। রাস্তার পাশে বিক্রি হওয়া এসব শরবত তৈরিতে স্বাস্থ্যকর পানি ব্যবহার না করা, বরফের অস্বাস্থ্যকর ব্যবহার এবং অপরিষ্কার উপকরণ শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

বিশুদ্ধ পানি, পরিষ্কার ফল এবং চিনি ব্যবহার করে যদি শরবত তৈরি করা হয়, তবে তা উপকারী। কিন্তু ফুটপাতে বিক্রি হওয়া শরবতগুলিতে এই স্বাস্থ্যসম্মত উপকরণের অভাব থাকে। ফলে ডায়রিয়া, জন্ডিস এবং অন্যান্য পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়।

স্বাস্থ্য ঝুঁকি ও অস্বাস্থ্যকর বরফ

অনেক জায়গায় দেখা যায়, শরবত তৈরির জন্য যে বরফ ব্যবহার করা হয়, তা মাছের বাজার থেকে আনা হয়। মাছ সংরক্ষণের জন্য ব্যবহৃত বরফ শরবত তৈরিতে ব্যবহার করা হলে তা মানবস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হতে পারে। বরিশালের সচেতন নাগরিকরা এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং ভ্রাম্যমাণ দোকানদারদের উপর নজরদারি বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন।

বরিশাল সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মলয় কৃষ্ণ বড়াল বলেন, রাস্তার পাশে অস্বাস্থ্যকর শরবত ও খাবার খেয়ে মানুষ ডায়রিয়া, টাইফয়েড, জন্ডিস, বমি ইত্যাদি সমস্যায় আক্রান্ত হচ্ছেন। তিনি সকলকে এসব অস্বাস্থ্যকর খাবার ও পানীয় থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। বিশেষ করে গরমে শরীরে পানি ঘাটতি পূরণের জন্য বিশুদ্ধ পানি, ওরাল স্যালাইন এবং ডাবের পানি পান করার কথা বলেছেন।

রিক্সাচালক ও পথচারীরা জানান, তারা তৃষ্ণা মেটাতে রাস্তার পাশের শরবত পান করে থাকেন। তবে তারা কখনোই নিশ্চিত হতে পারেন না, শরবতের পানি ও বরফ কতটা নিরাপদ। এক রিক্সাচালক বলেন, “তৃষ্ণা পেলে শরবত খাই, ভালো-মন্দ চিন্তা করার সময় নেই।”

গরমের সময়ে শরবত পান করতে গিয়ে যদি স্বাস্থ্যঝুঁকি হয়, তবে আমাদের সকলেরই উচিত এসব অস্বাস্থ্যকর শরবত থেকে দূরে থাকা। বিশুদ্ধ পানি, স্বাস্থ্যকর উপকরণ এবং পরিচ্ছন্ন পরিবেশে প্রস্তুত খাবার ও পানীয় খাওয়া আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য সবচেয়ে ভালো।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




বরিশাল মেরিন একাডেমির মেধাবী ছাত্র সুলাইমান ও বোনের শিক্ষা জীবন অনিশ্চয়তার কবলে

বরিশাল মেরিন একাডেমির মেধাবী ছাত্র সুলাইমান মল্লিক ও তার ছোট বোন সুরাইয়ার জীবন এখন সীমাহীন অনটনে বিপর্যস্ত। শৈশব থেকেই একাধিক চ্যালেঞ্জের মধ্যে পড়লেও তারা কখনোই পড়াশোনা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়নি। সুলাইমান, যিনি ৫ম ও ৮ম শ্রেণীতে বৃত্তি পেয়েছিল, বর্তমানে জিপিএ-৫ সহ মাধ্যমিক এবং উচ্চ মাধ্যমিক পাস করে বরিশাল মেরিন একাডেমিতে ভর্তির যোগ্যতা অর্জন করেছেন। তাঁর স্বপ্ন, মেরিন টেকনোলজিতে উচ্চশিক্ষা নিয়ে সমুদ্রগামী জাহাজে কাজ করে সারা পৃথিবী ভ্রমণ করা। তবে এখন তাঁর সামনে এক কঠিন বাস্তবতা—অর্থনৈতিক অভাব।

সুলাইমানের শিক্ষা জীবন

সulaiমানের মা হাসিনা বেগম ও নানা মোমিন আলী, তাদের দুটি সন্তানকে নিজের সীমিত আয়ের মধ্যে বড় করেছেন। সুলাইমানের বাবা এক অজ্ঞাত কারণে পরিবার ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন, যা তাদের জীবনে এক গভীর শূন্যতা তৈরি করেছে। সেসব অভাব-অনটনের মধ্যেও মেধাবী সুলাইমান কখনো পড়াশোনায় পিছিয়ে পড়েননি। তার ছোট বোন সুরাইয়া, যিনি বর্তমানে শহিদ জিয়াউর রহমান কলেজে পড়াশোনা করছেন, তারও একই রকম পরিস্থিতি।

বৈরি পরিস্থিতির পরেও দুই সন্তানই দারুণ কৃতিত্বের সাথে পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছেন। সুলাইমানের একাডেমিতে ভর্তি হওয়ার খরচে সাহায্য পাওয়া গেলেও, তার সেমিস্টার ফি এবং আবাসিক হোস্টেলে থাকার খরচ পরিশোধ করার মতো কোনও ব্যবস্থা এখনও করা সম্ভব হয়নি। এই অবস্থায় সুলাইমানের জন্য আগামী দিনের পথ আরো কঠিন হয়ে পড়েছে। তাঁর ছোট বোন সুরাইয়া, যিনি প্রতিদিন দীর্ঘ পথ পায়ে হেঁটে কলেজে যান, একাধিক শারীরিক কষ্টের সম্মুখীন হচ্ছেন।

মা হাসিনা বেগমের সংগ্রাম

মা হাসিনা বেগম, যিনি শুরু থেকেই সন্তানদের সুখ-দুঃখের সাথী ছিলেন, এখনো একে একে তাদের পড়াশোনার খরচ যোগানোর জন্য মানুষের বাড়িতে কাজ করছেন। কিন্তু তাঁর সামর্থ্য সীমিত হওয়ায়, সংসারের খরচ আর দুই সন্তানের লেখাপড়ার খরচ চালানো এক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এমন পরিস্থিতিতে তাদের স্বপ্ন যেন এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে ধাবিত হচ্ছে। মা হাসিনা এবং নানা মোমিন আলী তাদের সন্তানদের একটি ভালো জীবন দেওয়ার জন্য নিরলসভাবে কাজ করছেন, তবে অভাবের কারণে তাদের স্বপ্ন প্রায়ই ভেঙে পড়ছে।

সহায়তার প্রয়োজন

এই মেধাবী ভাই-বোনদের জন্য এখন সহায়তার প্রয়োজন। যদি তারা অর্থনৈতিক সহায়তা পায়, তাহলে তারা তাদের পড়াশোনায় আরও ভালো করতে পারবে এবং ভবিষ্যতে দেশের জন্য ভালো কিছু করতে সক্ষম হবে। সুলাইমানের শিক্ষার দিকে সমাজের মানুষের সহানুভূতির হাত বাড়ানো গেলে, তারা তাদের স্বপ্ন পূরণের পথে আরও একধাপ এগিয়ে যাবে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম




বরিশালের বেলস পার্ক এখন হাটবাজার, দর্শনার্থীদের ক্ষোভ

বরিশালের বেলস পার্ক, যেটি দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম জনপ্রিয় বিনোদন কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত, এখন আর তার পুরনো সৌন্দর্য হারিয়ে ফেলেছে। বরিশালের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত এই উদ্যান, যা বরিশালবাসীর জন্য এক সময় ছিল শান্তির আশ্রয়স্থল, এখন পরিণত হয়েছে একটি হাটবাজারে। এখানে দোকান-পাট, খাবারের স্টল এবং অন্যান্য ব্যবসায়িক কার্যক্রমের জন্য জায়গা দখল করে বসেছে, যার ফলে স্থানটির সৌন্দর্য রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

বেলস পার্কে গড়ে উঠেছে ছোট বড় প্রায় ২৫০টি দোকান। প্রতি দিন সেখানে গড়ে উঠা এসব দোকান থেকে চাঁদা আদায় করা হচ্ছে, যা বেশ কয়েক লাখ টাকা হয়ে দাঁড়ায়। যদিও বরিশাল সিটি কর্পোরেশন দাবি করেছে যে তারা ১৭৮টি দোকান বসানোর অনুমতি দিয়েছে, বাস্তবে দোকানের সংখ্যা অনেক বেশি। অধিকাংশ দর্শনার্থী এবং স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন যে, এই দোকানগুলোর কারণে পার্কের সৌন্দর্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হচ্ছে।

সন্ধ্যার পর বেলস পার্কে ঘুরতে আসা দর্শনার্থীরা জানিয়েছেন, পার্কের সৌন্দর্য রক্ষা করতে সর্বোচ্চ ২০-২৫টি দোকান থাকতে পারতো, কিন্তু বর্তমানে প্রায় ২৫০টি দোকান পার্কে গড়ে উঠেছে। এ ছাড়া, অনেকেই মনে করছেন যে, প্রশাসনই তাদের মনবিকাশের জন্য এসব দোকান বসিয়ে পরিবেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে। তাদের মতে, এইসব দোকানগুলো পার্কের ঐতিহাসিক সৌন্দর্যকে নষ্ট করছে এবং সেখানকার পরিবেশে কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য বাড়িয়ে দিয়েছে।

একজন প্রাতঃভ্রমণকারী জানান, বেলস পার্কে মাদকাসক্ত কিশোরদের দৌরাত্ম্য বাড়ছে এবং সন্ধ্যার পর এখানকার পরিবেশ খুবই অস্বস্তিকর হয়ে উঠছে। তারা জানান, এটি ছিল বরিশালের ঐতিহাসিক জায়গা, যেখানে বড় বড় সরকারি অনুষ্ঠান, রাজনৈতিক সভা এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হতো। তবে এখন এটি শুধু দোকান-পাটের জন্য এক বিশৃঙ্খলা পরিণত হয়েছে।

বরিশাল সিটি কর্পোরেশন এবং জেলা প্রশাসন দু’টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দায়িত্ববিভাগ নিয়ে কিছু বিভ্রান্তি রয়েছে। সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে যে তারা পার্কের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে রয়েছে, তবে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) লুসিকান্ত হাজং জানিয়েছেন যে, বেলস পার্কের মাঠ এবং ডিসি লেক জেলা প্রশাসনের অধীনে, তবে এর অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং দোকান বসানোর দায়িত্ব সিটি কর্পোরেশনের।

এ বিষয়ে স্থানীয় ব্যবসায়ী খোশনুর আলম মিঠু বলেছেন, ‘‘বরিশালবাসী এক সময় এখানে এসে হাঁটাহাঁটি করতো, গল্প-আড্ডা দিতো, কিন্তু এখন পার্কটি দোকান, হাটবাজার, গ্যাং এবং মাদকাসক্তদের দখলে চলে গেছে।’’ তিনি আরও জানান, যদি প্রশাসন দোকানগুলোর সংখ্যা সীমিত করত এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্য রক্ষা করতো, তাহলে এটি পুনরায় একটি সুন্দর বিনোদন কেন্দ্র হতে পারতো।

বেলস পার্কের বর্তমান অবস্থা আসলেই উদ্বেগজনক। স্থানীয়দের মতে, যদি এটি ঠিক না করা হয়, তবে খুব শিগগিরই বরিশালের ঐতিহ্যবাহী এই উদ্যান পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যাবে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম




বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (ববি) রেজিস্ট্রারের অপসারণের দাবিতে বিক্ষোভ

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) রেজিস্ট্রার মো. মনিরুল ইসলামের অপসারণসহ চার দফা দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করেছেন। রবিবার দুপুরে তারা প্রশাসনিক ভবনে তালা লাগিয়ে রেজিস্ট্রারের কুশপুত্তলিকা দাহ করেন। আন্দোলনকারীরা স্পষ্ট ঘোষণা করেছেন, যতদিন রেজিস্ট্রার মনিরুল ইসলাম অপসারণ না করা হবে, ততদিন তারা এই তালা খুলবেন না।

শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন যে, রেজিস্ট্রার মনিরুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনে প্রভাব বিস্তার করেছেন, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের সুশাসনের পরিপন্থী। এছাড়া তিনি নারী কেলেঙ্কারিতে জড়িত ছিলেন, তারপরেও তাকে প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদে রাখা হয়েছে।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা দাবি করেন, অধ্যাপক ড. মুহসিন উদ্দিন স্যারের বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদ প্রত্যাহার এবং তাকে একাডেমিক কাউন্সিল ও সিন্ডিকেটে পুনর্বহাল করা হোক।




বরিশালে বজ্রপাতে গৃহবধূর মৃত্যু

বরিশাল জেলার হিজলা উপজেলায় গৌরাব্দি ইউনিয়নের চর কুশুরিয়া এলাকায় রবিবার দুপুরে আকস্মিক বজ্রপাতে ইয়ানুর বেগম (৩০) নামের এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। একই দিনে আরও একটি বজ্রপাতের ঘটনায় এক জেলে গুরুতর আহত হয়েছেন।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে হিজলা থানার ওসি মো. আবুল কালাম আজাদ জানান, ইয়ানুর বেগম উপজেলার মান্দ্রার চর কুশুরিয়া গ্রামের হাবিব মাঝির স্ত্রী। রবিবার দুপুর দেড়টার দিকে বজ্রপাতে ইয়ানুর অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাকে দ্রুত উদ্ধার করে উপজেলা হাসপাতালে নিয়ে আসা হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

অপরদিকে, একই দিন দুপুরে মেঘনা নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে বজ্রপাতে আহত হন জেলে জাকির হোসেন (২৪)। তাকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে উপজেলা হাসপাতালে নিয়ে আসলে, অবস্থার অবনতি দেখে চিকিৎসকরা তাকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। জাকির হোসেন বড় জালিয়া ইউনিয়নের খুন্না গোবিন্দপুর এলাকার খলিল হাওলাদারের ছেলে।