মুফতী ফয়জুল করীমের মেয়রের চেয়ারে বসা আটকে আছে কোথায়?

বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মুফতী সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীমের মেয়রের চেয়ারে বসার পথ এখনো আটকে আছে। চট্টগ্রাম ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে বিএনপির প্রার্থীরা মামলা করে মেয়র পদে বসতে পারলেও বরিশালে ফয়জুল করীমের বিষয়টি ঝুলে আছে আদালতে। একদিকে শুনানির তারিখ বারবার পিছিয়ে দেওয়া, অন্যদিকে সরকারের সদিচ্ছার অভাব—দুইয়ে মিলে সৃষ্টি হয়েছে নানা প্রশ্ন।

২০২৩ সালের বরিশাল সিটি নির্বাচন ঘিরে হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী মুফতী ফয়জুল করীমের জয়ের সম্ভাবনা ছিল প্রবল। তবে নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে ব্যাপক অভিযোগ ওঠে যে, তাঁকে কারচুপির মাধ্যমে হারানো হয়েছে। এ নিয়ে গত ১৭ এপ্রিল বরিশালের আদালতে মামলা করেন তিনি। শুনানির জন্য ২৪ এপ্রিল তারিখ নির্ধারিত থাকলেও, সেদিন শুনানি শেষে আদালত পরবর্তী শুনানির দিন ৫ মে নির্ধারণ করে, ফলে বিষয়টি আরও বিলম্বিত হয়।

সরকারি উপদেষ্টার মন্তব্যে নতুন বিতর্ক:: 

সরকারের স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়ার একটি বক্তব্য নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। এক গণমাধ্যমকে তিনি জানান, তিনি ক্ষমতাচ্যুত সরকারের আমলে অনুষ্ঠিত প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচনের প্রার্থীদের আদালতের মাধ্যমে মেয়র পদে বসানোর পক্ষে নন। তাঁর মতে, এতে অবৈধ নির্বাচনকে বৈধতা দেওয়া হবে। এই বক্তব্যের পর ইসলামী আন্দোলনের নেতাকর্মীরা দাবি করছেন, সরকারের ইচ্ছাকৃত বাধার কারণেই ফয়জুল করীমকে মেয়রের চেয়ারে বসতে দেওয়া হচ্ছে না।

বিক্ষোভ ও দাবির ঝড়:: 

ইতোমধ্যে বরিশালসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে মুফতী ফয়জুল করীমকে মেয়র ঘোষণা করার দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক বিবৃতিও দেওয়া হয়েছে। তাঁরা একে ইসলামী আন্দোলনের প্রতি বৈষম্য ও অবিচার হিসেবে দেখছেন।

নতুন মামলা, নতুন ষড়যন্ত্রের অভিযোগ:: 

এর মধ্যে গত ২৩ এপ্রিল জাতীয় পার্টির (জাপা) প্রার্থী ইকবাল হোসেন (তাপস) একই নির্বাচন নিয়ে আদালতে নতুন করে মামলা করেছেন। যিনি নির্বাচনে তৃতীয় হয়েছিলেন। ইসলামী আন্দোলনের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হচ্ছে, হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থীকে মেয়র ঘোষণা ঠেকাতে পরিকল্পিতভাবে এই মামলা করা হয়েছে।

বর্তমানে মুফতী ফয়জুল করীম ও তার অনুসারীরা ৫ মে’র শুনানির দিকে তাকিয়ে আছেন। তাঁদের দৃঢ় বিশ্বাস, সেদিন আদালত হাতপাখার পক্ষে রায় দেবে এবং এরপর নির্বাচন কমিশন গেজেট প্রকাশ করবে। যদি এমনটা হয়, তবে বাংলাদেশের ইতিহাসে মুফতী ফয়জুল করীম হবেন প্রথম কোনো আলেম মেয়র।


মো: তুহিন হোসেন / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪.কম /




পায়রা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের পরিত্যক্ত স্ক্র্যাপইয়ার্ডে আগুন

পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার ধানখালীতে সদ্য চালু হওয়া ১৩২০ মেগাওয়াটের কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র (আরএনপিএল) এর স্ক্র্যাপ শেডে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। রোববার (২৭ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে বিশাল এই স্ক্র্যাপ ইয়ার্ডে হঠাৎ আগুন লেগে যায়। প্রায় ২০ একর এলাকাজুড়ে আগুন ছড়িয়ে পড়ে এবং লেলিহান শিখা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, স্ক্র্যাপ শেডে জমাকৃত লোহা-লক্কর ও অন্যান্য ধাতব সামগ্রীতে দাউদাউ করে আগুন জ্বলতে দেখা যায়। এতে অন্তত ১৩-১৪টি ডিউটি পোস্ট সম্পূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, সেখানে হাজার টনের বেশি স্ক্র্যাপ মজুত ছিল, যা আগুনের তীব্রতা বাড়াতে ভূমিকা রাখে। যদিও এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

ঘটনার খবর পেয়ে কলাপাড়া ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পাওয়ার প্লান্টের কর্মীদের সহায়তায় ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। আগুন যাতে মূল বিদ্যুৎ উৎপাদন ইউনিটে ছড়িয়ে না পড়ে, সে জন্য বিশেষ সতর্কতা নেওয়া হয়েছে।

পটুয়াখালী ১৩২০ মেগাওয়াট তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম ভূঁইয়া জানান, মূল প্লান্ট এখনো নিরাপদ রয়েছে এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনে কোনো সমস্যা হয়নি। তিনি আরও বলেন, অগ্নিকাণ্ড নাশকতার ঘটনা কি না, তা নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে।

এদিকে, ঘটনার পরপরই কলাপাড়া উপজেলা প্রশাসন ও থানা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন এবং সার্বিক পরিস্থিতি তদারকি করছেন। আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনতে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এ ঘটনায় পুরো এলাকা জুড়ে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



ঝালকাঠিতে মুগ ডাল চাষে কৃষকদের মুখে হাসি

ঝালকাঠি জেলার কৃষকদের জন্য চলতি মৌসুমটি অত্যন্ত সুখবর বয়ে এনেছে। মুগ ডালের বাম্পার ফলন এই অঞ্চলের কৃষকদের মুখে হাসি ফুটিয়েছে। কৃষি বিভাগের প্রযুক্তিগত সহায়তা ও চাষিদের প্রশিক্ষণের ফলে এবারের মুগ ডালের আবাদ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে প্রায় ৪০০ হেক্টর জমিতে বাড়ানো সম্ভব হয়েছে। এই অঞ্চলের উৎপাদিত মুগ ডাল এখন স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পৌঁছে যাচ্ছে। কৃষকেরা লাভবান হওয়ার পাশাপাশি মুগ ডাল চাষে নতুন উদ্যোক্তাদের আগ্রহও বৃদ্ধি পাচ্ছে।

নলছিটি উপজেলার কুলকাঠি গ্রামের কৃষকদের মতে, মুগ ডাল চাষে সময়মতো বীজ, সার ও প্রশিক্ষণ সহায়তা পাওয়ায় তাদের ফলন সন্তোষজনক হয়েছে। প্রায় প্রতিটি পরিবারে কৃষি কাজে নারীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পুরুষদের পাশাপাশি নারীরাও মাঠে কাজ করছেন। এর ফলে উৎপাদন এবং লাভও বেড়েছে, যা নতুন কৃষি উদ্যোক্তাদের জন্য সুযোগ সৃষ্টি করছে।

ঝালকাঠি সদর, নলছিটি, রাজাপুর এবং কাঁঠালিয়া উপজেলার মোট ২ হাজার ৬০৫ হেক্টর জমিতে মুগ ডাল চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও এই বছর ৩ হাজার হেক্টর জমিতে আবাদ করা হয়েছে। কৃষি বিভাগ আশা করছে, এই উৎপাদন প্রায় ৩,৫০০ মেট্রিক টন মুগ ডাল হবে, যার বাজার মূল্য প্রায় ৪৫ কোটি টাকা। বিশেষত বারি মুগ-৬ ও বারি মুগ-১৪ জাতের চাষ বেশ জনপ্রিয় হয়েছে।

জেলার কৃষকরা জানাচ্ছেন, মুগ ডাল চাষে তাদের খরচ কম হলেও ভালো লাভ হচ্ছে। এমনকি সেচ ও সার ছাড়াও মুগ ডাল চাষ লাভজনক। কৃষকরা মুগ ডাল চাষে আরও আগ্রহী হয়ে উঠছেন, কারণ এটি তুলনামূলকভাবে কম রক্ষণাবেক্ষণের ফসল এবং খরচও কম।

নলছিটি উপজেলার কুলকাঠি ইউনিয়নের কৃষক রুস্তম আলী বলেন, “আবহাওয়া অনুকূল থাকায় এবং কৃষি বিভাগের সহায়তায় মুগ ডালের ফলন অত্যন্ত ভালো হয়েছে। খরচ বাদেও এবার ভালো লাভ হবে।”

ঝালকাঠি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. রিফাত সিকদার জানান, আধুনিক জাতের মুগ ডাল চাষে কৃষকরা নতুন করে উৎসাহিত হয়েছেন। এ বছর মুগ ডালের ভালো ফলন হচ্ছে, যা গ্রামীণ অর্থনীতির জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষভাবে, কৃষি প্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কৃষকেরা আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতিতে দক্ষতা অর্জন করেছেন, যা নতুন কর্মসংস্থান তৈরি করছে এবং চাষিদের জন্য সাফল্যের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করছে।

এই চাষের ফলে মুগ ডাল শুধু খাদ্য হিসেবে নয়, পুষ্টিকর এবং লাভজনক একটি ফসল হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। কম সেচ এবং সার ব্যবহারের কারণে এটি কৃষকদের জন্য একটি সুবিধাজনক ফসল হয়ে উঠেছে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




ভোলা থেকে বাস চলাচল বন্ধ ঘোষণা

ভোলা থেকে সব রু‌টে বাস চলাচল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাস শ্রমিক ইউনিয়ন। বাস ও সিএনজিচালিত অটোরিকশা শ্রমিকদের মধ্যে হাতাহাতি ও মারধরের ঘটনায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

রোববার (২৭ এপ্রিল) সন্ধ্যা থেকে এই বাস চলাচল বন্ধ করা হয়। এর আগে, বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে চরফ্যাশনে যাত্রী ওঠানোকে কেন্দ্র করে বাস ও অটোরিকশা শ্রমিকদের মধ্যে হাতাহাতি ও মারধরের ঘটনা ঘটে। এতে উভয়পক্ষের ৩-৪ জন লোক আহত হন।

এদিকে, সন্ধ্যা থেকে ভোলা-চরফ্যাশন রুটে অটোরিকশা চলাচল বন্ধ রয়েছে। অন্যদিকে, বাস শ্রমিকরা ভোলা বীর শ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামাল বাসস্ট্যান্ড এলাকায় একটি মিছিল করেছে। তবে বাসস্ট্যান্ডে পুলিশ ও র‌্যাব সদস্যরা মোতায়েন রয়েছেন।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম

 




ভোলায় সেতু-গ্যাস-মেডিকেলের দাবিতে ঢাকায় বিক্ষোভ

ঢাকায় বসবাসকারী ভোলার জনসাধারণ শনিবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৫, সকাল ১০ টা থেকে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে একটি বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে। ‘আগামীর ভোলা’ সংগঠনের ব্যানারে আয়োজিত এই সমাবেশে বক্তারা ভোলা-বরিশাল সেতু নির্মাণ, ভোলার গ্যাস সরবরাহ এবং মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন। বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, যদি এসব দাবি দ্রুত বাস্তবায়িত না হয়, তবে কঠোর আন্দোলন করা হবে।

বিক্ষোভে প্রায় দেড় হাজার মানুষ অংশ নেয়। সমাবেশের পর একটি বিক্ষোভ মিছিল পল্টন মোড় ঘুরে আবারও প্রেসক্লাবের সামনে অবস্থান নেন আন্দোলনকারীরা। এ সময় কিছু সময়ের জন্য পল্টন-প্রেসক্লাব এলাকায় যান চলাচল ব্যাহত হয়।

সমাবেশে উপস্থিত ভোলা-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য নাজিম উদ্দিন আলম বলেন, “ভোলা খাদ্য স্বয়ংসম্পূর্ণ, কিন্তু এখনও আমাদের প্রতিটি ঘরে গ্যাস নেই, সেতু নির্মাণ হয়নি, এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য কোনো মেডিকেল কলেজও নেই।” তিনি আরো বলেন, “চিকিৎসার অভাবে প্রতিদিন বহু মানুষ মারা যাচ্ছেন এবং শিক্ষা ব্যবস্থাও দুর্বল হয়ে পড়েছে।”

‘আগামীর ভোলা’ সংগঠনের মুখপাত্র সাংবাদিক মীর মোহাম্মদ জসিম বলেন, “আমাদের আন্দোলন চলবে যতদিন না আমাদের দাবিগুলো পূর্ণ হয়।”

এ সময় কিছু দুর্বৃত্ত সমাবেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের প্রতিহত করে। শাহবাগ থানার পেট্রোল ইন্সপেক্টর সরদার বুলবুল আহমেদ বলেন, “আমরা কোনো মারধর করিনি, বরং শান্তিপূর্ণভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনি।”

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




বরগুনার আমতলীতে মুগডালের ভালো ফলন, দামে খুশি কৃষকরা

বরগুনার আমতলী উপজেলার কৃষকরা রবি মৌসুমে মুগ ডালের চাষে সফলতা পেয়েছেন। স্থানীয় কৃষকদের জানানো মতে, এবার উপজেলায় সাত হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে হাইব্রিড মুগ ডালের চাষ করা হয়েছে, যা খুবই ভালো ফলন দিয়েছে। বাজারে দামেরও উন্নতি হয়েছে, ফলে কৃষকরা খুশি।

আমতলীর হলদিয়া, চাওড়া, কুকুয়া, আঠারগাছিয়া, গুলিশাখালী, আমতলী সদর ও আমতলী সদর ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম ও মাঠে মুগ ডালের সমারোহ দেখা গেছে। ফলন ভালো হওয়ায় কৃষকরা সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পুরুষ, নারী এবং শিশুরা মিলেমিশে ডাল তুলছেন।

আড়পাঙ্গাসিয়া ইউনিয়নের চাষি মো. বারেক মিয়া বলেন, “আমি চার একর জমিতে মুগ ডাল চাষ করেছি এবং ভালো ফলন পেয়েছি।”

হলদিয়া এলাকার চাষি মো. নান্নু মিয়া বলেন, “আমি দুই একর জমিতে মুগ ডাল চাষ করেছি এবং ফলনও ভালো হয়েছে। বাজারে দামও ভালো পাচ্ছি।”

উপজেলা সহকারী কৃষি কর্মকর্তা নিখিল চন্দ্র জানান, “এ বছর উপজেলায় সাত হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে হাইব্রিড মুগ ডাল চাষ হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় ৬০% বেশি পতিত জমিতে চাষ করা হয়েছে।”

এদিকে স্থানীয় বাজারের আড়তদাররা জানাচ্ছেন, বাজারে প্রতি মণ মুগ ডাল চিকন ৪ হাজার ৫০০ টাকা এবং মুগ মোটা ডাল ৩ হাজার ৭০০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে।

আমতলী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. রাসেল বলেন, “কৃষি বিভাগের পরামর্শ, তদারকি এবং ভালো আবহাওয়ার কারণে বাম্পার ফলন হয়েছে। এ বছর লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে মুগ ডালের চাষ করা হয়েছে এবং হেক্টর প্রতি ৯০০ কেজি থেকে এক হাজার ২০০ কেজি ডাল ফলন হয়েছে।”

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




আমতলীতে বজ্রপাতে যুবকের মৃত্যু

বরগুনার আমতলী উপজেলার আঠারোগাছিয়া ইউনিয়নের আলগী গ্রামে বজ্রপাতে রিপন হাওলাদার (২৩) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। রোববার (২৭ এপ্রিল) সকাল ১০টার দিকে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।

রিপন আলগী গ্রামের বশির হাওলাদারের ছেলে ছিলেন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার সকালে রিপন গরু চরাতে গিয়ে মাঠে ছিলেন। হঠাৎ ভারি বৃষ্টিপাত শুরু হলে বজ্রপাতে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

গাজীপুর পুলিশ ফাঁড়ির এসআই হুমায়ুন কবির জানান, “মাঠে গরু চরাতে গিয়ে রিপন হাওলাদার বজ্রপাতে মারা গেছে।” আমতলী থানার ওসি মো. আরিফুল ইসলাম আরিফ জানিয়েছেন, “ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।”

এটি একটি দুঃখজনক ঘটনা, যা প্রমাণ করে বজ্রপাতের সময় নিরাপত্তার গুরুত্ব কতটা বেশি।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




বরগুনায় শেকলে বন্দী জেলেদের জীবন: দাদন প্রথার ফাঁদে আটকে হাজারো মৎস্যজীবী

বরগুনার উপকূলীয় অঞ্চলের মৎস্যজীবীরা শত বছরের পুরনো দাদন প্রথার ফাঁদে আটকে পড়েছেন, যা তাদের জীবনের দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে যারা বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করছেন, তারা আজও অর্থনৈতিক মুক্তি পায়নি। দাদন প্রথার কারণে তাদের আয় এবং জীবনযাত্রা অনেকটাই নিয়ন্ত্রিত হয়ে পড়েছে, যা এক ধরনের শেকল হিসেবে তাদের জীবনকে বাঁধিয়ে রেখেছে।

বরগুনার প্রায় ৯৫% জেলে এই দাদনের শেকলে বন্দী। যদিও তারা বছরে কোটি টাকার মাছ ধরেন, কিন্তু তাদের ভাগ্যের পরিবর্তন হয় না। এই প্রথা তাদের শ্রমের ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত করে, এবং অনেকেই পেশা ত্যাগ করার চিন্তা করছেন।

উপকূলীয় অঞ্চলের হাজারো জেলের জীবনে টিকে থাকা এখন এক বড় চ্যালেঞ্জ। একদিকে প্রাকৃতিক দুর্যোগ, অন্যদিকে মহাজনের চক্র—এই দুটি কারণে তারা দিশেহারা। এদের মুক্তির জন্য প্রয়োজন টেকসই ও ন্যায়সংগত মৎস্যনীতি এবং সরকারি সহায়তা, যাতে তারা দাদনের খুঁটিনাটি থেকে মুক্তি পেতে পারে।

দাদন প্রথার ফলে, জেলেরা ৫০ হাজার থেকে ২ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ নিয়ে মাছ ধরেন, এবং বাধ্য হয়ে নির্দিষ্ট আড়তে মাছ বিক্রি করতে হয়। এতে তাদের লাভ কমে যায় এবং তারা ন্যায্য দাম পায় না। বরগুনার ৭২ বছরের জেলে মো. আলম ফিটার বলেন, “এত বছরেও কিছুই পাল্টায়নি জীবনে। প্রতি বছর ঝড়ের কবলে পড়ে বঙ্গোপসাগরে মৃত্যুর ঝুঁকি নিয়ে মাছ ধরতে যেতে হয়, আর দাদনের বোঝা বহন করতে হয়।”

ট্রলার মালিকরা জানাচ্ছেন যে, দাদন প্রথার কারণে তাদের ক্ষতিও হয়, কারণ অনেক সময় জেলেরা আনা মাছের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ এনে দিতে পারেন না। এমনকি জেলেদের অপহরণের মতো ঘটনা ঘটলেও, ট্রলার মালিকরা চাঁদা দিয়ে তাদের মুক্ত করেন, তবে জেলেরা কখনো সেই টাকা শোধ করতে পারেন না।

বাংলাদেশ মৎস্যজীবী ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী জানান, “সাগরে মাছ কমে যাওয়ায় জেলে ও ট্রলার মালিকরা লোকসানে পড়ছেন, এবং ব্যাংক বা এনজিও ঋণ না দেওয়ার কারণে দাদনই একমাত্র ভরসা হয়ে দাঁড়িয়েছে।”

অর্থনীতিবিদ ড. শহিদুল জাহিদ বলেন, “বাংলাদেশ ব্যাংক যদি রিফাইন্যান্স ফান্ড গঠন করে, তাহলে উপকূলীয় জেলেদের স্বল্প সুদে ঋণ দেওয়া সম্ভব, যাতে তারা মহাজনের ওপর নির্ভর না করে স্বাধীনভাবে মাছ শিকার করতে পারে।”

বরগুনা মৎস্য কর্মকর্তা মো. মহসীন জানান, “জেলেদের স্বাবলম্বী করতে সরকার বিভিন্ন প্রণোদনা প্রদান করছে, কিন্তু নগদ অর্থ সহায়তার ব্যবস্থা নেই। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আমরা এই সমস্যা তুলে ধরব।”

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শফিউল আলম বলেন, “দাদন প্রথা বন্ধে কার্যকরী পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে, যাতে জেলেরা সরকারি সহায়তা পেতে পারে।”

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




বরগুনায় জোড়া খুনের মামলায় একজনের ফাঁসি

বরগুনায় শ্যালিকাকে ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা ও দুই শিশুকে কুপিয়ে হত্যার দায়ে একজনের ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন আদালত। রবিবার (২৭ এপ্রিল) দুপুরে বরগুনার নারী ও নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক বেগম লায়লাতুল ফেরদৌসের এ আদেশ দেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত ফাঁসির আসামির নাম মো. ইলিয়াস পহলান। তিনি বরগুনা সদর উপজেলার পূর্ব কেওয়াবুনি গ্রামের আবুল হোসেন পহলানের ছেলে। এছাড়াও একই মামলায় তাকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে ১০ বছরের কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা এবং হত্যাচেষ্টার অভিযোগে ১০ বছরের কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

৫ আগস্টের পর অবৈধ এক টাকা স্পর্শ করিনি: সারজিস৫ আগস্টের পর অবৈধ এক টাকা স্পর্শ করিনি: সারজিস
মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালের ৪ আগস্ট রাতে বরগুনা সদর উপজেলার রোডপাড়া গ্রামের বাসিন্দা রিগান আক্তার তার ৩ বছর বয়সী কন্যা শিশু তাইফা ও প্রতিবেশী গোলাম খবিরের ছেলে ১৩ বছর বয়সী হাফিজুরকে নিয়ে নিজ ঘরে ঘুমিয়ে ছিলেন। এ সময় রিগান আক্তারের ভগ্নিপতি ইলিয়াস পহলান ধর্ষণের উদ্দেশ্যে তার ঘরে প্রবেশ করেন। দুজনের ধস্তাধস্তিতে ঘুম ভেঙে যায় শিশু তাইফা ও হাফিজুরের। এতে ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে দেশীয় ধারালো অস্ত্র দিয়ে রিগান আক্তার, তাইফা ও হাফিজুরকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করেন ইলিয়াস। এতে ঘটনাস্থলেই নিহত হন হাফিজুর। আর উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল নেওয়ার পথে মারা যায় তাইফা। আর দীর্ঘদিন চিকিৎসার পর মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে আসেন রিগান আক্তার। ঘটনার দিনই ইলিয়াসকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এ মামলায় ইলিয়াস একমাত্র আসামি ছিলেন।

মামলার রায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপক্ষ। এবিষয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিশেষ পিপি রনজুয়ারা শিপু বলেন, স্বল্প সময়ের ব্যবধানে এমন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি অপরাধ দমনে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




ভোলায় মুক্তা চাষে নতুন দিগন্তের সূচনা

ভোলা সদর উপজেলার ভেলুমিয়া ইউনিয়নের চর গাজী গ্রামে পরীক্ষামূলক মুক্তা চাষে অভূতপূর্ব সাফল্য পেয়েছে গ্রামীণ জনউন্নয়ন সংস্থা (জিজেইউএস)। এই চাষ প্রকল্পটি ইতোমধ্যেই সম্ভাবনার নতুন দিগন্তের সূচনা করেছে এবং ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করেছে।

২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে, জিজেইউএস নিজস্ব অর্থায়নে যশোর থেকে অল্পসংখ্যক ঝিনুক সংগ্রহ করে শুরু করে এই পরীক্ষামূলক প্রকল্প। পুকুরের মাটি ও পানির গুণগত মান যাচাই করে, প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে ঝিনুকে কৃত্রিম মুক্তা প্রতিস্থাপন করে। এরপর ঝুড়িতে ডুবিয়ে রাখা হয় নির্দিষ্ট গভীরতায়, যেখানে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও যত্নের মাধ্যমে মুক্তার স্তর গঠিত হতে থাকে।

মুক্তা প্রস্তুত হতে সাধারণত ৯ থেকে ১২ মাস সময় লাগে, তবে এই প্রকল্পের অধীনে মাত্র ৭ মাসে সফলতা এসেছে। প্রতি ১৫ দিন পর পর পুকুরে ইউরিয়া, পটাশ, ড্যাব ও খৈল ছিটিয়ে ঝিনুকের জন্য প্রাকৃতিক খাদ্য তৈরি করা হয় এবং নিয়মিত পানি ও মাটির মান পরীক্ষা করা হয়।

জিজেইউএস-এর পরিচালক (লিগ্যাল এডভোকেসি ও প্রোগ্রাম) এডভোকেট বীথি ইসলাম জানান, “আমাদের এই পাইলট প্রকল্প সফল হয়েছে। ভবিষ্যতে আমরা এই চাষ পদ্ধতি আমাদের সদস্যদের মধ্যেও ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করছি।”

স্থানীয়দের মধ্যে মুক্তা চাষের ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে এবং অনেকেই ঝিনুক চাষ শুরু করার পরিকল্পনা করছেন। ভোলা মৎস্য অধিদপ্তরের খামার ব্যবস্থাপক এ এইচ এম জাকির হোসেন বলেন, “মুক্তা চাষে এই সফলতা অব্যাহত থাকলে দেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা যেমন বাড়বে, তেমনি বিদেশে রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করাও সম্ভব হবে।”

বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের উদ্যোগ দেশের গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবে এবং আত্মনির্ভরশীলতার পথ প্রশস্ত করবে। ভোলা সদর উপজেলার ভেলুমিয়া ইউনিয়নের চর গাজীতে এই পরীক্ষামূলক মুক্তা চাষ দেশের অন্যান্য অঞ্চলের জন্য একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হতে পারে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /