মুফতী ফয়জুল করীমের মেয়রের চেয়ারে বসা আটকে আছে কোথায়?

বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মুফতী সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীমের মেয়রের চেয়ারে বসার পথ এখনো আটকে আছে। চট্টগ্রাম ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে বিএনপির প্রার্থীরা মামলা করে মেয়র পদে বসতে পারলেও বরিশালে ফয়জুল করীমের বিষয়টি ঝুলে আছে আদালতে। একদিকে শুনানির তারিখ বারবার পিছিয়ে দেওয়া, অন্যদিকে সরকারের সদিচ্ছার অভাব—দুইয়ে মিলে সৃষ্টি হয়েছে নানা প্রশ্ন।
২০২৩ সালের বরিশাল সিটি নির্বাচন ঘিরে হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী মুফতী ফয়জুল করীমের জয়ের সম্ভাবনা ছিল প্রবল। তবে নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে ব্যাপক অভিযোগ ওঠে যে, তাঁকে কারচুপির মাধ্যমে হারানো হয়েছে। এ নিয়ে গত ১৭ এপ্রিল বরিশালের আদালতে মামলা করেন তিনি। শুনানির জন্য ২৪ এপ্রিল তারিখ নির্ধারিত থাকলেও, সেদিন শুনানি শেষে আদালত পরবর্তী শুনানির দিন ৫ মে নির্ধারণ করে, ফলে বিষয়টি আরও বিলম্বিত হয়।
সরকারি উপদেষ্টার মন্তব্যে নতুন বিতর্ক::
সরকারের স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়ার একটি বক্তব্য নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। এক গণমাধ্যমকে তিনি জানান, তিনি ক্ষমতাচ্যুত সরকারের আমলে অনুষ্ঠিত প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচনের প্রার্থীদের আদালতের মাধ্যমে মেয়র পদে বসানোর পক্ষে নন। তাঁর মতে, এতে অবৈধ নির্বাচনকে বৈধতা দেওয়া হবে। এই বক্তব্যের পর ইসলামী আন্দোলনের নেতাকর্মীরা দাবি করছেন, সরকারের ইচ্ছাকৃত বাধার কারণেই ফয়জুল করীমকে মেয়রের চেয়ারে বসতে দেওয়া হচ্ছে না।
বিক্ষোভ ও দাবির ঝড়::
ইতোমধ্যে বরিশালসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে মুফতী ফয়জুল করীমকে মেয়র ঘোষণা করার দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক বিবৃতিও দেওয়া হয়েছে। তাঁরা একে ইসলামী আন্দোলনের প্রতি বৈষম্য ও অবিচার হিসেবে দেখছেন।
নতুন মামলা, নতুন ষড়যন্ত্রের অভিযোগ::
এর মধ্যে গত ২৩ এপ্রিল জাতীয় পার্টির (জাপা) প্রার্থী ইকবাল হোসেন (তাপস) একই নির্বাচন নিয়ে আদালতে নতুন করে মামলা করেছেন। যিনি নির্বাচনে তৃতীয় হয়েছিলেন। ইসলামী আন্দোলনের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হচ্ছে, হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থীকে মেয়র ঘোষণা ঠেকাতে পরিকল্পিতভাবে এই মামলা করা হয়েছে।
বর্তমানে মুফতী ফয়জুল করীম ও তার অনুসারীরা ৫ মে’র শুনানির দিকে তাকিয়ে আছেন। তাঁদের দৃঢ় বিশ্বাস, সেদিন আদালত হাতপাখার পক্ষে রায় দেবে এবং এরপর নির্বাচন কমিশন গেজেট প্রকাশ করবে। যদি এমনটা হয়, তবে বাংলাদেশের ইতিহাসে মুফতী ফয়জুল করীম হবেন প্রথম কোনো আলেম মেয়র।
মো: তুহিন হোসেন / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪.কম /









