ভূমি জটিলতায় থমকে বরিশাল-ফরিদপুর ৬ লেন মহাসড়ক প্রকল্প

বরিশাল-ফরিদপুর এবং বরিশাল-পায়রা-কুয়াকাটা জাতীয় মহাসড়ক ৬ লেনে উন্নীত করার প্রকল্প দীর্ঘসূত্রতার কবলে পড়ে চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছে। ভূমি অধিগ্রহণে দীর্ঘ বিলম্ব এবং ব্যয় তিনগুণ বেড়ে যাওয়ায় এখনো চূড়ান্ত হয়নি সংশোধিত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি)। ফলে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের বহুপ্রতীক্ষিত এ সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

দক্ষিণাঞ্চলের ১১টি জেলার যাতায়াত ব্যবস্থা এই প্রকল্পের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু ভূমি অধিগ্রহণে দেরির কারণে প্রকল্পের ব্যয় ১,৮৬৭ কোটি টাকা থেকে বেড়ে প্রায় ৬,৫০০ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। পরিকল্পনা কমিশনে সংশোধিত ডিপিপি আটকে থাকায় কাজ এগোচ্ছে না। সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো একাধিক বৈঠক করলেও এখনো প্রকল্প চূড়ান্ত হয়নি।

২০১৫ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে এডিবি’র অর্থায়নে ২১১ কিলোমিটার দীর্ঘ এই মহাসড়কের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা ও নকশা তৈরি হয়। তখনই ধরা হয় প্রকল্পের সম্ভাব্য ব্যয় প্রায় ২১ হাজার কোটি টাকা। ২০১৮ সালে আলাদা একটি প্রকল্পে ভূমি অধিগ্রহণের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয় ১,৮৬৭ কোটি টাকা। নির্ধারিত সময় ছিল ২০২১ সালের জুন, যা পরে বাড়িয়ে ২০২৪ করা হয়। তবুও অর্ধেক জমিও অধিগ্রহণ হয়নি।

তথ্য মতে, জমির দাম বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি নতুন বাইপাস নির্মাণ, বরিশাল বিমানবন্দর ডাইভার্শন এবং কিছু স্থাপনা পুনর্বাসনের প্রয়োজন হওয়ায় অতিরিক্ত ২০০ হেক্টরের মতো জমি অধিগ্রহণের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। এতে ব্যয় বেড়ে দাঁড়াবে ৬,৫০০ কোটির বেশি। ইতোমধ্যে বরিশালের ৩৩ কিমি ও মাদারীপুরের ১০ কিমি এলাকায় ভূমি অধিগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে, কিন্তু গত অর্থবছরের বরাদ্দের ৮৯০ কোটি টাকার প্রায় সবটাই ফেরত গেছে।

সড়ক ও সেতু মন্ত্রণালয় এবং সড়ক অধিদপ্তর জানিয়েছে, ভূমি অধিগ্রহণ নিয়ে জটিলতা এবং ছয়টি জেলার প্রশাসনিক গাফিলতির কারণে প্রকল্পটির অগ্রগতি ব্যাহত হচ্ছে। এদিকে এডিবি পুরনো সমীক্ষা ও নকশা বাতিল করে নতুন করে কাজ শুরুর শর্ত দিয়েছে, কিন্তু সে দিকেও অগ্রগতি নেই।

পদ্মা সেতু চালুর পর বরিশাল অঞ্চলের সঙ্গে ঢাকার সরাসরি যোগাযোগ আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কিন্তু মহাসড়কের দুরবস্থা এবং বাড়তি যানবাহনের কারণে বরিশাল থেকে ফরিদপুর অংশে ৯১ কিমি রাস্তা অতিক্রম করতে ৪ ঘণ্টা পর্যন্ত সময় লাগছে। পাশাপাশি বাড়ছে দুর্ঘটনাও।

পরিকল্পনা কমিশনের উচ্চ পর্যায় থেকে সরেজমিন পরিদর্শনে ইতিবাচক মনোভাব দেখা গেলেও এখনো প্রকল্পটি বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি)-তে অন্তর্ভুক্ত হয়নি। সংশ্লিষ্টরা আশাবাদী হলেও বাস্তবতা এখনো হতাশাজনক।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




বরিশালে ইসলামী ব্যাংকের ত্রৈমাসিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত

ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি-এর বরিশাল জোনে অনুষ্ঠিত হয়েছে ত্রৈমাসিক ব্যবসায় উন্নয়ন সম্মেলন।
শনিবার (২৬ এপ্রিল) বরিশাল জোনাল অফিসের কনফারেন্স রুমে এই আয়োজনটি অনুষ্ঠিত হয়।

সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্যাংকের ম্যানেজিং ডাইরেক্টর (চলতি দায়িত্ব) মো. ওমর ফারুক খান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অ্যাডিশনাল ম্যানেজিং ডাইরেক্টর মো. আলতাফ হুসাইন, ডেপুটি ম্যানেজিং ডাইরেক্টর মুহাম্মদ সাঈদ উল্লাহ এবং এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট আবু নোমান মো. সিদ্দিকুর রহমান।

সম্মেলনের সভাপতিত্ব করেন বরিশাল জোনপ্রধান মো. সারোয়ার হোসাইন। এতে জোনের আওতাধীন সব শাখা ও উপশাখার প্রধানগণ অংশগ্রহণ করেন।

ব্যবসায়িক কার্যক্রমের অগ্রগতি, সেবা উন্নয়ন এবং ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে সম্মেলনে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /


 




গরমে রাস্তার পাশের শরবতে সর্বনাশ!

গরমে শরীর থেকে ঘাম বের হয়, যা শরীরকে দুর্বল করে ফেলে। বিশেষ করে শিশু, বৃদ্ধ, অসুস্থ ব্যক্তি এবং যারা বাইরে কাজ করেন, তাদের জন্য এই ঘাটতি পূরণে পানি ও শরবত পান করা খুবই জরুরি। তবে গরমে তৃষ্ণা মেটাতে রাস্তার পাশে পাওয়া শরবত অনেকেই খেয়ে থাকেন, কিন্তু এই শরবত আসলেই স্বাস্থ্যসম্মত কি না, তা নিয়ে রয়েছে শঙ্কা।

রাস্তার পাশে শরবত: বিপদ কি না?

গরমের সময় রাস্তাঘাটে পাওয়া যায় লেবু, বেল, কাঁচা আমের শরবতসহ নানা রকম শরবত। সস্তা হওয়ায় এগুলো তৃষ্ণা মেটাতে অনেকেই পান করে থাকেন। তবে চিকিৎসকরা এসব শরবতকে বিপদজনক বলে দাবি করেছেন। রাস্তার পাশে বিক্রি হওয়া এসব শরবত তৈরিতে স্বাস্থ্যকর পানি ব্যবহার না করা, বরফের অস্বাস্থ্যকর ব্যবহার এবং অপরিষ্কার উপকরণ শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

বিশুদ্ধ পানি, পরিষ্কার ফল এবং চিনি ব্যবহার করে যদি শরবত তৈরি করা হয়, তবে তা উপকারী। কিন্তু ফুটপাতে বিক্রি হওয়া শরবতগুলিতে এই স্বাস্থ্যসম্মত উপকরণের অভাব থাকে। ফলে ডায়রিয়া, জন্ডিস এবং অন্যান্য পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়।

স্বাস্থ্য ঝুঁকি ও অস্বাস্থ্যকর বরফ

অনেক জায়গায় দেখা যায়, শরবত তৈরির জন্য যে বরফ ব্যবহার করা হয়, তা মাছের বাজার থেকে আনা হয়। মাছ সংরক্ষণের জন্য ব্যবহৃত বরফ শরবত তৈরিতে ব্যবহার করা হলে তা মানবস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হতে পারে। বরিশালের সচেতন নাগরিকরা এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং ভ্রাম্যমাণ দোকানদারদের উপর নজরদারি বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন।

বরিশাল সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মলয় কৃষ্ণ বড়াল বলেন, রাস্তার পাশে অস্বাস্থ্যকর শরবত ও খাবার খেয়ে মানুষ ডায়রিয়া, টাইফয়েড, জন্ডিস, বমি ইত্যাদি সমস্যায় আক্রান্ত হচ্ছেন। তিনি সকলকে এসব অস্বাস্থ্যকর খাবার ও পানীয় থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। বিশেষ করে গরমে শরীরে পানি ঘাটতি পূরণের জন্য বিশুদ্ধ পানি, ওরাল স্যালাইন এবং ডাবের পানি পান করার কথা বলেছেন।

রিক্সাচালক ও পথচারীরা জানান, তারা তৃষ্ণা মেটাতে রাস্তার পাশের শরবত পান করে থাকেন। তবে তারা কখনোই নিশ্চিত হতে পারেন না, শরবতের পানি ও বরফ কতটা নিরাপদ। এক রিক্সাচালক বলেন, “তৃষ্ণা পেলে শরবত খাই, ভালো-মন্দ চিন্তা করার সময় নেই।”

গরমের সময়ে শরবত পান করতে গিয়ে যদি স্বাস্থ্যঝুঁকি হয়, তবে আমাদের সকলেরই উচিত এসব অস্বাস্থ্যকর শরবত থেকে দূরে থাকা। বিশুদ্ধ পানি, স্বাস্থ্যকর উপকরণ এবং পরিচ্ছন্ন পরিবেশে প্রস্তুত খাবার ও পানীয় খাওয়া আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য সবচেয়ে ভালো।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




বরিশাল মেরিন একাডেমির মেধাবী ছাত্র সুলাইমান ও বোনের শিক্ষা জীবন অনিশ্চয়তার কবলে

বরিশাল মেরিন একাডেমির মেধাবী ছাত্র সুলাইমান মল্লিক ও তার ছোট বোন সুরাইয়ার জীবন এখন সীমাহীন অনটনে বিপর্যস্ত। শৈশব থেকেই একাধিক চ্যালেঞ্জের মধ্যে পড়লেও তারা কখনোই পড়াশোনা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়নি। সুলাইমান, যিনি ৫ম ও ৮ম শ্রেণীতে বৃত্তি পেয়েছিল, বর্তমানে জিপিএ-৫ সহ মাধ্যমিক এবং উচ্চ মাধ্যমিক পাস করে বরিশাল মেরিন একাডেমিতে ভর্তির যোগ্যতা অর্জন করেছেন। তাঁর স্বপ্ন, মেরিন টেকনোলজিতে উচ্চশিক্ষা নিয়ে সমুদ্রগামী জাহাজে কাজ করে সারা পৃথিবী ভ্রমণ করা। তবে এখন তাঁর সামনে এক কঠিন বাস্তবতা—অর্থনৈতিক অভাব।

সুলাইমানের শিক্ষা জীবন

সulaiমানের মা হাসিনা বেগম ও নানা মোমিন আলী, তাদের দুটি সন্তানকে নিজের সীমিত আয়ের মধ্যে বড় করেছেন। সুলাইমানের বাবা এক অজ্ঞাত কারণে পরিবার ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন, যা তাদের জীবনে এক গভীর শূন্যতা তৈরি করেছে। সেসব অভাব-অনটনের মধ্যেও মেধাবী সুলাইমান কখনো পড়াশোনায় পিছিয়ে পড়েননি। তার ছোট বোন সুরাইয়া, যিনি বর্তমানে শহিদ জিয়াউর রহমান কলেজে পড়াশোনা করছেন, তারও একই রকম পরিস্থিতি।

বৈরি পরিস্থিতির পরেও দুই সন্তানই দারুণ কৃতিত্বের সাথে পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছেন। সুলাইমানের একাডেমিতে ভর্তি হওয়ার খরচে সাহায্য পাওয়া গেলেও, তার সেমিস্টার ফি এবং আবাসিক হোস্টেলে থাকার খরচ পরিশোধ করার মতো কোনও ব্যবস্থা এখনও করা সম্ভব হয়নি। এই অবস্থায় সুলাইমানের জন্য আগামী দিনের পথ আরো কঠিন হয়ে পড়েছে। তাঁর ছোট বোন সুরাইয়া, যিনি প্রতিদিন দীর্ঘ পথ পায়ে হেঁটে কলেজে যান, একাধিক শারীরিক কষ্টের সম্মুখীন হচ্ছেন।

মা হাসিনা বেগমের সংগ্রাম

মা হাসিনা বেগম, যিনি শুরু থেকেই সন্তানদের সুখ-দুঃখের সাথী ছিলেন, এখনো একে একে তাদের পড়াশোনার খরচ যোগানোর জন্য মানুষের বাড়িতে কাজ করছেন। কিন্তু তাঁর সামর্থ্য সীমিত হওয়ায়, সংসারের খরচ আর দুই সন্তানের লেখাপড়ার খরচ চালানো এক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এমন পরিস্থিতিতে তাদের স্বপ্ন যেন এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে ধাবিত হচ্ছে। মা হাসিনা এবং নানা মোমিন আলী তাদের সন্তানদের একটি ভালো জীবন দেওয়ার জন্য নিরলসভাবে কাজ করছেন, তবে অভাবের কারণে তাদের স্বপ্ন প্রায়ই ভেঙে পড়ছে।

সহায়তার প্রয়োজন

এই মেধাবী ভাই-বোনদের জন্য এখন সহায়তার প্রয়োজন। যদি তারা অর্থনৈতিক সহায়তা পায়, তাহলে তারা তাদের পড়াশোনায় আরও ভালো করতে পারবে এবং ভবিষ্যতে দেশের জন্য ভালো কিছু করতে সক্ষম হবে। সুলাইমানের শিক্ষার দিকে সমাজের মানুষের সহানুভূতির হাত বাড়ানো গেলে, তারা তাদের স্বপ্ন পূরণের পথে আরও একধাপ এগিয়ে যাবে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম




বরিশালের বেলস পার্ক এখন হাটবাজার, দর্শনার্থীদের ক্ষোভ

বরিশালের বেলস পার্ক, যেটি দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম জনপ্রিয় বিনোদন কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত, এখন আর তার পুরনো সৌন্দর্য হারিয়ে ফেলেছে। বরিশালের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত এই উদ্যান, যা বরিশালবাসীর জন্য এক সময় ছিল শান্তির আশ্রয়স্থল, এখন পরিণত হয়েছে একটি হাটবাজারে। এখানে দোকান-পাট, খাবারের স্টল এবং অন্যান্য ব্যবসায়িক কার্যক্রমের জন্য জায়গা দখল করে বসেছে, যার ফলে স্থানটির সৌন্দর্য রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

বেলস পার্কে গড়ে উঠেছে ছোট বড় প্রায় ২৫০টি দোকান। প্রতি দিন সেখানে গড়ে উঠা এসব দোকান থেকে চাঁদা আদায় করা হচ্ছে, যা বেশ কয়েক লাখ টাকা হয়ে দাঁড়ায়। যদিও বরিশাল সিটি কর্পোরেশন দাবি করেছে যে তারা ১৭৮টি দোকান বসানোর অনুমতি দিয়েছে, বাস্তবে দোকানের সংখ্যা অনেক বেশি। অধিকাংশ দর্শনার্থী এবং স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন যে, এই দোকানগুলোর কারণে পার্কের সৌন্দর্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হচ্ছে।

সন্ধ্যার পর বেলস পার্কে ঘুরতে আসা দর্শনার্থীরা জানিয়েছেন, পার্কের সৌন্দর্য রক্ষা করতে সর্বোচ্চ ২০-২৫টি দোকান থাকতে পারতো, কিন্তু বর্তমানে প্রায় ২৫০টি দোকান পার্কে গড়ে উঠেছে। এ ছাড়া, অনেকেই মনে করছেন যে, প্রশাসনই তাদের মনবিকাশের জন্য এসব দোকান বসিয়ে পরিবেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে। তাদের মতে, এইসব দোকানগুলো পার্কের ঐতিহাসিক সৌন্দর্যকে নষ্ট করছে এবং সেখানকার পরিবেশে কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য বাড়িয়ে দিয়েছে।

একজন প্রাতঃভ্রমণকারী জানান, বেলস পার্কে মাদকাসক্ত কিশোরদের দৌরাত্ম্য বাড়ছে এবং সন্ধ্যার পর এখানকার পরিবেশ খুবই অস্বস্তিকর হয়ে উঠছে। তারা জানান, এটি ছিল বরিশালের ঐতিহাসিক জায়গা, যেখানে বড় বড় সরকারি অনুষ্ঠান, রাজনৈতিক সভা এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হতো। তবে এখন এটি শুধু দোকান-পাটের জন্য এক বিশৃঙ্খলা পরিণত হয়েছে।

বরিশাল সিটি কর্পোরেশন এবং জেলা প্রশাসন দু’টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দায়িত্ববিভাগ নিয়ে কিছু বিভ্রান্তি রয়েছে। সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে যে তারা পার্কের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে রয়েছে, তবে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) লুসিকান্ত হাজং জানিয়েছেন যে, বেলস পার্কের মাঠ এবং ডিসি লেক জেলা প্রশাসনের অধীনে, তবে এর অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং দোকান বসানোর দায়িত্ব সিটি কর্পোরেশনের।

এ বিষয়ে স্থানীয় ব্যবসায়ী খোশনুর আলম মিঠু বলেছেন, ‘‘বরিশালবাসী এক সময় এখানে এসে হাঁটাহাঁটি করতো, গল্প-আড্ডা দিতো, কিন্তু এখন পার্কটি দোকান, হাটবাজার, গ্যাং এবং মাদকাসক্তদের দখলে চলে গেছে।’’ তিনি আরও জানান, যদি প্রশাসন দোকানগুলোর সংখ্যা সীমিত করত এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্য রক্ষা করতো, তাহলে এটি পুনরায় একটি সুন্দর বিনোদন কেন্দ্র হতে পারতো।

বেলস পার্কের বর্তমান অবস্থা আসলেই উদ্বেগজনক। স্থানীয়দের মতে, যদি এটি ঠিক না করা হয়, তবে খুব শিগগিরই বরিশালের ঐতিহ্যবাহী এই উদ্যান পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যাবে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম




বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (ববি) রেজিস্ট্রারের অপসারণের দাবিতে বিক্ষোভ

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) রেজিস্ট্রার মো. মনিরুল ইসলামের অপসারণসহ চার দফা দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করেছেন। রবিবার দুপুরে তারা প্রশাসনিক ভবনে তালা লাগিয়ে রেজিস্ট্রারের কুশপুত্তলিকা দাহ করেন। আন্দোলনকারীরা স্পষ্ট ঘোষণা করেছেন, যতদিন রেজিস্ট্রার মনিরুল ইসলাম অপসারণ না করা হবে, ততদিন তারা এই তালা খুলবেন না।

শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন যে, রেজিস্ট্রার মনিরুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনে প্রভাব বিস্তার করেছেন, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের সুশাসনের পরিপন্থী। এছাড়া তিনি নারী কেলেঙ্কারিতে জড়িত ছিলেন, তারপরেও তাকে প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদে রাখা হয়েছে।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা দাবি করেন, অধ্যাপক ড. মুহসিন উদ্দিন স্যারের বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদ প্রত্যাহার এবং তাকে একাডেমিক কাউন্সিল ও সিন্ডিকেটে পুনর্বহাল করা হোক।




বরিশালে বজ্রপাতে গৃহবধূর মৃত্যু

বরিশাল জেলার হিজলা উপজেলায় গৌরাব্দি ইউনিয়নের চর কুশুরিয়া এলাকায় রবিবার দুপুরে আকস্মিক বজ্রপাতে ইয়ানুর বেগম (৩০) নামের এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। একই দিনে আরও একটি বজ্রপাতের ঘটনায় এক জেলে গুরুতর আহত হয়েছেন।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে হিজলা থানার ওসি মো. আবুল কালাম আজাদ জানান, ইয়ানুর বেগম উপজেলার মান্দ্রার চর কুশুরিয়া গ্রামের হাবিব মাঝির স্ত্রী। রবিবার দুপুর দেড়টার দিকে বজ্রপাতে ইয়ানুর অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাকে দ্রুত উদ্ধার করে উপজেলা হাসপাতালে নিয়ে আসা হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

অপরদিকে, একই দিন দুপুরে মেঘনা নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে বজ্রপাতে আহত হন জেলে জাকির হোসেন (২৪)। তাকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে উপজেলা হাসপাতালে নিয়ে আসলে, অবস্থার অবনতি দেখে চিকিৎসকরা তাকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। জাকির হোসেন বড় জালিয়া ইউনিয়নের খুন্না গোবিন্দপুর এলাকার খলিল হাওলাদারের ছেলে।




অগ্নিকান্ডে বসতঘর ভস্মিভূত, তিনজন আহত

বরিশালের গৌরনদী উপজেলার বার্থী ইউনিয়নের পশ্চিম বাউরগাতি গ্রামে ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে একটি বসতঘর সম্পূর্ণ ভস্মিভূত হয়ে গেছে এবং অপর একটি ঘরের আংশিক ক্ষতি হয়েছে। এই অগ্নিকান্ডে ফায়ারকর্মী মেহেদী হাসানসহ তিনজন আহত হয়েছেন।

শনিবার দিবাগত রাতে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সুত্রপাত ঘটে। মুহূর্তের মধ্যে আগুন পুরো এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়রা ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেন। পরে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা স্থানীয়দের সহায়তায় এক ঘণ্টার প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন। তবে, ততক্ষণে আব্দুল মন্নান মিয়ার বসতঘর পুরোপুরি ভস্মিভূত হয়ে যায় এবং পার্শ্ববর্তী রফিকুল ইসলামের দালান আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

গৌরনদী ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার মো. বিপুল হোসেন জানান, আগুনের কারণে প্রায় ১৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে সরকারি সহায়তা প্রদান করা হবে বলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার রিফাত আরা মৌরি জানিয়েছেন।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




বরিশালে ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব

বরিশাল জেলার গৌরনদী উপজেলার নলচিড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম হাফিজ মৃধার বিরুদ্ধে ইউপি সদস্যদের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক অনাস্থা প্রস্তাব দাখিল করা হয়েছে। ইউপি সদস্যরা অভিযোগ করেছেন, চেয়ারম্যানের স্বেচ্ছাচারিতা, অনিয়ম এবং দুর্নীতির ফলে তারা সরকার নির্ধারিত বেতন ভাতা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন এবং ইউনিয়ন পরিষদের বরাদ্দকৃত প্রকল্পের টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে।

রবিবার দুপুরে স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন ২০০৯ এর ৩৯ ধারার বিধান মতে ১২ জন ইউপি সদস্যের মধ্যে ১১ জন স্বাক্ষরিত অনাস্থা প্রস্তাব উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে জমা দিয়েছেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, চেয়ারম্যান গোলাম হাফিজ মৃধা এবং ইউপি সচিব রুহুল আমিন সরকারি বরাদ্দ এককভাবে আত্মসাৎ করেছেন এবং ইউপি সদস্যদের সঙ্গে কোন ধরণের যোগাযোগ না করে এসব টাকা নিয়ন্ত্রণ করেছেন।

এছাড়াও অভিযোগে বলা হয়েছে, ইউপি সদস্যদের বেতন প্রায় ২৪ লাখ টাকা আটকে রয়েছে এবং চেয়ারম্যানের দুর্নীতির কারণে অন্যান্য প্রকল্পের টাকা, যেমন টিআর, কাবিখা, কাবিটা ও ৪০ দিনের কর্মসূচীর টাকার অনেকাংশই ব্যক্তিগত স্বার্থে ব্যবহার করা হয়েছে।

ইউপি সদস্যদের লিখিত অনাস্থা প্রস্তাবে স্বাক্ষরকারী সদস্যরা হলেন:
১ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আলিম হাওলাদার, ২ নম্বর ওয়ার্ডের আহাদুল ইসলাম, ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মো. ইসমাইল হোসেন হীরা, ৪ নম্বর ওয়ার্ডের এফএম বাবুল হোসেন, ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মামুন খলিফা, ৬ নম্বর ওয়ার্ডের শহিদুল ইসলাম খান, ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মো. গিয়াস খান, ৮ নম্বর ওয়ার্ডের আলাউদ্দিন মীর, ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মাসুদুল ইসলাম, সংরক্ষিত ১ নম্বর ওয়ার্ডের রেহানা বেগম এবং ২ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আলেয়া বেগম।

অন্যদিকে, ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম হাফিজ মৃধা এই অভিযোগগুলো মিথ্যে এবং ভিত্তিহীন দাবি করে বলেন, অধিকাংশ ইউপি সদস্যরা ৫ আগস্টের পর এলাকা ছেড়ে চলে গেছেন এবং তাদের মোবাইল ফোনও বন্ধ রয়েছে। তিনি আরও দাবি করেন, ইউপি সদস্যরা তার সঙ্গে যোগাযোগ না করায় পরিষদের কার্যক্রম স্থগিত রাখা সম্ভব হয়নি।

তিনি বলেন, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের পরামর্শ এবং উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশনায় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে উন্নয়নমূলক কাজ পরিচালিত হয়েছে, যার প্রকৃত তদন্তে সত্যতা প্রকাশ পাবে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




ভাতিজার শাবলের আঘাতে চাচা নিহত

বরিশাল জেলার বানারীপাড়া উপজেলার ইলুহার ইউনিয়নের মলুহার গ্রামে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে ভাতিজার শাবলের আঘাতে চাচা সুলতান হোসেন খান (৪৫) নিহত হয়েছেন। সুলতান হোসেন খান স্বরূপকাঠি উপজেলার ইন্দেরহাট বন্দর বাজারে কাপড় ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

বানারীপাড়া থানার ওসি মো. মোস্তফা জানান, ২১ দিন পর শনিবার (২৬ এপ্রিল) ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে রাজধানী পিজি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সুলতান হোসেন খান মারা যান। তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় পূর্বে দায়েরকৃত মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হবে।

পূর্বের মামলার এজাহারে জানা যায়, জমির বন্টন নিয়ে ৫ এপ্রিল রাতে সুলতান হোসেন খান ও তার বড় ভাই শাহজাহান খানের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। এর একপর্যায়ে শাহজাহানের ছেলে রুবেল খান চাচা সুলতান হোসেন খানকে শাবল দিয়ে আঘাত করে। আহত সুলতান খান প্রথমে বানারীপাড়া উপজেলা হাসপাতালে এবং পরে বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি হন। তার অবস্থা আরও খারাপ হলে তাকে রাজধানী পিজি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

এ ঘটনায় ৬ এপ্রিল সুলতান হোসেন খানের বোন নাসিমা বেগম বাদি হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার এজাহারে শাহজাহান খান, তার ছেলে রুবেল খান, ভাতিজার স্ত্রী লামিয়া আক্তার, বোন নিলুফা বেগম, মারুফা বেগম, বোনজামাতা মোশারফ হোসেন ও শাহ আলমকে আসামি করা হয়। পুলিশ ৬ এপ্রিল অভিযানে শাহজাহান খান, রুবেল খান ও লামিয়াকে গ্রেপ্তার করে। বর্তমানে শাহজাহান খান ও তার ছেলে রুবেল খান বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারে রয়েছেন।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /