পটুয়াখালীতে কর্মসংস্থান ব্যাংকের ব্যবসায়িক উন্নয়ন সভা অনুষ্ঠিত

কর্মসংস্থান ব্যাংকের বরিশাল, পটুয়াখালী ও পিরোজপুর অঞ্চলের আওতাধীন আঞ্চলিক ও শাখা ব্যবস্থাপক এবং মাঠকর্মীদের অংশগ্রহণে “ব্যবসায়িক উন্নয়ন সভা” অনুষ্ঠিত হয়েছে পটুয়াখালীতে। শুক্রবার (২ মে) এই গুরুত্বপূর্ণ সভা ব্যাংকের আঞ্চলিক কার্যক্রমকে আরও গতিশীল এবং টেকসই করতে নানা দিক নির্দেশনা এবং আলোচনার মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয়।

সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কর্মসংস্থান ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক অরুণ কুমার চৌধুরী। তিনি বলেন, মাঠপর্যায়ে কার্যক্রমকে আরও বিস্তৃত ও কার্যকর করে তুলতে ঋণ বিতরণ ও আদায়ে স্বচ্ছতা ও গতিশীলতা বজায় রাখতে হবে। বিশেষভাবে খেলাপি ঋণ ও শ্রেণিকৃত ঋণ আদায়ের ক্ষেত্রে ১০০% লক্ষ্যমাত্রা পূরণের জন্য সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

সভায় আরও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঋণ ও অগ্রিম বহির্বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক মো. মশিউর রহমান, ঋণ আদায় বহির্বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক মো. আকতার হোসেন প্রধান এবং শৃঙ্খলা ও আপিল বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ কে এম কামরুজ্জামান। সভার সভাপতিত্ব করেন খুলনা বিভাগীয় কার্যালয়ের উপমহাব্যবস্থাপক মো. নজরুল ইসলাম খান।

সভায় আলোচনার সময় ব্যবস্থাপনা পরিচালক আরও বলেন, ঋণ বিতরণের ক্ষেত্রেও নতুন নতুন বৈচিত্র্যপূর্ণ খাত নির্ধারণ করে সেখানেও বিনিয়োগ বাড়াতে হবে, যাতে অধিক কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা সম্ভব হয়। তিনি মাঠকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, ঋণ বিতরণের পাশাপাশি আদায়ের দিকেও সমানভাবে গুরুত্ব দিতে হবে। কারণ, ব্যাংকের সুস্থ আর্থিক কাঠামো টিকিয়ে রাখতে আদায়ের সাফল্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

উল্লেখ্য, কর্মসংস্থান ব্যাংক দেশের বেকার যুবকদের স্বাবলম্বী করার জন্য যে ধারাবাহিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, এই সভা তারই একটি অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সভায় অংশগ্রহণকারী কর্মকর্তারা নানা অভিজ্ঞতা ও মতামত বিনিময়ের মাধ্যমে কার্যক্রম আরও সুচারু ও ফলপ্রসূ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সংঘাত এড়াতে হবে :যুক্তরাষ্ট্র

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : ভারত পাকিস্তানে হামলা করতে পারে বলে গোয়েন্দা তথ্যের বরাত দিয়ে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র । এমন অবস্থায় ভারতকে এই অঞ্চলে বৃহত্তর সংঘাত এড়াতে বলেছে দেশটি।

জম্মু ও কাশ্মিরের পেহেলগামে সাম্প্রতিক সন্ত্রাসী হামলার পর ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা কার্যত চরমে পৌঁছেছে এবং এই উত্তেজনা সামরিক সংঘাতে রূপ নেওয়ার আশঙ্কা ক্রমেই বাড়ছে।

দেশটি বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র চায় না দক্ষিণ এশিয়ায় আরও বড় কোনও সংঘাত ছড়িয়ে পড়ুক। শুক্রবার (২ মে) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম টিআরটি গ্লোবাল।

সংবাদমাধ্যমটি বলছে, কাশ্মিরে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া হামলার প্রতিক্রিয়ায় ভারতের পদক্ষেপ যেন পুরো অঞ্চলে বড় কোনও সংঘাতে রূপ না নেয়—এমন আশাবাদ ব্যক্ত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র চায় না এই হামলার প্রতিক্রিয়া হিসেবে দক্ষিণ এশিয়ায় আরও বড় কোনো সংঘাত ছড়িয়ে পড়ুক।

ফক্স নিউজের ‘স্পেশাল রিপোর্ট উইথ ব্রেট বেয়ার’ অনুষ্ঠানে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “আমাদের আশা, ভারত এমনভাবে প্রতিক্রিয়া জানাবে যাতে এই ঘটনা থেকে কোনও বড় আঞ্চলিক সংঘাত তৈরি না হয়।”

তিনি আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্র চায় পাকিস্তান এই হামলার জন্য দায়ীদের ধরতে ভারতের সঙ্গে সহযোগিতা করুক।

ভ্যান্স বলেন, “আমরা আশা করি, পাকিস্তান ভারতের সঙ্গে সমন্বয় করবে, যেন তাদের ভূখণ্ডে সন্ত্রাসীরা থাকলে তাদের ধরা যায় এবং শাস্তি দেওয়া যায়। আমরা চাই এভাবেই বিষয়টির সমাধান হোক। আমরা ঘনিষ্ঠভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি। দেখা যাক কী ঘটে।”

এমন মন্তব্যের পেছনে প্রেক্ষাপট হচ্ছে পাকিস্তানের সামরিক মহড়া, যা একদিন আগেই শুরু হয়েছে। পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়, দেশের সেনাবাহিনী পূর্ণ মাত্রার যুদ্ধ মহড়া চালিয়েছে, যেখানে আধুনিক অস্ত্রের ব্যবহার ও যুদ্ধ কৌশলের প্রদর্শনী করা হয়েছে। এতে অফিসার এবং সৈনিকরা সক্রিয়ভাবে নিজেদের পেশাগত দক্ষতা প্রদর্শন করেন।




খালেদা জিয়া দেশে ফিরছেন

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : আগামী ৪ কিংবা ৫ মে বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া দেশে ফিরতে পারেন বলে জানিয়েছেন তার একান্ত সচিব এবি এম আব্দুস সাত্তার।

তিনি বলেন, আমরা প্রাথমিকভাবে ম্যাডামকে আগামী ৪-৫ মে লন্ডন থেকে দেশে নিয়ে আসার প্রস্তুতি নিচ্ছি।

বৃহস্পতিবার (১ মে) বিকেলে ঢাকা পোস্টের সঙ্গে একান্ত আলাপকালে তিনি এসব কথা জানান।

আব্দুস সাত্তার বলেন, আসলে ম্যাডামকে নিয়ে আসতে হবে এয়ার অ্যাম্বুলেন্স করে। সেটা ঠিক করার বিষয় আছে। আবার ম্যাডামের শারীরিক অবস্থার বিষয়টি আছে। ফলে সবকিছু বিবেচনা নিয়ে ম্যাডাম কবে দেশে ফিরবেন এটা সুনির্দিষ্ট করে বলতে পারছি না। তবে, ৪-৫ মে ধরে নিয়ে আমরা প্রস্তুতি নিচ্ছি।




মির্জাগঞ্জে মে দিবসের শোভাযাত্রায় বিএনপির দুই পক্ষের ধাক্কাধাক্কি

পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে মে দিবস উপলক্ষে আয়োজিত শোভাযাত্রায় বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে, যার জেরে ধাক্কাধাক্কি, ব্যানার ছেঁড়াসহ এক ঘণ্টার জন্য গুরুত্বপূর্ণ সড়ক অবরোধের ঘটনা ঘটে। বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

ঘটনার সূত্রপাত হয় উপজেলা জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের শোভাযাত্রা নিয়ে। জানা যায়, শোভাযাত্রাটি সুবিদখালী কলেজ রোড থেকে শুরু হয়ে উপজেলা পরিষদের সামনে এলে বিএনপির সভাপতি মো. সাহাবুদ্দিন (নান্নু) সমর্থিত নেতাকর্মীরা এবং বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলম ফরাজী সমর্থিত গ্রুপের মধ্যে বাগবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে শারীরিক ধাক্কাধাক্কি শুরু হয় এবং ব্যানার ছেঁড়ে ফেলার ঘটনাও ঘটে।

পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে জাহাঙ্গীর আলম ফরাজী সমর্থিত শ্রমিক দলের নেতাকর্মীরা ফিরে গিয়ে সুবিদখালী কলেজ রোডে বাকেরগঞ্জ-বরগুনা সড়কে অবস্থান নেন এবং রাস্তা অবরোধ করেন। তারা বিএনপির সভাপতি সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে থাকেন, যার ফলে ওই এলাকায় দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।

প্রায় এক ঘণ্টা পর মির্জাগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে উত্তেজিত নেতাকর্মীদের শান্ত করে এবং যান চলাচল স্বাভাবিক করে।

বিষয়টি নিয়ে শ্রমিক দলের নেতা মো. জাহাঙ্গীর আলম ফরাজী অভিযোগ করে বলেন, “আমরা শান্তিপূর্ণভাবে শোভাযাত্রায় অংশ নিয়েছিলাম। কিন্তু উপজেলা বিএনপির সভাপতি সাহাবুদ্দিন আমাদের ব্যানার ছিঁড়ে ফেলেন, যা মে দিবসের কর্মসূচিকে নষ্ট করে দেয়।”

অপরদিকে সাহাবুদ্দিন দাবি করেন, “জাহাঙ্গীর আলম ফরাজী একজন বহিষ্কৃত নেতা হওয়ায় সাধারণ কর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়। পরে পরিস্থিতি শান্ত হয়ে গেছে।”

এ বিষয়ে শ্রমিক দলের সদস্য মো. সোহেল মৃধাও ব্যানার ছেঁড়ার অভিযোগ করেন, তবে তিনি বলেন, “মূল দলের গ্রুপিং থাকলেও অঙ্গসংগঠনের মধ্যে কোনো বিভেদ ছিল না।”

মির্জাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শামীম হাওলাদার জানান, বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে সামান্য উত্তেজনার কথা তিনি শুনেছেন। কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। শ্রমিক দলের কিছু কর্মী সড়কে অবস্থান নেন, পরে তাদের সরিয়ে দেওয়া হয়।

এ ঘটনায় রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। দলীয় কোন্দল এবং নেতৃত্ব সংকটের প্রভাব স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসূচি পালনে কীভাবে প্রতিফলিত হচ্ছে, তা এই ঘটনাই স্পষ্ট করে দিয়েছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



রাবনাবাদ নদীতে ভেসে উঠলো অজ্ঞাত নারীর মরদেহ

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় রাবনাবাদ নদী থেকে অজ্ঞাত পরিচয়ের এক নারীর (৫৫) মরদেহ উদ্ধার করেছে পায়রা বন্দর নৌ-পুলিশ। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ছয়টার দিকে উপজেলার লালুয়া ইউনিয়নের চর চান্দুপাড়া এলাকার বুরুজালিয়া গ্রামের পাশ ঘেঁষে বয়ে চলা নদীর তীরে ভেসে আসা অবস্থায় মরদেহটি দেখতে পান স্থানীয়রা।

পরে তারা বিষয়টি নৌ-পুলিশকে অবহিত করলে ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া ওই নারীর পরনে ছিল একটি ব্লাউজ। তবে তার নাম-পরিচয় এখনও শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। মরদেহে কোনো আঘাতের চিহ্ন নেই বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

স্থানীয়রা ধারণা করছেন, জোয়ারের স্রোতে হয়তো দুরবর্তী কোনো এলাকা থেকে ভেসে এসে ওই স্থানে আটকে গেছে মরদেহটি।

এ বিষয়ে পায়রা বন্দর নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ কাওসার গাজী জানান, “মরদেহটি উদ্ধার করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ কার্যক্রম গ্রহণ করা হচ্ছে। শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন না থাকায় প্রাথমিকভাবে মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত করা যায়নি। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি মর্গে পাঠানো হবে।”

এদিকে ঘটনার পর নদীর আশপাশে উৎসুক জনতার ভিড় লক্ষ করা যায়। এখন পর্যন্ত কেউ মরদেহটি দাবি করেনি বলেও জানিয়েছেন পুলিশ সদস্যরা।

উল্লেখ্য, এ নদীটি বিভিন্ন সময় নিখোঁজ কিংবা দুর্ঘটনাজনিত কারণে ভেসে আসা মরদেহ উদ্ধারের জন্য আলোচনায় এসেছে। তবে এই ঘটনায় ওই নারীর মৃত্যুর রহস্য উদঘাটনে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



উজিরপুরে শ্রমিকদল নেতাকে বাসচাপা দিয়ে হত্যা, হানিফ পরিবহনের বাস জব্দ

বরিশালের উজিরপুরে মে দিবসের অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ শেষে বাড়ি ফেরার পথে বাসচাপায় মানিক গাজী (৬৫) নামের এক শ্রমিকদল নেতা নিহত হয়েছেন।
দুর্ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার (১ মে) দুপুর দেড়টার দিকে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের সাকুরা পেট্রোল পাম্প সংলগ্ন এলাকায়।

নিহত মানিক গাজী উজিরপুর উপজেলার ওটরা গ্রামের বাসিন্দা। তিনি ইউনিয়ন পর্যায়ের শ্রমিকদলের সক্রিয় সদস্য ছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা হানিফ পরিবহনের একটি বাস (ঢাকা মেট্রো ব-১২-১৮৫৭) অতিরিক্ত গতিতে সাকুরা পেট্রোল পাম্প এলাকায় পৌঁছালে রাস্তা পার হতে থাকা মানিক গাজীকে চাপা দেয়।
তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে উজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

উজিরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আব্দুস সালাম বলেন, “বাসটি স্থানীয়রা জব্দ করেছে। তবে চালক ও হেলপার পালিয়ে গেছে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।”

ওসি আরও জানান, বাসের গতি অত্যধিক থাকায় এমন দুর্ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই দুর্ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয় নেতাকর্মী এবং সাধারণ জনগণ হানিফ পরিবহনের গাফিলতির বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এবং দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




বরগুনায় বিএনপি অফিসে হামলার অভিযোগে ১৫৮ আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা

বরগুনায় জেলা বিএনপির কার্যালয়ে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ এবং হাতবোমা বিস্ফোরণের অভিযোগে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের ১৫৮ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার প্রধান আসামি করা হয়েছে সাবেক সংসদ সদস্য ও বরগুনা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভুকে।

২০২৩ সালের ১৭ মার্চের ওই ঘটনায় মামলা দায়ের করেন জেলা বিএনপির প্রয়াত সাধারণ সম্পাদক এস এম নজরুল ইসলামের ছেলে এস এম নইমুল ইসলাম। মামলায় একাধিক অজ্ঞাতনামা আসামিকেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

অভিযোগের বিবরণ:
মামলার বাদী জানান, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে একটি মিছিল নিয়ে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা জেলা বিএনপি কার্যালয়ে হামলা চালায়। এ সময় তারা অফিস কক্ষ ভাঙচুর, আসবাবপত্র ও ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী তছনছ করে বাইরে এনে সড়কে স্তূপ করে। এরপর টায়ারে গান পাউডার ছিটিয়ে আগুন ধরানো হয় এবং একাধিক হাতবোমা ফাটানো হয়।

তিনি আরও বলেন, “ঘটনার সময় আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকায় প্রশাসনের কাছে প্রতিকার চেয়েও পাইনি।”

মামলায় নাম থাকা উল্লেখযোগ্য আসামিরা হলেন:

  • সাবেক এমপি ও জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি অ্যাডভোকেট ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু
  • জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলহাজ জাহাঙ্গীর কবির
  • সাবেক এমপি ও সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম সরোয়ার টুকু
  • সাবেক মেয়র অ্যাডভোকেট কামরুল আহসান মহারাজ
  • সাবেক মেয়র শাহাদাত হোসেন
  • আমতলী পৌরসভার মেয়র মতিয়ার রহমান
  • বেতাগী পৌরসভার মেয়র গোলাম কবির
  • বরগুনা সদর উপজেলা চেয়ারম্যান মনিরুল ইসলাম মনির
  • তালতলী উপজেলা চেয়ারম্যান রেজবিউল কবির জমাদ্দার

মামলার এজাহারভুক্ত এক আসামি আমতলী উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও চাওড়া ইউপি চেয়ারম্যান আকতারুজ্জামান বাদল  কে গতকাল রাত ৯টার দিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি অন্য একটি মামলায় জামিন নিয়ে বের হওয়ার সময় সড়ক থেকে গ্রেফতার হন।

বরগুনা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) দেওয়ান জগলুল হাসান বলেন, “বিশেষ ক্ষমতা আইন, স্যাবোটাজ এবং বিস্ফোরক আইনে মামলা রুজু হয়েছে। মামলার তদন্ত চলছে এবং গ্রেপ্তার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।”

এই ঘটনায় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া কোন দিকে যায় তা নিয়ে জেলার রাজনৈতিক মহলে উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / 




চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অনাস্থা, পরে তিন সদস্যের পিছু হটা

বরিশাল গৌরনদীর নলচিড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম হাফিজ মৃধার বিরুদ্ধে অনাস্থা দিয়েছেন ১১ জন ইউপি সদস্য। তবে এর মধ্যে তিনজন সদস্য পরে ভুল স্বীকার করে অনাস্থা প্রত্যাহারের আবেদন করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে।

বুধবার (৩০ এপ্রিল) দুপুরে ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে চেয়ারম্যান গোলাম হাফিজ মৃধা অভিযোগ করেন, ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর অধিকাংশ ইউপি সদস্য পরিষদে অনুপস্থিত ছিলেন। এমনকি তারা নিজ এলাকায়ও ছিলেন না।

তিনি আরও জানান, টিআর, কাবিটা, কাবিখা ও ৪০ দিনের কর্মসূচির প্রায় এক কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় সদস্যদের ডাকা হলেও তারা আসেননি। ফলে তিনি সদস্যদের অনুপস্থিতির বিষয়ে ইউএনও বরাবর লিখিত দেন। এরপরই ক্ষুব্ধ হয়ে তারা অনাস্থা দেন।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত রেহানা বেগম, আলেয়া বেগম ও আলাউদ্দিন মীর বলেন, “আমরা ভুল বুঝে অনাস্থা দিয়েছিলাম। পরে উপলব্ধি করে ইউএনও’র কাছে অনাস্থা প্রত্যাহারের আবেদন করেছি।”

তবে অনাস্থা প্রস্তাবে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে বরাদ্দ আত্মসাত, অনিয়ম, দুর্নীতিসহ সদস্যদের প্রাপ্য ভাতার অর্থ না দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়। ইউএনও রিফাত আরা মৌরি বলেন, “উভয় পক্ষের অভিযোগ লিখিতভাবে পেয়েছি। তদন্তের ভিত্তিতে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




ওসি ও এসআই’র বিরুদ্ধে মামলা, গ্রামবাসীর বিক্ষোভ

ঘুষ দাবির অভিযোগে থানার ওসি ও এক এসআই’র বিরুদ্ধে আদালতে নালিশি মামলা দায়েরের প্রতিবাদে বরিশালের গৌরনদীতে বিক্ষোভ করেছেন এলাকাবাসী। বুধবার (৩০ এপ্রিল) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার বাটাজোর ইউনিয়নের নোয়াপাড়া গ্রামের নারী-পুরুষ মিলে একটি প্রতিবাদ মিছিল বের করেন তারা।

বিক্ষোভকারীরা অভিযোগ করেন, স্থানীয় একটি কুচক্রী মহলের ইন্ধনে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মামলাটি দায়ের করা হয়েছে। তারা মামলাটি দ্রুত প্রত্যাহারের দাবি জানান।

জানা গেছে, গত ২৮ এপ্রিল নোয়াপাড়া গ্রামের প্রবাসী আজাদ সরদারের স্ত্রী সুমা বেগম বরিশালের জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ আদালতে গৌরনদী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. ইউনুস মিয়া এবং উপ-পরিদর্শক (এসআই) নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে ঘুষ চাওয়া ও হয়রানির অভিযোগ এনে একটি নালিশি মামলা দায়ের করেন।

স্থানীয়দের দাবি, সুমা বেগম গ্রামবাসীর চলাচলের একমাত্র পথ বন্ধ করে পারিবারিক কবরস্থানের নামে একটি পাকা দেয়াল নির্মাণ করছিলেন। এতে বাধা দিলে তিনি উল্টো পুলিশের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

ওসি মো. ইউনুস মিয়া জানান, গত ১১ এপ্রিল জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে এসআই নজরুল ইসলাম ঘটনাস্থলে যান এবং পরবর্তীতে নির্মাণাধীন দেয়ালের জমি নিয়ে আদালতে মামলা চলমান থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হন। এরপর এসআই নির্মাণ কাজ স্থগিত রাখতে বলে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।

তিনি আরও বলেন, থানার পক্ষ থেকে কোনো ঘুষ দাবি করা হয়নি বা কাউকে আটকে রাখা হয়নি। বরং প্রবাসীর স্ত্রী মিথ্যা ও মনগড়া অভিযোগ এনে আদালতে মামলা করেছেন।

তবে বাদী সুমা বেগম তার অভিযোগে অনড় থেকে বলেন, মামলা দায়েরের পর থেকেই স্থানীয় প্রভাবশালীরা তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের হুমকি দিচ্ছেন। এমনকি তিনি নিরাপত্তার অভাবে এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে রয়েছেন বলেও জানান।

এ বিষয়ে বরিশাল আদালতের বেঞ্চ সহকারী কামরুল ইসলাম বলেন, মামলাটি বিচারকের আদেশের জন্য অপেক্ষমাণ রয়েছে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




বরিশালে আধিপত্য নিয়ে সংঘর্ষ, আহত ৫

নগরীর ১২ নম্বর ওয়ার্ডে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে কমপক্ষে পাঁচজন আহত হয়েছেন। বুধবার (৩০ এপ্রিল) দিবাগত রাত ১টার দিকে এ হামলার ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী মো. আতিকুর রহমান মামুন (৪২) বৃহস্পতিবার (১ মে) সকালে বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন।

অভিযোগে বলা হয়, রাতের আঁধারে সন্ত্রাসী হিরন, লিমনসহ ১২-১৩ জনের একটি দল আবাসিক এলাকায় হামলা চালায়। তারা বসতঘরে ঢুকে ব্যাপক ভাঙচুর করে এবং পরিবারের সদস্যদের বেধড়ক মারধর করে। এতে আবদুল হালিমসহ পরিবারের বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হন। আহতদের বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

আতিকুর রহমান মামুন অভিযোগে উল্লেখ করেন, পূর্ব শত্রুতার জেরে পরিকল্পিতভাবে তার বাড়িতে এ হামলা চালানো হয়েছে। তিনি বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি মিজানুর রহমান বলেন, “লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /