বাংলার বাঘ কিংবা গরিবের ‘হক সাহেব’

‘শের-ই-বাংলা’ বা বাংলার বাঘ—এই উপাধি শুধু বাহ্যিক তর্জনে নয়, গভীর রাজনৈতিক দর্শনে, সাহসিকতায় ও নিপীড়িতদের প্রতি অগাধ ভালোবাসার কারণে যথার্থভাবে মানানসই এক ব্যক্তিত্ব ছিলেন আবুল কাশেম ফজলুল হক।

তিনি ছিলেন এলিট শ্রেণির প্রতিনিধি, কিন্তু মনের ভিতরে ছিলেন খাঁটি কৃষকসমাজের বন্ধু। বাংলার সাধারণ মানুষ তাকে ভালোবেসে ডাকতো ‘হক সাহেব’ নামে।

যেভাবে শুরু…

১৮৭৩ সালের ২৬ অক্টোবর বরিশালের ঝালকাঠির রাজাপুরে জন্মগ্রহণ করেন ফজলুল হক। পড়াশোনা শেষ করে হাইকোর্টে আইনজীবী, তারপর প্রশাসনে ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট, পরে চাকরি ছেড়ে রাজনীতির ময়দানে প্রবেশ। জীবনের প্রতিটি বাঁকে তিনি চ্যালেঞ্জ নিয়েছেন, এবং নিজের আদর্শ থেকে সরে আসেননি।

রাজনীতির উদ্দেশ্য : কৃষকের মুক্তি

১৯২৯ সালে ‘নিখিল বঙ্গ প্রজা সমিতি’ গঠন এবং ১৯৩৭ সালে ‘কৃষক প্রজা পার্টি’ প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে তিনি কৃষক সমাজের অধিকার প্রতিষ্ঠায় রাজনীতির মাঠে শক্তভাবে দাঁড়ান। ‘লাঙল যার, জমি তার’—এই স্লোগান দিয়েই বাংলার রাজনীতিতে নতুন ধারা এনেছিলেন।

মহাজন ও জমিদারদের বিরুদ্ধে সরব কণ্ঠ

ফজলুল হক জমিদারি প্রথা বিলুপ্তির পদক্ষেপ নেন, প্রজাস্বত্ব আইন পাস করান, এবং চাষিদের ঋণ সুরক্ষায় ‘খাতক আইন’ সংশোধন করেন। ১৯৩৮ সালে প্রণীত ‘পাট অধ্যাদেশ’ পাটচাষিদের জন্য ছিল এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ।

ব্রিটিশ বিরোধী সংগ্রামে অংশ

তিনি ছিলেন একমাত্র বাঙালি নেতা যিনি নিখিল ভারত কংগ্রেস ও নিখিল ভারত মুসলিম লীগের শীর্ষ পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন। খেলাফত আন্দোলন, অসহযোগ আন্দোলন, সংবিধান প্রণয়ন—সব ক্ষেত্রেই ছিল তার অগ্রণী ভূমিকা।

শিক্ষাক্ষেত্রে অবদান

তিনি ছিলেন শিক্ষা আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ। মুসলমানদের জন্য চাকরিতে ৫০% কোটা, প্রাথমিক শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করা, কলেজ প্রতিষ্ঠা ও শিক্ষাবৃত্তি প্রদান ছিল তার উল্লেখযোগ্য অবদান।

গল্প আর কিংবদন্তি

শের-ই-বাংলাকে ঘিরে রয়েছে নানা গল্প—এক বসায় ২০টি ডাব, ৪৫টি আম খাওয়া, খালি হাতে বাঘ মারার কাহিনি, মাতৃভাষা ছাড়াও ইংরেজি ও ফারসি ভাষায় দক্ষতা। দাবা খেলায় নাকি তিনি কখনো হারেননি!

অবসান ও অনন্ত স্মৃতি

১৯৬২ সালের ২৭ এপ্রিল ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন বাংলার প্রিয় ‘হক সাহেব’। আজও তার জীবন, সংগ্রাম ও আদর্শ বাংলার মাটি, কৃষক এবং মানবিক রাজনীতির অনুপ্রেরণা হয়ে আছে।




বরগুনার মোহনায় মৃত ডলফিন উদ্ধার, দূষণ ও ট্রলারের ধাক্কায় প্রাণ হারানোর আশঙ্কা

বরগুনার তালতলী উপজেলার শুভসন্ধ্যা সাগর মোহনায় পায়রা নদীর তীরে একটি মৃত ডলফিন উদ্ধার করা হয়েছে। শুক্রবার (২ মে) দুপুর ১টার দিকে স্থানীয় জেলেরা ডলফিনটির মৃতদেহ দেখতে পান এবং পরে পরিবেশবাদী সংগঠন ‘ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা)’ তালতলী শাখার সহায়তায় তা উদ্ধার করা হয়।

উদ্ধারকৃত ডলফিনটির শরীরে গভীর আঁচড়, কেটে যাওয়া দাগ ও রক্তাক্ত লেজ ছিল। স্থানীয় পরিবেশকর্মী ও বনবিভাগের কর্মকর্তারা ধারণা করছেন, সমুদ্রে চলাচলকারী ট্রলারের প্রপেলারের আঘাতেই প্রাণ হারিয়েছে ডলফিনটি।

পরিবেশবাদী আরিফুর রহমান বলেন, “এটি শুধু একটি ডলফিনের মৃত্যু নয়, বরং সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যের জন্য বড় হুমকির বার্তা। অনিয়ন্ত্রিত ট্রলার, দূষণ ও অতিরিক্ত মাছ ধরা আমাদের উপকূলীয় পরিবেশকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে।”

তালতলী বনবিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা মতিয়ার রহমান জানান, “ঘটনার বিষয়ে আমরা অবগত হয়েছি। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনায় পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন সায়েন্স অনুষদের শিক্ষক মীর মোহাম্মদ আলী বলেন, “এই মৃত্যু শুধু দুর্ঘটনা নয়, বরং নদী ও সাগরের পানি ও পরিবেশের অবনতির প্রতিচ্ছবি। প্লাস্টিক, তেল ও শিল্পবর্জ্যে সৃষ্ট দূষণে নদী আজ প্রাণহীন হয়ে উঠছে, যেখানে ডলফিনের মতো সংবেদনশীল প্রাণী আর টিকে থাকতে পারছে না।”

পরিবেশবাদীরা অবিলম্বে নদী ব্যবস্থাপনায় কঠোর নজরদারি, ট্রলার নিয়ন্ত্রণ, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং দূষণ বন্ধে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ দাবি করেছেন।

উল্লেখ্য, গত কয়েক মাসে তালতলী ও আশপাশের নদীতে একাধিকবার মৃত ডলফিন ভেসে ওঠার ঘটনা ঘটেছে, যা সামুদ্রিক পরিবেশের জন্য এক ভয়াবহ সতর্ক সংকেত বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

 




ভোলায় পাঁচ দফা দাবিতে উত্তাল মশাল মিছিল

ভোলার জনগণের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণে আন্দোলনের অংশ হিসেবে শুক্রবার (২ মে) সন্ধ্যায় শহরে অনুষ্ঠিত হয়েছে একটি বিশাল মশাল মিছিল। গ্যাসভিত্তিক শিল্পকারখানা ও মেডিকেল কলেজ স্থাপন, ভোলা-বরিশাল সেতু নির্মাণসহ পাঁচ দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে ছাত্র-জনতা এই কর্মসূচি পালন করে।

শহরের বাংলাস্কুল মাঠের ভাসানী মঞ্চ থেকে মিছিল শুরু হয়ে চকবাজার, সদর রোড, নতুন বাজারসহ গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে একই স্থানে গিয়ে শেষ হয়। এতে অংশ নেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

পাঁচ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে—
১. ভোলায় গ্যাসভিত্তিক শিল্পকারখানা স্থাপন
২. ভোলা মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠা
৩. ভোলা-বরিশাল সেতু নির্মাণ
৪. গ্যাস সিলিন্ডারে করে ঢাকায় পাঠানো বন্ধ
৫. স্থানীয় জনগণের জন্য টেকসই কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা

আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ ইসলামী আন্দোলনের সঙ্গে মতবিনিময়ও অনুষ্ঠিত হয় ভোলা প্রেসক্লাবে। আন্দোলনকারীদের প্রতিনিধি দল ২৮ এপ্রিল ঢাকায় সংশ্লিষ্ট উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক করলেও আশানুরূপ অগ্রগতি না পাওয়ায় ভোলায় ফিরে অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন তারা।

গত এক মাস ধরে ভোলায় মিছিল, সমাবেশ, অবস্থান এবং দাবির পক্ষে নানা সচেতনতামূলক কর্মসূচি পালন করছেন স্থানীয়রা। তারা জানান, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




বরগুনায় ধর্ষণ মামলার আসামির স্বীকারোক্তি, পাঠানো হলো কারাগারে

বরগুনার তালতলীতে গণধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। শুক্রবার (২ মে) বিকেলে আমতলী সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এই জবানবন্দি দেওয়ার পর তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন বিচারক।

গ্রেপ্তার হওয়া ওই আসামির নাম ইব্রাহীম ওরফে জসিম (২২)। তিনি বরগুনা জেলার পাথরঘাটা উপজেলার দক্ষিণ চরদুয়ানি গ্রামের আবদুল মজিদ হাওলাদারের ছেলে।

পুলিশ জানায়, শুক্রবার সকালেই পাথরঘাটা এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। এর আগে ২৮ এপ্রিল রাতে বিয়ের প্রলোভনে এক কিশোরীকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে ধর্ষণের পর ফেলে রেখে পালিয়ে যায় জসিম। এ ঘটনায় ওই কিশোরীর পরিবার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে থানায় মামলা দায়ের করে।

তালতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহজালাল বলেন, “ঘটনার পর থেকে আসামিদের ধরতে অভিযান চালানো হয়। প্রধান আসামিকে আমরা গ্রেফতার করেছি। অন্যদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত আছে।”

স্থানীয়দের অভিযোগ, এমন ঘটনা প্রায়শই ঘটলেও বিচার না হওয়ায় অপরাধীরা বারবার সাহস পাচ্ছে। দ্রুত তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে সামাজিক ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




বহুমূল্য শিশু হাসপাতাল পড়ে আছে অব্যবহৃত, উদ্বোধনের অপেক্ষায় ১ বছর

বরিশালের আমানতগঞ্জ এলাকায় প্রায় ১৯ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ২০০ শয্যার শিশু হাসপাতাল এক বছর আগে নির্মাণ শেষ হলেও এখনও চালু হয়নি। বিদ্যুৎ সাবস্টেশন, জেনারেটর স্থাপন না হওয়া এবং জনবল নিয়োগ না থাকায় কোটি টাকার এই অবকাঠামো পড়ে আছে একেবারে অনিশ্চয়তায়।

২০১৭ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া এ প্রকল্পে ১০ তলা ফাউন্ডেশনের ওপর প্রাথমিকভাবে ৪ তলা নির্মাণকাজ শেষ হয় ২০২৪ সালের মার্চে। কার্যাদেশ অনুযায়ী, হাসপাতালটির চিকিৎসা কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা ছিল ২০১৯ সালেই। তবে নানা অবকাঠামোগত ঘাটতি ও পরিকল্পনার অভাবে সেটি বাস্তবায়ন হয়নি।

হাসপাতালটি শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজের আওতায় পরিচালিত হওয়ার কথা। পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম মশিউল মুনীর বলেন, “চিকিৎসা কার্যক্রম চালাতে হলে অন্তত ৩৫০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী লাগবে। কিন্তু এখনও একজনও নিয়োগ পাননি। বিদ্যুতের সাবস্টেশন ছাড়া কিছুই করা সম্ভব নয়।”

বরিশাল মেডিকেলের সহকারী পরিচালক রেজওয়ানুর আলম জানান, শিশু বিভাগে প্রতিদিন গড়ে ৬০০ থেকে ৬৫০ জন রোগী চিকিৎসা নিচ্ছে। নতুন হাসপাতাল চালু না হওয়ায় অতিরিক্ত এই চাপ সামলাতে গিয়ে চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে।

অন্যদিকে, ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান অভিযোগ করছে, ভবন পড়ে থাকায় মূল্যবান মালামাল চুরি হচ্ছে। তারা বরিশাল গণপূর্ত বিভাগকে ভবন বুঝিয়ে দিতে প্রস্তুত হলেও বিভাগ সেটি গ্রহণ করছে না।

গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ফয়সাল আহমেদ জানান, “সাবস্টেশন ও জেনারেটর সংস্থাপনের জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। বরাদ্দ পেলেই কাজ শেষ করা যাবে।”

বরিশালের সিভিল সার্জন ডা. এসএম মনজুর-এ-এলাহী বলেন, “আমি নতুন যোগ দিয়েছি, চেষ্টা করছি দ্রুত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে। বরাদ্দ না থাকায় কাজ আটকে আছে।”

এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বরিশালের নাগরিক সমাজ। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অধ্যাপক শাহ সাজেদা বলেন, “যেখানে শত শত শিশু চিকিৎসা না পেয়ে কষ্ট পাচ্ছে, সেখানে কোটি টাকার হাসপাতাল অচল পড়ে থাকা অত্যন্ত দুঃখজনক। দ্রুত এই অব্যবস্থাপনার অবসান চাই।”

বরিশালের জনগণের দাবি—দীর্ঘসূত্রতা না করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়ে হাসপাতালটি চালু করা হোক। দেরি মানেই জনগণের স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হওয়া এবং রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয়।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




বৈশাখী ঝড়-শিলাবৃষ্টিতে দক্ষিণাঞ্চলে বোরো ধানের সর্বনাশ

বাম্পার ফলনের স্বপ্ন দেখছিলেন দক্ষিণাঞ্চলের কৃষকরা। কিন্তু হঠাৎ বৈশাখী ঝড় ও শিলাবৃষ্টির আঘাতে সেই স্বপ্ন এখন পানিতে ভাসছে। বরিশালসহ আশপাশের জেলাগুলোতে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে পাকা বোরো ধান, সবজির খেত, কলাবাগান ও বসতবাড়ি।

বিশেষ করে বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার মধ্য রাকুদিয়া গ্রামের কৃষক শাহিদুল ইসলামের অবস্থা সবচেয়ে করুণ। তিনি জানান, প্রায় ৭৫ মন ধান পানিতে ডুবে গেছে। ধান কাটার আগেই মাঠে ঢুকে পড়ে বৃষ্টি ও পানি। অসহায়ভাবে তিনি শুধু দেখেছেন তার একমাত্র অবলম্বন ধ্বংস হয়ে যেতে।

কৃষক শাহিদুল বলেন, “আমার সব শেষ। ধান উঠাতে পারলাম না, এখন সব পঁচে যাচ্ছে। এই ফসলেই সংসার চলতো, এখন কী করবো বুঝতে পারছি না।”

শুধু ধান নয়, ঘূর্ণিঝড় ও শিলাবৃষ্টির কারণে বাবুগঞ্জসহ আশপাশের এলাকায় কলাবাগান ও বিভিন্ন সবজির খেতও ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে। অনেক ঘরবাড়িও বিধ্বস্ত হয়েছে।

মাঠ পর্যায়ের তথ্য বলছে, বরিশাল বিভাগে প্রায় ৮ লাখ ২৫ হাজার হেক্টর আবাদি জমির মধ্যে বোরো ধানের চাষ হয়েছে প্রায় ২ লাখ ২ হাজার হেক্টরে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত মাত্র ৮১ হাজার ৬ হেক্টর জমির ধান কাটা হয়েছে। এখনও প্রায় ৬০ ভাগ ধান মাঠেই রয়ে গেছে।

বরিশাল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক ড. মো. নজরুল ইসলাম শিকদার বলেন, “আমরা কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছি যত দ্রুত সম্ভব ভালো ধান ঘরে তুলে ফেলতে। এই ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে সরকারের সহায়তা ছাড়া কৃষকদের পক্ষে সম্ভব হবে না।”

কয়েকদিন আগেও যে মাঠে ছিল সবুজের হাসি, আজ সেখানে শুধু কৃষকের কান্না। লক্ষ লক্ষ টাকার ক্ষতি নিয়ে তারা এখন দিশেহারা।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




বরিশালে নারী সাংবাদিককে বের করে দিল ইসলামী আন্দোলনের কর্মীরা

বরিশালে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সংবাদ সম্মেলন থেকে নারী সাংবাদিক মনিকা চৌধুরীকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে দলটির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার (৩ মে) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে বরিশাল প্রেসক্লাব মিলনায়তনে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ইসলামী আন্দোলনের সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম। তিনি বরিশাল সিটি নির্বাচনের ফল বাতিল করে নিজেকে মেয়র ঘোষণার দাবিতে বক্তব্য দেন।

ভুক্তভোগী সাংবাদিক মনিকা চৌধুরী জানান, অফিস থেকে সংবাদ সংগ্রহের দায়িত্ব পেয়ে নির্ধারিত সময় অনুযায়ী প্রেসক্লাবে উপস্থিত হন। তিনি কিছু ফুটেজ নিচ্ছিলেন, ঠিক তখনই ইসলামী আন্দোলনের কয়েকজন নেতাকর্মী তাঁকে সংবাদ সম্মেলন কক্ষ ত্যাগ করার নির্দেশ দেন। মনিকা বলেন, “আমি কারণ জানতে চাইলে তারা বলেন, নারী সাংবাদিকের এখানে প্রয়োজন নেই। আপনি বের হয়ে যান।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, “এই প্রথম নয়, এর আগেও ইসলামী আন্দোলনের কর্মসূচিতে অংশ নিতে গিয়ে শুধু নারী হওয়ার কারণে আমাকে বাধা দেওয়া হয়েছে।” তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।

ঘটনাটি নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মুফতি ফয়জুল করিম বলেন, “ঘটনাটি আমার সামনে ঘটেনি, হয়তো আমাদের কেউ করেছে।” তিনি আর কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

এ ঘটনায় বরিশালের সাংবাদিক সমাজ তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। বরিশাল প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নুরুল আলম ফরিদ বলেন, “মুসলিম নারীরাও অতীতে অস্ত্র হাতে যুদ্ধ করেছে। সৌদি আরবেও নারী সাংবাদিক রয়েছেন। নারী বলে পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়া অত্যন্ত নিন্দনীয়।” তিনি ইসলামী আন্দোলনকে এই ধরনের মনোভাব থেকে সরে আসার আহ্বান জানান।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




পটুয়াখালীর বাউফলে নিখোঁজ যুবকের মরদেহ উদ্ধার, হত্যার সন্দেহে তদন্ত শুরু

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় নিখোঁজের তিন দিন পর ইব্রাহীম খলিল (৩১) নামের এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার (৩ মে) সকালে উপজেলার আদাবাড়িয়া ইউনিয়নের একটি বাড়ির খড়ের গাদার পাশ থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। নিহত ইব্রাহীম দক্ষিণ লক্ষীপাশা গ্রামের মো. হাচন গাজীর ছেলে।

পুলিশ জানায়, গত ২৯ এপ্রিল রাতে বাজারে যাওয়ার কথা বলে ইব্রাহীম বাড়ি থেকে বের হন। এরপর থেকেই তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায় এবং পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়। পরিবার গতকাল শুক্রবার সকালে বাউফল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে।

আজ শনিবার সকালে এক শিক্ষার্থী খড়ের গাদার পাশে মরদেহ দেখতে পেয়ে স্থানীয়দের জানান। খবর পেয়ে বাউফল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়।

বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আখতারুজ্জামান সরকার বলেন, “প্রাথমিকভাবে এটি একটি হত্যাকাণ্ড বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। মরদেহে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে কিনা, তা জানতে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। ঘটনাটি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছি।”

এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ইব্রাহীম খলিলের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে চেয়ে দ্রুত বিচারের দাবি জানিয়েছেন তার স্বজন ও স্থানীয়রা।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



১৮ বছর পর ‘উত্তরণ’-এর নেতৃত্বে নারী, সভাপতি মাহফুজ নুসরাত

সরকারি ব্রজমোহন কলেজের ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘উত্তরণ’ নতুন নেতৃত্ব পেয়েছে। ৩৬ বছরের পথচলার সংগঠনটি ১৮ বছর পর আবারও নারীর হাতে নেতৃত্ব তুলে দিল। নবনির্বাচিত সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন মাহফুজ নুসরাত মোনা এবং সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন প্রকাশ চন্দ্র পাল।

শুক্রবার (২ মে) ‘উত্তরণ’-এর নিজস্ব কার্যালয়ে ২৯তম বার্ষিক সাধারণ সভা ও সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন বর্তমান সভাপতি সুদিপ্ত দাস এবং সাধারণ প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন সাধারণ সম্পাদক প্রসেনজিৎ মন্ডল।

সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য দেবাশীষ কুন্ডু ও মো. জিয়াউর রহমান। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের সাবেক নেতৃবৃন্দ, যাদের মধ্যে ছিলেন—পরিতোষ সরকার, সুজন সরখেল, সুকদেব মন্ডল মিঠু, সৈয়দ মেহেদী হাসান, দিদারুল ইসলাম, উদয় শংকর দাস, মো. শাহেদ, রতন দাস বাপী, দেবদুলাল সম্মাদার, দিপংকর দিপু, সুদেবী মন্ডল, সুব্রত ঢাকি, আরাফাত হোসেন, কাজী তারিফ, সাহাজিদা হিরা, মেহেদী হাসান, সাইফুল ইসলাম শাকিল, অনয় বনিক ও চন্দন দাস।

সম্মেলনের দ্বিতীয় অধিবেশনে পুরাতন কমিটি বিলুপ্ত করে নতুন কমিটি গঠন করা হয়। এ সময় সুকদেব মন্ডল মিঠু নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। গঠিত হয় ১৩ সদস্যের উপদেষ্টা পরিষদ এবং ২৩ সদস্যের কার্যকরী পরিষদ। নতুন কমিটিতে সভাপতি মাহফুজ নুসরাত মোনা, সাধারণ সম্পাদক প্রকাশ চন্দ্র পাল এবং সাংগঠনিক সম্পাদক উদয় শংকর দাস নির্বাচিত হন।

উল্লেখ্য, ১৯৮৯ সালে প্রতিষ্ঠিত ‘উত্তরণ’-এ মাহফুজ নুসরাত মোনা হলেন সংগঠনের ইতিহাসে তৃতীয় নারী সভাপতি। এর আগে ১৯৯৭ ও ২০০৭ সালে দুইজন নারী সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন। দীর্ঘ ১৮ বছর পর পুনরায় নারী নেতৃত্বে ফিরছে উত্তরণ, যা সংগঠনের বর্তমান ও প্রাক্তন সদস্যদের মাঝে উদ্দীপনা ও আশার সঞ্চার করেছে।

নবনির্বাচিত কমিটিকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছে সরকারি বিএম কলেজ প্রশাসন, কালচারাল অফিসার, বরিশাল জেলা শিল্পকলা একাডেমি সহ বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠন।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /


 




তিন ইউরোপীয় দেশের সঙ্গে ইরানের আলোচনা বাতিল

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উচ্চ-স্তরের বৈঠক স্থগিত হওয়ায় তিন ইউরোপীয় দেশের সঙ্গে ইরানের একটি নির্ধারিত কারিগরি বৈঠক বাতিল ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী জিন-নোয়েল ব্যারোট বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উচ্চ-স্তরের বৈঠকের আগে একটি নির্ধারিত কারিগরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। যেহেতু ওই বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে না, তাই কারিগরি বৈঠকটি অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়েছে।

তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে আলোচনার আগে ২ মে ইরান এবং জার্মানি, যুক্তরাজ্য এবং ফ্রান্সের অংশগ্রহণে আলোচনা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। ফরাসি মন্ত্রী বলেন, আলোচনা ব্যর্থ হলে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ইরানের উপর আবারও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে প্রস্তুত।

তিনি বলেন, যদি পারমাণবিক কর্মসূচির উল্লেখযোগ্য, যাচাইযোগ্য এবং নির্ভরযোগ্য হ্রাসের বিষয়ে ইরানের সাথে আমাদের কোনো চুক্তি না হয়, তাহলে আমরা ইউরোপীয়রা এক দশক আগে চুক্তিতে পৌঁছানোর সময় যে নিষেধাজ্ঞাগুলো তুলে নিয়েছিলাম, তা আবার প্রয়োগ করব।

এর আগে গতকাল বৃহস্পতিবার তেহরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকাই পরোক্ষভাবে ইরান-মার্কিন আলোচনার তারিখ স্থগিতের ঘোষণা দেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি বলেছেন, ইরান আগের চেয়েও বেশি একটি ন্যায্য ও ভারসাম্যপূর্ণ চুক্তিতে পৌঁছাতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

আরাকচি এক্স-পোস্টে লিখেছেন, আমরা ওমানি এবং আমেরিকান পক্ষের সাথে লজিস্টিক এবং কারিগরি কারণে চতুর্থ দফার আলোচনা স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। প্রকৃতপক্ষে, আমরা একটি ন্যায্য ও ভারসাম্যপূর্ণ চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য আগের চেয়েও বেশি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ: এমন একটি চুক্তি যা নিষেধাজ্ঞার অবসান নিশ্চিত করে এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি চিরকাল শান্তিপূর্ণ থাকবে বলে আস্থা তৈরি করে, একই সাথে ইরানের অধিকারের পূর্ণ সম্মান নিশ্চিত করে।