কিস্তির টাকার বদলে নেওয়া হাঁস ফেরত, এনজিওকর্মী বরখাস্ত

বরিশালের আগৈলঝাড়ায় ঋণের কিস্তির টাকা আদায়ের নামে এক গৃহবধূর বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে যাওয়া চীনা হাঁসটি চার দিন পর ফেরত দেওয়া হয়েছে। ঘটনাটি গণমাধ্যমে প্রকাশের পর ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হলে শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) দুপুরে এনজিও কর্তৃপক্ষ হাঁসটি গৃহবধূর হাতে তুলে দেয়। একই সঙ্গে অভিযুক্ত এনজিওকর্মীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

শনিবার দুপুরে টিএমএসএস এনজিওর গৌরনদী শাখার ম্যানেজার মো. রাজেক ইসলাম, ফিল্ড সুপারভাইজার মো. আরাফাত ও মো. সুজন মিয়া আগৈলঝাড়া উপজেলার বাকাল ইউনিয়নের ফুল্লশ্রী গ্রামে গিয়ে ভুক্তভোগী গৃহবধূ হাফিজা খানমের হাতে হাঁসটি তুলে দেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঋণের কিস্তির টাকা না পেয়ে হাঁস ধরে নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ হলে টিএমএসএস এনজিওর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে আমলে নেয়। শনিবার সকালে বরিশাল বিভাগীয় প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. মফিউর রহমান, মাদারীপুর জোনাল কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান এবং বরিশাল জোনাল কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদের নেতৃত্বে একটি তদন্ত দল ঘটনাস্থলে গিয়ে সরেজমিন তদন্ত করে। তারা ভুক্তভোগী হাফিজা খানম, তার স্বামী মুরাদ হোসেন এবং স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেন।

তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় অভিযুক্ত মাঠকর্মী ফিরোজ খানকে সাময়িক বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এনজিও সূত্র জানায়, তাকে গত ১১ ডিসেম্বর থেকেই সাময়িক বরখাস্ত দেখানো হয়েছে।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, আগৈলঝাড়া উপজেলার বাকাল ইউনিয়নের ফুল্লশ্রী গ্রামের মো. মুরাদ হোসেনের স্ত্রী হাফিজা খানম টিএমএসএস এনজিও থেকে ৬০ হাজার টাকা ঋণ নিয়েছিলেন। গত ৯ ডিসেম্বর ওই ঋণের শেষ কিস্তির ১ হাজার ৩২০ টাকা আদায়ের জন্য তার বাড়িতে যান মাঠকর্মী ফিরোজ খান। কিস্তির টাকা দিতে অক্ষমতা জানিয়ে হাফিজা খানম পাশের বাড়িতে গেলে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠান থেকে তার একটি চীনা হাঁস ধরে নিয়ে যান ওই মাঠকর্মী।

পরে ১১ ডিসেম্বর হাঁসটি ফেরত পাওয়ার দাবিতে আগৈলঝাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লিখন বণিকসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী গৃহবধূ।

চার দিন পর হাঁসটি ফেরত পেয়ে হাফিজা খানম বলেন, “আমার স্কুলপড়ুয়া মেয়ের শখের হাঁসটি ফিরে পেয়ে আমরা সবাই খুব খুশি। সংবাদ প্রকাশ না হলে হয়তো হাঁসটি আর ফেরত পেতাম না।”

এ বিষয়ে টিএমএসএস এনজিওর গৌরনদী শাখার ম্যানেজার মো. রাজেক ইসলাম বলেন, “ঘটনাটি তদন্ত করে অভিযুক্ত মাঠকর্মীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। আজ আমরা নিজ উদ্যোগে গৃহবধূর বাড়িতে গিয়ে হাঁসটি ফেরত দিয়েছি।”


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




৭২ঘণ্টার আগে কিছু বলা যাচ্ছে না অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন,মাথার আঘাত গুরুতর

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :  ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা–৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদি গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর তিনি বর্তমানে অত্যন্ত সংকটাপন্ন অবস্থায় আছেন বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. সায়েদুর রহমান। তার ভাষায়, হাদির অবস্থা “খুবই ক্রিটিক্যাল” এবং সামনে অন্তত ৭২ ঘণ্টা সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ।

শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) রাত সাড়ে ৯টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন হাদিকে পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ তথ্য দেন।

ডা. সায়েদুর রহমান জানান, হাদির মাথায় বাম কানের ঠিক ওপরে গুলি ঢুকে ডান পাশে বেরিয়ে গেছে। এই গতিপথে মস্তিষ্কের একেবারে গুরুত্বপূর্ণ অংশ ব্রেন স্টেম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি বলেন, “এটি চিকিৎসাবিজ্ঞানে ম্যাসিভ ব্রেন ইনজুরি হিসেবে বিবেচিত। ব্রেন স্টেম জীবনরক্ষাকারী অনেক কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করে। তাই পরিস্থিতি অত্যন্ত জটিল।”

এ মুহূর্তে হাদির ওপর কোনো নতুন সার্জিক্যাল ইন্টারভেনশন করা সম্ভব নয় জানিয়ে বিশেষ সহকারী আরো বলেন, রোগীকে শুধু লাইফ সাপোর্টে ধরে রাখার চেষ্টা চালানো হচ্ছে।

“আগামী ৭২ ঘণ্টা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এখন আশার নিশ্চয়তা দেওয়ার মতো অবস্থা নেই,” বলেন তিনি।

ডা. সায়েদুর জানান, হাদিকে কৃত্রিম শ্বাসপ্রশ্বাসে রাখা হয়েছে। তবু “একটুখানি আশার জায়গা” এখনো আছে—কারণ অস্ত্রোপচারের সময় তাঁর শরীরে স্বতঃস্ফূর্ত শ্বাস-প্রচেষ্টার কিছু সাড়া দেখা গেছে।

 




১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পূর্ণাঙ্গ তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতারে এক ভাষণের মাধ্যমে নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক তারিখ জানিয়ে দেন। তফসিল অনুযায়ী আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি দেশের ৩০০ আসনে একযোগে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। একই দিনে জুলাই জাতীয় সনদের আলোকে সংবিধান সংস্কার বাস্তবায়ন আদেশ–২০২৫-এর ওপর গণভোটও অনুষ্ঠিত হবে, যা এই নির্বাচনের গুরুত্ব ও পরিধিকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।

ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ সময় নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ২৯ ডিসেম্বর। বাছাই চলবে ৩০ ডিসেম্বর থেকে ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত। রিটার্নিং কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কমিশনে আপিল করার শেষ দিন ১১ জানুয়ারি, আর এসব আপিল নিষ্পত্তির সময়সীমা রাখা হয়েছে ১২ থেকে ১৮ জানুয়ারি। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ২০ জানুয়ারি, আর চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ ও প্রতীক বরাদ্দ হবে ২১ জানুয়ারি। নির্বাচনী প্রচারণা চলবে ২২ জানুয়ারি থেকে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত, এরপর নীরবতা পর্ব কার্যকর হবে।

এর আগে বুধবার নির্বাচন কমিশন বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে। সাক্ষাৎ শেষে বিকেলে সিইসির ভাষণ রেকর্ড করা হয়, যা আজ প্রচারিত হয়। তফসিল ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে আসন বিন্যাস, দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের নিয়োগ, মোবাইল কোর্ট পরিচালনা, আইনশৃঙ্খলা সেল গঠনসহ অন্তত ২০টি পরিপত্র জারি করার প্রস্তুতি নিয়েছে ইসি। নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম জানিয়েছেন, রিটার্নিং কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাদের প্রজ্ঞাপনসহ সমস্ত প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করা হবে।

স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত মোট ১২টি জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর মধ্যে আওয়ামী লীগ ছয়বার, বিএনপি চারবার এবং জাতীয় পার্টি দুইবার সরকার গঠন করেছে। তবে রাজনৈতিক অস্থিরতা, সাংবিধানিক পরিবর্তনসহ নানা কারণে বেশ কয়েকটি সংসদ তাদের পূর্ণ মেয়াদ শেষ করতে পারেনি। পঞ্চম, সপ্তম, অষ্টম, নবম, দশম ও একাদশ সংসদই কেবল পাঁচ বছরের মেয়াদ পূর্ণ করেছে, যা দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গন ইতোমধ্যে সরব হয়ে উঠেছে। মনোনয়ন, প্রচারণা, জোট রাজনীতি, মাঠপর্যায়ে সমর্থন—সব মিলিয়ে আগামী ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে একটি উত্তপ্ত ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ পরিবেশ সৃষ্টি হচ্ছে বলে বিশ্লেষকদের মত।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




কক্সবাজারের কৃষক হত্যার পলাতক আসামি আব্দুল করিম র‍্যাব–৮ এর হাতে গ্রেপ্তার

কক্সবাজারে কৃষককে গুলি করে হত্যার চাঞ্চল্যকর ঘটনার প্রধান পলাতক আসামি আব্দুল করিমকে পটুয়াখালী থেকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব–৮ এর আভিযানিক দল। বিভিন্ন গণমাধ্যমে আলোচিত এই হত্যাকাণ্ড জনমনে ব্যাপক উদ্বেগ সৃষ্টি করেছিল। দেশের নানা স্থানে সংঘটিত ভয়াবহ অপরাধে জড়িত পলাতক আসামিদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার করার মাধ্যমে র‌্যাব ইতোমধ্যেই জনগণের আস্থা অর্জন করেছে। সেই ধারাবাহিকতায় এ সফল অভিযান পরিচালনা করা হয়।

র‌্যাব–৮, সিপিসি–১ পটুয়াখালী ক্যাম্প এবং র‌্যাব–১৫ কক্সবাজারের যৌথ দল স্কোয়াড্রন লিডার রাশেদের নেতৃত্বে ১১ ডিসেম্বর ২০২৫ সালের সকালে পটুয়াখালী সদর এলাকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে কক্সবাজার জেলার ছনখোলা উত্তর নয়াপাড়া এলাকার বাসিন্দা এবং কৃষক হত্যা মামলার প্রধান আসামি আব্দুল করিম (৩৫) কে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি দীর্ঘদিন ধরে পলাতক ছিলেন।

হত্যাকাণ্ডের বিবরণ অনুযায়ী—ভিকটিম একজন কৃষক। ধানক্ষেতে ছাগল প্রবেশ করে ধান নষ্ট হওয়াকে কেন্দ্র করে ভিকটিম ও অভিযুক্ত পক্ষের মধ্যে পূর্ব থেকেই বিরোধ চলছিল। এরই জেরে গত ৩০ নভেম্বর ২০২৫ তারিখ বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে কয়েকজন অভিযুক্ত একত্রিত হয়ে আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশীয় মারাত্মক অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ভিকটিমের বাড়িতে ঢোকে। তারা পরিকল্পিতভাবে কৃষককে লক্ষ্য করে গুলি করে দ্রুত স্থান ত্যাগ করে। স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় ভিকটিমকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

পরবর্তীতে নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন। তদন্তে জানা যায়, গ্রেপ্তার হওয়া আব্দুল করিমের বিরুদ্ধে একাধিক ফৌজদারি মামলা রয়েছে এবং হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই তিনি পলাতক ছিলেন।

র‌্যাব জানায়, গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পটুয়াখালী সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। র‌্যাবের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়—অপরাধ দমনে তাদের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




বাউফলে বিএনপির মনোনয়নকে ঘিরে উত্তেজনা চরমে

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলা জুড়ে বিএনপির মনোনয়নকে কেন্দ্র করে বিরোধ তীব্র আকার ধারণ করেছে। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পটুয়াখালী–২ (বাউফল) আসনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে সাবেক সংসদ সদস্য শহিদুল আলম তালুকদারকে প্রার্থী ঘোষণার পর থেকেই পুরো এলাকায় অস্বাভাবিক রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়িয়ে পড়ে। মনোনয়ন ঘোষণার পর টানা তিন দিন—৭, ৮ ও ৯ ডিসেম্বর—বাউফলের ১৫টি ইউনিয়ন ও পৌরসভার বিভিন্ন স্থানে উপজেলা বিএনপি, পৌর বিএনপি এবং অঙ্গসংগঠনের ব্যানারে মশাল মিছিল, বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। কর্মসূচিগুলোতে ‘প্রার্থী পরিবর্তন চাই’ স্লোগানে মুখর ছিলেন নেতাকর্মীরা।

স্থানীয় সূত্র বলছে, বাউফল বিএনপি এখন প্রায় তিনভাগে বিভক্ত। সবচেয়ে বড় অংশটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ–দপ্তর সম্পাদক মোহাম্মদ মুনির হোসেন। আরেকটি শক্তিশালী অংশের নেতৃত্বে রয়েছেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ইঞ্জিনিয়ার এ কে এম ফারুক আহমেদ তালুকদার। অন্যদিকে, তুলনামূলকভাবে ছোট একটি অংশ বর্তমান মনোনীত প্রার্থী শহিদুল আলম তালুকদারের পক্ষে মাঠে রয়েছে। যদিও মুনির হোসেন ও ফারুক সরাসরি মিছিল না করলেও তাদের অনুসারীরা বিরোধিতায় সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন।

মুনিরপন্থী নেতাদের আন্দোলনে মুখ্য ভূমিকা পালন করছেন উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুল জব্বার মৃধা ও সদস্য সচিব আপেল মাহমুদ ফিরোজ। অপরদিকে, ফারুকপন্থীদের কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দিচ্ছেন পৌর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হাজী পলাশ। স্থানীয় নেতাকর্মীরা অভিযোগ করেন, শহিদুল আলম তালুকদারের বিরুদ্ধে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্যের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। তারা জানান, ১৯৯১ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে ঘড়ি মার্কায় নির্বাচন করা থেকে শুরু করে ২০০৮ সালে বিএনপির অফিসিয়াল প্রার্থীর বিপক্ষে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী আনারস মার্কায় সমর্থন দেওয়া—এসব কর্মকাণ্ডের কারণে তিনি বারবার দলের ক্ষতি করেছেন। এমনকি ২০১৮ সালের উপজেলা নির্বাচনে নিজের ভাইকে স্বতন্ত্র প্রার্থী করেও মাঠে নামিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অতীত মেয়াদে প্রশাসনের কর্মকর্তা, সাংবাদিক ও শিক্ষকদের লাঞ্ছিত করার অভিযোগও স্মরণ করিয়ে দেন আন্দোলনকারীরা।

এ সব কারণে বাউফলের নেতাকর্মীদের বড় অংশ মনে করেন—তালুকদারকে পুনরায় মনোনয়ন দিলে স্থানীয় বিএনপি আরও ভাঙনের মুখে পড়বে। তাই মনোনয়ন পরিবর্তনের দাবিতে গ্রুপভিত্তিক মশাল মিছিল, বিক্ষোভ এবং অবস্থান কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছেন তারা। শনিবার থেকে মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত প্রায় প্রতিটি ইউনিয়ন ও পৌর এলাকায় পৃথকভাবে এসব কর্মসূচি পালন করেন আন্দোলনকারী দুই গ্রুপ। তাদের দাবি—”বাউফলের বাস্তব অবস্থার আলোকে মনোনয়ন পুনর্বিবেচনা করা হোক।”

এদিকে, প্রার্থীতা নিয়ে ব্যাপক বিরোধের মধ্যেও মনোনীত প্রার্থী শহিদুল আলম তালুকদার বাউফল পাবলিক মাঠে এক ধর্মীয় অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে বলেন, “আমাকে মনোনয়ন দিয়েছেন তারেক রহমান। দায়িত্ব পেয়েছি দল থেকে। সবাইকে সঙ্গে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে নির্বাচন করতে চাই।” তার এই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

বাউফল বিএনপির অভ্যন্তরীণ বিভাজন নির্বাচনের আগে পূর্ণাঙ্গ সংকটে রূপ নেবে কিনা—এখন সেটিই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




ব্যারিস্টার ফুয়াদের বিরুদ্ধে নিজ এলাকায় ঝাড়ু মিছিল

বরিশালের বাবুগঞ্জে বাংলাদেশ (এবি) পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদের বিরুদ্ধে ঝাড়ু মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (১০ ডিসেম্বর) বিকেল ৫টায় উপজেলার মীরগঞ্জ ফেরিঘাট এলাকায় এলাকাবাসীর ব্যানারে এই প্রতিবাদ মিছিল বের করা হয়।

মিছিলে অংশ নেওয়া স্থানীয়রা জানান, মীরগঞ্জ সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে ব্যারিস্টার ফুয়াদ বাবুগঞ্জবাসীদের ‘চাঁদাবাজ’ আখ্যায়িত করেন। পরে ৮ ডিসেম্বর বরিশাল রিপোর্টার্স ইউনিটিতে সংবাদ সম্মেলন করে তিনি পুনরায় স্থানীয়দের ‘সন্ত্রাসী’ বলে মন্তব্য করেন। এসব মন্তব্যে ক্ষুব্ধ হয়ে এলাকাবাসী ঝাড়ু মিছিলের মাধ্যমে কঠোর প্রতিবাদ জানায়।

স্থানীয় বাসিন্দা কালাম হোসেন বলেন, ‘ব্যারিস্টার ফুয়াদ বলেছেন বাবুগঞ্জের মানুষ নাকি বোমা তৈরি করে এবং তাদের কাছে প্রাণঘাতী অস্ত্র থাকে—এ ধরনের মিথ্যা অভিযোগ আমরা কখনো মেনে নেব না।’

মীরগঞ্জ ঘাটের ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর মিয়া বলেন, ‘বাবুগঞ্জের সম্মান ও অধিকার রক্ষায় আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ। সাধারণ মানুষকে অপমান করার দায়ে ব্যারিস্টার ফুয়াদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। তা না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।’

স্থানীয়দের দাবি, জনসাধারণকে অপমান করার বিষয়টি তারা সহজভাবে নেবে না এবং পুরো এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভ বিরাজ করছে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




মোহাম্মদপুরে জোড়া খুন: অভিযুক্ত নারী সনাক্ত

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :  রাজধানীর মোহাম্মদপুরের নিজেদের ফ্ল্যাটে মা–মেয়েকে হত্যার ঘটনায় প্রধান সন্দেহভাজন গৃহকর্মী ‘আয়েশা’কে শনাক্ত করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তার প্রকৃত নাম-পরিচয় এবং স্বামীর পরিচয়ও জানা গেছে। তবে গতকাল মঙ্গলবার রাত ৮টা পর্যন্ত তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।

পুলিশ ও গোয়েন্দা সূত্র জানায়, তরুণীর পরিচয় শনাক্ত হলেও আনুষ্ঠানিকভাবে তা গ্রেপ্তারের পর প্রকাশ করা হবে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদেই হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ জানা যাবে বলে ধারণা তদন্তসংশ্লিষ্টদের।

গত সোমবার সকালে শাহজাহান রোডের ১৪ তলা ভবনের সপ্তম তলায় লায়লা আফরোজ (৪৮) ও তার মেয়ে নাফিসা লাওয়াল বিনতে আজিয়াকে (১৫) ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়। মঙ্গলবার নাটোরে মা–মেয়ের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। মামলার এজাহারে বাসা থেকে একটি মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ, স্বর্ণালংকার, নগদ টাকাসহ বেশ কিছু মূল্যবান জিনিসপত্র খোয়া যাওয়ার কথা উল্লেখ রয়েছে।

চার দিন আগে আয়েশা পরিচয় দিয়ে গৃহকর্মীর কাজ নেওয়া প্রায় ২০ বছর বয়সী এই তরুণীকে জোড়া খুনের সঙ্গে জড়িত বলে সন্দেহ করছেন স্বজনেরা। ঘটনার পর থেকেই তিনি পলাতক।

পুলিশ, ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো পৃথকভাবে তদন্ত শুরু করেছে। তদন্তসূত্র বলছে, গৃহকর্মী নিজের আসল নাম ও ঠিকানা গোপন করেছিলেন। বাসার কাজে যোগ দেওয়ার সময় সঙ্গে কোনো মোবাইল ফোনও ছিল না। পরে যে ফোনটি নিয়ে গেছেন, সেটি বাসা থেকে বেরিয়েই বন্ধ করেন। আশপাশের সিসিটিভি ক্যামেরার বেশির ভাগই অচল থাকায় তিনি কোনদিকে পালিয়েছেন, তা নিশ্চিত হওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।

সূত্র বলছে, লায়লা আফরোজের পরিবারের সঙ্গে তরুণীর আগের কোনো ফোনযোগাযোগ পাওয়া যায়নি। তিনি সব সময় বোরকা পরে থাকতেন, তাই ভবনের সিসিটিভিতেও তার মুখ স্পষ্টভাবে ধরেনি। ফলে তাকে শনাক্ত করতে ম্যানুয়ালভাবে বিভিন্ন পদ্ধতি অনুসরণ করতে হয়েছে।

তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার ইবনে মিজান জানিয়েছেন, গৃহকর্মীর দেওয়া নাম-ঠিকানা ভুল হওয়ায় শুরুতে তার পরিচয় নিশ্চিত করা কঠিন ছিল। তবে দ্রুতই তাকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে এবং গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

সুরতহাল প্রতিবেদনে বলা হয়, লায়লা আফরোজের শরীরে প্রায় ৩০টি এবং নাফিসার দেহে ৪টি ছুরিকাঘাতের চিহ্ন রয়েছে। হত্যার কারণ এখনও স্পষ্ট নয় বলে জানিয়েছেন মোহাম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মেজবাহ উদ্দিন।

ময়নাতদন্ত শেষে মঙ্গলবার সকালে মা–মেয়ের মরদেহ নাটোর পৌরসভার দক্ষিণ বড়গাছায় নেওয়া হয়। জোহরের নামাজের পর জানাজা শেষে তাদের দাফন করা হয়।




আজ পদত্যাগ করেতে পারেন উপদেষ্টা মাহফুজ আলম ও আসিফ মাহমুদ

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ : অবশেষে পদত্যাগ করতে যাচ্ছেন অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদে থাকা দুই ছাত্র প্রতিনিধি।

এই দুই উপদেষ্টা হলেন তথ্য সম্প্রচার উপদেষ্টা মাহফুজ আলম এবং স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া।

সরকারের দায়িত্বশীল সূত্র থেকে তথ্য জানা গেছে। তবে বিষয়টি নিয়ে কেউ নাম প্রকাশ করে বক্তব্য দিতে চাননি।

আজ বুধবার সন্ধ্যায় বা কাল বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করতে পারে নির্বাচন কমিশন (ইসি) এর আগেই দুই উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন বলে সরকারের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

এদিকে উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ আজ বুধবার বেলা তিনটায় সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলন ডেকেছেন। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. সালাউদ্দিনের পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, উপদেষ্টা সমসাময়িক বিষয় নিয়ে কথা বলবেন।

তবে সরকার আসিফ মাহমুদের ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো বলছে, পদত্যাগের বিষয়টি জানাতেই সংবাদ সম্মেলন ডাকা হতে পারে।

সরকারের দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, গতকাল প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে যমুনায় বৈঠক করেন জ্যেষ্ঠ কয়েকজন উপদেষ্টা। সাধারণত প্রতি মঙ্গলবার মধ্যাহ্নভোজের পাশাপাশি উপদেষ্টারা বৈঠকে মিলিত হন। গতকালের বৈঠকে দুই উপদেষ্টার পদত্যাগের বিষয়টি ওঠে। সন্ধ্যায় সরকারের দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা নিশ্চিত হন যে দুই উপদেষ্টা বুধবার পদত্যাগ করছেন।

বিষয়ে মাহফুজ আলম আসিফ মাহমুদের বক্তব্য জানতে টেলিফোনে একাধিকবার চেষ্টা করা হয়েছে। তাঁদের মুঠোফোনে খুদে বার্তা পাঠিয়েও সাড়া পাওয়া যায়নি।




শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে বহিষ্কার, পটুয়াখালী–১ আসনে নতুন প্রার্থী ঘোষিত

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের পটুয়াখালী জেলা শাখার প্রধান উপদেষ্টা এবং পটুয়াখালী–১ আসনের হাতপাখা প্রতীকের মনোনীত প্রার্থী মুফতি হাবিবুর রহমান হাওলাদারকে দল থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ, সংগঠনের স্বার্থবিরোধী কার্যকলাপে জড়িত থাকা এবং নির্দেশ অমান্যের অভিযোগে এই সিদ্ধান্ত জানায় জেলা নেতৃত্ব।

সোমবার (৮ ডিসেম্বর) রাতে পটুয়াখালী পৌরসভাস্থ জেলা কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ সিদ্ধান্ত আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেন জেলা সভাপতি হাওলাদার মো. সেলিম মিয়া। তিনি জানান, দলের আমীর মুফতি সৈয়দ মোহাম্মদ রেজাউল করিমের (পীর সাহেব চরমোনাই) নির্দেশনা এবং জেলার জরুরি আমেলা সভার সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মুফতি হাবিবুর রহমানকে দলীয় সব পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। বাতিল করা হয়েছে তার সংসদ সদস্য প্রার্থীতাও।

জেলা সভাপতি বলেন, ইসলামী আন্দোলন সবসময়ই নৈতিক, যোগ্য ও আমানতদার নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার পক্ষে। তাই দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করে এমন কোনো সিদ্ধান্ত বা কর্মকাণ্ড বরদাশত করা হবে না। সংগঠনের স্বচ্ছতা ও শৃঙ্খলা রক্ষায় নেতৃত্বের এ সিদ্ধান্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

একই অনুষ্ঠানে নতুন প্রার্থী হিসেবেও ঘোষণা দেওয়া হয় এক অভিজ্ঞ নেতার নাম। পটুয়াখালী জেলা শাখার সক্রিয় সদস্য আলহাজ্ব মাওলানা আবুল হাসান বোখারীকে পটুয়াখালী–১ আসনের হাতপাখা প্রতীকের নতুন প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। জেলা সভাপতি জানান, দলের নীতিমালা, আদর্শ ও সাংগঠনিক নির্দেশনা যথাযথভাবে মানতে সক্ষম নেতৃত্বকেই তারা অগ্রাধিকার দিয়ে আসছেন।

এদিকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত ঘোষণার কিছু ঘণ্টা আগেই মুফতি হাবিবুর রহমান হাওলাদার কলাপাড়া প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন। সেখানে তিনি নিজেই পটুয়াখালী–১ আসন থেকে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের কথা জানান এবং নতুন করে পটুয়াখালী–৪ আসন থেকে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দেন। তার এই ঘোষণাকে কেন্দ্র করেই সাংগঠনিক অসন্তোষ তৈরি হয় বলে দলের একাধিক সূত্র জানিয়েছে। দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে পৃথক অবস্থান নেওয়াকেই শৃঙ্খলাভঙ্গ হিসেবে বিবেচনা করেছে কেন্দ্র ও জেলা নেতৃত্ব।

দলীয় নেতারা মনে করছেন, সময়োপযোগী পদক্ষেপ নেওয়ার মাধ্যমে সংগঠনের শৃঙ্খলা ও নেতৃত্বের প্রতি আস্থা আরও সুদৃঢ় হবে। পটুয়াখালী–১ আসনে নতুন প্রার্থী ঘোষণার পর স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন সমীকরণও তৈরি হয়েছে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




আলীপুর মৎস্য বন্দরে ব্যবসায়ীর ওপর সন্ত্রাসী হামলা

পটুয়াখালীর মহিপুর থানার আলীপুর মৎস্য বন্দরের পুরাতন ফেরিঘাট এলাকায় এক মৎস্য ব্যবসায়ীর ওপর ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছে। সোমবার শেষ বিকেলে আকস্মিক এ হামলায় গুরুতর আহত হন স্থানীয় ব্যবসায়ী কামাল বেপারি (৩০)। শান্ত পরিবেশের মধ্যে এমন অপ্রত্যাশিত হামলায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং ঘটনাস্থলে উপস্থিত সকলে হতবিহ্বল হয়ে পড়েন।

স্থানীয়দের তথ্যমতে, বিকেল ৫টার দিকে কামাল বেপারি ফেরিঘাটের পাশে একটি চায়ের দোকানে বসে নিয়মিত মতো চা পান করছিলেন। ঠিক সেই সময় কয়েকজন সন্ত্রাসী দলবদ্ধভাবে তার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। লোহার রড ও হাতুড়ি দিয়ে তারা এলোপাতাড়ি আঘাত করতে থাকে। প্রত্যক্ষদর্শীরা নিশ্চিত করেছেন—ঘটনার আগে কোনো বিরোধ, বাকবিতণ্ডা কিংবা উত্তেজনা—কিছুই ছিল না। সবকিছু এত দ্রুত ঘটে যে দোকানে বসা কেউ প্রতিরোধ করার সুযোগও পাননি। তাদের দাবি, হামলাটি আগে থেকেই পরিকল্পনা করে করা হয়েছে।

হামলার পর গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে প্রথমে তুলাতুলি ২০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে তার শারীরিক অবস্থা আরও খারাপ হলে তাকে কলাপাড়া ৫০ শয্যা হাসপাতালে নেওয়া হয়। এরপর জরুরি ভিত্তিতে বরিশাল শের-ই–বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হলে তার চিকিৎসা চলছে। চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, তার মাথা, দেহ ও দুই পায়ে গুরুতর আঘাত রয়েছে।

আহত কামাল বেপারি জানান, তিনি নিয়মিত মতো চা পান করছিলেন। হঠাৎ স্থানীয় আবু জাফর, হানিফ, রাসেলসহ কয়েকজন তার ওপর অতর্কিতে হামলা চালায়। তার দাবি, হামলাকারীদের সঙ্গে তার কোনো ধরনের বিরোধ বা শত্রুতা নেই। তিনি ধারণা করছেন, কোনো অজ্ঞাত ব্যক্তির প্ররোচনায় এই আক্রমণ হতে পারে। তিনি আলীপুর মৎস্য বন্দরে ‘কামাল ফিস’ নামের ব্যবসার মালিক হিসেবেও পরিচিত।

অভিযুক্তদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় কোনো পক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি, যা ঘটনাটিকে আরও রহস্যজনক করে তুলেছে।

কলাপাড়া হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. পলি সাহা জানান, আহত কামালকে প্রথমে সেখানে আনা হলে তার মাথা, শরীর ও পায়ে একাধিক গুরুতর আঘাত পাওয়া যায়। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে অবস্থার অবনতি হওয়ায় দ্রুত তাকে বরিশাল শেরে-বাংলা মেডিকেলে পাঠানো হয়।

মহিপুর থানার ওসি (তদন্ত) অনিমেষ হালদার বলেন, তারা ঘটনাটি সম্পর্কে অবগত হয়েছেন। তবে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

ঘটনার পেছনে কারণ ও হামলাকারীদের উদ্দেশ্য নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা আলোচনা চলছে। ব্যবসায়ী ও জেলেসহ অনেকেই এলাকায় নিরাপত্তা বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছেন।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম