কলাপাড়ায় ১০৯ পরিবার পেল দুর্যোগ সহনশীল নতুন ঘর

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় ঘূর্ণিঝড় ও জলবায়ুজনিত ঝুঁকিতে থাকা ১০৯টি পরিবারকে হস্তান্তর করা হয়েছে নবনির্মিত দুর্যোগ সহনশীল বসতবাড়ি। সোমবার সকাল ১০টায় উপজেলা পরিষদ সভা কক্ষে অনুষ্ঠিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে এসব ঘরের দলিল তুলে দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাউছার হামিদ। পল্লী কর্ম সহায়ক ফাউন্ডেশনের অর্থায়নে এবং হীড বাংলাদেশের বাস্তবায়নে নির্মিত এসব ঘর জলবায়ু ঝুঁকিতে বসবাসরত পরিবারের জন্য নতুন আশার আলো হয়ে এসেছে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন হীড বাংলাদেশ-এর নির্বাহী পরিচালক আনোয়ার হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিপিপি’র সহকারী পরিচালক আছাদ উজ্জামান, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোকছেদুল আলম, প্রেসক্লাব সভাপতি নেছারউদ্দিন আহমেদ টিপু এবং কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা নাহিদ হাসান।

হীড বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক আনোয়ার হোসেন জানান, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রতিটি বসতবাড়িতে বসতভিটা উঁচুকরণ, স্বাস্থ্যসম্মত ল্যাট্রিন, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ ট্যাংক, সোলার প্যানেল এবং পরিবেশবান্ধব বন্ধুচুলা স্থাপন করা হয়েছে। এর ফলে এসব পরিবার শুধু নিরাপদ আশ্রয়ই নয়, স্বাস্থ্যকর ও টেকসই জীবনযাপনের সুযোগও পাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ সরকারের উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠান হিসেবে হীড বাংলাদেশ বহু বছর ধরে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে কাজ করছে। এর মধ্যে রয়েছে মা ও শিশু স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, অবকাঠামো উন্নয়ন, নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন নিশ্চিতকরণ, জলবায়ু ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, জেন্ডার সমতা ও নারীর ক্ষমতায়নসহ গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালী করার প্রকল্প।

২০০৭ সালের ঘূর্ণিঝড় সিডরসহ বিভিন্ন দুর্যোগে সর্বস্ব হারানো এ ১০৯টি পরিবার নতুন পাকা ঘর পেয়ে স্বস্তি ও আনন্দে উদ্বেলিত। তারা জানান, ভবিষ্যতে আর কোনো ঝড় বা জলোচ্ছ্বাসে ঘর ছেড়ে আশ্রয়কেন্দ্রে দৌড়াতে হবে না। ঘরগুলো ৩ থেকে ৫ ফুট জলোচ্ছ্বাস প্রতিরোধে সক্ষম হওয়ায় তারা নিজেদের জীবনকে আগের চেয়ে অনেক নিরাপদ মনে করছেন।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




গলাচিপায় পরীক্ষায় বিশৃঙ্খলা—সহকারী শিক্ষকদের কর্মবিরতিতে স্থবির শিক্ষা কার্যক্রম

পটুয়াখালীর গলাচিপায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর বার্ষিক পরীক্ষা শুরুর প্রথম দিনেই দেখা দিয়েছে ব্যাপক বিশৃঙ্খলা। দেশের সহকারী শিক্ষকদের তিন দফা দাবিতে চলমান কর্মবিরতির প্রভাব সরাসরি পড়েছে উপজেলার বিভিন্ন বিদ্যালয়ে। সোমবার (১ ডিসেম্বর) সকাল থেকে পরীক্ষা শুরুর কথা থাকলেও বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে গিয়ে দেখা যায়—সহকারী শিক্ষকরা দায়িত্ব পালনে অংশ নিচ্ছেন না।

সকাল ১০টার পরও গলাচিপা শহরের পল্লী উন্নয়ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, গলাচিপা বালিকা প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ একাধিক স্কুলে পরীক্ষা শুরু হয়নি। নির্ধারিত সময় পার হয়ে গেলে প্রধান শিক্ষক ও বিদ্যালয়ের কর্মচারীরা খাতা–প্রশ্ন নিয়ে পরীক্ষাকক্ষে ঢুকে পরীক্ষার কাজ শুরু করেন। তবে পরীক্ষাকক্ষজুড়ে ছিল শিক্ষার্থীদের হৈচৈ, ছোটাছুটি—কেউ প্রশ্ন না বুঝে চুপ করে বসে আছে, আর কেউ দিশেহারা হয়ে সহায়তা খুঁজছে। কারণ—পরীক্ষায় শৃঙ্খলা রক্ষা ও সহায়তার জন্য কোনো সহকারী শিক্ষকই উপস্থিত ছিলেন না; তারা অফিসকক্ষে বসে কর্মবিরতি পালন করছিলেন।

পল্লী উন্নয়ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. শাহারুল ইসলাম জানান, ১১তম গ্রেড বাস্তবায়ন, বেতনভাতা সমন্বয় ও পদোন্নতিসহ তিন দফা দাবি দীর্ঘদিন ধরে উপেক্ষিত। ঢাকায় আন্দোলনে পুলিশের হামলার পর দেশব্যাপী সহকারী শিক্ষকরা কর্মবিরতি পালন করছেন। মন্ত্রণালয় থেকে আশ্বাস দেওয়া হলেও বাস্তবায়নের কোনো প্রজ্ঞাপন না আসায় ধারণা করা হচ্ছে কর্মবিরতি চলবে অনির্দিষ্টকাল।

এদিকে, অভিভাবকদের মধ্যে সৃষ্টি হয়েছে ক্ষোভ ও উদ্বেগ। গলাচিপার অভিভাবক রুমা আক্তার বলেন, “শিক্ষকদের দাবি ন্যায্য হতে পারে, কিন্তু পরীক্ষার সময় কর্মবিরতি মানে আমাদের সন্তানদের ভবিষ্যতের সঙ্গে খেলা করা। তারা প্রস্তুতি নিয়ে এসেছে—পরীক্ষা না হলে মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে।”

গলাচিপা বালিকা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোসা. মরিয়ম আক্তার জানান, সহকারী শিক্ষক না থাকায় একা পরীক্ষা পরিচালনা করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। কর্মচারীদের দিয়ে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হলেও তা যথেষ্ট হচ্ছে না।

তবে পুরো পরিস্থিতি অস্বীকার করেছেন গলাচিপা উপজেলা শিক্ষা অফিসার মো. গোলাম সগীর। তার দাবি—উপজেলার ১৯৬টি বিদ্যালয়ের সবগুলোতেই যথাসময়ে পরীক্ষা শুরু হয়েছে, মাঠপর্যায়ে কোনো বিঘ্ন ঘটেনি। তিনি নিজে পরিদর্শন করেছেন এবং সহকারী শিক্ষা অফিসাররাও দায়িত্বে আছেন বলে দাবি করেন।

কিন্তু বাস্তব চিত্র বলছে ভিন্ন কথা—পরীক্ষার প্রথম দিনেই অসংখ্য বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষকরা কক্ষে উপস্থিত ছিলেন না। এতে পরীক্ষার পরিবেশ ভেঙে পড়ে এবং শিক্ষার্থীদের জন্য তৈরি হয় অস্বাভাবিক পরিস্থিতি।

জানা যায়, গলাচিপা উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে ১৯৬টি, সহকারী শিক্ষক ৯১৫ জন, শিক্ষার্থী প্রায় ২৮ হাজার। ফলে কর্মবিরতি চলতে থাকলে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম ও পরীক্ষার সময়সূচি বড় ধরনের ঝুঁকিতে পড়বে।

সহকারী শিক্ষকদের দাবি—১৩তম গ্রেড বাতিল করে ১১তম গ্রেডে উন্নীতকরণ, ১০ ও ১৬ বছর পূর্তিতে উচ্চতর গ্রেড দেওয়ার জটিলতা দূরীকরণ এবং সহকারী শিক্ষক থেকে প্রধান শিক্ষক পদে শতভাগ বিভাগীয় পদোন্নতি। মন্ত্রণালয় কী সিদ্ধান্ত নেয়—তা নির্ধারণ করবে গলাচিপাসহ সারাদেশের প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




পটুয়াখালী টোলপ্লাজায় বড় অভিযান, ট্রাকে মিললো তিন টন জাটকা

পটুয়াখালী সদর উপজেলার টোল প্লাজা এলাকার প্রবেশমুখে ভোরের নরম আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গেই শুরু হয় কোস্ট গার্ড ও মৎস্য অধিদপ্তরের সমন্বিত বিশেষ অভিযান। গোপন সংবাদের সূত্রে জানা যায়—অবৈধভাবে বিপুল পরিমাণ জাটকা পরিবহন করা হচ্ছে। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই সোমবার সকাল ৮টার দিকে সন্দেহজনক একটি ট্রাক থামিয়ে শুরু হয় তল্লাশি। মুহূর্তেই বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য—ট্রাক ভর্তি জাটকা।

পরে ওজন অনুযায়ী হিসাব করে দেখা যায়, জব্দ হওয়া জাটকার পরিমাণ প্রায় ৩ হাজার ৫৭০ কেজি, যার বাজারমূল্য প্রায় ২৫ লাখ টাকা। এতো বিপুল পরিমাণ মাছ একটি ট্রাকে পরিবহন করা হচ্ছিল রাজধানীমুখী রুটে। জাটকা পরিবহনের কঠোর নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও এমন চেষ্টা দেশের মৎস্যসম্পদ রক্ষায় বড় ধরনের হুমকি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

অভিযানে উপস্থিত কর্মকর্তারা জানান, প্রথমে ট্রাকটি থামতেই চালক ও হেল্পার বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়ে সময় নষ্ট করার চেষ্টা করেন। পরবর্তীতে তল্লাশি শুরু হলে ধরা পড়ে অবৈধ জাটকার পুরো চালান। নিয়ম অনুযায়ী চালক ও হেল্পারের কাছ থেকে মুচলেকা নেওয়া হলেও ট্রাকটি সাময়িকভাবে ছেড়ে দেওয়া হয়।

জাটকার মতো অমূল্য সামুদ্রিক সম্পদ রক্ষায় আইনের গুরুত্ব তুলে ধরে অভিযান পরিচালনাকারীরা বলেন, পাচারকারীদের কঠোর নজরদারিতে রাখতে হবে। দেশের সমুদ্র ও নদী এলাকায় জাটকা রক্ষা অভিযানকে আরও জোরদার করতে হবে, নয়তো ইলিশের উৎপাদন গভীরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

পরে জব্দ করা মাছ স্থানীয় প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে পটুয়াখালী উপজেলার এতিমখানা, সুবিধাবঞ্চিত পরিবার ও দরিদ্র মানুষের মাঝে বিতরণ করা হয়। এতে উপকারভোগীরা স্বস্তি প্রকাশ করেন এবং এমন মানবিক উদ্যোগের জন্য কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানান।

অভিযানের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা জানান, মৎস্যসম্পদ রক্ষায় ভবিষ্যতেও এমন অভিযান নিয়মিত চলবে, এবং জাটকা পাচারে জড়িতদের বিরুদ্ধে শিগগিরই আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




বাউফলে কুখ্যাত ভূমিদস্যু ফয়সাল পঞ্চায়েত আটক

পটুয়াখালীর বাউফলে দীর্ঘদিন ধরে ভূমি দখল ও নানা অনিয়মের অভিযোগে আলোচিত-সমালোচিত মো. ফয়সাল পঞ্চায়েতকে (৪৫) আটক করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। সোমবার (১ ডিসেম্বর) সকাল ১১টার দিকে পটুয়াখালী ডিসি অফিসের ক্যান্টিন এলাকা থেকে ডিবি পুলিশের এএসআই রুবেল তাকে আটক করেন। আটক ফয়সালের বাড়ি কালাইয়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডে, বাবা ইউনুস মিয়া।

স্থানীয়দের দাবি, ফয়সাল পঞ্চায়েত দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন চর এলাকায় ভূমি দখলের সঙ্গে জড়িত এবং এলাকায় তিনি একজন কুখ্যাত ভূমিদস্যু হিসেবে পরিচিত। বিশেষ করে গত বছরের ৫ আগস্ট সরকারের পতনের পর আত্মগোপনে থাকলেও পরে স্থানীয় বিএনপির কয়েক নেতার আশ্রয় নিয়ে আবারও সক্রিয় হয়ে ওঠেন। অভিযোগ রয়েছে—তাদের হয়ে কৃষকদের বন্দোবস্তকৃত জমি জোরপূর্বক দখল করে একরপ্রতি ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকায় বিক্রি করতেন তিনি। এসব কাজে সাবেক ইউএনও আমিনুল ইসলামও আর্থিকভাবে লাভবান হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

কালাইয়া, নাজিরপুর ও কেশবপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন চরে ফয়সাল পঞ্চায়েতের নেতৃত্বে জমি দখলের ঘটনায় কৃষকরা বহুবার মানববন্ধন করলেও কোনো প্রতিকার মেলেনি। তার গ্রেফতারের খবর ছড়িয়ে পড়তেই ভুক্তভোগী কৃষকদের মাঝে স্বস্তি ও সন্তোষের আবহ তৈরি হয়েছে।

তবে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহল তাকে ডিবি কার্যালয় থেকে ছাড়িয়ে আনার চেষ্টা চালাচ্ছে বলে জানা গেছে। অভিযোগ রয়েছে—বাউফল থানার এক পুলিশ কর্মকর্তা ফোনে আরেক কর্মকর্তাকে তাকে ‘বিএনপি নেতা’ পরিচয় দিয়ে ছাড়িয়ে দেওয়ার অনুরোধও করেছেন।

এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। এলাকাবাসী আশা করছেন, ভূমিদস্যুতার বিরুদ্ধে এই অভিযান সঠিকভাবে পরিচালিত হলে বহু কৃষক তাদের ন্যায্য জমি ফিরে পাবেন।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




অটোরিকশা চালক হত্যা: মূল আসামি ইব্রাহিম তালুকদার গ্রেফতার

পটুয়াখালী সদর থানার আলোচিত অটোরিকশাচালক মোসারফ হোসেন হত্যা মামলার প্রধান অভিযুক্ত ইব্রাহিম তালুকদারকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। দীর্ঘদিন ধরে পলাতক থাকা এ আসামিকে নারায়ণগঞ্জের সিদ্দিরগঞ্জ থানার জালকুড়ি এলাকা থেকে একটি বিশেষ অভিযানে আটক করা হয়। ঘটনার তদন্তে অগ্রগতি এনে র‌্যাবের এ অভিযান স্থানীয় মহলে স্বস্তি ফিরিয়েছে।

র‌্যাব জানায়, দেশের আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে ও ভয়াবহ অপরাধ নিয়ন্ত্রণে রাখতে তারা নিয়মিত অভিযানে কাজ করছে। বিভিন্ন চাঞ্চল্যকর ঘটনায় জড়িত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে র‌্যাবের তৎপরতা জনগণের আস্থা আরও বাড়িয়েছে। ওই ধারাবাহিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে শনিবার বিকেল ৫টার দিকে র‌্যাব-৮ ও র‌্যাব-১১-এর যৌথ আভিযানিক দল গোপন তথ্যের ভিত্তিতে জালকুড়ি এলাকায় লক্ষ্যভিত্তিক অভিযান পরিচালনা করে।

অভিযানে গ্রেফতার হওয়া ইব্রাহিম তালুকদার পটুয়াখালী সদর উপজেলার তুষখালী এলাকার জালাল তালুকদারের ছেলে। দীর্ঘ সময় ধরে পলাতক থেকে এলাকা ছাড়লেও গোপন নজরদারির মাধ্যমে তাকে শনাক্ত করা হয়। র‌্যাব জানায়, মোসারফ হত্যা মামলাটি শুরু থেকেই অত্যন্ত সংবেদনশীল হিসেবে বিবেচিত হওয়ায় প্রযুক্তি ও তথ্য বিশ্লেষণের সমন্বয়ে গ্রেফতারের এ সফলতা আসে।

তদন্ত সূত্রে জানা যায়, ২৯ অক্টোবর গভীর রাতে মোসারফ হোসেন তার ঘরে অবস্থান করার সময় কয়েকজন দুষ্কৃতকারী পরিকল্পিতভাবে বাড়ির সিধ কেটে ঘরে প্রবেশ করে। হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়িভাবে কোপাতে থাকে। গুরুতর জখম অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। হত্যাকাণ্ডের নৃশংসতা এবং পরিবারের ওপর হামলাকারীদের নির্মমতা পুরো এলাকাকে আতঙ্কিত করেছিল।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার ইব্রাহিম ঘটনার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে বলে র‌্যাব জানিয়েছে। তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, হত্যাকাণ্ডে আর কারা জড়িত ছিল এবং পরিকল্পনার নেপথ্যে কারা ছিল—তা উদঘাটনে জিজ্ঞাসাবাদ আরও জোরদার করা হবে।

গ্রেফতার ইব্রাহিমকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নিতে থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। র‌্যাব জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত অন্যদের গ্রেফতারের অভিযানও চলমান রয়েছে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড় ডিটওয়াহের প্রভাব বাড়ছে

দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় ‘ডিটওয়াহ’ দ্রুত শক্তি সঞ্চয় করে উত্তর–উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হচ্ছে। শ্রীলঙ্কা উপকূল সংলগ্ন সাগর এলাকাজুড়ে ঘূর্ণিঝড়টির প্রভাব স্পষ্টভাবে অনুভূত হওয়ায় বাংলাদেশের চারটি সমুদ্রবন্দর—চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রাকে ২ নম্বর দূরবর্তী হুঁশিয়ারি সংকেত প্রদর্শন করতে বলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। একই সঙ্গে গভীর সাগরে থাকা মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে ফিরতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

শুক্রবার দুপুরে প্রকাশিত আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে ঘূর্ণিঝড়টির অবস্থান ও গতিপথ সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হয়। সর্বশেষ অবস্থান অনুযায়ী, ‘ডিটওয়াহ’ বর্তমানে শ্রীলঙ্কা উপকূল সংলগ্ন দক্ষিণ–পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে। দুপুর ১২টার পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, ঘূর্ণিঝড়টির অবস্থান চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে প্রায় ১৯৪০ কিলোমিটার, কক্সবাজার থেকে ১৮৮৫ কিলোমিটার, মোংলা থেকে ১৮২০ কিলোমিটার ও পায়রা বন্দর থেকে ১৮২০ কিলোমিটার দূরে দক্ষিণ-পশ্চিমে।

আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৫৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের বিরামহীন বেগ ঘণ্টায় ৬২ কিলোমিটার, যা দমকা ও ঝোড়ো হাওয়ার আকারে ৮৮ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। ঘূর্ণিঝড়টির নিকটবর্তী এলাকায় সাগর এখনও অত্যন্ত উত্তাল রয়েছে, ফলে সাগরগামী সব ধরনের নৌযানের জন্য পরিস্থিতি ঝুঁকিপূর্ণ।

আবহাওয়া অধিদপ্তর আশঙ্কা করছে—‘ডিটওয়াহ’ আরও ঘনীভূত হয়ে বাংলাদেশ উপকূলীয় অঞ্চলে পরোক্ষ প্রভাব ফেলতে পারে। তাই উপকূলজুড়ে সতর্কতা জোরদার করা হয়েছে। পায়রা ও মোংলা বন্দরে জেলেদের তীরে ফিরতে বারবার মাইকিং করা হচ্ছে। পাশাপাশি কুয়াকাটা, কলাপাড়া, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার উপকূলে স্থানীয় প্রশাসন সম্ভাব্য জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুতি নিচ্ছে।

উপকূলীয় অঞ্চলে বসবাসকারী মানুষজন ইতোমধ্যে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন। স্থানীয় বাজার, মৎস্যঘাট ও বাঁধ এলাকা গুলোতে বাড়তি সতর্কতা দেখা গেছে। জেলেরা বলছেন—হঠাৎ উত্তাল সাগর ও শক্তিশালী বাতাসের কারণে বহু মাছ ধরার নৌকা তড়িঘড়ি করে তীরে ফিরছে। আবহাওয়াবিদদের মতে, আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টা ঘূর্ণিঝড়টির গতিপথ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় সাধারণত উপকূলীয় অঞ্চলে প্রচণ্ড বাতাস, উচ্চ জলোচ্ছ্বাস ও ভারী বর্ষণ সৃষ্টি করে। তাই উপকূলজুড়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি সতর্কবার্তা প্রচার করছে। স্থানীয় প্রশাসনও আশ্রয়কেন্দ্রগুলো প্রস্তুত রাখতে নির্দেশনা পেয়েছে।

ঘূর্ণিঝড়ের অবস্থার আপডেট পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি দেশের মানুষও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিরাপত্তা ও সচেতনতার বার্তা ছড়িয়ে দিচ্ছেন। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে—পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সব নৌযানকে উপকূলের কাছাকাছি অবস্থান করতে এবং সাগরে না যেতে অনুরোধ করা হয়েছে।

বাংলাদেশ উপকূলের জন্য এটি আরেকটি সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দেখা দিচ্ছে। তাই ঘূর্ণিঝড় ‘ডিটওয়াহ’ বিষয়ে সর্বশেষ আবহাওয়ার তথ্য জানতে নিয়মিত আপডেট অনুসরণ করার জন্য অনুরোধ জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট দপ্তর।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বিলীন হবার পথে বরগুনার টেংরাগিরি বন

বরগুনার টেংরাগিরি সংরক্ষিত বন উপকূলীয় ভাঙন ও উত্তাল ঢেউয়ের কারণে বিলুপ্তির পথে। কয়েক বছরের ধারাবাহিক ক্ষয়ে বঙ্গোপসাগরে প্রায় দুই হাজার একর বনভূমি নষ্ট হয়ে গেছে। পাশাপাশি, শত শত কোটি টাকার বনসম্পদও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, কার্যকর ভাঙনরোধের পদক্ষেপ না নিলে বনের অস্তিত্ব হারানোর আশঙ্কা রয়েছে। পাকিস্তান সরকারের ১৯৬০ সালের ঘোষণায় টেংরাগিরি বন সংরক্ষিত বন হিসেবে ঘোষণা করা হয়। স্থানীয়ভাবে ‘ফাতরার বন’ নামে পরিচিত এই বনটির আয়তন ১৩,৬৪৭ একর।

বনের পূর্বদিকে কুয়াকাটা, মহিপুর ও আন্দারমানিক নদী; পশ্চিমে লালদিয়া, কুমিরমারাচর, পায়রা ও বিষখালী নদীর মোহনা; উত্তরে সোনাকাটা, নিশানবাড়িয়া ও সখিনা খাল; এবং দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর অবস্থিত। স্বাসমূলীয় গাছের আধিক্যের কারণে এটি পর্যটকদের আকর্ষণের কেন্দ্র।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ঢেউয়ের তীব্র আঘাতে গাছ উপড়ে পড়ে গেছে। বনের ভিতরে প্রায় ৫০০ মিটার এলাকায় গাছের গোড়ার মাটি সরে গেছে। স্থানীয়দের দাবি, বছরজুড়ে কোটি টাকার বনসম্পদ সাগরে ভেসে যাচ্ছে। বনদস্যুদের অবৈধ চক্রও গাছ কেটে পাচার করছে।

২০০৭ সালের সিডর এবং ২০০৯ সালের আইলার ঘূর্ণিঝড়ে বন ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে ধুন্দল, কেওড়া, গেওয়া, হেতাল ও রেন্ট্রি প্রজাতির গাছ নষ্ট হয়েছে। পটুয়াখালী বিভাগীয় সহকারী বন সংরক্ষক মো. আমির হোসেন জানান, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত গাছগুলো বনের ভিতরে রাখা হচ্ছে। তবে অসাধু ব্যক্তিদের বন উজাড়ের বিষয়ে অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বনের পুনর্গঠনের জন্য ঝাউসহ অন্যান্য প্রজাতির গাছ লাগানোর পরিকল্পনা চলছে। তবে পর্যটন ও স্থানীয় অর্থনীতির উপর ইতিমধ্যে বিরূপ প্রভাব পড়েছে।

পরিবেশকর্মীরা সতর্ক করে বলেন, বনের বিলীন হওয়া উপকূলীয় এলাকায় প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে। বিশেষজ্ঞরা টেংরাগিরি বনকে রক্ষা করতে সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণের জরুরি প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করেছেন।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




বরিশালে নার্সদের আট দফা দাবিতে বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচি

বরিশালে আট দফা দাবি বাস্তবায়নের দাবিতে বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন নার্স ও মিডওয়াইফরা। বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) দুপুরে শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রশাসনিক ভবনের সামনে বাংলাদেশ নার্সেস অ্যাসোসিয়েশন (বিএনএ) বরিশাল জেলা শাখার ব্যানারে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

নার্সদের প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—স্বতন্ত্র নার্সিং অধিদপ্তর বাতিলের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার, ভিন্ন অধিদপ্তরের অধীনস্থ না রেখে স্বতন্ত্র নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তর বজায় রাখা, জাতীয় নার্সিং কমিশন গঠন, পেশাগত মর্যাদা রক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন, কাঠামোগত সংস্কার এবং প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ।

কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া নার্সরা কালো ব্যাজ ধারণ করেন এবং ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে হাসপাতাল ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করেন। বক্তারা বলেন, দেশের স্বাস্থ্যসেবার মূল ভরসা নার্সিং খাত আজ অবহেলিত। স্বতন্ত্র অধিদপ্তর বাতিলের সিদ্ধান্ত নার্সিং পেশার সম্মান, ভবিষ্যৎ উন্নয়ন ও দক্ষতা বৃদ্ধির পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই কোনোভাবেই এ সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়া হবে না।

বিএনএ বরিশাল জেলা শাখার সভাপতি আলী আজগর, সহ-সভাপতি মো. শাহআলম, সাধারণ সম্পাদক নূরে আলম তালুকদার, কোষাধ্যক্ষ শামীমা ইয়াসমিন, আনোয়ারা খানম, হাফিজা আক্তারসহ সংগঠনের নেতারা বক্তব্য দেন।

বরিশাল নার্সিং কলেজ, শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নার্স ও মিডওয়াইফরা কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




ভোলায় পৌরসভার গাড়ি পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় আসামি গ্রেফতারে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম

ভোলায় অবৈধ দখল উচ্ছেদ অভিযানের সময় পৌরসভার কর্মচারীদের ওপর হামলা ও পৌরসভার তিনটি গাড়ি আগুনে পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনার আসামিদের গ্রেফতারে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছেন পৌরসভার কর্মকর্তা–কর্মচারীরা। বুধবার (২৭ নভেম্বর) সকালে ভোলা প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন থেকে এ আল্টিমেটাম দেওয়া হয়।

গত এক মাসেও চিহ্নিত হামলাকারীদের গ্রেফতার না করায় মানববন্ধন শেষে তারা শহরে বিক্ষোভ মিছিল করেন। পরে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেন। ভোলা পৌরসভা কর্মচারী সংসদের ব্যানারে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।

স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, গত ২৫ অক্টোবর বিকেলে ফুটপাতসহ পৌরসভার নিজস্ব ৩০.৭৫ শতাংশ জমিতে নির্মিত অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানের শেষ পর্যায়ে অবৈধ দখলদার মো. দুলালের নেতৃত্বে হামলা চালিয়ে পৌরসভার কর্মচারীদের আহত করা হয় এবং পৌরসভার তিনটি গার্বেজ ট্রাক পুড়িয়ে দেওয়া হয়। এতে পৌরসভার প্রায় এক কোটি টাকার ক্ষতি হয়।

পরদিন ২৬ অক্টোবর পৌরসভার স্যানিটারি ইন্সপেক্টর মো. ফারুক বাদী হয়ে ভোলা সদর মডেল থানায় মামলা করেন। মামলায় ২৪ জনকে আসামি করা হয়। তবে ঘটনার প্রায় এক মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো কাউকে গ্রেফতার করেনি পুলিশ।

মানববন্ধন থেকে বক্তারা বলেন, দ্রুত আসামিদের গ্রেফতার না করলে আরও কঠোর কর্মসূচিতে যাওয়ার ঘোষণা দেওয়া হবে। তারা হামলাকারীদের শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




মায়ের মরদেহ কবর থেকে তুলে ঘরে লেপ–কাঁথায় ঢেকে রাখলো ছেলে

কবর থেকে নিজের মায়ের মরদেহ তুলে এনে ঘরে মশারি টানিয়ে লেপ–কাঁথা দিয়ে ঢেকে রাখার অভিযোগ উঠেছে সজিব হোসেন (৩২) নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে। তাছাড়া মায়ের মরদেহ দাফন করায় স্বজনদের হুমকিও দিয়েছেন তিনি। এ অস্বাভাবিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওই এলাকায় স্থানীয়দের মাঝে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।

মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) গাজীপুরের কালিয়াকৈর এলাকার এই ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এর আগে গত সোমবার ওই এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন সজিবের পরিবারের সদস্যরা ও স্থানীয়রা। স্থানীয়, নিহতের পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায় মোথাজুরী এলাকার খোদেজা বেগম স্বামী আনতাজ আলীর মৃত্যুর পর একমাত্র ছেলে সজিবকে নিয়ে বসবাস করছিলেন। কিন্তু সজিব ধীরে ধীরে মাদকাসক্ত হয়ে পড়ে।

এ নিয়ে প্রায় মায়ের সঙ্গে ঝগড়া-বিবাদ হতো। গত শনিবার দুপুরে মা–ছেলের মধ্যে তীব্র বাগ্‌বিতণ্ডার একপর্যায়ে অভিমান ও মানসিক যন্ত্রণায় খোদেজা বেগম গলায় ফাঁস নিয়ে আত্মহত্যা করেন। খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দিন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করে। ময়নাতদন্ত শেষে গত রোববার সন্ধ্যায় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

এ ঘটনার পর ‘মাকে কেন মাটি দেওয়া হলো’ তা জানতে চেয়ে স্বজনদের হুমকি দিচ্ছিলেন সজিব। কিন্তু রাতের কোনো একসময় সজিব গোপনে কবর খুঁড়ে মরদেহ তুলে নিজ ঘরে নিয়ে আসে। সেখানে মশারি টানিয়ে লেপ–কাঁথা দিয়ে মরদেহটি ঢেকে রাখে।

সোমবার সকালে কবরস্থানে গিয়ে কবর খোলা দেখে এলাকাবাসীর সন্দেহ হয়। পরে তারা খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, সজিব ঘর বন্ধ করে রেখেছে, আচরণেও অস্বাভাবিকতা দেখা যাচ্ছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে আসলে স্থানীয়দের সহযোগিতায় সজিবের ঘরের তালা ভাঙা হয়।

ঘরের ভেতর মশারির নিচে লেপ–কাঁথায় মোড়া অবস্থায় পাওয়া যায় খোদেজা বেগমের মরদেহ। সেখান থেকে তখন প্রচণ্ড দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছিল। এর আগের রাতে সজিব তার মামা আব্দুল মান্নান মিয়াকে ফোন দিয়ে ‘মাকে কেন দাফন করা হলো’ এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন, দাফন কাজে অংশ নেওয়া স্বজনদের প্রাণনাশের হুমকি দেন।

এতে পরিবার ও এলাকাবাসীর মধ্যে ভয়–আতঙ্ক আরও বেড়ে যায়। খোদেজার বড় ভাই আব্দুল মান্নান মিয়া বলেন, সজিব আমাকে ফোন করে বলেছে মাকে কেন মাটি দিলেন। সে আমাকে খুন করার হুমকিও দিয়েছে। আমাদের পরিবার বর্তমানে চরম আতঙ্কের মধ্যে আছি।

কালিয়াকৈর থানাধীন ফুলবাড়িয়া পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ উপ-পরিদর্শক (এসআই) সুরুজ জামান বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত অস্বাভাবিক ও মর্মান্তিক। স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় মরদেহটি আবারও দাফন করা হয়েছে।