তিন অভিযোগে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ভিসির পদত্যাগ দাবি শিক্ষার্থীদের

ফ্যাসিবাদ পুনর্বাসন, শিক্ষার্থীদের প্রতি বিমাতা সুলভ আচরণ এবং শিক্ষকদের অপমান—এই তিন অভিযোগে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. শুচিতা শরমিনের পদত্যাগ দাবি করেছেন শিক্ষার্থীরা।

রোববার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রাউন্ড ফ্লোরে এক সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি জানান বিভিন্ন বিভাগের শতাধিক শিক্ষার্থী। সংবাদ সম্মেলন শেষে তারা বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়কে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন।

শিক্ষার্থীদের পক্ষে বক্তব্য রাখেন ছাত্রনেতা সুজয় শুভ। তিনি বলেন, “দীর্ঘদিন ধরেই আমরা নানান দাবিদাওয়া উপস্থাপন করেছি। ভিসি সেগুলো বাস্তবায়নের আশ্বাস দিলেও আজকের সংবাদ সম্মেলনে তার অবস্থান ছিল সম্পূর্ণ বিপরীত। উল্টো তিনি শিক্ষার্থীদের মামলা ও সাধারণ ডায়েরি থেকে নাম বাদ দিতে মুচলেকা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন, যা অত্যন্ত লজ্জাজনক।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, “নতুন স্বপ্ন ও অগ্রগতির নামে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে যেসব পরিবর্তন আনা হচ্ছে, তা ফ্যাসিবাদ পুনর্বাসনের চেষ্টামাত্র। ভিসি দায়িত্ব নেওয়ার পর একমাত্র অধ্যাপক ড. মুহসিন উদ্দিনকে সিন্ডিকেট ও একাডেমিক কাউন্সিল থেকে অপসারণের ভাষা ছিল অশোভন। এ নিয়ে তিনি দুঃখ প্রকাশ করতেও রাজি হননি।”

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন স্লোগান দেন:
দফা এক দাবি এক, ববি ভিসির পদত্যাগ”,
এক দফা এক দাবি, ভিসি তুই কবে যাবি”,
এক দুই তিন চার, ভিসি তুই গদি ছাড়”।

এছাড়াও আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীরা ভিসির নীতিনির্ধারণী ভূমিকা ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




ঝালকাঠিতে লুটপাট-ভাঙচুরের প্রতিবাদে মানববন্ধন

ঝালকাঠির কাঁঠালিয়া উপজেলার বটতলা বাজারে বৃদ্ধ মো. হারুন অর রশিদের বসতঘর ও দোকানে হামলা, লুটপাট এবং ভাঙচুরের ঘটনার প্রতিবাদে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে স্থানীয়রা দোষীদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

শনিবার সকালে কাঁঠালিয়া-আমুয়া সড়কের বটতলা বাজার এলাকায় এ মানববন্ধনে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি অর্ধশতাধিক স্থানীয় বাসিন্দা অংশ নেন।

বক্তব্যে ভুক্তভোগী মো. হারুন অর রশিদ, স্ত্রী রোজিনা বেগম, ছেলে মেহেদী, পুত্রবধূ লাকী আক্তার, প্রতিবন্ধী মেয়ে শিরিন আক্তার, স্কুলছাত্রী জান্নাতুল মাওয়া ও অন্যান্য স্বজনরা অভিযোগ করেন, গত ১ মে ভোররাতে জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে স্থানীয় এক প্রভাবশালীর নেতৃত্বে ভাড়াটে সন্ত্রাসীরা তাদের বাড়িতে হামলা চালায়।

হামলাকারীরা অস্ত্রের মুখে পরিবারের সদস্যদের হাত-মুখ বেঁধে ঘরের মালামাল লুট করে ও আশপাশের ছয়টি দোকান ভাঙচুর করে গুড়িয়ে দেয়। এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করা হলেও তিন দিনেও কোনো অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেনি পুলিশ, যা নিয়ে চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগীরা।

তারা বলেন, “আমরা এখন আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যদি দ্রুত ব্যবস্থা না নেয়, তবে এ ধরনের ঘটনা বারবার ঘটতে থাকবে।” মানববন্ধনে তারা অবিলম্বে অভিযুক্তদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




ভুয়া ডিবি সেজে চাঁদাবাজি, বরগুনায় দুই প্রতারক গ্রেফতার

বরগুনার তালতলী উপজেলায় নিজেদের ডিবি পুলিশ পরিচয় দিয়ে মামলার তদন্তের নামে চাঁদাবাজি করার অভিযোগে দুই প্রতারককে গ্রেফতার করেছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। শনিবার (৩ মে) বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে তালতলীর পঁচাকোড়ালিয়া এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়।

গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন—রিয়াজ উদ্দিন (২৬), পিতা মো. হাবিব তালুকদার এবং রাসেল (২৫), পিতা মো. আবু হানিফ। রিয়াজ পেশায় আইনজীবীর সহকারী এবং রাসেল ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেলচালক। তাদের বিরুদ্ধে প্রতারণা, হুমকি ও চাঁদাবাজির অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, রোববার তাদের আদালতে পাঠানো হবে।

ডিবি পুলিশের তথ্যমতে, এই প্রতারক চক্র কোর্ট থেকে বিভিন্ন মামলার কপি সংগ্রহ করে তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট ভুক্তভোগীদের বাড়িতে গিয়ে নিজেদের ডিবি পুলিশ পরিচয় দিত। পরে মামলার তদন্তের কথা বলে হুমকি-ধমকি দিয়ে টাকা দাবি করত। অনেকেই হয়রানি ও ভয়ে টাকা দিয়ে তাদের ‘ম্যানেজ’ করে আসছিল।

তাদের প্রতারণার শিকার হন আমতলী উপজেলার গুলিশাখালী ইউনিয়নের বাসিন্দা মাসুম মৃধা। তিনি বিষয়টি সন্দেহজনক মনে করে বরগুনা জেলা ডিবি পুলিশের ইনচার্জ মো. ইকরাম হোসেনের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। এরপর বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করে ডিবি। নজরদারির একপর্যায়ে অভিযুক্তদের প্রতারণার একাধিক প্রমাণ পাওয়ার পর শনিবার বিকেলে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

বরগুনা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ইনচার্জ মো. ইকরাম হোসেন বলেন, “আমরা লিখিত অভিযোগ পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আব্দুল হালিমকে বিষয়টি জানাই। তার নির্দেশনায় তদন্ত করে সত্যতা নিশ্চিত হওয়ার পর অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।”

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আব্দুল হালিম বলেন, “এই ধরনের প্রতারণা শুধু ভুক্তভোগীদের হয়রানি নয়, বরং পুলিশের ভাবমূর্তিও ক্ষুণ্ন করে। তাই দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এমন কাজ করার সাহস না পায়।”

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




ভোলা সমিতি ঢাকার নতুন নেতৃত্বে ৭১ সদস্যের কমিটি গঠন

ঢাকাস্থ ভোলাবাসীদের বৃহৎ অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত এক আলোচনা সভার মাধ্যমে “ভোলা সমিতি ঢাকা”র নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে। রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশ (আইইবি)-এর সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন আইইবি ঢাকা কেন্দ্রের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী হেলাল উদ্দিন তালুকদার।

সভায় উপস্থিত ছিলেন ঢাকায় বসবাসরত ভোলার বিশিষ্ট শিল্পপতি, ব্যবসায়ী, পুলিশ প্রশাসনের কর্মকর্তাবৃন্দ, আইনজীবী, শিক্ষক, সাংবাদিকসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ। আলোচনা শেষে সর্বসম্মতভাবে প্রকৌশলী হেলাল উদ্দিন তালুকদারকে আহ্বায়ক এবং গোলাম মাসুদ খান লাবলুকে সদস্য সচিব করে ৭১ সদস্যের নতুন কমিটি গঠন করা হয়।

অনুষ্ঠানটি এক সময় ঢাকাস্থ ভোলাবাসীর মিলনমেলায় পরিণত হয়। সভায় আরও গঠন করা হয় ৮ সদস্যের একটি উপদেষ্টা পরিষদ। উপদেষ্টাদের মধ্যে রয়েছেন:

  • মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম – বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী
  • নাজিম উদ্দিন আলম – বিএনপি কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সাবেক এমপি
  • হাফিজ ইব্রাহিম – বিএনপি কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সাবেক এমপি
  • আলহাজ্ব গোলাম নবী আলমগীর – ভোলা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক
  • নুরুল ইসলাম নয়ন – জাতীয়তাবাদী যুবদল কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক
  • আমিনুল হক – বিএনপি কেন্দ্রীয় ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক ও ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক
  • সাইফুল ইসলাম নিরব – বিএনপি কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য
  • হায়দার আলী লেলিন – বিএনপি কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য

ভবিষ্যতে ঢাকায় বসবাসরত ভোলাবাসীর সামাজিক ও সাংগঠনিক কার্যক্রমে এই কমিটি অগ্রণী ভূমিকা রাখবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয় সভায়।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




জিও ব্যাগ ফেলতে গিয়ে নদীতে পড়ে শ্রমিকের মৃত্যু

ঝালকাঠির সুগন্ধা নদীতে কাজ করার সময় পা পিছলে পড়ে মো. মোসলেম উদ্দিন মোল্লা (৪৫) নামের এক শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।

রবিবার সকালে শহরের পুলিশ লাইনের সামনে নদী থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিস ও কোস্টগার্ডের ডুবুরি দল।

নিহত মোসলেম উদ্দিন ভোলা জেলার লালমোহন উপজেলার ধলীগর নগর ইউনিয়নের পূর্ব চতলা এলাকার বাসিন্দা। পেশাগত কারণে তিনি ঝালকাঠি শহরে অবস্থান করছিলেন এবং নদী খনন কাজে জিও ব্যাগ ফেলায় নিয়োজিত ছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শী ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, সকালবেলা শহরের কুতুবনগর এলাকায় জিও ব্যাগ ফেলতে গিয়ে হঠাৎ পা পিছলে নদীতে পড়ে যান মোসলেম। সঙ্গে সঙ্গে নিখোঁজ হয়ে যান তিনি। খবর পেয়ে ঝালকাঠি ফায়ার সার্ভিস উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করে। তবে অভিজ্ঞ ডুবুরি না থাকায় বরিশাল থেকে অতিরিক্ত ডুবুরি দল আনা হয়।

প্রায় দুই ঘণ্টার অভিযান শেষে সকাল ১০টার দিকে পুলিশ লাইনের সামনে নদী থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

ঝালকাঠি ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, “খবর পাওয়ার পর আমরা উদ্ধার কাজ শুরু করি। পরে বরিশাল থেকে আসা ডুবুরি দলের সহায়তায় মরদেহ উদ্ধার সম্ভব হয়।”

ঝালকাঠি সদর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) রিয়াজুল ইসলাম জানিয়েছেন, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। নিহতের পরিবারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /


 




বৃষ্টিতেও থেমেনি পটুয়াখালীতে নার্সিং শিক্ষার্থীদের আন্দোলন

স্নাতক সমমানের স্বীকৃতি দাবিতে টানা বৃষ্টি উপেক্ষা করেই রাজপথে অবস্থান ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন পটুয়াখালীর নার্সিং শিক্ষার্থীরা। ‘ডিপ্লোমা ইন নার্সিং সায়েন্স অ্যান্ড মিডওয়াইফারি’ এবং ‘ডিপ্লোমা ইন মিডওয়াইফারি’ কোর্সকে স্নাতক পর্যায়ের (ডিগ্রি পাস) সমতাভুক্ত করার দাবিতে এই কর্মসূচি আয়োজন করে বাংলাদেশ ডিপ্লোমা স্টুডেন্ট নার্সেস ইউনিয়ন (বিডিএসএনইউ), পটুয়াখালী জেলা শাখা।

রবিবার (৪ মে) সকাল সাড়ে ১১টায় পটুয়াখালী নার্সিং ইনস্টিটিউট চত্বর থেকে শিক্ষার্থীরা একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। বৃষ্টি উপেক্ষা করে তারা শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। টানা এক ঘণ্টা ধরে চলে এই কর্মসূচি, যাতে অংশ নেয় প্রায় ২০০ জন শিক্ষার্থী।

বিক্ষোভরত শিক্ষার্থীরা জানান, তিন বছর অধ্যয়ন ও এক বছরের বাধ্যতামূলক ইন্টার্নশিপ শেষে ডিপ্লোমা কোর্স সম্পন্ন করলেও এখনো তাদের ডিগ্রিকে স্নাতক সমমানের স্বীকৃতি দেওয়া হচ্ছে না। তারা এটিকে অন্যায় এবং বৈষম্যমূলক সিদ্ধান্ত হিসেবে আখ্যা দেন। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, একই ধরণের শিক্ষাগত মান ও প্রশিক্ষণ থাকা সত্ত্বেও তাদের অবমূল্যায়ন করা হচ্ছে, যা পেশাগত উন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ উচ্চশিক্ষার পথে বড় বাধা তৈরি করছে।

গাজী মুনিবুর রহমান নার্সিং কলেজের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী নাজিম, শফিকুল ইসলাম, মাসুম, ইমরান হোসেন ও শাইফুলসহ উপস্থিত ছিলেন আরও অনেক শিক্ষার্থী। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলেন সাদিয়া বেগম, লাইজু আক্তার, মেহেরীন মীম, মরিয়ম জাহান ও আফরিন জাহান তিথী। আন্দোলনে নারী শিক্ষার্থীদের সরব অংশগ্রহণও ছিল চোখে পড়ার মতো।

আরো পড়ুন : প্রবাসী মনিরের লাশ ফিরে এলো দুমকিতে, স্ত্রীর কান্নায় ভারী আকাশ-বাতাস

আয়োজকরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানালেও এখনো কোনো ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যায়নি। তারা হুঁশিয়ারি দেন, যদি দ্রুত দাবি পূরণ না হয়, তাহলে আরও বৃহত্তর ও কঠোর কর্মসূচি নেওয়া হবে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



মির্জাগঞ্জে ইউপি সদস্যের বাড়িতে সশস্ত্র ডাকাতি, লুট ২.৮৫ লাখ টাকা ও স্বর্ণালংকার

পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার আন্দুয়া গ্রামে এক ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সদস্যের বাড়িতে সংঘবদ্ধ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। শনিবার দিবাগত রাত আনুমানিক ২টার দিকে এই ভয়াবহ ঘটনা ঘটে। ডাকাতেরা অস্ত্রের মুখে বাড়ির সবাইকে জিম্মি করে নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার ও মুঠোফোন লুট করে নিয়ে যায়।

ভুক্তভোগী জাফর সিকদার মির্জাগঞ্জ ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য এবং পেশায় একজন ইট-বালুর ব্যবসায়ী। তিনি জানান, “রাতের অন্ধকারে মুখোশ পরা ৮ থেকে ৯ জনের একটি ডাকাত দল হঠাৎ দরজা ভেঙে ঘরে ঢুকে পড়ে। আমাদের হাত-পা বেঁধে রেখে তারা পুরো ঘর তছনছ করে। তারা আমার কাছ থেকে প্রায় ২ লাখ ৮৫ হাজার টাকা, সাড়ে ৪ ভরি স্বর্ণালংকার ও ৪টি মোবাইল ফোন নিয়ে গেছে।”

ডাকাতির সময় বাড়ির সদস্যরা চরম আতঙ্কে ছিলেন বলে জানা গেছে। ডাকাতেরা দেশি অস্ত্র নিয়ে হুমকি দেয় এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে সবকিছু লুট করে পালিয়ে যায়।

খবর পেয়ে রোববার ভোরে মির্জাগঞ্জ থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামীম হাওলাদার বলেন, “ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রাথমিক তদন্ত করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।”

এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয়রা দ্রুত দোষীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



বাংলার বাঘ কিংবা গরিবের ‘হক সাহেব’

‘শের-ই-বাংলা’ বা বাংলার বাঘ—এই উপাধি শুধু বাহ্যিক তর্জনে নয়, গভীর রাজনৈতিক দর্শনে, সাহসিকতায় ও নিপীড়িতদের প্রতি অগাধ ভালোবাসার কারণে যথার্থভাবে মানানসই এক ব্যক্তিত্ব ছিলেন আবুল কাশেম ফজলুল হক।

তিনি ছিলেন এলিট শ্রেণির প্রতিনিধি, কিন্তু মনের ভিতরে ছিলেন খাঁটি কৃষকসমাজের বন্ধু। বাংলার সাধারণ মানুষ তাকে ভালোবেসে ডাকতো ‘হক সাহেব’ নামে।

যেভাবে শুরু…

১৮৭৩ সালের ২৬ অক্টোবর বরিশালের ঝালকাঠির রাজাপুরে জন্মগ্রহণ করেন ফজলুল হক। পড়াশোনা শেষ করে হাইকোর্টে আইনজীবী, তারপর প্রশাসনে ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট, পরে চাকরি ছেড়ে রাজনীতির ময়দানে প্রবেশ। জীবনের প্রতিটি বাঁকে তিনি চ্যালেঞ্জ নিয়েছেন, এবং নিজের আদর্শ থেকে সরে আসেননি।

রাজনীতির উদ্দেশ্য : কৃষকের মুক্তি

১৯২৯ সালে ‘নিখিল বঙ্গ প্রজা সমিতি’ গঠন এবং ১৯৩৭ সালে ‘কৃষক প্রজা পার্টি’ প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে তিনি কৃষক সমাজের অধিকার প্রতিষ্ঠায় রাজনীতির মাঠে শক্তভাবে দাঁড়ান। ‘লাঙল যার, জমি তার’—এই স্লোগান দিয়েই বাংলার রাজনীতিতে নতুন ধারা এনেছিলেন।

মহাজন ও জমিদারদের বিরুদ্ধে সরব কণ্ঠ

ফজলুল হক জমিদারি প্রথা বিলুপ্তির পদক্ষেপ নেন, প্রজাস্বত্ব আইন পাস করান, এবং চাষিদের ঋণ সুরক্ষায় ‘খাতক আইন’ সংশোধন করেন। ১৯৩৮ সালে প্রণীত ‘পাট অধ্যাদেশ’ পাটচাষিদের জন্য ছিল এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ।

ব্রিটিশ বিরোধী সংগ্রামে অংশ

তিনি ছিলেন একমাত্র বাঙালি নেতা যিনি নিখিল ভারত কংগ্রেস ও নিখিল ভারত মুসলিম লীগের শীর্ষ পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন। খেলাফত আন্দোলন, অসহযোগ আন্দোলন, সংবিধান প্রণয়ন—সব ক্ষেত্রেই ছিল তার অগ্রণী ভূমিকা।

শিক্ষাক্ষেত্রে অবদান

তিনি ছিলেন শিক্ষা আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ। মুসলমানদের জন্য চাকরিতে ৫০% কোটা, প্রাথমিক শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করা, কলেজ প্রতিষ্ঠা ও শিক্ষাবৃত্তি প্রদান ছিল তার উল্লেখযোগ্য অবদান।

গল্প আর কিংবদন্তি

শের-ই-বাংলাকে ঘিরে রয়েছে নানা গল্প—এক বসায় ২০টি ডাব, ৪৫টি আম খাওয়া, খালি হাতে বাঘ মারার কাহিনি, মাতৃভাষা ছাড়াও ইংরেজি ও ফারসি ভাষায় দক্ষতা। দাবা খেলায় নাকি তিনি কখনো হারেননি!

অবসান ও অনন্ত স্মৃতি

১৯৬২ সালের ২৭ এপ্রিল ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন বাংলার প্রিয় ‘হক সাহেব’। আজও তার জীবন, সংগ্রাম ও আদর্শ বাংলার মাটি, কৃষক এবং মানবিক রাজনীতির অনুপ্রেরণা হয়ে আছে।




বরগুনার মোহনায় মৃত ডলফিন উদ্ধার, দূষণ ও ট্রলারের ধাক্কায় প্রাণ হারানোর আশঙ্কা

বরগুনার তালতলী উপজেলার শুভসন্ধ্যা সাগর মোহনায় পায়রা নদীর তীরে একটি মৃত ডলফিন উদ্ধার করা হয়েছে। শুক্রবার (২ মে) দুপুর ১টার দিকে স্থানীয় জেলেরা ডলফিনটির মৃতদেহ দেখতে পান এবং পরে পরিবেশবাদী সংগঠন ‘ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা)’ তালতলী শাখার সহায়তায় তা উদ্ধার করা হয়।

উদ্ধারকৃত ডলফিনটির শরীরে গভীর আঁচড়, কেটে যাওয়া দাগ ও রক্তাক্ত লেজ ছিল। স্থানীয় পরিবেশকর্মী ও বনবিভাগের কর্মকর্তারা ধারণা করছেন, সমুদ্রে চলাচলকারী ট্রলারের প্রপেলারের আঘাতেই প্রাণ হারিয়েছে ডলফিনটি।

পরিবেশবাদী আরিফুর রহমান বলেন, “এটি শুধু একটি ডলফিনের মৃত্যু নয়, বরং সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যের জন্য বড় হুমকির বার্তা। অনিয়ন্ত্রিত ট্রলার, দূষণ ও অতিরিক্ত মাছ ধরা আমাদের উপকূলীয় পরিবেশকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে।”

তালতলী বনবিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা মতিয়ার রহমান জানান, “ঘটনার বিষয়ে আমরা অবগত হয়েছি। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনায় পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন সায়েন্স অনুষদের শিক্ষক মীর মোহাম্মদ আলী বলেন, “এই মৃত্যু শুধু দুর্ঘটনা নয়, বরং নদী ও সাগরের পানি ও পরিবেশের অবনতির প্রতিচ্ছবি। প্লাস্টিক, তেল ও শিল্পবর্জ্যে সৃষ্ট দূষণে নদী আজ প্রাণহীন হয়ে উঠছে, যেখানে ডলফিনের মতো সংবেদনশীল প্রাণী আর টিকে থাকতে পারছে না।”

পরিবেশবাদীরা অবিলম্বে নদী ব্যবস্থাপনায় কঠোর নজরদারি, ট্রলার নিয়ন্ত্রণ, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং দূষণ বন্ধে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ দাবি করেছেন।

উল্লেখ্য, গত কয়েক মাসে তালতলী ও আশপাশের নদীতে একাধিকবার মৃত ডলফিন ভেসে ওঠার ঘটনা ঘটেছে, যা সামুদ্রিক পরিবেশের জন্য এক ভয়াবহ সতর্ক সংকেত বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

 




ভোলায় পাঁচ দফা দাবিতে উত্তাল মশাল মিছিল

ভোলার জনগণের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণে আন্দোলনের অংশ হিসেবে শুক্রবার (২ মে) সন্ধ্যায় শহরে অনুষ্ঠিত হয়েছে একটি বিশাল মশাল মিছিল। গ্যাসভিত্তিক শিল্পকারখানা ও মেডিকেল কলেজ স্থাপন, ভোলা-বরিশাল সেতু নির্মাণসহ পাঁচ দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে ছাত্র-জনতা এই কর্মসূচি পালন করে।

শহরের বাংলাস্কুল মাঠের ভাসানী মঞ্চ থেকে মিছিল শুরু হয়ে চকবাজার, সদর রোড, নতুন বাজারসহ গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে একই স্থানে গিয়ে শেষ হয়। এতে অংশ নেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

পাঁচ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে—
১. ভোলায় গ্যাসভিত্তিক শিল্পকারখানা স্থাপন
২. ভোলা মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠা
৩. ভোলা-বরিশাল সেতু নির্মাণ
৪. গ্যাস সিলিন্ডারে করে ঢাকায় পাঠানো বন্ধ
৫. স্থানীয় জনগণের জন্য টেকসই কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা

আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ ইসলামী আন্দোলনের সঙ্গে মতবিনিময়ও অনুষ্ঠিত হয় ভোলা প্রেসক্লাবে। আন্দোলনকারীদের প্রতিনিধি দল ২৮ এপ্রিল ঢাকায় সংশ্লিষ্ট উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক করলেও আশানুরূপ অগ্রগতি না পাওয়ায় ভোলায় ফিরে অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন তারা।

গত এক মাস ধরে ভোলায় মিছিল, সমাবেশ, অবস্থান এবং দাবির পক্ষে নানা সচেতনতামূলক কর্মসূচি পালন করছেন স্থানীয়রা। তারা জানান, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /