রমনা বটমূলে বোমা হামলা রায়ের পরবর্তী অংশ ঘোষণা ১৩ মে

 চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক:  বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম ও বিচারপতি নাসরিন আক্তারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ  রমনা বটমূলে পয়লা বৈশাখের অনুষ্ঠানে বোমা হামলার ঘটনায় হত্যা মামলায় আসামিদের ডেথ রেফারেন্সের (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন)  রায় ঘোষণা শুরু করেন আজ বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা ২৫ মিনিটে এবং বেলা একটার দিকে আদালত পরবর্তী রায় ঘোষণার জন্য ১৩ মে ধার্য  করেন ।

বেলা সোয়া একটার দিকে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সুলতানা আক্তার প্রথম আলোকে বলেন, রায় ঘোষণা শুরু হয়েছে। আজ এজাহার, অভিযোগ ও সাক্ষীদের বক্তব্যের দিকগুলো উল্লেখ করা হয়েছে। রায়ের বাকি অংশ ঘোষণার জন্য আগামী মঙ্গলবার দিন রেখেছেন।

আজ শুরুতে আদালত বলেন, আজ ঘটনা ও সাক্ষী পর্যালোচনা করা হবে। বাকিটা (রায়) পরবর্তী তারিখে হবে।

এ সময় আসামিপক্ষের আইনজীবী এস এম শাহজাহান বলেন, ‘তাহলে রায়ের আদেশ অংশ (সিদ্ধান্ত) আজ হচ্ছে না?’

তখন আদালত বলেন, ‘আজ আদেশ অংশ হচ্ছে না।’ এরপর রায় ঘোষণা শুরু হয়।

এর আগে আসামিদের ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন) ও আপিলের ওপর শুনানি শেষে গত ১৮ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ (সিএভি) রাখেন। এরপর গত ৩০ এপ্রিল বিষয়টি আদেশের জন্য আদালতের কার্যতালিকায় ওঠে। সেদিন আদালত রায়ের জন্য আজ বৃহস্পতিবার (৮ মে) দিন ধার্য করেন। এ অনুসারে মামলাটি রায়ের জন্য আজ আদালতের কার্যতালিকায় ১৬৩ নম্বর ক্রমিকে ওঠে।

২০০১ সালের ১৪ এপ্রিল রমনা বটমূলে পয়লা বৈশাখের অনুষ্ঠানে বোমা হামলা হয়। এতে ঘটনাস্থলেই ৯ জন নিহত হন। পরে হাসপাতালে মারা যান একজন। এ ঘটনায় করা মামলা রমনায় বোমা হামলা মামলা হিসেবে পরিচিতি পায়।

মামলায় বিচারিক আদালতের রায়ের পর ২০১৪ সালে আসামিদের ডেথ রেফারেন্স অনুমোদনের জন্য হাইকোর্টে আসে। অন্যদিকে কারাগারে থাকা দণ্ডিত আসামিরা জেল আপিল ও নিয়মিত আপিল করেন। ডেথ রেফারেন্স ও আপিল শুনানির জন্য গত বছরের ৮ ডিসেম্বর হাইকোর্টের ওই বেঞ্চের কার্যতালিকায় ওঠে। পেপারবুক উপস্থাপনের মধ্য দিয়ে শুনানি শুরু হয়।

আদালতে আসামিপক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এস এম শাহজাহান ও সরওয়ার আহমেদ। দুই আসামির পক্ষে আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির শুনানি করেন। সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী যায়েদ বিন আমজাদ। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সুলতানা আক্তার ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসিফ ইমরান।

রাজধানীর রমনা বটমূলে বোমা হামলার ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলায় ২০১৪ সালের ২৩ জুন ঢাকার দ্বিতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ রুহুল আমিন রায় দেন। রায়ে মুফতি হান্নানসহ আটজনের মৃত্যুদণ্ড এবং ছয়জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

মুফতি হান্নান ছাড়া মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত ব্যক্তিরা হলেন আকবর হোসেন, আরিফ হাসান, সাবেক উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টুর ভাই মো. তাজউদ্দিন, হাফেজ জাহাঙ্গীর আলম বদর, আবু বকর ওরফে হাফেজ সেলিম হাওলাদার, আবদুল হাই ও শফিকুর রহমান। তবে সিলেটে গ্রেনেড হামলা মামলায় মুফতি হান্নানের মৃত্যুদণ্ড ইতিমধ্যে কার্যকর হয়েছে।

বিচারিক আদালতের রায়ে যাবজ্জীবন দণ্ডিত ব্যক্তিরা হলেন শাহাদাতউল্লাহ জুয়েল, সাব্বির, শেখ ফরিদ, আবদুর রউফ, ইয়াহিয়া ও আবু তাহের।

কোনো ফৌজদারি মামলায় বিচারিক আদালতের রায়ে কোনো আসামির মৃত্যুদণ্ড হলে তা কার্যকরে হাইকোর্টের অনুমোদন লাগে। এটি ডেথ রেফারেন্স মামলা হিসেবে পরিচিত। পাশাপাশি দণ্ডাদেশের রায়ের বিরুদ্ধে আসামিদের জেল আপিল, নিয়মিত আপিল ও বিবিধ আবেদন করার সুযোগ রয়েছে। ডেথ রেফারেন্স এবং এসব আপিল ও আবেদনের ওপর সাধারণত একসঙ্গে শুনানি হয়ে থাকে।

বোমা হামলার ঘটনায় করা হত্যা মামলায় বিচারিক আদালতের রায়ের পর আসামিদের মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের (ডেথ রেফারেন্স) জন্য রায়সহ নথিপত্র হাইকোর্টে আসে, যা ২০১৪ সালে ডেথ রেফারেন্স মামলা হিসেবে নথিভুক্ত হয়। এরপর শুনানির পূর্বপ্রস্তুতি হিসেবে পেপারবুক (মামলার বৃত্তান্ত) তৈরি করা হয়। অন্যদিকে কারাগারে থাকা আসামিরা পৃথক আপিল ও জেল আপিল করেন। হত্যা মামলায় পেপারবুক (মামলার বৃত্তান্ত) প্রস্তুতসহ আনুষঙ্গিক প্রক্রিয়ার পর ডেথ রেফারেন্স ও আসামিদের আপিল ২০১৬ সালে হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চে প্রথম শুনানির জন্য ওঠে।

শুনানিও শুরু হয়। পরে কার্যতালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়। এ নিয়ে আলোচিত এই মামলায় আট আসামির ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন) ও আপিল হাইকোর্টের তিনটি বেঞ্চের কার্যতালিকায় উঠলেও শুনানি শেষে মামলাটি নিষ্পত্তি হয়নি। এরপর আসামিদের ডেথ রেফারেন্স ও আপিল হাইকোর্টের ওই দ্বৈত বেঞ্চে শুনানির জন্য গত বছরের ৮ ডিসেম্বর কার্যতালিকায় ওঠে। এর ধারাবাহিকতায় শুনানি শেষে এই মামলায় আজ রায় দেওয়া শুরু হলো।




অভিযোগ, প্রেম এবং পাল্টা মন্তব্যে আলোচনায় শামীম হাসান সরকার

কয়েক দিন ধরে ছোটপর্দার আলোচিত নাম শামীম হাসান সরকার। জনপ্রিয় এই অভিনেতার বিরুদ্ধে নারী সহশিল্পী প্রিয়াঙ্কা প্রিয়ার শুটিং সেটে দুর্ব্যবহার, যৌন হেনস্তা, এমনকি ধর্ষণের হুমকির মতো গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক ও সমালোচনার মুখে পড়েছেন তিনি। যদিও শামীম এসব অভিযোগকে ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।

এরই মাঝে নতুন করে আলোচনায় এসেছেন অভিনেত্রী অহনা রহমান। কিছুদিন আগে এক সাক্ষাৎকারে নাম উল্লেখ না করে তিনি নিজের ‘সাবেক প্রেমিক’ সম্পর্কে নেতিবাচক মন্তব্য করেন। নেটিজেনদের অনেকেই ধরে নিয়েছিলেন, ওই ‘সাবেক প্রেমিক’ সম্ভবত শামীম হাসান সরকারই।

শুরুতে বিষয়টি অস্বীকার করলেও, মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে শামীম পাল্টা বক্তব্য দিয়ে বলেন, অহনার প্রাক্তন প্রেমিক ছিলেন পরিচালক মেহেদী হাসান হৃদয়। শামীম জানান, “অহনার সঙ্গে হৃদয়ের ছয়-সাত বছরের সম্পর্ক ছিল। আমি একসময় অহনার সঙ্গে বন্ধুত্ব করি, কিন্তু তখনও ওদের সম্পর্ক চলছিল। আমার কারণে তাদের সম্পর্ক টেকে নাই।”

শামীমের এই বক্তব্য ঘিরে নতুন বিতর্কের জন্ম নিয়েছে। ‘ডাবল টাইমিং’ শব্দচয়ন করে অহনাকে ইঙ্গিত করায় আরও ক্ষুব্ধ হন অভিনেত্রী। পরে নিজের ফেসবুকে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে অহনা লেখেন, “‘ডাবল টাইমিং’? আপনি যা বলেছেন ঠিক বলেছেন কি? নিজের দোষ ঢাকতেই কি এমন অপবাদ দিলেন?” একইসঙ্গে তিনি সংবাদকর্মীদের প্রতি অনুরোধ জানান, তার নাম জড়িয়ে যেন সংবাদ প্রকাশ না করা হয়।

উল্লেখ্য, অভিনেত্রী প্রিয়াঙ্কা প্রিয়া অভিযোগ করেছেন, শামীম শুটিং সেটে মাদক সেবন করেন, অশালীন আচরণ করেন এবং একাধিকবার তাকে যৌনভাবে হেনস্তার চেষ্টা করেছেন। এমনকি ধর্ষণের হুমকিও দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। এসব অভিযোগ নিয়ে ইতিমধ্যে সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা চলছে।

অভিযোগ, পাল্টা বক্তব্য আর ব্যক্তিগত সম্পর্ক ঘিরে এখনো সরগরম মিডিয়া ও নেট দুনিয়া।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



মুলাদীতে কুমির দেখার গুজব, নদীপাড়ে উদ্বেগ

বরিশালের মুলাদী উপজেলার জয়ন্তী নদীতে কুমির দেখার একটি ভাইরাল ভিডিওকে কেন্দ্র করে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে, যদিও বাস্তবে এর কোনো প্রমাণ মেলেনি।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ১৭ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে দুটি কুমির সাঁতার কাটছে বলে দাবি করা হয়। ভিডিওতে বলা হয়, এটি মুলাদীর চরকালেখান এলাকার জয়ন্তী নদীর দৃশ্য। ভিডিওটি কয়েকটি ভিন্ন আইডি থেকে আপলোড ও হাজারবারের বেশি শেয়ার হয়।

এমন পোস্টে অনেকেই নদীতে সাঁতার কাটা ও মাছ ধরা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান। তবে এলাকাবাসী ও স্থানীয় জেলেদের মতে, গত দুই-তিন মাসে জয়ন্তী নদীতে কোনো কুমির দেখা যায়নি

চরকালেখান ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মো. বেলাল হোসেন বলেন, “এটি পুরোপুরি গুজব। কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে ভিডিওটি ছড়িয়ে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে।”

ভিডিওটি শেয়ার করা তরিকুল ইসলাম হিরণ জানান, তিনি ভিডিওটি অন্য একটি আইডি থেকে ডাউনলোড করে দিয়েছেন, তবে ভিডিওর সত্যতা সম্পর্কে নিশ্চিত নন।

স্থানীয়দের মতে, ‘ভাইরাল’ হওয়ার উদ্দেশ্যে মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে পড়ছে, যা সামাজিক অস্থিরতার আশঙ্কা তৈরি করছে। সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের উচিত গুজব ছড়ানো এই ধরনের পোস্ট নজরদারিতে আনা এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




বাবুগঞ্জে নদীর বাঁধ নির্মাণস্থল পরিবর্তনের প্রতিবাদে মানববন্ধন

বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার দেহেরগতি ইউনিয়নের উত্তর বাহেরচর এলাকায় সন্ধ্যা নদীর পাড়ে অস্থায়ী বাঁধ নির্মাণের স্থান হঠাৎ পরিবর্তনের সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন স্থানীয়রা। মঙ্গলবার (৬ মে) বিকেলে নদীর পাড়ে প্রায় ১ কিলোমিটার জুড়ে সহস্রাধিক নারী-পুরুষ, শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী মানববন্ধনে অংশ নেন।

মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, পূর্ব নির্ধারিত ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে বাঁধ নির্মাণ না করে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হলে তা নদীর স্বাভাবিক প্রবাহে বিঘ্ন ঘটাবে এবং এলাকায় বন্যা ও ভাঙনের ঝুঁকি আরও বাড়াবে। তাদের অভিযোগ, বাঁধ সরিয়ে ব্যক্তিস্বার্থে জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে এমন এলাকায়, যেটি প্রকৃতপক্ষে ঝুঁকির মধ্যে পড়ে না।

মানববন্ধনে ঈদিলকাঠি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলম, স্থানীয় বিএনপি নেতা মো. মোয়াজ্জেম বিশ্বাস, মেহেদী হাসান নয়ন, আব্দুস সালাম মোল্লা, সাবিনা বেগম, শাহাদাত আকনসহ অনেকেই বক্তব্য দেন। বক্তারা বলেন, “বাঁধের মূল পরিকল্পনা স্থানীয়দের সঙ্গে সমন্বয় করে হয়েছিল, কিন্তু এখন প্রশাসনের কিছু অসাধু কর্মকর্তা ও প্রভাবশালীদের কারণে তা বদলে গেছে।”

একজন বক্তা, সালাম মোল্লা বলেন, “আমরা কৃষক মানুষ। এই বাঁধই ছিল আমাদের শেষ ভরসা। এখন সেটাও হাতছাড়া হয়ে যাচ্ছে।”

এ বিষয়ে বরিশাল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী জাবেদ ইকবাল বলেন, “কিছু কারিগরি কারণে স্থান সামান্য পরিবর্তন করা হয়েছে। তবে আমরা স্থানীয়দের উদ্বেগ গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করছি ও আলোচনা করে সমাধানের চেষ্টা করব।”

জানা গেছে, নদী ভাঙন রোধে ৬৮ লাখ টাকা ব্যয়ে অস্থায়ী প্রতিরক্ষা প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। কিন্তু স্থানীয়রা বলছেন, প্রকল্পের নির্ধারিত এলাকা এড়িয়ে প্রভাবশালীদের বাড়ি রক্ষায় বরাদ্দকৃত সামগ্রী ব্যবহার করা হচ্ছে, যা একটি বড় অনিয়ম।

স্থানীয়রা ইতিমধ্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও বরিশালের জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন। তারা প্রকল্পটি নির্ধারিত ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে দ্রুত ও যথাযথভাবে বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




কাশ্মীর ইস্যুতে সর্বদলীয় বৈঠকে মোদি সরকার

পাক-অধিকৃত কাশ্মীরসহ নয়টি লক্ষ্যবস্তুতে ভারতের সফল সামরিক হামলার পর পরিস্থিতি নিয়ে জরুরি সর্বদলীয় বৈঠকে বসেছে ভারতীয় সরকার

বৃহস্পতিবার (৮ মে) সকাল ১১টায় ভারতের রাজধানী দিল্লিতে এ বৈঠক শুরু হয়, যেখানে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি

ভারতের শীর্ষ রাজনীতিকদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর ও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা (এনএসএ) অজিত দোভালসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী ও রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতা।

বৈঠকে সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়, ভারতের সুরক্ষা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে সকল রাজনৈতিক দলের প্রতি আহ্বান জানানো হয়, যেন জাতীয় সংকটের এই মুহূর্তে ঐক্য বজায় রাখা হয়

বৈঠকের আগে এনএসএ অজিত দোভাল প্রধানমন্ত্রী মোদির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সীমান্ত পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত করেন। একই দিনে প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন এবং ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর অগ্রগতি সম্পর্কে জানান।

উল্লেখ্য, কাশ্মীরের পেহেলগামে সন্ত্রাসী হামলার জবাবে ভারতের সেনাবাহিনী বুধবার ভোরে পাকিস্তান ও পাক-শাসিত কাশ্মীরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। অপারেশনে পাকিস্তানপন্থি জঙ্গিগোষ্ঠীর ঘাঁটি লক্ষ্য করে নয়টি স্থানে আঘাত হানা হয়।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




 শিক্ষাঙ্গনে স্থিতিশীলতা নেই, সংঘর্ষ-আন্দোলনে বিপর্যস্ত শিক্ষা

দেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের প্রায় নয় মাস পার হলেও শিক্ষাঙ্গনে এখনো ফিরে আসেনি স্বাভাবিক পরিবেশ। বরং একের পর এক সংঘর্ষ ও আন্দোলনে শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। শুধু পাবলিক নয়, প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও দেখা দিয়েছে অস্থিরতা।

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) ও বিভিন্ন শিক্ষা সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, শিক্ষার্থীরা বড় পরিবর্তনের সঙ্গে যুক্ত থাকায় অনেক ক্ষেত্রে আত্মবিশ্বাসের অতিরিক্ত প্রকাশ ঘটছে। এর ফলে তারা জড়াচ্ছে মব জাস্টিস ও সংঘর্ষে।

গত নয় মাসে অন্তত ১৯টি সংঘর্ষ, ৯টি আন্দোলন ও ৩টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে শিক্ষাঙ্গনে। শুধু ঢাকা কলেজ ও সিটি কলেজেই ১৩ বার সংঘর্ষ হয়েছে। এপ্রিলেই ঢাকার দুটি কলেজে সংঘর্ষ হয়েছে তিনবার। সর্বশেষ ২১ এপ্রিল সংঘর্ষ হয় ধানমণ্ডিতে, যেখানে ঢাকা কলেজ ও সিটি কলেজের শিক্ষার্থীরা জড়ায়।

এছাড়া বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়, বিএম কলেজ, কুয়েট, চট্টগ্রাম কলেজ, প্রাইম এশিয়া, বুটেক্স, ঢাকা পলিটেকনিকসহ একাধিক প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী সংঘর্ষে লিপ্ত হয়েছে।

সম্প্রতি ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে (UIU) অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়, যেখানে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের চাপে উপাচার্য ও ১২ জন শিক্ষক পদত্যাগ করেন।

প্রাইম এশিয়ায় ছুরিকাঘাতে একজন শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার ঘটনাও শিক্ষাঙ্গনের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলার দুর্বলতা তুলে ধরেছে।

এছাড়া জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গণপিটুনিতে দুইজন নিহত হন।

কুয়েটে ছাত্র বহিষ্কারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে দীর্ঘ আন্দোলন চলে। সেখানে ২১ এপ্রিল থেকে ৩২ জন শিক্ষার্থী আমরণ অনশন শুরু করলে, সরকারের পক্ষ থেকে উপাচার্য ও উপ-উপাচার্যকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

বিশ্লেষকরা বলছেন, দেশে নেতিবাচক রাজনৈতিক সংস্কৃতি শিক্ষাঙ্গনে বিভাজনের সৃষ্টি করেছে। পাশাপাশি শৃঙ্খলা কাঠামোর দুর্বলতায় শিক্ষার্থীরা সংঘর্ষে লিপ্ত হচ্ছে প্রায়ই।

শিক্ষাবিদদের মতে, এসব ঘটনার পেছনে শিক্ষার্থীদের মানসিক চাপ, রাজনৈতিক প্রভাব এবং পারিপার্শ্বিক পরিবেশও ভূমিকা রাখছে।

ইউজিসির চেয়ারম্যান ড. এসএমএ ফায়েজ বলেন, “শিক্ষক-শিক্ষার্থীর আস্থার সংকট শিক্ষাঙ্গনের সবচেয়ে বড় সমস্যা। শিক্ষার্থীরা নিপীড়নের শিকার হওয়ায় সম্পর্কের অবনতি হয়েছে। এটি সমাধানে কাজ করছে ইউজিসি। তবে রাজনৈতিক দলগুলোকেও সংঘাত বন্ধে দায়িত্বশীল হতে হবে।”


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




মহিপুরে ছাত্রদলের নতুন কমিটিতে ‘ছাত্রলীগ নেতা’র অন্তর্ভুক্তি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার ঝড়

পটুয়াখালীর মহিপুর মুক্তিযোদ্ধা মেমোরিয়াল ডিগ্রি কলেজে ছাত্রদলের সদ্যঘোষিত কমিটিকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শুরু হয়েছে তীব্র আলোচনা ও সমালোচনা। বিএনপির সহযোগী এই ছাত্র সংগঠনের নবগঠিত কমিটিতে বিতর্কিতভাবে আগে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ নেতাদের অন্তর্ভুক্তি হওয়ায় সংগঠনের অভ্যন্তরে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

গত মঙ্গলবার (৬ মে) রাতে পটুয়াখালী জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক শামীম চৌধুরী ও সদস্য সচিব জাকারিয়া আহম্মেদের স্বাক্ষরিত প্যাডে মো. রবিউল ইসলামকে সভাপতি এবং আসিবুল হককে সাধারণ সম্পাদক করে ১০ সদস্য বিশিষ্ট কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়। পরদিন বুধবার (৭ মে) বিকেলে কুয়াকাটা প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন নবগঠিত কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি রাইসুল ইসলাম রূপু ও সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. সিয়ামসহ অন্যান্য নেতাকর্মীরা।

বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন নবনিযুক্ত সভাপতি মো. রবিউল ইসলাম ও প্রচার সম্পাদক পদে থাকা সাকিব আল হাসান রাফি। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রবিউল ইসলাম এক সময় কলেজ ছাত্রলীগের একজন সক্রিয় নেতা ছিলেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাঁর ছাত্রলীগ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার ছবিও ভাইরাল হয়েছে। একইভাবে রাফি ছিলেন কলেজ ছাত্রলীগের প্রচার সম্পাদক, বর্তমানে একই পদে রয়েছেন ছাত্রদলের কমিটিতে। এমন বিতর্কিত সমন্বয়ে সামাজিক মাধ্যমে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন কমিটির গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে।

এ বিষয়ে কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রাফসান আহমেদ রাকিব তাঁর ফেসবুক পোস্টে ব্যঙ্গ করে লিখেছেন, “মজার ব্যাপার হলো, একজন ছোট ভাই ছাত্রলীগে যে পোস্টে ছিল, ছাত্রদলেও সেই পোস্টেই আছে—শুধু ছাত্রলীগের জায়গায় ছাত্রদল এ্যাড হইছে। যাইহোক অভিনন্দন।”

এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে কলেজ ও মহিপুর থানা ছাত্রদলের সাবেক ও বর্তমান অনেক নেতা-কমী তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তাঁদের ভাষ্যমতে, আদর্শবিচ্যুত ও পূর্বের রাজনৈতিক পরিচয়ে বিতর্কিত ব্যক্তিদের দিয়ে কমিটি গঠন করে ছাত্রদলের ভাবমূর্তি প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়েছে। তাঁরা অবিলম্বে এই কমিটি বাতিল করে ত্যাগী ও আদর্শবান নেতাকর্মীদের নিয়ে নতুন কমিটি গঠনের দাবি জানান।

অন্যদিকে, থানা ও ইউনিয়ন ছাত্রদলের একটি অংশ কমিটিকে সমর্থন জানিয়ে বলেছে, এখানে প্রকৃত ত্যাগীদের মূল্যায়ন করা হয়েছে। তাঁদের দাবি, একটি স্বার্থান্বেষী মহল ইচ্ছাকৃতভাবে কমিটির বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক শামীম চৌধুরী বলেন, “মুক্তিযোদ্ধা মেমোরিয়াল ডিগ্রি কলেজ কমিটির বিষয়ে আমরা খোঁজখবর নিচ্ছি। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

নবগঠিত এই কমিটি ঘিরে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ছাত্র রাজনীতিতে আদর্শের বদলে পরিচয়ের রাজনীতি ক্রমেই প্রকট হয়ে উঠছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ রিপোর্টার, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



ভারতের হামলায় মাসুদ আজহারের পরিবারের ১০ সদস্য নিহত

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : পাকিস্তানের বাহাওয়ালপুরের ‘সুবহান আল্লাহ’ মসজিদে ভারতের সামরিক বাহিনীর হামলায় মাওলানা মাসুদ আজহারের পরিবারের অন্তত ১০ সদস্য নিহত হয়েছেন। বুধবার মধ্যরাতের এই হামলায় তার আরও ৪ ঘনিষ্ঠ সহযোগীও নিহত হয়েছেন। পাকিস্তান-ভিত্তিক সংগঠন জইশ-ই-মোহাম্মদের (জেইএম) এক বিবৃতিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে বলে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি খবর দিয়েছে।

পাকিস্তানি সংগঠন জইশ-ই-মোহাম্মদের প্রধানের দায়িত্বে রয়েছেন মাওলানা মাসুদ আজহার। তার এই সংগঠনকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে জাতিসংঘ।

জইশ-ই-মোহাম্মদের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে মাসুদ আজহারের বড় বোন, তার স্বামী, তার ভাগ্নে, তার স্ত্রী, ভাগ্নী এবং তার পরিবারের পাঁচ সন্তান রয়েছে। এছাড়াও ভারতের হামলায় সুবহান আল্লাহ মসজিদে মাসুদ আজহারের ঘনিষ্ঠ আরও তিন সহযোগী নিহত হয়েছেন বলে বিবৃতিতে জানানো হয়েছে।




দুমকির পায়রা পয়েন্ট মার্কেটে ইসলামী ব্যাংকের নতুন এটিএম বুথ উদ্বোধন

পটুয়াখালী জেলার দুমকি উপজেলার পায়রা পয়েন্ট মার্কেট এলাকায় চালু হলো ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি-এর পটুয়াখালী জেলার ১০ম এটিএম বুথ।

বুধবার (৭ মে) সন্ধ্যায় এক সংক্ষিপ্ত অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই আধুনিক বুথের উদ্বোধন করা হয়। প্রযুক্তিনির্ভর ব্যাংকিং সেবার উন্নয়নে এটি ইসলামী ব্যাংকের অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইসলামী ব্যাংক পটুয়াখালী শাখার ব্যবস্থাপক খলিলুর রহমান। এছাড়াও ব্যাংকের প্রিন্সিপাল অফিসার রফিকুল ইসলাম বাসার এবং অফিসার আব্দুল কুদ্দুস অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন। বক্তৃতায় রফিকুল ইসলাম বাসার বলেন, এটিএম বুথটি শুধু নগদ লেনদেনের একটি মাধ্যম নয়, বরং এটি এ এলাকার মানুষের জন্য একটি আধুনিক আর্থিক সহায়তা কেন্দ্র। এখন পায়রা পয়েন্টসহ আশপাশের মানুষ ঘরে বসেই নিরাপদ, দ্রুত ও ঝামেলাবিহীন ব্যাংকিং সুবিধা গ্রহণ করতে পারবেন।

তিনি আরও বলেন, ইসলামী ব্যাংকের পক্ষ থেকে এটি পটুয়াখালী জেলার ১০ম বুথ। ব্যাংকটি জেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় আরও বুথ স্থাপনের পরিকল্পনা নিয়েছে। উদ্দেশ্য একটাই—প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষদের আধুনিক ব্যাংকিং সেবার আওতায় আনা। এ সময় তিনি জানান, ভবিষ্যতে আরও উন্নত প্রযুক্তি নির্ভর ব্যাংকিং সেবা চালু করে সারা দেশের গ্রামীণ জনপদে সেবা বিস্তারের পরিকল্পনা রয়েছে।

বুথ উদ্বোধনের পর অনুষ্ঠিত হয় বিশেষ মোনাজাত। দেশ ও জাতির মঙ্গল কামনা করে দোয়া পরিচালনা করা হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা দীর্ঘদিন ধরে একটি আধুনিক এটিএম বুথ স্থাপনের দাবি জানিয়ে আসছিলেন। তাই এই উদ্যোগে সন্তোষ প্রকাশ করেন তারা এবং ইসলামী ব্যাংকের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।

এই নতুন বুথটি এখন থেকে দিনরাত ২৪ ঘণ্টা চালু থাকবে, যেখানে গ্রাহকরা টাকা উত্তোলন, ব্যালেন্স চেকসহ অন্যান্য সেবা গ্রহণ করতে পারবেন। কর্মকর্তারা আশা প্রকাশ করেছেন, এই সেবার মাধ্যমে ইসলামী ব্যাংকের প্রতি গ্রাহক সন্তুষ্টি আরও বাড়বে এবং আর্থিক অন্তর্ভুক্তির পথ সুগম হবে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



পাকিস্তানে নিহত বেড়ে ২৬