বিশ্ব পরিযায়ী পাখি দিবস ২০২৫: নগর হোক পাখিরও আশ্রয়

দূর দিগন্ত পেরিয়ে প্রতিবছর কোটি কোটি পাখি হাজার কিলোমিটার পথ পাড়ি দেয় নতুন আশ্রয় খোঁজে। এই অসাধারণ পরিযাণ শুধু প্রকৃতির খেলা নয়, বরং জীবন বাঁচানোর এক নিরন্তর লড়াই। কিন্তু আজ সেই পাখিদের জন্য নিরাপদ আশ্রয় ক্রমেই কমছে মানুষের নগরায়ণের দাপটে। তাই ২০২৫ সালের বিশ্ব পরিযায়ী পাখি দিবস-এ নতুন করে আহ্বান জানানো হয়েছে: “অংশীদারিত্বের স্থান: পাখিবান্ধব নগর ও সমাজ গঠন”

প্রতিবছর মে মাসের দ্বিতীয় শনিবার পালিত হয় এই দিবস। এ বছরের প্রতিপাদ্য মানুষ ও পাখির সহাবস্থানের গুরুত্বকে সামনে এনেছে। পরিযায়ী পাখি কেবল সৌন্দর্য নয়, বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য রক্ষায়, ফসল রক্ষা, পরাগায়ন ও বীজ বিস্তারে অনন্য ভূমিকা রাখে। অথচ, জলাভূমি ভরাট, গাছ কাটাসহ নানা কারণে পাখিরা হারাচ্ছে তাদের প্রাকৃতিক আশ্রয়স্থল।

অপরিকল্পিত নগরায়ণ, আলো ও শব্দ দূষণ, রাসায়নিকের ব্যবহার, বিদ্যুতের খুঁটি ও যানবাহনের ধাক্কায় প্রতিনিয়ত পাখির জীবন ঝুঁকিতে পড়ছে। শহরের শিশুরা কখনো কৌতূহলে, আবার কেউ কেউ শিকার করতেও পাখিদের ক্ষতি করছে। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন শহরে গুলশান লেক, হাতিরঝিল, রমনা উদ্যান, সংসদ ভবন এলাকায় পরিযায়ী পাখি আসে, কিন্তু নিরাপদ নয় তারা।

পরিবেশবিদরা বলছেন, পাখিবান্ধব শহর মানে শুধু পাখির নিরাপত্তা নয়— এটি পরিবেশবান্ধব, বাসযোগ্য ও মানসিকভাবে শান্তিপূর্ণ সমাজের প্রতিচ্ছবি।
এ জন্য প্রয়োজন—

  • শহরের পরিকল্পনায় সবুজ বেল্ট ও গাছ সংরক্ষণ
  • কাচ ও আলো ব্যবহারে সচেতনতা
  • শিশুকিশোরদের বার্ড ওয়াচিংয়ের মাধ্যমে সচেতন করা
  • স্থানীয় প্রজাতির গাছ রোপণ
  • জলাশয় সংরক্ষণ ও দূষণ নিয়ন্ত্রণ
  • শব্দ ও আলোক দূষণ হ্রাসে কঠোর ব্যবস্থা
  • পাখির খাদ্যের জন্য বিষমুক্ত পরিবেশ গড়ে তোলা

বাংলাদেশের বন অধিদপ্তর ইতোমধ্যেই পরিযায়ী পাখি সংরক্ষণে পদক্ষেপ নিয়েছে। বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইন প্রয়োগ, অবৈধ পাখি বাজারে অভিযান, কমিউনিটি প্যাট্রল দল, সংরক্ষিত অঞ্চল ঘোষণা ও আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে তারা।

ব্যক্তিগত পর্যায়ে আমরা কী করতে পারি?

  • বারান্দা ও ছাদে পানির পাত্র রাখা
  • কীটনাশক এড়িয়ে জৈব বাগান করা
  • আহত পাখিকে সাহায্য করা
  • পাখি নিয়ে শিক্ষামূলক প্রচারণায় অংশ নেওয়া

এই দিবস আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়— আমরা প্রকৃতির অংশ, পাখি শুধু সৌন্দর্যের বাহক নয়, টেকসই পৃথিবীর রক্ষাকর্তাও। আসুন, শহর গড়ি পাখির জন্য, প্রকৃতির জন্য, নিজেদের জন্য।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




ভারত-পাকিস্তান পরমাণু নীতি: কতটা মানা হয় যুদ্ধের সময়

পরমাণু অস্ত্র ব্যবহারের ক্ষেত্রে ভারত ও পাকিস্তানের অবস্থান দীর্ঘদিন ধরেই বিশ্ব রাজনীতিতে বিতর্কিত বিষয়। যদিও ভারতের একটি সুস্পষ্ট পরমাণু নীতি রয়েছে, পাকিস্তান এখনও পর্যন্ত কোনো নির্দিষ্ট নীতি ঘোষণা করেনি। তবে সাম্প্রতিক সংঘাত এবং ‘ড্রোন’ ব্যবহার নিয়ে দু’দেশেই নতুন করে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের সম্ভাবনা ও নীতির বাস্তব প্রয়োগ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।

২০০৩ সালে ভারত ‘নো ফার্স্ট ইউজ’ নীতি ঘোষণা করে। এ নীতির মূল পরিকল্পনাকারী ছিলেন কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞ কে সুব্রামানিয়াম, যিনি বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের পিতা। নীতিমতে, কেবলমাত্র প্রধানমন্ত্রীরই পারমাণবিক হামলার অনুমতি দেওয়ার অধিকার রয়েছে। ভারতের পরমাণু নীতিতে বলা হয়েছে, দেশটি কখনোই প্রথমে পরমাণু অস্ত্র ব্যবহার করবে না এবং কেবলমাত্র প্রতিরোধমূলক হামলার জন্য তা ব্যবহার করবে।

তবে বাস্তবে এই নীতি কতটা কার্যকর? ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং এ বিষয়ে বলেন, পরমাণু নীতি পরিস্থিতি অনুযায়ী পরিবর্তিত হতে পারে। অর্থাৎ যুদ্ধ পরিস্থিতিতে নীতির সঠিক প্রয়োগ নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকেই যায়।

অন্যদিকে পাকিস্তান কখনোই আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো পরমাণু নীতি ঘোষণা করেনি। দেশটির ন্যাশনাল কমান্ড অথোরিটির উপদেষ্টা লে. জেনারেল (অব.) খালিদ আহমেদ কিদওয়াই জানিয়েছেন, পাকিস্তানের পরমাণু প্রতিক্রিয়া নির্ভর করে চারটি বিষয়ের ওপর— রাষ্ট্রীয় ভূখণ্ড হারানোর আশঙ্কা, সেনা স্থাপনাগুলোর ধ্বংস, বড় ধরনের অর্থনৈতিক ক্ষতি এবং রাজনৈতিক বিপর্যয়।

ভারতের পরমাণু ইতিহাস শুরু হয় শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে। জওহরলাল নেহেরুর সময় মূলত বিদ্যুৎ উৎপাদনে গুরুত্ব দেওয়া হয়। তবে ১৯৭৪ সালে প্রথম পরমাণু পরীক্ষা এবং ১৯৯৮ সালের বিস্ফোরণের মাধ্যমে ভারত নিজেকে আনুষ্ঠানিকভাবে পরমাণু শক্তিধর দেশ হিসেবে ঘোষণা দেয়। একই বছর পাকিস্তানও সফলভাবে পরমাণু পরীক্ষা চালায়।

পরমাণু শক্তির হিসাব
সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ (CSIS) জানায়, ভারতের কাছে বর্তমানে প্রায় ১৮০টি পারমাণবিক ওয়ারহেড রয়েছে। রাশিয়ার সহায়তায় এগুলোর দূরপাল্লার ক্ষমতা ও নিয়ন্ত্রণ প্রযুক্তি আরও উন্নত হয়েছে। অপরদিকে পাকিস্তানের রয়েছে প্রায় ১৭০টির বেশি ওয়ারহেড, যার কারিগরি উন্নয়নে কাজ করেছে চীনের সাথে।

সাম্প্রতিক সংঘাত ও উদ্বেগ
২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল জম্মু ও কাশ্মীরের পেহেলগামে বন্দুকধারীদের গুলিতে ২৬ জন নিহত হওয়ার ঘটনায় পাকিস্তানকে দায়ী করে ভারত। এর পরিণতিতে ভারত সিন্ধু নদ চুক্তি বাতিলসহ একাধিক কূটনৈতিক ও সামরিক পদক্ষেপ নেয়। পাল্টা পদক্ষেপ নেয় পাকিস্তানও। পরে ভারত ‘অপারেশন সিঁদুর’ এবং পাকিস্তান ‘অপারেশন বুনিয়ান-উন-মারসুস’ নামে পাল্টা হামলা শুরু করে।

এই পরিস্থিতিতে প্রশ্ন থেকেই যায়— পারমাণবিক অস্ত্রের নীতিমালা বাস্তবে কতটা মানা হয়? উত্তপ্ত উপমহাদেশে সামান্য উত্তেজনাও বড় ধরনের সংঘাতে রূপ নিতে পারে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




হজ শেষে ১১ জুন থেকে চালু হচ্ছে উমরা ভিসা: সৌদি হজ মন্ত্রণালয়

মক্কা: এবছর হজ মৌসুম শেষ হওয়ার পরই ১৪ জিলহজ (১১ জুন) থেকে আবারও চালু হচ্ছে উমরা ভিসা। সৌদি আরবের হজ ও উমরা মন্ত্রণালয় এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। এর ফলে যারা রমজানে উমরা পালন করতে পারেননি, তারা হজ-পরবর্তী সময়ে উমরা পালনের সুযোগ পাবেন।

মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ১ শাওয়াল থেকে উমরা ভিসা বন্ধ হয়ে যায়, এবং এরপর কেবল ইস্যুকৃত ভিসাধারীরা ১৫ শাওয়াল পর্যন্ত সৌদি আরবে প্রবেশ করতে পারেন। হজ নিরাপত্তা ও যাত্রী সেবার স্বার্থে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

আল আরাবিয়ার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছর হজ শেষ হওয়ার পর থেকেই বিদেশি উমরা যাত্রীদের জন্য আবারও ভিসা প্রদান শুরু হবে। তবে যাত্রীরা কবে থেকে সৌদি আরবে প্রবেশ করতে পারবেন, তা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি।

সৌদি মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, আগামী ১৪৪৭ হিজরি সালের ১৫ জিলকদ (হজ মৌসুমের পূর্ববর্তী সময়) এর মধ্যে সব উমরা পালনকারীদের নিজ নিজ দেশে ফিরে যেতে হবে।

এর আগে রমজানের মাঝামাঝি সময় থেকে সৌদি সরকার বিদেশি নাগরিকদের জন্য উমরা ও ভিজিট ভিসা ইস্যু অস্থায়ীভাবে স্থগিত করেছিল। এই সিদ্ধান্তের উদ্দেশ্য ছিল হজযাত্রীদের চলাফেরা ও ইবাদতে আরাম নিশ্চিত করা এবং পবিত্র স্থানগুলোতে অপ্রয়োজনীয় ভিড় ও যানজট কমানো।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




সাইবার আক্রমণে ভারতীয় সামরিক ক্ষমতা বিপর্যস্ত: দাবি পাকিস্তানের

ইসলামাবাদ: গোলা, ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর এবার সাইবার আক্রমণ চালানোর দাবি করেছে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী। শনিবার (১০ মে) জিও টিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। পাকিস্তানের দাবি অনুযায়ী, এই সাইবার আক্রমণে ভারতীয় সামরিক বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও সামরিক উপগ্রহ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর বিবৃতিতে বলা হয়, তাদের সাইবার ইউনিট ভারতীয় সেনাবাহিনীর নেভিগেশন ও যোগাযোগ উপগ্রহগুলো সফলভাবে ‘জ্যাম’ করেছে। এতে করে ভারতীয় সামরিক বাহিনীর কৌশলগত সক্ষমতা বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে।

এছাড়া, ভারতের সরকারি ইমেল সার্ভার ও ডিজিটাল পোর্টালগুলোর ওপরও হামলা চালানো হয়েছে বলে জানানো হয়। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, ভারত সরকারের গুরুত্বপূর্ণ সার্ভারগুলোকে লক্ষ্য করে এই সাইবার আক্রমণ অব্যাহত রয়েছে।

পাকিস্তানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই হামলা ছিল পরিকল্পিত এবং প্রযুক্তিনির্ভর, যা ভবিষ্যতের সাইবার যুদ্ধের ইঙ্গিত বহন করে।

ভারত সরকার এখন পর্যন্ত এই দাবির বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি।

এদিকে একই দিনে পাকিস্তান আরও দাবি করে, ভারতের ভাতিন্ডা বিমানঘাঁটিতে তারা সফল হামলা চালিয়েছে। যদিও এটি ফাতাহ-২ ক্ষেপণাস্ত্র দ্বারা আঘাত হেনেছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দুই দেশের মধ্যে সংঘাত এখন শুধু সীমান্তে সীমাবদ্ধ নেই—তথ্যপ্রযুক্তি ও সাইবার পরিসরেও লড়াই শুরু হয়েছে, যা দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




ভারতের সীমান্ত এলাকায় প্রাণ গেল ২২ জনের, ঘরছাড়া হাজারো মানুষ

নয়া দিল্লি: পাকিস্তানের চালানো সাম্প্রতিক হামলাকে “সরাসরি আগ্রাসন” বলে আখ্যায়িত করেছে ভারতীয় সেনাবাহিনী। এই হামলায় এখন পর্যন্ত কমপক্ষে ২২ জন নিহত হয়েছেন এবং শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।

আলজাজিরার নয়া দিল্লি প্রতিবেদক উম্মে কুলসুম শরীফ জানিয়েছেন, পাকিস্তান সীমান্তবর্তী এলাকায় ড্রোন ও ভারী গোলাবারুদ ব্যবহার করে আক্রমণ চালায়। ভারতীয় সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা বেশ কিছু ড্রোন শনাক্ত করে সফলভাবে ধ্বংস করেছে। তবে পরিস্থিতি এখনো উত্তপ্ত।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, সীমান্তজুড়ে বিস্ফোরণ ও ভারী গোলাগুলির শব্দ শোনা যাচ্ছে। সেনাবাহিনী জানিয়েছে, এটি ছিল পাকিস্তানের ‘পরিকল্পিত সামরিক আগ্রাসন’, এবং বিস্তারিত বিবৃতি পরে দেওয়া হবে।

হামলার কারণে সীমান্তবর্তী অঞ্চলের হাজার হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। স্কুল, বাজার ও কৃষিকাজ বন্ধ হয়ে পড়েছে। স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জরুরি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে এবং ত্রাণ সরবরাহ শুরু করা হয়েছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, দুই পারমাণবিক শক্তিধর দেশের মধ্যে এ ধরনের সংঘর্ষ দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকি হয়ে উঠতে পারে। আন্তর্জাতিক মহলের কাছে ইতোমধ্যেই শান্তিপূর্ণ সমাধানের জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




পাক-ভারত উত্তেজনা কমাতে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতার প্রস্তাব

ওয়াশিংটন/ইসলামাবাদ: পাকিস্তান ও ভারতের মধ্যকার ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা কমাতে আলোচনায় মধ্যস্থতার প্রস্তাব দিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। শনিবার সকালে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনিরের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন তিনি। খবর পাকিস্তানি গণমাধ্যম ডন-এর।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র ট্যামি ব্রুস এক বিবৃতিতে জানান, রুবিও তার ফোনালাপে উভয় দেশকে শান্তিপূর্ণ সমাধানের দিকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান এবং ভবিষ্যৎ সংঘাত এড়াতে গঠনমূলক আলোচনা শুরুর জন্য যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সহায়তার প্রস্তাব দেন।

রুবিও বলেন, “এই অঞ্চলের শান্তি ও স্থিতিশীলতা আমাদের সবার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। দ্বিপাক্ষিক উত্তেজনার ফলে সাধারণ জনগণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তাই মানবিক দিক বিবেচনায় বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা উচিত।”

সম্প্রতি কাশ্মীর সীমান্তে গোলাগুলি ও সামরিক তৎপরতা বৃদ্ধির ফলে পাকিস্তান-ভারত সম্পর্ক নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। এই প্রেক্ষাপটে মার্কিন হস্তক্ষেপকে আন্তর্জাতিক কূটনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এর আগে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা কমাতে মধ্যস্থতার আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, “দুই দেশের সঙ্গেই আমার ভালো সম্পর্ক রয়েছে। যদি আমি কোনোভাবে সাহায্য করতে পারি, তবে অবশ্যই করব।”

বিশ্লেষকদের মতে, দুই পারমাণবিক শক্তিধর দেশের মধ্যে উত্তেজনা কমাতে আন্তর্জাতিক মহলের সক্রিয় ভূমিকা অত্যন্ত জরুরি। যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপ দক্ষিণ এশিয়ায় শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টাকে ত্বরান্বিত করতে পারে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




আব্দুল হামিদের দেশত্যাগের ঘটনা তদন্তাধীন: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের হঠাৎ দেশত্যাগের ঘটনা নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। শনিবার (১০ মে) সকালে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পরিদর্শন শেষে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন।

তিনি বলেন, “বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে। এ বিষয়ে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং তারা শিগগিরই প্রতিবেদন জমা দেবে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দোষীদের কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।”

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা আরও বলেন, “বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আগের তুলনায় অনেক উন্নত হয়েছে। তারপরও, কিভাবে নিরাপত্তা বলয় অতিক্রম করে একজন সাবেক রাষ্ট্রপতি থাইল্যান্ডে পাড়ি জমালেন, সেটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ছাড়া, তার বিষয়ে স্পেশাল ব্রাঞ্চ (এসবি) থেকে মন্ত্রণালয়ে কোনো নিষেধাজ্ঞার চিঠি পাঠানো হয়েছিল কিনা, সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।”

এ সময় তিনি আরও জানান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরানোর বিষয়ে আন্তর্জাতিক আইনি প্রক্রিয়ায় কাজ করছে ইন্টারপোল।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




বনাঞ্চল উজাড় করে মাছের ঘের, উদ্বেগে পরিবেশকর্মীরা

বরগুনার তালতলীতে উপকূল রক্ষা করা বনাঞ্চল কেটে মাছের ঘের নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় দুই প্রভাবশালী ব্যক্তি বাবুল মৃধা ও জাকির মৃধার বিরুদ্ধে। তারা নিশানবাড়িয়া খেয়াঘাট থেকে চাউলাপাড়া পর্যন্ত অঞ্চলে বন বিভাগের রোপণকৃত গাছ কেটে প্রায় ২ একর জমি দখল করে চিংড়ি চাষের জন্য ঘের খনন করেছেন।

বন বিভাগ জানায়, ওই এলাকায় ছইলা, কেওড়া সহ শ্বাসমূলীয় নানা প্রজাতির গাছ লাগিয়ে দীর্ঘদিনে একটি ঘন বন তৈরি করা হয়, যা উপকূলীয় অঞ্চলের প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে সুরক্ষার সবুজ বেষ্টনী হিসেবে পরিচিত। এই বনাঞ্চল উজাড় হওয়ায় পরিবেশগত ঝুঁকি বাড়ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞ ও স্থানীয় পরিবেশকর্মীরা।

বাবুল মৃধা ও জাকির মৃধা দাবি করেন, “এটি আমাদের বাড়ির সামনে। আমরা বন্দোবস্ত নেওয়া জমিতে চিংড়ি চাষ করছি। বন বিভাগের লোকজন এসেছিলেন, আমরা বিষয়টি জানিয়েছি।”

স্থানীয় পরিবেশ কর্মী ও ‘ধরিত্রী রক্ষায় আমরা’ সংগঠনের তালতলী উপজেলা সমন্বয়ক আরিফ রহমান বলেন, “উপকূলীয় সবুজ বেষ্টনী প্রতিনিয়ত ধ্বংস হচ্ছে। কিছু ভূমিদস্যু নিজেদের প্রভাব খাটিয়ে বন দখল করে চলেছে। এদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। একইসঙ্গে জনসচেতনতা বাড়ানো জরুরি।”

তালতলী রেঞ্জ কর্মকর্তা মতিয়ার রহমান জানান, দখলদারদের নোটিশ দেওয়া হয়েছে এবং বনভূমি উদ্ধারে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উম্মে সালমা বলেন, “বন বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।” উপকূলীয় এলাকার প্রাকৃতিক সুরক্ষা বলয় রক্ষায় এমন অবৈধ দখল ও বন উজাড়ের ঘটনা প্রশাসনিক দৃঢ়তা এবং জনসচেতনতায় দ্রুত প্রতিরোধ করা প্রয়োজন—এমনটাই মত সচেতন মহলের।


এস এল টি তুহিন /




সংখ্যালঘুদের সুরক্ষায় তারেক রহমানের কঠোর নির্দেশনা রয়েছে: আব্দুস সোবহান

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন দলটির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও বরিশাল-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্যপ্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস সোবহান।

তিনি বলেন, “হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টানসহ সব ধর্মাবলম্বী নাগরিক এ দেশের সমান অধিকারভোগী। তাদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা বিএনপির নৈতিক ও রাজনৈতিক দায়। এই বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন।”

শুক্রবার (৯ মে) সন্ধ্যায় বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার রাজিহার ইউনিয়নের বাটরা প্রেমচাঁদ বালিকা বিদ্যালয় সংলগ্ন কীর্তন আঙ্গিনায় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সাথে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

আব্দুস সোবহান আরও বলেন, “ধর্ম যার যার, দেশ সবার। ধর্মীয় পরিচয়ে বিভাজনের রাজনীতিতে বিএনপি বিশ্বাস করে না। বরং আমরা চাই, সবাই একসাথে থেকে একটি উন্নত ও সহনশীল বাংলাদেশ গড়ে তুলতে।”

তিনি জানান, হিন্দু অধ্যুষিত অঞ্চলে বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীরা সার্বক্ষণিক সজাগ আছেন। বিগত দিনগুলোর মতো ভবিষ্যতেও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের পাশে থাকবে বিএনপি।

রাজিহার ইউনিয়ন ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি তরুণ কান্তি হালদার। উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক শোভন রহমান, মনির মোল্লা, বিএনপি নেতা অ্যাপোলো তালুকদার, নবীন সরকার, পরিতোষ রায়, রবীন্দ্রনাথ গাইন, মন্টু লাল হালদার ও যতীন্দ্রনাথ হালদার।

বিএনপি নেতা আব্দুল আউয়াল লোকমান, আনোয়ার সাদাত তোতা, ডা. মাহবুবুল ইসলাম, আব্দুল মালেক আকন, জেলা উত্তর যুবদলের সদস্য সচিব গোলাম মোর্শেদ মাসুদ, গৌরনদী উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মনির হোসেন হাওলাদার এবং জেলা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি এসএম হীরা।

এসএলটি/চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম/




তাপদাহে পুড়ছে দেশ, স্বস্তি মিলবে ১৮ মে’র পর

সারা দেশে চলমান তীব্র তাপপ্রবাহে জনজীবন চরম বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। রাজধানীসহ দেশের ৬৩টি জেলায় মৃদু থেকে তীব্র তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে, কেবল সিলেট এখনো এই অবস্থা থেকে কিছুটা মুক্ত।

আবহাওয়াবিদদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, এই তাপপ্রবাহ ১২ মে-এর আগে বা পরে কিছুটা প্রশমিত হতে পারে। তবে আগামী কয়েকদিন তাপমাত্রা আরও বাড়তে পারে এবং তা ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস থেকে বেড়ে ৪২ ডিগ্রি পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, তাপমাত্রা কমে আসার সম্ভাবনা রয়েছে ১৮ থেকে ১৯ মে’র পর থেকে। ওই সময় দেশের বিভিন্ন এলাকায় আকাশে মেঘ জমা ও বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি হতে পারে, যা সাময়িক স্বস্তি দিতে পারে জনসাধারণকে।

আবহাওয়াবিদ শাহীনুর ইসলাম সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “এই সময় রোদে বাইরে যাওয়া এড়িয়ে চলুন, শরীরে পানিশূন্যতা যেন না হয় তা খেয়াল রাখুন।” বিশেষ করে শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থদের এই সময় অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

প্রসঙ্গত, চলমান তাপদাহের প্রভাবে শুধু জনস্বাস্থ্য নয়, দেশের কৃষি খাতেও দেখা দিয়েছে গুরুতর প্রভাব। বিশেষ করে দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় সবজির ক্ষতি হচ্ছে ব্যাপক হারে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /