বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে অনির্দিষ্টকালের একাডেমিক শাটডাউন ঘোষণা

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য ড. শুচিতা শরমিনের পদত্যাগ দাবিতে আগামীকাল সোমবার (১২ মে) থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য একাডেমিক শাটডাউনের ঘোষণা দিয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। এর আগে প্রশাসনিক শাটডাউন চললেও এবার ক্লাস-পর্যায়ের শিক্ষাদান কার্যক্রমও বন্ধ হচ্ছে, ফলে কার্যত পুরো বিশ্ববিদ্যালয় অচল হয়ে পড়ছে।

রোববার (১১ মে) বিকেলে এক খোলা চিঠির মাধ্যমে শিক্ষকদের উদ্দেশে এই ঘোষণা দেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। সেইসঙ্গে রোববার রাত সাড়ে ৮টায় ক্যাম্পাসে একটি প্রতিবাদী মশাল মিছিলও বের করে তাঁরা, যেখানে উপাচার্যের পদত্যাগের দাবি জোরালোভাবে তুলে ধরা হয়।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ৬ মে থেকে প্রশাসনিক ভবনসহ বিভিন্ন কার্যালয়ে তালা লাগিয়ে দেন আন্দোলনকারীরা। এরপর আজকের খোলাচিঠিতে তাঁরা জানান, সরকারের নিকট তাঁদের দাবির বিষয়ে কোনো ইতিবাচক সাড়া না পেয়ে শিক্ষার পরিসরও বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছেন। যদিও পরীক্ষা, পরিবহন ও জরুরি সেবাগুলো এই শাটডাউনের আওতার বাইরে থাকবে বলে জানানো হয়েছে।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়,

“দীর্ঘ আন্দোলনের পরও কোনো অগ্রগতি নেই। তাই আমরা শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে আগামী ১২ মে থেকে একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমরা শিক্ষক সমাজের কাছেও আহ্বান জানাই, শিক্ষার্থীদের এই গণতান্ত্রিক আন্দোলনের প্রতি সম্মান দেখিয়ে তাঁরা যেন ক্লাস বর্জন করেন।”

আন্দোলনে যুক্ত ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী মোশারফ হোসেন বলেন,

“আমরা যেকোনো উপায়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৫টি বিভাগের চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের কাছে আমাদের বার্তা পৌঁছে দিয়েছি। উপাচার্য অপসারণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।”

লোকপ্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী মোকাব্বেল শেখ জানান,

“১৮টি বিভাগের শিক্ষার্থীরা ইতোমধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে আন্দোলনের পক্ষে সংহতি জানিয়েছে। এটা আমাদের সংগ্রামকে আরও শক্ত ভিত দিয়েছে।”

প্রসঙ্গত, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনে স্বৈরাচার পুনর্বাসন এবং ‘জুলাই আন্দোলন’ সমর্থনকারীদের হয়রানির অভিযোগে গত ১৭ এপ্রিল থেকে উপাচার্যবিরোধী আন্দোলনে নামে শিক্ষার্থীরা। সর্বশেষ গত শুক্রবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৬ জন শিক্ষক বিবৃতি দিয়ে উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেন।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিকে সদস্যসচিব করায় ‘আমরা ভোলাবাসী’ কমিটি নিয়ে বিতর্ক

‘আমরা ভোলাবাসী’ নামে একটি সংগঠনের সদ্য গঠিত কমিটিতে ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি মীর মোশারেফ অমিকে সদস্যসচিব করার ঘটনায় ভোলায় ব্যাপক আলোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

গত শনিবার (৩ মে) সংগঠনটি আনুষ্ঠানিকভাবে মীর অমিকে সদস্যসচিব হিসেবে ঘোষণা করে। তবে জানা গেছে, তিনি একটি চেক জালিয়াতি মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত। এছাড়াও প্রতারণার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, ‘মীর সিটি’ নামক একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তিনি সাধারণ মানুষের কাছ থেকে মোটা অংকের অর্থ আদায় করেছেন। অভিযোগ রয়েছে, ভুক্তভোগীদের চাপের মুখে তার অফিস উত্তরা থেকে মোহাম্মদপুরে সরিয়ে নেওয়া হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ভোলাবাসী বলেন, “সামাজিক কার্যক্রমের নামে অর্থ সংগ্রহ করে নিজের সুবিধা নিয়েছেন অমি। আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে স্থানীয় নেতাদের ছায়ায় থাকলেও বর্তমানে এক ছাত্রদল নেতার আশ্রয়ে রয়েছেন।”

এই পরিস্থিতিতে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, কিভাবে একজন পলাতক আসামি এমন গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন হতে পারে।

এ বিষয়ে ভোলা জেলা বিএনপি ও ‘আমরা ভোলাবাসী’ কমিটির আহ্বায়ক গোলাম নবী আলমগীর বলেন, “মীর অমির বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট রয়েছে বিষয়টি আমার জানা ছিল না। এখন বিষয়টি খতিয়ে দেখে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া বিভাগের ডিসি মুহাম্মদ তালেবুর রহমান জানান, “যার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে, তাকে ধরতে আইন প্রয়োগে কোনো শিথিলতা চলবে না। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট থানাকে অবহিত করা হবে।”


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /


 




অর্থ আত্মসাৎ করে শিক্ষক দম্পতির লন্ডন পলায়ন

বরিশাল সিটি কলেজের সাবেক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সুজিত কুমার দেবনাথ ও তার স্ত্রী রীনা রানী সুতার কলেজের বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করে পরিবারসহ লন্ডনে পাড়ি জমিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

সুজিত কুমার নিজেকে ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালী নেতাদের আত্মীয় পরিচয়ে প্রভাব খাটিয়ে কলেজের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তিনি ২০১৫ সালে জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন করে বরিশাল সিটি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নিযুক্ত হন। এরপর দীর্ঘ আট বছরে প্রায় ৬৫ লাখ টাকার বেশি অর্থ আত্মসাৎ করেন বলে জানা যায়। এ ছাড়া চাকরি দেওয়ার নামেও প্রায় অর্ধকোটি টাকা হাতিয়ে নেন তিনি।

অভিযোগ রয়েছে, দায়িত্বে থাকা অবস্থায় তিনি কলেজের গুরুত্বপূর্ণ দলিল, হিসাবের নথিপত্র ও মোবাইল সিম পর্যন্ত আত্মসাৎ করেন। ২০২৩ সালের নভেম্বরে তাকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। ২০২৫ সালের ৬ এপ্রিল তিনি অবসর নেন।

তার স্ত্রী রীনা রানী সুতারও ছিলেন একটি সরকারি কলেজের সহকারী অধ্যাপক। অনুপস্থিত থাকা সত্ত্বেও নিয়মিত বেতন ভাতা গ্রহণ করেছেন বলে জানায় কলেজ কর্তৃপক্ষ। তিন দফা নোটিশ দিয়েও তার কোনো জবাব পাওয়া যায়নি। এরপর তারা স্বামী-স্ত্রী লন্ডনে চলে যান।

অডিট রিপোর্টে সুজিত কুমারের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ, ক্ষমতার অপব্যবহার, এবং কলেজের সম্পদ আত্মসাতের সুস্পষ্ট প্রমাণ উঠে আসে। কলেজ কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছে এবং মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




আ.লীগ নিষিদ্ধে বারবার প্রধান উপদেষ্টার কাছে চিঠি দিয়েছে বিএনপি: ফখরুল

আওয়ামী লীগকে ‘মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত রাজনৈতিক দল’ হিসেবে বিচারিক প্রক্রিয়ায় নিষিদ্ধ করার দাবিতে বিএনপি একাধিকবার প্রধান উপদেষ্টার কাছে পত্র দিয়েছে বলে জানিয়েছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

রোববার (১১ মে) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তিনি জানান, সর্বশেষ ১৬ এপ্রিল প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাতে বিএনপি ‘ফ্যাসিবাদী দল’ আখ্যায়িত করে আওয়ামী লীগ এবং তার সহযোগী সংগঠনের বিচার ও নিষিদ্ধকরণের দাবি তোলে।

ফখরুল বলেন, “আমরা শুরু থেকেই বলেছি, প্রশাসনিক আদেশে নয়—আইনি প্রক্রিয়ায়ই এই ফ্যাসিবাদী দলকে নিষিদ্ধ করা উচিত। আমরা অতীতে জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ করার সরকারি সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছিলাম একই যুক্তিতে।”

তিনি আরও জানান, অন্তর্বর্তী সরকার সম্প্রতি আওয়ামী লীগের কার্যক্রম বন্ধ ও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিচার প্রক্রিয়া শুরুর যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, বিএনপি তা ‘বিলম্বিত হলেও যৌক্তিক’ হিসেবে দেখছে।

মির্জা ফখরুল বলেন, “যদি আগেই আমাদের প্রস্তাব গুরুত্ব পেত, তবে সরকারকে চাপের মুখে এমন বিব্রতকর সিদ্ধান্ত নিতে হতো না।”

তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার রোডম্যাপ এখনো ঘোষণা না করায় জনগণের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করতে হবে।”


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




কুয়াকাটায় কার্পেটিংয়ের নামে অনিয়ম, টিকবে না এক বছরও অভিযোগ স্থানীয়দের

পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় সৈকতসংলগ্ন মেরিন ড্রাইভ সড়কের নির্মাণকাজে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা। তাদের দাবি, নিয়ম মেনে প্রাইম কোট না দিয়ে ধুলাবালির ওপর সরাসরি কার্পেটিং করা হচ্ছে, যা এক বছরও টিকবে না।

জানা যায়, এলজিইডির বরিশাল বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রশস্তকরণ প্রকল্পের আওতায় ৯ কোটি ৬১ লাখ টাকা ব্যয়ে সড়কটি নির্মাণ করছে বরেন্দ্র কনস্ট্রাকশন নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। কুয়াকাটা জিরো পয়েন্ট থেকে ধোলাই বাজার পর্যন্ত প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দীর্ঘ এ সড়কের প্রস্থ নির্ধারিত হয়েছে ১৬ ফুট এবং কার্পেটিংয়ের পুরুত্ব ৪০ মিলিমিটার হলেও প্রকৃতপক্ষে তা মানা হচ্ছে না বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর।

স্থানীয়রা জানান, বঙ্গোপসাগরের তীরবর্তী এই সড়ক উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের জন্য একটি রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করে আসছে বহুদিন ধরে। তবে বর্তমানে চলমান সংস্কারকাজে মান রক্ষা না করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।

মনির হোসেন নামের এক বাসিন্দা বলেন, “যেভাবে কাজ হচ্ছে, একটু বৃষ্টি হলেই রাস্তা ভেঙে যাবে। আমরা চাই টেকসই রাস্তা।” একই অভিযোগ করেন পাঞ্জুপাড়া গ্রামের মোহাম্মদ নাঈম, যিনি বলেন, “প্রাইমকোট ছাড়া কার্পেটিং করা হচ্ছে। কোনো ফিনিশিং নেই। এই রাস্তা এক বছরও টিকবে না।”

স্থানীয় হোটেল-মোটেল এমপ্লয়িজ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ইব্রাহিম ওয়াহিদ বলেন, “অনিয়ম দেখেও সংশ্লিষ্টরা চুপ করে থাকেন। আমরা চাই কুয়াকাটার স্বার্থে একটি মানসম্মত রাস্তা।”

তবে বরেন্দ্র কনস্ট্রাকশনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব না হলেও সাব-কন্ট্রাক্টর ফোরকান হোসেন দাবি করেন, কাজ এলজিইডি কর্মকর্তাদের নির্দেশনা অনুযায়ী হচ্ছে এবং কোনো অনিয়ম করা হয়নি।

এদিকে এলজিইডি কলাপাড়া উপজেলার প্রকৌশলী মোহাম্মদ সাদিকুর রহমান বলেন, “কিছু স্থানে কার্পেটিংয়ের পুরুত্ব কম পাওয়া গেছে। এসব ঠিক করতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং শিডিউল অনুযায়ী কাজ করতে কঠোরভাবে বলা হয়েছে।”

স্থানীয়দের দাবি, সরকারি এই প্রকল্পে দুর্নীতির সুযোগ না রেখে যথাযথ মান বজায় রেখে কাজটি শেষ করা হোক, যাতে উপকূলবাসী ও পর্যটক উভয়েই দীর্ঘ মেয়াদে উপকৃত হন।


মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




ভোলা-চরফ্যাশন রুটে বাস ভাড়া কমলো, যাত্রীদের মুখে হাসি

যাত্রী সাধারণের স্বস্তির কথা মাথায় রেখে ভোলা-চরফ্যাশন রুটসহ জেলার কয়েকটি রুটে বাস ভাড়া কমানোর ঘোষণা দিয়েছে ভোলা জেলা বাস মিনিবাস মালিক সমিতি। নতুন এ ভাড়া শনিবার (১০ মে ২০২৫) থেকে কার্যকর হয়েছে বলে জানানো হয়েছে সমিতির এক আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তিতে।

ভোলা জেলা বাস মিনিবাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ফজলুর রহমান বাচ্চু মোল্লার স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, যাত্রী সেবার মান উন্নয়ন এবং পরিবহন ব্যবস্থাকে আধুনিক ও যাত্রীবান্ধব করতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পুরনো ভাড়ার তালিকা বাতিল করে নতুন হার নির্ধারণ করা হয়েছে।

নতুন ভাড়ার তালিকা অনুযায়ী:

  • ভোলা থেকে চরফ্যাশন রুটের বাস ভাড়া ১৮০ টাকা থেকে কমিয়ে ১৫০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
  • ভোলা-লালমোহন রুটে ভাড়া ১২০ টাকা থেকে কমে দাঁড়িয়েছে ১০০ টাকায়।
  • ভোলা-বোরহানউদ্দিন রুটে ভাড়া ৬০ টাকা থেকে কমিয়ে করা হয়েছে ৫০ টাকা।

লোকাল বাসগুলোতেও একই হারে ভাড়া হ্রাস কার্যকর করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সমিতির সাধারণ সম্পাদক। তিনি আরও বলেন, নতুন এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সকল চালক, হেলপার ও কর্মচারীদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।

বাস মালিক সমিতির এমন উদ্যোগে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন নিয়মিত যাত্রীরা। অনেকে জানিয়েছেন, জ্বালানি খরচ ও নিত্যপণ্যের দামের চাপে যেখানে সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠছে, সেখানে ভাড়া কমানো নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয় উদ্যোগ।


মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




ভোলা-বরিশাল সেতু: বিচ্ছিন্ন দ্বীপে বদলের অগ্রদূত

দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষার পর নতুন আশার আলো জাগাচ্ছে ভোলা-বরিশাল সেতু। দেশের একমাত্র বিচ্ছিন্ন দ্বীপ জেলা ভোলার মানুষের বহুদিনের স্বপ্ন এটি। সেতুটি বাস্তবায়িত হলে বদলে যাবে প্রায় ২২ লাখ মানুষের জীবনধারা। সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপনের মাধ্যমে ভোলার গায়ে ‘বিচ্ছিন্ন’ ট্যাগটি মুছে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

ভোলার মানুষের দাবি, শিক্ষা, চিকিৎসা, শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থানে যে পশ্চাদপদতা দেখা যায়, তার মূল কারণ সড়ক যোগাযোগের অভাব। বর্তমানে বরিশালের সঙ্গে ভোলার একমাত্র সংযোগ পথ হলো ফেরি সার্ভিস, যা সময়সাপেক্ষ এবং দুর্ভোগে ভরা। দিনের পরে দিন ফেরিঘাটে অপেক্ষা করতে হয়, বিশেষ করে বাস ও ট্রাকচালকদের।

স্থানীয় বাসিন্দা ও কর্মজীবী মানুষরা বলছেন, সন্ধ্যার পর নদীপথে লঞ্চ ও স্পিডবোট চলাচল বন্ধ থাকায় অনেক সময় জরুরি প্রয়োজনে তারা ভোগান্তিতে পড়েন। অন্যদিকে, শিল্প উদ্যোক্তারাও বিনিয়োগে আগ্রহ হারান সড়ক যোগাযোগ না থাকায়। অথচ প্রাকৃতিক গ্যাসে সমৃদ্ধ ভোলা শিল্প স্থাপনের জন্য আদর্শ স্থান।

৮ মে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ড. শেখ মইনউদ্দিন এবং সেতু বিভাগের সচিব মো. আবদুর রউফ ভোলা-বরিশাল সেতুর সম্ভাব্য স্থান পরিদর্শন করেন। তাদের এই সফর নতুন করে আশার আলো জ্বালিয়েছে স্থানীয়দের মনে।

সেতু বিভাগের তথ্যমতে, প্রস্তাবিত ভোলা-বরিশাল সেতুর দৈর্ঘ্য প্রায় ১১ কিলোমিটার। প্রকল্পের সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ১৭ হাজার কোটি টাকা, যা সময় ও নকশা অনুযায়ী বাড়তেও বা কমতেও পারে।

ভোলার নাগরিক ও সাংবাদিক নেতারা বলছেন, পদ্মা সেতু নির্মাণ হলেও তার সরাসরি সুবিধা ভোলাবাসী পাননি। অথচ এই জেলা থেকেই গ্যাস, ইলিশ, ধান, গমসহ নানা সম্পদ সরবরাহ হয় সারাদেশে। কিন্তু জেলার মানুষ পায় না কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন।

তারা বলছেন, ভোলা-বরিশাল সেতু হলে শুধু ভোলার নয়, বরিশাল বিভাগসহ গোটা দক্ষিণাঞ্চলের যোগাযোগ, ব্যবসা-বাণিজ্য ও কর্মসংস্থানে বিপ্লব ঘটবে।

সরকারের প্রতি জেলাবাসীর দাবি, আর আশ্বাস নয়—সেতু নির্মাণের কাজ দ্রুত শুরু করা হোক।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




দাবি না মানলে আমরণ অনশনে নার্সিং শিক্ষার্থীরা

বরিশাল নার্সিং কলেজের শিক্ষার্থীরা তাদের চার দফা দাবির প্রেক্ষিতে চলমান আন্দোলনে উত্তাল হয়ে উঠেছেন। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, দাবি আদায়ের আন্দোলনে অংশ নিতে গেলে ৬ মে শিক্ষকদের বাধার মুখে পড়তে হয় এবং তাদের মারধরের শিকার হতে হয়। এ ঘটনার ৭২ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও অভিযুক্ত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি, যা ঘনীভূত করেছে শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ।

আজ রোববার (১১ মে) বরিশাল নার্সিং কলেজের হলরুমে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থীরা বলেন, “আমাদের ন্যায্য দাবি পূরণ না হলে এবং হামলায় জড়িত শিক্ষকদের বিচার না হলে আমরা সোমবার থেকে আমরণ অনশন শুরু করব।”

উল্লেখ্য, গত ৩০ এপ্রিল থেকে সারা দেশের সরকারি ৩২টি এবং বেসরকারি ১৫৪টি নার্সিং কলেজের শিক্ষার্থীরা শিক্ষক নিয়োগসহ চার দফা দাবিতে আন্দোলন করে আসছেন। এই দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিমালা অনুযায়ী শিক্ষক নিয়োগ, শিক্ষার মান উন্নয়ন ও মারধরের ঘটনার বিচার।

শিক্ষার্থীরা আরও জানান, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে এবং কোনো রকম সমঝোতায় তারা রাজি নন। এ সময় একাডেমিক ভবনের সামনে শিক্ষার্থীরা হামলায় জড়িত শিক্ষকদের প্রতিকৃতিসহ কুশপুতুল দাহ করে প্রতিবাদ জানান।

আন্তর্জাতিক নার্সেস ডে উপলক্ষে শিক্ষার্থীরা জানান, তারা এই দিনটিতে কোনো উদযাপনে অংশ নেবেন না, বরং এটি বর্জন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / 




যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ ভারত-পাকিস্তানের

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় দীর্ঘ আলোচনার পর ভারত ও পাকিস্তানের মাঝে যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর হয়েছে। দীর্ঘ ৪৮ ঘণ্টার প্রচেষ্টায় এই যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। পরে ভারত ও পাকিস্তানও অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেয়।

তবে ভারতের অভিযোগ, যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করছে পাকিস্তান। অন্যদিকে পাকিস্তান যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের ভারতীয় এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। দেশটি বলছে, তারা যুদ্ধবিরতি “বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ”।

একইসঙ্গে ভারতের বিরুদ্ধেও যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছে পাকিস্তান। রোববার (১১ মে) এই তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা ও দ্য নিউজ ইন্টারন্যাশনাল।

সংবাদমাধ্যমটি বলছে, পাকিস্তান রোববার ভোরে এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ভারতের সঙ্গে স্বাক্ষরিত যুদ্ধবিরতি চুক্তি বাস্তবায়নে তারা “পূর্ণ নিষ্ঠার সঙ্গে অঙ্গীকারবদ্ধ”। এর আগেই ভারত পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে পাল্টা হামলার কথা জানায়।

পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে ভারতের বিরুদ্ধেও যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ তোলে এবং জানায়, পাকিস্তানি বাহিনী দায়িত্বশীল ও সংযমীভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলা করছে।




আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ

আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার দাবিতে গত দুদিন ধরে কর্মসূচি পালন করছে সদ্যগঠিত জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ (এনসিপি) বিভিন্ন দল ও সংগঠন।

গত বছরের জুলাই অগাস্টের আন্দোলনে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের রাজনীতি সাময়িক নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। আজ (শনিবার) রাতে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক থেকে এ সিদ্ধান্ত এসেছে।

এনসিপি গঠিত হওয়ার পর থেকেই ছাত্র জনতার আন্দোলনে হত্যাকাণ্ডসহ বিভিন্ন অপরাধের বিচার ও তার দায়ে আওয়ামী লীগের রাজনীতি নিষিদ্ধ করার দাবি জানিয়ে আসছিল।

বুধবার মধ্যরাতে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সময়ের সাবেক রাষ্ট্রপতি মো.আবদুল হামিদ থাইল্যান্ডে গেলে নতুন করে কর্মসূচি নেয় মাঠে নামে এনসিপি।

শনিবার রাতে এ নিয়ে জরুরি বৈঠকে বসে উপদেষ্টা পরিষদ। বৈঠক শেষে সরকারের সিদ্ধান্তের কথা জানান উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও তার নেতাদের বিচার কার্যসম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত দেশের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা, জুলাই আন্দোলনের নেতাকর্মীদের নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বাদী ও সাক্ষীদের সুরক্ষার জন্য সন্ত্রাস বিরোধী আইনের অধীনে সাইবার স্পেস-সহ আওয়ামি লীগ এর যাবতীয় কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পরিপত্র পরবর্তী কর্মদিবসে জারি করা হবে।