বরিশাল-কুয়াকাটা ছয় লেন মহাসড়ক ও মীরগঞ্জ সেতু প্রকল্প শুরু ডিসেম্বরেই

বরিশালবাসীর দীর্ঘদিনের স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে এক বড় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। খুব শিগগিরই শুরু হচ্ছে ভাঙ্গা-কুয়াকাটা ছয় লেন মহাসড়ক এবং বরিশালের বহু প্রতীক্ষিত মীরগঞ্জ সেতু নির্মাণ কাজ।
শনিবার (১০ মে) বিকেল ৪টায় বরিশাল সার্কিট হাউজের ধানসিঁড়ি মিলনায়তনে স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এই ঘোষণা দেন সরকারের অন্তর্বর্তীকালীন নৌপরিবহন এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন বরিশালের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন এবং উপস্থিত ছিলেন শ্রম মন্ত্রণালয়ের সচিব এএইচএম সফিকুজ্জামান।
উপদেষ্টা জানান, ফরিদপুরের ভাঙ্গা থেকে পটুয়াখালীর কুয়াকাটা পর্যন্ত ছয় জেলার ওপর দিয়ে ছয় লেনের এই মহাসড়ক উন্নয়ন প্রকল্প সরকারের অনুমোদন পেয়েছে। প্রথম ধাপে ভাঙ্গা থেকে কুয়াকাটা পর্যন্ত কাজ শুরু হবে, এরপর ধাপে ধাপে বাকি অংশ বাস্তবায়ন হবে।
মীরগঞ্জ সেতু প্রকল্প নিয়েও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। বলেন, “এই সেতু দীর্ঘদিন ধরে বরিশালবাসীর একটি বড় দাবি ছিল। ডিসেম্বরের মধ্যেই এর নির্মাণ কাজ শুরু হবে।”
বরিশালের অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “গত ১৭ বছরে এই অঞ্চলের তেমন উন্নয়ন হয়নি। ঢাকার সঙ্গে তুলনা করলে এখানকার রাস্তাঘাট এখনো অনেক পিছিয়ে। বরিশাল উন্নয়নের জন্য আরও বেশি মনোযোগ পাওয়ার দাবিদার।”
তিনি আরও বলেন, বরিশাল স্টেডিয়ামের উন্নয়ন কাজ চললেও অগ্রগতি ধীর। তবে বিসিবির চেয়ারম্যান ও সিইওর সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে ডিসেম্বরের মধ্যে মাঠ খেলার উপযোগী হবে বলে আশ্বাস পাওয়া গেছে।
বরিশালের নৌপথ উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি জানান, হিজলার মৌলভীর হাট লঞ্চঘাট পুনরায় চালু করা হয়েছে এবং সেখানে ড্রেজিং কার্যক্রম চলছে। পাশাপাশি ৭-৮টি আধুনিক লঞ্চঘাট নির্মাণ এবং নতুন নৌরুট চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। ঐতিহ্যবাহী স্টিমার সার্ভিস ফের চালুর উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে দুটি স্টিমারের সংস্কার কাজ চলমান, যা আগামী ৫-৭ মাসের মধ্যে সম্পন্ন হওয়ার আশা করা হচ্ছে।
এছাড়া খাল পুনঃখনন, বিশুদ্ধ পানির জন্য শোধনাগার নির্মাণ, মেহেন্দিগঞ্জে নদীভাঙন প্রতিরোধে ৬০০ কোটি টাকার প্রকল্পসহ আরও বেশ কিছু উন্নয়ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন তিনি।
বরিশালের পুরনো বিনোদনকেন্দ্র ‘বেল্স পার্ক’ পুনরুদ্ধার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “এটি একসময় বরিশালের প্রাণ ছিল। আমরা এটিকে আধুনিক, পরিচ্ছন্ন ও নিরাপদ পার্ক হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। থাকবে ফুড জোন, থাকবে পারিবারিক পরিবেশ।”
মতবিনিময় সভায় বরিশালের সাংবাদিকরা বিভিন্ন উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে মতামত ও প্রস্তাব উপস্থাপন করেন।
মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম








