গলাচিপায় অচল মা ও শিশু হাসপাতাল চালুর দাবিতে মানববন্ধন

দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসাসেবা বন্ধ থাকা পটুয়াখালীর গলাচিপা পৌর শহরের ১০ শয্যাবিশিষ্ট মা ও শিশু হাসপাতালটি চালুর দাবিতে মানববন্ধন করেছে এলাকাবাসী। সোমবার (১২ মে) সকাল ৯টায় হাসপাতালের সামনের সড়কে সর্বস্তরের জনগণের অংশগ্রহণে আয়োজিত হয় এই মানববন্ধন।

এই কর্মসূচিতে অংশ নেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী, সাংবাদিক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, নারী, বৃদ্ধসহ সাধারণ মানুষ। বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী ও যুব সমাজের প্রতিনিধি শাহ জুবায়ের আব্দুল্লাহ, পটুয়াখালী সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী মাহমুদুল হাসান রুবেল, স্থানীয় বাসিন্দা মো. নজরুল ইসলাম, মোসা. রেখা বেগম ও মো. নবীন হোসেন।

বক্তারা বলেন, গলাচিপা নদীবেষ্টিত ও জনবহুল একটি পৌরসভা হলেও মা ও শিশুদের জন্য স্থাপন করা এই হাসপাতালটি দীর্ঘদিন ধরে অচল অবস্থায় পড়ে আছে। বিশেষ করে অন্তঃসত্ত্বা মায়েদের জন্য এটি একটি অপরিহার্য স্বাস্থ্যকেন্দ্র হলেও সেখানে চিকিৎসক নেই, ওষুধ নেই, নেই সেবাও। ফলে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে বরিশাল বা পটুয়াখালী শহরে ছুটতে হয় চিকিৎসার জন্য। মাঝপথেই ঘটছে সন্তান প্রসব ও মৃত্যুর মতো মর্মান্তিক দুর্ঘটনা।

সেবাগ্রহীতাদের অভিযোগ, সেবা নিতে এসে চিকিৎসক না পেয়ে হতাশ হয়ে ফিরে যেতে হয়। নার্সদের অসদাচরণ ও রোগীদের প্রাইভেট ক্লিনিকে পাঠিয়ে দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

হাসপাতালটি নির্মাণ করা হয় ৫২ শতক জমির ওপর, যার ব্যয় ধরা হয় প্রায় ৪ কোটি ৯৩ লাখ টাকা। রয়েছে আধুনিক সব সুবিধা—দ্বিতল ভবন, অপারেশন থিয়েটার, ডক্টর ডরমেটরি, গভীর নলকূপ, সার্বক্ষণিক বিদ্যুৎ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা। কিন্তু অভ্যন্তরে নেই প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও জনবল।

২০২১ সালে নির্মাণকাজ শেষ হলেও আজও আনুষ্ঠানিকভাবে এটি চালু হয়নি। উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মহিউদ্দিন হাসান রুম্মান বলেন, জনবল সংকটের কারণে পূর্ণাঙ্গ সেবা চালু করা যাচ্ছে না। বর্তমানে ছয়জন ইউনিয়ন স্টাফ দিয়ে সীমিত সেবা দেওয়া হচ্ছে। তিনি জানান, একজন এমবিবিএস চিকিৎসক ছিলেন, তিনিও গত নভেম্বরে বদলি হয়ে গেছেন।

বর্তমানে মাত্র দুইজন এফডব্লিউভি সপ্তাহের পাঁচদিন সকাল সাড়ে ৯টা থেকে বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত সেবা দিয়ে থাকেন। প্রয়োজনীয় জনবল ও সরঞ্জামের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে বলে জানান তিনি।

এদিকে পটুয়াখালী জেলা পরিবার পরিকল্পনা উপপরিচালক মো. শহীদুল ইসলাম বলেন, জনবল সংকটের কথা মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়েছে এবং বিষয়টি সমাধানে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে। তবে স্থানীয়দের দাবি, শুধু আশ্বাস নয়, দ্রুত হাসপাতালটি চালুর ব্যবস্থা নিতে হবে, যাতে এলাকার মা ও শিশুরা প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত না হয়।

মো: আল-আমিন, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম।



বাউফলে প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষকদের বেতন বন্ধ, মানবেতর জীবনযাপন

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় প্রাক-প্রাথমিক পর্যায়ের শিক্ষকদের দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে বেতন-ভাতা বন্ধ রয়েছে। ফলে পরিবার-পরিজন নিয়ে চরম কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন এই শিক্ষকরা। কেউ কেউ দোকানে বাকি করছেন, কেউবা ধার করে চলছেন। শিক্ষা খাতে এমন অব্যবস্থাপনা নিয়ে শিক্ষকদের মধ্যে চরম হতাশা বিরাজ করছে।

জানা গেছে, বাউফলে মোট ২৩৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ১০৯ জন শিক্ষক ২০২৩ সালে প্রাক-প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পান। শুরুতে নিয়মিত বেতন পেলেও গত মার্চ ও এপ্রিল মাস থেকে তারা কোনো বেতন পাচ্ছেন না। চলতি মাসে আদৌ কোনো বেতন আসবে কিনা, সে নিয়েও অনিশ্চয়তায় ভুগছেন তারা।

শিক্ষকরা অভিযোগ করেছেন, ৪র্থ প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি (পিইডিপি-৪) এর অধীনে জানুয়ারি থেকে জুন মাস পর্যন্ত বেতন-ভাতা বরাদ্দের কথা থাকলেও বাউফলে এখনও সেই অর্থ পৌঁছায়নি। বিষয়টিকে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার অবহেলা ও অদক্ষতা বলেই মনে করছেন তারা।

একাধিক শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, নিয়মিত বেতন না পাওয়ায় আমাদের পরিবারের ভরণ-পোষণ কঠিন হয়ে উঠেছে। এভাবে চলতে থাকলে শিক্ষকতা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে না।

অপরদিকে, পার্শ্ববর্তী উপজেলার শিক্ষকরা নিয়মিত বেতন পাচ্ছেন বলে জানা গেছে। দশমিনা উপজেলার ৫৭ নম্বর কাউনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রাক-প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক শান্তনা রানী ঘোষ জানান, তাদের উপজেলায় নিয়মিত মাসের শুরুতেই বেতন চলে আসে। অথচ বাউফলে চিত্র পুরো উল্টো।

এ বিষয়ে বাউফল উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আতিকুল ইসলাম বলেন, বরাদ্দ ঘাটতির কারণে বেতন দেওয়া যাচ্ছে না। আমরা বিষয়টি অধিদপ্তরে জানিয়েছি। বরাদ্দ পেলেই দ্রুত বেতন পরিশোধ করা হবে।

শিক্ষকদের মতে, বেতন বন্ধ থাকাটা শুধুমাত্র একটি প্রশাসনিক ব্যর্থতা, যার ফল ভোগ করতে হচ্ছে পরিবারসহ অসংখ্য শিক্ষককে। সরকারের পক্ষ থেকে দ্রুত পদক্ষেপ না নেওয়া হলে শিক্ষাক্ষেত্রে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে—এমনটাই আশঙ্কা করছেন সচেতন মহল।

মো: আল-আমিন, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম।



দশমিনায় গলদা রেণু পাচার, জনতার বাধায় উদ্ধার

পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নের লঞ্চঘাট এলাকায় সোমবার সকালে স্থানীয় জনতার তৎপরতায় আটক হয় ট্রাকভর্তি অবৈধ গলদা রেণু। প্রায় ৩০ লাখ টাকার বেশি মূল্যের এসব রেণু পাচারের সময় সাধারণ মানুষ ট্রাকটি আটকে ফেলে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ৫২ ড্রাম গলদা রেণু জব্দ করে এবং সেগুলো তেঁতুলিয়া নদীতে অবমুক্ত করে। পরে ট্রাকটি থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।

স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে এই ঘাট ব্যবহার করে গোপনে খুলনা ও বাগেরহাটের দিকে রেণু পাচার হচ্ছিল। এলাকাবাসীর অভিযোগে উঠে আসে স্থানীয় কিছু রাজনৈতিক নেতার সংশ্লিষ্টতার কথাও। অভিযোগ রয়েছে, ছাত্রদল নেতা রাজীব একটি ট্রাক ছাড়িয়ে দেওয়ার শর্তে এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ১৩ হাজার ৫০০ টাকা নেন। অভিযুক্ত রাজীব অবশ্য দাবি করেছেন, তিনি টাকা চেয়েছেন না, ব্যবসায়ী নিজ থেকেই বিকাশে পাঠিয়েছেন।

একই ঘটনায় যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ইয়াসিন আলী খান এবং ছাত্রদলের আহ্বায়ক কাজী তানজিল আহমেদ রিডেনের নামও উঠে এসেছে। তবে তারা রেণু পাচারের সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ততা অস্বীকার করেছেন।

দশমিনা থানার ওসি মোহাম্মদ আবদুল আলিম জানান, সকালে ৯৯৯ নম্বরে কল পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মৌখিক নির্দেশে মুচলেকা নিয়ে ট্রাকটি ছেড়ে দেওয়া হয়।

স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে গলদা রেণু পাচার হচ্ছিল। এবার জনসচেতনতায় পাচার রোধ সম্ভব হয়েছে, তবে ভবিষ্যতে প্রশাসনের আরও সক্রিয় নজরদারি জরুরি।


আল-আমিন



আওয়ামী লীগের নিবন্ধন স্থগিত

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ সোমবার রাত সোয়া ৯টার দিকে জানিয়েছেন যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনের আলোকে আওয়ামী লীগের নিবন্ধন স্থগিত করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

সোমবার (১২ মে) বিকেলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দলটির কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি করে। এরপর বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিনের নেতৃত্বে বৈঠকে বসে নির্বাচন কমিশন। প্রায় চার ঘণ্টা বৈঠক শেষে সোয়া ৯টার দিকে ইসি সচিব আখতার আহমেদ এসে সাংবাদিকদের জানান, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনের আলোকে নির্বাচন কমিশন আওয়ামী লীগের নিবন্ধন স্থগিত করেছে।

তিনি বলেন, ‘আপনারা জানেন, আজ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এবং তার অঙ্গ সংগঠন ও ভাতৃপ্রতিম সংগঠনগুলোর কার্যক্রম নিষিদ্ধ করেছে। তার ধারাবাহিকতায় ইলেকশন কমিশন আওয়ামী লীগের নিবন্ধন স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’

‘সে অনুযায়ী আমরা গেজেট নোটিফিকেশন জারি করেছি। আপনারা গেজেটের কপি বিজি প্রেস থেকে পেয়ে যাবেন।’




বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত আওয়ামী লীগের সব কার্যক্রম নিষিদ্ধ

বিচার প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সব ধরনের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে সরকার। সোমবার (১২ মে) এই সংক্রান্ত একটি সরকারি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।

সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি জানান, “রাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে আওয়ামী লীগের যাবতীয় কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। অধ্যাদেশ অনুসারে বিষয়টি বাস্তবায়নের দায়িত্ব আমাদের।”

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, দলটির বিরুদ্ধে চলমান তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে। এই সিদ্ধান্ত অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে গৃহীত হয়, যা অনুষ্ঠিত হয়েছিল গত শনিবার।

সরকারের এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা বিরাজ করছে। যদিও এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

এই সিদ্ধান্তের পর থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অতিরিক্ত সতর্ক অবস্থানে রাখা হয়েছে। নিষেধাজ্ঞা চলাকালে দলটির কোনো সভা, সমাবেশ বা সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা যাবে না বলেও জানা গেছে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ ঘোষণা

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্যের পদত্যাগ দাবিতে শিক্ষার্থীরা অনির্দিষ্টকালের জন্য ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ ঘোষণা করেছেন। এই কর্মসূচির আওতায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ থাকবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন তারা।

সোমবার (১২ মে) সকালে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকে অবস্থান নিয়ে ‘এক দফা এক দাবি—ভিসি তুই কবে যাবি’ স্লোগানে ক্যাম্পাস প্রকম্পিত করে তোলেন। এর আগের দিন (১১ মে) শিক্ষার্থীরা খোলা চিঠির মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৫টি বিভাগের চেয়ারম্যানসহ সকল শিক্ষকদের কাছে তাদের দাবির বিষয়টি তুলে ধরেন। একই রাতে তারা মহাসড়কে মশাল মিছিল বের করেন।

শিক্ষার্থীরা জানান, উপাচার্য অধ্যাপক ড. শূচিতা শরিমনের পদত্যাগ না হওয়া পর্যন্ত তাদের আন্দোলন চলবে। এ লক্ষ্যে তারা শাটডাউন কর্মসূচি নিয়েছে। তবে শিক্ষার্থীদের স্বার্থ বিবেচনায় সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা, পরিবহন সেবা, লাইব্রেরি এবং মেডিকেল সেবা এই কর্মসূচির আওতামুক্ত থাকবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সুজয় শুভ বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে আমরা উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন করছি। কিন্তু কর্তৃপক্ষ কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। এখন উপাচার্য পদত্যাগ না করলে আমরা আরও কঠোর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবো।”

তিনি আরও বলেন, “এই আপসহীন লড়াইয়ে আজ ১২ মে থেকে আমরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অনির্দিষ্টকালের জন্য অ্যাকাডেমিক শাটডাউন ঘোষণা করছি।”

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। আন্দোলনরতরা জানান, উপাচার্য এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. সোনিয়া খান সনির সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁরা সাড়া দেননি।

শাটডাউন চলাকালীন ক্যাম্পাসে অবস্থান কর্মসূচি, মশাল মিছিল, মহাসড়ক অবরোধ, উপাচার্যের বাসভবনে তালা লাগানো ও সংবাদ সম্মেলনের মতো নানা কর্মসূচি চলমান থাকবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




শেখ হাসিনাকে অভিযুক্ত করে  গণহত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল




পু‌তি‌নের স‌ঙ্গে বৈঠক কর‌তে তুরস্ক যা‌চ্ছেন জে‌লেন‌স্কি

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : রাশিয়ার সঙ্গে চলা দীর্ঘ যুদ্ধের অবসান ঘটাতে আগামী বৃহস্পতিবার (১৫ মে) প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে তুরস্কে বৈঠক করতে প্রস্তুত রয়েছেন বলে জানিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। ইউক্রেনের সংবাদমাধ্যম ‘দ্য কিয়েভ ইন্ডিপেনডেন্ট’ জেলেনস্কির বরাত দিয়ে এ খবর জানিয়েছে।

ওই খবরে উল্লেখ করা হয়- ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, “হত্যাকাণ্ড দীর্ঘায়িত করার কোনো মানে হয় না। আমি বৃহস্পতিবার তুরস্কে পুতিনের জন্য অপেক্ষা করব।”

তিনি বলেন, “আমরা আগামীকাল থেকে একটি সম্পূর্ণ এবং স্থায়ী যুদ্ধবিরতি আশা করছি। যা কূটনীতির জন্য প্রয়োজনীয় ভিত্তি তৈরি করবে।”




দাবদাহে দিশেহারা ঝালকাঠিবাসী, হাসপাতালে বাড়ছে রোগী

ঝালকাঠিতে টানা কয়েকদিন ধরে তীব্র দাবদাহে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে খেটে খাওয়া মানুষ, শিশু ও বৃদ্ধরা পড়েছেন চরম ভোগান্তিতে। শহর থেকে গ্রাম—সবখানে বিরাজ করছে গরমের অসহনীয় চাপ।

স্থানীয় আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, জেলায় গত কয়েকদিন ধরে তাপমাত্রা ৩৬ থেকে ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করছে। প্রচণ্ড রোদ আর ধুলাবালিতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে দিনমজুর ও শ্রমজীবী মানুষের জীবনযাত্রা।

আড়ৎদার পট্টির হ্যান্ডেলিং শ্রমিক রবিউল হোসেন বলেন, “কাজ না করলে বউ-সন্তান খাবে কী? কিন্তু রোদে মনে হয় কলিজাটা শুকায়া যায়।”

নির্মাণ শ্রমিক লতিফ মিয়ার ভাষ্য, “রোদে শরীর নিস্তেজ হয়ে আসে, কিন্তু রোজগার না করলে ঘরে হাঁড়ি চড়ে না।”

রাস্তায় চলাচলকারী ষাটোর্ধ্ব আব্দুর রহিম বলেন, “শরীর দিয়ে পানির মতো ঘাম ঝরছে। রাস্তা যেন আগুন ছড়াচ্ছে। তবুও বের হতে হচ্ছে।”

এই অসহনীয় গরমে সবচেয়ে বেশি ভুগছে শিশুরা, বয়স্করা ও স্কুলগামী শিক্ষার্থীরা। তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে হিটস্ট্রোক, পানিশূন্যতা, ডায়রিয়ার মতো সমস্যায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভিড় করছে মানুষ।

ঝালকাঠি সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. টিএম মেহেদী হাসান সানী বলেন, “তাপদাহে সুস্থ থাকতে হলে বিশুদ্ধ পানি বেশি করে খেতে হবে, দিনে অন্তত দুইবার গোসল করতে হবে এবং পাতলা ও হালকা রঙের কাপড় পরা উচিত।”

তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, “রাস্তার পাশের অস্বাস্থ্যকর শরবত ও পানীয় থেকে বিরত থাকতে হবে। বাইরে বের হলে অবশ্যই ছাতা ব্যবহার করা উচিত।”

এদিকে, দীর্ঘসময় এমন গরম থাকলে কৃষিসহ নানা ক্ষেত্রে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




মেঘনায় কোস্ট গার্ডের অভিযান: ৫৩ ড্রেজার, ৩৬ বাল্কহেড জব্দ, ৬ জন গ্রেপ্তার

বরিশালের হিজলা উপজেলার সাওরাখালী এলাকায় মেঘনা নদীতে কোস্ট গার্ডের অভিযানে ৫৩টি ড্রেজার ও ৩৬টি বাল্কহেড জব্দ করা হয়েছে। পাশাপাশি অবৈধ বালু উত্তোলনের অভিযোগে ইজারাদার আব্দুল বাসেদসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় ১ কোটি ১৩ লাখ টাকা।

অভিযানটি চালানো হয় শনিবার (১০ মে) সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত। অভিযানে নেতৃত্ব দেয় কোস্ট গার্ড দক্ষিণ জোন। স্থানীয় প্রশাসন ও নিরাপত্তা বাহিনীর সমন্বয়ে পরিচালিত এই অভিযানটি ছিল সম্প্রতি উত্থাপিত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসনের নির্দেশনায়।

সূত্র জানায়, হিজলার সাওরাখালী এলাকার মাত্র ১০০ একর বালুমহালে শতাধিক ড্রেজার দিয়ে প্রতিনিয়ত বালু তোলা হচ্ছিল। পরিবহনের জন্য রাখা হয়েছিল সমসংখ্যক বাল্কহেড। এতে নদীতীরবর্তী এলাকাগুলো মারাত্মক ভাঙনের ঝুঁকিতে পড়ে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, মেঘনার ওই পথে চলাচলকারী জাহাজগুলো থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায় করা হতো। কোস্ট গার্ড জানায়, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা এই চাঁদাবাজির কথা স্বীকার করেছেন।

উল্লেখ্য, জেলা প্রশাসনের নির্ধারিত দর ছিল ৫৬ লাখ ১০ হাজার টাকা, কিন্তু আব্দুল বাসেদ এই বালুমহালটি ইজারা নেন ১৬ কোটি ৩৭ লাখ টাকায়। ধারণা করা হচ্ছে, এত বড় অঙ্কের টাকা তুলতে গিয়ে তিনি বেপরোয়া খননে নেমেছেন, যা পরিবেশ ও নদীতীরের জন্য বিপজ্জনক হয়ে ওঠে।

এ প্রসঙ্গে সাবেক ইজারাদার রুবেল মিয়া জানান, একসময় একই জায়গায় তিনি সর্বোচ্চ ১৩টি ড্রেজার চালাতে পেরেছিলেন, কিন্তু এখন এক বছরের ব্যবধানে শতাধিক ড্রেজার দিয়ে অবাধ খনন চলছে।

প্রসঙ্গত, ১ মে থেকে শুরু হওয়া এই বালু উত্তোলন কার্যক্রমের বিরোধিতা করে এলাকাবাসী সম্প্রতি মানববন্ধন করে। এর জবাবে হিজলা সফররত নৌপরিবহন উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) সাখাওয়াত হোসেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবিলম্বে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। এর পরদিনই চলে বড় পরিসরের এই অভিযান।

অভিযানে ধৃতদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে নিশ্চিত করেছে কোস্ট গার্ড।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /