আওয়ামী লীগের নিবন্ধন স্থগিত

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ সোমবার রাত সোয়া ৯টার দিকে জানিয়েছেন যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনের আলোকে আওয়ামী লীগের নিবন্ধন স্থগিত করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

সোমবার (১২ মে) বিকেলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দলটির কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি করে। এরপর বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিনের নেতৃত্বে বৈঠকে বসে নির্বাচন কমিশন। প্রায় চার ঘণ্টা বৈঠক শেষে সোয়া ৯টার দিকে ইসি সচিব আখতার আহমেদ এসে সাংবাদিকদের জানান, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনের আলোকে নির্বাচন কমিশন আওয়ামী লীগের নিবন্ধন স্থগিত করেছে।

তিনি বলেন, ‘আপনারা জানেন, আজ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এবং তার অঙ্গ সংগঠন ও ভাতৃপ্রতিম সংগঠনগুলোর কার্যক্রম নিষিদ্ধ করেছে। তার ধারাবাহিকতায় ইলেকশন কমিশন আওয়ামী লীগের নিবন্ধন স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’

‘সে অনুযায়ী আমরা গেজেট নোটিফিকেশন জারি করেছি। আপনারা গেজেটের কপি বিজি প্রেস থেকে পেয়ে যাবেন।’




বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত আওয়ামী লীগের সব কার্যক্রম নিষিদ্ধ

বিচার প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সব ধরনের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে সরকার। সোমবার (১২ মে) এই সংক্রান্ত একটি সরকারি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।

সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি জানান, “রাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে আওয়ামী লীগের যাবতীয় কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। অধ্যাদেশ অনুসারে বিষয়টি বাস্তবায়নের দায়িত্ব আমাদের।”

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, দলটির বিরুদ্ধে চলমান তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে। এই সিদ্ধান্ত অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে গৃহীত হয়, যা অনুষ্ঠিত হয়েছিল গত শনিবার।

সরকারের এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা বিরাজ করছে। যদিও এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

এই সিদ্ধান্তের পর থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অতিরিক্ত সতর্ক অবস্থানে রাখা হয়েছে। নিষেধাজ্ঞা চলাকালে দলটির কোনো সভা, সমাবেশ বা সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা যাবে না বলেও জানা গেছে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ ঘোষণা

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্যের পদত্যাগ দাবিতে শিক্ষার্থীরা অনির্দিষ্টকালের জন্য ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ ঘোষণা করেছেন। এই কর্মসূচির আওতায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ থাকবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন তারা।

সোমবার (১২ মে) সকালে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকে অবস্থান নিয়ে ‘এক দফা এক দাবি—ভিসি তুই কবে যাবি’ স্লোগানে ক্যাম্পাস প্রকম্পিত করে তোলেন। এর আগের দিন (১১ মে) শিক্ষার্থীরা খোলা চিঠির মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৫টি বিভাগের চেয়ারম্যানসহ সকল শিক্ষকদের কাছে তাদের দাবির বিষয়টি তুলে ধরেন। একই রাতে তারা মহাসড়কে মশাল মিছিল বের করেন।

শিক্ষার্থীরা জানান, উপাচার্য অধ্যাপক ড. শূচিতা শরিমনের পদত্যাগ না হওয়া পর্যন্ত তাদের আন্দোলন চলবে। এ লক্ষ্যে তারা শাটডাউন কর্মসূচি নিয়েছে। তবে শিক্ষার্থীদের স্বার্থ বিবেচনায় সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা, পরিবহন সেবা, লাইব্রেরি এবং মেডিকেল সেবা এই কর্মসূচির আওতামুক্ত থাকবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সুজয় শুভ বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে আমরা উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন করছি। কিন্তু কর্তৃপক্ষ কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। এখন উপাচার্য পদত্যাগ না করলে আমরা আরও কঠোর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবো।”

তিনি আরও বলেন, “এই আপসহীন লড়াইয়ে আজ ১২ মে থেকে আমরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অনির্দিষ্টকালের জন্য অ্যাকাডেমিক শাটডাউন ঘোষণা করছি।”

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। আন্দোলনরতরা জানান, উপাচার্য এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. সোনিয়া খান সনির সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁরা সাড়া দেননি।

শাটডাউন চলাকালীন ক্যাম্পাসে অবস্থান কর্মসূচি, মশাল মিছিল, মহাসড়ক অবরোধ, উপাচার্যের বাসভবনে তালা লাগানো ও সংবাদ সম্মেলনের মতো নানা কর্মসূচি চলমান থাকবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




শেখ হাসিনাকে অভিযুক্ত করে  গণহত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল




পু‌তি‌নের স‌ঙ্গে বৈঠক কর‌তে তুরস্ক যা‌চ্ছেন জে‌লেন‌স্কি

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : রাশিয়ার সঙ্গে চলা দীর্ঘ যুদ্ধের অবসান ঘটাতে আগামী বৃহস্পতিবার (১৫ মে) প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে তুরস্কে বৈঠক করতে প্রস্তুত রয়েছেন বলে জানিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। ইউক্রেনের সংবাদমাধ্যম ‘দ্য কিয়েভ ইন্ডিপেনডেন্ট’ জেলেনস্কির বরাত দিয়ে এ খবর জানিয়েছে।

ওই খবরে উল্লেখ করা হয়- ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, “হত্যাকাণ্ড দীর্ঘায়িত করার কোনো মানে হয় না। আমি বৃহস্পতিবার তুরস্কে পুতিনের জন্য অপেক্ষা করব।”

তিনি বলেন, “আমরা আগামীকাল থেকে একটি সম্পূর্ণ এবং স্থায়ী যুদ্ধবিরতি আশা করছি। যা কূটনীতির জন্য প্রয়োজনীয় ভিত্তি তৈরি করবে।”




দাবদাহে দিশেহারা ঝালকাঠিবাসী, হাসপাতালে বাড়ছে রোগী

ঝালকাঠিতে টানা কয়েকদিন ধরে তীব্র দাবদাহে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে খেটে খাওয়া মানুষ, শিশু ও বৃদ্ধরা পড়েছেন চরম ভোগান্তিতে। শহর থেকে গ্রাম—সবখানে বিরাজ করছে গরমের অসহনীয় চাপ।

স্থানীয় আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, জেলায় গত কয়েকদিন ধরে তাপমাত্রা ৩৬ থেকে ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করছে। প্রচণ্ড রোদ আর ধুলাবালিতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে দিনমজুর ও শ্রমজীবী মানুষের জীবনযাত্রা।

আড়ৎদার পট্টির হ্যান্ডেলিং শ্রমিক রবিউল হোসেন বলেন, “কাজ না করলে বউ-সন্তান খাবে কী? কিন্তু রোদে মনে হয় কলিজাটা শুকায়া যায়।”

নির্মাণ শ্রমিক লতিফ মিয়ার ভাষ্য, “রোদে শরীর নিস্তেজ হয়ে আসে, কিন্তু রোজগার না করলে ঘরে হাঁড়ি চড়ে না।”

রাস্তায় চলাচলকারী ষাটোর্ধ্ব আব্দুর রহিম বলেন, “শরীর দিয়ে পানির মতো ঘাম ঝরছে। রাস্তা যেন আগুন ছড়াচ্ছে। তবুও বের হতে হচ্ছে।”

এই অসহনীয় গরমে সবচেয়ে বেশি ভুগছে শিশুরা, বয়স্করা ও স্কুলগামী শিক্ষার্থীরা। তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে হিটস্ট্রোক, পানিশূন্যতা, ডায়রিয়ার মতো সমস্যায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভিড় করছে মানুষ।

ঝালকাঠি সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. টিএম মেহেদী হাসান সানী বলেন, “তাপদাহে সুস্থ থাকতে হলে বিশুদ্ধ পানি বেশি করে খেতে হবে, দিনে অন্তত দুইবার গোসল করতে হবে এবং পাতলা ও হালকা রঙের কাপড় পরা উচিত।”

তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, “রাস্তার পাশের অস্বাস্থ্যকর শরবত ও পানীয় থেকে বিরত থাকতে হবে। বাইরে বের হলে অবশ্যই ছাতা ব্যবহার করা উচিত।”

এদিকে, দীর্ঘসময় এমন গরম থাকলে কৃষিসহ নানা ক্ষেত্রে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




মেঘনায় কোস্ট গার্ডের অভিযান: ৫৩ ড্রেজার, ৩৬ বাল্কহেড জব্দ, ৬ জন গ্রেপ্তার

বরিশালের হিজলা উপজেলার সাওরাখালী এলাকায় মেঘনা নদীতে কোস্ট গার্ডের অভিযানে ৫৩টি ড্রেজার ও ৩৬টি বাল্কহেড জব্দ করা হয়েছে। পাশাপাশি অবৈধ বালু উত্তোলনের অভিযোগে ইজারাদার আব্দুল বাসেদসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় ১ কোটি ১৩ লাখ টাকা।

অভিযানটি চালানো হয় শনিবার (১০ মে) সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত। অভিযানে নেতৃত্ব দেয় কোস্ট গার্ড দক্ষিণ জোন। স্থানীয় প্রশাসন ও নিরাপত্তা বাহিনীর সমন্বয়ে পরিচালিত এই অভিযানটি ছিল সম্প্রতি উত্থাপিত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসনের নির্দেশনায়।

সূত্র জানায়, হিজলার সাওরাখালী এলাকার মাত্র ১০০ একর বালুমহালে শতাধিক ড্রেজার দিয়ে প্রতিনিয়ত বালু তোলা হচ্ছিল। পরিবহনের জন্য রাখা হয়েছিল সমসংখ্যক বাল্কহেড। এতে নদীতীরবর্তী এলাকাগুলো মারাত্মক ভাঙনের ঝুঁকিতে পড়ে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, মেঘনার ওই পথে চলাচলকারী জাহাজগুলো থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায় করা হতো। কোস্ট গার্ড জানায়, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা এই চাঁদাবাজির কথা স্বীকার করেছেন।

উল্লেখ্য, জেলা প্রশাসনের নির্ধারিত দর ছিল ৫৬ লাখ ১০ হাজার টাকা, কিন্তু আব্দুল বাসেদ এই বালুমহালটি ইজারা নেন ১৬ কোটি ৩৭ লাখ টাকায়। ধারণা করা হচ্ছে, এত বড় অঙ্কের টাকা তুলতে গিয়ে তিনি বেপরোয়া খননে নেমেছেন, যা পরিবেশ ও নদীতীরের জন্য বিপজ্জনক হয়ে ওঠে।

এ প্রসঙ্গে সাবেক ইজারাদার রুবেল মিয়া জানান, একসময় একই জায়গায় তিনি সর্বোচ্চ ১৩টি ড্রেজার চালাতে পেরেছিলেন, কিন্তু এখন এক বছরের ব্যবধানে শতাধিক ড্রেজার দিয়ে অবাধ খনন চলছে।

প্রসঙ্গত, ১ মে থেকে শুরু হওয়া এই বালু উত্তোলন কার্যক্রমের বিরোধিতা করে এলাকাবাসী সম্প্রতি মানববন্ধন করে। এর জবাবে হিজলা সফররত নৌপরিবহন উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) সাখাওয়াত হোসেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবিলম্বে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। এর পরদিনই চলে বড় পরিসরের এই অভিযান।

অভিযানে ধৃতদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে নিশ্চিত করেছে কোস্ট গার্ড।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে অনির্দিষ্টকালের একাডেমিক শাটডাউন ঘোষণা

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য ড. শুচিতা শরমিনের পদত্যাগ দাবিতে আগামীকাল সোমবার (১২ মে) থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য একাডেমিক শাটডাউনের ঘোষণা দিয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। এর আগে প্রশাসনিক শাটডাউন চললেও এবার ক্লাস-পর্যায়ের শিক্ষাদান কার্যক্রমও বন্ধ হচ্ছে, ফলে কার্যত পুরো বিশ্ববিদ্যালয় অচল হয়ে পড়ছে।

রোববার (১১ মে) বিকেলে এক খোলা চিঠির মাধ্যমে শিক্ষকদের উদ্দেশে এই ঘোষণা দেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। সেইসঙ্গে রোববার রাত সাড়ে ৮টায় ক্যাম্পাসে একটি প্রতিবাদী মশাল মিছিলও বের করে তাঁরা, যেখানে উপাচার্যের পদত্যাগের দাবি জোরালোভাবে তুলে ধরা হয়।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ৬ মে থেকে প্রশাসনিক ভবনসহ বিভিন্ন কার্যালয়ে তালা লাগিয়ে দেন আন্দোলনকারীরা। এরপর আজকের খোলাচিঠিতে তাঁরা জানান, সরকারের নিকট তাঁদের দাবির বিষয়ে কোনো ইতিবাচক সাড়া না পেয়ে শিক্ষার পরিসরও বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছেন। যদিও পরীক্ষা, পরিবহন ও জরুরি সেবাগুলো এই শাটডাউনের আওতার বাইরে থাকবে বলে জানানো হয়েছে।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়,

“দীর্ঘ আন্দোলনের পরও কোনো অগ্রগতি নেই। তাই আমরা শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে আগামী ১২ মে থেকে একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমরা শিক্ষক সমাজের কাছেও আহ্বান জানাই, শিক্ষার্থীদের এই গণতান্ত্রিক আন্দোলনের প্রতি সম্মান দেখিয়ে তাঁরা যেন ক্লাস বর্জন করেন।”

আন্দোলনে যুক্ত ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী মোশারফ হোসেন বলেন,

“আমরা যেকোনো উপায়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৫টি বিভাগের চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের কাছে আমাদের বার্তা পৌঁছে দিয়েছি। উপাচার্য অপসারণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।”

লোকপ্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী মোকাব্বেল শেখ জানান,

“১৮টি বিভাগের শিক্ষার্থীরা ইতোমধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে আন্দোলনের পক্ষে সংহতি জানিয়েছে। এটা আমাদের সংগ্রামকে আরও শক্ত ভিত দিয়েছে।”

প্রসঙ্গত, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনে স্বৈরাচার পুনর্বাসন এবং ‘জুলাই আন্দোলন’ সমর্থনকারীদের হয়রানির অভিযোগে গত ১৭ এপ্রিল থেকে উপাচার্যবিরোধী আন্দোলনে নামে শিক্ষার্থীরা। সর্বশেষ গত শুক্রবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৬ জন শিক্ষক বিবৃতি দিয়ে উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেন।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিকে সদস্যসচিব করায় ‘আমরা ভোলাবাসী’ কমিটি নিয়ে বিতর্ক

‘আমরা ভোলাবাসী’ নামে একটি সংগঠনের সদ্য গঠিত কমিটিতে ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি মীর মোশারেফ অমিকে সদস্যসচিব করার ঘটনায় ভোলায় ব্যাপক আলোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

গত শনিবার (৩ মে) সংগঠনটি আনুষ্ঠানিকভাবে মীর অমিকে সদস্যসচিব হিসেবে ঘোষণা করে। তবে জানা গেছে, তিনি একটি চেক জালিয়াতি মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত। এছাড়াও প্রতারণার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, ‘মীর সিটি’ নামক একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তিনি সাধারণ মানুষের কাছ থেকে মোটা অংকের অর্থ আদায় করেছেন। অভিযোগ রয়েছে, ভুক্তভোগীদের চাপের মুখে তার অফিস উত্তরা থেকে মোহাম্মদপুরে সরিয়ে নেওয়া হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ভোলাবাসী বলেন, “সামাজিক কার্যক্রমের নামে অর্থ সংগ্রহ করে নিজের সুবিধা নিয়েছেন অমি। আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে স্থানীয় নেতাদের ছায়ায় থাকলেও বর্তমানে এক ছাত্রদল নেতার আশ্রয়ে রয়েছেন।”

এই পরিস্থিতিতে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, কিভাবে একজন পলাতক আসামি এমন গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন হতে পারে।

এ বিষয়ে ভোলা জেলা বিএনপি ও ‘আমরা ভোলাবাসী’ কমিটির আহ্বায়ক গোলাম নবী আলমগীর বলেন, “মীর অমির বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট রয়েছে বিষয়টি আমার জানা ছিল না। এখন বিষয়টি খতিয়ে দেখে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া বিভাগের ডিসি মুহাম্মদ তালেবুর রহমান জানান, “যার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে, তাকে ধরতে আইন প্রয়োগে কোনো শিথিলতা চলবে না। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট থানাকে অবহিত করা হবে।”


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /


 




অর্থ আত্মসাৎ করে শিক্ষক দম্পতির লন্ডন পলায়ন

বরিশাল সিটি কলেজের সাবেক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সুজিত কুমার দেবনাথ ও তার স্ত্রী রীনা রানী সুতার কলেজের বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করে পরিবারসহ লন্ডনে পাড়ি জমিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

সুজিত কুমার নিজেকে ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালী নেতাদের আত্মীয় পরিচয়ে প্রভাব খাটিয়ে কলেজের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তিনি ২০১৫ সালে জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন করে বরিশাল সিটি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নিযুক্ত হন। এরপর দীর্ঘ আট বছরে প্রায় ৬৫ লাখ টাকার বেশি অর্থ আত্মসাৎ করেন বলে জানা যায়। এ ছাড়া চাকরি দেওয়ার নামেও প্রায় অর্ধকোটি টাকা হাতিয়ে নেন তিনি।

অভিযোগ রয়েছে, দায়িত্বে থাকা অবস্থায় তিনি কলেজের গুরুত্বপূর্ণ দলিল, হিসাবের নথিপত্র ও মোবাইল সিম পর্যন্ত আত্মসাৎ করেন। ২০২৩ সালের নভেম্বরে তাকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। ২০২৫ সালের ৬ এপ্রিল তিনি অবসর নেন।

তার স্ত্রী রীনা রানী সুতারও ছিলেন একটি সরকারি কলেজের সহকারী অধ্যাপক। অনুপস্থিত থাকা সত্ত্বেও নিয়মিত বেতন ভাতা গ্রহণ করেছেন বলে জানায় কলেজ কর্তৃপক্ষ। তিন দফা নোটিশ দিয়েও তার কোনো জবাব পাওয়া যায়নি। এরপর তারা স্বামী-স্ত্রী লন্ডনে চলে যান।

অডিট রিপোর্টে সুজিত কুমারের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ, ক্ষমতার অপব্যবহার, এবং কলেজের সম্পদ আত্মসাতের সুস্পষ্ট প্রমাণ উঠে আসে। কলেজ কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছে এবং মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /