দেশেই বেগম জিয়ার চিকিৎসা চলবে

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ : বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে নেওয়ার উপযুক্ত নয়। বিশেষ করে খালেদা জিয়ার হৃদ্‌যন্ত্রের সমস্যা বেশ জটিল পর্যায়ে রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল সূত্রগুলো থেকে জানা গেছে। এ ছাড়া ডায়াবেটিস, কিডনি, ফুসফুসসহ অন্য সমস্যাগুলো অপরিবর্তিত রয়েছে। তাঁকে ঢাকায় রেখেই চিকিৎসা করা হবে। প্রতিদিনই তাঁর ডায়ালাইসিস করতে হচ্ছে।

এদিকে খালেদা জিয়াকে দেখতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্ত্রী জুবাইদা রহমান প্রতিদিনই রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে যাওয়া-আসা করছেন। গতকাল বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে তিনি হাসপাতালে যান এবং চিকিৎসার তদারকি করেন।

বিএনপির কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ও চিকিৎসক রফিকুল ইসলাম গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, ‘ম্যাডামের (খালেদা জিয়া) চিকিৎসার মেডিকেল বোর্ডের সদস্য হিসেবে ডা. জুবাইদা রহমান চিকিৎসক দলের সঙ্গে যুক্ত হয়ে ম্যাডামের চিকিৎসার দেখভাল করছেন।’

৮০ বছর বয়সী খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন ধরে হৃদ্‌রোগ, ডায়াবেটিস, আর্থ্রাইটিস, লিভার সিরোসিস, কিডনির জটিলতাসহ নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছেন। শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে গত ২৩ নভেম্বর দ্রুত তাঁকে এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। মেডিকেল বোর্ডের দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর চিকিৎসা চলছে।

চিকিৎসকেরা এখনো খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের অবস্থাকে ‘গুরুতর’ হিসেবে বিবেচনা করছেন। তাঁদের পর্যবেক্ষণ হচ্ছে, আগামী কয়েকটি দিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিডনি কার্যক্ষমতায় স্থিতিশীলতা ছাড়া তাঁর সামগ্রিক শারীরিক অবস্থায় স্থায়ী উন্নতি আসা কঠিন।




বেগম জিয়ার শারীরিক অবস্থা অপরিবর্তিত সংকট এখনো কাটেনি

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ : বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় গঠিত মেডিকেল বোর্ডের চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, কয়েক দফা পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরও তাঁর মূল শারীরিক জটিলতাগুলো নিয়ন্ত্রণে আসেনি ।

মেডিকেল বোর্ডের চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, খালেদা জিয়ার ডায়াবেটিস, কিডনি, হৃদ্‌যন্ত্র ও ফুসফুসের জটিলতা ওঠানামা করছে। এই অনিশ্চিত পরিস্থিতির কারণে তাঁকে কয়েক দিন ধরে পুরোপুরি নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

চিকিৎসা ও বিদেশযাত্রা-সংক্রান্ত সিদ্ধান্তে জড়িত একটি সূত্র গতকাল রোববার রাতে বলেছে, চিকিৎসকেরা খালেদা জিয়ার সর্বশেষ অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে বিদেশ পাঠানোর সময় আরও দুই দিন পিছিয়েছেন। দীর্ঘ যাত্রার ঝুঁকি বিবেচনায় নেওয়া এই সিদ্ধান্ত এখন পুরোপুরি নির্ভর করছে আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় তাঁর শারীরিক অবস্থার পরিবর্তনের ওপর। সূত্রের মতে, গতকাল রাত পর্যন্ত প্রাপ্ত সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী তাঁর অবস্থায় নতুন কোনো উন্নতি বা অবনতি—কোনোটিই লক্ষণীয় নয়; সবকিছু অনেকটা অপরিবর্তিত রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত শনিবার রাতে মেডিকেল বোর্ডের সদস্যরা খালেদা জিয়ার সামগ্রিক অবস্থা পর্যালোচনার জন্য জরুরি বৈঠকে বসেন। বৈঠকের পর শনিবার ও রোববার তাঁর বেশ কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন হয়। আজ সোমবার আবারও বোর্ডের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে, যেখানে সর্বশেষ পরীক্ষার রিপোর্ট পর্যালোচনা করে চিকিৎসা-পরিকল্পনায় নতুন কোনো পরিবর্তন আনা হবে কি না, তা নির্ধারণ করা হতে পারে।

চিকিৎসকদের একটি সূত্র জানিয়েছে, খালেদা জিয়ার অবস্থার প্রতিটি পরিবর্তন নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। চিকিৎসকেরা তাঁর ডায়াবেটিসের ওঠানামা, কিডনির কার্যকারিতা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এবং হৃদ্‌যন্ত্র-সংক্রান্ত জটিলতার ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। পাশাপাশি ফুসফুসের পরিস্থিতিও নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান চিকিৎসা কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। লন্ডন থেকে ঢাকায় আসার পর থেকে তিনি প্রতিদিন হাসপাতালে যাওয়া-আসার মধ্যে রয়েছেন।

চিকিৎসকেরা বলছেন, সামগ্রিকভাবে পরিস্থিতি স্থিতিশীল নয়; আবার খুব অবনতিও হয়নি। তবে নতুন কোনো জটিলতা দেখা না দিলেও মূল সমস্যাগুলো নিয়ন্ত্রণে না আসায় তাঁকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখতে হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় গঠিত মেডিকেল বোর্ডের একটি ঘনিষ্ঠ সূত্র জানিয়েছে, তাঁর ডায়াবেটিস, কিডনি, হৃদ্‌যন্ত্র ও ফুসফুসের সমস্যা কিছু সময় নিয়ন্ত্রণে থাকলেও হঠাৎ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। এ কারণে তাঁর সার্বিক অবস্থা স্থিতিশীল বলা যাচ্ছে না। সর্বশেষ পরীক্ষায় কিডনি এবং ফুসফুসের অবস্থার কিছুটা অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে এসব উন্নতি সামগ্রিক ঝুঁকি কমাতে যথেষ্ট নয়; তিনি এখনো আশঙ্কামুক্ত নন বলেই চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন।

এই অনিশ্চিত অবস্থার কারণে খালেদা জিয়াকে বিদেশে পাঠানোর সম্ভাব্য তারিখ বারবার পরিবর্তিত হচ্ছে। শুরুতে বিএনপি জানিয়েছিল, খালেদা জিয়াকে শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) ভোরে লন্ডনে নেওয়া হবে। পরে শুক্রবার সকালে নতুন তারিখ দেওয়া হয় ৭ ডিসেম্বর। রাতে আবার জানানো হয়, সম্ভাব্য যাত্রার তারিখ পিছিয়ে ৯ ডিসেম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত সেই তারিখও অনিশ্চিত রয়ে গেছে।

 




দক্ষিণাঞ্চলের নদনদীতে নাব্য সংকট চরমে, বাড়ছে ঝুঁকি ও ভোগান্তি

শীতের শুরুতেই দক্ষিণাঞ্চলের প্রধান নদনদীগুলোতে নাব্য সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। পানি কমে যাওয়ায় একের পর এক জেগে উঠছে ডুবোচর, ব্যাহত হচ্ছে ঢাকা-বরিশালসহ অভ্যন্তরীণ নৌরুটের স্বাভাবিক চলাচল। এর ফলে বড় যাত্রীবাহী লঞ্চ থেকে শুরু করে ছোট নৌযান পর্যন্ত পড়ছে মারাত্মক ঝুঁকির মুখে, বাড়ছে ভোগান্তি ও দুর্ঘটনার আশঙ্কা।

ঢাকা-বরিশাল রুটের লঞ্চ মাস্টাররা জানান, স্বাভাবিকভাবে একটি বড় লঞ্চ চলাচলের জন্য নদীতে অন্তত ৩ মিটার গভীরতা প্রয়োজন। কিন্তু বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ, হিজলা, কালীগঞ্জ থেকে শুরু করে চাঁদপুর-পটুয়াখালী রুটের বহু স্থানে ভাটার সময় পানি নেমে আসছে মাত্র দেড় মিটার বা তারও কমে। এতে প্রায় প্রতিদিনই লঞ্চসহ যাত্রীবাহী নৌযান নদীর তলদেশে আটকে যাচ্ছে।

এমভি শুভরাজের মাস্টার বেলাল জানান, “গত রাতেও বামনীর চর এলাকায় লঞ্চ ডুবোচরে আটকে গিয়েছিল। যাত্রী নিয়ে চলাচল করাটাই এখন চরম ঝুঁকির।”

বরিশালের অভ্যন্তরীণ নৌরুটেও নাব্য সংকট দিন দিন প্রকট হচ্ছে। বাহেরচর ও ভাসানচর রুট এ বছরই বন্ধ হয়েছে। এর আগে নাব্য সংকট ও নৌপথের অবনতি কারণে গলাচিপা, বরগুনা, পাথরঘাটা, লালমোহন, চরদুয়ানী, বোরহানউদ্দিনসহ অন্তত ১২টির বেশি রুট থেকে এমএল সাইজের লঞ্চ চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। বর্তমানে হাতে গোনা কয়েকটি রুটেই ছোট লঞ্চ চলাচল অব্যাহত আছে, তবে তাও ঝুঁকিপূর্ণ।

অভিজ্ঞ যাত্রী আবদুল জব্বার জানান, “আগে বরিশাল থেকে দুই শতাধিক লঞ্চ চলত। এখন মাত্র ৩০-৩৫টা দেখা যায়। নদী শুকিয়ে যাচ্ছে, আর নৌভ্রমণও দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে।”

রাতের লঞ্চযাত্রায় ধাক্কা, থেমে যাওয়া এবং অনিশ্চয়তার ভোগান্তি এখন নিয়মিত অভিযোগ। ঢাকাগামী যাত্রী সুমন হাওলাদার বলেন, “ঘুমের মধ্যে ধাক্কা লেগে জেগে উঠলাম। দেখি লঞ্চ চরে আটকে আছে। আধা ঘণ্টা আটকে থেকে আবার চলতে পারি। প্রতিদিনই এমন হয়।”

পরিবেশ ও জনসুরক্ষা ফোরামের আহ্বায়ক শুভংকর চক্রবর্তী বলেন, “নদীর তলদেশে অনিয়ন্ত্রিত বালি জমা, অস্বাভাবিক ড্রেজিং এবং সঠিক নৌপথ ব্যবস্থাপনা না থাকায় এমন সংকট তৈরি হয়েছে। দ্রুত ও পরিকল্পিত ড্রেজিং না করলে দক্ষিণাঞ্চলের নৌপথ অচল হয়ে যাবে।”

বিআইডব্লিউটিএ বরিশাল অঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী মামুন উর রশিদ জানান, “ঢাকা-বরিশালসহ পটুয়াখালী রুটের বেশকিছু পয়েন্টে নাব্য সংকট দেখা দিয়েছে। এসব স্থানে জরুরি ড্রেজিংয়ের কাজ শুরু হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে আরও ড্রেজিং করা হবে।”

স্থানীয়রা আশা করছেন, পরিকল্পিত নদী ব্যবস্থাপনা না হলে প্রতি বছরই এ সংকট আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করবে।




জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধনে নভেম্বরের সেরা জেলা পটুয়াখালী

জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন কার্যক্রমে সারা দেশের ৬৪ জেলার মধ্যে পটুয়াখালী নভেম্বর ২০২৫ মাসে শীর্ষস্থান দখল করেছে। দুই সূচকের সমন্বিত মূল্যায়নে জেলাটির অর্জন দাঁড়িয়েছে ১১২ দশমিক ৯ শতাংশ, যা মাসটিতে দেশের সর্বোচ্চ সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।

সরকারি তথ্যানুসারে, নভেম্বর মাসে পটুয়াখালীতে জন্মের এক বছরের মধ্যে যে সংখ্যক জন্ম নিবন্ধন সম্পন্ন হয়েছে তা ২ হাজার ৩১১টি, যেখানে সম্ভাব্য জন্ম নির্ধারিত ছিল ২ হাজার ৬৯২টি। এতে জন্ম নিবন্ধনের হার দাঁড়ায় ৮৬ শতাংশ। একই মাসে সম্ভাব্য মৃত্যুর সংখ্যা ছিল ৭৩০টি; বিপরীতে নিবন্ধিত মৃত্যু হয়েছে ১ হাজার ২১টি, যা ১৪০ শতাংশ অর্জন হার নির্দেশ করে। দুই সূচক মিলিয়ে জেলাটি জাতীয় পর্যায়ে প্রথম স্থান অধিকার করে।

বরিশাল বিভাগের অন্য দুই জেলা ভোলা ও বরগুনা যথাক্রমে দ্বিতীয় ও তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে। ভোলা জন্ম নিবন্ধনে অর্জন করেছে ৯৭ শতাংশ এবং মৃত্যু নিবন্ধনে ১১০ শতাংশ, গড় ১০৩ দশমিক ২ শতাংশ। অন্যদিকে বরগুনা জন্মে ৯৩ শতাংশ ও মৃত্যুর নিবন্ধনে ১০৫ শতাংশ পেয়ে অর্জন করেছে মোট গড় ৯৯ শতাংশ।

পটুয়াখালীর ধারাবাহিক এ অর্জনকে ‘উদাহরণযোগ্য’ উল্লেখ করে স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক জুয়েল রানা বলেন,
“জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধনে পটুয়াখালী এখন দেশের সামনে একটি কার্যকর মডেল। মাঠপর্যায়ে ইউপি, স্বাস্থ্য বিভাগ ও পরিসংখ্যান দপ্তরের সমন্বিত পরিকল্পনা এবং নিয়মিত মনিটরিংয়ের ফলেই এই সাফল্য এসেছে।”

তিনি আরও জানান, উন্নত প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থাপনা ও নিবিড় তদারকির মাধ্যমে জেলা প্রশাসন নিবন্ধন সেবাকে আরও গতিশীল করছে। বিশেষ করে মৃত্যু নিবন্ধনে ১৪০ শতাংশ অর্জন প্রমাণ করে তথ্য সংগ্রহ ও যাচাই-বাছাইয়ে পটুয়াখালীর দক্ষতা দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ অবস্থানে পৌঁছেছে।

অতীত রেকর্ড বিশ্লেষণে দেখা যায়, শুধু নভেম্বর নয়, ২০২৪ সালজুড়েই জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধনে পটুয়াখালী দেশের মধ্যে তৃতীয় এবং বরিশাল বিভাগের মধ্যে প্রথম স্থান ধরে রেখেছিল। বহু মাস জেলাটি সেরা দশের তালিকাতেও ছিল।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আশা, মাঠপর্যায়ে সেবা সহজীকরণ, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং দ্রুত সাড়া প্রদানের উদ্যোগ আরও উন্নত করা হলে পটুয়াখালী আগামী দিনেও দেশের নেতৃত্ব বজায় রাখতে পারবে।


আল-আমিন



পটুয়াখালী-২ আসনে বিএনপির চূড়ান্ত প্রার্থী শহিদুল আলম তালুকদার

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে পটুয়াখালী-২ (বাউফল) আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল–বিএনপি তাদের আনুষ্ঠানিক প্রার্থী হিসেবে শহিদুল আলম তালুকদারকে মনোনয়ন দিয়েছে।

বৃহস্পতিবার প্রকাশিত দলীয় মনোনয়ন তালিকায় তার নাম চূড়ান্তভাবে নিশ্চিত করা হয়। দলীয় সূত্র জানায়, এ আসনে বেশ কয়েকজন নেতা মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন, তবে কেন্দ্রীয় উচ্চপর্যায়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শেষ পর্যন্ত শহিদুল আলম তালুকদারকে নির্বাচনী দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

মনোনয়ন ঘোষণার পর বাউফল উপজেলা জুড়ে বিএনপি নেতাকর্মীদের মাঝে উৎসাহের পরিবেশ তৈরি হয়। অনেকে ফুল নিয়ে তার বাসায় গিয়ে শুভেচ্ছা জানান। স্থানীয় নেতারা মনে করছেন, এ সিদ্ধান্তে তৃণমূল BNP নতুনভাবে উজ্জীবিত হবে।

মনোনয়ন পাওয়ার প্রতিক্রিয়ায় শহিদুল আলম তালুকদার বলেন,
“দল আমাকে যে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দিয়েছে তা সর্বোচ্চ নিষ্ঠা, সততা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে পালন করবো। বাউফলের মানুষের অধিকার, উন্নয়ন এবং গণতান্ত্রিক প্রত্যাশা পূরণে আমি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”


আল-আমিন



মহিপুরে অটোরিকশা ছিনতাই: আন্তঃজেলা চক্রের ৭ সদস্য গ্রেফতার

পটুয়াখালীর মহিপুরে পর্যটক সেজে অটোরিকশা চালককে ছুরিকাঘাত ও বোরাক অটোগাড়ি ছিনতাইয়ের ঘটনাকে কেন্দ্র করে আন্তঃজেলা ছিনতাইচক্রের সাত সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ভোররাতের অন্ধকারে সংঘটিত এই নৃশংস ঘটনাটি শুধু স্থানীয় জনমনে আতঙ্কই ছড়ায়নি, বরং দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় থাকা একটি সংঘবদ্ধ চক্রের কার্যক্রমও উন্মোচিত করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

পুলিশ সুপার কার্যালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, গ্রেফতার ব্যক্তিরা পটুয়াখালী, বরগুনা, বরিশাল ও দুমকিসহ বিভিন্ন জেলার ছিনতাইচক্রের সদস্য। গ্রেফতাররা হলেন—মহিপুরের নাসির হাওলাদার, শাহীন হাওলাদার, বরগুনার জাকির হোসেন গাজী, বরিশালের লিটন আকন, পটুয়াখালী সদরের জসিম হাওলাদার, আবুল বাশার ও দুমকীর রাহাত হাওলাদার। তাদের মধ্যে রাহাতের বাড়ির আঙিনা থেকে উদ্ধার হয় ছিনতাই করা চারটি বোরাক অটোগাড়ি, যেগুলো বিভিন্ন সময় ছিনতাই করে রাখা হয়েছিল।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, গত ১ ডিসেম্বর রাত সাড়ে ৩টায় মহিপুরের লতাচাপলী ইউনিয়নের মম্বিপাড়া গ্রামের বেড়িবাঁধ এলাকায় চালক মুছাকে টার্গেট করে চক্রটি। পর্যটকের পরিচয় দিয়ে গাড়ি ভাড়া নেওয়ার পর একাধিক ব্যক্তি মুছার ওপর হামলা চালায়। তাকে প্রচণ্ড মারধর ও ছুরিকাঘাত করে রক্তাক্ত অবস্থায় ফেলে রেখে তারা অটোগাড়িটি নিয়ে পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মুছাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে।

ঘটনার পরপরই মহিপুর থানায় পেনাল কোড ৩৯৪ ধারায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। মামলার পর জেলা গোয়েন্দা শাখা ও মহিপুর থানা যৌথভাবে তদন্ত শুরু করে। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ, কল রেকর্ড ট্রেসিং, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা ও গোপন তথ্যের ভিত্তিতে মূল আসামিদের শনাক্ত করা হয়। পরদিনই পটুয়াখালী ও বরিশালের বিভিন্ন এলাকায় অভিযানে চক্রের ৭ সদস্যকে গ্রেফতার করে পুলিশ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা অপরাধে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে। গ্রেফতার নাসির আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছেন।

ভুক্তভোগী চালক মুছা জানান, তিনি তার বড় ভাইয়ের অটোগাড়িটি চালান। কুয়াকাটা চৌরাস্তায় অবস্থানকালে পর্যটকের পরিচয় দেওয়া এক ব্যক্তি তার নম্বর সংগ্রহ করে সূর্যোদয় দেখাতে নিয়ে যাওয়ার অনুরোধ জানায়। নির্ধারিত স্থানে পৌঁছানোর পরই তাকে মারধর ও ছুরিকাঘাত করা হয়।

তদন্তে বেরিয়ে এসেছে, চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন এলাকায় অটোগাড়ি ছিনতাই করে রং ও গঠন পরিবর্তন করে নতুনভাবে বিক্রি করত। এতে বহু চালক ক্ষতির শিকার হলেও অধিকাংশ ঘটনাই চক্রের সংগঠিত পরিকল্পনার কারণে গোপন থাকত।

পটুয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মোহাম্মদ সাজেদুল ইসলাম সজল জানান, মামলার তদন্ত চলমান আছে। চক্রটির সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কি না, তা যাচাই করা হচ্ছে। তিনি বলেন, অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে জেলা পুলিশ নিয়মিত অভিযানে রয়েছে এবং এ ধরনের চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




বেগম জিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য লন্ডনে নেওয়া হবে

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ : বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার কে আরো উন্নত চিকিৎসার জন্য আজ বৃহস্পতিবার মধ্যরাতের পরে অথবা আগামীকাল শুক্রবার ভোরে লন্ডনে নেওয়া হবে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুসারে তাঁকে লন্ডনে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার বেলা তিনটার আগে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে সাংবাদিকদের খালেদা জিয়ার চিকিৎসক জেড এম জাহিদ হোসেন কথা জানান।

বেলা তিনটার পরে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ব্রিফ করেন। তিনি জানান, আজ রাতের মধ্যেই কাতারের আমিরের পাঠানো এয়ার এম্বুলেন্স এখানে এসে পৌঁছাবে। কাল ভোরের মধ্যে খালেদা জিয়াকে নিয়ে এয়ার এম্বুলেন্স লন্ডন যাত্রা করবে।

এর আগে ব্রিফিংয়ে জাহিদ হোসেন বলেন, মেডিকেল বোর্ডের সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত এবং খালেদা জিয়ার বর্তমান শারীরিক অবস্থার ভিত্তিতে তাঁকে কাতার রয়্যাল এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে লন্ডনের একটি নির্ধারিত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

জাহিদ হোসেন বলেন, বিমানে যাতে যেকোনো প্রতিকূলতার মধ্যেও তাঁকে সুস্থভাবে চিকিৎসা দেওয়া যায়, সেই লক্ষ্যে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।

খালেদা জিয়ার বর্তমান শারীরিক পরিস্থিতি জানতে চাইলে জাহিদ হোসেন বলেন, মেডিকেল বোর্ডের পরামর্শের বাইরে কিছু চিন্তা করা হচ্ছে না। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের নিয়ে আজ তিনবার ভার্চ্যুয়ালি মিটিং করা হয়েছে। যুক্তরাজ্য চীনের চিকিৎসকেরা সশরীর দেখেছেন। তাঁদের সবার সঙ্গে সর্বশেষ আলোচনা হয়েছে।

১২ দিন ধরে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তাঁর শারীরিক অবস্থা অপরিবর্তিত রয়েছে বলে জানা গেছে। তাঁকে নিয়ে দেশের মানুষ উদ্বেগে রয়েছে।

এভারকেয়ার হাসপাতালের একটি সূত্র জানায়, অধ্যাপক শাহাবুদ্দিন তালুকদারের নেতৃত্বে দেশিবিদেশি বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে গঠিত মেডিকেল বোর্ডের অধীন খালেদা জিয়ার চিকিৎসা কার্যক্রম চলছে।

বিএনপির একটি সূত্র জানায়, খালেদা জিয়ার ফুসফুসে সংক্রমণের কারণে যে জটিলতা তৈরি হয়েছিল, সেটা কিছুটা উন্নতির দিকে। তবে হৃদ্যন্ত্রে জটিলতা রয়েছে। বাকি সমস্যাগুলো অনেকটাই অপরিবর্তিত।

গত ২৩ নভেম্বর রাতে শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে খালেদা জিয়াকে এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরীক্ষায় ফুসফুসে সংক্রমণ ধরা পড়ায় তাঁকে ভর্তি করা হয়। গত রোববার ভোরের দিকে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে এসডিইউ থেকে সিসিইউতে নেওয়া হয়।




গলাচিপায় ছাত্রদল ছাড়লেন শিপলু, যোগ দিলেন ছাত্র অধিকার পরিষদে

পটুয়াখালীর গলাচিপায় স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছেন মো. হাবিবুর রহমান শিপলু। দীর্ঘদিন ধরে রতনদি তালতলী ইউনিয়ন ছাত্রদলের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করা শিপলু হঠাৎ করেই সংগঠনটির পদ থেকে পদত্যাগ করে ছাত্র অধিকার পরিষদে যোগ দিয়েছেন। সোমবার (২ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় নিজের ফেসবুক আইডিতে একটি পোস্টের মাধ্যমে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানান তিনি।

তার ঘোষণায় উল্লেখ করেন, রাজনৈতিক মূল্যবোধ ও বিশ্বাসের জায়গা থেকেই তিনি ছাত্রদলের পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। ফেসবুক পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘আমি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করছি এবং নতুন রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির প্রতি আস্থার জায়গা থেকে ছাত্র অধিকার পরিষদে যোগ দিচ্ছি।’ তার এই বার্তা স্থানীয় রাজনীতিতে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

গলাচিপা উপজেলা ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি আরিফ বিল্লাহ শিপলুর যোগদান নিশ্চিত করে বলেন, শিপলু দীর্ঘদিন ছাত্রদলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, কিন্তু তিনি সাবেক ডাকসু ভিপি নুরুল হক নুরের রাজনৈতিক অবস্থানকে সম্মান করেন এবং তার বক্তব্য ও কর্মপদ্ধতি অনুসরণ করেই নতুন সংগঠনে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি আরও জানান, শিপলু তাদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করেছেন এবং আনুষ্ঠানিকভাবে ছাত্র অধিকার পরিষদে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন।

উল্লেখ্য, ২০২২ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি গলাচিপা উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক এম রুবেল দুর্জয় ও সদস্যসচিব সাব্বির আহম্মেদ প্রিতম স্বাক্ষরিত ৩১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটিতে শিপলুকে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছিল। সংগঠনের মধ্যে পরিচিত মুখ হিসেবে তিনি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।

নিজের সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে শিপলু জানান, নুরুল হক নুরের আন্দোলনমুখী রাজনীতি তাকে সবসময় অনুপ্রাণিত করেছে। তিনি মনে করেন, দেশের বিভিন্ন ইস্যুতে নুর সবসময় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। তার বক্তব্যে তিনি বলেন, “এটা কোনো চাপ বা মতবিরোধের ফল নয়। আমি আমার আদর্শিক অবস্থান থেকেই নতুন প্ল্যাটফর্মে এসেছি। বিশ্বাস করি, এখান থেকেই তরুণ সমাজের জন্য কাজ করতে পারবো।”

এদিকে ছাত্রদলের পক্ষ থেকে বিষয়টি নিয়ে কিছুটা ভিন্ন প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে। উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক এম রুবেল দুর্জয় বলেন, শিপলু আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করেছেন কিনা তিনি নিশ্চিত নন। তবে তার মন্তব্য অনুযায়ী, পারিবারিক প্রভাবও শিপলুর সিদ্ধান্তে ভূমিকা রাখতে পারে। কারণ তার বড় ভাই গণঅধিকার পরিষদের সঙ্গে সম্পৃক্ত।

শিপলুর এই সিদ্ধান্তকে কেউ দেখছেন আদর্শিক পরিবর্তন হিসেবে, কেউ দেখছেন রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন অধ্যায়ের সূচনা। তবে একথা নিশ্চিত যে, গলাচিপার স্থানীয় ছাত্ররাজনীতিতে এ ঘটনাটি এক নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




কুয়াকাটায় মহিলা দলের সম্মেলন জমজমাট

পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়া উপজেলায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মহিলা দল কুয়াকাটা পৌর শাখার দ্বিবার্ষিক সম্মেলন–২০২৫ প্রাণবন্ত পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে। মঙ্গলবার বিকেল ৩টায় কুয়াকাটার হোটেল গ্রেভার ইন-এর মিলনায়তনে আয়োজিত এ গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক সমাবেশে স্থানীয় নেতাকর্মীদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। মহিলা দলের কেন্দ্রীয় ও জেলা পর্যায়ের নেতারা সম্মেলনে যোগ দিয়ে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধি এবং দলীয় নারীনেত্রীদের ভূমিকা–এসব বিষয়ে দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।

সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক আলহাজ্ব এবিএম মোশাররফ হোসেন। তিনি দেশের সার্বিক রাজনৈতিক পরিবেশ, দলীয় সাংগঠনিক তৎপরতা এবং আগামী দিনের করণীয় বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন। পাশাপাশি তিনি মহিলা দলের নেত্রীদের প্রতি ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

পটুয়াখালী জেলা জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সভানেত্রী আফরোজা সীমা সম্মেলন উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি দলের নারী কর্মীদের মাঠে থেকে গণতান্ত্রিক আন্দোলনে সক্রিয় থাকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন জেলা মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক ফারজানা ইয়াসমিন রুমা, যিনি সংগঠনের তৃণমূল শক্তিকে আরও गतিশীল করার দিকনির্দেশনা দেন।

কুয়াকাটা পৌর মহিলা দলের সভাপতি মোসা. হামিদা সাবেরের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মোসা. সাবিনা ইয়াসমিনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এ সম্মেলনে রাজনৈতিক পরিবেশ ছিল উৎসবমুখর। সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কলাপাড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি হাজী হুমায়ুন সিকদার এবং কুয়াকাটা পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. মতিউর রহমান হাওলাদার। তারা মহিলা দলের ভূমিকাকে গুরুত্ব দিয়ে ভবিষ্যতে আরও সুসংগঠিত আন্দোলনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

সম্মেলনে বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনায় দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। নেতাকর্মীরা দেশনেত্রীর দ্রুত সুস্থতা ও দীর্ঘায়ুর জন্য বিশেষ প্রার্থনা করেন।

সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন কুয়াকাটা পৌর বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি আলহাজ্ব জসিম উদ্দিন বাবুল ভূঁইয়া, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. আলাউদ্দিন ঘরামী, যুবদলের সাধারণ সম্পাদক জহিরুল ইসলাম মিরন, স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আলী হায়দার শেখ, সদস্য সচিব রাসেল শেখ, শ্রমিক দলের সভাপতি মানিক ফকির, কৃষক দলের আহ্বায়ক আলী হোসেন খন্দকার, ছাত্রদলের আহ্বায়ক জুবায়ের আহম্মেদ রিয়াজ ও সদস্য সচিব নেছার উদ্দিনসহ বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মী।

সংশ্লিষ্ট নেতাদের মতে, নতুন কমিটির মাধ্যমে কুয়াকাটা পৌর মহিলা দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও জোরদার হবে এবং তৃণমূলে নারীদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ বৃদ্ধি পাবে। রাজনৈতিক নেতৃত্বে নারীর ভূমিকা শক্তিশালী করতে এ সম্মেলন নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন নেতারা।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার, দলে ফিরলেন পটুয়াখালীর ওয়াহিদ সরোয়ার কালাম

পটুয়াখালী জেলা বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট ওয়াহিদ সরোয়ার কালাম পুনরায় দলে ফিরেছেন। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গসহ বিভিন্ন অভিযোগের ভিত্তিতে তার ওপর দেয়া পূর্বের বহিষ্কারাদেশ সোমবার সন্ধ্যায় প্রত্যাহার করা হয়েছে। বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, অতীতে বিভিন্ন বিতর্কিত কর্মকাণ্ড ও অভিযোগের কারণে তাকে বিএনপির প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব পর্যায়ের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে দলীয় সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আবেদন করেন। তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিষয়টি কেন্দ্রীয় পর্যায়ে পুনর্মূল্যায়ন করা হয়। দীর্ঘ আলোচনার পর তার ওপর দেওয়া বহিষ্কারের শাস্তি প্রত্যাহার করে তাকে আবারও বিএনপির প্রাথমিক সদস্য হিসেবে ফিরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত জানায় কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, দলীয় অভিন্ন অবস্থান এবং সংগঠনকে আরও সুসংগঠিত করার লক্ষ্যে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দল মনে করে, আগামীর রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় অভিজ্ঞ নেতাদের সম্পৃক্ততা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সেই ধারাবাহিকতায় অ্যাডভোকেট ওয়াহিদ সরোয়ার কালামের পুনর্বহাল সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে এ সিদ্ধান্ত নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, দীর্ঘ অভিজ্ঞতার এই নেতা মাঠে ফেরায় পটুয়াখালী জেলা বিএনপির সাংগঠনিক কার্যক্রম গতিশীল হবে। তবে কেউ কেউ বলছেন, তার আগের বিতর্কগুলো সামনে এসে আবারও রাজনৈতিক পরিবেশকে প্রভাবিত করতে পারে। সব মিলিয়ে স্থানীয় নেতাকর্মীদের মাঝে বিষয়টি নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।

দলীয় নেতাদের ভাষ্যমতে, পুনর্বহালের পর ওয়াহিদ সরোয়ার কালাম নিয়মিত সাংগঠনিক কার্যক্রমে অংশ নেবেন এবং জেলা বিএনপির বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকা রাখবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম