উপাচার্য অপসারণের দাবিতে ববি শিক্ষার্থীদের সড়ক অবরোধ

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. শুচিতা শরমিনের অপসারণের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন আরও বিস্তৃত রূপ নিয়েছে। মঙ্গলবার (১৩ মে) বিকেল ৫টায় বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়ক অবরোধ করেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। ফলে উভয় পাশে শতাধিক যানবাহন আটকে পড়ে এবং যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন।

এর আগে সোমবার (১২ মে) রাত থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রাউন্ড ফ্লোরে আমরণ অনশনে বসেছেন ১১ জন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে পাঁচজন শিক্ষার্থী শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। আন্দোলনের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম সম্পূর্ণভাবে বন্ধ রয়েছে।

আন্দোলনের কারণ ও বক্তব্য:
আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, উপাচার্যের স্বৈরাচারী ও একনায়কতান্ত্রিক আচরণের কারণে তারা বাধ্য হয়ে কঠোর কর্মসূচিতে নেমেছেন। আন্দোলনের নেতৃত্বে রয়েছেন ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের রবিউল ইসলাম, আইন বিভাগের ওয়াহিদুর রহমান ও শওকত ওসমান স্বাক্ষর, এবং কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের রায়হান ও ইমন হাওলাদার।

শিক্ষার্থী সুজয় শুভ বলেন,

“উপাচার্যকে আমরা অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছি। তিনি আন্দোলনের সময় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কোনো আলোচনা না করে হঠাৎ ফেসবুক লাইভে এসে মন্তব্য করেছেন। তাই আমরা দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাব।”

অনশনরত শিক্ষার্থী মোকাব্বেল শেখ বলেন,”আমরা যৌক্তিক দাবি আদায়ের জন্যই অনশনে বসেছি। দাবি পূরণ না হলে আমরা ফিরে যাব না।”

মহাসড়ক অবরোধের ফলে বরিশাল-কুয়াকাটা রুটে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। যাত্রীরা অসহ্য গরমে দীর্ঘ সময় অপেক্ষায় থাকতে বাধ্য হন।

কলাপাড়াগামী যাত্রী ইয়াসিন মিয়া বলেন,”গরমে দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে হাঁপিয়ে উঠেছি। বাস চলছে না, তীব্র কষ্টে আছি।”

এ অবস্থায় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্টদের দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি আরও সংকটময় হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /

 




২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপ: কোহলি-রোহিত কি খেলবেন?’




পটুয়াখালীতে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রনেতা সিফাত গ্রেফতার

পটুয়াখালী জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহসম্পাদক এবং বর্তমানে নিষিদ্ধ ঘোষিত একটি সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত আমিনুর রহমান সিফাতকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (১৩ মে) রাতের আঁধারে পৌর শহরের বড় চৌরাস্তা এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। এ যৌথ অভিযানে অংশ নেয় জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ ও সদর থানা পুলিশ।

পটুয়াখালী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইমতিয়াজ আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মোহাম্মদ ইউনুসের কুশপুত্তলিকা পোড়ানোর ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে।”

গ্রেফতারকৃত সিফাতকে দুপুরে আদালতে পাঠানো হবে বলে জানান তিনি।

মো: আল-আমিন, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম।



কলাপাড়ায় সাগর থেকে অবৈধভাবে আহরণকৃত ১২ মণ মাছ জব্দ

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় সাগর থেকে অবৈধভাবে আহরণ করা সাড়ে ১২ মণ সামুদ্রিক মাছ জব্দ করেছে পায়রা বন্দরের কোস্টগার্ড। সোমবার (১২ মে) বিকেলে পৌর শহরের লঞ্চঘাট এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়।

জব্দকৃত মাছের মধ্যে ছিল পাঁচ মণ লইট্টা, তিন মণ ডাডি, তিন মণ টাইগার চিংড়ি ও দেড় মণ পোয়া। কোস্টগার্ড সূত্র জানায়, রাঙ্গাবালী উপকূলীয় এলাকা থেকে মাছগুলো সংগ্রহ করে ঢাকায় পাচারের জন্য কলাপাড়ায় আনা হচ্ছিল। জব্দকৃত মাছের বাজারমূল্য প্রায় এক লাখ টাকা বলে অনুমান করা হচ্ছে।

সরকার ১৫ এপ্রিল থেকে ১১ জুন পর্যন্ত সমুদ্র ও উপকূলীয় অঞ্চলে মাছ ধরা, পরিবহন ও বিপণনের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। এ বিষয়ে কলাপাড়ার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইয়াসীন সাদেক বলেন, “ইলিশসহ সামুদ্রিক মাছের প্রজনন ও উৎপাদন বাড়াতে প্রতিবছর ৫৮ দিনের এই নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। কিন্তু কিছু অসাধু চক্র তা অমান্য করে মাছ শিকার করে চলেছে।”

তিনি আরও জানান, “জব্দকৃত মাছগুলো স্থানীয় এতিমখানা, মাদ্রাসা ও হতদরিদ্রদের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে। নিষেধাজ্ঞা কার্যকরে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে এবং আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

প্রশাসনের পক্ষ থেকে সকল জেলেদের প্রতি নিষেধাজ্ঞা মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে, অন্যথায় আইনানুগ ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে।

মো: আল-আমিন, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম।

 




রমনা বোমা হামলা মামলা : ২ জনের যাবজ্জীবন, অন্যদের ১০ বছর সাজা




মহিপুরে নদী থেকে অজ্ঞাত যুবকের মরদেহ উদ্ধার

পটুয়াখালীর মহিপুরে বড়ইতলা নদী থেকে অজ্ঞাত এক যুবকের (বয়স আনুমানিক ৩৫) মরদেহ উদ্ধার করেছে কুয়াকাটা নৌ-পুলিশ। মঙ্গলবার (১৩ মে) দুপুর ১১টার দিকে ডালবুগঞ্জ ইউনিয়নের মেহেরপুর গ্রামের বড়ইতলা নদীতে ভাসমান অবস্থায় মরদেহটি দেখা যায়।

প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয়রা জানান, নদীতে একটি মরদেহ ভাসতে দেখে দ্রুত পুলিশে খবর দেওয়া হয়। এরপর কুয়াকাটা নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির একটি দল এসে মরদেহটি উদ্ধার করে।

পুলিশ জানায়, মরদেহের পরনে ছিল কেবল একটি কালো প্যান্ট। মরদেহে পঁচন ধরেছে এবং শরীরের বিভিন্ন অংশ বিকৃত হয়ে গেছে। স্থানীয়দের ধারণা, upstream এর খাপড়াভাঙ্গা নদী থেকে মরদেহটি কাটাভারানী খাল হয়ে ভেসে বড়ইতলা নদীতে এসে পৌঁছেছে।

এ বিষয়ে কুয়াকাটা নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ইন্সপেক্টর বিকাশ মন্ডল বলেন, “ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। মরদেহটি উদ্ধার করে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। মৃত্যুর কারণ জানতে তদন্ত চলছে।”

এখনও মৃত ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত হয়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ। স্থানীয় থানায় একটি অপমৃত্যু (UD) মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

মো: আল-আমিন, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম।



ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রর নতুন নিষেধাজ্ঞা




গলাচিপায় অচল মা ও শিশু হাসপাতাল চালুর দাবিতে মানববন্ধন

দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসাসেবা বন্ধ থাকা পটুয়াখালীর গলাচিপা পৌর শহরের ১০ শয্যাবিশিষ্ট মা ও শিশু হাসপাতালটি চালুর দাবিতে মানববন্ধন করেছে এলাকাবাসী। সোমবার (১২ মে) সকাল ৯টায় হাসপাতালের সামনের সড়কে সর্বস্তরের জনগণের অংশগ্রহণে আয়োজিত হয় এই মানববন্ধন।

এই কর্মসূচিতে অংশ নেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী, সাংবাদিক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, নারী, বৃদ্ধসহ সাধারণ মানুষ। বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী ও যুব সমাজের প্রতিনিধি শাহ জুবায়ের আব্দুল্লাহ, পটুয়াখালী সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী মাহমুদুল হাসান রুবেল, স্থানীয় বাসিন্দা মো. নজরুল ইসলাম, মোসা. রেখা বেগম ও মো. নবীন হোসেন।

বক্তারা বলেন, গলাচিপা নদীবেষ্টিত ও জনবহুল একটি পৌরসভা হলেও মা ও শিশুদের জন্য স্থাপন করা এই হাসপাতালটি দীর্ঘদিন ধরে অচল অবস্থায় পড়ে আছে। বিশেষ করে অন্তঃসত্ত্বা মায়েদের জন্য এটি একটি অপরিহার্য স্বাস্থ্যকেন্দ্র হলেও সেখানে চিকিৎসক নেই, ওষুধ নেই, নেই সেবাও। ফলে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে বরিশাল বা পটুয়াখালী শহরে ছুটতে হয় চিকিৎসার জন্য। মাঝপথেই ঘটছে সন্তান প্রসব ও মৃত্যুর মতো মর্মান্তিক দুর্ঘটনা।

সেবাগ্রহীতাদের অভিযোগ, সেবা নিতে এসে চিকিৎসক না পেয়ে হতাশ হয়ে ফিরে যেতে হয়। নার্সদের অসদাচরণ ও রোগীদের প্রাইভেট ক্লিনিকে পাঠিয়ে দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

হাসপাতালটি নির্মাণ করা হয় ৫২ শতক জমির ওপর, যার ব্যয় ধরা হয় প্রায় ৪ কোটি ৯৩ লাখ টাকা। রয়েছে আধুনিক সব সুবিধা—দ্বিতল ভবন, অপারেশন থিয়েটার, ডক্টর ডরমেটরি, গভীর নলকূপ, সার্বক্ষণিক বিদ্যুৎ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা। কিন্তু অভ্যন্তরে নেই প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও জনবল।

২০২১ সালে নির্মাণকাজ শেষ হলেও আজও আনুষ্ঠানিকভাবে এটি চালু হয়নি। উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মহিউদ্দিন হাসান রুম্মান বলেন, জনবল সংকটের কারণে পূর্ণাঙ্গ সেবা চালু করা যাচ্ছে না। বর্তমানে ছয়জন ইউনিয়ন স্টাফ দিয়ে সীমিত সেবা দেওয়া হচ্ছে। তিনি জানান, একজন এমবিবিএস চিকিৎসক ছিলেন, তিনিও গত নভেম্বরে বদলি হয়ে গেছেন।

বর্তমানে মাত্র দুইজন এফডব্লিউভি সপ্তাহের পাঁচদিন সকাল সাড়ে ৯টা থেকে বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত সেবা দিয়ে থাকেন। প্রয়োজনীয় জনবল ও সরঞ্জামের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে বলে জানান তিনি।

এদিকে পটুয়াখালী জেলা পরিবার পরিকল্পনা উপপরিচালক মো. শহীদুল ইসলাম বলেন, জনবল সংকটের কথা মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়েছে এবং বিষয়টি সমাধানে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে। তবে স্থানীয়দের দাবি, শুধু আশ্বাস নয়, দ্রুত হাসপাতালটি চালুর ব্যবস্থা নিতে হবে, যাতে এলাকার মা ও শিশুরা প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত না হয়।

মো: আল-আমিন, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম।



বাউফলে প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষকদের বেতন বন্ধ, মানবেতর জীবনযাপন

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় প্রাক-প্রাথমিক পর্যায়ের শিক্ষকদের দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে বেতন-ভাতা বন্ধ রয়েছে। ফলে পরিবার-পরিজন নিয়ে চরম কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন এই শিক্ষকরা। কেউ কেউ দোকানে বাকি করছেন, কেউবা ধার করে চলছেন। শিক্ষা খাতে এমন অব্যবস্থাপনা নিয়ে শিক্ষকদের মধ্যে চরম হতাশা বিরাজ করছে।

জানা গেছে, বাউফলে মোট ২৩৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ১০৯ জন শিক্ষক ২০২৩ সালে প্রাক-প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পান। শুরুতে নিয়মিত বেতন পেলেও গত মার্চ ও এপ্রিল মাস থেকে তারা কোনো বেতন পাচ্ছেন না। চলতি মাসে আদৌ কোনো বেতন আসবে কিনা, সে নিয়েও অনিশ্চয়তায় ভুগছেন তারা।

শিক্ষকরা অভিযোগ করেছেন, ৪র্থ প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি (পিইডিপি-৪) এর অধীনে জানুয়ারি থেকে জুন মাস পর্যন্ত বেতন-ভাতা বরাদ্দের কথা থাকলেও বাউফলে এখনও সেই অর্থ পৌঁছায়নি। বিষয়টিকে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার অবহেলা ও অদক্ষতা বলেই মনে করছেন তারা।

একাধিক শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, নিয়মিত বেতন না পাওয়ায় আমাদের পরিবারের ভরণ-পোষণ কঠিন হয়ে উঠেছে। এভাবে চলতে থাকলে শিক্ষকতা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে না।

অপরদিকে, পার্শ্ববর্তী উপজেলার শিক্ষকরা নিয়মিত বেতন পাচ্ছেন বলে জানা গেছে। দশমিনা উপজেলার ৫৭ নম্বর কাউনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রাক-প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক শান্তনা রানী ঘোষ জানান, তাদের উপজেলায় নিয়মিত মাসের শুরুতেই বেতন চলে আসে। অথচ বাউফলে চিত্র পুরো উল্টো।

এ বিষয়ে বাউফল উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আতিকুল ইসলাম বলেন, বরাদ্দ ঘাটতির কারণে বেতন দেওয়া যাচ্ছে না। আমরা বিষয়টি অধিদপ্তরে জানিয়েছি। বরাদ্দ পেলেই দ্রুত বেতন পরিশোধ করা হবে।

শিক্ষকদের মতে, বেতন বন্ধ থাকাটা শুধুমাত্র একটি প্রশাসনিক ব্যর্থতা, যার ফল ভোগ করতে হচ্ছে পরিবারসহ অসংখ্য শিক্ষককে। সরকারের পক্ষ থেকে দ্রুত পদক্ষেপ না নেওয়া হলে শিক্ষাক্ষেত্রে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে—এমনটাই আশঙ্কা করছেন সচেতন মহল।

মো: আল-আমিন, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম।



দশমিনায় গলদা রেণু পাচার, জনতার বাধায় উদ্ধার

পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নের লঞ্চঘাট এলাকায় সোমবার সকালে স্থানীয় জনতার তৎপরতায় আটক হয় ট্রাকভর্তি অবৈধ গলদা রেণু। প্রায় ৩০ লাখ টাকার বেশি মূল্যের এসব রেণু পাচারের সময় সাধারণ মানুষ ট্রাকটি আটকে ফেলে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ৫২ ড্রাম গলদা রেণু জব্দ করে এবং সেগুলো তেঁতুলিয়া নদীতে অবমুক্ত করে। পরে ট্রাকটি থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।

স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে এই ঘাট ব্যবহার করে গোপনে খুলনা ও বাগেরহাটের দিকে রেণু পাচার হচ্ছিল। এলাকাবাসীর অভিযোগে উঠে আসে স্থানীয় কিছু রাজনৈতিক নেতার সংশ্লিষ্টতার কথাও। অভিযোগ রয়েছে, ছাত্রদল নেতা রাজীব একটি ট্রাক ছাড়িয়ে দেওয়ার শর্তে এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ১৩ হাজার ৫০০ টাকা নেন। অভিযুক্ত রাজীব অবশ্য দাবি করেছেন, তিনি টাকা চেয়েছেন না, ব্যবসায়ী নিজ থেকেই বিকাশে পাঠিয়েছেন।

একই ঘটনায় যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ইয়াসিন আলী খান এবং ছাত্রদলের আহ্বায়ক কাজী তানজিল আহমেদ রিডেনের নামও উঠে এসেছে। তবে তারা রেণু পাচারের সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ততা অস্বীকার করেছেন।

দশমিনা থানার ওসি মোহাম্মদ আবদুল আলিম জানান, সকালে ৯৯৯ নম্বরে কল পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মৌখিক নির্দেশে মুচলেকা নিয়ে ট্রাকটি ছেড়ে দেওয়া হয়।

স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে গলদা রেণু পাচার হচ্ছিল। এবার জনসচেতনতায় পাচার রোধ সম্ভব হয়েছে, তবে ভবিষ্যতে প্রশাসনের আরও সক্রিয় নজরদারি জরুরি।


আল-আমিন