আওয়ামী লীগের নাম মুখেও নেবো না: দশমিনায় চেয়ারম্যান আবদুল আজিজ মিয়ার পদত্যাগ

পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার রনগোপালদী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বর্তমান ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল আজিজ মিয়া রাজনৈতিক জীবনের বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি আওয়ামী লীগের সকল পদ থেকে পদত্যাগ করে ঘোষণা দিয়েছেন—“আর কখনো আওয়ামী লীগের নাম মুখেও নেবো না।”

বুধবার (১৪ মে) ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই ঘোষণাটি দেন। পদত্যাগের কারণ হিসেবে তিনি শারীরিক অসুস্থতার কথা উল্লেখ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে আবদুল আজিজ মিয়া বলেন, “আমি দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। তবে শারীরিক অসুস্থতার কারণে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতির পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আজ থেকে আমার সঙ্গে আওয়ামী লীগের কোনো সম্পর্ক নেই।”

স্থানীয় রাজনৈতিক সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালের ২৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীক নিয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন আবদুল আজিজ মিয়া। তিনি দীর্ঘদিন দলীয়ভাবে সক্রিয় ছিলেন এবং স্থানীয় রাজনীতিতে প্রভাবশালী হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

তবে জানা যায়, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে ঘটে যাওয়া গণঅভ্যুত্থানের সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশত্যাগের পর আবদুল আজিজ মিয়াও কিছু সময়ের জন্য আত্মগোপনে ছিলেন। পরে এলাকায় ফিরে আবার চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন শুরু করেন। বিভিন্ন সময় অসুস্থতার অজুহাতে ঢাকায় অবস্থান করতেন বলেও স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা রয়েছে।

এই পদত্যাগকে কেন্দ্র করে দশমিনার রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়েছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



উপদেষ্টা মাহফুজকে বোতল নিক্ষেপ, হতাশ উপদেষ্টা আসিফ




বাংলাদেশিদের সঙ্গে সৌদির মালিকদের নিষ্ঠুর আচরণ

(১৪ মে) এক প্রতিবেদনে মানবাধিকার বিষয়ক সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ এবং ফেয়ার স্কয়ার জানিয়েছে,
সৌদি আরবে কাজ করতে গিয়ে প্রাণ হারাচ্ছেন বাংলাদেশ, ভারত ও নেপালিরা। তবে চাইলে এসব মৃত্যু হয়ত এড়ানো যেত। কিন্তু সৌদির মালিক ও চাকরিদাতাদের খামখেয়ালিতে ঝরে যাচ্ছে এসব প্রাণ। বিশেষ করে বিদ্যুতায়িত হয়ে, সড়ক দুর্ঘটনায় এবং উঁচু স্থান থেকে পড়ে এসব মৃত্যু হচ্ছে। বুধবার

তারা এসব মানুষের মৃত্যুর বিস্তারিত তদন্ত করেছে। যেখানে এসব মৃত্যুর পেছনে অবহেলা পাওয়া গেছে।

এরমধ্যে এক বাংলাদেশির মৃত্যু সম্পর্কে আলাদাভাবে জানিয়েছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ। সংস্থাটি বলেছে, কর্মক্ষেত্রে এক বাংলাদেশি বিদ্যুতায়িত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন। কিন্তু তার সৌদি মালিক, যার প্রতিষ্ঠানে তিনি কাজ করতেন, সেই মালিক তার মরদেহ আটকে রেখেছিলেন। তিনি ওই বাংলাদেশির পরিবারকে বলেছিলেন, যদি তার মরদেহ নিজ বাড়িতে নিয়ে দাফন করা হয়। শুধুমাত্র তখনই তাদের ক্ষতিপূরণ দেবেন তিনি।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচ জানিয়েছে, যেসব প্রবাসী মারা গেছেন তাদের মৃত্যুর কারণ নিয়েও ভুল তথ্য দিয়েছে সৌদির মালিকরা। তারা মৃত্যুর কারণ তদন্ত করতে দেননি, এতে করে পরিবারগুলো সৌদির আইন অনুযায়ী যে ক্ষতিপূরণ পেত সেটি থেকে বঞ্চিত হয়েছে। এছাড়া প্রিয়জন সৌদিতে কাজ করতে গিয়ে কীভাবে মারা গেল সেটিও এসব পরিবার জানতে পারেননি।

অপর একটি পরিবার জানিয়েছে, সৌদির সরকার থেকে আত্মীয়ের মৃত্যুর ক্ষতিপূরণ পেতে তাদের ১৫ বছর অপেক্ষা করতে হয়েছে।

সৌদি আরব ২০৩৪ সালে ফিফা বিশ্বকাপ আয়োজন করবে। আর বিশ্বকাপের জন্য নতুন নতুন স্টেডিয়ামসহ অনেক বড় বড় অবকাঠামো তৈরি করবে তারা। এগুলোতে কাজ করতে গিয়ে আরও অনেক বাংলাদেশি, ভারতীয় আর নেপালি মারা যাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এমন সময় এ প্রতিবেদন প্রকাশ করল সংস্থা দুটি।

সৌদি ভিশন ২০৩০ বাস্তবায়ন করতে গিয়ে শ্রমিকদের ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত করেছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচের গ্লোবাল ইনিশিয়েটিভের পরিচালক মিনকি ওর্ডেন বার্তাসংস্থা এপিকে বলেছেন, শ্রমিকদের সাধারণ নিরাপত্তার বিষয়টি সৌদি এবং ফিফাকে নিশ্চিত করতে হবে এবং এ বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি জানিয়েছেন, কাতার যখন বিশ্বকাপ আয়োজনের প্রস্তুতি নেয় তখনও এমন অনেক মৃত্যু ঘটেছিল। তবে কাতার ফিফার অবকাঠামো নির্মাণস্থল এবং অনিরাপদ কর্ম পরিবেশের বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করতে একটি সুপ্রিম কমিটি তৈরি করেছিল। এছাড়া কাতার জীবন বীমা এবং গরম থেকে শ্রমিকদের রক্ষার পদক্ষেপ নিয়েছিল। কিন্তু সৌদিতে এমন কোনো পদক্ষেপই নেয়নি।




সেতু আছে, রাস্তা নেই! মই বেয়ে পারাপারে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন হাজারো মানুষ

দেড় কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সেতু, কিন্তু দুই পাশে সংযোগ সড়ক না থাকায় ব্যবহারকারীদের প্রতিদিন পার হতে হচ্ছে মই বেয়ে! ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার গালুয়া ইউনিয়নে এমনই একটি অব্যবস্থাপনার চিত্র স্থানীয়দের ভোগান্তির প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে।

গালুয়া ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রের পাশে অবস্থিত এই সেতু দিয়ে প্রতিদিন অন্তত দুই হাজার মানুষ যাতায়াত করে। এর মধ্যে রয়েছে স্কুল শিক্ষার্থী, রোগী ও সাধারণ জনগণ। কিন্তু সেতুর দুই পাশে সংযোগ সড়ক না থাকায় তাদের চরম দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা আমিনুল ইসলাম বলেন,“সেতু থাকলেও কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। গত দুই বছর ধরে মই বেয়ে পার হচ্ছি। রোগী, শিশুরা সবচেয়ে বেশি কষ্ট পাচ্ছে।”

আবদুর রাজ্জাক নামে আরেক বাসিন্দা বলেন,“গাড়ি তো দূরের কথা, অ্যাম্বুলেন্সও যেতে পারে না। রোগীদের হাসপাতাল পর্যন্ত নিতে হিমশিম খেতে হয়।”

স্থানীয় যুবক তৌহিদুল ইসলাম জানান,“যেহেতু আগের ঠিকাদার কারাগারে, তাই দ্রুত নতুন দরপত্র আহ্বান করে সংযোগ সড়ক নির্মাণ করতে হবে।”

এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, ২০২২ সালে এই প্রকল্পের কাজ শুরু হয় ১ কোটি ৬৯ লাখ টাকা ব্যয়ে। ঠিকাদার ছিলেন ঝালকাঠি জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও যুবলীগ নেতা সৈয়দ হাদিসুর রহমান মিলন। বর্তমানে তিনি অস্ত্র মামলায় ১৪ বছরের সাজাপ্রাপ্ত হয়ে কারাগারে আছেন। ঠিকাদার গ্রেফতার হওয়ার পর কাজ থমকে যায় এবং সংযোগ সড়ক নির্মাণ হয়নি।

রাজাপুর উপজেলা প্রকৌশলী অভিজিৎ মজুমদার জানান,“দ্রুত নতুন করে দরপত্র আহ্বান করা হবে। আগামী দেড় মাসের মধ্যে সংযোগ সড়কের কাজ শুরুর পরিকল্পনা রয়েছে।”

এদিকে ঝালকাঠি এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শহিদুল ইসলাম সরকার জানান,“বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। খুব দ্রুত সমস্যার সমাধান করা হবে।”

অব্যবস্থাপনা ও দেরির কারণে একদিকে যেমন সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার হয়নি, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের চলাচলে প্রতিদিন যোগ হচ্ছে ঝুঁকি ও দুর্ভোগ।


এস এল টি / চন্




ঘুষ কম দেয়ায় মারধর, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ভুক্তভোগীর মাথা ফাটানো

বরিশালে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের মহফেজখানায় ভয়াবহ দুর্নীতি ও নির্যাতনের চিত্র সামনে এসেছে। ঘুষ কম দেয়ায় এক সেবা প্রত্যাশীকে মারধর করে মাথা ফাটিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে অফিস সহকারী আলাউদ্দিন মিয়ার বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে বুধবার (১৪ মে) দুপুরে।

আহত ব্যক্তি আলমগীর হোসেন, নগরীর রূপাতলী এলাকার বাসিন্দা আব্দুল হাকিমের ছেলে। তিনি জানান, জমির পর্চা তুলতে গেলে দপ্তরের কর্মচারী আলাউদ্দিন তার কাছে ২ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেন। কিন্তু তিনি মাত্র ২০০ টাকা দিতে চাইলে আলাউদ্দিন ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে মারধর করেন। একপর্যায়ে আঘাতে আলমগীরের মাথা ফেটে যায়। পরে উপস্থিত লোকজন তাকে উদ্ধার করে কাছাকাছি একটি ফার্মেসিতে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন।

মহফেজখানার রেকর্ড কিপার জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, অভিযুক্ত আলাউদ্দিন মিয়া তিন মাস আগে অবসরে গেছেন, তবে অনুমতি নিয়ে এখনো রেকর্ড রুমে কাজ করে যাচ্ছেন। যদিও অবসরে যাওয়া একজন কর্মচারী কীভাবে নিয়মিত অফিস করেন, সে বিষয়ে জাহাঙ্গীর কোনো পরিষ্কার ব্যাখ্যা দিতে পারেননি।

অভিযোগ উঠেছে, দীর্ঘদিন একই দপ্তরে থাকার সুবাদে আলাউদ্দিন মিয়া ও রেকর্ড কিপার জাহাঙ্গীর মিলে গোপন নথিপত্রের অপব্যবহার করে অবৈধ বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছেন। এসব গোপন কাগজপত্রের মাধ্যমে নানা ধরনের ঘুষ ও দুর্নীতির অভিযোগ স্থানীয়দের মাঝেও ব্যাপকভাবে আলোচিত।

দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী কমিশনার (মহফেজখানা) তাসফিয়া কবির ঐশী বলেন,

“এ বিষয়ে আমার জানা ছিল না। ঘটনা সম্পর্কে খোঁজ নিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

ঘটনার পর অভিযুক্ত আলাউদ্দিন মিয়া অফিস থেকে পালিয়ে যান, ফলে তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা না নেওয়া হলে এমন ঘটনা পুনরায় ঘটার আশঙ্কা করছেন সচেতন মহল।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




বাম্পার ফলনে কৃষকের মুখে হাঁসি, আগৈলঝাড়ায় ধানের স্বর্ণালী মৌসুম

বরিশালের আগৈলঝাড়ায় বোরো ধানের বাম্পার ফলনে কৃষকদের মাঝে উৎসবের আমেজ বইছে। চলতি মৌসুমে সঠিক কৃষি পরামর্শ, উন্নত বীজ ও সারের ব্যবহার এবং অনুকূল আবহাওয়ার কারণে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়েছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা।

সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মাঠে চলছে ধান কাটার উৎসব। উপজেলার লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৯৫০০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ, কিন্তু চাষ হয়েছে ৯৫১০ হেক্টরে। এতে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ৬৫ হাজার মেট্রিক টন থাকলেও ফলন ধরা হচ্ছে প্রায় ৬৮ হাজার মেট্রিক টন চাল। মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, প্রায় ৭৫ শতাংশ জমির ধান ইতোমধ্যে কাটা শেষ, আর বাকি ধান কাটার কাজ শেষ হবে ২৩ মে’র মধ্যে।

ব্রি ধান-২৮, ২৯, ৮৮, ৮৯, ৯২, ৯৬, ১০০, ১০১ এবং বিনা-২৫ সহ বিভিন্ন উচ্চ ফলনশীল জাতের ধানের চাষ করা হয়েছে। এই ধানগুলোতে ভালো ফলন হওয়ায় কৃষকের মুখে এখন হাসি।

স্থানীয় কৃষক আজাহার জানান,“সেচে কিছুটা সমস্যা হলেও ফলন ভালো হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে সব ধান সময়মতো ঘরে তুলতে পারবো। বাজারে দাম ভালো পাব বলে আশা করছি।”

কৃষক আবু ফজল বখতিয়ার বলেন,“ফলন ভালো হয়েছে, তবে শ্রমিক সংকট ও মজুরি বেশি হওয়ায় কিছুটা ব্যয় বেড়েছে। তবুও লাভ থাকবে।”

নারী কৃষক মাহমুদা বেগম বলেন,“দুই বিঘা জমিতে ধান লাগিয়ে এবার খুব খুশি। গরম ও শ্রমিক সংকট থাকলেও ধান ভালো হয়েছে। দাম ভালো পেলে পরের বছর আরও জমিতে চাষ করবো।”

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা পিযূষ রায় বলেন, “কৃষকদের মাঝে সরকারি প্রণোদনার আওতায় বিনামূল্যে বীজ, সার, কীটনাশক বিতরণ করা হয়েছে। খালে পানি না থাকায় কিছু এলাকায় সেচে সমস্যা হয়েছিল। ফলে কিছু জমিতে ব্লাস্ট রোগ দেখা দেয়, তবে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ায় ক্ষতি কম হয়েছে। কৃষি যন্ত্রপাতি সহজলভ্য হলে উৎপাদন আরও বাড়বে।”

সব মিলিয়ে আগৈলঝাড়ায় বোরো মৌসুম কৃষকদের জন্য বয়ে এনেছে স্বস্তি, সফলতা এবং সম্ভাবনা।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




মহাসড়কের পাশে ময়লার স্তুপ, অপসারণের দাবি এলাকাবাসীর

পটুয়াখালী-কুয়াকাটা মহাসড়কের আমতলীর উতশিতলা এলাকায় খোলা স্থানে পৌরসভার ময়লা ফেলার কারণে পরিবেশ চরমভাবে দূষিত হয়ে পড়েছে। দুর্গন্ধে স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারীদের জীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। দ্রুত ময়লার স্তুপ অপসারণের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

বিগত তিন মাস ধরে আমতলী পৌরসভা মহাসড়কের পাশে খোলা জায়গায় নিয়মিতভাবে ময়লা ফেলছে। এতে করে সড়কপথে চলাচলরত কয়েক হাজার যানবাহনের যাত্রীসহ পাশের বসবাসরত গ্রামবাসীরা প্রতিনিয়ত দুর্গন্ধের শিকার হচ্ছেন।

১৯৯৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হলেও এখনো আধুনিক ডাম্পিং স্টেশন নির্মাণ করতে পারেনি আমতলী পৌরসভা। ফলে মাঝে মধ্যেই নদী বা জনবহুল এলাকার পাশে ময়লা ফেলা হয়। বর্তমানে যত্রতত্র ময়লা ফেলার কারণে রোগবালাই ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা লিটন গাজী ও রাসেল মৃধা বলেন, “বাড়ির আশপাশে দুর্গন্ধে বসবাস করা দুঃসহ হয়ে উঠেছে।”
বাসযাত্রী জিয়া উদ্দিন জুয়েল ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “প্রথম শ্রেণির পৌরসভা হয়েও আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নেই, এটা দুঃখজনক।”

পৌর প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. মামুনুর রশিদ বলেন, “ময়লা ফেললে দুর্গন্ধ হবেই। ডাম্পিং স্টেশন করতে হলে ৮-১০ কোটি টাকার প্রয়োজন, কিন্তু তহবিল নেই।”
বর্জ্য ব্যবস্থাপনা পরিদর্শক জানান, প্রতিদিন ব্লিচিং পাউডার ছিটানো হলেও দুর্গন্ধ ঠেকানো যাচ্ছে না।

পরিবেশ কর্মী হাইরাজ মাঝি বলেন, “বাতাসে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে রোগ ছড়ানোর ঝুঁকি বাড়ছে, দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে।”
উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. চিন্ময় হাওলাদার বলেন, “এভাবে ময়লা ফেলা বায়ুবাহিত রোগের ঝুঁকি তৈরি করছে।”

আমতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক মো. রোকনুজ্জামান খাঁন জানান, “ময়লার বিষয়টি নিয়ে পৌরসভায় জরুরি সভা ডাকা হয়েছে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হবে।”


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




বাবুগঞ্জে ৩০ প্রান্তিক কৃষক পেলেন আধুনিক চাষাবাদের প্রশিক্ষণ

বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার রহমতপুরে দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত হলো উচ্চফলনশীল ডাল ও তেলবীজ ফসলের আধুনিক উৎপাদন কলাকৌশল বিষয়ক কৃষক প্রশিক্ষণ কর্মশালা। এতে অংশগ্রহণ করেন উপজেলার ৩০ জন প্রান্তিক কৃষক।

বুধবার (১৪ মে) বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএআরআই) এর আঞ্চলিক কৃষি গবেষণা কেন্দ্র, রহমতপুরের আয়োজনে এবং সরকারের অর্থায়নে এই প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়।

কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. গোলাম কিবরিয়া এবং সঞ্চালনা করেন ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. মাহমুদুল হাসান খান।

প্রধান অতিথি ছিলেন মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. মোস্তাফিজুর রহমান তালুকদার। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ড. মো. সেলিম উদ্দিন, ড. মো. রফিকুল ইসলাম, ড. মো. মশিউর রহমান এবং ড. মুহাম্মদ ইসহাকুল ইসলাম প্রমুখ।

প্রশিক্ষণে আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি, উন্নত জাতের বীজ ব্যবহার, সুষম সার প্রয়োগ, সেচ ও রোগবালাই ব্যবস্থাপনা নিয়ে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়। এতে অংশগ্রহণকারী কৃষকরা আধুনিক কৃষি চর্চার ব্যাপারে উৎসাহিত হন এবং নিজের জমিতে তা প্রয়োগের প্রতিশ্রুতি দেন।

আয়োজক প্রতিষ্ঠান বিএআরআই জানিয়েছে, কৃষকদের মাঝে বিজ্ঞানভিত্তিক কৃষি জ্ঞান ছড়িয়ে দেওয়ার এ কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




পায়রা সেতু টোলপ্লাজায় র‌্যাব সেজে ডাকাতি চেষ্টা, আটক ২

পটুয়াখালীর দুমকিতে পায়রা সেতু টোলপ্লাজা এলাকায় র‍্যাবের পোশাক পরে ডাকাতির চেষ্টা চালানো আন্তঃজেলা ডাকাত দলের দুই সদস্যকে আটক করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (১৩ মে) রাত সাড়ে ৯টার দিকে দুমকি থানার উপ-পরিদর্শক (এএসআই) ফরিদ উদ্দিনের নেতৃত্বে নিয়মিত টহলের সময় এ ঘটনা ঘটে।

আটক ব্যক্তিরা হলেন— মো. আল আমিন (৪২), পিতা: বারেক দূয়ারী, গুলবাগ, বাউফল, পটুয়াখালী এবং আল আমিন তারেক (৪৩), পিতা: কাশেম, মেরকুঠি, নবীনগর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া।

দুমকি থানা সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিনের মতো চেকপোস্টে দায়িত্ব পালন করছিলেন এএসআই ফরিদ উদ্দিন ও তার টহল দল। রাত সাড়ে ৯টার দিকে বরিশালের দিক থেকে আসা একটি মাইক্রোবাসকে থামার সিগনাল দেওয়া হলে গাড়ির দুই আরোহী ব্যাকডালা খুলে একটি ব্যাগ বের করে। ঠিক তখনই চালক হঠাৎ গাড়ি চালিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়।

সাথে সাথে পালানোর চেষ্টাকালে দুইজনকে আটক করে পুলিশ। তাদের কাছে থাকা ব্যাগ থেকে উদ্ধার করা হয়:

  • ২টি পিস্তল
  • ১টি ওয়াকিটকি
  • র‍্যাবের ৩টি পোশাক
  • ৫টি মোবাইল ফোন
  • ২টি গাড়ির নম্বর প্লেট

দুমকি থানার অফিসার ইনচার্জ মো. জাকির হোসেন জানান, “আটকদের বিরুদ্ধে মামলার প্রক্রিয়া চলছে। জেলার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে আসছেন। আমরা আইনি প্রক্রিয়ায় কাজ করছি।”

পুলিশ প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে, আটককৃতরা একটি সংঘবদ্ধ ডাকাত দলের সদস্য এবং ভুয়া র‌্যাব পরিচয়ে মহাসড়কে ডাকাতির পরিকল্পনা করছিল।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




গৌরনদী ভূমি অফিসে দালালমুক্ত সেবা, ফিরেছে জনআস্থা

বরিশালের গৌরনদী উপজেলা ভূমি অফিস এক সময় যেখান থেকে হয়রানি, দালাল চক্র ও অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগ শোনা যেত, সেই চিত্র এখন সম্পূর্ণ বদলে গেছে। স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগে অফিসটি এখন জনআস্থার প্রতীক হয়ে উঠেছে।

এই পরিবর্তনের মূল কারিগর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. রাজিব হোসেন। সাত মাস আগে দায়িত্ব নেয়ার পর থেকেই তিনি একের পর এক সংস্কারমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। “এক দিনে আবেদন, এক দিনে নামজারি”—এই ক্র্যাশ প্রোগ্রামের মাধ্যমে ইতোমধ্যে ৫০০’রও বেশি নামজারি সম্পন্ন করা হয়েছে।

জনবল সংকট থাকা সত্ত্বেও অফিসকে সুশৃঙ্খল রাখতে নিয়মিত তদারকি, কর্মচারীদের জবাবদিহিতার আওতায় আনা এবং অনিয়মে জড়িতদের বদলি ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন তিনি। এতে ভূমি অফিসের সেবাগ্রহীতারা এখন আর হয়রানির শিকার হচ্ছেন না।

সূত্র জানায়, ইতোমধ্যে ছয়জন তহশিলদার ও দুইজন কর্মচারীকে শাস্তিমূলক বদলি করা হয়েছে। দালালচক্র দমনে আটক করা হয়েছে ছয়জনকে, যাদের মধ্যে একজনকে কারাদণ্ডও দেওয়া হয়েছে। দখলদারদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে প্রায় ৩০ একর সরকারি জমি এবং রাজস্ব আদায় হয়েছে প্রায় পৌনে ১ কোটি টাকা

খাঞ্জাপুর ইউনিয়নের মাগুরা গ্রামের মিজানুর রহমান বলেন, “এক দালাল আমার কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা নিয়ে কাজ করতে পারেনি। এসিল্যান্ড স্যারের হস্তক্ষেপে টাকা ফেরত পেয়েছি, নামজারিও সম্পন্ন হয়েছে।”

সুন্দরদী গ্রামের স্বরস্বতি দাস বলেন, “আগে অফিসে দালাল ছাড়া কাজ হতো না, এখন আমরা সরাসরি এসিল্যান্ড স্যারের সাথে কথা বলেই সেবা পাচ্ছি।”

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিফাত আরা মৌরি বলেন, “গৌরনদী ভূমি অফিস এখন দুর্নীতিমুক্ত হিসেবে গর্ব করতে পারে। জনবল সংকটের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।”

বরিশালের জেলা প্রশাসক মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, “গৌরনদী ভূমি অফিস এখন জেলার অন্য অফিসগুলোর জন্য আদর্শ। এই পরিবর্তন একটি দৃষ্টান্ত, যা আমরা অন্য উপজেলাগুলোকেও অনুসরণ করতে বলি।”

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাজিব হোসেন জানান, “দালালদের হাত থেকে জনগণকে মুক্ত করতে এবং অফিসকে সেবার জায়গা হিসেবে গড়ে তুলতেই কাজ করছি। দুর্নীতিতে জড়িত কেউ ছাড় পাবে না।”


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /