সেতু আছে, রাস্তা নেই! মই বেয়ে পারাপারে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন হাজারো মানুষ

দেড় কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সেতু, কিন্তু দুই পাশে সংযোগ সড়ক না থাকায় ব্যবহারকারীদের প্রতিদিন পার হতে হচ্ছে মই বেয়ে! ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার গালুয়া ইউনিয়নে এমনই একটি অব্যবস্থাপনার চিত্র স্থানীয়দের ভোগান্তির প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে।
গালুয়া ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রের পাশে অবস্থিত এই সেতু দিয়ে প্রতিদিন অন্তত দুই হাজার মানুষ যাতায়াত করে। এর মধ্যে রয়েছে স্কুল শিক্ষার্থী, রোগী ও সাধারণ জনগণ। কিন্তু সেতুর দুই পাশে সংযোগ সড়ক না থাকায় তাদের চরম দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা আমিনুল ইসলাম বলেন,“সেতু থাকলেও কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। গত দুই বছর ধরে মই বেয়ে পার হচ্ছি। রোগী, শিশুরা সবচেয়ে বেশি কষ্ট পাচ্ছে।”
আবদুর রাজ্জাক নামে আরেক বাসিন্দা বলেন,“গাড়ি তো দূরের কথা, অ্যাম্বুলেন্সও যেতে পারে না। রোগীদের হাসপাতাল পর্যন্ত নিতে হিমশিম খেতে হয়।”
স্থানীয় যুবক তৌহিদুল ইসলাম জানান,“যেহেতু আগের ঠিকাদার কারাগারে, তাই দ্রুত নতুন দরপত্র আহ্বান করে সংযোগ সড়ক নির্মাণ করতে হবে।”
এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, ২০২২ সালে এই প্রকল্পের কাজ শুরু হয় ১ কোটি ৬৯ লাখ টাকা ব্যয়ে। ঠিকাদার ছিলেন ঝালকাঠি জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও যুবলীগ নেতা সৈয়দ হাদিসুর রহমান মিলন। বর্তমানে তিনি অস্ত্র মামলায় ১৪ বছরের সাজাপ্রাপ্ত হয়ে কারাগারে আছেন। ঠিকাদার গ্রেফতার হওয়ার পর কাজ থমকে যায় এবং সংযোগ সড়ক নির্মাণ হয়নি।
রাজাপুর উপজেলা প্রকৌশলী অভিজিৎ মজুমদার জানান,“দ্রুত নতুন করে দরপত্র আহ্বান করা হবে। আগামী দেড় মাসের মধ্যে সংযোগ সড়কের কাজ শুরুর পরিকল্পনা রয়েছে।”
এদিকে ঝালকাঠি এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শহিদুল ইসলাম সরকার জানান,“বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। খুব দ্রুত সমস্যার সমাধান করা হবে।”
অব্যবস্থাপনা ও দেরির কারণে একদিকে যেমন সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার হয়নি, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের চলাচলে প্রতিদিন যোগ হচ্ছে ঝুঁকি ও দুর্ভোগ।
এস এল টি / চন্








