দরকারি সড়ক নেই, অথচ বিলের মধ্যে পড়ে আছে কালভার্ট!

ঝালকাঠির নলছিটিতে সরকারি অর্থে নির্মিত সড়ক ও কালভার্ট প্রকল্পে চরম অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। ফয়রা গ্রামের বাসিন্দারা জানাচ্ছেন—এলাকায় একটি সেতু নির্মাণ করা হয়েছে এমন স্থানে, যেখানে সড়কই নেই! এ ছাড়া নির্মিত বক্স কালভার্টগুলোর অর্ধেক রাস্তার সঙ্গে যুক্ত, বাকি অর্ধেক খালে পড়ে আছে। ফলে কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এসব অবকাঠামো আজও কোনো কাজে আসছে না।
৪ কোটি ৪৭ লাখ টাকার প্রকল্প, কিন্তু নেই বাস্তব সুফল
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্র জানায়, ২০১৯ সালে বরিশাল-ঝালকাঠি (বিঝেপি) প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৪ কোটি ৪৭ লাখ টাকা ব্যয়ে কুশঙ্গল ইউনিয়নের মনপাশা বাজার থেকে উকিলবাড়ি পর্যন্ত ২ কিলোমিটার সড়ক, একটি কালভার্ট ও আটটি বক্স কালভার্ট নির্মাণের দরপত্র আহ্বান করা হয়। কাজটি পান ঠিকাদার মহিউদ্দিন আহমেদ, যিনি কাজের কিছু অংশ সাব-ঠিকাদার হিসেবে ছাত্রলীগের সাবেক নেতা সৈয়দ হাদিসুর রহমান মিলনকে দেন।
প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২০ সালের জুনে। কিন্তু বাস্তবে নির্মিত হয়েছে মাত্র ছয়টি বক্স কালভার্ট, বাকি দুইটির কাজ হয়নি। একমাত্র সেতুটি তৈরি হয়েছে বিলের মাঝখানে, যেখানে কোনও সড়কই নির্মিত হয়নি।
সরেজমিনে কী দেখা গেছে?
সংশ্লিষ্ট এলাকা পরিদর্শনে দেখা গেছে, বিলের ভেতরে পড়ে থাকা কালভার্টটি ব্যবহার অযোগ্য। আশপাশের সড়ক ভেঙে খানাখন্দে ভরা, বহু আগের ইটের সলিং উঠে গিয়ে রাস্তা পুরোপুরি চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, প্রকল্পের বরাদ্দের অপব্যবহার করে প্রয়োজনীয় স্থানে সড়ক না করে রাজনৈতিক পরিচয়ের প্রভাব খাটিয়ে অপ্রয়োজনীয় স্থানে কালভার্ট নির্মাণ করা হয়েছে।
“দরকারি স্থানে নয়, প্রভাবশালী ব্যক্তির বাড়ির পাশে”
ফয়রা গ্রামের বাসিন্দা আবুল কালাম, মো. দুলাল ও শামীম হোসেন জানান, “এই কালভার্টের আশপাশে কোনো রাস্তাই নেই। এই অবস্থায় এখানে সেতুর প্রয়োজনীয়তাও ছিল না। ১০ গ্রামের মানুষ এই রাস্তায় চলাচল করে, অথচ তাদের উপকারে আসেনি কোনো অবকাঠামো।”
ঠিকাদাররা গা ঢাকা দিয়েছেন
বিভিন্ন মাধ্যমে যোগাযোগের চেষ্টা করেও ঠিকাদার মহিউদ্দিন আহমেদ ও সাব-ঠিকাদার সৈয়দ হাদিসুর রহমান মিলনের সাড়া পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সূত্র বলছে, তারা ৫ আগস্টের পর থেকে লাপাত্তা।
এলজিইডির নলছিটি উপজেলা প্রকৌশলী ইকবাল কবির বলেন, “আমি দায়িত্ব নেওয়ার আগেই প্রকল্পের কাজ শেষ হয়েছে। নতুন করে এই সড়ক নির্মাণের জন্য আরেকটি প্রকল্প প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পেলেই কাজ শুরু করা হবে।”
সরকারি কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত অবকাঠামো জনসাধারণের উপকারে না এলে, তা শুধু অর্থ অপচয় নয়, প্রশাসনিক ব্যর্থতারও বহিঃপ্রকাশ। স্থানীয়দের দাবি, তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে প্রকৃত প্রয়োজনে অবকাঠামো নির্মাণ করতে হবে।
এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /








