ঝালকাঠিতে পাঁচ কৃষকের পানের বরজে অগ্নিসংযোগ, ক্ষতি প্রায় ২৫ লাখ টাকা

ঝালকাঠির সদর উপজেলার কৃত্তিপাশা ইউনিয়নের গোপিনাথকাঠী গ্রামে এক রাতে পাঁচ হতদরিদ্র কৃষকের পানের বরজে দুর্বৃত্তরা আগুন দিয়েছে। শনিবার (১৪ মে) গভীর রাতে ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় পলাশ মন্ডল, দিলীপ মিস্ত্রি, সুভাষ মিস্ত্রি, সুজন হালদার ও অনিক মন্ডল প্রিন্সের বরজ সম্পূর্ণভাবে পুড়ে ছাই হয়ে যায়। এতে আনুমানিক ২০ থেকে ২৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ক্ষতিগ্রস্তরা।
স্থানীয়রা জানান, মধ্যরাতে হঠাৎ করে বরজে আগুন জ্বলতে দেখে এলাকাবাসী ছুটে আসে। নিজ উদ্যোগে তারা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেওয়ার আগেই পানের বরজগুলোর অধিকাংশ পুড়ে যায়।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক পলাশ মন্ডল বলেন, “রাতের অন্ধকারে কে বা কারা আগুন লাগিয়েছে জানি না। তবে এটা পরিকল্পিত মনে হচ্ছে। আমরা সব ধর্ম-বর্ণের মানুষ মিলেমিশে থাকি, কারও সঙ্গে বিরোধ নেই।”
আরেক চাষি দিলীপ মিস্ত্রি বলেন, “ভোর রাতে চেঁচামেচিতে ঘুম ভাঙে। বাইরে এসে দেখি আগুনে আমাদের বরজ জ্বলছে। সব শেষ হয়ে গেছে।”
সুভাষ মিস্ত্রির স্ত্রী অর্চনা মিস্ত্রি কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “এই বরজই ছিল আমাদের একমাত্র জীবিকা। এখন ছেলে-মেয়ে নিয়ে না খেয়ে থাকতে হবে।”
স্থানীয় হায়দার মোল্লা বলেন, “আমাদের এলাকাটি ধর্মীয় সম্প্রীতির প্রতীক। দেশের সাম্প্রতিক পরিস্থিতিকে পুঁজি করে একটি কুচক্রীমহল এই ঘটনা ঘটিয়ে গোলকধাঁধায় ফেলার চেষ্টা করছে।”
ঘটনার পর পরিদর্শনে যান ঝালকাঠি জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও জেলা বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট শাহাদাত হোসেন, সাংবাদিক নেতা রাশিদুল ইসলাম, সদর থানার ওসি মনিরুজ্জামান এবং জেলা প্রশাসনের প্রতিনিধি দল। তারা ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে থাকার আশ্বাস দেন এবং দোষীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান বলেন, “আমরা ঘটনার তদন্ত করছি। অচিরেই দুষ্কৃতকারীদের আইনের আওতায় আনা হবে। কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।”
এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /








