ঝালকাঠিতে পাঁচ কৃষকের পানের বরজে অগ্নিসংযোগ, ক্ষতি প্রায় ২৫ লাখ টাকা

ঝালকাঠির সদর উপজেলার কৃত্তিপাশা ইউনিয়নের গোপিনাথকাঠী গ্রামে এক রাতে পাঁচ হতদরিদ্র কৃষকের পানের বরজে দুর্বৃত্তরা আগুন দিয়েছে। শনিবার (১৪ মে) গভীর রাতে ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় পলাশ মন্ডল, দিলীপ মিস্ত্রি, সুভাষ মিস্ত্রি, সুজন হালদার ও অনিক মন্ডল প্রিন্সের বরজ সম্পূর্ণভাবে পুড়ে ছাই হয়ে যায়। এতে আনুমানিক ২০ থেকে ২৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ক্ষতিগ্রস্তরা।

স্থানীয়রা জানান, মধ্যরাতে হঠাৎ করে বরজে আগুন জ্বলতে দেখে এলাকাবাসী ছুটে আসে। নিজ উদ্যোগে তারা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেওয়ার আগেই পানের বরজগুলোর অধিকাংশ পুড়ে যায়।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক পলাশ মন্ডল বলেন, “রাতের অন্ধকারে কে বা কারা আগুন লাগিয়েছে জানি না। তবে এটা পরিকল্পিত মনে হচ্ছে। আমরা সব ধর্ম-বর্ণের মানুষ মিলেমিশে থাকি, কারও সঙ্গে বিরোধ নেই।”

আরেক চাষি দিলীপ মিস্ত্রি বলেন, “ভোর রাতে চেঁচামেচিতে ঘুম ভাঙে। বাইরে এসে দেখি আগুনে আমাদের বরজ জ্বলছে। সব শেষ হয়ে গেছে।”

সুভাষ মিস্ত্রির স্ত্রী অর্চনা মিস্ত্রি কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “এই বরজই ছিল আমাদের একমাত্র জীবিকা। এখন ছেলে-মেয়ে নিয়ে না খেয়ে থাকতে হবে।”

স্থানীয় হায়দার মোল্লা বলেন, “আমাদের এলাকাটি ধর্মীয় সম্প্রীতির প্রতীক। দেশের সাম্প্রতিক পরিস্থিতিকে পুঁজি করে একটি কুচক্রীমহল এই ঘটনা ঘটিয়ে গোলকধাঁধায় ফেলার চেষ্টা করছে।”

ঘটনার পর পরিদর্শনে যান ঝালকাঠি জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও জেলা বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট শাহাদাত হোসেন, সাংবাদিক নেতা রাশিদুল ইসলাম, সদর থানার ওসি মনিরুজ্জামান এবং জেলা প্রশাসনের প্রতিনিধি দল। তারা ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে থাকার আশ্বাস দেন এবং দোষীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান বলেন, “আমরা ঘটনার তদন্ত করছি। অচিরেই দুষ্কৃতকারীদের আইনের আওতায় আনা হবে। কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।”


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /


 




বিষখালী নদীতে রাতের আঁধারে ইলিশের পোনা নিধন, হুমকিতে জীববৈচিত্র্য

ঝালকাঠির কাঠালিয়া উপজেলার বিষখালী নদীতে রাতের অন্ধকারে চলছে নিষিদ্ধ পদ্ধতিতে ইলিশ ও অন্যান্য মাছের পোনা শিকারের অপতৎপরতা। প্রশাসনের নজর এড়িয়ে কিছু অসাধু জেলে বেহুন্দী জাল ফেলে অবৈধভাবে পোনা মাছ আহরণ করছে, যা ইলিশ উৎপাদন ও নদীর সামগ্রিক জীববৈচিত্র্যের জন্য হুমকিস্বরূপ হয়ে উঠেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিদিন গভীর রাতে এসব জেলে নদীতে জাল ফেলে পোনা মাছ শিকার করে। পরে সেগুলো ছোট নৌকায় করে তীরে এনে স্থানীয় বাজারে বা বাড়ি বাড়ি গিয়ে ৫০ থেকে ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করছে। বাজারের চেয়ে সস্তা হওয়ায় অনেকেই এসব মাছ কিনছেন।

পশ্চিম আউরা গ্রামের গৃহবধূ আলফুন নাহার বেগম বলেন, “বাজারে মাছের দাম বেশি, কিন্তু কিছুদিন আগে জেলেরা আমাদের বাড়িতে এসে ইলিশ পোনা বিক্রি করে গেছে। আমি ২ কেজি ১৪০ টাকায় কিনেছি।”

স্থানীয় পরিবেশ ও মৎস্য সচেতন ব্যক্তিরা বলছেন, এখন ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুম চলছে। এ সময়ে পোনা নিধন পুরো ইকোসিস্টেমের জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ হতে পারে। তারা মনে করেন, এই পোনাগুলো বড় হলে ইলিশ উৎপাদনে তা বিশাল ভূমিকা রাখত।

তাদের দাবি, প্রশাসনকে আরও তৎপর হতে হবে এবং জনসচেতনতা বাড়াতে হবে। না হলে বিষখালী নদীতে ইলিশসহ অন্যান্য মাছের অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়বে।

এ বিষয়ে কাঠালিয়া উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা নাহিদা আক্তার জানান, “আমরা বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে নজরে রেখেছি। খুব শিগগিরই অভিযান চালিয়ে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /


 




ভোলায় বিক্ষোভের মাঝেও শুরু হলো এলপিজি সিলিন্ডার বিতরণ

ভোলায় বহুদিনের দাবিকে উপেক্ষা করে সরকারি মূল্যে এলপিজি সিলিন্ডার বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে। বুধবার (১৪ মে) দুপুরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) চেয়ারম্যান মো. আমিন উল আহসান।

এ সময় জেলা প্রশাসক মো. আজাদ জাহানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সুন্দরবন গ্যাস কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক গৌতম চন্দ্র কুন্ডু, পুলিশ সুপার মো. শরীফুল হক, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক মো. মিজানুর রহমান এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ব্যক্তিত্ব।

এদিন অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ভোলার ৫৬৮ জন গ্রাহকের মধ্যে এলপিজি সিলিন্ডার বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়। বিপিসি চেয়ারম্যান জানান, আবেদনপত্র যাচাই-বাছাই শেষে নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ায় গ্রাহকদের এ সেবা দেওয়া হচ্ছে। প্রতিজন গ্রাহককে প্রথমে ৩,৪৩০ টাকা ব্যাংকে জমা দিয়ে একটি নিবন্ধন কার্ড সংগ্রহ করতে হবে। এরপর নিবন্ধন কার্ড প্রদর্শন করে ৮২৫ টাকা জমা দিয়ে নির্ধারিত পরিবেশকের কাছ থেকে সিলিন্ডার গ্রহণ করা যাবে।

এ লক্ষ্যে ভোলায় ছয়জন পরিবেশক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তবে বিপিসির চেয়ারম্যান স্বীকার করেন, পূর্বে যারা আবাসিক গ্যাস সংযোগের জন্য অর্থ জমা দিয়েছেন, তাদের বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। বর্তমানে আবাসিক খাতে নতুন গ্যাস সংযোগ স্থগিত রয়েছে এবং এ সিদ্ধান্ত শুধু সুন্দরবন গ্যাস কোম্পানির নয় বরং সব গ্যাস কোম্পানির ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।

উদ্বোধন চলাকালীন জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের বাইরে কয়েকশ গ্রাহক ও ঠিকাদার বিক্ষোভে অংশ নেন। তারা অভিযোগ করেন, গ্যাস সংযোগের জন্য পূর্বে দেড় থেকে দুই লাখ টাকা পর্যন্ত ব্যয় করেছেন, রাইজার ও পাইপলাইন স্থাপনও সম্পন্ন হয়েছে, তবুও সংযোগ মেলেনি। এর মধ্যেই এলপিজি সিলিন্ডার বিতরণ শুরু হওয়ায় তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

সংযোগ না পাওয়ায় ক্ষুব্ধ গ্রাহকদের অনেকেই অভিযোগ করেন, তারা শুধুমাত্র সরকারি ফি নয়, বরং ঘুষ হিসেবেও টাকা দিয়েছেন। এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে কঠোর তদন্ত এবং ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানান বিপিসির চেয়ারম্যান আমিন উল আহসান।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /


 




সরকারি চাকরিজীবীদের মহার্ঘ ভাতা ভাতা দেওয়ার সুপারিশ

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক:  অর্থ ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, ‘মহার্ঘ ভাতা’ সংস্থানের বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিবকে আহ্বায়ক করে গত ডিসেম্বরে সাত সদস্যের একটি পর্যালোচনা কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটি পর্যালোচনা শেষে গ্রেডভিত্তিক ১০ থেকে ২০ শতাংশ ভাতা দেওয়ার সুপারিশ করে। তখন সরকার পিছিয়ে এলে এখন সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ পর্যন্ত মহার্ঘ ভাতা দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে। ভাতা দিলে আগামী অর্থবছরে বাড়তি কত খরচ হবে, সেই হিসাব-নিকাশও কষছে সরকার।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আগামী সপ্তাহে অর্থ উপদেষ্টার নেতৃত্বে একটি বৈঠক হবে। সেখানে অর্থ উপদেষ্টা জনপ্রশাসন সংক্রান্ত কমিটির প্রধান হিসেবে বিষয়টি তুলে ধরবেন। ইতোমধ্যে বৈঠকে উপস্থাপনের জন্য একটি খসড়া প্রস্তাব তৈরি করেছে অর্থ বিভাগ।

সূত্র বলছে, যদি প্রস্তাব অনুযায়ী মহার্ঘ ভাতা ঘোষণা হয়, তাহলে সরকারি চাকরিজীবীরা বাড়তি ৫ শতাংশ ইনক্রিমেন্ট পাবেন না।

জানা গেছে, অর্থ বিভাগের খসড়ায় ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ এবং প্রথম থেকে দশম গ্রেডের কর্মচারীদের ১০ বা ১৫ শতাংশ হারে ভাতা দেওয়ার বিকল্প প্রস্তাবও রয়েছে। প্রথম থেকে দশম গ্রেডে ১০ শতাংশ দেওয়া হলে ৬ হাজার কোটি টাকা বাড়তি অর্থের প্রয়োজন হবে। অন্যদিকে ১৫ শতাংশ দেওয়া হলে ব্যয় দাঁড়াবে প্রায় সাড়ে ৬ হাজার কোটি টাকা।

চলতি অর্থবছরের মূল বাজেটে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতন-ভাতা বাবদ বরাদ্দ ছিল ৮২ হাজার ৯৯০ কোটি টাকা, যা মোট বাজেটের ১০ দশমিক ৪১ শতাংশ।

গত সরকারের আমলে বৈষম্যের শিকার চাকরিজীবীদের কয়েক দফায় পদোন্নতি দেওয়ায় সংশোধিত বাজেটে এ খাতে বরাদ্দ বেড়ে ৮৪ হাজার কোটি টাকা হয়েছে।

গত জানুয়ারি থেকেই সরকারি চাকরিজীবীদের মহার্ঘ ভাতা কার্যকরের পরিকল্পনা ছিল সরকারের। সে অনুযায়ী উদ্যোগও নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সংকটকালীন অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে এ উদ্যোগের সামালোচনা করেন অর্থনীতিবিদরা। এমন প্রেক্ষপটে তখন মহার্ঘ ভাতা দেওয়া থেকে সরকার সরে এলেও এখন নতুন করে আবারও উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।




 ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার পরবর্তী শুনানি ২৬ মে

২০০৪ সালের ২১ আগস্ট রাজধানীর গুলিস্তানে আওয়ামী লীগের সমাবেশে ভয়াবহ গ্রেনেড হামলার মামলায় খালাসপ্রাপ্তদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের লিভ টু আপিলের পরবর্তী শুনানির দিন নির্ধারণ করেছেন হাইকোর্ট। আগামী ২৬ মে শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।

বৃহস্পতিবার (১৫ মে) দুপুরে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন ছয় সদস্যের বেঞ্চ এই দিন ধার্য করেন।

◾ খালাসের রায় ও আপিল প্রক্রিয়া

গত ১ ডিসেম্বর হাইকোর্ট বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ সব আসামিকে খালাস দেন। এরপর ১৯ মার্চ রাষ্ট্রপক্ষ হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল দায়ের করে।

◾ রক্তাক্ত ইতিহাস: ২১ আগস্ট ২০০৪

২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গুলিস্তানে আওয়ামী লীগের সমাবেশে সংঘটিত ভয়াবহ গ্রেনেড হামলায় দলের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক আইভি রহমানসহ ২৪ জন নিহত হন এবং বহু নেতাকর্মী গুরুতর আহত হন। মতিঝিল থানায় হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে দুটি মামলা দায়ের করা হয়।

সিআইডি ২০০৮ সালে মামলার চার্জশিট জমা দিলে বিচার শুরু হয়। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর মামলার অধিকতর তদন্তে বিএনপি নেতাদের নাম যুক্ত হয়।

◾ ২০১৮ সালের বিচারিক রায়

২০১৮ সালের ১০ অক্টোবর ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১ মামলার রায় ঘোষণা করেন। এতে সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর ও সাবেক শিক্ষা উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টুসহ ১৯ জনকে মৃত্যুদণ্ড এবং তারেক রহমানসহ আরও ১৯ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। বাকি ১১ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।

এই রায়ের বিপরীতে হাইকোর্টের রায়ে সব আসামিকে খালাস দিলে তা নিয়ে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল করে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




বরিশালে নার্সিং শিক্ষার্থীদের দুই দফা বিক্ষোভ

শিক্ষক নিয়োগ ও ডিপ্লোমা ডিগ্রি সমমানের স্বীকৃতি দাবিতে বরিশালে পৃথকভাবে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে নার্সিং শিক্ষার্থীরা। বৃহস্পতিবার (১৫ মে) দুপুরে বরিশাল নার্সিং কলেজ প্রাঙ্গণ ও কলেজ সংলগ্ন সড়কে শিক্ষার্থীরা অবস্থান ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেন।

◾ চার দফা দাবিতে পূর্ণ শাটডাউন

বরিশাল নার্সিং কলেজের শিক্ষার্থীরা দাবি তুলেছেন—বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিমালা অনুযায়ী শিক্ষক নিয়োগসহ চার দফা দাবি মানতে হবে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা অনির্দিষ্টকালের জন্য ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ ঘোষণা দিয়েছেন।

শিক্ষার্থীরা জানান, গত ৬ মে পূর্বঘোষিত কর্মসূচি পালনের সময় তারা শিক্ষক কর্তৃক মারধরের শিকার হন। তারা এ ঘটনার বিচার দাবি করেন এবং বলেন, “ততক্ষণ পর্যন্ত আন্দোলন চলবে, যতক্ষণ না দাবি পূরণ ও হামলাকারীদের বিচার হয়।”

◾ ডিপ্লোমা ডিগ্রির স্বীকৃতির দাবিতে আলাদা কর্মসূচি

একই দিনে বরিশাল ডিপ্লোমা ইন নার্সিং অ্যান্ড মিডওয়াইফারি ডিগ্রি বাস্তবায়ন কমিটির পক্ষ থেকে পৃথক সমাবেশে নার্সিং ডিপ্লোমাকে সম্মান ডিগ্রির সমমানের স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি জানানো হয়। বক্তারা বলেন, “আমাদের পেশাগত মর্যাদা ও ক্যারিয়ার নিশ্চিত করতে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে, নয়তো কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।”


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




বরিশালে সাম্য হত্যার প্রতিবাদে ছাত্রদলের অবস্থান কর্মসূচি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নেতা শাহরিয়ার আলম সাম্য হত্যার প্রতিবাদে বরিশালের ব্রজমোহন (বিএম) কলেজে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে ছাত্রদল।

বৃহস্পতিবার (১৫ মে) বেলা সাড়ে ১১টায় বিএম কলেজের মূল ফটকের সামনে ছাত্রদল নেতাকর্মীরা মানববন্ধন, সড়ক অবরোধ ও কালো ব্যাজ ধারণের মাধ্যমে কর্মসূচি পালন করেন।

◾ “আইনশৃঙ্খলার চরম অবনতি ঘটেছে”

কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন বিএম কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক বাবর খালেদ। বক্তব্যে নেতারা বলেন, “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো নিরাপদ স্থানে প্রকাশ্যে একজন ছাত্রনেতাকে হত্যা করা স্পষ্ট প্রমাণ করে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভয়াবহ অবস্থায় পৌঁছেছে। অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে নিরাপত্তার ঘাটতি বাড়ছে।”

তারা আরও বলেন, “আমরা সরকারকে সতর্ক করে দিতে চাই—সাম্য হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার না হলে, ছাত্রদল দেশব্যাপী বৃহত্তর আন্দোলনের ঘোষণা দেবে।”

◾ কে ছিলেন সাম্য?

গত মঙ্গলবার (১৩ মে) রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শাহরিয়ার আলম সাম্য ছুরিকাঘাতে নিহত হন। তিনি শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের ২০১৮-১৯ সেশনের ছাত্র এবং এফ রহমান হলের আবাসিক ছিলেন। তার বাড়ি সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলায়।

ঘটনার পর ৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তবে হত্যার পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে কি না, তা নিয়ে ছাত্রদলসহ অনেকেই প্রশ্ন তুলেছে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /


 




আওয়ামী লীগের নাম মুখেও নেবো না: দশমিনায় চেয়ারম্যান আবদুল আজিজ মিয়ার পদত্যাগ

পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার রনগোপালদী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বর্তমান ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল আজিজ মিয়া রাজনৈতিক জীবনের বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি আওয়ামী লীগের সকল পদ থেকে পদত্যাগ করে ঘোষণা দিয়েছেন—“আর কখনো আওয়ামী লীগের নাম মুখেও নেবো না।”

বুধবার (১৪ মে) ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই ঘোষণাটি দেন। পদত্যাগের কারণ হিসেবে তিনি শারীরিক অসুস্থতার কথা উল্লেখ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে আবদুল আজিজ মিয়া বলেন, “আমি দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। তবে শারীরিক অসুস্থতার কারণে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতির পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আজ থেকে আমার সঙ্গে আওয়ামী লীগের কোনো সম্পর্ক নেই।”

স্থানীয় রাজনৈতিক সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালের ২৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীক নিয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন আবদুল আজিজ মিয়া। তিনি দীর্ঘদিন দলীয়ভাবে সক্রিয় ছিলেন এবং স্থানীয় রাজনীতিতে প্রভাবশালী হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

তবে জানা যায়, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে ঘটে যাওয়া গণঅভ্যুত্থানের সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশত্যাগের পর আবদুল আজিজ মিয়াও কিছু সময়ের জন্য আত্মগোপনে ছিলেন। পরে এলাকায় ফিরে আবার চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন শুরু করেন। বিভিন্ন সময় অসুস্থতার অজুহাতে ঢাকায় অবস্থান করতেন বলেও স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা রয়েছে।

এই পদত্যাগকে কেন্দ্র করে দশমিনার রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়েছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



উপদেষ্টা মাহফুজকে বোতল নিক্ষেপ, হতাশ উপদেষ্টা আসিফ




বাংলাদেশিদের সঙ্গে সৌদির মালিকদের নিষ্ঠুর আচরণ

(১৪ মে) এক প্রতিবেদনে মানবাধিকার বিষয়ক সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ এবং ফেয়ার স্কয়ার জানিয়েছে,
সৌদি আরবে কাজ করতে গিয়ে প্রাণ হারাচ্ছেন বাংলাদেশ, ভারত ও নেপালিরা। তবে চাইলে এসব মৃত্যু হয়ত এড়ানো যেত। কিন্তু সৌদির মালিক ও চাকরিদাতাদের খামখেয়ালিতে ঝরে যাচ্ছে এসব প্রাণ। বিশেষ করে বিদ্যুতায়িত হয়ে, সড়ক দুর্ঘটনায় এবং উঁচু স্থান থেকে পড়ে এসব মৃত্যু হচ্ছে। বুধবার

তারা এসব মানুষের মৃত্যুর বিস্তারিত তদন্ত করেছে। যেখানে এসব মৃত্যুর পেছনে অবহেলা পাওয়া গেছে।

এরমধ্যে এক বাংলাদেশির মৃত্যু সম্পর্কে আলাদাভাবে জানিয়েছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ। সংস্থাটি বলেছে, কর্মক্ষেত্রে এক বাংলাদেশি বিদ্যুতায়িত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন। কিন্তু তার সৌদি মালিক, যার প্রতিষ্ঠানে তিনি কাজ করতেন, সেই মালিক তার মরদেহ আটকে রেখেছিলেন। তিনি ওই বাংলাদেশির পরিবারকে বলেছিলেন, যদি তার মরদেহ নিজ বাড়িতে নিয়ে দাফন করা হয়। শুধুমাত্র তখনই তাদের ক্ষতিপূরণ দেবেন তিনি।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচ জানিয়েছে, যেসব প্রবাসী মারা গেছেন তাদের মৃত্যুর কারণ নিয়েও ভুল তথ্য দিয়েছে সৌদির মালিকরা। তারা মৃত্যুর কারণ তদন্ত করতে দেননি, এতে করে পরিবারগুলো সৌদির আইন অনুযায়ী যে ক্ষতিপূরণ পেত সেটি থেকে বঞ্চিত হয়েছে। এছাড়া প্রিয়জন সৌদিতে কাজ করতে গিয়ে কীভাবে মারা গেল সেটিও এসব পরিবার জানতে পারেননি।

অপর একটি পরিবার জানিয়েছে, সৌদির সরকার থেকে আত্মীয়ের মৃত্যুর ক্ষতিপূরণ পেতে তাদের ১৫ বছর অপেক্ষা করতে হয়েছে।

সৌদি আরব ২০৩৪ সালে ফিফা বিশ্বকাপ আয়োজন করবে। আর বিশ্বকাপের জন্য নতুন নতুন স্টেডিয়ামসহ অনেক বড় বড় অবকাঠামো তৈরি করবে তারা। এগুলোতে কাজ করতে গিয়ে আরও অনেক বাংলাদেশি, ভারতীয় আর নেপালি মারা যাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এমন সময় এ প্রতিবেদন প্রকাশ করল সংস্থা দুটি।

সৌদি ভিশন ২০৩০ বাস্তবায়ন করতে গিয়ে শ্রমিকদের ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত করেছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচের গ্লোবাল ইনিশিয়েটিভের পরিচালক মিনকি ওর্ডেন বার্তাসংস্থা এপিকে বলেছেন, শ্রমিকদের সাধারণ নিরাপত্তার বিষয়টি সৌদি এবং ফিফাকে নিশ্চিত করতে হবে এবং এ বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি জানিয়েছেন, কাতার যখন বিশ্বকাপ আয়োজনের প্রস্তুতি নেয় তখনও এমন অনেক মৃত্যু ঘটেছিল। তবে কাতার ফিফার অবকাঠামো নির্মাণস্থল এবং অনিরাপদ কর্ম পরিবেশের বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করতে একটি সুপ্রিম কমিটি তৈরি করেছিল। এছাড়া কাতার জীবন বীমা এবং গরম থেকে শ্রমিকদের রক্ষার পদক্ষেপ নিয়েছিল। কিন্তু সৌদিতে এমন কোনো পদক্ষেপই নেয়নি।