জনগনের সরকার প্রতিষ্ঠার রোডম্যাপ চান তারেক রহমান

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে জাতীয় নির্বাচনের তারিখ দ্রুত ঘোষণা করার আহ্বান জানিয়েছেন। গত শনিবার (১৭মে) রাজধানীর গুলশানের লেকশোর হোটেলে এনডিএমের অষ্টম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি লন্ডন থেকে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হয়ে এ বক্তব্য রাখেন।

তারেক রহমান বলেন, “পরিস্থিতি অযথা ঘোলাটে না করে জাতীয় নির্বাচনের একটি সুস্পষ্ট তারিখ ঘোষণা করুন। জনগণের ভোটে দায়বদ্ধ সরকার প্রতিষ্ঠা না হলে পতিত স্বৈরাচারকে মোকাবিলা করা সহজ হবে না।”

তিনি জানান, বিএনপিসহ অন্যান্য গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলগুলো বহুদিন ধরেই অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে একটি নির্বাচনী রোডম্যাপ ঘোষণার দাবি জানিয়ে আসছে। কিন্তু সরকার এখনো সে আহ্বানে সাড়া দেয়নি।

তারেক রহমান আরও অভিযোগ করেন, সরকার নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা না করে বরং এটিকে “অল্প সংস্কার বনাম বেশি সংস্কার” শর্তের মধ্যে আটকে দিয়েছে। এর ফলে রাজনৈতিক অঙ্গনে অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে এবং জনগণ সরকারের পরিকল্পনা সম্পর্কে অন্ধকারে রয়েছে।

তিনি বলেন, “মাত্র ১০ মাসের মাথায় সরকারের ভেতরে ও বাইরে অস্থিরতা দেখা যাচ্ছে। জনগণের আকাঙ্ক্ষা অনুধাবন না করলে এই অস্থিরতা আরও বাড়বে, যা সরকারের জন্য সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়বে।”

তারেক রহমান সরকারের সমালোচনা করে বলেন, “জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে কতজন শহীদ হয়েছেন বা আহত হয়েছেন—সেই তালিকা সরকার এখনো দিতে পারেনি। এতে প্রশ্ন জাগে সরকার কি তাদের প্রতি উদাসীন, না কি ক্ষমতার মোহে আচ্ছন্ন?”

তিনি জোর দিয়ে বলেন, “করিডোর কিংবা বন্দর দেওয়া না দেওয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত বর্তমান সরকারের নয়। এই সিদ্ধান্ত আসবে জনগণের ভোটে নির্বাচিত জাতীয় সংসদ থেকে।”

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সংস্কার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “আলোচনা না করেই তড়িঘড়ি সংস্কার শুরু করায় রাজস্ব আদায় কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটেছে। ফলে চলতি অর্থবছরে বিশাল রাজস্ব ঘাটতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।”

অনুষ্ঠানে এনডিএম চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ, মহাসচিব মমিনুল আমিন, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, গণঅধিকার পরিষদের নেতা রাশেদ খান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।




কুয়াকাটায় নিষেধাজ্ঞা অমান্য, ১৬ জেলে আটক

পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে সরকারি নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে মাছ শিকারের অভিযোগে ১৬ জন জেলেকে আটক করেছে নৌ-পুলিশ। শনিবার (১৭ মে) দুপুরে ফাতরার বনসংলগ্ন সাগর থেকে তিনটি মাছধরা ট্রলারসহ তাদের আটক করা হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তিনটি ট্রলারের মালিককে মোট ২৮ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

কলাপাড়া সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা জানান, নিষেধাজ্ঞা চলাকালে মাছ ধরা সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ। অভিযানে আটককৃতদের জিজ্ঞাসাবাদের পর তারা মুচলেখা দেন যে, নিষেধাজ্ঞাকালীন সময়ে তারা আর সাগরে মাছ শিকার করবেন না। এরপরই ট্রলারসহ জেলেদের ছেড়ে দেওয়া হয়।

কুয়াকাটা নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ বিকাশ মন্ডল বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা জানতে পারেন যে কিছু জেলে গভীর সমুদ্রে জাল ফেলেছেন। এরপর অভিযান চালিয়ে জেলেদের আটক করা হয়।

সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, ১৫ এপ্রিল থেকে ১১ জুন পর্যন্ত মোট ৫৮ দিন বঙ্গোপসাগরে সব ধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। সামুদ্রিক মাছের প্রজনন ও মজুত বৃদ্ধির লক্ষ্যে এই সময়কালে প্রতি বছরই এই নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। এ সময় সকল ধরনের মাছধরা ট্রলার ও জেলেদের সাগরে যাওয়া আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।

নৌ-পুলিশ ও মৎস্য বিভাগের সমন্বয়ে এই নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে টহল কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। তবে এরপরও কিছু জেলে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে গভীর সমুদ্রে প্রবেশ করছে, যা শুধু আইন লঙ্ঘন নয়, বরং সামুদ্রিক সম্পদ সংরক্ষণের প্রচেষ্টায় বড় বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। মৎস্য বিভাগ জানিয়েছে, আগামীদিনগুলোতেও কঠোর নজরদারি অব্যাহত থাকবে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




চায়ের আড্ডায় নেতাকর্মীদের চমকে দিলেন রুহুল কবির রিজভী!

রুহুল কবির রিজভী

নরসিংদীতে একটি রাজনৈতিক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে যাওয়ার পথে হঠাৎ থেমে গেলেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। রাজধানীর অদূরে ৩শ ফুট এলাকার ফুটপাতে অপেক্ষমান নেতাকর্মীদের দেখে গাড়ি থামিয়ে দিলেন তিনি। এরপর পাশে থাকা একটি সাধারণ চায়ের দোকানে ঢুকে দাঁড়িয়ে চা খেলেন নেতাকর্মীদের সঙ্গে।

এই দৃশ্য দেখে চমকে যান উপস্থিত অনেকেই। হঠাৎ এমন আচরণে উচ্ছ্বসিত হয়ে ওঠেন দলের স্থানীয় নেতা-কর্মীরা। তাদের সঙ্গে কুশল বিনিময়ের পাশাপাশি চা হাতে রাজনীতি নিয়েও কিছুটা আলোচনা হয় বলে জানান উপস্থিত নেতাকর্মীরা।

চা-পানের সেই মুহূর্তে রিজভীর সঙ্গে ছিলেন: বিএনপির সহ-সেচ্ছাসেবক সম্পাদক আব্দুল কাদির ভূঁইয়া জুয়েল, সাংবাদিক নেতা রাশেদুল হক, সেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় নেতা ডা. জাহিদুল কবির, ছাত্রদল নেতা ডা. তৌহিদুর রহমান আওয়াল এবং এলাকার অন্যান্য স্থানীয় নেতাকর্মীরা।

নেতাকর্মীদের অনেকেই জানান, এমন আচরণ রিজভীর সরলতা এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে তার যোগাযোগের শক্ত প্রমাণ। কেউ কেউ বলছিলেন, “এই জন্যই রিজভী ভাই আমাদের এত আপন। তিনি আমাদের সঙ্গে মিশে যান, আমাদের মতো করেই কথা বলেন, চলেন।”

সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য হলেও সেই চায়ের আড্ডায় দলের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, সাংগঠনিক প্রস্তুতি, ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে ছোটখাটো আলোচনা হয় বলে জানা যায়। এরপর রিজভী আবার গাড়িতে উঠে নির্ধারিত গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা দেন।

নেতাকর্মীদের মতে, এমন হঠাৎ উপস্থিতি ও সরাসরি যোগাযোগে স্থানীয়ভাবে নতুন উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে, যা সাংগঠনিকভাবে দলকে আরও সক্রিয় করতে ভূমিকা রাখবে বলে মনে করেন নেতা কর্মীরা।




কাউকে গোপনে দলে ভেড়ানো যাবে না— যোগ দিতে হবে প্রকাশ্যে ও আনুষ্ঠানিক

বিএনপি

আওয়ামী লীগের প্রতি সহানুভূতিশীল হলেও যারা বিএনপির কর্মসূচিতে বাধা দেয়নি এবং সামাজিকভাবে গ্রহণযোগ্য—এমন ব্যক্তিরা বিএনপিতে যোগ দিতে পারবেন বলে জানিয়েছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তবে দলভুক্তির ক্ষেত্রে কিছু গুরুত্বপূর্ণ শর্তও তুলে ধরেছেন তিনি।

শনিবার (১৭ মে) দুপুর সাড়ে ১২টায় চট্টগ্রাম নগরীর কাজীর দেউড়িতে দলীয় কার্যালয়ের মাঠে চট্টগ্রাম বিভাগীয় বিএনপির উদ্যোগে ‘সদস্য নবায়ন’ কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আমির খসরু বলেন, “দীর্ঘ সময় পর আমাদের সামনে সদস্য সংগ্রহের সুযোগ এসেছে। এটিকে কাজে লাগিয়ে দেশজুড়ে বিএনপিকে আরও সংগঠিত করতে হবে। বিএনপিতে যোগ দেওয়া গর্বের বিষয়। এজন্য সদস্য সংগ্রহের প্রতিটি ধাপ দৃশ্যমানভাবে অনুষ্ঠান করে করতে হবে—মেইনস্ট্রিম মিডিয়ায় প্রচার করতে হবে, ফেসবুকেও তুলে ধরতে হবে।”

তিনি হুঁশিয়ার করে বলেন, “সদস্য সংগ্রহে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে। যারা চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী, দুর্নীতিগ্রস্ত কিংবা সামাজিকভাবে অগ্রহণযোগ্য, তাদের দলে নেওয়া যাবে না। এতে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হবে ও ভোট কমে যেতে পারে।”

তিনি আরও যোগ করেন, “আওয়ামী লীগের সক্রিয় কর্মীদের বিএনপিতে নেওয়া যাবে না। তবে যারা আওয়ামী লীগপন্থী ছিল কিন্তু আমাদের বিরুদ্ধে কাজ করেনি, বরং আড়ালে সহযোগিতা করেছে—তাদের বিএনপিতে আসায় কোনো বাধা নেই। তবে কাউকে গোপনে দলে ভেড়ানো যাবে না—দলে যোগ দিতে হলে সেটা হতে হবে প্রকাশ্য ও আনুষ্ঠানিক।”

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানী, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এরশাদ উল্লাহ এবং চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন।




ট্রাম্প একদিকে শান্তির আহ্বান করে অন্যদিকে যুদ্ধের হুমকি দেয়!

ট্রাম্প

একদিকে শান্তির আহ্বান, আরেকদিকে যুদ্ধের হুমকি—এই পরস্পরবিরোধী বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান। শনিবার তেহরানে একটি নৌ-অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে উদ্দেশ করে বলেন, “তিনি একদিকে শান্তির কথা বলেন, আবার অন্যদিকে গণবিধ্বংসী অস্ত্র দিয়ে হুমকি দেন—আমরা কী বিশ্বাস করব?”

পেজেশকিয়ান স্পষ্ট করে জানান, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পারমাণবিক ইস্যুতে আলোচনায় আগ্রহী, তবে কোনো ধরনের হুমকিতে তারা ভয় পায় না। তিনি বলেন, “আমরা যুদ্ধ চাই না, কিন্তু ভয় দেখিয়ে আমাদের সিদ্ধান্ত পাল্টানো যাবে না।”

এর আগে শুক্রবার, ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে ইরান পারমাণবিক কর্মসূচি সংক্রান্ত যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রস্তাব পেয়েছে এবং তারা জানে দ্রুত সমাধানে না এলে “খুব খারাপ কিছু” ঘটতে পারে। সংযুক্ত আরব আমিরাত ত্যাগ করার পর এয়ারফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প এই মন্তব্য করেন।

তবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি ট্রাম্পের ওই দাবি নাকচ করে দিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স (সাবেক টুইটার)-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, “যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কোনো প্রস্তাব আমরা পাইনি। আমরা যে শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অধিকার অর্জন করেছি, তা কখনোই ত্যাগ করব না।”

প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান আরও বলেন, “আমরা আমাদের বৈধ অধিকার থেকে একচুলও সরে যাব না। কেউ আমাদের দম্ভ দেখিয়ে পথচ্যুত করতে পারবে না, আর এজন্যই আমাদের অস্থিরতার উৎস বলে দাগিয়ে দেওয়া হয়।”

প্রসঙ্গত, গত রবিবার ওমানে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চতুর্থ দফার আলোচনার সমাপ্তি হয়েছে, যদিও পরবর্তী দফার আলোচনার দিনক্ষণ এখনো নির্ধারণ হয়নি।




ভারতে পালানো আ. লীগ নেতাদের ভারত ছাড়ার হিড়িক

গণহত্যা, দমন-পীড়ন ও অন্যান্য গুরুতর অপরাধে অভিযুক্ত হয়ে ভারতে পালিয়ে থাকা একাধিক নেতার মধ্যে দেশটি ত্যাগের প্রবণতা বাড়ছে। পুশব্যাক ও গ্রেফতারের আশঙ্কায় ভারতীয় ভূখণ্ডে অবস্থানরত অবৈধ বিদেশিদের দ্রুত দেশ ছাড়ার নির্দেশনা জারি হয়েছে, যা আগস্ট থেকে আরও কঠোরভাবে কার্যকর হবে। এই পরিস্থিতিতে অনেক আওয়ামী লীগ নেতা দেশে ফেরার বিষয়ে দ্বিধায় পড়েছেন, কারণ দেশে ফিরলে গ্রেফতারের ঝুঁকি বাড়ছে।

অন্যদিকে, ইতোমধ্যে ৫০ জনেরও বেশি নেতা ইউরোপ ও আমেরিকায় পাড়ি জমিয়েছেন, আর বাকি নেতারাও সেখানে পালানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থানরত নেতাদের দেশে ফিরে আসার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, আগামী দুই মাসের মধ্যে যারা ফিরবেন না, তাদেরকে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে আটক করে দেশে ফিরিয়ে আনা হবে এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সরকার ইতিমধ্যেই বহুমুখী চাপ প্রয়োগের কৌশল গ্রহণ করেছে, যাতে এইসব ব্যক্তিদের দ্রুত দেশে ফিরিয়ে এনে বিচার কার্যক্রম নিশ্চিত করা যায়।




মাত্র ১২০ টাকায় পুলিশের চাকরি, পটুয়াখালীতে নজিরবিহীন দৃষ্টান্ত

পটুয়াখালী জেলা পুলিশের উদ্যোগে গড়ে উঠেছে এক অনন্য দৃষ্টান্ত—কেবল মাত্র ১২০ টাকার ব্যাংক ড্রাফটের বিনিময়ে তদবির ও উৎকোচ ছাড়াই পুলিশে চাকরি পেয়েছেন ২১ জন তরুণ-তরুণী। স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতার মাধ্যমে সম্পন্ন হওয়া এই নিয়োগ প্রক্রিয়া ইতোমধ্যেই সারা দেশে প্রশংসিত হচ্ছে।

আজ শুক্রবার (১৬ মে) সকাল সাড়ে দশটায় পটুয়াখালী পুলিশ লাইনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিতদের ফুল ও মিষ্টি দিয়ে বরণ করে নেন পটুয়াখালী জেলা পুলিশ সুপার মো: আনোয়ার জাহিদ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাজেদুল ইসলামসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা।

নতুন চাকরি পাওয়া ২১ জনের মধ্যে ১৫ জন পুরুষ ও ৬ জন নারী রয়েছেন। সবার চোখেই ছিল আনন্দাশ্রু আর মুখে প্রশংসার ছাপ। কারণ, তারা জানতেন—এই নিয়োগে ছিল না কোনো আর্থিক লেনদেন, ছিল না কোনো রাজনৈতিক তদবির বা পরিচয়। শুধু যোগ্যতা, মেধা ও শারীরিক সক্ষমতার ভিত্তিতেই অর্জিত হয়েছে চাকরিটি।

অনুষ্ঠানে বক্তব্যকালে পুলিশ সুপার আনোয়ার জাহিদ বলেন, “আমরা সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা বজায় রেখে নিয়োগ দিয়েছি। যার যোগ্যতা ছিল, সেসব তরুণ-তরুণীরাই সুযোগ পেয়েছেন। দরিদ্র পরিবারগুলোতে এখন হাসি ফুটছে। পুলিশে এমন নিয়োগ পদ্ধতি অব্যাহত থাকবে, এটাই আমাদের অঙ্গীকার।”

চাকরি পাওয়া এক তরুণ বলেন, “আমার বাবা একজন দিনমজুর। কখনো কল্পনাও করিনি, পুলিশে চাকরি করতে পারব। আজ এটা সম্ভব হয়েছে শুধুমাত্র স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়ার কারণে।”

এই নজিরবিহীন উদ্যোগ শুধু পটুয়াখালী নয়, বরং দেশের অন্যান্য জেলাগুলোর জন্যও হয়ে উঠতে পারে অনুকরণীয় উদাহরণ। সাধারণ মানুষ এখন বিশ্বাস করতে শুরু করেছে—সরকারি চাকরি মানেই তদবির বা ঘুষ নয়, মেধা ও যোগ্যতার মাধ্যমেও সম্ভব নতুন জীবন শুরু করা।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




দরকারি সড়ক নেই, অথচ বিলের মধ্যে পড়ে আছে কালভার্ট!

ঝালকাঠির নলছিটিতে সরকারি অর্থে নির্মিত সড়ক ও কালভার্ট প্রকল্পে চরম অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। ফয়রা গ্রামের বাসিন্দারা জানাচ্ছেন—এলাকায় একটি সেতু নির্মাণ করা হয়েছে এমন স্থানে, যেখানে সড়কই নেই! এ ছাড়া নির্মিত বক্স কালভার্টগুলোর অর্ধেক রাস্তার সঙ্গে যুক্ত, বাকি অর্ধেক খালে পড়ে আছে। ফলে কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এসব অবকাঠামো আজও কোনো কাজে আসছে না।

৪ কোটি ৪৭ লাখ টাকার প্রকল্প, কিন্তু নেই বাস্তব সুফল

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্র জানায়, ২০১৯ সালে বরিশাল-ঝালকাঠি (বিঝেপি) প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৪ কোটি ৪৭ লাখ টাকা ব্যয়ে কুশঙ্গল ইউনিয়নের মনপাশা বাজার থেকে উকিলবাড়ি পর্যন্ত ২ কিলোমিটার সড়ক, একটি কালভার্ট ও আটটি বক্স কালভার্ট নির্মাণের দরপত্র আহ্বান করা হয়। কাজটি পান ঠিকাদার মহিউদ্দিন আহমেদ, যিনি কাজের কিছু অংশ সাব-ঠিকাদার হিসেবে ছাত্রলীগের সাবেক নেতা সৈয়দ হাদিসুর রহমান মিলনকে দেন।

প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২০ সালের জুনে। কিন্তু বাস্তবে নির্মিত হয়েছে মাত্র ছয়টি বক্স কালভার্ট, বাকি দুইটির কাজ হয়নি। একমাত্র সেতুটি তৈরি হয়েছে বিলের মাঝখানে, যেখানে কোনও সড়কই নির্মিত হয়নি।

সরেজমিনে কী দেখা গেছে?

সংশ্লিষ্ট এলাকা পরিদর্শনে দেখা গেছে, বিলের ভেতরে পড়ে থাকা কালভার্টটি ব্যবহার অযোগ্য। আশপাশের সড়ক ভেঙে খানাখন্দে ভরা, বহু আগের ইটের সলিং উঠে গিয়ে রাস্তা পুরোপুরি চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, প্রকল্পের বরাদ্দের অপব্যবহার করে প্রয়োজনীয় স্থানে সড়ক না করে রাজনৈতিক পরিচয়ের প্রভাব খাটিয়ে অপ্রয়োজনীয় স্থানে কালভার্ট নির্মাণ করা হয়েছে।

“দরকারি স্থানে নয়, প্রভাবশালী ব্যক্তির বাড়ির পাশে”

ফয়রা গ্রামের বাসিন্দা আবুল কালাম, মো. দুলাল ও শামীম হোসেন জানান, “এই কালভার্টের আশপাশে কোনো রাস্তাই নেই। এই অবস্থায় এখানে সেতুর প্রয়োজনীয়তাও ছিল না। ১০ গ্রামের মানুষ এই রাস্তায় চলাচল করে, অথচ তাদের উপকারে আসেনি কোনো অবকাঠামো।”

ঠিকাদাররা গা ঢাকা দিয়েছেন

বিভিন্ন মাধ্যমে যোগাযোগের চেষ্টা করেও ঠিকাদার মহিউদ্দিন আহমেদ ও সাব-ঠিকাদার সৈয়দ হাদিসুর রহমান মিলনের সাড়া পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সূত্র বলছে, তারা ৫ আগস্টের পর থেকে লাপাত্তা

এলজিইডির নলছিটি উপজেলা প্রকৌশলী ইকবাল কবির বলেন, “আমি দায়িত্ব নেওয়ার আগেই প্রকল্পের কাজ শেষ হয়েছে। নতুন করে এই সড়ক নির্মাণের জন্য আরেকটি প্রকল্প প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পেলেই কাজ শুরু করা হবে।”

সরকারি কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত অবকাঠামো জনসাধারণের উপকারে না এলে, তা শুধু অর্থ অপচয় নয়, প্রশাসনিক ব্যর্থতারও বহিঃপ্রকাশ। স্থানীয়দের দাবি, তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে প্রকৃত প্রয়োজনে অবকাঠামো নির্মাণ করতে হবে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




বরিশালে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় কলেজছাত্র নিহত, আহত ২

বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কের গৌরনদী উপজেলার বার্থী বাজার এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় এক কলেজছাত্র নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (১৬ মে) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতের নাম শাহারিয়া আজাদ তালহা (২০)। তিনি গৌরনদী উপজেলার পশ্চিম বার্থী গ্রামের বাসিন্দা এবং স্থানীয় একটি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী।

প্রত্যক্ষদর্শী ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, তালহা ও তার দুই বন্ধু মোটরসাইকেলযোগে বার্থী বাজার যাচ্ছিলেন। পথে একটি অজ্ঞাত পিকআপ ভ্যানের সঙ্গে সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই তালহা প্রাণ হারান। তার সঙ্গী হিমেল গোমস্তা ও শাহীন মাল গুরুতর আহত হন।

আহত হিমেল গোমস্তা (পিতা: নুর আলম গোমস্তা) এবং শাহীন মাল (পিতা: সোহেল মাল) একই গ্রামের বাসিন্দা। দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

গৌরনদী হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুর রহমান বলেন, “ঘটনার পরপরই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। আহতদের চিকিৎসার পাশাপাশি দুর্ঘটনাকবলিত গাড়িকে চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে।”

নিহতের মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়রা জানান, মহাসড়কে বেপরোয়া গতির পিকআপ ও ভারী যানবাহন চলাচলের কারণে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে। দ্রুত সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




মানবিক করিডর নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারকে হাসনাত আব্দুল্লাহর হুঁশিয়ারি

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আব্দুল্লাহ, মানবিক করিডর নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারকে তাদের অবস্থান স্পষ্ট করার জন্য কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

শুক্রবার (১৬ মে) কুমিল্লায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আয়োজনে এক সমাবেশে বক্তব্য প্রদানকালে তিনি এই হুঁশিয়ারি দেন। তিনি বলেন, “আমরা ভারত, পাকিস্তান বা অন্য কোনো বিদেশি শক্তির দাস হতে চাই না। মানবিক করিডর নিয়ে যেসব প্রশ্ন উঠেছে, সেগুলোর পরিষ্কার জবাব দিন।”

হাসনাত আব্দুল্লাহ সরকারের অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কাঠামোর মধ্যে থাকা কিছু শক্তির সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার জন্য অন্তর্বর্তী সরকারকে আহ্বান জানান। তিনি বলেন, এসব সম্পদ রাষ্ট্রীয় কাজে ব্যবহার করা উচিত।

এছাড়া, কুমিল্লার আন্দোলনকারীদের কোনো বিতর্কিত কাজে জড়িত না হওয়ার আহ্বানও জানান তিনি। তিনি আহত ও শহিদ পরিবারের প্রতি বিশেষ মনোযোগ দেওয়ার কথা বলেন।

সমাবেশে উপস্থিত অন্যান্য রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দকে এক হয়ে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে হাসনাত বলেন, “আমাদের যে ঐক্য তৈরি হয়েছে, তা নষ্ট হলে পতিত শক্তির সুবিধা হবে।” তিনি আরও যোগ করেন, “জাতীয় স্বার্থে, কুমিল্লার রাজনীতি, অর্থনীতি এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নে সকল রাজনৈতিক দলগুলোকেই এক হয়ে কাজ করতে হবে।”

হাসনাত আব্দুল্লাহ আশা প্রকাশ করেন, “এই অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনেই কুমিল্লা বিভাগ হবে, ইনশাল্লাহ।” তিনি বলেন, “হাসিনা ও তার বাবা কুমিল্লার প্রতি রাত-দিনের দুঃস্বপ্ন ছিলেন। আবারও তারা ক্ষমতায় এলে কুমিল্লাকে একটি আলাদা রাষ্ট্র বানিয়ে দেবেন।”

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /