নির্বাচন ডিসেম্বর পর্যন্ত বিলম্বের যৌক্তিকতা নেই: আমীর খসরু 

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, নির্বাচন নিয়ে অকারণে সময়ক্ষেপণ করে দেশকে অস্থিরতার দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। তার মতে, নির্বাচন আয়োজনের জন্য ডিসেম্বর পর্যন্ত অপেক্ষার প্রয়োজন নেই, বরং আগামী আগস্ট-অক্টোবরের মধ্যেই নির্বাচন সম্পন্ন করা সম্ভব।

গত রোববার (১৮ মে) রাজধানীর বনানীতে এক সংবাদ সম্মেলনে সমসাময়িক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেন বিএনপির এই নেতা। তিনি বলেন, “নির্বাচনের জন্য সর্বোচ্চ তিন মাসের প্রস্তুতির সময় দরকার হয়। তাহলে কেন ডিসেম্বর পর্যন্ত যাওয়া হবে?”

তিনি আরও বলেন, জাতি এখন গভীর শঙ্কা ও অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে। “দেশ কোন দিকে যাচ্ছে, কেউ জানে না। সবাই মিলে স্বৈরাচার বিদায় করেছে, কিন্তু তার পর গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া চালু হয়নি।”

সরকারকে অন্তর্বর্তীকালীন হিসেবে উল্লেখ করে আমীর খসরু বলেন, “এই সরকারের কাজ হওয়া উচিত ছিল একটি সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজন করে ক্ষমতা নির্বাচিত সরকারের কাছে হস্তান্তর করা। কিন্তু তারা যেন একটি নির্বাচিত সরকার হিসেবে কাজ করছে।”

তিনি প্রশ্ন তোলেন, “বন্দর, করিডোর বা বিনিয়োগ সম্মেলনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে এই সরকারের সিদ্ধান্ত গ্রহণের বৈধতা কোথায়?” পাশাপাশি ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র-সংক্রান্ত আদালতের রায় বাস্তবায়ন না হওয়ায় অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি।

“আদালতের আদেশ যদি মানা না হয়, তাহলে আইনের শাসন প্রশ্নবিদ্ধ হয়। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো কাদের স্বার্থে কাজ করছে, সেটাও এখন প্রশ্নের মুখে,” বলেন আমীর খসরু।

সরকারের কথিত সংস্কার ও ঐকমত্যের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “ঐকমত্য কোথায় এবং কাদের সঙ্গে হচ্ছে—তা স্পষ্ট নয়।”

স্থিতিশীল সহাবস্থানের রাজনীতির আহ্বান জানিয়ে আমীর খসরু বলেন, “বাংলাদেশে আমরা সংঘর্ষমূলক রাজনীতি চাই না। যারা এটি ভিন্ন পথে নিতে চায়, তাদের আমরা রাজনৈতিকভাবে প্রতিহত করব।”

তিনি আরও জানান, “ভবিষ্যতের সব নির্বাচন যেন সুষ্ঠু ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অনুষ্ঠিত হয়, সেটিই আমাদের প্রত্যাশা। নির্বাচন যেন একটি নিয়মিত রুটিনে পরিণত হয়।”

এ সময় তিনি দাবি করেন, “দুই মাস আগে বিএনপির পক্ষ থেকে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধের বিষয়ে লিখিতভাবে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। কিন্তু সরকার এ নিয়ে নাটক করছে—এটি জনগণের মনে প্রশ্ন তুলেছে।”




নগর ভবন ব্লকেডে অচল দক্ষিণ সিটি, সেবা কার্যক্রম বন্ধ

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়রের দায়িত্ব বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেনকে বুঝিয়ে দেওয়ার দাবিতে পঞ্চম দিনের মতো বিক্ষোভ চলছে।আজও (১৯মে) সোমবার সকাল থেকে নগর ভবনের প্রধান ফটকে অবস্থান নিয়ে আন্দোলনকারীরা ব্লকেড কর্মসূচি শুরু করেন। এতে নগর ভবনের সকল সেবা কার্যক্রম কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে।

আন্দোলনকারীরা জানান, নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালের রায়ের পর গেজেট প্রকাশিত হলেও এখনো ইশরাক হোসেনকে শপথ পাঠ করানো হয়নি। তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত নগর ভবনের সামনে আন্দোলন চলবে এবং প্রয়োজনে আরও কঠোর কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে।

সকালে বিভিন্ন এলাকা থেকে মিছিল নিয়ে ঢাকাবাসীর ব্যানারে আন্দোলনকারীরা নগর ভবনের সামনে জড়ো হন। ব্লকেডের কারণে নগর ভবনের ভেতরে কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী বা সেবাগ্রহীতা প্রবেশ করতে পারেননি। ফলে দক্ষিণ সিটির সব ধরনের সেবা কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে।

অন্যদিকে শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ইশরাক হোসেন অভিযোগ করেন, “নির্বাচনের ৩০ দিনের মধ্যে মামলাটি দায়ের করা হয়। কিন্তু তৎকালীন মেয়র তাপস প্রভাব খাটিয়ে মামলাটি থামানোর চেষ্টা করেন।” তিনি বলেন, “আমরা আদালতের সব প্রক্রিয়া অনুসরণ করেছি এবং আদালতের রায়ে জয়ী হয়েছি। এখন শপথ গ্রহণে বাধা দেওয়া মানে আদালত অবমাননা।”

উল্লেখ্য, ২০২০ সালের ১ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী ইশরাক হোসেন আওয়ামী লীগ প্রার্থী শেখ ফজলে নূর তাপসের কাছে পরাজিত হন। তবে গত ২৭ মার্চ নির্বাচনী ট্রাইব্যুনাল ওই ফলাফল বাতিল করে ইশরাককে বৈধ বিজয়ী ঘোষণা করে। এরপর ২২ এপ্রিল নির্বাচন কমিশন আইন মন্ত্রণালয়ের কাছে গেজেট প্রকাশের জন্য পরামর্শ চায়। কিন্তু এখনো শপথ গ্রহণের ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

চলমান আন্দোলনের কারণে নগর ভবনের কার্যক্রমে অচলাবস্থা দেখা দিয়েছে এবং নাগরিক সেবা ব্যাহত হচ্ছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে দ্রুত প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানাচ্ছেন ভুক্তভোগী নাগরিকরা।




সরকারের পরিচালনায় চরম অস্থিরতা, এমনভাবে একটা দোকানও চলে না: অলি আহমদ

দেশের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি)-এর সভাপতি ও বিএনপির সাবেক নেতা কর্নেল (অব.) অলি আহমদ। তিনি বলেছেন, “সরকার যেভাবে চলছে, এভাবে একটা সরকার চলে না—এমনকি একটা দোকানও না।”

গত রোববার (১৮ মে) সন্ধ্যায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন তিনি।

অলি আহমদ বলেন, “দেশের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে সবাই চিন্তিত। সবাই শান্তি ও মঙ্গল চায়। কিন্তু বাস্তবতা হলো, ঢাকা প্রায় অচল। যার যে দাবি, তা নিয়ে রাস্তায় নেমে পড়ছে। কেউ মেয়র হতে চায়, কেউ বরখাস্ত হওয়া চাকরি ফিরে পেতে চায়—আর এভাবে রাস্তা বন্ধ করে দিচ্ছে। এসব দাবির যৌক্তিকতা না থাকলেও পুরো জাতিকে ভোগান্তিতে ফেলা হচ্ছে।”

সরকারের নমনীয়তার সমালোচনা করে তিনি বলেন, “সরকার নমনীয় আচরণ করছে, অথচ বিএনপি ও অন্যান্য বিরোধী দলের বিরুদ্ধে করা মামলাগুলোর দীর্ঘদিনেও নিষ্পত্তি হচ্ছে না। অনেক মামলা নয় মাস ধরে ঝুলে আছে।”

চাঁদাবাজি ও দলীয় নাম ব্যবহারের প্রসঙ্গ টেনে অলি আহমদ বলেন, “বিভিন্ন জায়গায় চাঁদাবাজি হচ্ছে, কেউ কেউ আমার বা আমার দলের নাম ব্যবহার করছে। সরকারের দায়িত্ব হলো তাদের গ্রেপ্তার করা। এখানে কারও প্রতি দয়া দেখিয়ে দেশ চালানো চলবে না।”

তিনি বলেন, “গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সরকারের একক সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার নেই। জাতীয় ইস্যুতে বড় রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করা উচিত। সশস্ত্র বাহিনীকেও বিবেচনায় আনতে হবে, কারণ তারা দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।”

সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও জানান, আগামী বুধবার একটি প্রেস কনফারেন্স করার পরিকল্পনা রয়েছে। সেখানে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থা নিয়ে বিস্তারিত বক্তব্য তুলে ধরা হবে।




“ডিসেম্বরের মধ্যে সুষ্ঠু নির্বাচন না হলে যমুনামুখী লংমার্চ”

“ডিসেম্বরের মধ্যে সুষ্ঠু নির্বাচন না হলে যমুনামুখী লংমার্চ”

বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন আহমেদ প্রধান উপদেষ্টার উদ্দেশ্যে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, “আপনি কি চান নির্বাচনের জন্য আপনার সঙ্গে আমাদের দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হোক? এ দেশের জনগণ যমুনামুখী লংমার্চ করুক?” তিনি দৃঢ়ভাবে বলেন, “আপনার একমাত্র ম্যান্ডেট হলো একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজন করা। ডিসেম্বরের মধ্যেই এই নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে।”

শনিবার বিকালে খুলনার সার্কিট হাউস ময়দানে ‘তারুণ্যের অধিকার প্রতিষ্ঠা’ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সরকার প্রধানকে উদ্দেশ্য করে সালাউদ্দিন বলেন, “আপনি অবলীলায় বাংলাদেশের সমুদ্র বন্দর, নদীবন্দর এবং করিডর বিদেশিদের কাছে কীভাবে হস্তান্তর করছেন? আপনি কোন এখতিয়ারে এসব চুক্তি করছেন?”

তিনি আরও বলেন, “আপনার সরকার একজন বিদেশি নাগরিককে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে। সেই বিদেশির কাছে দেশের সেনাবাহিনী ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত তথ্য রিপোর্ট করা হবে—এটা আপনি কীভাবে ভাবলেন? এটা দেশের জন্য ভয়াবহ ষড়যন্ত্র, যা আমরা হতে দেব না। আমরা এই বিদেশি নিরাপত্তা উপদেষ্টার অপসারণ দাবি করছি।”

এছাড়া সরকারের মধ্যে থাকা এনসিপির দুইজন প্রতিনিধিকে নিয়েও তিনি প্রশ্ন তুলেন। বলেন, “আপনি যদি সত্যিই নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে চান, তাহলে সরকারে থাকা এনসিপি ঘরানার দুইজনকে পদত্যাগ করতে বলুন। তারা সরকারের পক্ষে পক্ষপাতিত্ব করছে।”

প্রধান উপদেষ্টাকে সরাসরি উদ্দেশ করে সালাউদ্দিন আহমেদ বলেন, “আমরা বলেছিলাম—এবার যথেষ্ট হয়েছে। এখন নির্বাচনের পথ সুগম করতে যে জরুরি সংস্কার প্রয়োজন, তা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বাস্তবায়ন করুন। আপনি একবার আশ্বস্ত করেছিলেন, এখন আপনি পিছিয়ে যাচ্ছেন। বিচার ও সংস্কারের অজুহাতে গণতন্ত্রকে বাঁধাগ্রস্ত করবেন না। আপনার দায়িত্বই হলো ডিসেম্বরের মধ্যে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করা।”




সালিশ শেষে হামলা, বৃদ্ধা রাবেয়ার মৃত্যুতে হত্যা মামলা

বরিশালের কর্ণকাঠী এলাকায় জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে সালিশ বৈঠক শেষে প্রতিপক্ষের হামলায় গুরুতর আহত বৃদ্ধা রাবেয়া বেগম চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। এ ঘটনায় বন্দর থানায় হত্যা মামলা দায়ের হয়েছে।

৭০ বছর বয়সী রাবেয়া বেগম সদর উপজেলার কর্ণকাঠী এলাকার মৃত আব্দুল খালেক হাওলাদারের স্ত্রী। তার নাতি জুলহাস খান জানান, পৈত্রিক জমিতে ঘর নির্মাণ করতে গিয়ে তার মামা কামাল হাওলাদার প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়েন। প্রতিবন্ধকতা দেন একই এলাকার বাসিন্দা আবুল কালাম আজাদ, তার ছেলে সুজন হাওলাদার (ভূমি অফিস কর্মচারী), ভাই লিজন, নান্টু এবং আরও কয়েকজন।

বিরোধ মেটাতে গত শুক্রবার (১৬ মে) রাতে স্থানীয়দের উপস্থিতিতে একটি সালিশ বসে। কামাল হাওলাদার সালিশের রায় মেনে নিলেও অপরপক্ষ তা প্রত্যাখ্যান করে। অভিযোগ রয়েছে, বৈঠক শেষে প্রতিপক্ষের লোকজন পরিকল্পিতভাবে হামলা চালায়।

এ হামলায় রাবেয়া বেগম ছাড়াও লিমা বেগম, রুমা বেগম, কামাল হাওলাদার ও জুলহাস খান আহত হন। রাবেয়া বেগমকে গুরুতর অবস্থায় পরদিন সকালে শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে দুপুরে তিনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

১৮ মে ময়নাতদন্ত শেষে তার মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এ ঘটনায় পাঁচজনকে আসামি করে বরিশাল বন্দর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।

বন্দর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম জানান, “ঘটনার পরপরই মামলা গ্রহণ করা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।”

অভিযুক্ত সুজন হাওলাদারের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




১৪ দলীয় জোটকে ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ ঘোষণার দাবি, আইনি নোটিশ

১৪ দলীয় জোট

১৪ দলীয় জোটের সব দলকে “সন্ত্রাসী সংগঠন” হিসেবে ঘোষণা করে তাদের সকল কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার দাবি জানিয়ে নির্বাচন কমিশনসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

লক্ষ্মীপুর জেলার বাসিন্দা এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কর্মী পরিচয় দেওয়া হোসাইন মো. আনোয়ারের পক্ষে আইনজীবী সালাহ উদ্দিন রিগান এই নোটিশটি রোববার (১৮ মে) পাঠান। নোটিশটি পাঠানো হয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনার, আইন সচিব এবং প্রধান উপদেষ্টার মুখ্যসচিবের বরাবর।

নোটিশে দাবি করা হয়, আওয়ামী লীগ এককভাবে নয়, বরং ১৪ দলীয় জোটের যৌথ সিদ্ধান্তেই দেশে দমন-পীড়ন ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয়েছে। অথচ আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকলেও জোটের অন্যান্য শরিক দলের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

হোসাইন মো. আনোয়ার বলেন, “আওয়ামী লীগ একা দমন-পীড়ন চালায়নি, ১৪ দলীয় জোটের সিদ্ধান্ত ও সহযোগিতায় তারা এই কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেছে। এখন আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হলেও জোটের অন্য দলগুলোকে ছাড় দেওয়া হচ্ছে। তাই আইনি নোটিশের মাধ্যমে তাদের বিরুদ্ধেও নিষেধাজ্ঞা আরোপের দাবি জানানো হয়েছে।”

নোটিশে আরও বলা হয়, ৭৫ বছরের পুরনো আওয়ামী লীগ ৩৬ দিনের আন্দোলনের মুখে গত ৫ আগস্ট পালিয়ে যায় এবং বর্তমানে তাদের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ রয়েছে। অথচ, আওয়ামী ফ্যাসিস্ট শাসনের অন্যতম সহযোগী হিসেবে কাজ করেছে ১৪ দলীয় জোট। যদি আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ হয়, তাহলে জোটের অন্যান্য শরিকদের ক্ষেত্রেও একই ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত।

নোটিশে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ জানানো হয়, অন্যথায় হাইকোর্টে রিট আবেদন দায়ের করা হবে বলে সতর্ক করা হয়েছে।




ইয়াহিয়া সিনওয়ারের পর মোহাম্মদ সিনওয়ারের মৃত্যু

সিনওয়ার

সৌদি সংবাদমাধ্যম আল-হাদাত জানিয়েছে, ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসের সামরিক শাখার প্রধান মোহাম্মদ সিনওয়ারের মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত সপ্তাহে খান ইউনিসে দখলদার ইসরায়েলি বাহিনীর নিক্ষেপকৃত আচমকা হামলায় তিনি নিহত হন।

আল-হাদাত আরও জানায়, মোহাম্মদ সিনওয়ারের সঙ্গে অভিযানস্থলে আরও ১০ জন তার সহকর্মীর মরদেহ পাওয়া গেছে।

মোহাম্মদ সিনওয়ার ছিলেন সাবেক প্রধান ইয়াহিয়া সিনওয়ারের ছোট ভাই। গত বছরের অক্টোবর মাসে গাজার রাফা এলাকার ‘তেল সুলতান’ নামক পয়েন্টে ইসরায়েলি সেনাদের সঙ্গে সম্মুখযুদ্ধে ইয়াহিয়া সিনওয়ার নিহত হওয়ার পর তিনি সামরিক শাখার দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে গাজার প্রধান নিয়োগও পান তিনি।

এছাড়া একই হামলায় হামাসের রাফা ব্রিগেডের প্রধান মোহাম্মদ শাবানাও নিহত হয়েছেন বলে আল-হাদাত জানিয়েছে।

ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ এক বৈঠকে মন্তব্য করেন, “মোহাম্মদ সিনওয়ারের মৃত্যুর বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত না হলেও সব ইঙ্গিতই তাঁর নিহত হওয়ার দিকে নির্দেশ করছে।”

উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন হামাসের সামরিক শাখার নেতৃত্বে ছিলেন মোহাম্মদ দেইফ। গত বছরের জুলাইয়ে দেইফ নিহতের পর প্রথমে সামরিক শাখার, পরবর্তীতে ইয়াহিয়া সিনওয়ারের মৃত্যুর পর পুরো গাজার দায়িত্ব পেয়েছিলেন মোহাম্মদ সিনওয়ার।




পবিপ্রবিতে প্রথমবারের মতো ‘গবেষণা উৎসব

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পবিপ্রবি) প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হলো ‘গবেষণা উৎসব ২০২৫’। ১৮ মে, রবিবার দিনব্যাপী এই ব্যতিক্রমধর্মী আয়োজনে উপকূলীয় সংকট, সম্ভাবনা ও টেকসই উন্নয়ন নিয়ে গবেষণামূলক ভাবনা সামনে আসে। পবিপ্রবি রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং সেন্টারের উদ্যোগে এই আয়োজন হয়, যেখানে অংশগ্রহণ করে দেশের খ্যাতিমান শিক্ষাবিদ, গবেষক, নীতিনির্ধারক ও শিক্ষার্থীরা।

উৎসবের উদ্বোধন করেন মাননীয় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার, যিনি ভার্চুয়ালি সংযুক্ত হয়ে বলেন—“বিশ্ববিদ্যালয় হলো জ্ঞানচর্চার কেন্দ্র। শিক্ষক ও গবেষকদের উচিত নিয়মিত গবেষণার সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকা এবং তা শিক্ষার্থীদের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়া।”
অনুষ্ঠানে প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে বক্তব্য দেন পবিপ্রবির ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. কাজী রফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন—“শিক্ষকেরা কেবল পাঠদানে সীমাবদ্ধ না থেকে নিয়মিত গবেষণার মধ্য দিয়ে জাতির অগ্রগতিতে ভূমিকা রাখবেন। অনেক সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও আমাদের শিক্ষকরা প্রশংসনীয় গবেষণা করে চলেছেন।”

বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন ইউজিসি সদস্য প্রফেসর ড. মাসুমা হাবিব, যিনি বলেন—“দক্ষিণাঞ্চলের এই বিশ্ববিদ্যালয়ের রয়েছে বিপুল সম্ভাবনা। এখানকার গবেষণার মান সন্তোষজনক। পবিপ্রবি শিগগিরই ‘সেন্টার অব এক্সিলেন্স’ হিসেবে প্রতিষ্ঠা পাবে বলে আমার বিশ্বাস।”
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এস. এম. হেমায়েত জাহান, যিনি বলেন—“গবেষণার গুণগত মান ও সমাজে প্রাসঙ্গিকতা নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য।”

আয়োজক ও অনুষ্ঠানের সভাপতি প্রফেসর ড. মো. মামুন-উর-রশিদ বলেন—“এই গবেষণা উৎসব কেবল আয়োজন নয়, বরং এটি উপকূলীয় অঞ্চলের সংকট-সম্ভাবনার আলোকে নতুন প্রজন্ম গঠনের একটি ভিত্তি।”
উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ও আইকিউএসি সেলের পরিচালক প্রফেসর ড. মো. ইকতিয়ার উদ্দিন, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, শিক্ষকমণ্ডলী ও বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী।

‘Research for Coastal Resilience’ এই প্রতিপাদ্যে উৎসবে ইউজিসির ২০২২–২৩ অর্থবছরের অনুদানে পাঁচটি অনুষদের দশটি গবেষণা প্রকল্প উপস্থাপন করা হয়। পাশাপাশি রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং সেন্টারের দুটি বিশেষ গবেষণা প্রকল্পও প্রদর্শিত হয়।
উপকূলীয় জীবনের বাস্তবতা, সমস্যা ও সম্ভাবনা ঘিরে এগুলো ছিল সম্পূর্ণ ক্ষেত্রভিত্তিক ও ব্যবহারিক গবেষণা। এতে শিক্ষার্থীদের মাঝে গবেষণার আগ্রহ ও অংশগ্রহণ বাড়ানোর ব্যাপারে ইতিবাচক সাড়া মেলে।

উৎসব শেষে নির্বাচিত গবেষণা প্রতিবেদন নিয়ে একটি স্মারকগ্রন্থ প্রকাশ ও একটি সংগঠনিক প্রতিবেদন প্রস্তুতের উদ্যোগ নেওয়া হয়। গবেষণায় বিশেষ অবদান রাখায় গবেষকদের হাতে সম্মাননা স্মারক, ক্রেস্ট ও সনদপত্র তুলে দেওয়া হয়।

গবেষণা উৎসব ২০২৫ পবিপ্রবির ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের টেকসই গবেষণা ও উপকূলীয় উন্নয়নের জন্য দীর্ঘমেয়াদি রূপরেখা তৈরিতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে—এমনটাই প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



সাকিবকে পেয়ে উচ্ছ্বসিত লাহোর, বললেন ‘বাংলাদেশি ভাই ও সেরা অলরাউন্ডার’

পাকিস্তান সুপার লিগে (পিএসএল) লাহোর কালান্দার্সে যোগ দিয়ে নতুন করে আন্তর্জাতিক ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে যাত্রা শুরু করেছেন সাকিব আল হাসান। পাকিস্তানে পৌঁছানোর পর তাকে ‘বাংলাদেশি ভাই’ এবং ‘পৃথিবীর সেরা অলরাউন্ডার’ বলে বরণ করে নিয়েছে লাহোর টিম ম্যানেজমেন্ট। বিশেষ করে দলে তার আগমন ঘিরে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন দলের মালিক সামিন রানা।

সামিন রানা বলেন, “আমি এবং লাহোর কালান্দার্স পরিবার অত্যন্ত সম্মানিত বোধ করছি, আমাদের ভাই এবং পৃথিবীর অন্যতম সেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান আমাদের দলে যোগ দিয়েছেন। তার পরিসংখ্যান ও পারফরম্যান্সই তার শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ।”

যদিও সাকিব এর আগেও পিএসএলে খেলেছেন, তবে লাহোর কালান্দার্সের হয়ে এবারই প্রথম মাঠে নামতে যাচ্ছেন তিনি। বিশেষ করে প্লে-অফের মতো গুরুত্বপূর্ণ সময়ের ঠিক আগে সাকিবকে দলে পেয়ে খুশি ম্যানেজমেন্ট। সামিন জানান, আগেও তারা সাকিবকে দলে নিতে চেয়েছিলেন। ষষ্ঠ আসরে ড্রাফট থেকে নেওয়া হলেও সময়ের অভাবে সাকিব খেলতে পারেননি। এবার সেই অপূর্ণতা পূরণ হলো।

তিনি আরও বলেন, “অনেকে জানে না, ষষ্ঠ মৌসুমেই আমরা তাকে ড্রাফট থেকে বেছে নিয়েছিলাম। কিন্তু তিনি তখন ব্যস্ত থাকায় আসতে পারেননি। এবার যখন সুযোগ এল, সাকিব কোনো দ্বিধা না করেই রাজি হয়ে গেলেন। যুক্তরাষ্ট্র থেকে দীর্ঘ ভ্রমণ করে পাকিস্তানে এসেছেন তিনি।”

আজ রোববার, বাংলাদেশ সময় রাত ৯টায় লাহোর কালান্দার্স মাঠে নামবে পেশোয়ার জালমির বিপক্ষে। এই ম্যাচে সাকিব আল হাসান একাদশে জায়গা পেতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




বিমানবন্দর থেকে আটক, ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হলো নুসরাত ফারিয়াকে

ঢাকাই সিনেমার আলোচিত চিত্রনায়িকা নুসরাত ফারিয়াকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে আটক করেছে ইমিগ্রেশন পুলিশ। পরে তাকে ভাটারা থানার পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয় এবং সেখান থেকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) কার্যালয়ে নেওয়া হয়।

রবিবার (১৮ মে) দুপুরে থাইল্যান্ডগামী একটি ফ্লাইটে ওঠার সময় ইমিগ্রেশন চেকপোস্টে তাকে আটক করা হয়। পরে ভাটারা থানার একটি মামলার ভিত্তিতে তাকে গোয়েন্দা পুলিশের হেফাজতে নেওয়া হয়।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) যুগ্ম পুলিশ কমিশনার (ডিবি-দক্ষিণ) মোহাম্মদ নাসিরুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান, “নুসরাত ফারিয়াকে ভাটারা থানার একটি মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”

সূত্র জানিয়েছে, ২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন চলাকালীন ফারিয়ার বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করা হয়। মামলার অভিযোগে বলা হয়, তিনি ওই আন্দোলনের বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে একটি রাজনৈতিক দলের পক্ষে অর্থ সহায়তা দিয়েছেন। মামলায় তাকে ওই ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত বলে দাবি করা হয়েছে।

এ বিষয়ে ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) এস এন মো. নজরুল ইসলাম জানান, “তার বিরুদ্ধে মামলা থাকায় ইমিগ্রেশন পুলিশ তাকে আটক করে। এরপর প্রক্রিয়াগতভাবে থানায় হস্তান্তর করা হয়। গ্রেফতার দেখানো হবে কি না, তা তদন্ত ও পর্যালোচনার পর সিদ্ধান্ত হবে। আপাতত তাকে আটক রাখা হয়েছে।”

এ বিষয়ে নুসরাত ফারিয়ার কোনো বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /