নির্বাচন ডিসেম্বর পর্যন্ত বিলম্বের যৌক্তিকতা নেই: আমীর খসরু

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, নির্বাচন নিয়ে অকারণে সময়ক্ষেপণ করে দেশকে অস্থিরতার দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। তার মতে, নির্বাচন আয়োজনের জন্য ডিসেম্বর পর্যন্ত অপেক্ষার প্রয়োজন নেই, বরং আগামী আগস্ট-অক্টোবরের মধ্যেই নির্বাচন সম্পন্ন করা সম্ভব।
গত রোববার (১৮ মে) রাজধানীর বনানীতে এক সংবাদ সম্মেলনে সমসাময়িক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেন বিএনপির এই নেতা। তিনি বলেন, “নির্বাচনের জন্য সর্বোচ্চ তিন মাসের প্রস্তুতির সময় দরকার হয়। তাহলে কেন ডিসেম্বর পর্যন্ত যাওয়া হবে?”
তিনি আরও বলেন, জাতি এখন গভীর শঙ্কা ও অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে। “দেশ কোন দিকে যাচ্ছে, কেউ জানে না। সবাই মিলে স্বৈরাচার বিদায় করেছে, কিন্তু তার পর গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া চালু হয়নি।”
সরকারকে অন্তর্বর্তীকালীন হিসেবে উল্লেখ করে আমীর খসরু বলেন, “এই সরকারের কাজ হওয়া উচিত ছিল একটি সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজন করে ক্ষমতা নির্বাচিত সরকারের কাছে হস্তান্তর করা। কিন্তু তারা যেন একটি নির্বাচিত সরকার হিসেবে কাজ করছে।”
তিনি প্রশ্ন তোলেন, “বন্দর, করিডোর বা বিনিয়োগ সম্মেলনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে এই সরকারের সিদ্ধান্ত গ্রহণের বৈধতা কোথায়?” পাশাপাশি ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র-সংক্রান্ত আদালতের রায় বাস্তবায়ন না হওয়ায় অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি।
“আদালতের আদেশ যদি মানা না হয়, তাহলে আইনের শাসন প্রশ্নবিদ্ধ হয়। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো কাদের স্বার্থে কাজ করছে, সেটাও এখন প্রশ্নের মুখে,” বলেন আমীর খসরু।
সরকারের কথিত সংস্কার ও ঐকমত্যের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “ঐকমত্য কোথায় এবং কাদের সঙ্গে হচ্ছে—তা স্পষ্ট নয়।”
স্থিতিশীল সহাবস্থানের রাজনীতির আহ্বান জানিয়ে আমীর খসরু বলেন, “বাংলাদেশে আমরা সংঘর্ষমূলক রাজনীতি চাই না। যারা এটি ভিন্ন পথে নিতে চায়, তাদের আমরা রাজনৈতিকভাবে প্রতিহত করব।”
তিনি আরও জানান, “ভবিষ্যতের সব নির্বাচন যেন সুষ্ঠু ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অনুষ্ঠিত হয়, সেটিই আমাদের প্রত্যাশা। নির্বাচন যেন একটি নিয়মিত রুটিনে পরিণত হয়।”
এ সময় তিনি দাবি করেন, “দুই মাস আগে বিএনপির পক্ষ থেকে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধের বিষয়ে লিখিতভাবে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। কিন্তু সরকার এ নিয়ে নাটক করছে—এটি জনগণের মনে প্রশ্ন তুলেছে।”








