বরিশালে বিএনপি নেতাকে কুপিয়ে জখম, অভিযুক্ত খাল দখলকারীরা

বরিশালের গৌরনদী উপজেলার ধানডোবা গ্রামে এক বিএনপি নেতাকে কুপিয়ে জখম করার অভিযোগ উঠেছে খাল দখলকারীদের বিরুদ্ধে। গুরুতর আহত ওই নেতা বর্তমানে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

আহত ব্যক্তির নাম আব্দুস সালাম মাঝি (৫৩)। তিনি বার্থী ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য এবং ধানডোবা গ্রামের বাসিন্দা।

পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সরকারি খাল দখল করে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করছিলো স্থানীয় বাসিন্দা সরোয়ার চৌকিদার। রবিবার (১৮ মে) বিকেলে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এর নেতৃত্বে উচ্ছেদ অভিযানে ওই অবৈধ স্থাপনা ভেঙে ফেলা হয়।

আহত সালাম মাঝির ছেলে ও ছাত্রদল নেতা আরমান মাঝি অভিযোগ করে বলেন, “উচ্ছেদ অভিযানের জন্য আমার বাবাকে দায়ী করে সরোয়ার চৌকিদার, কাসেম চৌকিদার ও আলিমসহ আরও কয়েকজন মিলে আজ সোমবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে হামলা চালায়। তারা ধারালো অস্ত্র দিয়ে বাবাকে কুপিয়ে জখম করে পালিয়ে যায়।”

এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীর পরিবার।

অভিযুক্ত সরোয়ার চৌকিদারের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়, ফলে তার বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই সরকারি খাল ও জমি দখল করে প্রভাবশালীরা স্থাপনা নির্মাণ করে আসছে। প্রশাসনের উচ্ছেদ অভিযানের পর এসব দখলদাররা ক্ষিপ্ত হয়ে এমন হামলার ঘটনা ঘটিয়েছে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




ব্যক্তিগত মামলার দায় নেবে না জেলা কমিটি: বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন

বরিশালে একটি ব্যক্তিগত মামলাকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া বিতর্কের প্রেক্ষিতে সংবাদ সম্মেলন করে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বরিশাল জেলা কমিটি। সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এটি কোনোভাবেই সংগঠনের সিদ্ধান্ত ছিল না এবং ব্যক্তির দায় জেলা কমিটি বহন করবে না।

সোমবার (১৯ মে) বরিশাল প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন জেলা কমিটির আহ্বায়ক সাব্বির হোসেন সোহাগ। তিনি বলেন, “১৪ মে সংগঠনের একজন সদস্য সচিব মারজুক আবদুল্লাহ কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। এতে নিরাপরাধ কয়েকজন ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে, যা আমাদের অজানা ছিল। এ মামলার দায় জেলা কমিটি নেবে না।”

তিনি আরও বলেন, “মামলার ঘটনায় বিএম কলেজে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে, যা পূর্বপরিকল্পিত। একটি কুচক্রী মহল শিক্ষাঙ্গনের পরিবেশ নষ্ট করতে চাচ্ছে এবং আমাদের নেতাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে।”

সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, মামলাকারী নেতাকে ইতোমধ্যে শোকজ করা হয়েছে এবং বিষয়টি কেন্দ্রীয় কমিটিকে জানানো হয়েছে। কেন্দ্রীয় কমিটি তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

এ সময় সাব্বির হোসেন দাবি করেন, “বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন কখনোই চাঁদাবাজির সঙ্গে যুক্ত নয়। যদি কারও বিরুদ্ধে এমন অভিযোগের প্রমাণ মেলে, সংগঠন কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।”

সাম্প্রতিক সময়ে জুলাই যোদ্ধা নামের একটি সংগঠন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বরিশালের কয়েকজন সাংবাদিককে ‘ফ্যাসিস্টদের দোসর’ আখ্যা দিয়ে তালিকা প্রকাশ করে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে সাব্বির বলেন, “আমরা এই তালিকার বিষয়ে অবগত নই। বরিশালের সাংবাদিকরা সবসময় আমাদের আন্দোলনে পাশে ছিলেন। সাংবাদিকদের নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে আমাদের মধ্যে দূরত্ব তৈরি করার চেষ্টা চলছে।”

সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের মুখপাত্র সুমি হকসহ অন্যান্য জেলা কমিটির নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




সরকারি খাল দখল করে ভবন নির্মাণ, বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ

বরিশালের আগৈলঝাড়ায় সরকারি খাল দখল করে পাকা ভবন নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি অ্যাপোলো তালুকদারের বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের দাবি, খালটি পানিপ্রবাহের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলেও প্রভাবশালীরা একের পর এক দখল করে স্থাপনা নির্মাণ করছেন।

স্থানীয় সূত্র জানায়, উপজেলার রাজিহার ইউনিয়নের বাটরা বাজারে একটি কালভার্টের সামনে সরকারি খাল দখল করে ভবন নির্মাণ করেন অ্যাপোলো তালুকদার, যিনি পাশের কোটালীপাড়া উপজেলার রামশীল ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হিসেবেও পরিচিত।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত অ্যাপোলো তালুকদার সাংবাদিকদের বলেন, “আমি আমার নিজস্ব জায়গায় ভবন করছি।”

তবে বাটরা বাজার কমিটির সাধারণ সম্পাদক এবং ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক পরিতোষ রায় জানান, “ভবনের অবস্থান আগৈলঝাড়া এলাকায়। অন্যরাও যেহেতু ভবন করেছে, সেহেতু অ্যাপোলো তালুকদারও করেছেন।”

এ বিষয়ে আগৈলঝাড়া উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) উম্মে ইমামা বানিন বলেন, “বিষয়টি জানতে পেরেছি, সরেজমিন তদন্ত করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

স্থানীয়দের দাবি, প্রশাসনের সক্রিয় হস্তক্ষেপ ছাড়া খাল দখলের এমন প্রবণতা বন্ধ হবে না।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /

 




ভাঙ্গা-কুয়াকাটা সড়ক ছয় লেনে উন্নীত হচ্ছে, জানালেন পরিকল্পনা উপদেষ্টা

ফরিদপুরের ভাঙ্গা থেকে পটুয়াখালীর কুয়াকাটা পর্যন্ত সড়ককে ছয় লেনে উন্নীত করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। গুরুত্বপূর্ণ এই প্রকল্পটি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে অনুমোদন পেয়েছে বলে জানিয়েছেন পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ।

সোমবার (১৯ মে) বিকেলে বরিশাল সার্কিট হাউসে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। সভায় মহানগরের নাগরিক সুযোগ-সুবিধা ও উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা হয়। আয়োজনে সভাপতিত্ব করেন বরিশাল জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন।

উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেন, “বরিশাল একটি গুরুত্বপূর্ণ বিভাগীয় শহর। এখানকার যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত করতে ভাঙ্গা-কুয়াকাটা ছয় লেন প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে শিল্প, পর্যটন এবং ব্যবসা-বাণিজ্যে বড় ধরনের অগ্রগতি হবে।”

তিনি আরও জানান, আমদানি-রপ্তানিভিত্তিক গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পগুলোর দ্রুত বাস্তবায়নে সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। একইসঙ্গে দারিদ্র্য বিমোচনে চলমান সামাজিক নিরাপত্তা প্রকল্পগুলো অব্যাহত থাকবে।

সভায় স্থানীয় সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন, সুশীল সমাজ এবং এনজিও প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে উন্মুক্ত আলোচনায় আরও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন দাবির বিষয়ে উপদেষ্টার দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়।

উত্তরে তিনি আশ্বাস দেন—

  • বরিশাল শহরের আশপাশের খাল খনন করা হবে।
  • বরিশাল-বানারীপাড়া সন্ধ্যা নদীর ওপর সেতু নির্মাণ করা হবে।
  • নথুল্লাবাদ থেকে দপদপিয়া ব্রিজ পর্যন্ত বাইপাস সড়ক নির্মাণ।
  • শহরের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে পদচারী সেতু।
  • উন্নতমানের ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট স্থাপন।

স্থানীয় সরকারব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হলে সাধারণ মানুষ উপকৃত হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “ভালো, যোগ্য এবং সৎ জনপ্রতিনিধি ছাড়া জনগণের উন্নয়ন সম্ভব নয়। আশা করছি, আগামী নির্বাচনে একটি জনবান্ধব সরকার গঠিত হবে।”

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন:
বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল আলম ফরিদ, সৈয়দ হাতেম আলী সরকারি কলেজের উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক আক্তারুজ্জামান খান এবং বরিশাল আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট সাদিকুর রহমান লিংকন প্রমুখ।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




ঈদে ঘরে ফেরা সহজ করতে বিআরটিসির বিশেষ বাস সার্ভিস ৩ জুন থেকে শুরু

আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে যাত্রীসাধারণের নিরাপদ, আরামদায়ক ও সুশৃঙ্খল যাতায়াত নিশ্চিত করতে ৩ জুন থেকে চালু হচ্ছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্পোরেশনের (বিআরটিসি) ‘ঈদ স্পেশাল সার্ভিস’।

ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলা ও বিভাগীয় শহরের নির্ধারিত বাস ডিপোগুলো থেকে চালু হচ্ছে অগ্রিম টিকিট বিক্রয় ব্যবস্থা। আগামী ২৪ মে থেকে শুরু হয়ে ১৪ জুন পর্যন্ত এই সার্ভিস চলমান থাকবে।

বিআরটিসি জানায়, ঢাকার মতিঝিল, জোয়ারসাহারা, কল্যাণপুর, গাবতলী, মোহাম্মদপুর, মিরপুর, যাত্রাবাড়ি, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জ ডিপো থেকে উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গসহ বিভিন্ন রুটে যাত্রী পরিবহন করবে বিআরটিসির বাস।

প্রধান রুটগুলো হলো:

  • উত্তরবঙ্গ: রংপুর, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, বগুড়া, গাইবান্ধা, নওগাঁ, পঞ্চগড়, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, রাজশাহী।
  • দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল: বরিশাল, খুলনা, গোপালগঞ্জ, ভাঙ্গা, কুয়াকাটা, মাদারীপুর।
  • মধ্যাঞ্চল ও পূর্বাঞ্চল: ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, জামালপুর, সিলেট, সুনামগঞ্জ, চট্টগ্রাম, ভোলা।
  • বিশেষ সংযোগ রুট: আরিচা, পাটুরিয়া, মাওয়া, পাবনা, সিরাজগঞ্জ, ফরিদপুর, লক্ষ্মীপুর, শেরপুর, কিশোরগঞ্জ, চিলমারী, পাটগাতী।

বাস রিজার্ভেশনের জন্য সংশ্লিষ্ট বাস ডিপো ম্যানেজারদের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য বিআরটিসি নির্দিষ্ট মোবাইল নম্বর সরবরাহ করেছে। বিস্তারিত তথ্য যাত্রীরা সংশ্লিষ্ট ডিপো থেকে নিতে পারবেন।

বিআরটিসি যাত্রীদের এই বিশেষ সেবা গ্রহণে আগ্রহী সবাইকে নির্ধারিত সময়েই টিকিট সংগ্রহের আহ্বান জানিয়েছে।

বিঃদ্রঃ বাস রিজার্ভেশন ও বিস্তারিত তথ্যের জন্য নির্ধারিত ডিপো অফিসে যোগাযোগ করুন।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




বরিশালে ব্যাটারি রিকশা বিরোধী চালকদের প্রতীকী অবস্থান

বরিশাল মহানগরীতে ব্যাটারি চালিত রিকশা বন্ধের দাবিতে প্রতীকী সমাবেশ করেছেন প্যাডেলচালিত রিকশাচালকরা। সোমবার দুপুরে নগরীর সদর রোডে টাউন হলের সামনে রিকশা সারিবদ্ধ করে অবস্থান নেন চালকরা এবং সেখানে এক প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

সমাবেশে বক্তারা জানান, নগরীর লাইন রোড, কাটপট্টির মুখ, জেলখানার মোড়, কাকলির মোড়সহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে ব্যাটারি চালিত রিকশা যাত্রী ছিনিয়ে নিচ্ছে। তারা বলেন, “সারাদিন রিকশা চালিয়ে কোনোভাবে ১০০ টাকা রোজগার করতে পারছি না। পরিবার নিয়ে দুর্বিষহ জীবনযাপন করছি।”

চালকরা অভিযোগ করেন, ব্যাটারি চালিত এসব রিকশার কোনো বৈধ লাইসেন্স নেই, তারা অবৈধভাবে চলাচল করে শহরে যানজট সৃষ্টি করছে এবং অদক্ষ চালকদের কারণে প্রায়শই দুর্ঘটনা ঘটছে। অপরদিকে, প্যাডেল রিকশাচালকদের বেশিরভাগের বৈধ লাইসেন্স থাকলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যাটারি রিকশার বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না।

বক্তারা অবিলম্বে ব্যাটারি চালিত রিকশা বন্ধের আহ্বান জানান এবং তা না হলে আরও কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন।

সমাবেশে বক্তব্য রাখেন মো. কামাল সরদার, শেখ ওমর আলি, নাজমুল খালেক, মোজ্জামেল ও সিদ্দিক ফরাজিসহ আরও অনেকে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




ঈদের আগে ফুটপাত মেরামতের নির্দেশ দিলেন ডিএনসিসি প্রশাসক

আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে পথচারীদের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) আওতাধীন গুরুত্বপূর্ণ সড়কের ফুটপাত মেরামতের নির্দেশ দিয়েছেন ডিএনসিসির প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ।

আজ সোমবার (১৯ মে) ডিএনসিসির ট্রাফিক ইঞ্জিনিয়ারিং সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী খন্দকার মাহবুব আলম স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে বিষয়টি জানানো হয়।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, প্রগতি সরণি, মিরপুর রোড, সাতরাস্তা, এয়ারপোর্ট রোড, মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ, রিং রোড, সাতমসজিদ রোড, মাহবুব মোর্শেদ সরণি, এ কে খন্দকার সড়ক এবং মহাখালী থেকে গুলশান-১ সড়কসহ বেশ কিছু জনগুরুত্বপূর্ণ সড়কের ফুটপাত জরুরি ভিত্তিতে মেরামতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

প্রশাসকের নির্দেশনার পর ডিএনসিসির ১০টি অঞ্চলের আঞ্চলিক নির্বাহী প্রকৌশলীরা সংশ্লিষ্ট সড়কসমূহে মেরামত কার্যক্রম শুরু করেছেন। ঈদের আগে এসব কার্যক্রম শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে।

এছাড়া স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে মেরামতের আগে ও পরে ফুটপাতের ছবি সংযুক্ত করে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের।




অর্থ উপদেষ্টার কক্ষে বিক্ষোভ ; ১০ দিনের আলটিমেটাম সচিবালয় কর্মকর্তাদের

সচিবালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সচিবালয় ভাতা ও রেশনিং ব্যবস্থা চালুর দাবিতে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদের দপ্তরের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন। সোমবার (১৯ মে) দুপুর আড়াইটার দিকে অর্থ মন্ত্রণালয়ের নবনির্মিত ১১ নম্বর ভবনের সামনে মিছিল করে তারা অর্থ উপদেষ্টার কক্ষের সামনে অবস্থান নেন।

অভিযানকারীদের নেতৃত্ব দেন সচিবালয় কর্মকর্তা-কর্মচারী সংযুক্ত পরিষদের সভাপতি মো. বাদিউল কবীর। তার সঙ্গে অন্যান্য নেতারাও উপস্থিত ছিলেন। মিছিল ও অবস্থান চলাকালে তারা দাবির পক্ষে বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং জানিয়ে দেন, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা সেখানেই অবস্থান করবেন। প্রয়োজনে রাতও কাটাবেন বলে জানান।

পরবর্তীতে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদের সঙ্গে সংযুক্ত পরিষদের নেতাদের এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে তারা অর্থ মন্ত্রণালয় ত্যাগ করেন এবং ৭ নম্বর ভবনের সামনে কর্মচারীদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য দেন সভাপতি বাদিউল কবীর।

তিনি বলেন, “সচিবালয়ে রেশন ও ভাতার দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্নভাবে আমরা দাবি তুলে ধরেছি। কিন্তু বিষয়টি এতদিন উপদেষ্টার কাছে পৌঁছায়নি। আজ কর্মচারীদের উপস্থিতিতে অর্থ উপদেষ্টার সঙ্গে আলোচনার সুযোগ হয়েছে।”

বাদিউল কবীর জানান, উপদেষ্টা বলেছেন, “সচিব আমাকে এ বিষয়ে কিছু জানাননি। এখন আমি আপনাদের কথা শুনেছি। আমাকে ১০ থেকে ১২ দিন সময় দিন। আমি বিষয়টি কেবিনেটে তুলবো এবং আজই সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করবো।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা তাকে সময় দিয়েছি। তবে আগামী ১০ দিনের মধ্যে কোনো অগ্রগতি না হলে, পরবর্তী কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। কর্মচারীদের সঙ্গে আলোচনা করেই সে কর্মসূচি নির্ধারণ করা হবে।”

এই অবস্থান কর্মসূচির মধ্য দিয়ে সচিবালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তাদের দাবির বিষয়ে উচ্চ পর্যায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়েছেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।




পটুয়াখালীতে কোরবানির পশুর সরবরাহ চাহিদার চেয়েও বেশি

আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে পটুয়াখালী জেলায় কোরবানির পশুর সরবরাহে কোনো ঘাটতি নেই, বরং চাহিদার তুলনায় প্রায় ৫ হাজার ১৮৩টি পশু উদ্বৃত্ত থাকবে বলে জানিয়েছে জেলা প্রাণীসম্পদ বিভাগ। জেলার আটটি উপজেলার প্রতিটিতে চাহিদার চেয়ে বেশি পশু প্রস্তুত রয়েছে, যা কোরবানির সময় স্থানীয় চাহিদা পূরণের পাশাপাশি অন্যান্য জেলাতেও পশু সরবরাহের সম্ভাবনা তৈরি করেছে।

জেলা প্রাণীসম্পদ কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরে জেলার ৮ উপজেলায় কোরবানির জন্য প্রস্তুত গবাদি পশুর সংখ্যা ১ লাখ ৩৩ হাজার ৩৭১টি। অন্যদিকে জেলার অভ্যন্তরীণ চাহিদা ১ লাখ ২৮ হাজার ১৮৮টি। ফলে উদ্বৃত্ত থাকবে ৫ হাজার ১৮৩টি পশু। এর মধ্যে গরুর সংখ্যা ৮৩ হাজার ৭১১টি। গরুর মধ্যে রয়েছে ৫৭ হাজার ৭টি ষাঁড়, ১৬ হাজার ৯৫৩টি বলদ, এবং ৯ হাজার ৭৫১টি গাভি। এছাড়াও রয়েছে ৩ হাজার ৬৯৬টি মহিষ, ৩৯ হাজার ১২১টি ছাগল এবং ৬ হাজার ৮৪৩টি ভেড়া।

উপজেলা ভিত্তিক হিসাব অনুযায়ী, পটুয়াখালী সদর উপজেলায় ২২ হাজার ৩২০টি, বাউফল উপজেলায় ২৬ হাজার ৮২৩টি, কলাপাড়ায় ২২ হাজার ১৮৯টি, গলাচিপায় ২৩ হাজার ২৭০টি, দশমিনায় ৮ হাজার ২২০টি, মির্জাগঞ্জে ১১ হাজার ৫৩৭টি, দুমকিতে ৯ হাজার ৬৯৪টি এবং রাঙ্গাবালী উপজেলায় ৯ হাজার ৩১৮টি পশু প্রস্তুত রয়েছে। প্রতিটি উপজেলায় চাহিদার তুলনায় বেশি পশু থাকায় চাহিদা পূরণে কোনো ঘাটতির আশঙ্কা নেই।

পটুয়াখালী জেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা ডা. হাবিবুর রহমান বলেন, “জেলায় এবারের কোরবানির পশুর কোনো ঘাটতি নেই। চাহিদা মিটিয়ে উদ্বৃত্ত থাকবে ৫ হাজার ১৮৩টি পশু। ফলে জেলার মানুষ নির্ভার থাকতে পারে।”

জেলা প্রশাসক আবু হাসনাত মোহাম্মদ আরেফীন জানান, “জেলায় কোরবানির পশুর সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে। চাঁদাবাজমুক্ত হাট নিশ্চিত করতে প্রতিটি হাটে ভ্রাম্যমাণ আদালতের ব্যবস্থা করা হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ, গোয়েন্দা সংস্থা ও সেনাবাহিনী যৌথভাবে দায়িত্ব পালন করবে।”

এদিকে, কোরবানির পশু ক্রয়-বিক্রয়ের জন্য প্রস্তুত হাটগুলোকে ঘিরে চলছে প্রস্তুতি। হাটে যাতে কেউ জোরপূর্বক অর্থ আদায় না করতে পারে, সে জন্য কঠোর নজরদারির আশ্বাস দিয়েছেন প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। ফলে এবারের কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে পটুয়াখালীর পশু হাটগুলোতে একধরনের স্বস্তি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



কলাপাড়ায় হাসপাতালগামী সড়ক যেন মরনফাঁদ!

একটানা বৃষ্টির দিনে কলাপাড়ার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হাসপাতালমুখী সড়ক যেন রোগীদের জন্য এক আতঙ্কের নাম হয়ে উঠেছে। পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনের প্রায় দুইশ’ মিটার সড়ক বৃষ্টির পানিতে ডুবে জলকাদায় পরিণত হয়। কোথাও গর্ত, কোথাও রাস্তা—তা বোঝার উপায় নেই। গর্তে জমে থাকা পানি ও কাদা একসাথে মিলেমিশে সড়কটিকে অচল করে ফেলেছে।

এই পথ দিয়েই প্রতিদিন শত শত রোগী, তাদের স্বজন, স্থানীয় বাসিন্দা ও হাসপাতালের চিকিৎসা কর্মীরা যাতায়াত করেন। অথচ বছরের পর বছর ধরে এই সড়কটির করুণ দশা যেন কোনোভাবেই কাটছে না। স্থানীয়রা বলছেন, মাঝে মাঝে সংস্কার কাজ হলেও সঠিকভাবে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় অল্প কিছুদিন পরই আবার আগের মতো অবস্থায় ফিরে যায় সড়কটি। বৃষ্টির দিনে দুর্ভোগের মাত্রা বেড়ে দাঁড়ায় সহ্যের সীমার বাইরে।

রাস্তার পাশে ডাব বিক্রি করা শাহজাহান হাওলাদার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “রোগীরা সবচেয়ে বেশি ভোগে। গর্তে গাড়ি আটকে যায়, কেউ কেউ আবার হাঁটতেও পারে না।” অটোরিকশাচালক সোহরাব হোসেন বলেন, “এই রাস্তা দিয়ে যাত্রী উঠাতে গেলে কেউ যেতে চায় না। গাড়ি ঝাঁকুনিতে পড়ে নষ্ট হয়ে যায়। অনেক সময় তো মাঝপথেই বন্ধ হয়ে যায়।”

যদিও এই সড়কটি সড়ক ও জনপথ বিভাগের আওতায়, কয়েক বছর ধরে রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব নিয়েছে কলাপাড়া পৌরসভা। পৌর প্রশাসন মাঝে মাঝে কিছু কাজ করলেও তা টেকসই হয় না বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। তারা বলছেন, কেবল উপরিভাগে মাটি ফেললেই হবে না, প্রয়োজন পরিকল্পিত ও স্থায়ী মেরামত।

কলাপাড়া পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রবিউল ইসলাম বলেন, “বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে। দ্রুত সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে।” তবে স্থানীয়রা বলছেন, দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা, অবহেলা এবং অদক্ষ ব্যবস্থাপনার কারণে এ রকম জরুরি সড়কটি পড়ে আছে ভয়াবহ অবস্থায়। শহরের প্রবেশ মুখেই যদি এমন দুরবস্থা হয়, তাহলে উন্নয়নের বাস্তব চিত্র কীভাবে বিশ্বাস করা যায়?

স্থানীয়রা অবিলম্বে সড়কটি আধুনিক পদ্ধতিতে টেকসইভাবে মেরামতের দাবি জানাচ্ছেন। তাদের আশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এবার আর কালক্ষেপণ না করে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেবে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম