ভাঙ্গা-কুয়াকাটা সড়ক ছয় লেনে উন্নীত হচ্ছে, জানালেন পরিকল্পনা উপদেষ্টা

ফরিদপুরের ভাঙ্গা থেকে পটুয়াখালীর কুয়াকাটা পর্যন্ত সড়ককে ছয় লেনে উন্নীত করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। গুরুত্বপূর্ণ এই প্রকল্পটি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে অনুমোদন পেয়েছে বলে জানিয়েছেন পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ।

সোমবার (১৯ মে) বিকেলে বরিশাল সার্কিট হাউসে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। সভায় মহানগরের নাগরিক সুযোগ-সুবিধা ও উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা হয়। আয়োজনে সভাপতিত্ব করেন বরিশাল জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন।

উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেন, “বরিশাল একটি গুরুত্বপূর্ণ বিভাগীয় শহর। এখানকার যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত করতে ভাঙ্গা-কুয়াকাটা ছয় লেন প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে শিল্প, পর্যটন এবং ব্যবসা-বাণিজ্যে বড় ধরনের অগ্রগতি হবে।”

তিনি আরও জানান, আমদানি-রপ্তানিভিত্তিক গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পগুলোর দ্রুত বাস্তবায়নে সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। একইসঙ্গে দারিদ্র্য বিমোচনে চলমান সামাজিক নিরাপত্তা প্রকল্পগুলো অব্যাহত থাকবে।

সভায় স্থানীয় সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন, সুশীল সমাজ এবং এনজিও প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে উন্মুক্ত আলোচনায় আরও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন দাবির বিষয়ে উপদেষ্টার দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়।

উত্তরে তিনি আশ্বাস দেন—

  • বরিশাল শহরের আশপাশের খাল খনন করা হবে।
  • বরিশাল-বানারীপাড়া সন্ধ্যা নদীর ওপর সেতু নির্মাণ করা হবে।
  • নথুল্লাবাদ থেকে দপদপিয়া ব্রিজ পর্যন্ত বাইপাস সড়ক নির্মাণ।
  • শহরের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে পদচারী সেতু।
  • উন্নতমানের ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট স্থাপন।

স্থানীয় সরকারব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হলে সাধারণ মানুষ উপকৃত হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “ভালো, যোগ্য এবং সৎ জনপ্রতিনিধি ছাড়া জনগণের উন্নয়ন সম্ভব নয়। আশা করছি, আগামী নির্বাচনে একটি জনবান্ধব সরকার গঠিত হবে।”

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন:
বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল আলম ফরিদ, সৈয়দ হাতেম আলী সরকারি কলেজের উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক আক্তারুজ্জামান খান এবং বরিশাল আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট সাদিকুর রহমান লিংকন প্রমুখ।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




ঈদে ঘরে ফেরা সহজ করতে বিআরটিসির বিশেষ বাস সার্ভিস ৩ জুন থেকে শুরু

আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে যাত্রীসাধারণের নিরাপদ, আরামদায়ক ও সুশৃঙ্খল যাতায়াত নিশ্চিত করতে ৩ জুন থেকে চালু হচ্ছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্পোরেশনের (বিআরটিসি) ‘ঈদ স্পেশাল সার্ভিস’।

ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলা ও বিভাগীয় শহরের নির্ধারিত বাস ডিপোগুলো থেকে চালু হচ্ছে অগ্রিম টিকিট বিক্রয় ব্যবস্থা। আগামী ২৪ মে থেকে শুরু হয়ে ১৪ জুন পর্যন্ত এই সার্ভিস চলমান থাকবে।

বিআরটিসি জানায়, ঢাকার মতিঝিল, জোয়ারসাহারা, কল্যাণপুর, গাবতলী, মোহাম্মদপুর, মিরপুর, যাত্রাবাড়ি, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জ ডিপো থেকে উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গসহ বিভিন্ন রুটে যাত্রী পরিবহন করবে বিআরটিসির বাস।

প্রধান রুটগুলো হলো:

  • উত্তরবঙ্গ: রংপুর, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, বগুড়া, গাইবান্ধা, নওগাঁ, পঞ্চগড়, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, রাজশাহী।
  • দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল: বরিশাল, খুলনা, গোপালগঞ্জ, ভাঙ্গা, কুয়াকাটা, মাদারীপুর।
  • মধ্যাঞ্চল ও পূর্বাঞ্চল: ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, জামালপুর, সিলেট, সুনামগঞ্জ, চট্টগ্রাম, ভোলা।
  • বিশেষ সংযোগ রুট: আরিচা, পাটুরিয়া, মাওয়া, পাবনা, সিরাজগঞ্জ, ফরিদপুর, লক্ষ্মীপুর, শেরপুর, কিশোরগঞ্জ, চিলমারী, পাটগাতী।

বাস রিজার্ভেশনের জন্য সংশ্লিষ্ট বাস ডিপো ম্যানেজারদের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য বিআরটিসি নির্দিষ্ট মোবাইল নম্বর সরবরাহ করেছে। বিস্তারিত তথ্য যাত্রীরা সংশ্লিষ্ট ডিপো থেকে নিতে পারবেন।

বিআরটিসি যাত্রীদের এই বিশেষ সেবা গ্রহণে আগ্রহী সবাইকে নির্ধারিত সময়েই টিকিট সংগ্রহের আহ্বান জানিয়েছে।

বিঃদ্রঃ বাস রিজার্ভেশন ও বিস্তারিত তথ্যের জন্য নির্ধারিত ডিপো অফিসে যোগাযোগ করুন।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




বরিশালে ব্যাটারি রিকশা বিরোধী চালকদের প্রতীকী অবস্থান

বরিশাল মহানগরীতে ব্যাটারি চালিত রিকশা বন্ধের দাবিতে প্রতীকী সমাবেশ করেছেন প্যাডেলচালিত রিকশাচালকরা। সোমবার দুপুরে নগরীর সদর রোডে টাউন হলের সামনে রিকশা সারিবদ্ধ করে অবস্থান নেন চালকরা এবং সেখানে এক প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

সমাবেশে বক্তারা জানান, নগরীর লাইন রোড, কাটপট্টির মুখ, জেলখানার মোড়, কাকলির মোড়সহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে ব্যাটারি চালিত রিকশা যাত্রী ছিনিয়ে নিচ্ছে। তারা বলেন, “সারাদিন রিকশা চালিয়ে কোনোভাবে ১০০ টাকা রোজগার করতে পারছি না। পরিবার নিয়ে দুর্বিষহ জীবনযাপন করছি।”

চালকরা অভিযোগ করেন, ব্যাটারি চালিত এসব রিকশার কোনো বৈধ লাইসেন্স নেই, তারা অবৈধভাবে চলাচল করে শহরে যানজট সৃষ্টি করছে এবং অদক্ষ চালকদের কারণে প্রায়শই দুর্ঘটনা ঘটছে। অপরদিকে, প্যাডেল রিকশাচালকদের বেশিরভাগের বৈধ লাইসেন্স থাকলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যাটারি রিকশার বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না।

বক্তারা অবিলম্বে ব্যাটারি চালিত রিকশা বন্ধের আহ্বান জানান এবং তা না হলে আরও কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন।

সমাবেশে বক্তব্য রাখেন মো. কামাল সরদার, শেখ ওমর আলি, নাজমুল খালেক, মোজ্জামেল ও সিদ্দিক ফরাজিসহ আরও অনেকে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




ঈদের আগে ফুটপাত মেরামতের নির্দেশ দিলেন ডিএনসিসি প্রশাসক

আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে পথচারীদের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) আওতাধীন গুরুত্বপূর্ণ সড়কের ফুটপাত মেরামতের নির্দেশ দিয়েছেন ডিএনসিসির প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ।

আজ সোমবার (১৯ মে) ডিএনসিসির ট্রাফিক ইঞ্জিনিয়ারিং সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী খন্দকার মাহবুব আলম স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে বিষয়টি জানানো হয়।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, প্রগতি সরণি, মিরপুর রোড, সাতরাস্তা, এয়ারপোর্ট রোড, মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ, রিং রোড, সাতমসজিদ রোড, মাহবুব মোর্শেদ সরণি, এ কে খন্দকার সড়ক এবং মহাখালী থেকে গুলশান-১ সড়কসহ বেশ কিছু জনগুরুত্বপূর্ণ সড়কের ফুটপাত জরুরি ভিত্তিতে মেরামতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

প্রশাসকের নির্দেশনার পর ডিএনসিসির ১০টি অঞ্চলের আঞ্চলিক নির্বাহী প্রকৌশলীরা সংশ্লিষ্ট সড়কসমূহে মেরামত কার্যক্রম শুরু করেছেন। ঈদের আগে এসব কার্যক্রম শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে।

এছাড়া স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে মেরামতের আগে ও পরে ফুটপাতের ছবি সংযুক্ত করে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের।




অর্থ উপদেষ্টার কক্ষে বিক্ষোভ ; ১০ দিনের আলটিমেটাম সচিবালয় কর্মকর্তাদের

সচিবালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সচিবালয় ভাতা ও রেশনিং ব্যবস্থা চালুর দাবিতে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদের দপ্তরের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন। সোমবার (১৯ মে) দুপুর আড়াইটার দিকে অর্থ মন্ত্রণালয়ের নবনির্মিত ১১ নম্বর ভবনের সামনে মিছিল করে তারা অর্থ উপদেষ্টার কক্ষের সামনে অবস্থান নেন।

অভিযানকারীদের নেতৃত্ব দেন সচিবালয় কর্মকর্তা-কর্মচারী সংযুক্ত পরিষদের সভাপতি মো. বাদিউল কবীর। তার সঙ্গে অন্যান্য নেতারাও উপস্থিত ছিলেন। মিছিল ও অবস্থান চলাকালে তারা দাবির পক্ষে বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং জানিয়ে দেন, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা সেখানেই অবস্থান করবেন। প্রয়োজনে রাতও কাটাবেন বলে জানান।

পরবর্তীতে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদের সঙ্গে সংযুক্ত পরিষদের নেতাদের এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে তারা অর্থ মন্ত্রণালয় ত্যাগ করেন এবং ৭ নম্বর ভবনের সামনে কর্মচারীদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য দেন সভাপতি বাদিউল কবীর।

তিনি বলেন, “সচিবালয়ে রেশন ও ভাতার দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্নভাবে আমরা দাবি তুলে ধরেছি। কিন্তু বিষয়টি এতদিন উপদেষ্টার কাছে পৌঁছায়নি। আজ কর্মচারীদের উপস্থিতিতে অর্থ উপদেষ্টার সঙ্গে আলোচনার সুযোগ হয়েছে।”

বাদিউল কবীর জানান, উপদেষ্টা বলেছেন, “সচিব আমাকে এ বিষয়ে কিছু জানাননি। এখন আমি আপনাদের কথা শুনেছি। আমাকে ১০ থেকে ১২ দিন সময় দিন। আমি বিষয়টি কেবিনেটে তুলবো এবং আজই সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করবো।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা তাকে সময় দিয়েছি। তবে আগামী ১০ দিনের মধ্যে কোনো অগ্রগতি না হলে, পরবর্তী কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। কর্মচারীদের সঙ্গে আলোচনা করেই সে কর্মসূচি নির্ধারণ করা হবে।”

এই অবস্থান কর্মসূচির মধ্য দিয়ে সচিবালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তাদের দাবির বিষয়ে উচ্চ পর্যায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়েছেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।




পটুয়াখালীতে কোরবানির পশুর সরবরাহ চাহিদার চেয়েও বেশি

আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে পটুয়াখালী জেলায় কোরবানির পশুর সরবরাহে কোনো ঘাটতি নেই, বরং চাহিদার তুলনায় প্রায় ৫ হাজার ১৮৩টি পশু উদ্বৃত্ত থাকবে বলে জানিয়েছে জেলা প্রাণীসম্পদ বিভাগ। জেলার আটটি উপজেলার প্রতিটিতে চাহিদার চেয়ে বেশি পশু প্রস্তুত রয়েছে, যা কোরবানির সময় স্থানীয় চাহিদা পূরণের পাশাপাশি অন্যান্য জেলাতেও পশু সরবরাহের সম্ভাবনা তৈরি করেছে।

জেলা প্রাণীসম্পদ কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরে জেলার ৮ উপজেলায় কোরবানির জন্য প্রস্তুত গবাদি পশুর সংখ্যা ১ লাখ ৩৩ হাজার ৩৭১টি। অন্যদিকে জেলার অভ্যন্তরীণ চাহিদা ১ লাখ ২৮ হাজার ১৮৮টি। ফলে উদ্বৃত্ত থাকবে ৫ হাজার ১৮৩টি পশু। এর মধ্যে গরুর সংখ্যা ৮৩ হাজার ৭১১টি। গরুর মধ্যে রয়েছে ৫৭ হাজার ৭টি ষাঁড়, ১৬ হাজার ৯৫৩টি বলদ, এবং ৯ হাজার ৭৫১টি গাভি। এছাড়াও রয়েছে ৩ হাজার ৬৯৬টি মহিষ, ৩৯ হাজার ১২১টি ছাগল এবং ৬ হাজার ৮৪৩টি ভেড়া।

উপজেলা ভিত্তিক হিসাব অনুযায়ী, পটুয়াখালী সদর উপজেলায় ২২ হাজার ৩২০টি, বাউফল উপজেলায় ২৬ হাজার ৮২৩টি, কলাপাড়ায় ২২ হাজার ১৮৯টি, গলাচিপায় ২৩ হাজার ২৭০টি, দশমিনায় ৮ হাজার ২২০টি, মির্জাগঞ্জে ১১ হাজার ৫৩৭টি, দুমকিতে ৯ হাজার ৬৯৪টি এবং রাঙ্গাবালী উপজেলায় ৯ হাজার ৩১৮টি পশু প্রস্তুত রয়েছে। প্রতিটি উপজেলায় চাহিদার তুলনায় বেশি পশু থাকায় চাহিদা পূরণে কোনো ঘাটতির আশঙ্কা নেই।

পটুয়াখালী জেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা ডা. হাবিবুর রহমান বলেন, “জেলায় এবারের কোরবানির পশুর কোনো ঘাটতি নেই। চাহিদা মিটিয়ে উদ্বৃত্ত থাকবে ৫ হাজার ১৮৩টি পশু। ফলে জেলার মানুষ নির্ভার থাকতে পারে।”

জেলা প্রশাসক আবু হাসনাত মোহাম্মদ আরেফীন জানান, “জেলায় কোরবানির পশুর সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে। চাঁদাবাজমুক্ত হাট নিশ্চিত করতে প্রতিটি হাটে ভ্রাম্যমাণ আদালতের ব্যবস্থা করা হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ, গোয়েন্দা সংস্থা ও সেনাবাহিনী যৌথভাবে দায়িত্ব পালন করবে।”

এদিকে, কোরবানির পশু ক্রয়-বিক্রয়ের জন্য প্রস্তুত হাটগুলোকে ঘিরে চলছে প্রস্তুতি। হাটে যাতে কেউ জোরপূর্বক অর্থ আদায় না করতে পারে, সে জন্য কঠোর নজরদারির আশ্বাস দিয়েছেন প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। ফলে এবারের কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে পটুয়াখালীর পশু হাটগুলোতে একধরনের স্বস্তি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



কলাপাড়ায় হাসপাতালগামী সড়ক যেন মরনফাঁদ!

একটানা বৃষ্টির দিনে কলাপাড়ার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হাসপাতালমুখী সড়ক যেন রোগীদের জন্য এক আতঙ্কের নাম হয়ে উঠেছে। পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনের প্রায় দুইশ’ মিটার সড়ক বৃষ্টির পানিতে ডুবে জলকাদায় পরিণত হয়। কোথাও গর্ত, কোথাও রাস্তা—তা বোঝার উপায় নেই। গর্তে জমে থাকা পানি ও কাদা একসাথে মিলেমিশে সড়কটিকে অচল করে ফেলেছে।

এই পথ দিয়েই প্রতিদিন শত শত রোগী, তাদের স্বজন, স্থানীয় বাসিন্দা ও হাসপাতালের চিকিৎসা কর্মীরা যাতায়াত করেন। অথচ বছরের পর বছর ধরে এই সড়কটির করুণ দশা যেন কোনোভাবেই কাটছে না। স্থানীয়রা বলছেন, মাঝে মাঝে সংস্কার কাজ হলেও সঠিকভাবে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় অল্প কিছুদিন পরই আবার আগের মতো অবস্থায় ফিরে যায় সড়কটি। বৃষ্টির দিনে দুর্ভোগের মাত্রা বেড়ে দাঁড়ায় সহ্যের সীমার বাইরে।

রাস্তার পাশে ডাব বিক্রি করা শাহজাহান হাওলাদার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “রোগীরা সবচেয়ে বেশি ভোগে। গর্তে গাড়ি আটকে যায়, কেউ কেউ আবার হাঁটতেও পারে না।” অটোরিকশাচালক সোহরাব হোসেন বলেন, “এই রাস্তা দিয়ে যাত্রী উঠাতে গেলে কেউ যেতে চায় না। গাড়ি ঝাঁকুনিতে পড়ে নষ্ট হয়ে যায়। অনেক সময় তো মাঝপথেই বন্ধ হয়ে যায়।”

যদিও এই সড়কটি সড়ক ও জনপথ বিভাগের আওতায়, কয়েক বছর ধরে রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব নিয়েছে কলাপাড়া পৌরসভা। পৌর প্রশাসন মাঝে মাঝে কিছু কাজ করলেও তা টেকসই হয় না বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। তারা বলছেন, কেবল উপরিভাগে মাটি ফেললেই হবে না, প্রয়োজন পরিকল্পিত ও স্থায়ী মেরামত।

কলাপাড়া পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রবিউল ইসলাম বলেন, “বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে। দ্রুত সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে।” তবে স্থানীয়রা বলছেন, দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা, অবহেলা এবং অদক্ষ ব্যবস্থাপনার কারণে এ রকম জরুরি সড়কটি পড়ে আছে ভয়াবহ অবস্থায়। শহরের প্রবেশ মুখেই যদি এমন দুরবস্থা হয়, তাহলে উন্নয়নের বাস্তব চিত্র কীভাবে বিশ্বাস করা যায়?

স্থানীয়রা অবিলম্বে সড়কটি আধুনিক পদ্ধতিতে টেকসইভাবে মেরামতের দাবি জানাচ্ছেন। তাদের আশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এবার আর কালক্ষেপণ না করে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেবে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



ইশরাক হোসেনের শপথ নিয়ে আইনি জটিলতা রয়েছে: আসিফ মাহমুদ

আসিফ মাহমুদ

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র হিসেবে ইশরাক হোসেনের শপথ গ্রহণ নিয়ে আইনি সমস্যা এবং মেয়াদ সংক্রান্ত জটিলতা রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।

সোমবার (১৯ মে) দুপুরে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিল (ইউএনএফপিএ)-এর সঙ্গে এক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, “মেয়র হিসেবে শপথ সংক্রান্ত বিষয়ে এখনো কিছু আইনি জটিলতা রয়েছে। মেয়াদ সংক্রান্ত বিষয়গুলোও স্পষ্ট করতে হবে। এসব জটিলতা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্তে যাওয়া সম্ভব নয়।”

এ সময় আন্দোলনরত ইশরাক হোসেনের সমর্থকদের উদ্দেশে উপদেষ্টা বলেন, “আন্দোলন গণতান্ত্রিক অধিকার, তবে জনদুর্ভোগের বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে। নগরবাসীর ভোগান্তি যেন না হয়, সে দিকেও খেয়াল রাখা জরুরি।”

প্রসঙ্গত, নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালের রায়ে বৈধ ঘোষণার পরেও এখন পর্যন্ত ইশরাক হোসেনের শপথ অনুষ্ঠান হয়নি। এতে করে তার সমর্থকরা নগর ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন, যা সিটি করপোরেশনের কার্যক্রমে প্রভাব ফেলছে।




ইশরাক হোসেনকে দায়িত্ব দেওয়ার দাবিতে নগর ভবন ঘেরাও

ইশরাক হোসেন

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) বৈধ মেয়র হিসেবে ইশরাক হোসেনকে দায়িত্ব হস্তান্তরের দাবিতে নগর ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন তার শত শত সমর্থক। সোমবার (১৯ মে) সকাল থেকে তারা এ কর্মসূচি শুরু করেছেন, যা চলবে দুপুর ৩টা পর্যন্ত।

সমর্থকরা নগর ভবন ও আশপাশের এলাকায় জড়ো হয়ে ‘ব্লকেড’ কর্মসূচি পালন করছেন বলে জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। এতে করে নগর ভবনের স্বাভাবিক কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। এর আগেও গত ১৪ মে থেকে চলমান অবস্থান কর্মসূচির কারণে অফিস কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছিল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

জানা যায়, ২০২০ সালের ১ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী শেখ ফজলে নূর তাপসের কাছে পরাজিত হয়েছিলেন বিএনপি প্রার্থী ও দলটির আন্তর্জাতিক বিষয়ক কমিটির সদস্য ইশরাক হোসেন। তবে চলতি বছরের ২৭ মার্চ ঢাকার নির্বাচনী ট্রাইব্যুনাল ওই ফলাফল বাতিল করে ইশরাককে বৈধ মেয়র হিসেবে ঘোষণা করে।

পরবর্তীতে নির্বাচন কমিশন ২৭ এপ্রিল এ সংক্রান্ত গেজেট প্রকাশ করে। তবে গেজেট প্রকাশের পরও এখনো ইশরাক হোসেনের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়নি। এ বিষয়টিকে কেন্দ্র করে বিএনপি নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মাঝে ক্ষোভ ও অসন্তোষ বাড়ছে।

ইশরাকের সমর্থকদের দাবি, বৈধ মেয়র হিসেবে তিনি যে দায়িত্ব গ্রহণে অধিকারী, তা নির্বাচন ট্রাইব্যুনালের রায় এবং ইসির গেজেটেই স্পষ্ট। অথচ বারবার দাবি জানানোর পরও তার শপথ অনুষ্ঠান স্থগিত রাখা হয়েছে—যা অযৌক্তিক ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার পরিপন্থী।

সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং নগর ভবনের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

ইশরাক হোসেনের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য পাওয়া না গেলেও তার ঘনিষ্ঠ মহল সূত্রে জানা গেছে, প্রয়োজনে আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার বিষয়টিও তারা বিবেচনা করছেন।




সন্ধ্যার পর আতঙ্কের আরেক নাম: সোহরাওয়ার্দী উদ্যান

সোহরাওয়ার্দী উদ্যান

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পেছনে অবস্থিত ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, যেখানে ১৯৭১ সালের বিজয়ের আত্মসমর্পণের সাক্ষী হয়েছিলেন লাখো মানুষ, সেই উদ্যান আজ যেন রাত নামলেই হারিয়ে ফেলে তার ইতিহাসের মাহাত্ম্য। অন্ধকার নামার সঙ্গে সঙ্গে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান বদলে যায় অপরাধের এক জগতে, যেখানে মাদক, ভয়, এবং অনাচার দাপটের সাথে রাজত্ব করে।

সন্ধ্যার পরই পাল্টে যায় উদ্যানের চেহারা। মুক্তমঞ্চ থেকে শুরু করে কালীমন্দিরের পাশ, চারুকলার গেট থেকে লেকপাড়—সব জায়গায় শুরু হয় মাদকসেবী ও বিক্রেতাদের আনাগোনা। গাঁজা, ইয়াবা, ফেনসিডিলসহ বিভিন্ন মাদকদ্রব্য প্রকাশ্যে কেনাবেচা হয়। এর সঙ্গে যুক্ত হয় ছিনতাই, ব্ল্যাকমেইল, অস্ত্রের ঝনঝনানি এবং অসামাজিক কার্যকলাপ।

এই অপরাধচক্র এতটাই ভয়ঙ্কর হয়ে উঠেছে যে, সাধারণ পথচারী বা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও সন্ধ্যার পর এই এলাকাগুলো এড়িয়ে চলেন। এক শিক্ষার্থী বলেন, “সন্ধ্যার পর চারপাশে কেবল ধোঁয়ার গন্ধ আর সন্দেহজনক চলাফেরা দেখা যায়। পুলিশ দেখেও না দেখার ভান করে।” এমন পরিস্থিতিতে আবাসিক শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে পথচারী, এমনকি হাসপাতালের রোগী ও দর্শনার্থীরাও পড়ছেন নিরাপত্তাহীনতায়।

সবচেয়ে মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে সম্প্রতি, মঙ্গলবার রাতে। দুর্বৃত্তদের হামলায় প্রাণ হারান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং ছাত্রদল নেতা শাহরিয়ার আলম সাম্য। তার মৃত্যুর পর আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে—উদ্যানটি কেবল অপরাধপ্রবণ এলাকাই নয়, বরং প্রাণঘাতীও হয়ে উঠছে।

একাধিক সূত্রে জানা গেছে, উদ্যানের গুরুত্বপূর্ণ স্থান যেমন টিএসসি-সংলগ্ন গেট, মন্দির এলাকা, ভিআইপি গেট, মুক্তমঞ্চ এবং ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটের পেছনের অংশে সন্ধ্যার পর প্রকাশ্যে মাদক বিক্রি হয়। এসব জায়গা অপরাধীদের দখলে চলে গেছে। স্থানীয় রিকশাচালক বলেন, “গাঁজা কিনতে ছাত্র, ব্যবসায়ী, রাজনীতিক সবাই আসে। এক পুরিয়া ১০০ টাকা।” তিনি আরও জানান, রাত নামলেই মুক্তমঞ্চে গাঁজার আসর বসে।

রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর উদ্যানের ‘নিয়ন্ত্রণ’ও বদলেছে। আগে ছাত্রলীগ নিয়ন্ত্রণ করলেও এখন নতুন গোষ্ঠী জায়গা দখল করেছে, যারা ব্যবসার জন্য চাঁদা আদায় করছে।

এই পরিস্থিতিতে দর্শনার্থীরা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছেন। উদ্যান ঘুরতে আসা আসমা বেগম বলেন, “এত সুন্দর একটা জায়গা অপরাধীদের দখলে যেতে দিতে পারি না।” আল আমিন নামে আরেকজন বলেন, “সিসিটিভি, পর্যাপ্ত আলো, টহল এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ছাড়া কিছুতেই পরিবেশ পাল্টাবে না।”

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ জানিয়ে লিখেছেন, “সোহরাওয়ার্দী উদ্যান হয়ে উঠেছে মাদক ও চাঁদাবাজির আখড়া। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কিছু সদস্য এসব অপরাধের নীরব বা সক্রিয় অংশীদার।”

এই ঐতিহাসিক উদ্যান রক্ষার জন্য প্রয়োজন কঠোর পদক্ষেপ। উদ্যানজুড়ে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন, পর্যাপ্ত আলো, নিয়মিত পুলিশি টহল, এবং অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা জরুরি। একইসাথে প্রয়োজন রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও নাগরিক সমাজের সচেতন ভূমিকা।

সোহরাওয়ার্দী উদ্যান কেবল একটি পার্ক নয়—এটি আমাদের জাতীয় আত্মপরিচয়ের প্রতীক। এই উদ্যানকে নিরাপদ, সুন্দর ও সম্মানজনক স্থানে রূপান্তর করা এখন সময়ের দাবি।