স্টারলিংক ইন্টারনেট: বাংলাদেশের টেলিযোগাযোগে আসছে নতুন যুগ

স্টারলিংক

বাংলাদেশের টেলিযোগাযোগ খাতে আসছে যুগান্তকারী পরিবর্তন। স্যাটেলাইটভিত্তিক উচ্চগতির ইন্টারনেট সেবা স্টারলিংক আগামী ৯ এপ্রিল দেশে পরীক্ষামূলকভাবে চালু হতে যাচ্ছে। সফলভাবে পরীক্ষার পর পরবর্তী তিন মাসের মধ্যে বাণিজ্যিকভাবে এই সেবা চালু হবে বলে নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)।

বিটিআরসি জানিয়েছে, বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ ধনী ও উদ্যোক্তা ইলন মাস্কের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স পরিচালিত স্টারলিংক সেবাটি চালুর জন্য প্রয়োজনীয় নীতিমালা ইতোমধ্যে চূড়ান্ত করা হয়েছে। এখন কেবল আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের অপেক্ষা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, স্টারলিংকের মাধ্যমে বাংলাদেশের ইন্টারনেট সেবায় একটি বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসতে পারে। দেশের প্রত্যন্ত ও দুর্গম অঞ্চলে, যেখানে এখনো ফাইবার অপটিক পৌঁছায়নি, সেখানেও সরাসরি স্যাটেলাইট সংযোগের মাধ্যমে দ্রুতগতির ইন্টারনেট পৌঁছে দেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। এতে করে ডিজিটাল বৈষম্য অনেকটাই ঘুচে যেতে পারে।

প্রাথমিক পর্যায়ে ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বৃহৎ করপোরেট সংস্থা, ই-কমার্স এবং প্রযুক্তিভিত্তিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো স্টারলিংকের মূল গ্রাহক হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

টেলিকম বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্টারলিংক শুধু ইন্টারনেট ব্যবহারের অভিজ্ঞতাই বদলাবে না—এটি শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি এবং অর্থনীতিতেও বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে ইন্টারনেট বাজারে যে একচেটিয়া মনোপলি ব্যবসা চলে আসছে, স্টারলিংক তার অবসান ঘটিয়ে প্রতিযোগিতামূলক ও গ্রাহকবান্ধব সেবা নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে।

তবে স্থানীয় ইন্টারনেট সেবা প্রদানকারী (ISP) প্রতিষ্ঠানগুলোর অনেকে বলছেন, তারা এখনই কোনো চাপ অনুভব করছেন না। যদিও বিশ্লেষকদের মতে, ভবিষ্যতে এই প্রতিযোগিতায় কিছু আইএসপি আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

উল্লেখযোগ্যভাবে, স্টারলিংকের ইন্টারনেট সেবায় গ্রাহকরা উচ্চমানের ভিডিও স্ট্রিমিং, অনলাইন গেমিং এবং ভিডিও কলিং-এর ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য সুবিধা পাবেন। যদিও খরচ কিছুটা বেশি হতে পারে, তবুও উন্নত গতি ও নিরবচ্ছিন্ন সংযোগের কারণে অনেকেই এই সেবার প্রতি আকৃষ্ট হবেন।

সব মিলিয়ে, স্টারলিংকের আগমন বাংলাদেশের ডিজিটাল রূপান্তরের গতি আরও বাড়িয়ে দেবে। বিশেষ করে গ্রাম ও দুর্গম অঞ্চলের মানুষরা নতুনভাবে যুক্ত হতে পারবেন ডিজিটাল বিশ্বে। এটি হতে পারে দেশের টেলিযোগাযোগ খাতের জন্য এক ঐতিহাসিক মাইলফলক।




ভোলা-বরিশাল সেতু ও গ্যাস সংযোগসহ ৬ দাবিতে ভোলাবাসীর সংবাদ সম্মেলন

ভোলা জেলার উন্নয়ন ও জনস্বার্থে ছয় দফা দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে ‘আমরা ভোলাবাসী’ নামে একটি সংগঠন। মঙ্গলবার দুপুরে ভোলা প্রেস ক্লাবে অনুষ্ঠিত এ সম্মেলনে সংগঠনের আহ্বায়ক গোলাম নবী আলমগীর লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন।

সংগঠনটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, গ্যাস সমৃদ্ধ জেলা ভোলার ঘরে ঘরে গ্যাস সংযোগ নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে অবহেলার শিকার ভোলাবাসী। গ্যাস জাতীয় সম্পদ হলেও তা ব্যবহার করছে অন্য জেলা, অথচ ভোলাবাসীর নিজ ঘরে এখনো গ্যাস সংযোগ পৌঁছায়নি।

আহ্বায়ক গোলাম নবী আলমগীর বলেন, সরকার প্রথমে ভোলা সদর ও বোরহানউদ্দিন পৌর এলাকায় প্রায় ৫০ কিলোমিটার গ্যাস পাইপলাইন স্থাপন করে। এই পরিসরে প্রায় ২০ হাজার পরিবারের গ্যাস সংযোগের সুযোগ থাকলেও মাত্র ২০৩৫ জন গ্রাহককে সংযোগ দিয়ে প্রকল্প বন্ধ করা হয়। তিনি অভিযোগ করেন, তৎকালীন সরকারের দুর্নীতিগ্রস্ত জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদের যোগসাজশে ইন্ট্রাকো নামের একটি বেসরকারি কোম্পানির মাধ্যমে সুন্দরবন গ্যাস কোম্পানির সঙ্গে বৈষম্যমূলক চুক্তি করে ভোলার গ্যাস ঢাকাসহ অন্যান্য অঞ্চলে সরবরাহ করা হচ্ছে।

তিনি জানান, ইন্ট্রাকো মাত্র ১৭ টাকায় গ্যাস কিনে ৪৭ টাকায় বিক্রি করছে, যেখানে সুন্দরবন গ্যাস কোম্পানি ভোলার সিরামিক কোম্পানি শেলটেককে গ্যাস দিচ্ছে ৩০ টাকায়। এই বৈষম্যমূলক ব্যবস্থা বাতিলের দাবি জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে ছয় দফা দাবির মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল:

১. ভোলার প্রতিটি ঘরে গ্যাস সংযোগ নিশ্চিতকরণ
২. সরকারি মেডিকেল কলেজ স্থাপন ও ২৫০ শয্যার হাসপাতাল আধুনিকীকরণ
৩. ভোলা-বরিশাল সেতু নির্মাণ কাজ দ্রুত শুরু
৪. গ্যাসভিত্তিক সার কারখানা ও ইপিজেড স্থাপন
৫. নদীভাঙন থেকে ভোলাকে স্থায়ীভাবে রক্ষা
৬. একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। এর মধ্যে ছিলেন ভোলা জেলা বিজেপির সভাপতি আমিরুল ইসলাম রতন, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব রাইসুল আলম, সুজন সভাপতি মোবাশ্বের উল্ল্যাহ চৌধুরী, জামায়াতে ইসলামীর জেলা আমির মো. জাকির হোসাইন, বিএনপি নেতা এনামুল হক, মীর মোশারেফসহ অনেকে।

‘আমরা ভোলাবাসী’ জানিয়েছে, আগামী শনিবার ছয় দফা দাবির বাস্তবায়নের দাবিতে একটি সমাবেশ, পদযাত্রা এবং ইন্ট্রাকো-সুন্দরবন গ্যাস কোম্পানি ঘেরাও কর্মসূচি পালন করা হবে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /


 




মহিপুরে সেতু ধসে যানচলাচল বন্ধ, দুর্ভোগে হাজারো মানুষ

পটুয়াখালীর মহিপুরে হঠাৎ বিকট শব্দে ধসে পড়েছে একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু। মঙ্গলবার (২০ মে) সকালবেলা লতাচাপলী ইউনিয়নের আজিমপুর-তাহেরপুর গ্রামের মাঝ দিয়ে বয়ে যাওয়া লক্ষীর খালের ওপর নির্মিত সেতুটি হঠাৎ করে ভেঙে খালের মধ্যে দেবে যায়।

সেতুটি ধসে পড়লেও কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে এতে করে ভোগান্তিতে পড়েছে অন্তত ১৫টি গ্রামের প্রায় ১৫ হাজার মানুষ। একইসাথে চরম বিপাকে পড়েছেন কুয়াকাটায় আগত দেশি-বিদেশি পর্যটকরাও। কারণ এই সেতু ছিল মহিপুর-কুয়াকাটা যোগাযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।

২০০৪ সালে এলজিইডি’র অর্থায়নে নির্মিত এই সেতুটির অবস্থা বিগত ৫ বছর ধরেই ছিল অত্যন্ত নাজুক। স্থানীয় বাসিন্দারা একাধিকবার মেরামতের জন্য আবেদন করলেও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি। বরং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেতুর নিচের পিলার ও উপরের ঢালাইয়ের অবস্থাও দুর্বল হতে থাকে।

সেতুটি ধসে যাওয়ার পর পুরো এলাকা কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে আজিমপুর, তাহেরপুর, হরিণঘাটা, চালিতাবুনিয়া, লতাচাপলীসহ একাধিক গ্রামের মানুষ এখন হাঁটাপথে বা নৌকায় ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন। কৃষক, শ্রমজীবী, শিক্ষার্থীসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ চরম দুর্ভোগে রয়েছেন।

স্থানীয়রা জানান, প্রতিদিন শতশত মানুষ ও যানবাহন এই সেতু ব্যবহার করত। এখন বিকল্প কোনো পথ না থাকায় প্রায় ৮-১০ কিলোমিটার ঘুরে চলতে হচ্ছে। কেউ কেউ স্থানীয় বাঁশের সাঁকো তৈরি করে অস্থায়ীভাবে পারাপার করার চেষ্টা করছেন, যা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, সেতুর অবস্থা দীর্ঘদিন ধরেই খারাপ হলেও স্থানীয় প্রশাসন কিংবা জনপ্রতিনিধিরা সময়মতো প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়নি। তাদের দাবি, দ্রুত এই সেতুটি পুনর্নির্মাণ করে যোগাযোগ ব্যবস্থা স্বাভাবিক করতে হবে।

এ বিষয়ে কলাপাড়া উপজেলা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী সাদেকুর রহমান সাদীক জানিয়েছেন, শুধু এই সেতুই নয়, উপজেলার ঝুঁকিপূর্ণ আরও ৫টি সেতুর তালিকা করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হবে। প্রয়োজনীয় বরাদ্দ পেলেই সেতু নির্মাণ কাজ শুরু করা হবে বলেও তিনি জানান।

তবে স্থানীয়রা প্রশ্ন তুলেছেন—ঝুঁকি জানা সত্ত্বেও কেন সময়মতো সংস্কার হয়নি? কে নেবে এই অবহেলার দায়? তারা দ্রুত সময়ের মধ্যে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



“মিথ্যা মামলা ও দমন-পীড়ন সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট করছে: ইমাম হায়াত”

নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান আল্লামা ইমাম হায়াত অভিযোগ করেছেন, মিথ্যা মামলা, বেআইনি গ্রেপ্তার এবং শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদকে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলায় রূপান্তর করার মাধ্যমে বর্তমান সরকার গণতন্ত্রবিরোধী অবস্থান গ্রহণ করেছে, যা সরকারের ভাবমূর্তিকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

মঙ্গলবার (২০মে) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, “সরকারের ভেতরে একটি চরমপন্থী গোষ্ঠী এবং পুলিশের কিছু অতিউৎসাহী ও উগ্র মানসিকতার কর্মকর্তা ক্ষমতার অপব্যবহার করছে। এর ফলে সরকার জনরোষের মুখে পড়েছে এবং প্রধান উপদেষ্টার ইমেজও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।”

তিনি বলেন, “মিথ্যা মামলা, অবৈধ গ্রেপ্তার, অন্যায় রিমান্ড, বাকস্বাধীনতা হরণ এবং নারীসহ সাধারণ জনগণের ওপর দমনপীড়ন — সব মিলিয়ে রাষ্ট্রে একটি অমানবিক ও ভয়ভীতির পরিবেশ তৈরি হয়েছে।” এসব কর্মকাণ্ডের কারণে জনগণের মধ্যে ক্ষোভ ও ঘৃণা তৈরি হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ইমাম হায়াত আরও বলেন, “যারা শান্তিপূর্ণভাবে সরকারের সমালোচনা করে, তাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা দায়ের করা একটি অগণতান্ত্রিক ও ফ্যাসিবাদী প্রবণতার বহিঃপ্রকাশ।” তিনি দাবি করেন, “মিথ্যাকেই এখন রাষ্ট্রের ভিত্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা চলছে।”

বিবৃতিতে তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “এখনও সময় আছে—গণতান্ত্রিক চরিত্রে ফিরে যান, একটি অংশগ্রহণমূলক ও সুষ্ঠু নির্বাচনের আয়োজন করুন এবং ইতিহাসে নিজেদের একটি সম্মানজনক অবস্থানে প্রতিষ্ঠিত করুন।”

ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের পক্ষ থেকে তিনি দেশের গণতান্ত্রিক ধারা রক্ষায় সবার প্রতি ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।




পুলিশের বাঁধায় কাকরাইলে থেমে গেল ‘মার্চ টু যমুনা’

বকেয়া বেতন পরিশোধের দাবিতে গার্মেন্টস শ্রমিকরা ‘মার্চ টু যমুনা’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবনের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করলে পুলিশের বাধায় কাকরাইল মোড়ে অবস্থান নেন তারা।

মঙ্গলবার (২০ মে) বিকেল ৩টার দিকে বিক্ষোভকারীরা মিছিল নিয়ে পল্টন থেকে কাকরাইল মোড়ে পৌঁছান। এ সময় তারা ব্যানার হাতে নানা স্লোগান দিতে দিতে যমুনার অভিমুখে অগ্রসর হচ্ছিলেন। তবে কাকরাইল মোড়ে পুলিশি বাধার মুখে পড়লে তারা সেখানে অবস্থান নেন এবং রাস্তা অবরোধ করে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রায় ১৮ মাস আগে বন্ধ হয়ে যাওয়া ডার্ড গ্রুপের পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের শ্রমিক-কর্মচারীরা তাদের বকেয়া বেতন এবং অন্যান্য পাওনাদি পরিশোধের দাবিতে এই কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন। তাদের দাবি, পূর্বে স্বাক্ষরিত ত্রিপক্ষীয় চুক্তি অনুযায়ী সব পাওনা পরিশোধ করতে হবে।

আন্দোলনকারীরা ‘উপদেষ্টা বরাবর স্মারকলিপি’ শীর্ষক ব্যানার হাতে নিয়ে অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন। তারা দ্রুত সময়ের মধ্যে তাদের ন্যায্য পাওনা বুঝিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।




“ইশরাকের শপথে বাধা, অন্তর্বর্তী সরকারকে দায়ী করলেন রিজভী”

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী অভিযোগ করেছেন, আদালতের রায় সত্ত্বেও ইশরাক হোসেনকে মেয়র পদে শপথ নিতে বাধা দিচ্ছে সরকার। তিনি বলেন, “সরকার গায়ের জোরে ইশরাককে মেয়র হতে দিচ্ছে না। চট্টগ্রামে ডা. শাহাদাত মেয়র হতে পারলে, ইশরাক কী অপরাধ করেছে?”

মঙ্গলবার (২০ মে) রাজধানীর খিলক্ষেতে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আহত রাকিবুল হাসানকে দেখতে গিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।

আহত রাকিবুল হাসানের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নিতে ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর একটি প্রতিনিধি দল খিলক্ষেত যান। এ সময় তারা রাকিবুলের মায়ের সঙ্গেও কথা বলেন এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের শুভেচ্ছা ও সহমর্মিতার বার্তা পৌঁছে দেন। দলের পক্ষ থেকে রাকিবুলের যেকোনো প্রয়োজনে পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়।

রিজভী আরও বলেন, “স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বয়স কম। হঠাৎ গুরুতর রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পেয়ে যাওয়ায় তার কথাবার্তায় ভারসাম্যহীনতা দেখা যাচ্ছে।”

তিনি দাবি করেন, ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের প্রকৃত দায়ীদের এখনও বিচারের আওতায় আনা হয়নি। বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার কাজের চেয়ে অকাজই বেশি করছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সম্প্রতি আন্দোলনে পুলিশের ভূমিকার সমালোচনা করে রিজভী বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা আবাসনের দাবিতে যমুনার সামনে গিয়ে প্রতিবাদ জানালে পুলিশ দিয়ে তাদের অসম্মান করা হয়েছে। শেখ হাসিনাও অতীতে পুলিশ ব্যবহার করে নির্যাতন চালিয়েছেন।”

সভাপতিত্ব করেন ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর আহ্বায়ক সাংবাদিক আতিকুর রহমান রুমন। এ সময় সংগঠনের উপদেষ্টা আশরাফ উদ্দিন বকুল, মো. আবুল কাশেম, মোস্তফা-ই-জামান সেলিম এবং সদস্য সচিব কৃষিবিদ মোকছেদুল মোমিন মিথুন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।




উপদেষ্টা আসিফের বক্তব্যের জবাব দিলেন ইশরাক হোসেন

বিএনপি নেতা ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন তাঁর শপথ ও মেয়াদ সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রশ্নে স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের দেওয়া ১০টি যুক্তির জবাব দিয়েছেন। মঙ্গলবার সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে ভিডিও বার্তার মাধ্যমে ইশরাক এ প্রতিক্রিয়া জানান।

তিনি বলেন, “সরকারি উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ মিথ্যা তথ্য ও আইনের অপব্যাখ্যা দিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছেন। আমি তার তথাকথিত ১০টি পয়েন্টের যুক্তিসমূহের জবাব দিচ্ছি।”

➤ আসিফের যুক্তিগুলোর জবাবে ইশরাক যা বললেন:

  1. আর্জি সংশোধন ও আদালতের রায়:
    আসিফের দাবি ছিল, হাইকোর্টের রায় লঙ্ঘন করে নির্বাচন কমিশন ট্রাইব্যুনাল সিদ্ধান্ত দিয়েছে। জবাবে ইশরাক বলেন, “আর্জি সংশোধন ‘অর্ডার ৬, রুল ১৭’ অনুযায়ী আইনসিদ্ধ। হাইকোর্টের অবজারভেশন কোনো বাধ্যতামূলক আদেশ নয়।”
  2. একতরফা রায় অভিযোগ:
    ইশরাক জানান, “এই রায় একতরফা নয়। সাবেক মেয়র তাপস এই মামলায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন এবং জবাবও দিয়েছেন।”
  3. গেজেট প্রকাশ ও লিগ্যাল নোটিশ:
    তিনি ব্যাখ্যা করেন, “রায়ে বলা হয়েছিল ১০ দিনের মধ্যে গেজেট প্রকাশ করতে হবে। তাই সময়সীমা শেষ হওয়ার আগে রাত ১০টায় তা প্রকাশ করা হয়। আর যারা লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়েছেন তারা ঢাকা দক্ষিণ সিটির ভোটার নন।”
  4. স্থানীয় সরকার বিভাগের ভূমিকা:
    “স্থানীয় সরকার বিভাগ এই মামলার পক্ষ নয়। তাদের কাজ হলো নির্বাচন কমিশনের আদেশ বাস্তবায়ন করা।”
  5. রিট ও শপথ:
    “কোনো রিট মামলার কারণে শপথ স্থগিত থাকে না,” বলেন ইশরাক।
  6. বরিশাল মামলার প্রসঙ্গ:
    ইশরাক দাবি করেন, “বরিশাল সিটি নির্বাচন নিয়ে সময়মতো কোনো মামলা হয়নি, তাই ট্রাইব্যুনাল আবেদন খারিজ করে দেয়।”
  7. মেয়াদ সংক্রান্ত জটিলতা:
    “মেয়াদ নির্ধারণ করবে নির্বাচন কমিশন। কমিশন অপারগ হলে আদালত সিদ্ধান্ত দেবে।”
  8. আইনি জটিলতা নিয়ে নির্বাচন কমিশনের চিঠি:
    “নির্বাচন কমিশনের ওপর চাপ প্রয়োগ করে দিকনির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে— যা খুবই উদ্বেগজনক।”
  9. আইন মন্ত্রণালয়ের মতামত:
    “তারা কৃত্রিম জটিলতা সৃষ্টি করে মেয়র হতে বাধা দিতে চাইছে,” অভিযোগ করেন ইশরাক।
  10. আওয়ামী আমলের নির্বাচন:
    “আমি তাপসের মেয়র প্রজ্ঞাপনকে চ্যালেঞ্জ করেছি এবং আদালত সেই প্রজ্ঞাপন বাতিল করে আমাকে মেয়র ঘোষণা করেছে। এটা আওয়ামী আমলের নির্বাচন বৈধ কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন নয়।”

শেষে ইশরাক হোসেন বলেন, “আমি জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়েছি। যারা নির্বাচন ও আদালতের সিদ্ধান্তকে অস্বীকার করছেন, তারা জনগণের রায় মানতে নারাজ।”


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




বীর মুক্তিযোদ্ধাকে নিয়ে কটুক্তি, সাইবার ট্রাইব্যুনালে মামলা

ফেসবুকে একজন খ্যাতিমান বীর মুক্তিযোদ্ধাকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য এবং অপপ্রচার চালানোর অভিযোগে বরিশালের সাইবার ট্রাইব্যুনালে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

অভিযোগকারী হলেন পাঁচটি সম্মাননা পাওয়া বীর মুক্তিযোদ্ধা ও অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য মো. মজিবুর রহমান মাঝি। মামলার আসামির তালিকায় রয়েছেন গৌরনদী পৌরসভার আশোকাঠী এলাকার তুহিন ফকির ওরফে টিএম তুহিন, গোরক্ষডোবা গ্রামের সজিব মাঝি এবং তাঁরাকুপি গ্রামের পপি ও তার স্বামী আজমল সিদ্দিকী সোহাগ।

সোমবার (১৯ মে) বরিশাল সাইবার ট্রাইব্যুনালে মামলাটি দাখিল করা হয়। বাদীপক্ষের আইনজীবী এইচ এম মিজানুর রহমান পিকু জানান, বিচারক গোলাম ফারুক মামলাটি আমলে নিয়ে গৌরনদী থানার ওসিকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, মো. মজিবুর রহমান মাঝি ১৯৬৮ সালে পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে যোগ দেন এবং ১৯৭১ সালে কুর্মিটোলা ট্রানজিট ক্যাম্প থেকে পালিয়ে ৯ নম্বর সেক্টরে সরাসরি মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন। স্বাধীনতার পর তিনি কর্পোরাল হিসেবে কর্মরত ছিলেন এবং ১৯৮১ সালে অবসর গ্রহণ করেন।

এজাহারে আরও বলা হয়, অভিযুক্তরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যা ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করে শুধু মজিবুর রহমান মাঝিকে নয়, বরং গোটা মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকেই অপমান করেছে। অভিযোগে বলা হয়, পপি ও তার স্বামীর প্ররোচনায় তুহিন ফকির ও সজিব মাঝি তাদের ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডি থেকে একাধিক অশ্লীল, মিথ্যা ও মানহানিকর পোস্ট করেন।

এ বিষয়ে গৌরনদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইউনুস মিয়া জানান, “মামলার কপি এখনো হাতে পাইনি। কপি পাওয়ার পর তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




বিক্ষোভের ষষ্ঠতম দিন, অচল গুলিস্তান

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র পদে ইশরাক হোসেনকে দায়িত্ব হস্তান্তরের দাবিতে নগর ভবনের সামনে টানা ষষ্ঠ দিনের মতো অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন তার অনুসারীরা।

মঙ্গলবার সকালেও ইশরাক সমর্থকরা ছোট ছোট মিছিল নিয়ে নগর ভবনের সামনে জড়ো হন। সেখানে তারা ইশরাক হোসেনকে অবিলম্বে মেয়রের দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়ার দাবি জানান এবং বিভিন্ন স্লোগান দেন। পাশাপাশি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের পদত্যাগ দাবি করেন তারা।

এ অবস্থান কর্মসূচির কারণে নগর ভবনের সামনের গুলিস্তান-বঙ্গবাজার সড়কে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। ফলে আশপাশের সড়কগুলোতেও তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।

এর আগে টানা পাঁচ দিন নগর ভবন ঘিরে অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যান ইশরাকের অনুসারীরা, যার প্রভাবে নগর ভবন কেন্দ্রিক সব ধরনের নাগরিক সেবা কার্যক্রম কার্যত অচল হয়ে পড়ে।

প্রসঙ্গত, ২০২০ সালের ১ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী শেখ ফজলে নূর তাপস বিএনপির প্রার্থী ইশরাক হোসেনকে প্রায় পৌনে ২ লাখ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করে মেয়র নির্বাচিত হন। তবে চলতি বছরের ২৭ মার্চ নির্বাচনী ট্রাইব্যুনাল ওই নির্বাচনের ফলাফল বাতিল করে ইশরাক হোসেনকে বৈধ মেয়র ঘোষণা করে। এরপর থেকেই তার সমর্থকরা মেয়রের দায়িত্ব হস্তান্তরের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন।




তুরস্কগামী টার্কিশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটে আগুন, জরুরি অবতরণে রক্ষা পেল ২৯০ যাত্রী

ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়নের কিছু সময় পরই ইঞ্জিনে আগুন ধরে যায় টার্কিশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে। মঙ্গলবার সকালে ইস্তাম্বুলগামী TK713 ফ্লাইটটি জরুরি পরিস্থিতিতে অবতরণ করতে বাধ্য হয়। তবে ফ্লাইটে থাকা ২৯০ যাত্রীর সবাই নিরাপদ রয়েছেন বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় সময় সকাল ৭টায় এয়ারবাস A330-303 মডেলের TK713 ফ্লাইটটি শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে ইস্তাম্বুলের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। উড্ডয়নের ১৫ মিনিট পর পাইলট ইঞ্জিনে স্পার্ক বা আগুনের ফুলকি লক্ষ্য করেন। তাৎক্ষণিকভাবে তিনি প্লেনটি অবতরণের সিদ্ধান্ত নেন।

ঘটনার বিষয়ে শাহজালাল বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এসএম রাগীব সামাদ জানান, উড্ডয়নের সময় উড়োজাহাজটি একটি পাখির সঙ্গে সংঘর্ষে পড়ে। এতে একটি ইঞ্জিনে আগুনের আশঙ্কাজনক পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। নিরাপত্তার স্বার্থে ফ্লাইটটি প্রায় দেড় ঘণ্টা আকাশে চক্কর দিয়ে জ্বালানি পোড়ানোর পর সকাল ৮টা ১৫ মিনিটে নিরাপদে অবতরণ করে।

ঘটনার পর টার্কিশ এয়ারলাইন্স এক বিবৃতিতে জানায়, উড্ডয়নের পর দ্বিতীয় ইঞ্জিনে পাখির আঘাত লাগে, যার ফলে ফ্লাইটটি ফিরে আসতে বাধ্য হয়। তারা আরও জানায়, যাত্রী, ক্রু এবং উড়োজাহাজটি সম্পূর্ণ নিরাপদ রয়েছে। মেরামতের প্রয়োজন হওয়ায় উড়োজাহাজটি রানওয়েতে রাখা হয়েছে এবং যাত্রীদের জন্য হোটেলে থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

এমতাবস্থায় এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষ দ্রুততম সময়ের মধ্যে ফ্লাইটটি চালু করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে বলে জানিয়েছে।