“পুশ-ইন ইস্যুতে দিল্লিকে কড়া বার্তা দিয়েছে ঢাকা”

নভারত থেকে বাংলাদেশে পুশ-ইন বন্ধে দেশটির সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে বাংলাদেশ সরকার। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন জানিয়েছেন, এভাবে পুশ-ইন করাটা সঠিক নয়—এমন বার্তা দিল্লিকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে।

বুধবার (২১ মে) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “দিল্লির সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। আমরা চেষ্টা করছি যেন নিয়ম বহির্ভূত কিছু না ঘটে।”

তৌহিদ হোসেন আরও জানান, ভারত সরকার বাংলাদেশে অবস্থানকারীদের একটি তালিকা দিয়েছে। বর্তমানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সেই তালিকা যাচাই-বাছাই করছে।

ভারতীয় ও রোহিঙ্গা নাগরিকদের পুশব্যাক বিষয়ে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, “আমার কাছে এ বিষয়ে এখনো কোনো সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা নেই। আমরা সাধারণত পুশব্যাক করি না। তবে যাদের ভারতীয় নাগরিক হিসেবে প্রমাণ পাওয়া যাবে, তাদের অবশ্যই ফেরত নিতে হবে।”

এছাড়া ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে অতীতে হওয়া বিভিন্ন চুক্তি বাতিল বা পর্যালোচনা নিয়ে তিনি বলেন, “ছোট ছোট অনেক চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) হয়েছে। সেগুলোর কিছু দুই পক্ষের সম্মতিতে, আবার কিছু নির্দিষ্ট শর্তে বাতিল করা যায়। তবে এই মুহূর্তে আমরা কোনো চুক্তি বাতিল করিনি। আমাদের মূল লক্ষ্য হচ্ছে সবকিছু নিয়ম মেনেই এগিয়ে নেওয়া।”

ভারত সরকার কি নিয়ম লঙ্ঘন করছে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “নিয়মকে বিভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করা যায়। কেউ সরাসরি স্বীকার করে না যে সে নিয়ম ভাঙছে। আমাদেরকেই সবদিক বিবেচনায় রেখে এগোতে হয়।”

এদিকে ভারত স্থলপথে বাংলাদেশি পণ্যে আমদানি নিষিদ্ধ করায় বাংলাদেশের অবস্থান জানতে চাইলে তৌহিদ হোসেন জানান, “বাণিজ্য উপদেষ্টা বিষয়টি দেখছেন এবং আমরা বিষয়টি দিল্লির সঙ্গে টেকআপ করছি। ইতোমধ্যে চিঠিও পাঠানো হয়েছে।”

অস্ট্রেলিয়ার ৪১ জন এমপি ও সিনেটরের স্বাক্ষরিত একটি চিঠি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে বাংলাদেশে দ্রুত নির্বাচন আয়োজনের দাবি জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে তৌহিদ হোসেন বলেন, “চিঠিটি এখনো আমার নজরে আসেনি। সামাজিক মাধ্যমে অনেক কিছু আসে—আমরা বিষয়টি পরে দেখব।”

বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের শতাধিক চুক্তি রয়েছে জানিয়ে উপদেষ্টা বলেন, “আমরা এখনো কোনো চুক্তি বাতিলের উদ্যোগ নেইনি। তবে প্রতিটি চুক্তি পর্যালোচনার চেষ্টা করছি এবং সময়মতো সেগুলো ভারতের সঙ্গে আলোচনায় তোলা হবে।”




“জনগণের নয়, নিজেরা ক্ষমতায় যাওয়ার লড়াইয়ে ব্যস্ত বিএনপি: নাসীরুদ্দীন”

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেছেন, বিএনপি এখন আর জনগণের দলে নেই, বরং তারা কেবল নিজেদের ক্ষমতার স্বার্থেই রাজপথে নামে। তিনি অভিযোগ করেন, বিএনপি ধারাবাহিকভাবে জনগণের পক্ষের যেকোনো উদ্যোগে বাধা দিয়ে এসেছে কিংবা নীরব থেকেছে।

বুধবার (২১ মে) দিনগত রাতের দিকে নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে নাসীরুদ্দীন এসব কথা বলেন।

তিনি লিখেন, রাষ্ট্রপতি চুপ্পুর অপসারণ, জুলাই ঘোষণাপত্রসহ জাতীয় স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পদক্ষেপে বিএনপি কখনোই সক্রিয় ছিল না। বরং তারা বারবার পুরোনো রাজনৈতিক সমঝোতা ও শাসকগোষ্ঠীর সুবিধা রক্ষায় ব্যস্ত থেকেছে।

আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের দাবির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “এই দাবির ক্ষেত্রেও বিএনপির অবস্থান ছিল নিশ্চুপ। তারা কখনোই জনগণের পক্ষের কোনো আন্দোলনে সামনে আসেনি।”

ইশরাক হোসেনের মেয়র হওয়ার দাবিকে কেন্দ্র করে বিএনপির আচরণ প্রসঙ্গে নাসীরুদ্দীন বলেন, “এটি আবারও প্রমাণ করে যে বিএনপি শুধু নিজেদের এজেন্ডা নিয়েই ভাবে। আজকের বিএনপি হয়ে উঠেছে কিছু বুড়ো রাজনীতিকের ক্ষমতাচর্চার এক গোঁড়া প্ল্যাটফর্ম, যেখানে তরুণ নেতাদেরও একটি মেয়র পদ পেতে রাস্তায় বসে থাকতে হয়।”

তিনি আরও লিখেন, গত ১৬ বছর ধরে বিএনপির ভুল নেতৃত্ব ও কৌশলগত ব্যর্থতায় দলটির ভেতরের বাংলাদেশপন্থি কর্মীরা ফ্যাসিবাদী দমননীতির শিকার হয়েছেন। বিএনপি এখনো ‘জুলাই অভ্যুত্থান’-কে জাতীয় রূপান্তরের চেয়ে ক্ষমতার পালাবদল হিসেবেই দেখে।

ঢাকা সিটি করপোরেশনের নির্বাচন প্রসঙ্গে নাসীরুদ্দীন অভিযোগ করেন, “ঢাকার মানুষকে অবৈধ নির্বাচনের বৈধতা দিতে জিম্মি করে বিএনপি একটি মেয়র পদ নিয়েও নাটক করছে। তাদের উদ্দেশ্য শুধু এক-এগারোর মতো পথ ধরে পুরোনো বন্দোবস্তে ফিরে গিয়ে দীর্ঘমেয়াদে ক্ষমতা ভোগ করা।”

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর এই মন্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। এখন দেখার বিষয়, বিএনপি এই অভিযোগের কী জবাব দেয়।




নির্বাচনের পরই সেনাবাহিনী ব্যারাকে ফিরবে: সেনাপ্রধান

সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেছেন, দেশের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যেই জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়া উচিত। তিনি বলেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করে যাচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে।

বুধবার (২১ মে) ঢাকা সেনানিবাসের সেনা প্রাঙ্গণে আয়োজিত অফিসার্স অ্যাড্রেসে তিনি এসব কথা বলেছেন। যেখানে  ঢাকায় অবস্থানরত সেনাবাহিনীর বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা সরাসরি ও ভার্চুয়ালি যুক্ত হন।

অনুষ্ঠান সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, সেনাবাহিনী প্রধান জাতীয় স্থিতিশীলতা ও শান্তি রক্ষায় সশস্ত্র বাহিনীর নিরলস সেবা এবং প্রতিশ্রুতির ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি সব পর্যায়ের সেনাসদস্যদের নিরপেক্ষ থাকার নির্দেশ দিয়ে বলেন, নির্বাচনের মাধ্যমে রাজনৈতিক সরকার দায়িত্ব গ্রহণের সঙ্গে সঙ্গেই সেনাবাহিনী ব্যারাকে ফিরে যাবে।

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে ত্রাণ পাঠাতে মানবিক করিডোর তৈরির বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে জেনারেল ওয়াকার বলেন, এ ধরনের সিদ্ধান্ত একটি নির্বাচিত সরকার থেকেই আসতে হবে এবং তা হতে হবে বৈধ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, “যা-ই করা হোক না কেন, তা জাতীয় স্বার্থ রক্ষা ও রাজনৈতিক ঐকমত্যের ভিত্তিতে হতে হবে।”

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনার দায়িত্ব বিদেশি কোম্পানির হাতে দেওয়া সংক্রান্ত সাম্প্রতিক বিতর্ক প্রসঙ্গে সেনাপ্রধান বলেন, “এখানে স্থানীয় জনগণ ও রাজনৈতিক নেতাদের মতামত গুরুত্বপূর্ণ। এ ধরনের সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক সরকারের মাধ্যমেই নেওয়া উচিত।”

সামনে ঈদুল আজহা উপলক্ষে তিনি দেশবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেনাসদস্যদের নির্দেশ দেন এবং বলেন, জনগণ যেন শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে ঈদ উদযাপন করতে পারে, সে লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করতে হবে।

বক্তব্যের শেষাংশে জেনারেল ওয়াকার পুনরায় উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী কখনোই এমন কোনো কর্মকাণ্ডে যুক্ত হবে না, যা জাতীয় সার্বভৌমত্বের জন্য ক্ষতিকর। তিনি সব পর্যায়ের সেনাসদস্যদের সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে নির্বাচনী দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।




পটুয়াখালীতে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে ইপিজেড প্রকল্পের চেক বিতরণ

পটুয়াখালী ইপিজেড স্থাপন প্রকল্পের অধিগ্রহণে ক্ষতিগ্রস্তদের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে চেক হস্তান্তর করা হয়েছে। বুধবার (২১ মে) বিকেলে পটুয়াখালী সদর উপজেলার শরীফবাড়ি বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকায় এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই চেক বিতরণ করা হয়। জেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে চেক তুলে দেন জেলা প্রশাসক আবু হাসনাত মোহাম্মদ আরেফীন। তিনি বলেন, সরকার সব সময় ক্ষতিগ্রস্তদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিতে কাজ করে যাচ্ছে। মাঠপর্যায়ে গিয়েই যাতে মানুষ চেক হাতে পান, সে ব্যবস্থাই করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও এই পদ্ধতি আরও জোরালোভাবে অব্যাহত থাকবে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মাসুদ উল আলম। আরও উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইফফাত আরা জাহান উর্মি, জেলা ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা জিয়াউল হাসান সৌরভসহ জেলা প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। অনুষ্ঠানে মোট ১০৩ জন ভুক্তভোগী ভূমি মালিকের হাতে ৯ কোটি ২০ লাখ ৩৪ হাজার ৭৪৫ টাকার চেক হস্তান্তর করা হয়। প্রতিটি মালিকের প্রাপ্য হিসাব অনুযায়ী চেক বিতরণ নিশ্চিত করা হয়।

অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক আরও বলেন, আগামী ২৫ মে থেকে পটুয়াখালীতে শুরু হচ্ছে ‘ভূমি মেলা’। এ মেলা শুধু জেলা সদরেই নয়, উপজেলা পর্যায়েও অনুষ্ঠিত হবে। এতে ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ, খতিয়ান সংশোধন, মিউটেশন, দলিল যাচাইসহ নানা ধরনের সেবা এক ছাদের নিচে পাবেন সাধারণ জনগণ। এছাড়া ইপিজেড প্রকল্পের অধিগ্রহণ বাবদ যারা এখনো চেক পাননি, তারাও মেলায় এসে প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ দাখিলের মাধ্যমে তাদের প্রাপ্য বুঝে নিতে পারবেন। ভূমি ব্যবস্থাপনাকে সহজ, স্বচ্ছ ও জনবান্ধব করতেই জেলা প্রশাসনের এ উদ্যোগ বলে জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, ভূমি মেলায় যিনি নিয়মিত ও সর্বোচ্চ পরিমাণ ভূমি উন্নয়ন কর প্রদান করবেন, তাকে সম্মাননা দেওয়া হবে। এ ছাড়াও থাকবে আকর্ষণীয় পুরস্কার। জনগণের অংশগ্রহণ ও স্বচ্ছ সেবা নিশ্চিতে পটুয়াখালী জেলা প্রশাসন নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছে বলে জানান জেলা প্রশাসক।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



ইশরাক হোসেন অবশেষে আন্দোলনকারীদের পাশে রাজপথে

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র হিসেবে শপথ গ্রহণের দাবিতে চলমান আন্দোলনে অবশেষে রাজপথে যোগ দিয়েছেন বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেন। বুধবার (২১ মে) সন্ধ্যা ৭টার দিকে রাজধানীর কাকরাইল মসজিদের সামনে আন্দোলনরত সমর্থকদের মাঝে দেখা যায় তাকে। তার উপস্থিতিতে আন্দোলনকারীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায়।

গত সাত দিন ধরে নগর ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে আসছিলেন ইশরাকের সমর্থকরা। তারা তার শপথ গ্রহণে বিলম্বের প্রতিবাদ জানিয়ে প্রতিদিন বিভিন্ন স্লোগানে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছিলেন।

এর আগে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি স্ট্যাটাসে ইশরাক জানান, “আন্দোলনকারী জনতার প্রতি সর্বাত্মক সংহতি জানাতে এবং তাদের সঙ্গে যতদিন প্রয়োজন রাজপথে অবস্থান করার জন্য অল্প সময়ের মধ্যেই হাজির হব ইনশাআল্লাহ।”

তিনি নেতাকর্মীদের উদ্দেশে আরও লেখেন, “নির্দেশ একটাই, যতক্ষণ দরকার রাজপথ ছেড়ে উঠে আসা যাবে না।”

এদিকে, ঢাকা দক্ষিণের মেয়র পদে তার শপথ সংক্রান্ত রিটের শুনানি পিছিয়ে বৃহস্পতিবার নির্ধারণ করেছেন হাইকোর্ট। বিচারপতি মো. আকরাম হোসেন চৌধুরী ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে এ শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।

রিটের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ হোসেন, রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মাহফুজুর রহমান মিলন এবং ইশরাকের পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন ও ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

উল্লেখ্য, ২০২০ সালের ১ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী শেখ ফজলে নূর তাপস বিপুল ভোটে জয়ী হন। তবে চলতি বছরের ২৭ মার্চ নির্বাচনি ট্রাইব্যুনাল ওই ফলাফল বাতিল করে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী ইশরাক হোসেনকে বৈধ ঘোষণা করে। পরে ২৭ এপ্রিল নির্বাচন কমিশন গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে তাকে মেয়র হিসেবে ঘোষণা করে। এরপর থেকেই তার সমর্থকরা প্রতিদিন নগর ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে আসছেন।




“বিদেশে চিকিৎসা নয়, জনপ্রতিনিধিদের দেশের হাসপাতালেই চিকিৎসা নিতে হবে: রুমিন ফারহানা”

দেশের স্বাস্থ্য খাতের শোচনীয় অবস্থার জন্য ‘গলদ রাজনীতি’কে দায়ী করে জনপ্রতিনিধিদের সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে বাধ্য করার আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির সহ-আন্তর্জাতিক সম্পাদক ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা।

বুধবার (২১ মে) রাজধানীর চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) আয়োজিত ‘যুবদের সংস্কার ভাবনা: কর্মসংস্থান, স্বাস্থ্য ও প্রযুক্তি’ শীর্ষক সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

রুমিন ফারহানা বলেন, “বাংলাদেশের রাজনীতিবিদদের ধারণা, এই দেশে তাদের চিকিৎসার প্রয়োজন নেই। নির্বাচিত হওয়ার পরই তারা বিদেশে চিকিৎসা নিতে যান। এই প্রবণতা বন্ধ করতে হবে। জনপ্রতিনিধিদের সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা বাধ্যতামূলক করতে হবে। আইন করেই এটা নিশ্চিত করতে হবে।”

নিজ নির্বাচনী এলাকার হাসপাতাল পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, “জেলা ও উপজেলা হাসপাতালে গিয়ে দেখেছি—ডাক্তার নেই, নার্স নেই, সরঞ্জাম ও ওষুধের অভাব চরম। এটি গলদ রাজনীতির ফল। আইন করে সরকারি হাসপাতালেই চিকিৎসা নিতে বাধ্য করা হলে ব্যবস্থার উন্নতি ঘটবে।”

শুধু জনপ্রতিনিধিদেরই নয়, তাদের সন্তানদেরও দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াশোনার বাধ্যবাধকতা করার প্রস্তাব দেন তিনি। রুমিন বলেন, “আমি বা আমার মা-বাবা কখনো বিদেশে চিকিৎসা নিইনি। গত ২৫ বছর ধরে এই সেক্টরের সঙ্গে জড়িত। দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থা একেবারেই অকার্যকর নয়। কিন্তু ডাক্তারদের ওপর চাপ বেশি, বেতন কম, সুযোগ-সুবিধা নেই।”

তিনি অভিযোগ করেন, “একজন ডাক্তারকে ২০ হাজার টাকা বেতনে ২৪ ঘণ্টা খাটানো হলে ভালো সেবা আশা করা যায় না। চিকিৎসা একটি দলগত কাজ—এখানে চিকিৎসক, নার্স, টেকনিশিয়ান ও যন্ত্রপাতির মান গুরুত্বপূর্ণ। সবকিছু ঠিক না থাকলে মানসম্পন্ন চিকিৎসা সম্ভব নয়।”

স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে বাজেট কমানোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, “২০২৫ সালের বাজেটে শিক্ষা খাতে তিন হাজার কোটি টাকা ও স্বাস্থ্য খাতে ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা কমানো হয়েছে। এতে যথাক্রমে ৯১টি শিক্ষা প্রকল্প ও ৩৫টি স্বাস্থ্য প্রকল্প বাদ দেওয়া হয়েছে। এই টাকা যদি দুর্নীতির পরিবর্তে চিকিৎসক, নার্স ও টেকনিশিয়ানদের উন্নয়নে ব্যয় করা হতো, তাহলে পরিস্থিতি অন্যরকম হতো।”

তিনি আরও বলেন, “জিডিপির এক শতাংশও আমরা স্বাস্থ্য খাতে ব্যয় করি না। চিকিৎসক, নার্স এবং যন্ত্রপাতির ঘাটতি নিয়ে আমরা বিশ্বমানের সেবা চাই—তা বাস্তবসম্মত নয়।”

রুমিন ফারহানা হাসপাতালগুলোতে রোগীর মৃত্যুর পর চিকিৎসকদের ওপর হামলার ঘটনাকেও দুঃখজনক উল্লেখ করে বলেন, “অন্যসব ক্ষেত্রে আল্লাহর ওপর নির্ভর করলেও হাসপাতালে মৃত্যুর পর ভাঙচুর ও ডাক্তারদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে।”

সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এ সম্মেলনে আরও অংশ নেন জাতীয় নাগরিক পার্টির সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব তাসনিম জারা, স্বাস্থ্য সংস্কার কমিশনের সদস্য অধ্যাপক আবু মোহাম্মদ জাকির হোসেন ও অধ্যাপক লিয়াকত আলী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. রুমানা হক, ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ড. খন্দকার আবদুল্লাহ আল মামুন ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. লেলিন চৌধুরী।




“বাংলাদেশ ছাড়া আমার আর কোনো নাগরিকত্ব নেই”: খলিলুর রহমান

জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান বলেছেন, তার একমাত্র নাগরিকত্ব বাংলাদেশের এবং তার কোনো বিদেশি পাসপোর্ট নেই। তিনি জোর দিয়ে বলেন, শুধুমাত্র যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করাকে ভিত্তি করে তাকে ‘বিদেশি নাগরিক’ বলা অনুচিত।

বুধবার (২১ মে) রাজধানীর বেইলি রোডে অবস্থিত ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।

খলিলুর রহমান বলেন, “আমার একটাই জাতীয় নাগরিকত্ব, তা হলো বাংলাদেশের। আমি কিছুদিন আগে পর্যন্ত পরিবারসহ আমেরিকায় ছিলাম, কিন্তু আমার কোনো আমেরিকান পাসপোর্ট নেই। আমি বাংলাদেশের নাগরিক, অন্য কোনো দেশের না।”

তিনি আরও বলেন, “যদি আমেরিকায় থাকা নিয়ে আমাকে বিদেশি বলা হয়, তাহলে একইভাবে তারেক রহমান সাহেবকেও বলা উচিত। আমি আবেদন জানাব, বুঝেশুনে কথা বলা হোক। আমাকে যেটা নই, সেটা বানানোর চেষ্টা করা হলে তার প্রভাব অন্যদের ওপরও পড়তে পারে।”

নিরাপত্তা উপদেষ্টা সবার প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “যদি কিছু বলতেই হয়, তবে তা তথ্য-প্রমাণসহ বলা হোক। আমি যা নই, দয়া করে আমাকে তা প্রমাণ করার চেষ্টা করবেন না।”

এই বক্তব্যের মাধ্যমে খলিলুর রহমান তার নাগরিকত্ব নিয়ে সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানো নানা গুঞ্জনের জবাব দেন।




বরগুনায় ভাড়া বাসা থেকে গৃহবধূর অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার

বরগুনা পৌরসভার পশু হাসপাতাল সড়কে একটি ভাড়া বাসা থেকে রোজী আক্তার (৫৫) নামে এক গৃহবধূর অর্ধগলিত মৃতদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার (২১ মে) দুপুরে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত রোজী বরগুনার বালিয়াতলী ইউনিয়নের চৌমনী গ্রামের বাসিন্দা। চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসে তিনি শহরের সাবেক কাউন্সিলর মোশাররফ হোসেন খানের বাড়ির দ্বিতীয় তলায় ভাড়া উঠেছিলেন।

নিহতের আত্মীয়-স্বজনরা জানায়, গত ৩-৪ দিন ধরে রোজীর মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যাচ্ছিল। যোগাযোগ না পেয়ে বুধবার সকাল ১২টার দিকে বাসায় এসে মালিকের সহায়তায় তালা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করলে বাথরুমে অর্ধগলিত লাশ পড়ে থাকতে দেখা যায়। পরে পুলিশে খবর দিলে বরগুনা থানা পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়।

নিহতের সাবেক স্বামী মোস্তফা খান জানান, রোজীর কাছে কিছু টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার ছিল, যা এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে আর্থিক লেনদেনকে মূল কারণ হিসেবে দেখায়।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন বরগুনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. জহুরুল ইসলাম। তিনি বলেন, “সঠিক তদন্তের মাধ্যমে এই হত্যার রহস্য উদঘাটন করা হবে।”

পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে এটি হত্যাকাণ্ড বলে সন্দেহ করা হচ্ছে এবং বিষয়টি ঘিরে তদন্ত চলমান রয়েছে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




পবিপ্রবিতে পরিকল্পনা উপদেষ্টার চমকপ্রদ সফর, উচ্চশিক্ষা ও উন্নয়নে নতুন বার্তা

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (পবিপ্রবি)-তে আজ ঘটে গেল এক অনন্য মুহূর্ত। হঠাৎ করেই বিশ্ববিদ্যালয়ে আগমন ঘটে দেশের বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. ওয়াহিদ উদ্দিন মাহমুদের। পায়রা বন্দর ও কুয়াকাটা এলাকা ঘুরে ফেরার পথে তিনি অপ্রত্যাশিতভাবে লেবুখালী হয়ে পবিপ্রবিতে পৌঁছান।

বিকেল ২টা ১৫ মিনিটে আগমনকালে তাঁকে স্বাগত জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. কাজী রফিকুল ইসলাম। সম্পূর্ণ অনানুষ্ঠানিক এই সফর মুহূর্তেই রূপ নেয় বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের জন্য এক গর্বিত স্মৃতিতে।

উপদেষ্টা ড. মাহমুদ ঘুরে দেখেন একাডেমিক ভবন, গবেষণাগার, গ্রন্থাগার, ছাত্রীনিবাস নির্মাণ কার্যক্রম, ছাত্রাবাস, লাল-কমল ও নীল-কমল লেকসহ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প। তিনি অবকাঠামোগত অগ্রগতি এবং পরিচ্ছন্নতা দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেন। বিশেষ করে ‘মেরিন ফিশারিজ অ্যান্ড ওসানোগ্রাফি’ বিভাগের পরিকল্পনাকে তিনি সময়োপযোগী ও সম্ভাবনাময় বলে উল্লেখ করেন।

সাক্ষাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনার বিষয়েও আলোচনা হয়। উপাচার্য গাইড ওয়াল সংকটসহ লেক রক্ষা এবং চলাচলের ঝুঁকি প্রসঙ্গে জরুরি অর্থ বরাদ্দের অনুরোধ করেন। এ সময় প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর, রেজিস্ট্রার, আইকিউএসি পরিচালকসহ বিভিন্ন অনুষদের ডিন, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

পরিকল্পনা উপদেষ্টা বলেন, “এই অঞ্চলে উচ্চশিক্ষার বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও শৃঙ্খলিত পরিবেশ দেখে অভিভূত হয়েছি। প্রান্তিক বলেই কেউ পিছিয়ে থাকবে না—এই বিশ্বাস নিয়েই আমাদের পরিকল্পনা এগিয়ে নিতে হবে।”

সফরের আনুষ্ঠানিকতা না থাকলেও তাঁর উপস্থিতি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও শিক্ষক-প্রশাসনের মধ্যে জাগিয়ে তোলে নতুন উদ্দীপনা। শিক্ষার্থীরা জানান, এমন একজন জাতীয় নীতিনির্ধারকের উপস্থিতি তাঁদের ভবিষ্যতের জন্য এক বড় অনুপ্রেরণা।

বিকেল ৩টা ১৫ মিনিটে তিনি বরিশালের উদ্দেশে বিশ্ববিদ্যালয় ত্যাগ করেন। রেখে যান আশার আলো, উন্নয়নের বার্তা এবং একটি প্রান্তিক উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতি তাঁর আন্তরিক আস্থা ও ভালোবাসা।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




বরিশালে পুলিশের হাতকড়াসহ দুই যুবক পলাতক! চলছে চিরুনি অভিযান

বরিশাল নগরীতে চাঞ্চল্যকর ঘটনা! ইয়াবা সেবনের অভিযোগে আটক হওয়া চার যুবকের মধ্যে দু’জন, মিরাজ (২২) ও রাসেল (২০), পুলিশের হাতকড়াসহ পালিয়ে গেছে। এ ঘটনা ঘটেছে বুধবার (২১ মে) দুপুর ১২টার দিকে নগরীর ভাটিখানার সাহাপাড়া এলাকায়।

পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কাউনিয়া থানার এসআই মামুনের নেতৃত্বে একটি দল সাহাপাড়ায় মাদকের আসরে অভিযান চালায়। অভিযানে চারজনকে আটক করা হয়। এদের মধ্যে মিরাজ ও রাসেলকে এক জোড়া হাতকড়ায় আটক করা হয়েছিল, যার এক প্রান্তে একজন করে আটক ছিল।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, হাতকড়াসহ দুই যুবক সুযোগ বুঝে পাশের ঘরবাড়ির ফাঁকা পথ ধরে পালিয়ে যায়। তারা ছিলেন ভাটিখানার স্থানীয় বাসিন্দা।

বিষয়টি নিশ্চিত করে কাউনিয়া থানার সহকারী পুলিশ কমিশনার মশিউর রহমান বলেন, “পালিয়ে যাওয়া দুইজনকে ধরতে অভিযান চলছে। তাদের গ্রেফতারের পর ঘটনার বিস্তারিত প্রকাশ করা হবে।”

এদিকে আটক অন্য দুই যুবক মামুন ও আল-আমিনকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ। স্থানীয়দের মাঝে এ ঘটনা ঘিরে দেখা দিয়েছে উদ্বেগ।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /