নিরাপত্তা উপদেষ্টা: করিডর ইস্যু ভিত্তিহীন, আলোচনার প্রশ্নই ওঠে না

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে করিডর স্থাপনের বিষয়টি ‘সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও গুজব’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, করিডর নিয়ে সরকারের কারও সঙ্গে কোনো আলোচনা হয়নি এবং ভবিষ্যতেও হবে না।

বুধবার (২১ মে) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে এক ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, “করিডর বিষয়টি বুঝতে হবে—এটি একটি জরুরি ব্যবস্থাপনা, যা দুর্যোগকালে লোকজন সরিয়ে নিতে ব্যবহৃত হয়। কিন্তু আমরা কাউকে সরাচ্ছি না। আরাকানে ত্রাণ পাঠানোর জন্য জাতিসংঘ আমাদের শুধু অনুরোধ করেছে যেন সীমান্তসংলগ্ন অঞ্চল দিয়ে সহায়তা পাঠানো সম্ভব হয়।”

ড. খলিলুর রহমান জানান, জাতিসংঘ তাদের নিজস্ব সহযোগী সংস্থার মাধ্যমে রাখাইনে ত্রাণ পৌঁছাবে এবং এই প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশের ভূখণ্ডে কোনো ‘করিডর’ গঠন করা হচ্ছে না। তিনি বলেন, “জাতিসংঘকে জিজ্ঞেস করলেই প্রমাণ মিলবে। করিডর নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি এবং হবে না। আরাকানে করিডরের প্রয়োজনও নেই।”

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের প্রসঙ্গে নিরাপত্তা উপদেষ্টা বলেন, রাখাইনের পরিস্থিতি কিছুটা স্থিতিশীল হলে প্রত্যাবাসন নিয়ে আলোচনার সুযোগ তৈরি হবে। “যতদিন আরাকানে অস্থিরতা থাকবে, ততদিন প্রত্যাবাসনের প্রসঙ্গও আসবে না,” বলেন তিনি।

সম্প্রতি করিডর বিষয়ে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেনের বক্তব্য নিয়ে প্রশ্ন উঠলে ড. খলিলুর রহমান বলেন, “তিনি করিডর শব্দটি বললেও পরে সংশোধন করে ‘পাথওয়ে’ বলেছেন। এটা স্লিপ অব টাং ছিল এবং তিনি তাৎক্ষণিকভাবে শুধরে নিয়েছেন।”

ত্রাণ সরবরাহের রুট প্রসঙ্গে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা বলেন, “যদি সব পক্ষ সম্মত হয়, তাহলে সবাই মিলে বসেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে কোন রুট ব্যবহার করা হবে। তবে আমরা এখনও সে পর্যায়ে পৌঁছাইনি।”

সেনাবাহিনীর সঙ্গে কোনো মতপার্থক্য রয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, “সেনাবাহিনীর সঙ্গে আমাদের পূর্ণ সমন্বয় রয়েছে। সেনাপ্রধানের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এ বিষয়ে কোনো বিভ্রান্তি নেই।”

বিদেশি কোনো চাপ রয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, “কোনো চাপ নেই। যুক্তরাষ্ট্র, চীনসহ অন্যান্য অংশীজনদের সঙ্গে আমরা নিয়মিত যোগাযোগে আছি। আমাদের লক্ষ্য একটাই—রোহিঙ্গাদের টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করা, যাতে তারা ফেরত গিয়ে আবার না ফিরে আসে।”




দুমকিতে মোটরের কাজ করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে শ্রমিকের মৃত্যু

পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলায় মোটরের কাজ করার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মো: নজরুল ইসলাম (২৬) নামে এক নির্মাণ শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (২১ মে) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার দক্ষিণ মুরাদিয়া মাঝগ্রাম এলাকায় এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত নজরুল ইসলাম ওই এলাকার মৃত আমির হোসেন হাওলাদারের ছেলে।

স্থানীয়রা জানান, সকালে নারায়ণ ডাক্তারের বাড়িতে পানির লাইন বসানোর জন্য মোটরের সংযোগের কাজ করছিলেন নজরুল। এ সময় হঠাৎ বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান।

দুমকি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাকির হোসেন জানান, চৌকিদারের মাধ্যমে সংবাদ পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। প্রয়োজনে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

নজরুল ইসলামের অকাল মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ রিপোর্টার, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



গলাচিপায় ব্যবসায়ীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

পটুয়াখালীর গলাচিপা পৌরসভার হাসপাতাল রোড এলাকার দাসবাড়ি থেকে খোকন দাস (৪৫) নামের এক ব্যবসায়ীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার রাত প্রায় ১১টার দিকে তার নিজ দোকান থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, খোকন দাস দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতাল রোড এলাকায় ব্যবসা করে আসছিলেন। দিনভর নিখোঁজ থাকার পর তার চাচাতো ভাই গোপাল দাস দোকানে গিয়ে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় তার মরদেহ দেখতে পান।

খবর পেয়ে গলাচিপা থানা পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

গলাচিপা থানার ওসি (ভারপ্রাপ্ত) জানান, প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হলেও, বিস্তারিত জানতে তদন্ত চলছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পটুয়াখালী ২৫০ শয্যা হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

খোকনের অস্বাভাবিক মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়রা বলেন, তিনি একজন শান্ত-শিষ্ট ও পরিশ্রমী মানুষ ছিলেন। তার এমন মৃত্যুতে সবাই মর্মাহত।

মো: আল-আমিন
স্টাফ রিপোর্টার, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



নির্বাচন ভবনে সতর্কতা, নিরাপত্তা বলয়ে আগারগাঁও

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ঘোষিত বিক্ষোভ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে নির্বাচন কমিশন (ইসি) নির্বাচন ভবন এলাকায় পাঁচ স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে।

বুধবার সকাল থেকেই রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত নির্বাচন ভবনের সামনে ব্যাপক নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ভবনের সামনের রাস্তায় কাঁটাতারের ব্যারিকেড বসানো হয়েছে। নিরাপত্তায় মোতায়েন রয়েছে পুলিশ, র‍্যাব, বিজিবি, কোস্ট গার্ড এবং সেনাবাহিনীর সদস্যরা।

ইসি কর্তৃক বিএনপি সমর্থিত ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র প্রার্থী ইশরাক হোসেনকে আদালতের রায়ের ভিত্তিতে মেয়র ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশ করায় এর প্রতিবাদে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে এনসিপি। দলটির অভিযোগ, নির্বাচন কমিশন বিএনপিকে বাড়তি সুবিধা দিচ্ছে এবং তারা একটি ফ্যাসিস্ট সরকারের অধীনে গঠিত কমিশনের পুনর্গঠনের দাবিও জানিয়েছে।

নির্বাচন ভবন এলাকায় যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবেলায় সতর্ক রয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।নিরাপত্তা রক্ষার্থে  ইসির সামনে পুলিশ, র‍্যাব থেকে শুরু করে উপস্থিত রয়েছে বিজিবি ও সেনাবাহিনীর সদস্যরাও।




এনসিপি নেতার জিম্মায় আটক সমন্বয়করা মুক্ত: কেন্দ্রীয় কমিটির ক্ষোভ প্রকাশ

রাজধানীর ধানমন্ডিতে এক প্রকাশকের বাসার সামনে বিশৃঙ্খলার ঘটনায় তিনজন সমন্বয়ককে ছেড়ে দেওয়ার পর জাতীয় নাগরিক কমিটির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আব্দুল হান্নান মাসউদকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (২০ মে) ধানমন্ডি থানা পুলিশ তিনজন সমন্বয়ককে আটক করে। পরে হান্নান মাসউদের জিম্মায় তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। পরদিন বুধবার (২১ মে) এনসিপির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রকাশ করা হয়, যেখানে তাকে আগামী তিন দিনের মধ্যে শৃঙ্খলা কমিটির কাছে লিখিত ব্যাখ্যা জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ নোটিশে স্বাক্ষর করেন দলটির যুগ্ম সদস্য সচিব সালেহ উদ্দিন সিফাত।

আটক হওয়া তিনজন হলেন—বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মোহাম্মদপুর থানার আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম রাব্বী, যাকে নৈতিক স্খলনের অভিযোগে সংগঠন থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে; ঢাকা মহানগর শাখার সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব আফারহান সরকার দিনার এবং মো. উল্লাহ জিসান, যিনি কোনো পদে না থাকলেও আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন বলে জানা গেছে।

ঘটনার দিন দুপুরের পর হান্নান মাসউদ ধানমন্ডি থানায় উপস্থিত হয়ে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা করেন। এরপরই তার জিম্মায় ওই তিনজনকে ছেড়ে দেয় পুলিশ।

এ বিষয়ে হান্নান মাসউদ বলেন, “আমি খোঁজ-খবর নিতে থানায় গিয়েছিলাম। একটা ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল, সেটার মীমাংসা হয়েছে। তবে এই ঘটনার সঙ্গে বাইরের অনেকেই জড়িত, আমরা তা তদন্ত করে দেখছি।”

ঘটনার প্রেক্ষাপটে এনসিপি নেতৃত্বের অভ্যন্তরে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।




“উপদেষ্টাদের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা তুলে ধরে পদত্যাগের আহ্বান ইশরাকের”

বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা ইশরাক হোসেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ এবং তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলমের পদত্যাগ দাবি করেছেন। বুধবার (২১ মে) নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই আহ্বান জানান।

ইশরাক লিখেছেন, গণতান্ত্রিক চেতনা ও রাজনৈতিক শিষ্টাচার বজায় রেখে তিনি উপদেষ্টা দু’জনকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সব ধরনের দায়িত্ব থেকে পদত্যাগের অনুরোধ করছেন। কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, এই দুই উপদেষ্টার রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা স্পষ্ট এবং ভবিষ্যতে তারা সরাসরি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে তাদের দায়িত্বে থাকা উপযুক্ত নয় বলেই মনে করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, “আপনাদের পদত্যাগ অযৌক্তিক নয় বরং এটি বর্তমান সরকারের নিরপেক্ষতা প্রমাণে সহায়ক হবে।” ইশরাক উপদেষ্টা নাহিদ ইসলামের উদাহরণ টেনে বলেন, নাহিদ ইসলাম মন্ত্রিত্ব ছাড়ার মাধ্যমে রাজনৈতিকভাবে সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। একইভাবে অতীতে সারজিস আলম ও হাসনাত আব্দুল্লাহরাও রাজনৈতিক পথ বেছে নিয়েছিলেন মন্ত্রিত্বের সুযোগ থাকা সত্ত্বেও।

ইশরাক হোসেনের মতে, উপদেষ্টা পদে থেকে দলীয় সুবিধা দেওয়া না দেওয়ার প্রশ্নই উঠে আসে এবং এ ধরনের অবস্থানে থেকে শতভাগ নিরপেক্ষ থাকা বাস্তবসম্মত নয়। “কাঁঠাল ভাঙবে আপনাদের মাথায়, খাবে কিন্তু অন্য সবাই”—এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি ক্ষমতার অপব্যবহারের আশঙ্কা তুলে ধরেন।

নিজেকে নিয়েও ইশরাক বলেন, “আমার বিরুদ্ধেও সমালোচনা হয়েছে, কিন্তু আমার কোনো বিকল্প ছিল না। আমি জনগণকে বোঝাতে চেয়েছি কোন পথে ভুল হচ্ছে।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ ‘ভুল পলিসির’ শিকার হয়েছেন এবং আইনের পথ মেনে না চললে দেশ সংস্কার অসম্ভব।

ফেসবুক পোস্টের শেষাংশে তিনি বলেন, “বন্দোবস্ত তো আগেরটাই অনুসরণ হচ্ছে, আরও পাকাপোক্ত করা হচ্ছে বললেও ভুল হবে না। আপনাদের পদত্যাগের দাবি থেকে সরার কোনো সুযোগ নাই। আপনারাই বা কেন থাকতে চাচ্ছেন?”

এই পোস্টে ইশরাক হোসেন স্পষ্টভাবে সরকারের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালনরত রাজনৈতিকভাবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পদত্যাগের মাধ্যমে রাজনৈতিক নৈতিকতা রক্ষার ওপর জোর দেন।




জনপ্রতিনিধি না থাকায় দুর্ভোগ, ইসির সামনে বিক্ষোভের ঘোষণা এনসিপির

স্থানীয় সরকার নির্বাচনের দাবিতে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সামনে বিক্ষোভের ঘোষণা দিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। মঙ্গলবার(২০ মে) রাতে দলটির কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, দেশে জনপ্রতিনিধি না থাকায় নাগরিক সেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে এবং বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি বাস্তবায়নে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে স্থানীয় সরকার নির্বাচন এখন সময়ের দাবি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আখতার হোসেন বলেন, “আমরা অনতিবিলম্বে সংস্কার কমিশনের প্রস্তাব গ্রহণ করে নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনের আহ্বান জানাচ্ছি। একইসঙ্গে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি জোর দাবি জানাচ্ছি।”

এই দাবিতে আগামীকাল (২১ মে) বেলা ১১টায় নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ের সামনে ঢাকা মহানগর এনসিপির উদ্যোগে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে বলে জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, “‘ইশরাক হোসেন বনাম শেখ ফজলে নূর তাপস গং’ মামলাটি উদাহরণ হয়ে উঠেছে, যেখান থেকে দেখা যাচ্ছে সারাদেশে অবৈধভাবে নির্বাচিত প্রতিনিধিরা আদালতের শরণাপন্ন হয়ে এক জটিল পরিস্থিতি তৈরি করছেন।” এই সংকট নিরসনে এবং জনদুর্ভোগ লাঘবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনই একমাত্র কার্যকর সমাধান বলে দাবি করেন আখতার হোসেন।

তবে তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমান নির্বাচন কমিশন একটি ‘ফ্যাসিবাদী আইনে গঠিত পক্ষপাতদুষ্ট’ সংস্থা, যা অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনে অক্ষম বলেই প্রতীয়মান হচ্ছে।




“নির্বাচন কমিশনের প্রতি অনাস্থা, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের দাবি এনসিপির”

নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে পক্ষপাতমূলক আচরণের অভিযোগ তুলেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, বর্তমান সংকটময় পরিস্থিতির জন্য দ্রুত স্থানীয় সরকার নির্বাচন জরুরি হলেও বিদ্যমান নির্বাচন কমিশনের ওপর আস্থা রাখা সম্ভব নয়।

মঙ্গলবার (২০ মে) রাতে দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে নাহিদ ইসলাম বলেন, “নির্বাচন কমিশন সংস্কার প্রস্তাব আমলে নেয়নি। তাদের গঠন প্রক্রিয়াতেই ত্রুটি রয়েছে। ফলে প্রথমে কমিশনকে পুনর্গঠন করে তবেই স্থানীয় সরকার নির্বাচনের পথে অগ্রসর হওয়া উচিত।”

তিনি বলেন, নতুন স্থানীয় সরকার নির্বাচন হলে জনপ্রতিনিধিরা নির্বাচিত হয়ে নাগরিক সমস্যাগুলোর সমাধানে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবেন। এ লক্ষ্যে দ্রুত কমিশন পুনর্গঠনের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

জাতীয় নির্বাচন পেছানোর পক্ষে নয় উল্লেখ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, “আমরা বলিনি জাতীয় নির্বাচন পিছিয়ে দিতে হবে। তবে তারিখ ঘোষণা করে সবাইকে আশ্বস্ত করার পর স্থানীয় সরকার নির্বাচন হতে পারে। আমাদের সে বিষয়ে কোনো আপত্তি নেই।”

এনসিপি আহ্বায়ক জানান, ৫ আগস্টের পর থেকে জাতীয় নির্বাচনকে পরিকল্পিতভাবে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আনা হয়েছে। তিনি বলেন, “প্রধান উপদেষ্টা ডিসেম্বর থেকে জুন পর্যন্ত যে সময় দিয়েছেন, সেটি আমরা সমর্থন করেছি। এরমধ্যে নির্বাচন হতে পারে, তবে বিচার ও সংস্কারের বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করতে হবে।”

নাহিদ ইসলাম আরও জানান, গণপরিষদ ও জাতীয় নির্বাচন একসঙ্গে আয়োজনের দাবিও তারা আগেই জানিয়েছেন। স্থানীয় সরকার নির্বাচন নতুন কোনো দাবি নয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।




সারাদেশে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রধান উপদেষ্টার কঠোর নির্দেশনা

রাজধানীসহ সারাদেশে নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।

মঙ্গলবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে তিনি এ নির্দেশনা দেন। বৈঠকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনার পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ কিছু ঘটনা নিয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর ভূমিকার প্রশংসা করেন প্রধান উপদেষ্টা।

বৈঠকে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন এবং জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়া বৈঠকে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ নজমুল হাসান এবং বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার মার্শাল হাসান মাহমুদ খানসহ অন্যান্য ঊর্ধ্বতন সামরিক ও প্রশাসনিক কর্মকর্তারা অংশ নেন।

বৈঠকে দেশের বিভিন্ন স্থানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হয় এবং সংশ্লিষ্ট বাহিনীর পক্ষ থেকে এ বিষয়ে প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়। সার্বিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশ দেন প্রধান উপদেষ্টা।




বরগুনায় বাস থেকে ২৬ মণ সামুদ্রিক মাছ জব্দ

বরগুনার আমতলী উপজেলার মানিকঝুরি এলাকায় একটি যাত্রীবাহী বাসে অভিযান চালিয়ে ২৬ মণ সামুদ্রিক মাছ জব্দ করেছে উপজেলা প্রশাসন ও মৎস্য দপ্তর। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোমবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়।

জানা গেছে, তালতলী থেকে ঢাকাগামী যাত্রীবাহী বাস “মিজান পরিবহন”-এ করে অবৈধভাবে সামুদ্রিক মাছ পাচার করছিল একটি চক্র। বেশ কিছুদিন ধরেই তারা এই রুটে নিয়মিতভাবে মাছ পাচার করে আসছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. রোকনুজ্জামান খানের নেতৃত্বে, উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা তন্ময় কুমার দাস এবং পুলিশ প্রশাসনের যৌথ অভিযানে বাসটিতে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় বাসের ভেতর ও বাঙ্কার থেকে বিপুল পরিমাণ ইলিশ, লইট্যা, টাইগার চিংড়ি, সাদা চিংড়ি এবং ভুলাসহ বিভিন্ন প্রজাতির সামুদ্রিক মাছ জব্দ করা হয়।

পরবর্তীতে জব্দ করা মাছ আমতলী উপজেলা পরিষদের সামনে এনে নিলামে ৭৬ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়। এছাড়া কিছু মাছ হতদরিদ্র পরিবার এবং স্থানীয় এতিমখানার শিশুদের মাঝে বিতরণ করা হয়।

আমতলীর সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা তন্ময় কুমার দাস বলেন, “নিষিদ্ধকালীন সময়ে সমুদ্র থেকে অবৈধভাবে আহরণকৃত এই বিপুল পরিমাণ মাছ পাচার রোধে আমরা নিয়মিত নজরদারি করছি। আজকের অভিযান তারই অংশ।”

এ বিষয়ে আমতলীর ইউএনও মো. রোকনুজ্জামান খান জানান, “আমরা পাচারের পথ রুখে দিতে কঠোর অবস্থানে রয়েছি। এ ধরনের কর্মকাণ্ড রোধে নিয়মিত চেকপোস্ট পরিচালনা এবং পুলিশের টহল বাড়ানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।”


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /