দুদকের চিঠি: শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে নির্বাচন কমিশনে অনুরোধ 

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে নির্বাচনী হলফনামায় সম্পদের তথ্য গোপন ও অসত্য তথ্য দেওয়ার অভিযোগে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) চিঠি দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ (আরপিও)-এর আওতায় ব্যবস্থা নিতে চিঠিতে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২২ মে) দুদকের উপপরিচালক মো. আকতারুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে অবৈধভাবে সম্পদ অর্জনের অভিযোগে অনুসন্ধান শুরু করেছে দুদক।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে (২০০৮) ইসিতে দাখিল করা হলফনামায় শেখ হাসিনা তার নিজের নামে ৬ দশমিক ৫০ একর কৃষিজমি এবং তার মূল্য এক লাখ ৭৫ হাজার টাকা উল্লেখ করেন। কিন্তু দুদকে জমা দেওয়া সম্পদ বিবরণীতে তার নামে থাকা জমির পরিমাণ ২৮ দশমিক ৪১১ একর এবং সেগুলোর মূল্য ৩৩ লাখ ৬৬ হাজার ১০ টাকা বলে পাওয়া গেছে। এতে দেখা যায়, তিনি ২১ দশমিক ৯১ একর জমির তথ্য গোপন করেছেন এবং ৩১ লাখ ৯১ হাজার ১০ টাকা কম দেখিয়েছেন।

এছাড়াও চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়, শেখ হাসিনা তৎকালীন মাগুরা-১ আসনের সংসদ সদস্য ডা. মোহাম্মদ সিরাজুল আকবরের শুল্কমুক্ত কোটা ব্যবহার করে বেনামে ২ লাখ ৩০ হাজার ইউরো মূল্যের একটি মার্সিডিজ বেঞ্জ গাড়ি আমদানি করেন। গাড়িটি তার ধানমন্ডির ঠিকানা ব্যবহার করে রেজিস্ট্রেশন করা হয় (ঢাকা মেট্রো-ঘ-১১-৬৩৬৪) এবং তিনি নিজে এটি ব্যবহার করেন। তবে ডা. সিরাজুল আকবরের আয়কর নথি বা নির্বাচন কমিশনে দাখিলকৃত হলফনামায় এই গাড়ির কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

দুদক চিঠিতে জানিয়েছে, কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে হলফনামায় অসত্য তথ্য দেওয়ার বিষয়ে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ অনুযায়ী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়েছে।




ড. ইউনূসকে সর্বদলীয় বৈঠক ডাকার পরামর্শ জামায়াত আমিরের

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে একটি সর্বদলীয় বৈঠক ডাকার আহ্বান জানিয়েছেন। দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের লক্ষ্যে তিনি এই প্রস্তাব দেন।

বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীতে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের এক জরুরি বৈঠকে এ আহ্বান জানান তিনি। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন ডা. শফিকুর রহমান নিজে। এতে দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে দেশের সার্বিক রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। আলোচনার পর জামায়াত আমির মত দেন, জাতীয় ঐক্যের প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় প্রধান উপদেষ্টার উচিত সকল রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণে একটি সর্বদলীয় বৈঠকের আয়োজন করা।




ভারত থেকে বাংলাদেশি ফেরত পাঠাতে তৎপরতা বাড়িয়েছে দিল্লি

ভারতে অবস্থানরত বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠানোর প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়েছে দেশটির সরকার। এ বিষয়ে বাংলাদেশকে জাতীয়তা যাচাই প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করার আহ্বান জানিয়েছে ভারত। বৃহস্পতিবার সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জসওয়াল জানান, বর্তমানে ভারতের কাছে ২ হাজার ৩৬০ জন ব্যক্তির একটি তালিকা রয়েছে, যাদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠাতে চায় তারা। এদের বেশিরভাগই বিভিন্ন অপরাধে দণ্ডপ্রাপ্ত হয়েছেন। তবে কয়েকজনের জাতীয়তা যাচাইয়ের প্রক্রিয়া ২০২০ সাল থেকে স্থগিত রয়েছে বলে জানান তিনি।

জসওয়াল আরও বলেন, “শুধু বাংলাদেশি নয়, ভারতে অবৈধভাবে অনুপ্রবেশকারী যেকোনো নাগরিককে আইন অনুযায়ী নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হবে।”

সম্প্রতি ভারত সরকার অবৈধ বিদেশিদের গ্রেপ্তারে অভিযান জোরদার করেছে। গত মাসে গুজরাটে এক হাজারের বেশি বিদেশিকে আটক করা হয়, যাদের মধ্যে অনেকেই বাংলাদেশি বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এছাড়া সীমান্তপথে বাংলাদেশি নাগরিকদের ‘পুশ-ইন’ বা জোরপূর্বক ফেরত পাঠানোর ঘটনাও বাড়ছে। ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) এর সহায়তায় শুধু গত কয়েক সপ্তাহেই প্রায় ৩০০ জনকে বাংলাদেশে পুশ-ইন করা হয়েছে। এদের মধ্যে কিছু রোহিঙ্গা নাগরিকও রয়েছেন। বিশেষ করে ৭ থেকে ৯ মে-র মধ্যে প্রত্যন্ত সীমান্ত অঞ্চল দিয়ে এসব মানুষকে ফেরত পাঠানো হয়।

এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ভারতের কাছে কূটনৈতিক চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।




গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সংকটে সেনানিবাসে আশ্রয়: কারা কারা ছিলেন তালিকায়

জুলাই-আগস্ট ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতির প্রেক্ষাপটে সেনানিবাসে আশ্রয় নেওয়া ৬২৬ জন ব্যক্তির পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ করেছে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)। বৃহস্পতিবার (২২ মে) রাতে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তালিকা প্রকাশ করা হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গণঅভ্যুত্থানের পর কিছু কুচক্রী মহলের তৎপরতায় সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। হামলা, অগ্নিসংযোগ, মব জাস্টিস, চুরি ও ডাকাতির মতো ঘটনার পাশাপাশি রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের ওপর আক্রমণের ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টি হয়।

এই অবস্থায় জীবন রক্ষার্থে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন সেনানিবাসে আশ্রয় প্রার্থনা করেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। আইএসপিআরের ভাষ্যমতে, সেনাবাহিনী তখন আশ্রয়প্রার্থীদের জীবন রক্ষাকে অগ্রাধিকার দেয় এবং পরিচয় যাচাইয়ের চেয়ে মানবিক বিবেচনায় আশ্রয় প্রদান করে।

প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী, আশ্রয় নেওয়া ৬২৬ জনের মধ্যে ২৪ জন রাজনৈতিক ব্যক্তি, ৫ জন বিচারক, ১৯ জন অসামরিক প্রশাসনের কর্মকর্তা, ৫১৫ জন পুলিশ সদস্য, ১২ জন বিভিন্ন শ্রেণির ব্যক্তি এবং ৫১ জন পরিবারের সদস্য (স্ত্রী-সন্তান) রয়েছেন।

আইএসপিআর আরও জানায়, অধিকাংশ আশ্রয়প্রার্থী ১-২ দিনের মধ্যেই সেনানিবাস ত্যাগ করেন। তবে, তাদের মধ্যে ৫ জনকে তাদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের ভিত্তিতে আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়।

এর আগে ২০২৪ সালের ১৮ আগস্ট আইএসপিআর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সেনানিবাসে আশ্রয়গ্রহণকারীদের বিষয়ে তথ্য জানায় এবং ওই সময় ১৯৩ জন ব্যক্তির একটি তালিকা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়।

সংস্থাটি বলেছে, মানবিক বিবেচনায় আশ্রয় দেওয়া হলেও কিছু স্বার্থান্বেষী মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিভ্রান্তিমূলক তথ্য ছড়িয়ে সেনাবাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। এ ধরনের অপপ্রচারের বিরুদ্ধে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয় বিজ্ঞপ্তিতে।

আইএসপিআর আরও একবার বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পেশাদারিত্ব, নিষ্ঠা ও জনগণের পাশে থাকার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে।




৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়ে আন্দোলন স্থগিত করলেন ইশরাক হোসেন

বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে ৪৮ ঘণ্টা সময় দিয়ে আপাতত আন্দোলন স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২২ মে) বিকেলে রাজধানীর কাকরাইল মোড়ে আন্দোলনস্থলে উপস্থিত হয়ে তিনি এই ঘোষণা দেন।

ইশরাক হোসেন বলেন, “বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল একটি গণতান্ত্রিক, নিয়মতান্ত্রিক দল, যারা আইনের শাসনে বিশ্বাস করে। হাইকোর্টের আদেশ শোনার পর দল সিদ্ধান্ত নিয়েছে, আপাতত আন্দোলন স্থগিত থাকবে। সরকারকে ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টা সময় দেওয়া হবে। এ সময়ের মধ্যে তাদের কর্মকাণ্ড পর্যবেক্ষণ করে পরবর্তী কর্মসূচির সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”

তিনি অভিযোগ করেন, হাইকোর্টে একটি “ভুয়া রিট” করে তাকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র হিসেবে শপথ নিতে বাধাগ্রস্ত করার অপচেষ্টা করা হয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত আদালতের আদেশে আইনের শাসনের বিজয় হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

আন্দোলন স্থগিতের পেছনে জনদুর্ভোগের বিষয়টিকেও গুরুত্ব দেন ইশরাক। তিনি বলেন, “এই কর্মসূচির ফলে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে। আমরা সাধারণ জনগণের কাছে দুঃখ প্রকাশ করছি। আন্দোলন শুরু করার কোনো পরিকল্পনা ছিল না, কিন্তু সরকার আমাদের বাধ্য করেছে এমন কর্মসূচি নিতে।”

তবে ইশরাক স্পষ্ট করে দেন, সরকারে থাকা দুই ছাত্র প্রতিনিধির পদত্যাগ দাবি থেকে বিএনপি সরে আসছে না। তিনি বলেন, “তাদের পদত্যাগ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলনের মূল লক্ষ্য থাকবে অটুট। আদালতের রায় ও শপথ আলাদা বিষয়। দাবি এখনও বহাল রয়েছে।”

ইশরাক আরও বলেন, সরকার যদি আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে আদালতের রায় বাস্তবায়নে গড়িমসি করে, তাহলে শুক্রবার সকালে আবারও কাকরাইলে অবস্থান কর্মসূচি দেওয়া হবে।

তিনি দাবি করেন, আন্দোলন সফল করতে তৃণমূলের বিএনপি এবং অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। ঢাকাবাসীর সক্রিয় অংশগ্রহণ সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

এ সময় তিনি অভিযোগ করেন, সরকার সমর্থিত একটি রাজনৈতিক দল বিভ্রান্তিকর তথ্য ও ভুল আইনি ব্যাখ্যা ছড়িয়ে বিভ্রান্তি তৈরির চেষ্টা করছে। তিনি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে সম্মান জানিয়ে বলেন, “আপনার আশপাশে থাকা কুলাঙ্গারদের চিহ্নিত করে অপসারণ করুন, এবং একটি নিরপেক্ষ সরকার গঠন করুন।”

প্রসঙ্গত, বুধবার সকাল থেকে কাকরাইলে অবস্থান নিয়ে ইশরাক হোসেনকে মেয়র হিসেবে শপথ পড়ানোর দাবিতে বিক্ষোভ করে তার সমর্থকরা। বৃহস্পতিবার দুপুরেও স্লোগান দিতে দেখা যায় বিএনপি নেতাকর্মীদের, যারা নির্বাচিত সরকারের দাবি ও উপদেষ্টাদের পদত্যাগ চেয়ে আন্দোলনে সরব ছিলেন।




পিরোজপুরে অপহরণ মামলায় তিনজনের ১০ বছরের কারাদণ্ড

পিরোজপুরের ইন্দুরকানীতে অপহরণ ও ছিনতাইয়ের মামলায় তিনজনকে ১০ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসাথে তাদের প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও তিন মাসের সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২২ মে) দুপুরে জেলা অতিরিক্ত দায়রা জজ মো. মোক্তাগীর আলম এই রায় ঘোষণা করেন। এ সময় আসামিরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মামলার রাষ্ট্রপক্ষের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) ওয়াহিদ হাসান বাবু।

দণ্ডপ্রাপ্তরা কারা

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন:

  • ইলিয়াছ ফকির (৪৩), পিতা আশ্রাব আলী ফকির
  • আবুল ফকির (৪৬), ইলিয়াছের ভাই
  • রুহুল খান (৫০), পিতা আ. ছত্তার খান

তিনজনই ইন্দুরকানী উপজেলার বাসিন্দা।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, ২০১৭ সালের ৫ নভেম্বর সন্ধ্যায় সেউতিবাড়ীয়া প্রফেসার বাড়ি মসজিদে নামাজ পড়ার সময় রুবেল হোসেন (৩৪) নামের এক ব্যক্তিকে মসজিদ থেকে অপহরণ করা হয়। অভিযুক্তরা রুবেলের মোবাইল ফোন (মূল্য ১৭ হাজার টাকা) এবং পকেটে থাকা ৩০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়। এরপর মোটরসাইকেলে করে টগড়া ফেরিঘাট এলাকায় নিয়ে গিয়ে তাকে মারধর করে।

খবর পেয়ে পুলিশ রুবেলকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে ফিরে আসার পর, ঘটনার আট দিন পর রুবেল ইন্দুরকানী থানায় একটি অপহরণ মামলা দায়ের করেন।

মামলার তদন্ত শেষে ২০১৮ সালের ১৭ এপ্রিল তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মো. জাকির হোসেন খান আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। মামলায় মোট ১২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত রায় ঘোষণা করেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ওয়াহিদ হাসান বাবু বলেন, “আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত প্রত্যেককে ১০ বছর সশ্রম কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন। অনাদায়ে আরও তিন মাসের দণ্ড দেওয়া হয়েছে।”


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /

 




চরফ্যাশনের দ্বীপে পর্যটন ও অর্থনীতিতে নতুন জোয়ার

ভোলার চরফ্যাশনের বিচ্ছিন্ন চারটি দ্বীপ—ঢালচর, চরকুকরি-মুকরি, চরপাতিলা ও চরমন্তাজে—পর্যটন ও স্থানীয় অর্থনীতিতে খুলে গেছে সম্ভাবনার নতুন দ্বার। যাতায়াতে আধুনিকায়নের ছোঁয়া লেগেছে এসব দ্বীপে, বদলে যাচ্ছে মানুষের জীবনধারা।

উপজেলার দক্ষিণ আইচা থানার চরকচ্ছপিয়া লঞ্চঘাট থেকে বর্তমানে প্রতিদিন ৯টি লঞ্চ ও ১০টি স্পিডবোট চারটি রুটে যাত্রী পরিবহন করছে। কিছুদিন আগেও যেখানে প্রতিদিন মাত্র ৪টি লঞ্চ চলতো, এখন সেখানে দ্বিগুণেরও বেশি যাতায়াতের ব্যবস্থা রয়েছে। এতে পর্যটক, ব্যবসায়ী ও কর্মজীবীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।

স্থানীয়রা জানান, আগে নির্ধারিত সময় ছাড়া লঞ্চ চলতো না, ফলে অনেকেই সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছাতে পারতেন না। এখন প্রতি এক ঘণ্টা অন্তর অন্তর লঞ্চ ছাড়ায় যাত্রীদের আর বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে না। ঢাকাসহ দেশের নানা প্রান্ত থেকে বিপুল পর্যটক চরকুকরি-মুকরির মতো দ্বীপে বেড়াতে আসেন। নতুন লঞ্চ সংযোগে এখন তারা আরও নির্বিঘ্নে যাতায়াত করতে পারছেন।

চরকুকরি-মুকরির বাসিন্দা ফয়েজ ও মঞ্জুরুল আলম বলেন, “আগে মাত্র দুটি লঞ্চ আর কয়েকটি স্পিডবোট থাকায় পর্যটকদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হতো। এখন নতুন লঞ্চ সংযোজনের ফলে যাতায়াতে সময় ও ঝুঁকি—দুটোই কমেছে।”

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাসনা শারমিন মিথি জানিয়েছেন, “চরকচ্ছপিয়া ও কুকরি-মুকরি ঘাটে পন্টুন স্থাপনের কাজ এগিয়ে চলেছে। এর মাধ্যমে যাত্রী উঠানামার দুর্ভোগ কমবে এবং পুরো অঞ্চলেই পর্যটন খাতে বড় অগ্রগতি আসবে।”

চরফ্যাশনের বিচ্ছিন্ন দ্বীপগুলোতে নৌপথের উন্নতি শুধু যাতায়াতেই নয়, বরং পর্যটন ও স্থানীয় অর্থনীতির গতি বাড়িয়ে দিয়েছে। নতুন এ পরিবর্তন ভবিষ্যতে অঞ্চলটিকে দেশের অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটন হাব হিসেবে গড়ে তুলতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




গোয়েন্দা গল্পে ভাঙন, ভিন্ন রূপে আসছেন মোশাররফ করিম ‘মির্জা’ হয়ে

বাংলা বিনোদনে গোয়েন্দা চরিত্র মানেই সাধারনত স্মার্ট, ফিট আর অ্যাকশনপ্রেমী হিরো। কিন্তু এবার সেই চেনা ছক ভেঙে নতুন এক গোয়েন্দা চরিত্রে হাজির হচ্ছেন মোশাররফ করিম। নাম ‘মির্জা’

সুমন আনোয়ার পরিচালিত এই ওয়েব ফিল্মে দেখা যাবে ৫০ বছর বয়সী একজন মোটা, অবিবাহিত অথচ অদ্ভুত বুদ্ধিমান এক গোয়েন্দাকে, যিনি না দৌড়ান, না মারামারি করেন—তবুও শুধু মস্তিষ্কের জোরে জটিল রহস্যের জাল ভেদ করেন।

‘মির্জা’ ওয়েব ফিল্মের মূল কাহিনি শুরু হয় এক তরুণী লুনাকে ঘিরে। তার যমজ বোন নিখোঁজ। সেই বোনের খোঁজেই লুনা সাহায্য চান গোয়েন্দা মির্জার কাছে। প্রথমে সাধারণ মনে হলেও, সময়ের সাথে রহস্য এমনভাবে ঘনীভূত হয়, যেখানে জড়িয়ে পড়ে এক ভয়ঙ্কর মাফিয়া চক্র, এক সন্দেহপ্রবণ পুলিশ কর্মকর্তা ও বেশ কিছু বিস্ময়কর সত্য।

মির্জার ব্যক্তিগত জীবনও কম নাটকীয় নয়। সাত বোন নিয়ে তার পরিবার। তারা প্রত্যেকেই ব্যস্ত ভাইয়ের জন্য পাত্রী খোঁজায়, যদিও মির্জার নিজস্ব আগ্রহ বিয়ের প্রতি প্রায় নেই বললেই চলে। খেয়ালি ও আনাড়ি হলেও, গোয়েন্দাগিরিতে মির্জার পর্যবেক্ষণ ক্ষমতা ঈর্ষণীয়।

মোশাররফ করিম ছাড়াও ওয়েব ফিল্মটিতে বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন পারসা ইভানা (লুনা), জুনায়েদ বোগদাদী, খালিদ হাসান রুমি, রাসেল, মামুন, অরণ্য, সৌমি, সামিরা, দোয়েল, বর্না, ঐশী এবং শিবলু।

পরিচালক সুমন আনোয়ার তার ‘রাতারগুল’, ‘কালাগুল’ এবং ‘সদরঘাটের টাইগার’-এর মতো নাটকীয় ও রহস্যময় কাজের জন্য সুপরিচিত। ‘মির্জা’-তেও তিনি তার সেই মুন্সিয়ানার ছাপ রেখেছেন।

ওয়েব ফিল্মটি মুক্তি পাচ্ছে আগামীকাল (২৩ মে) স্থানীয় ওটিটি প্ল্যাটফর্ম বঙ্গ-তে। গোয়েন্দা ঘরানার গল্পে নতুন মাত্রা আনবে বলেই মনে করছেন নির্মাতা।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /


 




শেষ মুহূর্তে পাকিস্তান সিরিজে বাংলাদেশ দলে মিরাজ

পিঠের চোটে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে খেলতে না পারলেও পাকিস্তান সফরের জন্য বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি দলে জায়গা করে নিলেন অলরাউন্ডার মেহেদী হাসান মিরাজ। সৌম্য সরকারের ইনজুরিতে বাইরে চলে যাওয়ার পর টিম ম্যানেজমেন্ট শেষ মুহূর্তে দলে ডাকে এই অভিজ্ঞ ক্রিকেটারকে।

বৃহস্পতিবার (২২ মে) বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে মিরাজের অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। বিসিবির ভাষ্য অনুযায়ী, মিরাজ বর্তমানে পাকিস্তানেই অবস্থান করছেন। তিনি পাকিস্তান সুপার লিগে (পিএসএল) লাহোর কালান্দার্স দলের হয়ে খেলছেন। সেখান থেকেই তিনি জাতীয় দলের সঙ্গে যুক্ত হবেন।

জাতীয় দলের ফিজিও বায়েজিদুল ইসলাম খান জানান, “সৌম্যর চোটের অবস্থা পর্যালোচনার পর দেখা গেছে, তাকে অন্তত ১০ থেকে ১২ দিন পুনর্বাসনের মধ্য দিয়ে যেতে হবে। ফলে পাকিস্তান সিরিজে তার অংশগ্রহণ সম্ভব নয়।”

মিরাজের অন্তর্ভুক্তি অনেকটা চমক হিসেবেই দেখা হচ্ছে, কারণ সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে সিরিজেও তাকে বিবেচনায় রাখা হয়নি। তবে অভিজ্ঞতা ও সাম্প্রতিক ফর্মের ভিত্তিতে পাকিস্তান সফরের জন্য তাকে নেওয়া হয়েছে বলে ক্রিকেট বোর্ড সূত্রে জানা গেছে।

২৭ বছর বয়সী এই অলরাউন্ডার এর আগে বাংলাদেশের হয়ে ২৯টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছেন। তার বোলিং ও ব্যাটিং উভয় দিকেই অবদান রাখার অভিজ্ঞতা রয়েছে।

পাকিস্তানের বিপক্ষে আসন্ন তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজটি অনুষ্ঠিত হবে লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে। সিরিজের ম্যাচগুলো হবে ২৮ মে, ৩০ মে ও ১ জুন। প্রতিটি ম্যাচ শুরু হবে স্থানীয় সময় রাত ৮টায় (বাংলাদেশ সময় রাত ৯টায়)। বাংলাদেশ দল ২৫ মে পাকিস্তানে পৌঁছাবে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




অপসারণ হলেন হাইকোর্টের বিচারপতি দিলীরুজ্জামান

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি খোন্দকার দিলীরুজ্জামানকে অপসারণ করা হয়েছে। সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের সুপারিশের ভিত্তিতে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন সংবিধানের ক্ষমতাবলে এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।

বৃহস্পতিবার (২২ মে) আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, সংবিধানের ৯৬ অনুচ্ছেদের দফা (৬) অনুযায়ী বিচারপতি খোন্দকার দিলীরুজ্জামানকে ২১ মে তারিখে হাইকোর্ট বিভাগের বিচারকের পদ থেকে অপসারণ করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, এই আদেশ রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরে কার্যকর হয়েছে এবং আইনগতভাবে চূড়ান্ত।

এর আগে, ২০২৪ সালের ১৬ অক্টোবর বিচারপতি দিলীরুজ্জামানসহ আরও ১১ জন বিচারপতির বিরুদ্ধে ‘সরকারঘেঁষা ভূমিকা’ পালনের অভিযোগ উঠলে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নির্দেশে তাদের বিচারকাজ থেকে বিরত রাখা হয়। ওই সময় তারা ছুটিতে পাঠানো হয় এবং হাইকোর্ট বেঞ্চে বিচারকার্য পরিচালনার দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

বিচারপতি খোন্দকার দিলীরুজ্জামান ২০১৮ সালের ৩১ মার্চ অতিরিক্ত বিচারক হিসেবে নিয়োগ পান। পরে ২০২০ সালের ৩০ মে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ তাঁকে স্থায়ী বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দেন।

এই অপসারণের খবরে দেশের বিচারাঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা চলছে। অনেকে বলছেন, বিচার বিভাগে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে এটি একটি দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপ।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /