দুদকের চিঠি: শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে নির্বাচন কমিশনে অনুরোধ

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে নির্বাচনী হলফনামায় সম্পদের তথ্য গোপন ও অসত্য তথ্য দেওয়ার অভিযোগে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) চিঠি দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ (আরপিও)-এর আওতায় ব্যবস্থা নিতে চিঠিতে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২২ মে) দুদকের উপপরিচালক মো. আকতারুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে অবৈধভাবে সম্পদ অর্জনের অভিযোগে অনুসন্ধান শুরু করেছে দুদক।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে (২০০৮) ইসিতে দাখিল করা হলফনামায় শেখ হাসিনা তার নিজের নামে ৬ দশমিক ৫০ একর কৃষিজমি এবং তার মূল্য এক লাখ ৭৫ হাজার টাকা উল্লেখ করেন। কিন্তু দুদকে জমা দেওয়া সম্পদ বিবরণীতে তার নামে থাকা জমির পরিমাণ ২৮ দশমিক ৪১১ একর এবং সেগুলোর মূল্য ৩৩ লাখ ৬৬ হাজার ১০ টাকা বলে পাওয়া গেছে। এতে দেখা যায়, তিনি ২১ দশমিক ৯১ একর জমির তথ্য গোপন করেছেন এবং ৩১ লাখ ৯১ হাজার ১০ টাকা কম দেখিয়েছেন।
এছাড়াও চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়, শেখ হাসিনা তৎকালীন মাগুরা-১ আসনের সংসদ সদস্য ডা. মোহাম্মদ সিরাজুল আকবরের শুল্কমুক্ত কোটা ব্যবহার করে বেনামে ২ লাখ ৩০ হাজার ইউরো মূল্যের একটি মার্সিডিজ বেঞ্জ গাড়ি আমদানি করেন। গাড়িটি তার ধানমন্ডির ঠিকানা ব্যবহার করে রেজিস্ট্রেশন করা হয় (ঢাকা মেট্রো-ঘ-১১-৬৩৬৪) এবং তিনি নিজে এটি ব্যবহার করেন। তবে ডা. সিরাজুল আকবরের আয়কর নথি বা নির্বাচন কমিশনে দাখিলকৃত হলফনামায় এই গাড়ির কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
দুদক চিঠিতে জানিয়েছে, কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে হলফনামায় অসত্য তথ্য দেওয়ার বিষয়ে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ অনুযায়ী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়েছে।








