পটুয়াখালীতে সরকারি জমি দখলে সোহেল দেওয়ানের কারাদণ্ড ও জরিমানা

পটুয়াখালীর কলাপাড়া পৌরসভার নতুন বাজার এলাকায় সরকারি খাস জমি পুনরায় দখল করে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগে মোঃ সোহেল দেওয়ানকে সাত দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং পাঁচ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

বৃহস্পতিবার (২২ মে) দিবাগত রাত আনুমানিক ১০টার দিকে কলাপাড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইয়াসীন সাদেকের নেতৃত্বে পরিচালিত এক অভিযানে এই রায় ঘোষণা করা হয়।

জানা যায়, কলাপাড়ার নতুন বাজারের সিকদার বুটিকস্ হাউজের সামনে যে সরকারি খাস জায়গাটি আগেই উচ্ছেদ করা হয়েছিল, সেই স্থানটি আবারো দখল করে নির্মাণকাজ শুরু করেন মোঃ সোহেল দেওয়ান। এ ঘটনায় স্থানীয়দের অভিযোগ ও তদন্তের ভিত্তিতে অভিযানে নামে প্রশাসন।

ভূমি অপরাধ প্রতিকার ও প্রতিরোধ আইন, ২০২৩-এর ১১ ধারা অনুযায়ী সোহেল দেওয়ানকে সাত দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও পাঁচ হাজার টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়। অনাদায়ে আরও দুই দিনের কারাদণ্ডের আদেশ ছিল, তবে তিনি জরিমানার অর্থ পরিশোধ করায় অতিরিক্ত কারাদণ্ডটি মওকুফ করা হয়।

উল্লেখ্য, সোহেল দেওয়ান কলাপাড়া উপজেলা শ্রমিকদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি পদে রয়েছেন। তার বিরুদ্ধে এই দণ্ডাদেশ স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, সরকারি সম্পত্তি দখলের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে কাজ করছে প্রশাসন। যারা নিয়ম লঙ্ঘন করবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে। এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও চলমান থাকবে বলে জানান নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইয়াসীন সাদেক।

এদিকে, প্রশাসনের এমন পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছে এলাকাবাসী। তারা আশা করছেন, সরকারি জায়গা রক্ষায় এ ধরনের কঠোর আইন প্রয়োগে জনসচেতনতা যেমন বাড়বে, তেমনি দখলদারদের দৌরাত্ম্যও কমবে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



কলাপাড়ায় ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যে রাখাইনদের গুরুদক্ষিণা উৎসব

পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলায় রাখাইন সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় অনুষ্ঠান ‘গুরুদক্ষিণা উৎসব’ উৎসবমুখর পরিবেশে পালন করা হয়েছে। শুক্রবার সকাল ১০টায় বালিয়াতলী ইউনিয়নের তুলতলী গ্রামের ঐতিহ্যবাহী বৌদ্ধ বিহারে আনুষ্ঠানিকভাবে এই ধর্মীয় আয়োজন শুরু হয়।

উৎসব উপলক্ষে সকাল থেকেই কলাপাড়া ছাড়াও আশপাশের বিভিন্ন উপজেলার রাখাইন উপাসক-উপাসিকারা বিহার প্রাঙ্গণে সমবেত হন। তারা গুরু ভক্তি ও ধর্মীয় চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে পঞ্চশীল গ্রহণ করেন এবং দিনের সূচনা করেন প্রার্থনা ও ধ্যানের মাধ্যমে।

এরপর আয়োজনে অংশ নেন পটুয়াখালী ও বরগুনা জেলার সবচেয়ে প্রবীণ ও শ্রদ্ধেয় সঙ্গরাজ, ভান্তে উইকুইনন্দা মহাথের মহোদয়। তাকে গুরুদক্ষিণা প্রদান করে রাখাইনরা তার কাছ থেকে আর্শীবাদ গ্রহণ করেন। এ সময় পেছনের সব ভুল ও দ্বন্দ্ব ভুলে গিয়ে একে অপরের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন তারা, যা রাখাইন সমাজে আত্মশুদ্ধি ও সম্পর্কের বন্ধন দৃঢ় করার একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ।

দিনব্যাপী চলা এই উৎসবে ছিল আহার প্রদানের আয়োজন, ধর্মীয় আলোচনা, ভিক্ষুদের দান প্রদান এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মত নানা আয়োজনে মুখর ছিল পুরো বিহার এলাকা। রাখাইন নারী-পুরুষ ও শিশুরা ঐতিহ্যবাহী পোশাকে অংশ নেয় এই মহোৎসবে, যা ছিল এক চমৎকার মনোজ্ঞ দৃশ্য।

রাখাইন সমাজের নেতারা জানান, বর্ষাবাস শুরু হওয়ার আগেই প্রতিবছর এ ধর্মীয় অনুষ্ঠানটি তারা বিপুল শ্রদ্ধা ও আনন্দের মধ্য দিয়ে পালন করে থাকেন। এটি রাখাইন সংস্কৃতি ও বৌদ্ধ ধর্মের প্রতি গভীর আস্থার বহিঃপ্রকাশ।

স্থানীয়রা মনে করেন, এই উৎসব কেবল ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তারা আশা করছেন, সরকার ও স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তায় এই ঐতিহ্যবাহী ধর্মীয় উৎসব ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে পালন করা সম্ভব হবে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




বরিশালে সরকারি অফিসেই বিটিসিএলের বকেয়া ৬৭%

বরিশাল বিভাগে বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন্স কোম্পানি লিমিটেড (বিটিসিএল)-এর মোট বকেয়ার ৬৭ শতাংশই রয়েছে সরকারি অফিসগুলোর কাছে। ব্যক্তিগত গ্রাহক পর্যায়ে বকেয়ার পরিমাণ ৩৩ শতাংশ হলেও আইনগত বাধার কারণে সরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে এই বকেয়া আদায় করা যাচ্ছে না।

১৮৮৫ সালের ব্রিটিশ আমলের টেলিগ্রাফ আইন অনুযায়ী ব্যক্তি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা করার সুযোগ থাকলেও, সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো এর আওতামুক্ত। ফলে এই সংস্থাগুলোর কাছ থেকে টেলিফোন ও ইন্টারনেট বিল আদায় করতে পারছে না বিটিসিএল।

বিটিসিএল-এর বরিশাল বিভাগ জানিয়েছে, ছয় জেলায় মোট ১১ হাজার ৯৬১টি সংযোগের বিপরীতে প্রায় ২ কোটি ৩১ লাখ ৯৪ হাজার টাকা বকেয়া রয়েছে। এর মধ্যে শুধু সরকারি অফিসগুলোর কাছেই রয়েছে ১ কোটি ৫৫ লাখ ৪০ হাজার টাকা, যা মোট বকেয়ার প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ।

জেলার ভিত্তিতে বকেয়ার হিসাব নিম্নরূপ:

  • বরিশাল: ৪৬৯৪ সংযোগ, বকেয়া ৯০.৫৮ লাখ টাকা
  • ভোলা: ১৫০৩ সংযোগ, বকেয়া ৩৪.২৪ লাখ টাকা
  • বরগুনা: ১৪৪৭ সংযোগ, বকেয়া ১৯.৬৮ লাখ টাকা
  • পটুয়াখালী: ১৮১০ সংযোগ, বকেয়া ৪০.৭৭ লাখ টাকা
  • পিরোজপুর: ১৮৫ সংযোগ, বকেয়া ১৮.৩৫ লাখ টাকা
  • ঝালকাঠি: ১৪২২ সংযোগ, বকেয়া ২৮.৩০ লাখ টাকা

বর্তমানে ৪২০টি বকেয়া মামলার মধ্যে ৩৮টি মামলার বিপরীতে মাত্র ৫ লাখ ৩৬ হাজার টাকা আদায় হয়েছে। এসব মামলার অধিকাংশই ৮-১০ বছর পুরানো এবং অনেকগুলো মামলার বয়স কয়েক যুগ।

বিটিসিএল-এর বরিশাল অঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক তরিকুল ইসলাম খান জানান, “বকেয়াগুলো অনেক পুরানো। আমরা নিয়মিত চিঠি দিচ্ছি, মামলা করছি। সরকার ১০০ দিনের বকেয়া আদায়ের যে নির্দেশ দিয়েছে তাতে কিছুটা সাড়া পেয়েছি। তবে জরিমানার বিধান না থাকায় কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া কঠিন।”


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




ভারতীয় প্রতিরক্ষা কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি বাতিল করলো বাংলাদেশ

ভারতীয় কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি বাতিল করল বাংলাদেশ

বাংলাদেশ সরকার ভারতের পশ্চিমবঙ্গের একটি প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে করা ২ কোটি ১০ লাখ মার্কিন ডলারের একটি চুক্তি বাতিল করেছে। শুক্রবার (২৩ মে) ভারতের একাধিক শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যম এ তথ্য প্রকাশ করে।

খবরে জানানো হয়, কলকাতা-ভিত্তিক গার্ডেন রিচ শিপবিল্ডার্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেড (জিআরএসই)-এর কাছ থেকে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর জন্য একটি টাগ বোট (৮০০ টন ওজন) কেনার জন্য এই চুক্তি হয়েছিল। চুক্তির আর্থিক মূল্য ছিল প্রায় ১৮০ কোটি রুপি।

চুক্তি বাতিলের সিদ্ধান্ত আসে এমন এক সময়ে, যখন ভারত বাংলাদেশ থেকে তৈরি পোশাকসহ বিভিন্ন পণ্যের তাদের স্থলবন্দর ব্যবহার করে পরিবহনে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। ধারণা করা হচ্ছে, ভারতের এই পদক্ষেপের প্রতিক্রিয়াতেই বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে টাগ বোট কেনার আদেশ বাতিল করা হয়েছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির বরাতে বলা হয়েছে, জিআরএসই কর্তৃপক্ষ পুঁজিবাজারকে জানিয়েছে—বাংলাদেশ সরকার তাদের ক্রয়াদেশ বাতিল করেছে। এদিকে, হিন্দু বিজনেস লাইন জানায়, চুক্তি বাতিল হয়েছে বাংলাদেশ সরকার ও প্রতিষ্ঠানটির মধ্যে আলোচনার মাধ্যমেই।

এ বিষয়ে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো আরও দাবি করেছে, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় “সেভেন সিস্টার্স” অঞ্চলকে স্থলবেষ্টিত বলে উল্লেখ করেন এবং চীনের প্রতি আহ্বান জানান ওই অঞ্চল ব্যবহার করে বাণিজ্য সম্প্রসারণের। এমন মন্তব্যের প্রেক্ষিতেই ভারত তাদের সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশি পণ্য পরিবহনে বাধা দিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।




কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে মার্কিন সেনা নিয়ে যা জানা গেলো

মার্কিন সেনা

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মার্কিন সেনাদের কিছু ছবি ছড়িয়ে যাওয়ার পর তা নিয়ে বিভিন্ন ধরনের জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়ে গেছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, একটি প্রশিক্ষণের জন্য মার্কিন সেনা ও বিমানবাহিনী সদস্যদের একটি দল বর্তমানে কক্সবাজারে অবস্থান করছেন।

জানতে চাইলে কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক মোহাম্মদ তানহারুল ইসলাম বলেন, “কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের জন্য প্রশিক্ষণ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে মার্কিন সেনা ও বিমানবাহিনীর সদস্যদের নিয়ে।” মার্কিন সেনারা এই প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করছেন বলে জানান তিনি।

এবার কক্সবাজারে মার্কিন সেনা ও বিমানবাহিনী সদস্যদের উপস্থিতি নিয়ে মুখ খুলেছে ভারত।

আজ ভারতের গণমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমসের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, কক্সবাজারে মার্কিন সেনা উপস্থিত। এই আবহে সেন্ট মার্টিন দ্বীপ বা রাখাইনের মানবিক করিডোর নিয়ে জোর জল্পনা চলছে বাংলাদেশে। এই পরিস্থিতিতে ভারতের অবস্থান ঠিক কী? এই নিয়ে গতকাল সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্ন করা হয়েছিল ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়ালকে। আর জবাবে রণধীর সংক্ষিপ্ত জবাব দেন, “সব ঘটনার ওপরেই তীক্ষ্ণ নজর রাখা হয় এবং প্রয়োজনে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”




মৃতপ্রায় কচ্ছপখালী খাল, দুর্ভোগে হাজারো পরিবার

পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার লতাচাপলী ইউনিয়নের কচ্ছপখালী স্লুইস গেট থেকে পূর্ব দিকে বিস্তৃত প্রায় ৮ কিলোমিটার দীর্ঘ খালটি বর্তমানে কার্যত মৃতপ্রায় এক জলাশয়ে রূপ নিয়েছে। বহু বছর ধরে খনন না হওয়া, অবৈধ দখল, বাঁধ, পুকুর ও ঘের গড়ে ওঠা এবং জরাজীর্ণ ব্রিজ-কালভার্টের কারণে খালটির প্রাকৃতিক প্রবাহ সম্পূর্ণভাবে ব্যাহত হয়েছে। অথচ এই খালটি একসময় কৃষি সেচ, মাছ চাষ এবং বর্ষার সময় জলাবদ্ধতা নিরসনে স্থানীয় মানুষের জীবনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিল।

বর্তমানে খালের দুই পাশে জমে থাকা কাদা এবং আবর্জনায় তা ধীরে ধীরে ভরাট হয়ে যাচ্ছে। সুযোগ নিয়ে কিছু ব্যক্তি খালের জমিতে পুকুর ও ঘের তৈরি করে ফেলেছেন। কেউ কেউ আবার খালের ভেতরে স্থায়ী বাঁধ দিয়ে মাছ চাষ করছেন, যা পানির স্বাভাবিক গতিকে পুরোপুরি থামিয়ে দিয়েছে। বছরের পর বছর সরকারি কোনো কার্যকর পদক্ষেপ না থাকায় খালটি হারিয়েছে তার নাব্যতা ও পরিবেশগত গুরুত্ব।

খালের উপর নির্মিত আয়রন ব্রিজ ও কালভার্টগুলো ভেঙে পড়লেও আজ পর্যন্ত কোনো সংস্কার হয়নি। কিছু স্থানে মাটি ফেলে রাস্তা তৈরি করে দেওয়া হয়েছে, ফলে জোয়ার-ভাটার পানি চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। খালে এখন শুধু দুর্গন্ধযুক্ত স্থির পানি, কাদা আর আগাছা—যা একে মৃত জলাশয়ে পরিণত করেছে।

এই অবস্থার সবচেয়ে বড় শিকার কৃষকেরা। সেচের পানি না থাকায় অনেক জমি অনাবাদি পড়ে আছে। যেসব কৃষক পাম্প দিয়ে পানি তোলার চেষ্টা করেন, তাদেরকে অনেক খরচ বহন করতে হয়, তাও প্রয়োজন মতো পানি মেলে না। অন্যদিকে বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতায় বহু বসতবাড়ি পানির নিচে তলিয়ে যায়। মানুষের জীবন ও জীবিকা চরম দুর্ভোগে পড়ে।

স্থানীয় কৃষক জামাল হোসেন বলেন, “এই খালটাই এক সময় আমাদের ফসলের প্রাণ ছিল। এখন পানি চাইলে পাম্প দিয়ে অনেক খরচ করে আনতে হয়, তাও ঠিকমতো পাওয়া যায় না। আর বর্ষায় তো বৃষ্টির পানি ঘরে ঢুকে যায়।”
আরেক বাসিন্দা জাহাঙ্গীর জানান, “খালের পাশে যারা বসতি গড়েছে, তারা প্রতিবছর বৃষ্টির সময় আতঙ্কে থাকেন। পানি জমে ঘর ভাসে। খাল খনন না হলে মুক্তি নেই।”

এলাকাবাসী একাধিকবার প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করলেও এখন পর্যন্ত কোনো সাড়া মেলেনি বলে অভিযোগ। তাদের দাবি, অবিলম্বে খালটির পূর্ণাঙ্গ খনন শুরু করতে হবে। খালের দুই পাশে যেসব অবৈধ বাঁধ, পুকুর ও ঘের রয়েছে, সেগুলো সরিয়ে ফেলা জরুরি। একইসঙ্গে ধসে পড়া ব্রিজ ও কালভার্ট পুনঃনির্মাণ করে খালের পানিপ্রবাহ এবং এলাকার যোগাযোগব্যবস্থাকে সচল করতে হবে।

তারা আশা করছেন, সংশ্লিষ্ট প্রশাসন দীর্ঘদিনের এই সমস্যার সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করবে। যাতে করে এই খালকে কেন্দ্র করে কৃষি, পরিবেশ ও জনজীবনে আবারও সুস্থতা ফিরে আসে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




চলমান অস্থিরতায় পদত্যাগের ইঙ্গিত ড. ইউনূসের, আলোচনায় মিললো সংকটের বার্তা

দেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস চলমান রাজনৈতিক অচলাবস্থার কারণে পদত্যাগের বিষয়টি বিবেচনা করছেন বলে জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন নাহিদ। পরে বিবিসি বাংলাকে তিনি জানান, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং আন্দোলনের চাপে ড. ইউনূস নিজের দায়িত্ব পালনে সংকটে পড়েছেন বলে মনে করছেন।

নাহিদ বলেন, “দেশের চলমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করতে স্যারের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলাম। তিনি বলেছেন, যদি কাজ করতে না পারি, তাহলে এই অবস্থায় থাকা অর্থহীন।”

প্রধান উপদেষ্টা আরও উল্লেখ করেন, আন্দোলনের চাপ ও রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐক্যের অভাব তাকে কার্যত ‘জিম্মি’ করে ফেলেছে বলে মনে করছেন তিনি।

নাহিদ ইসলাম জানান, তিনি ড. ইউনূসকে পদত্যাগ না করার অনুরোধ জানিয়েছেন। “আমি বলেছি, দেশের ভবিষ্যৎ, জাতীয় নিরাপত্তা এবং আমাদের গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষার কথা বিবেচনায় রেখে আপনি শক্ত থাকুন। সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে ঐক্য গড়ে তুলুন।”

তিনি আরও বলেন, “স্যার বলেছেন, যদি রাজনৈতিক দলগুলো আস্থা না দেয়, তাহলে তিনি কেন থাকবেন? তিনি স্পষ্ট বলেছেন, পদত্যাগের বিষয়ে ভাবছেন।”

এদিকে, বিএনপি বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে অন্তর্বর্তী সরকারের দুই উপদেষ্টা—মাহফুজ আলম ও আসিফ মাহমুদের—পদত্যাগ দাবি করে। একইসঙ্গে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমানেরও অব্যাহতি চায় দলটি।

বিএনপির এ দাবির পর পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় এনসিপির এক শীর্ষ নেতা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল, অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ এবং পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদ উদ্দিন মাহমুদকে ‘বিএনপির মুখপাত্র’ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। সংস্কার বাস্তবায়ন না হলে তাদেরও পদত্যাগে বাধ্য করা হতে পারে।

এদিকে, তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলম বৃহস্পতিবার নিজের ফেসবুক স্ট্যাটাসে অতীতে বিভাজনমূলক বক্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন।

বর্তমান অস্থির রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে প্রধান উপদেষ্টার এমন মনোভাব দেশের অন্তর্বর্তী সরকার কাঠামোতে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।




দুদকের চিঠি: শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে নির্বাচন কমিশনে অনুরোধ 

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে নির্বাচনী হলফনামায় সম্পদের তথ্য গোপন ও অসত্য তথ্য দেওয়ার অভিযোগে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) চিঠি দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ (আরপিও)-এর আওতায় ব্যবস্থা নিতে চিঠিতে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২২ মে) দুদকের উপপরিচালক মো. আকতারুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে অবৈধভাবে সম্পদ অর্জনের অভিযোগে অনুসন্ধান শুরু করেছে দুদক।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে (২০০৮) ইসিতে দাখিল করা হলফনামায় শেখ হাসিনা তার নিজের নামে ৬ দশমিক ৫০ একর কৃষিজমি এবং তার মূল্য এক লাখ ৭৫ হাজার টাকা উল্লেখ করেন। কিন্তু দুদকে জমা দেওয়া সম্পদ বিবরণীতে তার নামে থাকা জমির পরিমাণ ২৮ দশমিক ৪১১ একর এবং সেগুলোর মূল্য ৩৩ লাখ ৬৬ হাজার ১০ টাকা বলে পাওয়া গেছে। এতে দেখা যায়, তিনি ২১ দশমিক ৯১ একর জমির তথ্য গোপন করেছেন এবং ৩১ লাখ ৯১ হাজার ১০ টাকা কম দেখিয়েছেন।

এছাড়াও চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়, শেখ হাসিনা তৎকালীন মাগুরা-১ আসনের সংসদ সদস্য ডা. মোহাম্মদ সিরাজুল আকবরের শুল্কমুক্ত কোটা ব্যবহার করে বেনামে ২ লাখ ৩০ হাজার ইউরো মূল্যের একটি মার্সিডিজ বেঞ্জ গাড়ি আমদানি করেন। গাড়িটি তার ধানমন্ডির ঠিকানা ব্যবহার করে রেজিস্ট্রেশন করা হয় (ঢাকা মেট্রো-ঘ-১১-৬৩৬৪) এবং তিনি নিজে এটি ব্যবহার করেন। তবে ডা. সিরাজুল আকবরের আয়কর নথি বা নির্বাচন কমিশনে দাখিলকৃত হলফনামায় এই গাড়ির কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

দুদক চিঠিতে জানিয়েছে, কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে হলফনামায় অসত্য তথ্য দেওয়ার বিষয়ে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ অনুযায়ী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়েছে।




ড. ইউনূসকে সর্বদলীয় বৈঠক ডাকার পরামর্শ জামায়াত আমিরের

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে একটি সর্বদলীয় বৈঠক ডাকার আহ্বান জানিয়েছেন। দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের লক্ষ্যে তিনি এই প্রস্তাব দেন।

বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীতে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের এক জরুরি বৈঠকে এ আহ্বান জানান তিনি। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন ডা. শফিকুর রহমান নিজে। এতে দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে দেশের সার্বিক রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। আলোচনার পর জামায়াত আমির মত দেন, জাতীয় ঐক্যের প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় প্রধান উপদেষ্টার উচিত সকল রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণে একটি সর্বদলীয় বৈঠকের আয়োজন করা।




ভারত থেকে বাংলাদেশি ফেরত পাঠাতে তৎপরতা বাড়িয়েছে দিল্লি

ভারতে অবস্থানরত বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠানোর প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়েছে দেশটির সরকার। এ বিষয়ে বাংলাদেশকে জাতীয়তা যাচাই প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করার আহ্বান জানিয়েছে ভারত। বৃহস্পতিবার সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জসওয়াল জানান, বর্তমানে ভারতের কাছে ২ হাজার ৩৬০ জন ব্যক্তির একটি তালিকা রয়েছে, যাদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠাতে চায় তারা। এদের বেশিরভাগই বিভিন্ন অপরাধে দণ্ডপ্রাপ্ত হয়েছেন। তবে কয়েকজনের জাতীয়তা যাচাইয়ের প্রক্রিয়া ২০২০ সাল থেকে স্থগিত রয়েছে বলে জানান তিনি।

জসওয়াল আরও বলেন, “শুধু বাংলাদেশি নয়, ভারতে অবৈধভাবে অনুপ্রবেশকারী যেকোনো নাগরিককে আইন অনুযায়ী নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হবে।”

সম্প্রতি ভারত সরকার অবৈধ বিদেশিদের গ্রেপ্তারে অভিযান জোরদার করেছে। গত মাসে গুজরাটে এক হাজারের বেশি বিদেশিকে আটক করা হয়, যাদের মধ্যে অনেকেই বাংলাদেশি বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এছাড়া সীমান্তপথে বাংলাদেশি নাগরিকদের ‘পুশ-ইন’ বা জোরপূর্বক ফেরত পাঠানোর ঘটনাও বাড়ছে। ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) এর সহায়তায় শুধু গত কয়েক সপ্তাহেই প্রায় ৩০০ জনকে বাংলাদেশে পুশ-ইন করা হয়েছে। এদের মধ্যে কিছু রোহিঙ্গা নাগরিকও রয়েছেন। বিশেষ করে ৭ থেকে ৯ মে-র মধ্যে প্রত্যন্ত সীমান্ত অঞ্চল দিয়ে এসব মানুষকে ফেরত পাঠানো হয়।

এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ভারতের কাছে কূটনৈতিক চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।