নির্বাচনী রোডম্যাপ ও উপদেষ্টা পরিষদ পুনর্গঠনের দাবি বিএনপির

প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বিএনপির বৈঠকে সংস্কার, বিচার ও নির্বাচন—এই তিনটি বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিএনপির নেতারা। শনিবার (২২ মে) রাতে প্রধান উপদেষ্টার সরকারি বাসভবন ‘যমুনা’-এর সামনে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান তারা।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, প্রধান উপদেষ্টার আমন্ত্রণে দলের চার সদস্যের প্রতিনিধি দল বৈঠকে অংশ নেয়। আলোচনার বিষয়বস্তু পূর্বে নির্ধারিত না থাকলেও রাজনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় দলটি একটি লিখিত প্রস্তাব নিয়ে আসে এবং সেটি উপদেষ্টার কাছে উপস্থাপন করা হয়।
তিনি জানান, বিএনপি দীর্ঘদিন ধরেই একটি নিরপেক্ষ জাতীয় নির্বাচনের জন্য সুস্পষ্ট রোডম্যাপ দাবি করে আসছে। এই বৈঠকে উপদেষ্টা পরিষদ পুনর্গঠনেরও দাবি জানানো হয়েছে—বিশেষ করে বিতর্কিত উপদেষ্টাদের বাদ দিয়ে নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে এই দাবি তোলা হয়।
বিচার প্রক্রিয়া প্রসঙ্গে মোশাররফ বলেন, আওয়ামী লীগের শাসনামলে বিএনপির নেতা-কর্মীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাই আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের বিচার দাবি করেছে বিএনপি। তিনি জানান, বিচার অসম্পূর্ণ থাকলে, ভবিষ্যতে বিএনপি সরকারে গেলে স্বাধীন বিচার ব্যবস্থার মাধ্যমেই বিচার সম্পন্ন করা হবে।
তিনি আরও জানান, ডিসেম্বরের মধ্যে জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যে দ্রুত একটি নির্বাচনী রোডম্যাপ দেওয়ার জন্য দাবি জানানো হয়েছে। মোশাররফ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, নির্বাচন বিলম্ব হলে স্বৈরতন্ত্রের পুনরাগমন ঘটতে পারে, যার দায় বর্তমান সরকারকেই নিতে হবে।
বিএনপি প্রধান উপদেষ্টার পদত্যাগ চায় না বলেও সাফ জানিয়ে দেন তিনি। বরং শুরু থেকেই দলটি সরকারের সঙ্গে সহযোগিতামূলক মনোভাব নিয়ে কাজ করছে বলেও উল্লেখ করেন।
বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ ও আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তারা জানান, আলোচনা হয়েছে মূলত তিনটি বিষয়ে—সংস্কার, বিচার ও নির্বাচন। সালাহউদ্দিন বলেন, নির্বাচনী রোডম্যাপ নিয়ে সরাসরি কোনো প্রতিশ্রুতি না মিললেও তারা অপেক্ষা করবেন সরকারের প্রতিক্রিয়ার জন্য।
আলোচনার বিষয়ে আমীর খসরু বলেন, সরকার সংস্কারে ঐক্যমত তৈরি এবং দ্রুত বাস্তবায়নের বিষয়ে একমত হয়েছে। বিচারপ্রক্রিয়া হবে বিচার বিভাগের মাধ্যমেই এবং ডিসেম্বরের মধ্যেই নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।
এছাড়া সালাহউদ্দিন জানান, নিরাপত্তা উপদেষ্টা ও ছাত্র উপদেষ্টাসহ কয়েকজনের অপসারণের দাবি লিখিতভাবে ও মৌখিকভাবে জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে সরকার জানিয়েছে, তারা বিষয়টি বিবেচনা করবে।
বৈঠকের ফলাফলে বিএনপি সন্তুষ্ট কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে সালাহউদ্দিন জানান, দলের প্রতিক্রিয়া জানানোর আগে তারা সরকারের আনুষ্ঠানিক বক্তব্যের জন্য অপেক্ষা করবেন।








