প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকে চরমোনাই পীর

বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে আলোচনায় বসছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম, যিনি পীর সাহেব চরমোনাই হিসেবে পরিচিত।

আগামীকাল ২৫ মে, রবিবার বিকাল ৫:৪৫ মিনিটে সরকারি বাসভবন যমুনায় এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এতে অংশ নেবেন দেশের গুরুত্বপূর্ণ ইসলামী দলগুলোর শীর্ষ নেতৃবৃন্দ।

বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন:

  • বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস
  • আমার বাংলাদেশ পার্টি (আ.ব.প.)
  • জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম
  • খেলাফত মজলিস
  • গণঅধিকার পরিষদ
  • নেজামে ইসলামী পার্টি
  • হেফাজতে ইসলামের নেতারা

এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব ও করণীয়, নিরপেক্ষ নির্বাচনের পথনকশা এবং স্বৈরতন্ত্রের সাথে যুক্তদের বিচারের বিষয়ে আলোচনা হবে। শীর্ষ নেতারা সরকারকে রাজনৈতিক সংস্কার ও জনগণের অধিকার নিশ্চিত করতে কার্যকর পরামর্শ দেবেন বলে জানা গেছে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




 গৌরনদীতে আওয়ামী লীগের ৩ নেতা-নেত্রী গ্রেপ্তার

বরিশালের গৌরনদী উপজেলায় আওয়ামী লীগের তিন নেতা-নেত্রীকে গ্রেপ্তার করেছে থানা পুলিশ। চাঁদশী এলাকায় বিএনপি নেতাদের ওপর হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় তাদের গ্রেফতার করা হয়।

পুলিশ জানায়, শুক্রবার (২৩ মে) দিবাগত রাতে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে বিশেষ অভিযান চালিয়ে এই গ্রেফতার অভিযান পরিচালনা করা হয়।

গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন ::

  • গৌরনদী উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক এবং সাবেক পৌর কাউন্সিলর রেজাউল করিম টিটু
  • উপজেলা মহিলা লীগের সদস্য ছবি বেগম
  • গৌরনদী পৌরসভা ৬ নম্বর ওয়ার্ড শ্রমিক লীগের সভাপতি সোহরাব হোসেন

গৌরনদী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. ইউনুস মিয়া জানান, চাঁদশী এলাকায় বিএনপি নেতা বাচ্চু সরদার ও ফিরোজ হাওলাদারের ওপর হামলার মামলায় এজাহারভুক্ত এবং সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে ওই তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

গ্রেফতারের পর শনিবার (২৪ মে) দুপুরে তাদের বরিশাল আদালতে পাঠানো হয়েছে বলেও নিশ্চিত করেছেন ওসি।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




মাত্র ৪০ হাজার টাকার বিনিময়ে ভারতকে পাকিস্তানের কাছে বিক্রি!

ভারত

ভারতের গুজরাট রাজ্যে এক স্বাস্থ্যকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে ভারতীয় বিমান বাহিনী (IAF) ও বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স (BSF)-সংক্রান্ত সংবেদনশীল তথ্য পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থার কাছে পাচারের অভিযোগে। শনিবার (২৫ মে) গুজরাট অ্যান্টি-টেররিজম স্কোয়াড (ATS) এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির নাম সাহদেব সিং গোহিল (২৮)। তিনি গুজরাটের কচ্ছ জেলার বাসিন্দা এবং পেশায় একজন স্বাস্থ্যকর্মী। গুজরাট ATS-এর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা কে সিদ্ধার্থ জানান, গোহিল ২০২৩ সালে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে “আদিতি ভরদ্বাজ” নামের এক নারীর সঙ্গে যোগাযোগে আসেন, যিনি পরবর্তীতে পাকিস্তানি এজেন্ট হিসেবে চিহ্নিত হন।

সিদ্ধার্থ বলেন, “ওই নারী গোহিলকে ভারতীয় বিমান বাহিনী এবং সীমান্তরক্ষী বাহিনীর নবনির্মিত ও নির্মাণাধীন স্থাপনাগুলোর ছবি ও ভিডিও পাঠাতে বলেন। গোহিল সেই অনুরোধ অনুযায়ী তথ্য সরবরাহ করতেন।”

গোহিল তার নিজের আধার কার্ড ব্যবহার করে ২০২৩ সালের শুরুতে একটি সিম কার্ড সংগ্রহ করেন, যা ওই নারী এজেন্টের ব্যবহারের জন্য হোয়াটসঅ্যাপে রেজিস্ট্রেশন করা হয়। এই নম্বরের মাধ্যমেই বিএসএফ ও আইএএফ-এর স্থাপনাসমূহের ভিডিও ও ছবি পাঠানো হতো।

পরে ফরেনসিক বিশ্লেষণে জানা যায়, এই তথ্য পাঠানোর জন্য ব্যবহৃত নম্বরগুলো পরিচালিত হতো পাকিস্তান থেকে। এ ছাড়াও, গোহিলের কাছে এক অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি নগদ ৪০,০০০ টাকা সরবরাহ করেন, যা গোয়েন্দা সংস্থার সন্দেহকে আরও ঘনীভূত করে।

ATS জানায়, পহেলা মে গোহিলকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করা হলে তিনি তথ্য পাচারের কথা স্বীকার করেন। সম্প্রতি জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগামে জঙ্গি হামলায় ২৬ জন নিহত হওয়ার ঘটনার পর ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনার মধ্যেই এই গ্রেফতারের ঘটনা ঘটল।

গোহিলের সঙ্গে মিলে আরও অন্তত ১০ জনকে গত কয়েক সপ্তাহে গ্রেফতার করা হয়েছে, যাদের মধ্যে রয়েছেন একজন ইউটিউবার, একজন ব্যবসায়ী এবং একজন নিরাপত্তারক্ষী। নিরাপত্তা বাহিনী জানিয়েছে, এসব ঘটনা ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা হুমকির অংশ হিসেবে গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে।




সীমান্তে পুশ-ইন: বিএসএফ শিখিয়ে দিয়েছিল কী বলতে হবে

বিএসএফ

বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে অবৈধ পুশ-ইনের নতুন এক অভিযোগ সামনে এসেছে। ঠাকুরগাঁও সীমান্ত দিয়ে সম্প্রতি বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানো ১৭ জনের একজন, জাহানারা খাতুন, দাবি করেছেন—ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ তাকে ও অন্যদের গুলি ছুঁড়ে দৌড়াতে বলেছিল এবং কী বললে ধরা পড়লে বাঁচা যায় তাও ‘শিখিয়ে’ দিয়েছিল।

গত শনিবার ভোরে ঠাকুরগাঁওয়ের সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে জাহানারা খাতুনসহ ১৭ জনকে আটক করে বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবি। বিজিবি জানায়, তারা সবাই ভারত থেকে পুশ-ইনের মাধ্যমে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছিলেন।

জাহানারা বলেন, “বিএসএফ আমাদের বলেছে যে আমরা দুটো গুলি মারবো। গুলি মারার পরে তোমরা সব দৌড় মারবা। তো ওরা দুটো গুলি মারে। তখন আমরা সবাই ভেগে দৌড় মারি। সামনে বাংলাদেশের ভেতরে ঢুকে পড়ি।”

তিনি আরও দাবি করেন, ধরা পড়লে কী বলতে হবে—তাও আগেই জানিয়ে দিয়েছিল বিএসএফ:
“ওরা বললো, যদি ধরা পড়ো তাহলে বলবা যে আমরা ইন্ডিয়া যাচ্ছিলাম, সীমান্তে বিএসএফ তাড়া দেয়ায় আবার ফিরে এসেছি।”

বিজিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়, এই ধরণের পুশ-ইন আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকার লঙ্ঘন করে। বিষয়টি নিয়ে তারা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে ভারতের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করছে।

এ ধরনের পুশ-ইনের ঘটনা সীমান্ত এলাকায় মানবিক ও কূটনৈতিক জটিলতা বাড়াচ্ছে বলে মনে করছেন স্থানীয় মানবাধিকার কর্মীরা।

এই বিষয়ে বিএসএফের পক্ষ থেকে এখনও আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।




ঈদ হাট মাতাবে রাঙ্গা দুদু, কালা পাহাড় ও রাজা মানিক

পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে কোরবানির হাটে ভিন্নমাত্রা যোগ করতে প্রস্তুত পটুয়াখালীর কলাপাড়ার তুলাতলির বিখ্যাত ৩১৩ ডেইরি ফার্মের তিন রাজপুত্রসদৃশ গরু—রাঙ্গা দুদু, কালা পাহাড় ও রাজা মানিক। এই তিনটি গরু শুধু আকার-আকৃতি বা ওজনেই নয়, নামেও হাটজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

গরুগুলোর মালিক মুফতি হাবিবুর রহমান মেসবাহ জানান, গরুগুলো তার খুব আদরের পোষা প্রাণী। নিজ হাতে লালন-পালন করে গরুগুলোর শারীরিক গঠন এমন রাজকীয় রূপ নিয়েছে যে, হাটে উঠার আগেই ক্রেতাদের দৃষ্টি কাড়ছে। এদের মধ্যে রাঙ্গা দুদুর বয়স প্রায় ৩ বছর এবং ওজন ২০ মণ, যার জন্য তিনি দাম হাঁকিয়েছেন ১৬ লাখ টাকা। একই বয়সের কালা পাহাড়ের গায়ে একটু বেশি মাংস থাকায় এর দামও রাখা হয়েছে ১৬ লাখ টাকা। আর বয়সে ছোট হলেও রাজা মানিকের ওজন প্রায় ১৫ মণ, যার দাম চাওয়া হচ্ছে ১২ লাখ টাকা। তিনটি গরুর সম্মিলিত মূল্য ৪৩ লাখ টাকা।

সবচেয়ে আকর্ষণীয় বিষয় হলো—কেউ যদি তিনটি গরুই একসঙ্গে কিনে নেন, তাহলে তাকে ফ্রিতে ওমরা হজ করিয়ে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন মেসবাহ। তার ভাষায়, “ক্রেতার প্রতি ভালোবাসা ও ধর্মীয় অনুপ্রেরণায় এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এই তিনটি গরু আমার পরিবারের অংশ, তাদের জন্য যা করিনি, এমন কিছু নেই।”

৩১৩ ডেইরি ফার্মের অধিকাংশ ষাঁড় শাহীওয়াল ও ফ্রিজিয়ান জাতের বলে জানান তিনি। এগুলো বিশেষ পরিচর্যা ও খাদ্য ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে বড় করা হয়েছে। ঈদ উপলক্ষে গরুগুলোকে প্রস্তুত করা হয়েছে অত্যন্ত যত্ন সহকারে।

এ বিষয়ে কলাপাড়া উপজেলার ভারপ্রাপ্ত প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মারুফ বিল্লাহ খান জানান, এ বছর উপজেলায় প্রায় ২২ হাজার গরু কোরবানির জন্য প্রস্তুত রয়েছে। প্রাণীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিস সার্বক্ষণিক তৎপর রয়েছে। মাঠপর্যায়ে ভেটেরিনারি টিম কাজ করছে যাতে কোনো রোগবালাই ছাড়াই সুস্থ গরু ক্রেতারা কিনতে পারেন।

প্রতিটি ঈদেই হাটে নজর কাড়ে কিছু বিশেষ গরু, আর এবার পটুয়াখালী হাটের সবচেয়ে আলোচিত নাম হয়ে উঠেছে রাঙ্গা দুদু, কালা পাহাড় ও রাজা মানিক। এদের দাম, গঠন ও মালিকের ঘোষণাই যেন এই ঈদে কোরবানির হাটকে ভিন্ন এক উচ্চতায় নিয়ে গেছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



এসএসসি পরীক্ষা থেকে প্রেমিক-প্রেমিকার উধাও

পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলায় এসএসসি পরীক্ষার দিন ব্যবহারিক পরীক্ষা না দিয়ে পালিয়ে গেছে একই স্কুলের দুই শিক্ষার্থী। প্রেমের সম্পর্কের সূত্র ধরেই এ ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে। বিষয়টি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

ঘটনাটি ঘটেছে সদর ইউনিয়নের আইরন জয়কুল এম এম মোদাচ্ছের মেমোরিয়াল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দুই পরীক্ষার্থী প্রিয়া ও নাঈম হোসেন রোমানের মধ্যে। বুধবার (২১ মে) সকালে তারা কৃষি বিষয়ের ব্যবহারিক পরীক্ষায় অংশ নিতে সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে যায়। কিন্তু পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী পরীক্ষা না দিয়ে পালিয়ে যায় তারা।

সূত্র জানায়, প্রিয়া মুক্তারকাঠি গ্রামের কবির হোসেনের মেয়ে এবং নাঈম জয়কুল আবাসনের আব্দুল কুদ্দুসের ছেলে। তাদের দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। পরীক্ষার দিন তারা পরিবারের অজান্তে একসঙ্গে পালিয়ে যায়।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. নান্না মিয়া বলেন, “ওই দিন পরীক্ষায় অন্যান্য শিক্ষার্থীরা অংশ নিলেও প্রিয়া ও নাঈম উপস্থিত ছিল না। তাদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করলে বলা হয়, তারা অসুস্থ। তবে পরে লোকমুখে জানতে পারি, তারা পালিয়েছে।”

এই ঘটনায় স্কুল কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি স্থানীয়রাও হতবাক। এসএসসি পরীক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এমন সিদ্ধান্ত তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




ভোলায় ঘূর্ণিঝড় আতঙ্ক, আশ্রয়হীন চরবাসীর রাত কাটে দুশ্চিন্তায়

ঘূর্ণিঝড় ‘শক্তি’ ও ‘মন্থা’র সম্ভাব্য আঘাতে ভোলার উপকূল ও চরাঞ্চলের মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে চরফ্যাশনের ঢালচর, কুকরি-মুকরি, মনপুরা, লালমোহন, তজুমদ্দিন ও দৌলতখানের বিচ্ছিন্ন চরের কয়েক লাখ মানুষ চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন। ঘূর্ণিঝড় ও নদীভাঙনের ভয় একসঙ্গে বয়ে আনছে ভয়াবহ মানবিক সংকট।

“আবারও সব হারানোর ভয়”,বললেন ঢালচরের হোসেনেয়া বেগম

চরফ্যাশনের ঢালচরের বাসিন্দা হোসেনেয়া বেগম বলেন, “গত বছর রিমালে আমার ঘর ভেঙে গিয়েছিল। এখন অন্যের জমিতে ছোট ঘর তুলে কোনোমতে বাস করছি। আবার ঘূর্ণিঝড় আসার খবর শুনে রাতে ঘুম আসে না। জানি না এবারও না আবার ঘর হারাতে হয় কিনা।”

হোসেনেয়ার স্বামী একজন জেলে ছিলেন। তাদের পাঁচ সদস্যের পরিবার এখন নদীভাঙনের ক্ষত ও দুর্যোগের ভয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে বাস করছে। তিনি বলেন, ক্ষতি সত্ত্বেও সরকারিভাবে কোনো সহায়তা পাননি।

আশ্রয়কেন্দ্র নেই, নিরাপত্তা নেই  চরবাসীর একমাত্র ভরসা পুলিশ ফাঁড়ি

ঢালচরে প্রায় ৫০০ পরিবারের ২ থেকে ৩ হাজার মানুষের বসবাস, কিন্তু নেই কোনো আশ্রয়কেন্দ্র। ঝড়ের সময় সেখানে আশ্রয় নেওয়ার একমাত্র স্থান একটি তিনতলা পুলিশ ফাঁড়ি। একই অবস্থা কুকরি-মুকরি, চর নিজাম, চর পাতিলা, চর সিকদারসহ আরও বহু চরে। বিচ্ছিন্ন চর হওয়ায় এখানকার মানুষ ঘূর্ণিঝড়ের সময় নিরাপদ স্থানে যেতে পারেন না।

চর কুকরি-মুকরির বাসিন্দা মো. সুমন বলেন, “ঝড় এলে আতঙ্কে থাকি, কিন্তু ঘরবাড়ি ফেলে কোথাও যেতে পারি না। আশ্রয়কেন্দ্র নেই, যাতায়াতের পথ নেই।”

আসছে ঘূর্ণিঝড় ‘শক্তি’ ও ‘মন্থা’  প্রস্তুতি কেমন?

ভোলা আবহাওয়া অফিস জানায়, মে মাসের ২৩ থেকে ৩১ তারিখের মধ্যে দুটি ঘূর্ণিঝড়ের সম্ভাবনা রয়েছে। যদিও এখনো বড় কোনো সংকেত দেওয়া হয়নি, তবে আকাশ মেঘাচ্ছন্ন এবং মাঝারি বৃষ্টিপাত হচ্ছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, জেলার ৩০০ কিলোমিটার বাঁধের মধ্যে কিছু দুর্বল বাঁধ চিহ্নিত করা হয়েছে এবং দ্রুত মেরামতের কাজ চলছে।

জেলা প্রশাসক মো. আজাদ জাহান বলেন, “জেলায় ৮৬৯টি আশ্রয়কেন্দ্র ও ১৪টি কিল্লা রয়েছে। শনিবার সব দপ্তর নিয়ে প্রস্তুতি সভা হবে। পর্যাপ্ত খাবার ও ত্রাণ মজুদ রয়েছে এবং বিচ্ছিন্ন চরবাসীদের নিরাপদে রাখতে প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।”


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




নতুন ভবন প্রস্তুত, তবু চালু নয় পিরোজপুর হাসপাতাল,বাড়ছে রোগীদের ভোগান্তি

পিরোজপুর সদর হাসপাতালের নতুন ২৫০ শয্যার ভবনের নির্মাণ কাজ শেষ হলেও তা এখনো স্বাস্থ্য বিভাগের কাছে হস্তান্তর করেনি গণপূর্ত বিভাগ। ফলে সীমিত সুবিধা নিয়ে প্রতিদিন চিকিৎসা নিতে আসা শত শত রোগীকে মারাত্মক দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

বর্তমানে ১০০ শয্যার এই হাসপাতালে তিনগুণেরও বেশি রোগী ভর্তি থাকেন। হাসপাতাল চত্বরজুড়ে মেঝে, করিডোর ও বারান্দায় শুয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন অনেক রোগী। ভোগান্তি বাড়ছে প্রতিনিয়ত।

প্রায় ৫ বছর বিলম্বে শেষ নির্মাণকাজ, তবু উদ্বোধনের অপেক্ষায়: 

২০১৭ সালে হাসপাতালটিকে ২৫০ শয্যায় উন্নীত করার ঘোষণা দেয় সরকার। প্রায় ৭০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ৭তলা বিশিষ্ট নতুন ভবনের কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২০ সালের জুনে। তবে তিনবার সময় বাড়িয়ে তা শেষ হয় ২০২4 সালের ডিসেম্বরে। পাঁচ মাস পার হলেও ভবনটি এখনো হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়নি।

নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করে মেসার্স খান বিল্ডার্স ও বঙ্গ বিল্ডার্স লিমিটেড নামের দুটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। বর্তমানে লিফট এবং বিদ্যুৎ সংযোগজনিত সমস্যার কারণে হস্তান্তর বিলম্ব হচ্ছে বলে জানিয়েছে গণপূর্ত বিভাগ।

সেবা পাচ্ছেন না, অভিযোগ রোগী ও স্বজনদের

সরেজমিন দেখা গেছে, প্রতিদিন গড়ে ৫০০-এর বেশি রোগী আসছেন চিকিৎসার জন্য। তাদের অনেকেই জায়গা না পেয়ে মেঝেতে, করিডোরে চিকিৎসা নিচ্ছেন। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের ঘন ঘন বদলি, পর্যাপ্ত সরঞ্জামের অভাব এবং জরুরি বিভাগে রোগী এলে তাড়াতাড়ি রেফার করার অভিযোগও রয়েছে।

পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মুর্শিদ শেখ বলেন, “নতুন ভবন নির্মিত হলেও চালু না হওয়ায় আমরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছি। রোগী আসলেই বরিশাল, খুলনা বা ঢাকায় রেফার করা হয়।”

গণপূর্ত বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী ফাহিম আহমেদ জানান, “লিফট ও বিদ্যুৎ সংযোগ নিয়ে জটিলতা রয়েছে। লিফটের দাম বাড়ায় পুনরায় দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। আশা করছি দ্রুত সমাধান হবে।”

হাসপাতালের সিভিল সার্জন ডা. মো. মতিউর রহমান বলেন, “ধারণ ক্ষমতার চেয়ে বেশি রোগী আসেন। আমাদের সামর্থ অনুযায়ী সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছি। নতুন ভবন চালু হলে সেবার মান বাড়বে এবং রোগীদের কষ্ট কমে আসবে।”


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /

 




বরগুনায় কোরবানির হাটে পশু বেশি, দাম কম – চাঁদাবাজিতে বিপাকে ব্যবসায়ীরা

বরগুনার আমতলী উপজেলায় ঈদুল আজহা সামনে রেখে কোরবানির পশুর হাটগুলোতে গরু, মহিষ ও ছাগলের সরবরাহ বেড়েছে। তবে চাহিদার তুলনায় অতিরিক্ত পশু থাকলেও দাম পড়েছে কম, আর চাঁদাবাজির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ব্যবসায়ীরা।

প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, আমতলীতে কোরবানির জন্য ৮ হাজার ৮১৩টি পশুর চাহিদা থাকলেও প্রস্তুত রয়েছে ৯ হাজার ৭০টি পশু। অতিরিক্ত সরবরাহ থাকলেও পাইকারি ক্রেতাদের অনুপস্থিতি ও পরিবহন পথে চাঁদাবাজির কারণে বাজারে দাম নিম্নমুখী।

আমতলীর গাজীপুর বন্দরের খ্যাতনামা গরু ব্যবসায়ী আলহাজ মাহবুবুর রহমান হাওলাদার জানান, “এই বছর গরুর সরবরাহ অনেক বেশি। দাম গত বছরের তুলনায় ৫ থেকে ১৫ হাজার টাকা কম। আমি ৫২টি গরু বিক্রি করেছি, লাভ খুবই কম। চাঁদাবাজির কারণে অনেকে আসতেই চায় না।”

তিনি আরও বলেন, “ঢাকায় পাঠানোর পথে ১০ হাজার টাকার মতো চাঁদা দিতে হচ্ছে। এতে লাভের সম্ভাবনা কমে যাচ্ছে।”

নেত্রকোনা ও নওগাঁ থেকে আসা গরু ব্যবসায়ীরা জানান, তারা সড়কে বারবার চাঁদা দিতে বাধ্য হচ্ছেন, যা সরাসরি ক্রেতাদের ওপর মূল্যবৃদ্ধির চাপ ফেলে।

এদিকে, বাজার পরিস্থিতির কারণে অনেক খামারি সরাসরি খামার থেকেই পশু বিক্রির দিকে ঝুঁকছেন। জিমি অ্যাগ্রো ভেট-এর মালিক আবুল বাশার নয়ন মৃধা বলেন, “আমার খামারে ১৭টি গরু রয়েছে। বাজারে না গিয়ে খামার থেকেই বিক্রি করছি।” খামারি জাহাঙ্গির জানান, “৮টি গরু আগেই বিক্রি হয়ে গেছে। ঈদের আগে দাম বাড়তে পারে, তবে আমি সে ঝুঁকি নিইনি।”

গরুর হাটের ইজারাদার আলাউদ্দিন মৃধা জানান, “বাজারে সরবরাহ ভালো। একটি হাটেই ৫০০ গরু বিক্রি হয়েছে। ঈদের সময় যত ঘনাবে, বিক্রিও বাড়বে।”

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সুনিশ্চিত করতে প্রশাসন সক্রিয় রয়েছে। আমতলী থানার ওসি মো. আরিফুল ইসলাম বলেন, “সব হাটে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। জাল টাকা শনাক্তে নজরদারি এবং চাঁদাবাজি রোধে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।”

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. সাদেকুর রহমান জানান, পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য বিশেষ মনিটরিং টিম গঠন করা হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রোকনুজ্জামান খান বলেন, “সড়কে চাঁদাবাজি বন্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কঠোর নজরদারিতে রয়েছে।”


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




১৫ দিন প্রেমের পর বিয়ে, স্বামীর ঘরে ঝুলছিল নুসরাতের মরদেহ

বরগুনার বেতাগী উপজেলার চান্দখালী এলাকা থেকে নুসরাত বেগম (১৯) নামে এক গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

শুক্রবার (২৩ মে) সকালে বরগুনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. আবদুল হালিম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। নুসরাতের মরদেহ বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।

নুসরাত বেগম চান্দখালী এলাকার মো. বাবু খানের স্ত্রী। বাবু খান চান্দখালী এলাকার শামীম খানের ছেলে। নুসরাতের বাবার বাড়ি জামালপুর জেলায়।

পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার (২২ মে) বিকেল তিনটার দিকে বরগুনার বেতাগী উপজেলার চান্দখালী এলাকার একটি ঘর থেকে নুসরাতের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঢাকার একটি গার্মেন্টসে কর্মরত অবস্থায় নুসরাতের সঙ্গে গত বছরের ৩ আগস্ট পরিচয় হয় এসি মেকানিক মো. বাবু খানের। এরপর তারা ১৮ আগস্ট বিয়ে করেন। বিয়ের পর থেকে নুসরাতের সঙ্গে তার বাবা মায়ের যোগাযোগ ছিল না। বৃহস্পতিবার বিকেল নুসরাত গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করেছে বলে তার শ্বশুরবাড়ির লোকজন পুলিশকে জানায়। পরে পুলিশ গিয়ে তার মরদেহ উদ্ধার করে।

এ বিষয়ে চান্দখালী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, “খবর পেয়ে নুসরাতের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নুসরাতের বাবার বাড়ির লোকজনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা চলছে। এ বিষয়ে পরবর্তী ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /