বরগুনার আমতলী উপজেলায় ঈদুল আজহা সামনে রেখে কোরবানির পশুর হাটগুলোতে গরু, মহিষ ও ছাগলের সরবরাহ বেড়েছে। তবে চাহিদার তুলনায় অতিরিক্ত পশু থাকলেও দাম পড়েছে কম, আর চাঁদাবাজির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ব্যবসায়ীরা।
প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, আমতলীতে কোরবানির জন্য ৮ হাজার ৮১৩টি পশুর চাহিদা থাকলেও প্রস্তুত রয়েছে ৯ হাজার ৭০টি পশু। অতিরিক্ত সরবরাহ থাকলেও পাইকারি ক্রেতাদের অনুপস্থিতি ও পরিবহন পথে চাঁদাবাজির কারণে বাজারে দাম নিম্নমুখী।
আমতলীর গাজীপুর বন্দরের খ্যাতনামা গরু ব্যবসায়ী আলহাজ মাহবুবুর রহমান হাওলাদার জানান, “এই বছর গরুর সরবরাহ অনেক বেশি। দাম গত বছরের তুলনায় ৫ থেকে ১৫ হাজার টাকা কম। আমি ৫২টি গরু বিক্রি করেছি, লাভ খুবই কম। চাঁদাবাজির কারণে অনেকে আসতেই চায় না।”
তিনি আরও বলেন, “ঢাকায় পাঠানোর পথে ১০ হাজার টাকার মতো চাঁদা দিতে হচ্ছে। এতে লাভের সম্ভাবনা কমে যাচ্ছে।”
নেত্রকোনা ও নওগাঁ থেকে আসা গরু ব্যবসায়ীরা জানান, তারা সড়কে বারবার চাঁদা দিতে বাধ্য হচ্ছেন, যা সরাসরি ক্রেতাদের ওপর মূল্যবৃদ্ধির চাপ ফেলে।
এদিকে, বাজার পরিস্থিতির কারণে অনেক খামারি সরাসরি খামার থেকেই পশু বিক্রির দিকে ঝুঁকছেন। জিমি অ্যাগ্রো ভেট-এর মালিক আবুল বাশার নয়ন মৃধা বলেন, “আমার খামারে ১৭টি গরু রয়েছে। বাজারে না গিয়ে খামার থেকেই বিক্রি করছি।” খামারি জাহাঙ্গির জানান, “৮টি গরু আগেই বিক্রি হয়ে গেছে। ঈদের আগে দাম বাড়তে পারে, তবে আমি সে ঝুঁকি নিইনি।”
গরুর হাটের ইজারাদার আলাউদ্দিন মৃধা জানান, “বাজারে সরবরাহ ভালো। একটি হাটেই ৫০০ গরু বিক্রি হয়েছে। ঈদের সময় যত ঘনাবে, বিক্রিও বাড়বে।”
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সুনিশ্চিত করতে প্রশাসন সক্রিয় রয়েছে। আমতলী থানার ওসি মো. আরিফুল ইসলাম বলেন, “সব হাটে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। জাল টাকা শনাক্তে নজরদারি এবং চাঁদাবাজি রোধে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।”
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. সাদেকুর রহমান জানান, পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য বিশেষ মনিটরিং টিম গঠন করা হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রোকনুজ্জামান খান বলেন, “সড়কে চাঁদাবাজি বন্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কঠোর নজরদারিতে রয়েছে।”
এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /