ড. ইউনূসের সঙ্গে রাজনৈতিক দলের নেতাদের বৈঠক শুরু

রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচিত এক উদ্যোগে দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারা বৈঠকে বসেছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে। রবিবার (২৫ মে) রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় এই গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা পর্ব শুরু হয়।

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং সূত্রে জানা গেছে, বৈঠকটি দুই ধাপে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। প্রথম ধাপে অংশ নিয়েছেন—লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম, নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক হাসনাত কাইয়ূম, এবি পার্টির মহাসচিব মুজিবর রহমান মঞ্জু এবং বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাবেক সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম।

এছাড়া প্রথম দফার আলোচনায় আরও অংশ নিয়েছেন বাসদের উপদেষ্টা খালেকুজ্জামান ভূঁইয়া, জাতীয় গণফ্রন্টের সমন্বয়কারী টিপু বিশ্বাস এবং জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি)-এর সাধারণ সম্পাদক শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন।

প্রেস উইংয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, দ্বিতীয় দফায় অংশ নেবেন বিভিন্ন ইসলামি দলের নেতৃবৃন্দ। তাদের মধ্যে রয়েছেন—হেফাজতে ইসলামের মহাসচিব মাওলানা সাজিদুর রহমান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম (চরমোনাই পীর), বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক, খেলাফত মজলিসের মহাসচিব আহমেদ আবদুল কাদের, হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদি এবং জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী।

এছাড়াও বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির জাতীয় নির্বাহী পরিষদের মহাসচিব মাওলানা মুসা বিন ইজহার এবং ইসলামী ঐক্য জোটের মহাসচিব মুফতি সাখাওয়াত হোসাইন রাজি।

এ বৈঠককে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আগ্রহ দেখা দিয়েছে। রাজনৈতিক সমঝোতা ও ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নির্ধারণে এই বৈঠক কতটা ফলপ্রসূ হবে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




মে মাসের ২৪ দিনেই প্রবাসী আয় ছাড়াল ২৭ হাজার কোটি টাকা

পবিত্র ঈদুল আজহা সামনে রেখে দেশে প্রবাসী আয়ের প্রবাহ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। চলতি মে মাসের মাত্র ২৪ দিনেই প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন ২৭ হাজার ৬২৭ কোটি টাকার সমপরিমাণ রেমিট্যান্স।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্যমতে, ১ মে থেকে ২৪ মে পর্যন্ত দেশে পাঠানো রেমিট্যান্সের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২২৪ কোটি ৬০ লাখ ৭০ হাজার মার্কিন ডলার। বর্তমান বিনিময় হার অনুযায়ী (প্রতি ডলার ১২৩ টাকা ধরে) এই অঙ্ক প্রায় ২৭ হাজার ৬২৭ কোটি টাকার সমান।

গত বছর মে মাসে (৩১ দিনে) প্রবাসী আয় ছিল ২২৫ কোটি মার্কিন ডলার। এবার মাত্র ২৪ দিনেই প্রায় সমান অঙ্কে রেমিট্যান্স আসায় ইতিবাচক ধারা স্পষ্ট হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে,

  • রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ৬৬ কোটি ৫২ লাখ ৬০ হাজার ডলার
  • বিশেষায়িত কৃষি ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে ২০ কোটি ৪৯ লাখ ৯০ হাজার ডলার
  • বেসরকারি ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে সর্বোচ্চ ১৩৭ কোটি ১৬ লাখ ৮০ হাজার ডলার
  • বিদেশি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ৪১ লাখ ৩০ হাজার ডলার

একক ব্যাংক হিসেবে সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স এসেছে ইসলামী ব্যাংকের মাধ্যমে, যার পরিমাণ ৩৭ কোটি ৭ লাখ ৮০ হাজার ডলার

ঈদের আগে বাজারে চাহিদা ও খরচ বেড়ে যাওয়ায় প্রবাসীরা দেশমুখী অর্থ পাঠাতে উৎসাহী হয়েছেন বলে মনে করছেন অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা।


এস. এল. টি. তুহিন / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে নির্বাচন চায় এবি পার্টি: মঞ্জু

আসন্ন জাতীয় নির্বাচন ৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে আয়োজনের আহ্বান জানিয়েছে আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি)। দলটির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, সমঝোতার ভিত্তিতে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হওয়া জরুরি।

রবিবার (২৫ মে) প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সংবাদমাধ্যমকে এসব কথা বলেন তিনি।

মঞ্জু জানান, “আমরা বলেছি, ৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে যথাসম্ভব নির্বাচন আয়োজন করা উচিত। তবে সেটা চাপিয়ে দিয়ে নয়, প্রধান উপদেষ্টা যেন সুবিধাজনক সময়ে এই নির্বাচন আয়োজন করেন।”

ছাত্র আন্দোলনের ঐক্য নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, “জেনজি, মাদ্রাসা ও পাবলিক-প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের মধ্যে যে ঐক্য ছিল, তা ধরে রাখা যায়নি। বরং কিছু উপদেষ্টার কারণে ঐক্য বিনষ্ট হয়েছে।”

এবি পার্টির চেয়ারম্যান আরও বলেন, “বর্তমান অস্থিতিশীল অবস্থা কাটিয়ে উঠতে হলে চারটি পক্ষ—অন্তর্বর্তীকালীন সরকার, প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সমঝোতা জরুরি।”

তিনি জানান, “আমরা উপদেষ্টা পরিষদের পুনর্গঠনসহ প্রয়োজনীয় সংস্কারের পরামর্শ দিয়েছি। ইগো বা অহংকার আমাদের এই অবস্থায় এনে দিয়েছে।”

পদত্যাগ নয়, দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়ে মঞ্জু বলেন, “আপনার, আমার, আমাদের সবার পরাজয়ের সুযোগ নেই। সফল হতেই হবে। আপনি এখন দায়িত্ব ছেড়ে দিলে নির্বাচন ও সংস্কার সব অনিশ্চিত হয়ে পড়বে। তাই আপনাকে দায়িত্বে থেকেই এগিয়ে যেতে হবে।”

নির্বাচনের রোডম্যাপ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “স্থিতিশীল অবস্থা তৈরি হলে প্রধান উপদেষ্টা নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা করবেন। যদিও তিনি ব্যক্তিগতভাবে কিছুটা হতাশ, তবুও আমরা বলেছি হতাশ না হয়ে এগিয়ে যান।”


এস. এল. টি. তুহিন / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




ডিসেম্বরে জাতীয় নির্বাচন দেখতে চায় জনগণ: তারেক রহমান

তারেক রহমান

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান আশা প্রকাশ করেছেন যে, দেশের জনগণ আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই জাতীয় সংসদ নির্বাচন দেখতে পাবে।

রোববার (২৫ মে) বিকেলে ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (এনপিপি)-এর ১৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

তারেক রহমান বলেন, “অন্তবর্তীকালীন সরকারের প্রধানের সঙ্গে বৈঠকে রাজনৈতিক দলগুলো জাতীয় নির্বাচনের নির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা করার দাবি জানিয়েছে। বিএনপির অবস্থান পরিষ্কার—আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, “নির্বাচনের জন্য প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রয়োজনীয় সংস্কারে আমরা আন্দোলনরত দলগুলো অন্তবর্তীকালীন সরকারকে সর্বাত্মক সমর্থন দিয়ে আসছি। আশা করি, অভিজ্ঞ ও দক্ষ নেতৃত্বে একটি অবাধ, সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষ জাতীয় নির্বাচন হবে।”

বাজেট ঘোষণার প্রাক্কালে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)-এ হঠাৎ সংস্কার চাপিয়ে দেওয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “এটি রাজস্ব আদায়ের প্রক্রিয়ায় অচলাবস্থা তৈরি করেছে, যা দেশের অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক নয়।” তারেক রহমান মনে করেন, জবাবদিহিমূলক একটি গণতান্ত্রিক সরকারই এ ধরনের পরিস্থিতি দক্ষতার সঙ্গে মোকাবিলা করতে পারে।

তারেক রহমান বলেন, “বর্তমান অন্তবর্তীকালীন সরকারের রাজনৈতিক বৈধতা থাকলেও এটি জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক নয়। সরকারের পরিকল্পনা স্পষ্টভাবে জনগণের সামনে তুলে ধরতে হবে, না হলে তা কখনোই কার্যকর বা টেকসই হবে না।”

তিনি আরও বলেন, “স্বৈরাচার মাথাচাড়া দিয়ে উঠার সুযোগ নিতে পারে যদি আমরা গড়িমসি করি। তাই গণতন্ত্রকামী জনগণের উচিত সরকারের গঠনমূলক সমালোচনার ধারা অব্যাহত রাখা এবং নিজেদের অধিকার রক্ষায় সোচ্চার থাকা।”

তারেক রহমান উল্লেখ করেন, “স্থিতিশীল গণতান্ত্রিক সরকার না থাকায় দেশে ও বিদেশে বিনিয়োগ স্থবির হয়ে পড়েছে। প্রতিদিন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ন্যায্য দাবিতে রাস্তায় নামছে, কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত তাদের কথা শোনার মতো কেউ নেই।”

শেষে তিনি বলেন, “যদিও বিভিন্ন ফ্যাসিবাদবিরোধী দলগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য আছে, তবে জনগণের স্বার্থে ঐক্যবদ্ধভাবে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করাই সময়ের দাবি।”

এনপিপির সভাপতি অ্যাডভোকেট ফরিদুজ্জামান ফরহাদের সভাপতিত্বে এবং মহাসচিব মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তফার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বিএনপির সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, মাহদী আমিন, বিএলডিপির সাহাদাত হোসেন সেলিম, ভাসানী জনশক্তির শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু, লেবার পার্টির মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাগপার খন্দকার লুৎফুর রহমান, গণদলের এটিএম গোলাম মাওলা চৌধুরী এবং সাম্যবাদী দলের সৈয়দ নুরুল ইসলাম।

 




 অসুস্থ লঞ্চযাত্রীর পাশে কোস্ট গার্ড, প্রাণ বাঁচাল জরুরি চিকিৎসায়

ভোলায় যাত্রীবাহী একটি লঞ্চে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়া এক যাত্রীকে দ্রুত চিকিৎসাসেবা দিয়ে প্রাণ রক্ষা করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড দক্ষিণ জোনের সদস্যরা।

রোববার কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার হারুন-অর-রশীদ স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

জানা যায়, সামসুল হুদা (৫৪) নামের ওই যাত্রী কর্ণফুলী-৯ লঞ্চে করে ঢাকা থেকে ভোলার উদ্দেশ্যে রওনা হন। ভ্রমণের একপর্যায়ে রাত ৩টার দিকে তিনি হঠাৎ শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন।

পরিস্থিতি বুঝতে পেরে অন্য যাত্রীরা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে সহায়তা চান। খবর পেয়ে কোস্ট গার্ড দক্ষিণ জোনের জোনাল কমান্ডারের নির্দেশে দ্রুত একটি মেডিকেল টিম ভোলা কোস্ট গার্ড বেইস থেকে খেয়াঘাট লঞ্চঘাটে পাঠানো হয়।

ভোর ৫টার দিকে লঞ্চটি খেয়াঘাটে পৌঁছালে কোস্ট গার্ড সদস্যরা সামসুল হুদাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন এবং এরপর নিজস্ব অ্যাম্বুলেন্সে করে ভোলা সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে তিনি সুচিকিৎসা পেয়ে এখন স্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছেন।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, কোস্ট গার্ড শুধু উপকূলীয় নিরাপত্তায় নয়, বরং মানবিক সেবার ক্ষেত্রেও নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “জনগণের সেবায় বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড সর্বদা নিয়োজিত ছিল, রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।”


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




 বরগুনায় ডাকাত সন্দেহে গুলিবিদ্ধ ও গণপিটুনিতে নিহত ১

বরগুনার বামনা উপজেলায় ডাকাতির প্রস্তুতিকালে ধৃত এক ব্যক্তি গুলিবিদ্ধ ও গণপিটুনিতে নিহত হয়েছেন। নিহত আনোয়ার হোসেন রিপন (৩৮) পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার লক্ষণা গ্রামের বাসিন্দা। তার বিরুদ্ধে একাধিক ডাকাতি মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

শনিবার দিবাগত রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে উপজেলার ডৌয়াতলা ইউনিয়নের হোগলপাতি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়রা জানান, ডাকাতির প্রস্তুতিকালে আনোয়ার হোসেন রিপনকে হাতেনাতে ধরে ফেলে এলাকাবাসী। প্রথমে তাকে গণপিটুনি দেওয়া হয়। এ সময় পালানোর চেষ্টা করলে তিনি তার সঙ্গে থাকা পাইপগান দিয়ে গুলি চালান। আত্মরক্ষার্থে স্থানীয় সুমন জমাদ্দার তার বৈধ অস্ত্র দিয়ে রিপনের পায়ে গুলি করেন। এরপর উত্তেজিত জনতা তাকে আবারও মারধর করে।

পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে রিপনকে উদ্ধার করে বামনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার দুপুর ১২টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

ঘটনাস্থল থেকে একটি পাইপগান, একটি ছুরি ও তিনটি গুলির খোসা উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত আনোয়ার হোসেন রিপনের বিরুদ্ধে ডাকাতিসহ ১১টি মামলা রয়েছে বলেও জানানো হয়েছে।

বামনা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. সেলিম বলেন,
“ডাকাতির প্রস্তুতিকালে আনোয়ারকে দেখে ফেলেন নৈশপ্রহরীরা। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে ধরে ফেলে। গুলি ছোড়ার পর আত্মরক্ষায় বৈধ অস্ত্র দিয়ে গুলি করেন সুমন জমাদ্দার। পরে উত্তেজিত জনতা মারধর করে।”

সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে মরদেহ বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




এক পায়ে সংগ্রাম, ‘মামা জিলাপি’র গল্প

ভিক্ষা নয়—শ্রমই তার জীবনের মূলমন্ত্র। পা হারালেও থেমে থাকেননি বরিশালের হানিফ আকন। পরিশ্রম করে নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে আজ ‘মামা জিলাপি’ নামে পরিচিত তিনি। জীবনযুদ্ধে হার না মানা এই ৫০ বছর বয়সী মানুষটি এখন জিলাপি বিক্রি করে ছয় সদস্যের পরিবার চালাচ্ছেন।

২০১৯ সালে মাছ ধরতে গিয়ে পায়ে মাছের কাঁটা ঢুকে সংক্রমণের কারণে হানিফকে হারাতে হয় তার একটি পা। এরপর শুরু হয় দুর্দশা। চিকিৎসা বন্ধ হয়ে যায়, সংসারে নেমে আসে অভাব। কিন্তু হানিফ ভিক্ষার পথ না বেছে নেন আত্মসম্মানের সঙ্গে বেঁচে থাকার সিদ্ধান্ত।

সহায়তায় বদলে গেল জীবন :

হানিফের জীবনে মোড় ঘুরিয়ে দেয় ‘ইভেন্ট ৮৪’ নামক একটি সমাজসেবামূলক সংগঠন। বরিশাল সমাজসেবা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক এবং ‘ইভেন্ট ৮৪’ এর অ্যাডমিন সাজ্জাদ পারভেজ তার পাশে দাঁড়ান। সংগঠনটির সহায়তায় হানিফ পান একটি ছোট দোকান, জিলাপি তৈরির সরঞ্জাম এবং পরবর্তীতে আইসিডিএ’র সহায়তায় দোকানে ব্যাটারি ও লাইট।

দোকানে দাঁড়িয়ে হানিফ প্রতিদিন নিজ হাতে তৈরি করেন সুস্বাদু জিলাপি। তার তৈরি জিলাপি খেতে স্থানীয়দের ভিড় লেগেই থাকে।

সম্প্রতি গণমাধ্যমে হানিফের সংগ্রামের খবর প্রকাশিত হলে বরিশালের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন নিজে গিয়ে তার দোকানে যান। পরে বরিশাল শিশু পরিবার (বালিকা দক্ষিণ) অফিসে হানিফ নিজে ভ্যানে করে গিয়ে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সেখানে ডিসি নিজ হাতে জিলাপি তৈরি করে তাকে উৎসাহ দেন এবং শিশু পরিবারের সকল শিশুর জন্য জিলাপির ব্যবস্থাও করেন।

জেলা প্রশাসক হানিফের ঘরের জন্য টিন সরবরাহের প্রতিশ্রুতি দেন, যা তার জীবন সংগ্রামে বড় একটি সহায়তা হিসেবে যুক্ত হলো।

সমাজে অনেকেই প্রতিবন্ধকতায় ভেঙে পড়লেও হানিফ প্রমাণ করেছেন, ইচ্ছাশক্তি আর পরিশ্রম থাকলে সম্ভব সবকিছু। তিনি শুধু জিলাপি বিক্রি করছেন না—তিনি অনুপ্রেরণার এক প্রতীক হয়ে উঠেছেন বরিশালের মানুষের কাছে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




 বরিশাল জেলা ছাত্রদল নেতা বহিষ্কৃত, ধর্ষণ মামলায় অভিযোগ

বরিশাল জেলা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি মো. সবুজ আকনকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করেছে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদ। সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে রবিবার (২৫ মে) দুপুরে কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব এবং সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির এই বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেন। একইসঙ্গে নেতাকর্মীদের প্রতি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যেন তারা সবুজ আকনের সঙ্গে কোনো সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখেন।

যদিও বিজ্ঞপ্তিতে সরাসরি কারণ উল্লেখ করা হয়নি, জানা গেছে গত ১৯ মে বরিশালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে সবুজ আকনের বিরুদ্ধে এক এসএসসি পরীক্ষার্থীকে একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগে মামলা দায়ের হয়। মামলাটি করেন ভুক্তভোগী কিশোরীর মা।

ট্রাইব্যুনালের বিচারক মুহাম্মদ রাকিবুল ইসলাম মামলাটি এজাহার হিসেবে গ্রহণ করে মহানগরীর কাউনিয়া থানাকে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।

বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট কামরুজ্জামান জানান, মামলা দায়েরের পর থেকে ভুক্তভোগী ও তার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন।

কাউনিয়া থানার ওসি নাজমুল নিশাত বলেন, “আদালতের নির্দেশ মোতাবেক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” অভিযুক্ত সবুজ আকন বাবুগঞ্জ উপজেলার বকশির চর গ্রামের বাসিন্দা, তার বাবার নাম আব্দুল মান্নান আকন।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




জমি নিয়ে প্রতারণা: ওসির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন, প্রেসক্লাবে অভিযোগের ঝড়

জমি সংক্রান্ত জালিয়াতি ও এক পুলিশ কর্মকর্তার বিতর্কিত ভূমিকা নিয়ে বরিশালে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুলেছেন একদল ডেভেলপার পার্টনার ও বিনিয়োগকারী। রোববার (২৫ মে) বরিশাল প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ আনেন বিউটি সুপার মার্কেট প্রকল্প সংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তারা।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ডেভেলপার পার্টনার আবুল হাসান কুদ্দুস জানান, বরিশাল নগরীর দক্ষিণ চকবাজারে অবস্থিত বিউটি সিনেমা হল সংলগ্ন ৪০ শতক জমি ২০১৩ সালে তারা জুলফিকার উদ্দিন চৌধুরীর কাছ থেকে ৮ কোটি টাকা মূল্যে বায়না রেজিস্ট্রি করেন। নগদ এক কোটি টাকা পরিশোধের পর স্ট্যাম্পে চুক্তিভিত্তিক আরও ১ কোটি ৭ লাখ টাকা দেন। তবে নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও জমির মূল দলিল হস্তান্তর না করে মালিক পক্ষ নানা তালবাহানা শুরু করে।

জমি নিয়ে হেবার নাটক, ডেভেলপার পাল্টে প্রতারণার অভিযোগ

পরবর্তীতে মালিকের মেয়ে সৈয়দ কামরুন্নাহার আখি দাবি করেন, তার দাদা ওই জমি তাকে মৌখিকভাবে হেবা দিয়েছেন। এ অভিযোগের ভিত্তিতে বায়না বাতিলের জন্য মামলা করা হয়।

২০১৭ সালে জমির মালিক নতুনভাবে বহুতল ভবন নির্মাণের জন্য ডেভেলপার পাওয়ার দিয়ে চুক্তি করেন, কিন্তু একই সময় তিনি আরেক ব্যবসায়ী আক্তারুজ্জামানের সঙ্গে গোপনে চুক্তি করেন। কুদ্দুস জানান, একাধিক সালিশে জমিতে বিনিয়োগ করা ২ কোটি ৭ লাখ টাকা ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও শেষ পর্যন্ত সেই টাকা ফেরত দেওয়া হয়নি। বরং গ্যারান্টি হিসেবে একটি চেক দিয়ে, পরবর্তীতে নতুন এক ডেভেলপার কাজী মফিজুল ইসলামের সঙ্গে রেজিস্ট্রি চুক্তি করেন।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, মালিক জুলফিকার উদ্দিনের ছেলে সৈয়দ আশিক চৌধুরী হেবা দলিল দেখিয়ে জমির মালিকানা দাবি করেন এবং গত ৯ মে বিএনপির নামধারী ৩০-৩৫ জন সহযোগী নিয়ে নির্মাণাধীন ভবনে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও লুটপাট করেন।

এ ঘটনায় কোতোয়ালি মডেল থানার ওসিকে জানানো হলেও কোনো প্রতিকার মেলেনি। বরং অভিযোগে বলা হয়, আশিক চৌধুরী ওসিকে “ম্যানেজ” করে তাকে কুয়াকাটা পাঠিয়ে দেন যেন পুলিশ হস্তক্ষেপ না করে। এমনকি তিনি ওসির স্ত্রীকে একটি ফ্ল্যাট দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বলেও দাবি করেন কুদ্দুস।

ভুক্তভোগীরা বলেন, প্রতারণার কারণে তারা পথে বসার উপক্রম হয়েছেন। তারা প্রশাসনের উর্ধ্বতন মহলের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

এ বিষয়ে জানতে সৈয়দ আশিক চৌধুরী ও ওসি মিজানুর রহমানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কারও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা: ঈদের বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় প্রস্তুতি সম্পন্ন

কোরবানির পর ১২ ঘণ্টার মধ্যেই সব ধরনের বর্জ্য অপসারণের ব্যবস্থা করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।

রোববার (২৫ মে) ঈদুল আজহা উপলক্ষে কোরবানির পশুর হাট, কাঁচা চামড়ার ব্যবস্থাপনা ও আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত কোর কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, “প্রতিবারই আমরা দেখি অনেক চামড়া নষ্ট হয়ে যায়। এবার আমরা চাচ্ছি, যারা চামড়া পায় তারা যেন ন্যায্য মূল্য পায়। এটি গরিবের হক—যারা এতিমখানা, মাদ্রাসা কিংবা দুঃস্থদের কাছে চামড়া দেয়, তাদের প্রাপ্য যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।”

তিনি আরও জানান, চামড়া বিক্রিতে আদায় করা হাসিলের হার কমানোর জন্য উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে ৫ শতাংশ হাসিল বেশি বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আমরা আলোচনা করেছি যেন এটি কমিয়ে ৩ শতাংশের মধ্যে আনা যায়। যদিও এবার সম্ভব হয়নি, ভবিষ্যতের জন্য ব্যবস্থা নিচ্ছি।”

এ বছর রাজধানীর দুই পাশে মোট ২০টি কোরবানির পশুর হাট বসানো হবে জানিয়ে উপদেষ্টা বলেন, “প্রতিটি হাটে চিকিৎসকের ব্যবস্থা থাকবে যেন অসুস্থ গরু বিক্রি না হয়। সেই সঙ্গে হাটে আগত মানুষ অসুস্থ হলে তাদের চিকিৎসাও নিশ্চিত করা হবে। নিরাপত্তার জন্য পর্যাপ্ত আনসার সদস্য মোতায়েন থাকবে।”

তিনি আরও বলেন, “কোরবানি সাধারণত তিনদিন চলে, তবে প্রথম দিনেই ৯০ শতাংশ কোরবানি সম্পন্ন হয়। আমরা স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছি যেন বর্জ্য দ্রুত অপসারণ করা হয়। তারা আশ্বস্ত করেছে—১২ ঘণ্টার মধ্যেই সব বর্জ্য সরিয়ে ফেলা হবে। এজন্য সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।”

এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সকল প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের ধন্যবাদ জানান স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা।