ডিসেম্বরে জাতীয় নির্বাচন দেখতে চায় জনগণ: তারেক রহমান

তারেক রহমান

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান আশা প্রকাশ করেছেন যে, দেশের জনগণ আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই জাতীয় সংসদ নির্বাচন দেখতে পাবে।

রোববার (২৫ মে) বিকেলে ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (এনপিপি)-এর ১৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

তারেক রহমান বলেন, “অন্তবর্তীকালীন সরকারের প্রধানের সঙ্গে বৈঠকে রাজনৈতিক দলগুলো জাতীয় নির্বাচনের নির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা করার দাবি জানিয়েছে। বিএনপির অবস্থান পরিষ্কার—আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, “নির্বাচনের জন্য প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রয়োজনীয় সংস্কারে আমরা আন্দোলনরত দলগুলো অন্তবর্তীকালীন সরকারকে সর্বাত্মক সমর্থন দিয়ে আসছি। আশা করি, অভিজ্ঞ ও দক্ষ নেতৃত্বে একটি অবাধ, সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষ জাতীয় নির্বাচন হবে।”

বাজেট ঘোষণার প্রাক্কালে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)-এ হঠাৎ সংস্কার চাপিয়ে দেওয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “এটি রাজস্ব আদায়ের প্রক্রিয়ায় অচলাবস্থা তৈরি করেছে, যা দেশের অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক নয়।” তারেক রহমান মনে করেন, জবাবদিহিমূলক একটি গণতান্ত্রিক সরকারই এ ধরনের পরিস্থিতি দক্ষতার সঙ্গে মোকাবিলা করতে পারে।

তারেক রহমান বলেন, “বর্তমান অন্তবর্তীকালীন সরকারের রাজনৈতিক বৈধতা থাকলেও এটি জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক নয়। সরকারের পরিকল্পনা স্পষ্টভাবে জনগণের সামনে তুলে ধরতে হবে, না হলে তা কখনোই কার্যকর বা টেকসই হবে না।”

তিনি আরও বলেন, “স্বৈরাচার মাথাচাড়া দিয়ে উঠার সুযোগ নিতে পারে যদি আমরা গড়িমসি করি। তাই গণতন্ত্রকামী জনগণের উচিত সরকারের গঠনমূলক সমালোচনার ধারা অব্যাহত রাখা এবং নিজেদের অধিকার রক্ষায় সোচ্চার থাকা।”

তারেক রহমান উল্লেখ করেন, “স্থিতিশীল গণতান্ত্রিক সরকার না থাকায় দেশে ও বিদেশে বিনিয়োগ স্থবির হয়ে পড়েছে। প্রতিদিন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ন্যায্য দাবিতে রাস্তায় নামছে, কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত তাদের কথা শোনার মতো কেউ নেই।”

শেষে তিনি বলেন, “যদিও বিভিন্ন ফ্যাসিবাদবিরোধী দলগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য আছে, তবে জনগণের স্বার্থে ঐক্যবদ্ধভাবে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করাই সময়ের দাবি।”

এনপিপির সভাপতি অ্যাডভোকেট ফরিদুজ্জামান ফরহাদের সভাপতিত্বে এবং মহাসচিব মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তফার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বিএনপির সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, মাহদী আমিন, বিএলডিপির সাহাদাত হোসেন সেলিম, ভাসানী জনশক্তির শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু, লেবার পার্টির মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাগপার খন্দকার লুৎফুর রহমান, গণদলের এটিএম গোলাম মাওলা চৌধুরী এবং সাম্যবাদী দলের সৈয়দ নুরুল ইসলাম।

 




 অসুস্থ লঞ্চযাত্রীর পাশে কোস্ট গার্ড, প্রাণ বাঁচাল জরুরি চিকিৎসায়

ভোলায় যাত্রীবাহী একটি লঞ্চে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়া এক যাত্রীকে দ্রুত চিকিৎসাসেবা দিয়ে প্রাণ রক্ষা করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড দক্ষিণ জোনের সদস্যরা।

রোববার কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার হারুন-অর-রশীদ স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

জানা যায়, সামসুল হুদা (৫৪) নামের ওই যাত্রী কর্ণফুলী-৯ লঞ্চে করে ঢাকা থেকে ভোলার উদ্দেশ্যে রওনা হন। ভ্রমণের একপর্যায়ে রাত ৩টার দিকে তিনি হঠাৎ শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন।

পরিস্থিতি বুঝতে পেরে অন্য যাত্রীরা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে সহায়তা চান। খবর পেয়ে কোস্ট গার্ড দক্ষিণ জোনের জোনাল কমান্ডারের নির্দেশে দ্রুত একটি মেডিকেল টিম ভোলা কোস্ট গার্ড বেইস থেকে খেয়াঘাট লঞ্চঘাটে পাঠানো হয়।

ভোর ৫টার দিকে লঞ্চটি খেয়াঘাটে পৌঁছালে কোস্ট গার্ড সদস্যরা সামসুল হুদাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন এবং এরপর নিজস্ব অ্যাম্বুলেন্সে করে ভোলা সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে তিনি সুচিকিৎসা পেয়ে এখন স্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছেন।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, কোস্ট গার্ড শুধু উপকূলীয় নিরাপত্তায় নয়, বরং মানবিক সেবার ক্ষেত্রেও নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “জনগণের সেবায় বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড সর্বদা নিয়োজিত ছিল, রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।”


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




 বরগুনায় ডাকাত সন্দেহে গুলিবিদ্ধ ও গণপিটুনিতে নিহত ১

বরগুনার বামনা উপজেলায় ডাকাতির প্রস্তুতিকালে ধৃত এক ব্যক্তি গুলিবিদ্ধ ও গণপিটুনিতে নিহত হয়েছেন। নিহত আনোয়ার হোসেন রিপন (৩৮) পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার লক্ষণা গ্রামের বাসিন্দা। তার বিরুদ্ধে একাধিক ডাকাতি মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

শনিবার দিবাগত রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে উপজেলার ডৌয়াতলা ইউনিয়নের হোগলপাতি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়রা জানান, ডাকাতির প্রস্তুতিকালে আনোয়ার হোসেন রিপনকে হাতেনাতে ধরে ফেলে এলাকাবাসী। প্রথমে তাকে গণপিটুনি দেওয়া হয়। এ সময় পালানোর চেষ্টা করলে তিনি তার সঙ্গে থাকা পাইপগান দিয়ে গুলি চালান। আত্মরক্ষার্থে স্থানীয় সুমন জমাদ্দার তার বৈধ অস্ত্র দিয়ে রিপনের পায়ে গুলি করেন। এরপর উত্তেজিত জনতা তাকে আবারও মারধর করে।

পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে রিপনকে উদ্ধার করে বামনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার দুপুর ১২টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

ঘটনাস্থল থেকে একটি পাইপগান, একটি ছুরি ও তিনটি গুলির খোসা উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত আনোয়ার হোসেন রিপনের বিরুদ্ধে ডাকাতিসহ ১১টি মামলা রয়েছে বলেও জানানো হয়েছে।

বামনা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. সেলিম বলেন,
“ডাকাতির প্রস্তুতিকালে আনোয়ারকে দেখে ফেলেন নৈশপ্রহরীরা। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে ধরে ফেলে। গুলি ছোড়ার পর আত্মরক্ষায় বৈধ অস্ত্র দিয়ে গুলি করেন সুমন জমাদ্দার। পরে উত্তেজিত জনতা মারধর করে।”

সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে মরদেহ বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




এক পায়ে সংগ্রাম, ‘মামা জিলাপি’র গল্প

ভিক্ষা নয়—শ্রমই তার জীবনের মূলমন্ত্র। পা হারালেও থেমে থাকেননি বরিশালের হানিফ আকন। পরিশ্রম করে নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে আজ ‘মামা জিলাপি’ নামে পরিচিত তিনি। জীবনযুদ্ধে হার না মানা এই ৫০ বছর বয়সী মানুষটি এখন জিলাপি বিক্রি করে ছয় সদস্যের পরিবার চালাচ্ছেন।

২০১৯ সালে মাছ ধরতে গিয়ে পায়ে মাছের কাঁটা ঢুকে সংক্রমণের কারণে হানিফকে হারাতে হয় তার একটি পা। এরপর শুরু হয় দুর্দশা। চিকিৎসা বন্ধ হয়ে যায়, সংসারে নেমে আসে অভাব। কিন্তু হানিফ ভিক্ষার পথ না বেছে নেন আত্মসম্মানের সঙ্গে বেঁচে থাকার সিদ্ধান্ত।

সহায়তায় বদলে গেল জীবন :

হানিফের জীবনে মোড় ঘুরিয়ে দেয় ‘ইভেন্ট ৮৪’ নামক একটি সমাজসেবামূলক সংগঠন। বরিশাল সমাজসেবা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক এবং ‘ইভেন্ট ৮৪’ এর অ্যাডমিন সাজ্জাদ পারভেজ তার পাশে দাঁড়ান। সংগঠনটির সহায়তায় হানিফ পান একটি ছোট দোকান, জিলাপি তৈরির সরঞ্জাম এবং পরবর্তীতে আইসিডিএ’র সহায়তায় দোকানে ব্যাটারি ও লাইট।

দোকানে দাঁড়িয়ে হানিফ প্রতিদিন নিজ হাতে তৈরি করেন সুস্বাদু জিলাপি। তার তৈরি জিলাপি খেতে স্থানীয়দের ভিড় লেগেই থাকে।

সম্প্রতি গণমাধ্যমে হানিফের সংগ্রামের খবর প্রকাশিত হলে বরিশালের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন নিজে গিয়ে তার দোকানে যান। পরে বরিশাল শিশু পরিবার (বালিকা দক্ষিণ) অফিসে হানিফ নিজে ভ্যানে করে গিয়ে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সেখানে ডিসি নিজ হাতে জিলাপি তৈরি করে তাকে উৎসাহ দেন এবং শিশু পরিবারের সকল শিশুর জন্য জিলাপির ব্যবস্থাও করেন।

জেলা প্রশাসক হানিফের ঘরের জন্য টিন সরবরাহের প্রতিশ্রুতি দেন, যা তার জীবন সংগ্রামে বড় একটি সহায়তা হিসেবে যুক্ত হলো।

সমাজে অনেকেই প্রতিবন্ধকতায় ভেঙে পড়লেও হানিফ প্রমাণ করেছেন, ইচ্ছাশক্তি আর পরিশ্রম থাকলে সম্ভব সবকিছু। তিনি শুধু জিলাপি বিক্রি করছেন না—তিনি অনুপ্রেরণার এক প্রতীক হয়ে উঠেছেন বরিশালের মানুষের কাছে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




 বরিশাল জেলা ছাত্রদল নেতা বহিষ্কৃত, ধর্ষণ মামলায় অভিযোগ

বরিশাল জেলা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি মো. সবুজ আকনকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করেছে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদ। সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে রবিবার (২৫ মে) দুপুরে কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব এবং সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির এই বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেন। একইসঙ্গে নেতাকর্মীদের প্রতি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যেন তারা সবুজ আকনের সঙ্গে কোনো সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখেন।

যদিও বিজ্ঞপ্তিতে সরাসরি কারণ উল্লেখ করা হয়নি, জানা গেছে গত ১৯ মে বরিশালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে সবুজ আকনের বিরুদ্ধে এক এসএসসি পরীক্ষার্থীকে একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগে মামলা দায়ের হয়। মামলাটি করেন ভুক্তভোগী কিশোরীর মা।

ট্রাইব্যুনালের বিচারক মুহাম্মদ রাকিবুল ইসলাম মামলাটি এজাহার হিসেবে গ্রহণ করে মহানগরীর কাউনিয়া থানাকে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।

বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট কামরুজ্জামান জানান, মামলা দায়েরের পর থেকে ভুক্তভোগী ও তার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন।

কাউনিয়া থানার ওসি নাজমুল নিশাত বলেন, “আদালতের নির্দেশ মোতাবেক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” অভিযুক্ত সবুজ আকন বাবুগঞ্জ উপজেলার বকশির চর গ্রামের বাসিন্দা, তার বাবার নাম আব্দুল মান্নান আকন।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




জমি নিয়ে প্রতারণা: ওসির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন, প্রেসক্লাবে অভিযোগের ঝড়

জমি সংক্রান্ত জালিয়াতি ও এক পুলিশ কর্মকর্তার বিতর্কিত ভূমিকা নিয়ে বরিশালে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুলেছেন একদল ডেভেলপার পার্টনার ও বিনিয়োগকারী। রোববার (২৫ মে) বরিশাল প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ আনেন বিউটি সুপার মার্কেট প্রকল্প সংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তারা।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ডেভেলপার পার্টনার আবুল হাসান কুদ্দুস জানান, বরিশাল নগরীর দক্ষিণ চকবাজারে অবস্থিত বিউটি সিনেমা হল সংলগ্ন ৪০ শতক জমি ২০১৩ সালে তারা জুলফিকার উদ্দিন চৌধুরীর কাছ থেকে ৮ কোটি টাকা মূল্যে বায়না রেজিস্ট্রি করেন। নগদ এক কোটি টাকা পরিশোধের পর স্ট্যাম্পে চুক্তিভিত্তিক আরও ১ কোটি ৭ লাখ টাকা দেন। তবে নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও জমির মূল দলিল হস্তান্তর না করে মালিক পক্ষ নানা তালবাহানা শুরু করে।

জমি নিয়ে হেবার নাটক, ডেভেলপার পাল্টে প্রতারণার অভিযোগ

পরবর্তীতে মালিকের মেয়ে সৈয়দ কামরুন্নাহার আখি দাবি করেন, তার দাদা ওই জমি তাকে মৌখিকভাবে হেবা দিয়েছেন। এ অভিযোগের ভিত্তিতে বায়না বাতিলের জন্য মামলা করা হয়।

২০১৭ সালে জমির মালিক নতুনভাবে বহুতল ভবন নির্মাণের জন্য ডেভেলপার পাওয়ার দিয়ে চুক্তি করেন, কিন্তু একই সময় তিনি আরেক ব্যবসায়ী আক্তারুজ্জামানের সঙ্গে গোপনে চুক্তি করেন। কুদ্দুস জানান, একাধিক সালিশে জমিতে বিনিয়োগ করা ২ কোটি ৭ লাখ টাকা ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও শেষ পর্যন্ত সেই টাকা ফেরত দেওয়া হয়নি। বরং গ্যারান্টি হিসেবে একটি চেক দিয়ে, পরবর্তীতে নতুন এক ডেভেলপার কাজী মফিজুল ইসলামের সঙ্গে রেজিস্ট্রি চুক্তি করেন।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, মালিক জুলফিকার উদ্দিনের ছেলে সৈয়দ আশিক চৌধুরী হেবা দলিল দেখিয়ে জমির মালিকানা দাবি করেন এবং গত ৯ মে বিএনপির নামধারী ৩০-৩৫ জন সহযোগী নিয়ে নির্মাণাধীন ভবনে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও লুটপাট করেন।

এ ঘটনায় কোতোয়ালি মডেল থানার ওসিকে জানানো হলেও কোনো প্রতিকার মেলেনি। বরং অভিযোগে বলা হয়, আশিক চৌধুরী ওসিকে “ম্যানেজ” করে তাকে কুয়াকাটা পাঠিয়ে দেন যেন পুলিশ হস্তক্ষেপ না করে। এমনকি তিনি ওসির স্ত্রীকে একটি ফ্ল্যাট দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বলেও দাবি করেন কুদ্দুস।

ভুক্তভোগীরা বলেন, প্রতারণার কারণে তারা পথে বসার উপক্রম হয়েছেন। তারা প্রশাসনের উর্ধ্বতন মহলের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

এ বিষয়ে জানতে সৈয়দ আশিক চৌধুরী ও ওসি মিজানুর রহমানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কারও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা: ঈদের বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় প্রস্তুতি সম্পন্ন

কোরবানির পর ১২ ঘণ্টার মধ্যেই সব ধরনের বর্জ্য অপসারণের ব্যবস্থা করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।

রোববার (২৫ মে) ঈদুল আজহা উপলক্ষে কোরবানির পশুর হাট, কাঁচা চামড়ার ব্যবস্থাপনা ও আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত কোর কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, “প্রতিবারই আমরা দেখি অনেক চামড়া নষ্ট হয়ে যায়। এবার আমরা চাচ্ছি, যারা চামড়া পায় তারা যেন ন্যায্য মূল্য পায়। এটি গরিবের হক—যারা এতিমখানা, মাদ্রাসা কিংবা দুঃস্থদের কাছে চামড়া দেয়, তাদের প্রাপ্য যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।”

তিনি আরও জানান, চামড়া বিক্রিতে আদায় করা হাসিলের হার কমানোর জন্য উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে ৫ শতাংশ হাসিল বেশি বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আমরা আলোচনা করেছি যেন এটি কমিয়ে ৩ শতাংশের মধ্যে আনা যায়। যদিও এবার সম্ভব হয়নি, ভবিষ্যতের জন্য ব্যবস্থা নিচ্ছি।”

এ বছর রাজধানীর দুই পাশে মোট ২০টি কোরবানির পশুর হাট বসানো হবে জানিয়ে উপদেষ্টা বলেন, “প্রতিটি হাটে চিকিৎসকের ব্যবস্থা থাকবে যেন অসুস্থ গরু বিক্রি না হয়। সেই সঙ্গে হাটে আগত মানুষ অসুস্থ হলে তাদের চিকিৎসাও নিশ্চিত করা হবে। নিরাপত্তার জন্য পর্যাপ্ত আনসার সদস্য মোতায়েন থাকবে।”

তিনি আরও বলেন, “কোরবানি সাধারণত তিনদিন চলে, তবে প্রথম দিনেই ৯০ শতাংশ কোরবানি সম্পন্ন হয়। আমরা স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছি যেন বর্জ্য দ্রুত অপসারণ করা হয়। তারা আশ্বস্ত করেছে—১২ ঘণ্টার মধ্যেই সব বর্জ্য সরিয়ে ফেলা হবে। এজন্য সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।”

এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সকল প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের ধন্যবাদ জানান স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা।




ইশরাক হোসেনের শপথ চেয়ে হাইকোর্টে রিট

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) নবনির্বাচিত মেয়র হিসেবে শপথ নেওয়ার নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেছেন বিএনপি নেতা ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন।

রোববার (২৫ মে) হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এই রিটটি দাখিল করেন ইশরাকের পক্ষে ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন।

এর আগে গত ২২ মে ইশরাক হোসেনকে শপথ না পড়ানোর জন্য দায়ের করা একটি রিট আবেদন হাইকোর্ট সরাসরি খারিজ করে দেন। আদালত বলেন, ওই রিটটি শুনানির জন্য গ্রহণযোগ্য নয়। ফলে ইশরাকের শপথ গ্রহণে আর কোনো আইনগত বাধা নেই বলে জানান আইনজীবীরা।

হাইকোর্টের ওই আদেশের পর ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন এবং ব্যারিস্টার কায়সার কামাল সাংবাদিকদের জানান, সরকার যদি এখন শপথ পড়াতে গড়িমসি করে, তবে তা আদালত অবমাননার শামিল হবে। তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন, সরকার দ্রুত শপথের ব্যবস্থা করবে।

এর আগে গত ১৪ মে ঢাকা দক্ষিণ সিটির বাসিন্দা মো. মামুনুর রশিদ হাইকোর্টে একটি রিট দায়ের করেন, যাতে ইশরাকের শপথ ঠেকানো এবং তাকে মেয়র ঘোষণা করা বিচারকের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি করা হয়। ওই রিটে মামুনুর রশিদের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী কাজী আকবর আলী।

উল্লেখ্য, ২০২০ সালের ১ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে আওয়ামী লীগের শেখ ফজলে নূর তাপস বিপুল ভোটে জয়লাভ করেন। তবে গত ২৭ মার্চ নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. নুরুল ইসলাম সেই ফলাফল বাতিল করে বিএনপি প্রার্থী ইশরাক হোসেনকে মেয়র ঘোষণা করেন। পরে ২২ এপ্রিল নির্বাচন কমিশন আইন মন্ত্রণালয়ের পরামর্শ নেয় এবং ২৭ এপ্রিল ইশরাক হোসেনকে মেয়র হিসেবে গেজেট প্রকাশ করে।

বর্তমানে ইশরাকের সমর্থকরা তাকে মেয়র হিসেবে শপথ পড়ানোর দাবিতে নগর ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন।




প্রধান উপদেষ্টা ও জামায়াত আমিরের আলোচিত বিষয়

দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে শনিবার (২৪ মে) বিএনপির সঙ্গে বৈঠকের পর বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে বৈঠক করেছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

তিনি জানান, দলের পক্ষ থেকে বৈঠকে দুটি বিষয় স্পষ্ট করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। প্রথমত, নির্বাচনের নির্দিষ্ট সময় জানানো প্রয়োজন। দ্বিতীয়ত, নির্বাচন পূর্ববর্তী সময়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার ও দৃশ্যমান বিচার কার্যক্রম বাস্তবায়ন করতে হবে। তার ভাষায়, “নির্বাচনটি এমন সময় হওয়া দরকার যাতে জনগণের বড় ধরনের কোনো ভোগান্তি না হয়। আবার, সংস্কার ছাড়া নির্বাচন হলে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ হবে না। তবে, সব সংস্কার এ সরকারের পক্ষে শেষ করাও সম্ভব নয়।”

নির্বাচনের সময়সূচি নিয়ে জামায়াত কি কোনো সময়সীমা দিয়েছে—এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, “আমরা নির্দিষ্ট কোনো সময় দিইনি, তবে দুইটি সম্ভাব্য সময় উল্লেখ করেছি। যদি সংস্কার দ্রুত শেষ হয়, তাহলে নির্বাচন ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি হতে পারে। আর সময় বেশি লাগলে রোজার পরপরই নির্বাচন হওয়া উচিত। তবে এটিকে দীর্ঘায়িত করা হলে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্ভব হবে না।”

বৈঠকে জামায়াতের দাবির বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টার প্রতিক্রিয়া কেমন ছিল জানতে চাইলে শফিকুর রহমান বলেন, “তিনি আমাদের বক্তব্য গভীর মনোযোগ দিয়ে শুনেছেন। আমরা মনে করি, তিনি আমাদের প্রস্তাব ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছেন।”

সাংবাদিকরা বিএনপির দাবিকৃত তিনজন উপদেষ্টার পদত্যাগ প্রসঙ্গে জামায়াতের অবস্থান জানতে চাইলে তিনি সাফ জানিয়ে দেন, “পদত্যাগ চেয়েছে বিএনপি, আর ফতোয়া দেবে জামায়াতে ইসলামী—এটা কি মানায়? যাদের পদত্যাগ চাওয়া হয়েছে, তারাই ব্যাখ্যা করবে। আমরা কারও পদত্যাগ চাইনি।”

বৈঠকে জামায়াতকে সরকারের ডাকার প্রসঙ্গেও ডা. শফিক বলেন, “আমাদের উপস্থিতি বিএনপির মতো না। আমরা নিজেরাই সময় চেয়েছিলাম। আমন্ত্রণ পেয়েছি ঠিকই, তবে আমরাই প্রথমে যোগাযোগ করেছিলাম। আমাদের দলের কর্মসূচির কারণে নির্ধারিত সময় সন্ধ্যা ৬টা থেকে পিছিয়ে রাত ৮টায় বৈঠক হয়।”

প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসের অবস্থান প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, “তিনি বলেছেন, দেশ আমাদের সবার। আমি এমন একটি অর্থবহ, সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ নির্বাচন আয়োজন করতে চাই, যেটি সবাই গ্রহণ করতে পারে। আমি যেনতেন নির্বাচন দিতে চাই না।”

এই বৈঠকে জামায়াতে ইসলামী সুষ্ঠু নির্বাচন, সময়োপযোগী সংস্কার এবং জনগণের প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটানোর বিষয়ে তাদের অবস্থান স্পষ্টভাবে উপস্থাপন করেছে।




ড. মুহাম্মদ ইউনুসের সাথে বিএনপির আলোচনা

বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের আমন্ত্রণে বৈঠকে বসেছে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। শনিবার (২৪ মে) অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক সংকট ও আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের বিষয়ে বিশদ আলোচনা হয়।

বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন বিএনপির প্রতিনিধি দলের প্রধান খন্দকার মোশাররফ হোসেন। তিনি জানান, প্রধান উপদেষ্টার পক্ষ থেকে আমন্ত্রণ এলেও বৈঠকে আলোচনার বিষয়বস্তু আগেই জানানো হয়নি। তবে বিএনপি অনুমানভিত্তিক একটি লিখিত বক্তব্য প্রস্তুত করে তা বৈঠকে উপস্থাপন করে এবং মূলত সেটিকে কেন্দ্র করেই আলোচনা এগোয়।

লিখিত বক্তব্যে বিএনপি উল্লেখ করে, গণতন্ত্রের উত্তরণের জন্য একটি সুস্পষ্ট নির্বাচনি রোডম্যাপ প্রয়োজন। একই সঙ্গে সরকারের নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে বিতর্কিত উপদেষ্টাদের বাদ দিয়ে উপদেষ্টা পরিষদ পুনর্গঠনের দাবি জানানো হয়। তারা অভিযোগ করে, গত সরকারের আমলে বিএনপি নেতাকর্মীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে—রাজনৈতিক ও পারিবারিক উভয়ভাবেই। ফলে আওয়ামী লীগের শাসনামলের বিচার দাবি করে বিএনপি জানায়, ভবিষ্যতে যদি তারা ক্ষমতায় আসে, তবে স্বাধীন বিচার ব্যবস্থার মাধ্যমে সেসব ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করা হবে।

এছাড়া বিএনপি ডিসেম্বরের মধ্যেই জাতীয় নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা এবং সংশ্লিষ্ট সকল সংস্কার দ্রুত সম্পন্ন করার দাবি জানায়। তারা মনে করে, নির্বাচন বিলম্বিত হলে দেশে স্বৈরাচারী শাসনের পুনরাবৃত্তি হতে পারে, যার দায় সরকারকেই বহন করতে হবে।

বিএনপির পক্ষ থেকে সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, বৈঠকে নির্বাচনের রোডম্যাপ বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টার কাছ থেকে নির্দিষ্ট কোনো আশ্বাস তারা পাননি। তাদের দাবি ও প্রস্তাবনা তুলে ধরা হলেও উপদেষ্টা স্পষ্ট করে কিছু বলেননি।

বৈঠক নিয়ে সন্তুষ্ট কি না—এমন প্রশ্নে বিএনপি জানায়, এ বিষয়ে মন্তব্য করার আগে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সেলের বক্তব্যের অপেক্ষা করবেন তারা।

খন্দকার মোশাররফ হোসেন আরও বলেন, আলোচনা চলাকালে সংস্কার, বিচার ও নির্বাচন—এই তিনটি বিষয় উঠে এসেছে। বিএনপি মনে করে, সংস্কার একটি চলমান প্রক্রিয়া, যার সঙ্গে বিচার বা নির্বাচনের সরাসরি সম্পর্ক নেই। তারা আশা করে, বর্তমান সরকার জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে একটি সময়োপযোগী সংস্কার প্রস্তাব উপস্থাপন করবে, যা ভবিষ্যৎ সরকারও বাস্তবায়নে উদ্যোগী হবে।

বৈঠকে অংশ নেওয়া অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষ থেকেও সমানভাবে নির্বাচন ও সংস্কার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয় বলে জানা গেছে।