নয় দফা দাবিতে বরিশাল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে শিক্ষার্থীদের লাগাতার আন্দোলন

বরিশাল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে টানা তৃতীয় দিনের মতো চলছে সাধারণ শিক্ষার্থীদের আন্দোলন। নয় দফা দাবিতে তারা ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জন করে কলেজের প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান, বিক্ষোভ মিছিল ও পথনাটকের আয়োজন করেছে।

সোমবার (২৬ মে) বেলা ১১টার দিকে শিক্ষার্থীরা “শিক্ষার অধিকার, লড়াই করে নিতে হবে” স্লোগানে মুখর করে তোলে ক্যাম্পাস। তারা প্রতীকীভাবে কম্বাইন্ড পরীক্ষা পদ্ধতির কুশপুত্তলিকা দাহ করে এবং মানসিক চাপের প্রতিবাদে পথনাটক পরিবেশন করে।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানান, তাদের দাবি হলো—কম্বাইন্ড পরীক্ষা পদ্ধতি বাতিল, অ্যাকাডেমিক স্বতন্ত্রতা প্রতিষ্ঠা, নিজস্ব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের দিয়ে প্রশ্নপত্র তৈরি, সময়মতো ফলাফল প্রকাশ, পর্যাপ্ত ক্লাসরুম ও ল্যাব সুবিধা, ছাত্রাবাস উন্নয়ন, মানসম্পন্ন শিক্ষা পরিবেশ, স্বাস্থ্য সুরক্ষা সুবিধা এবং প্রশাসনিক জবাবদিহিতা।

এই নয় দফা দাবিতে তাঁরা কলেজের “অ্যাকাডেমিক শাটডাউন” ঘোষণা করেছেন। এ বিষয়ে কলেজের অধ্যক্ষ প্রকৌশলী মো. লিটন রাব্বানী বলেন, “শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো যৌক্তিক। তবে বরিশাল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত হওয়ায় আমাদের অনেক সীমাবদ্ধতা রয়েছে। এককভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব নয়।”

তিনি আরও জানান, বর্তমানে কলেজের দুটি বিভাগে ৫১৫ জন শিক্ষার্থী রয়েছে এবং চলমান আন্দোলনে কলেজ কার্যত অচল হয়ে পড়েছে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /


 




সরকার ও সেনাবাহিনী সমন্বয়ে কাজ করছে: সেনা সদর

সরকার ও সেনাবাহিনী একযোগে এবং সমন্বিতভাবে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন সেনাবাহিনীর মিলিটারি অপারেশন্স বিভাগের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. নাজিম-উল-দৌলা। সোমবার (২৬ মে) দুপুরে সেনানিবাসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান।

সংবেদনশীল করিডর ইস্যু
প্রশাসন ও সেনাবাহিনীর মধ্যে করিডর বিষয়ে কোনো মতপার্থক্য নেই উল্লেখ করে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নাজিম-উল-দৌলা বলেন, এটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর বিষয়। তিনি জানান, করিডর ও বর্ডারে আরসা (ARSA)-র মুভমেন্ট সম্পূর্ণ আলাদা ইস্যু এবং একে অন্যের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলা উচিত নয়।

তিনি বলেন, “সরকার ও সেনাবাহিনী পরস্পরের সহযোগিতায় দায়িত্ব পালন করছে এবং এটি ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। আমরা সরকারের নির্দেশেই কাজ করি এবং দেশের স্বার্থেই একযোগে কাজ চলছে।”

কেএনএফ ও বিপুল পরিমাণ ইউনিফর্ম উদ্ধার
সাম্প্রতিক সময়ে চট্টগ্রামের একটি কারখানায় ৩০ হাজার ইউনিফর্ম উদ্ধার এবং তা কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্ট (কেএনএফ)-এর সঙ্গে সম্পৃক্ত কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নাজিম বলেন, কেএনএফ একটি বম-ভিত্তিক সংগঠন, যারা পার্বত্য চট্টগ্রামে অস্ত্র ব্যবহার করছে এবং এর আক্রমণে সেনাবাহিনীর সদস্যরা হতাহত হয়েছেন। উদ্ধারকৃত ইউনিফর্মের বিষয়টি গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

তিনি বলেন, “বম সম্প্রদায়ের জনসংখ্যা মাত্র ১২ হাজার, তাই ৩০ হাজার ইউনিফর্ম কার জন্য তৈরি হয়েছিল, তা অনুসন্ধান করা হচ্ছে। এটি দেশের নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এবং হালকাভাবে নেওয়া হচ্ছে না।”

বর্ডার নিরাপত্তা ও মিয়ানমার পরিস্থিতি
বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নাজিম জানান, সীমান্ত পরিস্থিতি অত্যন্ত সংবেদনশীল। মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় কাঠামো প্রায় বিলীন এবং রাখাইন রাজ্যের ৮৫-৯০ শতাংশ এলাকা আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, যারা একটি অস্বীকৃত সশস্ত্র গোষ্ঠী।

তিনি বলেন, “সীমান্তে কিছু সশস্ত্র গোষ্ঠীর চলাচল স্বাভাবিক, তবে তা মানে এই নয় যে আমরা তাদের কার্যক্রম মেনে নিচ্ছি। বিজিবি ও সেনাবাহিনী যৌথভাবে সীমান্তে কঠোর নজরদারি চালাচ্ছে এবং সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় রাখা হয়েছে।”

আরসা ও ছায়া যুদ্ধের শঙ্কা
সাম্প্রতিক সময়ে আরসা সদস্যদের ভারী অস্ত্রসহ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ঢুকে অপারেশন চালানোর খবরের পরিপ্রেক্ষিতে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নে তিনি বলেন, “আমরা কোনোভাবেই সীমান্ত কম্প্রোমাইজ করিনি এবং করব না। দেশের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় আমাদের শক্তি শেষ বিন্দু পর্যন্ত প্রয়োগ করব।”

তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশ একটি ছায়া যুদ্ধের মুখে রয়েছে—এমন আশঙ্কা বাস্তবতা থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন নয়, তবে রাষ্ট্রীয় প্রতিরক্ষা বাহিনী এর জন্য প্রস্তুত রয়েছে।




ক্ষমতা ছাড়ার অঙ্গীকার ড. ইউনূসের, ৩০ জুনের পর এক ঘণ্টাও নয়

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক জানিয়েছেন, প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস আশ্বাস দিয়েছেন যে, সকলের সহযোগিতায় তিনি দেশ ও জাতিকে একটি সঠিক গন্তব্যে পৌঁছে দিয়ে দায়িত্ব শেষ করবেন এবং একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন করবেন যা দেশের জনগণ ও আন্তর্জাতিক মহলে গ্রহণযোগ্য হবে।

রোববার (২৫ মে) রাতে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা জানান। মামুনুল হক বলেন, ড. ইউনূস দৃঢ়ভাবে জানিয়েছেন, ২০২৬ সালের ৩০ জুনের পর তিনি এক ঘণ্টাও ক্ষমতায় থাকবেন না এবং তার আগেই নির্বাচন সম্পন্ন করবেন।

তিনি জানান, বৈঠকে তিনটি বিষয় গুরুত্ব সহকারে তুলে ধরা হয়। প্রথমত, সরকারের পক্ষ থেকে কাঙ্ক্ষিত কোনো সংস্কারের লক্ষণ এখনো দেখা যায়নি, যা অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত দেয়। এজন্য তারা সুস্পষ্টভাবে জানতে চেয়েছেন, কী কী সংস্কার হচ্ছে।

দ্বিতীয়ত, শাপলা চত্বর থেকে শুরু করে জুলাই বিপ্লব পর্যন্ত সংঘটিত সব হত্যাকাণ্ডের বিচার নিয়ে প্রশ্ন তোলেন মামুনুল হক। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ সংশ্লিষ্টদের বিচার কার্যক্রম দৃশ্যমান অগ্রগতি নিয়ে প্রধান উপদেষ্টা আশ্বস্ত করেছেন এবং শিগগিরই সুসংবাদ আসবে।

তৃতীয়ত, করিডরের বিষয়ে ড. ইউনূস স্পষ্ট করে বলেছেন, তার মাধ্যমে কোনো দেশবিরোধী কার্যক্রম পরিচালিত হবে না এবং এ ধরনের কোনো পদক্ষেপ নিলে তা সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা করেই নেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে যে অনৈক্য তৈরি হয়েছে তা দূর করতে প্রধান উপদেষ্টা যেন দলগুলোর সঙ্গে ঘনঘন আলোচনা করেন—এ দাবি তিনি গ্রহণ করেছেন। শাপলা চত্বরের গণহত্যা নিয়ে তারা দুই মাসের আল্টিমেটাম দিয়েছেন এবং এ বিষয়ে নিজ দায়িত্বে সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা।

নারী সংস্কার কমিশন নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে মামুনুল হক বলেন, বিতর্কিত কোনো ইসলামী আইন কার্যকর করা হবে না—এই বিষয়ে তারা আশ্বস্ত হয়েছেন।

সবশেষে তিনি জানান, নির্বাচন যেন একটি নির্দিষ্ট সময়ে হয় এবং জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি না ছড়ায়, সে লক্ষ্যে জুনের মধ্যেই নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা।




সারজিস আলমকে ক্ষমা চাইতে লিগ্যাল নোটিশ

হাইকোর্ট সম্পর্কে বিতর্কিত মন্তব্য করায় এনসিপি নেতা সারজিস আলমকে লিখিতভাবে ও সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে একটি লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

শনিবার (২৪ মে) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. জসিম উদ্দিন এই নোটিশ পাঠান। এবং এটি অমান্য করলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জনান।

গত ২২ মে, হাইকোর্ট বিএনপির নেতা ইশরাক হোসেনকে ঢাকার মেয়র হিসেবে শপথ না পড়ানোর নির্দেশনা চেয়ে করা রিট খারিজ করে দেয়। এর পর সারজিস আলম তার ফেসবুকে লেখেন, “মব তৈরি করে যদি হাইকোর্টের রায় নেওয়া যায় তাহলে এই হাইকোর্টের দরকার কি?”

এই মন্তব্যের প্রেক্ষিতে পাঠানো নোটিশে বলা হয়েছে, সারজিস আলমকে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলের কাছে লিখিতভাবে ক্ষমা চাইতে হবে এবং নোটিশ পাওয়ার দুই ঘণ্টার মধ্যে সংবাদ সম্মেলন করে প্রকাশ্যে দুঃখ প্রকাশ করতে হবে। অন্যথায় তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান আইনজীবী।




নারী সংস্কার কমিশনের বিতর্কিত ধারার বৈধতা নিয়ে হাইকোর্টের আদেশ আজ

নারী সংস্কার কমিশনের সুপারিশে অন্তর্ভুক্ত কয়েকটি বিতর্কিত ধারার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা রিটের আদেশ আজ (২৬ মে) ঘোষণা করবেন হাইকোর্ট। বিচারপতি ফাতেমা নজীব ও বিচারপতি শিকদার মাহমুদুর রাজীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেবেন।

গত ১৯ মে এই রিটের শুনানি শেষ হয়। শুনানি শেষে আদালত আজকের দিন আদেশের জন্য নির্ধারণ করেন।

রিটের পক্ষে আদালতে শুনানি করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট রওশন আলী, আর কমিশনের পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন অ্যাডভোকেট ফাওজিয়া করিম ফিরোজ।

রিট আবেদনে নারী সংস্কার কমিশনের ২০২৫ সালের রিপোর্টের অধ্যায় ৩, ৪, ৬, ১০, ১১ ও ১২-তে উল্লেখিত কিছু সুপারিশকে ইসলামী শরিয়ত, ধর্মীয় মূল্যবোধ এবং সংবিধান পরিপন্থি হিসেবে উল্লেখ করা হয়। আইনজীবী রওশন আলীর ভাষ্য অনুযায়ী, এসব সুপারিশ দেশের ধর্মপ্রাণ জনগণের অনুভূতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

উল্লেখযোগ্য বিতর্কিত সুপারিশগুলোর মধ্যে রয়েছে—

  • পুরুষ ও নারীর জন্য সমান উত্তরাধিকার প্রস্তাব, যা কোরআনের সুরা নিসা (৪:১১)-এর বিরোধী।
  • বহুবিবাহ নিষিদ্ধের প্রস্তাব, যা ইসলামী শরীয়ত ও সংবিধানের ৪১ অনুচ্ছেদে প্রতিস্ঠিত ধর্মচর্চার স্বাধীনতার পরিপন্থি।
  • “মাই বডি, মাই চয়েজ” স্লোগানের অন্ধ সমর্থন, যা শরিয়তের সীমা লঙ্ঘন করতে পারে বলে দাবি।
  • যৌনকর্মকে বৈধ পেশা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার প্রস্তাব, যা সংবিধানের ২(ক) ও ২৬ অনুচ্ছেদের বিরোধী।
  • লিঙ্গ পরিচয় ও ট্রান্সজেন্ডার বিষয়ে ব্যবহৃত ভাষা, যা ধর্মীয় বিশ্বাসের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে দাবি করা হয়।

রিটে তিনটি মন্ত্রণালয় এবং উইমেন রিফর্ম কমিশনের চেয়ারম্যানকে বিবাদী করা হয়েছে। এর পাশাপাশি বিতর্কিত সুপারিশসমূহ পর্যালোচনার জন্য একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠনের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।

হাইকোর্ট আজ এই বিষয়ে আদেশ দেবেন।




“অন্তর্বর্তীকালীন সরকার তার দায়িত্ব শেষ করেই বিদায় নিবে”, জোনায়েদ সাকি

গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি বলেছেন, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে তার দায়িত্ব সম্পূর্ণভাবে পালন করে বিদায় নিতে হবে। তিনি বলেন, “এই দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।”

রোববার (২৫ মে) রাতে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক শেষে সংবাদমাধ্যমকে তিনি এসব কথা জানান।

সাকি জানান, বৈঠকে সংস্কার ও সুষ্ঠু নির্বাচনের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়েছে। তিনি বলেন, “বর্তমান সরকারকে একদিকে হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করতে হবে এবং অন্যদিকে জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী নতুন রাজনৈতিক কাঠামো গঠনে গণতান্ত্রিক সংস্কারে যেতে হবে। এই দায়িত্ব সরকারেরই।”

তিনি আরও বলেন, ড. মুহাম্মদ ইউনূস জনগণের আস্থার প্রতীক হিসেবে কাজ করছেন। “তাঁর ওপর যত চাপই থাকুক না কেন, ইতিহাসে দৃষ্টান্ত স্থাপনের দায়িত্ব তিনিই পালন করবেন বলে আমরা আশা করি।”

রাজনৈতিক অস্থিরতা প্রসঙ্গে সাকি বলেন, “দলগুলোর মধ্যে যে দূরত্ব তৈরি হয়েছে, তা একটি অস্থিতিশীল পরিস্থিতির জন্ম দিচ্ছে। এই দূরত্ব দূর করতে পরস্পরের সঙ্গে খোলামেলা আলোচনার দরকার আছে।”

বৈঠকে বিচার বিভাগের প্রতি জনগণের প্রত্যাশার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে জানিয়ে সাকি বলেন, প্রধান উপদেষ্টা এই বিষয়ে সর্বোচ্চ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন এবং দ্রুত ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন বিচারপ্রক্রিয়ার আশা প্রকাশ করেছেন।

সংস্কার প্রক্রিয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “ঐকমত্য কমিশন যেহেতু ১৫ জুলাই পর্যন্ত সময় নিয়েছে, তাই এই সময়ের মধ্যে সকল আলোচনা ও ঐক্যকে একটি জাতীয় সনদের মাধ্যমে প্রকাশ করতে হবে।” তিনি আরও বলেন, “প্রধান উপদেষ্টা জানিয়েছেন, এর বাইরে অন্য কোনো প্রক্রিয়ার সুযোগ নেই।”

নির্বাচন প্রসঙ্গে গণসংহতি আন্দোলনের পক্ষ থেকে একটি নির্দিষ্ট সময়সূচি ঘোষণার দাবি জানানো হয়েছে। সাকি বলেন, “নির্দিষ্ট সময় ঘোষণার মাধ্যমে রাজনৈতিক দলগুলো প্রস্তুতি নিতে পারবে এবং অর্থনৈতিক বিনিয়োগও সহজ হবে।”

প্রধান উপদেষ্টা জুনের ৩০ তারিখের মধ্যে নির্বাচন আয়োজনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন এবং নির্বাচন পরিচালনার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো পূর্ণমাত্রায় কাজ শুরু করলে নির্ধারিত তারিখ ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছেন।

জুলাই অভ্যুত্থান প্রসঙ্গেও আলোচনা হয়েছে। সাকি বলেন, “এটি সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল। কোনো একক পক্ষ যদি এর কৃতিত্ব দাবি করে, তবে সরকারকে তা বিবেচনায় রাখতে হবে।”

তিনি বলেন, “ন্যূনতম ঐকমত্য ছাড়া গণতান্ত্রিক উত্তরণ সম্ভব নয়। প্রশাসনসহ নির্বাচন সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোতে আরও স্বচ্ছতা প্রয়োজন।”

বিএনপির তিন উপদেষ্টার পদত্যাগ ইস্যুতে সাকি বলেন, “তিনজন উপদেষ্টা জুলাই আন্দোলনের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। তাদের মধ্যে একজন ইতোমধ্যে রাজনৈতিক দায়িত্বে নিয়োজিত হয়েছেন। বাকি দু’জনের রাজনৈতিক পরিকল্পনা থাকলে তাদেরও সরে যাওয়া উচিত।”

গণসংহতি আন্দোলনের মতে, বাংলাদেশ বর্তমানে একটি জাতীয় পুনর্গঠনের গুরুত্বপূর্ণ সময় অতিক্রম করছে। এই প্রেক্ষাপটে জাতীয় নির্বাচনই মুখ্য এবং একটি সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ প্রয়োজন। স্থানীয় নির্বাচন পরে হলেও কোনো সমস্যা নেই বলেও মন্তব্য করেন সাকি।




দুই উপদেষ্টার পদত্যাগ চেয়ে সরকারের প্রতি আহ্বান নুরুল হক নুরের

গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর জানিয়েছেন, ছাত্র আন্দোলনপূর্ব পটভূমি থেকে আসা এবং বিতর্কিত রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার অভিযোগ থাকা দুই উপদেষ্টাকে পদত্যাগের দিকে নিয়ে যাওয়ার জন্য সরকারকে আহ্বান জানানো হয়েছে। রোববার (২৫ মে) রাতে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই তথ্য জানান।

নুর বলেন, “যেসব উপদেষ্টার নিয়োগ নিয়ে বিতর্ক রয়েছে, বিশেষ করে যাদের বিরুদ্ধে কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উঠেছে, তাদের সরিয়ে দিলে সরকারের ভাবমূর্তি রক্ষা পাবে।”

তিনি আরও জানান, সরকার প্রশাসন ও সামরিক বাহিনীর ওপর একটি মহল প্রতিনিয়ত চাপ সৃষ্টি করছে, যা রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতার জন্য হুমকিস্বরূপ। এ বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টাকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন তিনি।

রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সরকারের সম্পর্ক প্রসঙ্গে গণঅধিকার পরিষদের এই নেতা বলেন, “প্রধান উপদেষ্টা এ বিষয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন এবং ভবিষ্যতে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ঘন ঘন বৈঠকের আশ্বাস দিয়েছেন।”

করিডর ইস্যুতে সরকারের প্রতি অবস্থান স্পষ্ট করে নুর জানান, “বর্তমানে এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত না নিতে সরকারকে অনুরোধ জানিয়েছি।”

নির্বাচনের রোডম্যাপ নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করে নুর বলেন, “সরকার ডিসেম্বর থেকে জুন পর্যন্ত সময়সীমা নির্ধারণ করলেও, এর মধ্যে রোজা, ঈদ, ইজতেমার মতো বড় বড় আয়োজন রয়েছে। তাই আমরা বলেছি, একটি নির্দিষ্ট মাস ঘোষণা করা হোক যাতে জনগণ প্রস্তুতি নিতে পারে।”

সরকার গঠনের সময় দেওয়া সমর্থনের বিষয়ে নুর বলেন, “নয় মাস আগে আমরা যে সমর্থন দিয়েছিলাম, এখন আর তা নেই।”

তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচনসহ বিভিন্ন ইস্যুতে সরকারকে সহযোগিতা করবে, তবে তার জন্য সরকারের পক্ষ থেকেও স্পষ্টতা ও সদিচ্ছার প্রয়োজন রয়েছে।




“আমি যতদিন আছি দেশের কোনো ক্ষতি হবে না “,ড. ইউনুস

জাতীয় ঐক্য ও স্থিতিশীলতার গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস জানিয়েছেন, তার উপস্থিতিতে দেশের কোনো অনিষ্ট হবে না। রোববার (২৫ মে) রাতে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি এ আশ্বাস দেন। বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।

বৈঠকে ড. ইউনূস বলেন, “আমি যতদিন আছি, দেশের অনিষ্ট হবে এমন কোনো কাজ হবে না, নিশ্চিন্ত থাকুন।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা এখন একটি বড় যুদ্ধাবস্থার মধ্যে রয়েছি। আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়ার পর দেশকে অস্থিতিশীল করার নানা প্রচেষ্টা চলছে। এসব থেকে রক্ষা পেতে হলে আমাদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। বিভাজনের অবসান ঘটিয়ে আত্মমর্যাদাসম্পন্ন জাতি হিসেবে আমাদের সামনে এগিয়ে যেতে হবে।”

প্রধান উপদেষ্টা জানান, দেশের বর্তমান পরিস্থিতিকে ‘মহা সুযোগ’ হিসেবে দেখছেন তিনি। তার ভাষায়, “অভ্যুত্থানের কারণে আমরা একটি মহা সুযোগ পেয়েছি ধ্বংসপ্রাপ্ত দেশকে ঘুরে দাঁড় করানোর। কিন্তু আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দেশে-বিদেশে আরেকটি যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, যাতে আমরা অগ্রসর হতে না পারি, সবকিছু ভেঙে পড়ে এবং জাতি আবার পরাধীনতার পথে ফিরে যায়।”

বৈঠকে উপস্থিত বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের উদ্দেশে ড. ইউনূস বলেন, “সবাই একসঙ্গে বসায় সাহস পেয়েছি। যদি আমরা সুষ্ঠু নির্বাচন করতে না পারি, আমি নিজেকে অপরাধী মনে করব।”

প্রসঙ্গত, দেশের চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা ও বিভাজন নিরসনে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথ খুঁজছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও জাতীয় উপদেষ্টা পরিষদ।




শিশুদের দাঁত ক্ষয় থেকে রক্ষা করতে যা করবেন

অনেকেই ভাবেন, দুধের দাঁত পড়ে যাবে—তাই আলাদা যত্নের প্রয়োজন নেই। কিন্তু এই ধারণা ভুল। শিশুদের দুধের দাঁতের সুস্থতা ভবিষ্যতে তাদের স্থায়ী দাঁতের গঠন ও স্বাস্থ্যেও বড় প্রভাব ফেলে। তাই ছোটবেলা থেকেই দাঁতের সঠিক যত্ন নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।

দাঁতের ক্ষয়ের কারণ কী?

শিশুর দাঁত ক্ষয়ের মূল কারণ হলো মুখের ব্যাকটেরিয়া এবং অতিরিক্ত চিনি। নিয়মিত মিষ্টিজাতীয় খাবার বা চিনিযুক্ত পানীয় গ্রহণ করলে এবং ঠিকমতো দাঁত পরিষ্কার না করলে ব্যাকটেরিয়া থেকে অ্যাসিড তৈরি হয়, যা দাঁতের এনামেল নষ্ট করে দেয়। এর ফলেই শুরু হয় দাঁতের ক্ষয়।


করণীয় ৫টি ধাপ:

🔹 ১. নিয়মিত দাঁত ব্রাশ করানো
সকালে নাশতার পরে ও রাতে ঘুমানোর আগে শিশুর দাঁত ব্রাশ করানো অভ্যাসে পরিণত করুন। দুই বছর বয়সের পর থেকে শিশুবান্ধব ফ্লুরাইডযুক্ত টুথপেস্ট ব্যবহার করা যেতে পারে।

🔹 ২. চিনি ও মিষ্টিজাত খাবার নিয়ন্ত্রণ
চকলেট, মিষ্টি, কোমল পানীয় ইত্যাদিতে থাকা চিনি দাঁতের ক্ষয় বাড়ায়। এগুলো খাওয়ানোর পরপরই মুখ ধোয়া বা দাঁত ব্রাশ করানো উচিত।

🔹 ৩. নিজে দাঁতের যত্ন নেওয়ার শিক্ষা দেওয়া
ব্রাশ, কুলি, ও টুথপেস্ট ব্যবহারের পরিমাণ শেখাতে হবে ধাপে ধাপে, যেন শিশু নিজের যত্ন নিজেই নিতে শিখে।

🔹 ৪. নিয়মিত ডেন্টাল চেকআপ
প্রতি ছয় মাসে একবার দাঁতের চিকিৎসকের কাছে নিয়ে গিয়ে দাঁতের অবস্থা যাচাই করা ভালো। অনেক সময় দাঁতের ক্ষয় বাহ্যিকভাবে বোঝা যায় না।

🔹 ৫. রাতে দুধ খাওয়ার পর পানি পান করানো
ঘুমানোর আগে দুধ খাওয়ার পরে শিশুকে অল্প পানি খাওয়ানো বা দাঁত ব্রাশ করানো উচিত, কারণ দুধে থাকা প্রাকৃতিক চিনি দাঁতের ক্ষয় ঘটাতে পারে।


শিশুর দাঁতের প্রতি শুরু থেকেই যত্নবান হলে ভবিষ্যতে দাঁতের জটিলতা, ব্যথা ও খরচ—সবকিছুই অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




ধনী হওয়ার সঠিক পথ: নবীজির শিক্ষা ও ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি

দুনিয়ার অধিকাংশ মানুষই ধনী হতে চায়; তবে ধনী হওয়া শুধুমাত্র অর্থ-সম্পদে সীমাবদ্ধ নয়। প্রকৃত ধনী হওয়া মানে হলো অন্তর থেকে ধনী হওয়া—আল্লাহর প্রতি ঈমান, তাওয়াক্কুল (বিশ্বাস) ও তাকদিরে বিশ্বাস রাখা। নবী করিম (সা.) বলেছেন, হৃদয়ের ধনী ব্যক্তিই প্রকৃত ধনী।

বিশ্বজুড়ে সফলতার মাপকাঠি ভিন্ন ভিন্ন; কেউ দুনিয়ার মাল-সম্পদ, কেউ স্বাস্থ্য বা ক্ষমতাকে সফলতা বলে মনে করে। কিন্তু ইসলামে সফলতার মাপকাঠি পরকালের জন্য প্রস্তুতি এবং জান্নাত অর্জন।

মানবস্বভাব অনুযায়ী, সম্পদের অভাব কখনো মেটানো যায় না, যেমন এক পাহাড় স্বর্ণ হলেও তার চেয়ে বড় পাহাড়ের আকাঙ্ক্ষা জন্মায়। এজন্য নবীজির শিক্ষা হলো—ধনী হওয়ার প্রকৃত মানদণ্ড হলো মন ও অন্তরের তৃপ্তি।

হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী করিম (সা.) বলেন,
“ধন-সম্পদের আধিক্য হলেই ধনী হয় না, বরং অন্তরের ধনীই প্রকৃত ধনী।” (সহিহ বুখারী: ৬৪৪৬)
আরেকবার তিনি বলেন,
“সচ্ছলতা হলো হৃদয়ের সচ্ছলতা, আর হৃদয়ের দারিদ্র্যই প্রকৃত দারিদ্র্য।” (ইবনে হিব্বান: ৬৮৫)

অর্থাৎ, মনের শান্তি ও সন্তুষ্টিই প্রকৃত সম্পদ, যা পরম করুণাময় আল্লাহতায়ালার পক্ষ থেকে মুমিন বান্দাদের দেওয়া হয়।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /