ঝালকাঠির আদালতে গৃহবধূর আত্মহত্যার চেষ্টা

ঝালকাঠির আদালতে স্বামীর প্রতি ক্ষোভ ও অভিমানে নিজের শরীরে কেরোসিন ঢেলে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন এক গৃহবধূ।

রোববার দুপুরে ঝালকাঠির চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের কাঠগড়ায় এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে তাকে উদ্ধার করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছে।

জানা গেছে, নলছিটি উপজেলার দপদপিয়া ইউনিয়নের কয়া গ্রামের শাহ আলমের মেয়ে নুসরাত জাহান চলতি বছরের ১৭ মার্চ তার স্বামী আল-আমিন হাওলাদারের বিরুদ্ধে যৌতুকের দাবিতে মারধরের অভিযোগ এনে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে নলছিটি থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার পর আল-আমিনকে গ্রেপ্তার করে জেলহাজতে পাঠানো হয়।

রোববার ছিল জামিন শুনানির দিন। আদালতে জামিন আবেদনের শুনানির সময় আল-আমিন তার স্ত্রী নুসরাত জাহানকে স্বীকৃতি দিতে অস্বীকৃতি জানান। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে নুসরাত বিচারকের সামনেই তার স্বামীর উপস্থিতিতে নিজের শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন লাগানোর চেষ্টা করেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করে বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ হোসেন আকন খোকন বলেন, “স্বামী সংসার করতে রাজি না হওয়ায় নুসরাত মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন এবং তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় আত্মহননের চেষ্টা করেন।”

কোর্ট পুলিশ পরিদর্শক পুলক চন্দ্র রায় বলেন, “তাকে দ্রুত উদ্ধার করে নিরাপদে আদালত কক্ষে বসিয়ে রাখা হয় এবং পরে অভিভাবকদের জিম্মায় হস্তান্তর করা হয়েছে।”

এ ঘটনার পর আদালত চত্বরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনার তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।




 ধোনির রাজকীয় বিদায়, শেষ ম্যাচে দুর্দান্ত জয় চেন্নাইয়ের

হয়তো এটিই ছিল মহেন্দ্র সিং ধোনির শেষ ম্যাচ অধিনায়ক হিসেবে। আর এই বিদায়ী ম্যাচে যেন মাঠে রাজত্ব করেই গেলেন ‘থালা’। তাঁর নেতৃত্বে চেন্নাই সুপার কিংস ৮৩ রানে উড়িয়ে দিল গুজরাট টাইটান্সকে, শেষ করল এবারের আইপিএল যাত্রা এক স্মরণীয় জয় দিয়ে।

রবিবার (২৫ মে) নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে ম্যাচের টস জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন ধোনি। এই ম্যাচে তাঁর শরীরী ভাষা, কৌশল, এবং নেতৃত্ব সব কিছুতেই ছিল নিখুঁত পরিকল্পনার ছাপ। যদিও চেন্নাই এর আগেই প্লে-অফ দৌড় থেকে ছিটকে পড়েছে, তবে ক্রিকেটপ্রেমীদের কাছে এই ম্যাচের মূল আকর্ষণ ছিল মাহির শেষ উপস্থিতি।

চেন্নাইয়ের ইনিংসের হাল ধরেন আয়ুষ মাত্রে, উর্বিল পটেল ও ডেওয়াল্ড ব্রেভিস। এই তিন তরুণ মিলে মাত্র ৫৯ বলে যোগ করেন ১২৮ রান। সঙ্গে ছিলেন অভিজ্ঞ ডেভন কনওয়ে। চলতি আসরে এটিই ছিল চেন্নাইয়ের সর্বোচ্চ সংগ্রহ। এ সাফল্যের পেছনে ধোনির দূরদর্শী পরিকল্পনার ভূমিকা অনস্বীকার্য।

গুজরাট অধিনায়ক শুভমান গিলের জন্য এই ম্যাচ যেন ছিল এক শিক্ষা। ব্যাটিং হোক কিংবা ফিল্ডিং, সবকিছুতেই ধোনির অভিজ্ঞতার কাছে পিছিয়ে পড়েন তিনি। পরপর দুই হারে গুজরাটের নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। মাঠে ধোনির উপস্থিতি যেন হয়ে উঠেছিল এক অনন্য অনুশীলন ক্লাস।

ম্যাচ শেষে ধোনি সরাসরি কিছু না বললেও ইঙ্গিত স্পষ্ট—এটাই হতে পারে তাঁর শেষ অধিনায়কত্ব। এমনকি খেলোয়াড় হিসেবে এটিই হতে পারে শেষ আইপিএল। তবে তিনি বিদায় নিলেন এমন একটি দল রেখে, যারা ভবিষ্যতে অনেক দূর যেতে পারে।

চেন্নাই সুপার কিংসের হয়ে পাঁচবার আইপিএল জয়ী এই কিংবদন্তি কেবল ক্রিকেটার নন, একজন কৌশলী নেতা, একজন অনুপ্রেরণা। মাঠের বাইরে গেলেও ক্রিকেটে তাঁর প্রভাব থাকবে দীর্ঘ সময়।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




 এক মাস কেটে গেল, চাল পাননি ভোলার ৬৫ হাজার জেলে

ভোলার সাগরগামী জেলেরা সরকারের ৫৮ দিনের মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা মেনে তীরে ফিরে এসেছেন অনেক আগেই। কিন্তু নিষেধাজ্ঞার এক মাস পার হলেও এখনো তারা পাননি প্রণোদনার চাল। এতে করে জেলার সাত উপজেলার প্রায় ৬৫ হাজার নিবন্ধিত জেলে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

নিষেধাজ্ঞা শুরু হয় ১৫ এপ্রিল, চলবে ২১ জুন পর্যন্ত। এই সময়টিতে জেলেদের দুই ধাপে ৮৬ কেজি চাল দেওয়ার কথা থাকলেও এখনো কেউ একটি কেজিও পাননি বলে অভিযোগ উঠেছে।

ভোলার দৌলতখানের সাগরগামী জেলে ফারুক মাঝি বলেন,“আমাদের নামে বরাদ্দ থাকলেও সেগুলো দেওয়া হয় অন্যদের। প্রকৃত জেলেরা বঞ্চিত হচ্ছি।”

জেলে শহীদ মাঝি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,“সরকার বলছে অভিযান চলাকালীন চাল দেবে। কিন্তু এক মাস হয়ে গেল, এখনো পাইনি। এনজিওর কিস্তির চাপ বাড়ছে। পরিবার নিয়ে খেয়ে না খেয়ে আছি।”

একই রকম অভিযোগ কাশেম মাঝিরও:“সাগরে না যাইতে পারি, নদীতেও মাছ নাই। কিস্তির চাপ, ধারদেনায় জীবন অচল হয়ে গেছে। অনেকেই চুরি করে সাগরে যায় মাছ ধরতে। এভাবে চললে আমরাও বাধ্য হবো।”

অভিযোগ ও প্রশাসনের অবস্থান

জেলেদের দাবি, বহু প্রকৃত জেলে এখনো সরকারি তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হতে পারেননি। আর তালিকায় না থাকলে বরাদ্দের চালও মিলছে না। তারা আরও বলেন, প্রণোদনার চাল ছাড়াও এই সময় এনজিও ঋণের কিস্তি মওকুফ বা স্থগিত রাখা উচিত। নয়তো তারা চরম সংকটে পড়ে থাকবেন।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বিশ্বজিৎ কুমার দেব জানান,“এবারই প্রথম প্রতিবেশী দেশের সাথে মিল রেখে অভিযান ৬৫ দিনের পরিবর্তে ৫৮ দিনে কমানো হয়েছে। বরাদ্দ এলে দ্রুত চাল বিতরণ শুরু হবে।”

বর্তমানে সরকারি হিসাবে ভোলার নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা প্রায় ৬৫ হাজার। যদিও স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, প্রকৃত সাগরগামী জেলের সংখ্যা প্রায় এক লাখ। চাল বিতরণের পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রথম ধাপে ৫৬ কেজি এবং দ্বিতীয় ধাপে ৩০ কেজি করে মোট ৮৬ কেজি চাল পাওয়ার কথা রয়েছে প্রতিজনের।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




বরিশাল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদী পথ নাটক ও শাটডাউন

নয় দফা দাবিতে একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ রেখে প্রতীকী পথ নাটক, বিক্ষোভ মিছিল এবং অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন বরিশাল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের শিক্ষার্থীরা। রোববার (২৫ মে) সকাল ১০টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত কলেজ চত্বরে শিক্ষার্থীরা এই কর্মসূচি পালন করেন।

আন্দোলনকারীদের অন্যতম প্রতিবাদের অংশ ছিল পরীক্ষার পদ্ধতি নিয়ে প্রতীকী কুশপুত্তলিকা দাহ। শিক্ষার্থীরা জানান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত প্রযুক্তি ইউনিটের অধীন কলেজগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে চালু থাকা “কম্বাইন্ড একাডেমিক সিস্টেম” শিক্ষার্থীদের ওপর মারাত্মক মানসিক চাপ তৈরি করছে। এরই ধারাবাহিকতায় ময়মনসিংহ ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের এক শিক্ষার্থী বহিষ্কারের পর আত্মহত্যা করেন বলে উল্লেখ করেন তারা।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ২০১৬ সালের পর থেকে এই পরীক্ষা পদ্ধতি শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ও মূল্যায়নে কোন উন্নতি না এনে বরং জটিলতা তৈরি করেছে। ফলাফল অনিশ্চয়তা, দেরিতে সেশন শেষ হওয়া এবং মানসিক চাপ—এসব মিলিয়ে বহু শিক্ষার্থী একাডেমিকভাবে পিছিয়ে পড়ছে।

তাদের নয়টি প্রধান দাবি হলো:

  1. কম্বাইন্ড সিস্টেম বাতিল।
  2. গুণগত শিক্ষা ও স্বচ্ছ মূল্যায়ন।
  3. মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা।
  4. সেশনজট নিরসনে সুনির্দিষ্ট সময়সূচি।
  5. পরীক্ষার ফল প্রকাশে নির্দিষ্ট সময়সীমা।
  6. শিক্ষক সংকট নিরসন।
  7. লাইব্রেরি ও ল্যাব সুবিধা উন্নয়ন।
  8. ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা নিশ্চিত।
  9. পরীক্ষার কাঠামো সংস্কার।

শিক্ষার্থীরা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে দাবির পক্ষে লিখিত সিদ্ধান্ত না এলে আমরা আরও কঠোর কর্মসূচি নিতে বাধ্য হবো।”

এদিকে কলেজের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম আন্দোলনকারীরা অনির্দিষ্টকালের জন্য শাটডাউন ঘোষণা করেছেন। এতে করে বরিশাল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রমে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




কোরবানির পশুর চামড়ার নতুন দাম ঘোষণা করল সরকার

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে কোরবানির পশুর চামড়ার দাম পুনর্নির্ধারণ করেছে সরকার। গরু, খাসি ও বকরির লবণযুক্ত কাঁচা চামড়ার দাম বাড়ানো হয়েছে। একইসঙ্গে এবার চামড়া রপ্তানির সুযোগসহ বেশ কিছু নতুন উদ্যোগও নিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

রবিবার (২৫ মে) সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দিন বলেন, ঢাকায় প্রতি বর্গফুট গরুর লবণযুক্ত চামড়ার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৬০ থেকে ৬৫ টাকা। ঢাকার বাইরের জন্য এ দর হবে ৫৫ থেকে ৬০ টাকা। গত বছরের তুলনায় এবার দাম বেড়েছে ৫ টাকা।

খাসি ও বকরির চামড়ার দামেও বৃদ্ধি এসেছে। এবার খাসির লবণযুক্ত চামড়ার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২২ থেকে ২৭ টাকা এবং বকরির চামড়া ২০ থেকে ২২ টাকা—প্রতিটি ক্ষেত্রেই ২ টাকা করে বাড়ানো হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে বাণিজ্য উপদেষ্টা আরও জানান, এবার চামড়া সংরক্ষণের জন্য ৩০ হাজার টন লবণ বিনামূল্যে দেশের বিভিন্ন মাদ্রাসা ও এতিমখানায় সরবরাহ করা হবে। এছাড়া ঈদের পরবর্তী ১০ দিন পর্যন্ত ঢাকার বাইরে থেকে কাঁচা চামড়া রাজধানীতে আনা যাবে না, এমন নিষেধাজ্ঞা থাকবে।

চামড়া রপ্তানি বিষয়ে তিনি বলেন, “দেশের বাজারে কাঁচা চামড়ার পর্যাপ্ত চাহিদা না থাকলে, তা রপ্তানির অনুমতি দেওয়া হবে। চামড়া রপ্তানিতে যে বিধিনিষেধ ছিল, তা ইতোমধ্যে প্রত্যাহার করা হয়েছে।”

এছাড়া এবার ঢাকায় গরুর একটি চামড়া ন্যূনতম ১৩৫০ টাকা এবং ঢাকার বাইরে ১১৫০ টাকার নিচে বিক্রি না করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

গত বছর ঢাকায় গরুর প্রতি বর্গফুট লবণযুক্ত কাঁচা চামড়ার দাম ছিল ৬০ থেকে ৬৫ টাকা এবং ঢাকার বাইরে ছিল ৫০ থেকে ৫৫ টাকা। খাসির চামড়া ছিল ২০-২৫ টাকা এবং বকরির চামড়া ১৮-২০ টাকা।

সরকারের এই সিদ্ধান্ত চামড়া শিল্প, মৌসুমি ব্যবসায়ী এবং সমাজসেবামূলক প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য স্বস্তির বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /

 




 এনবিআরের দাবিতে সরকারের সম্মতি, আন্দোলন স্থগিতের পথে কর্মকর্তারা

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কর্মকর্তাদের দীর্ঘদিনের আন্দোলন ও দাবির প্রেক্ষিতে সরকারের পক্ষ থেকে বেশিরভাগ দাবি মেনে নেওয়া হয়েছে। এতে করে আন্দোলন স্থগিতের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছে এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদ।

রবিবার (২৫ মে) বিকেলে সংগঠনের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়, অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা ইতিবাচক হয়েছে এবং দাবির অধিকাংশ বিষয়ে একমত হয়েছে সরকার। আগামী ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে সংশোধিত অধ্যাদেশ জারি করা হবে বলে আশ্বাস পেয়েছেন তারা। এজন্য আপাতত আন্দোলন স্থগিতের সিদ্ধান্ত বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। বিস্তারিত তথ্য শিগগিরই প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো হবে।

এর আগে একই দিন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের প্রধান কার্যালয়ের নিচে এক সংবাদ সম্মেলনে ঐক্য পরিষদ জানায়, সোমবার (২৬ মে) থেকে আন্তর্জাতিক যাত্রীসেবা ও জরুরি পণ্য পরিবহন ব্যতীত কর, কাস্টমস ও ভ্যাট বিভাগে পূর্ণাঙ্গ কর্মবিরতি পালনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল।

কর্মসূচি ঘোষণার সময় তারা চারটি প্রধান দাবি উপস্থাপন করেন:

  1. অবিলম্বে জারি করা বিতর্কিত অধ্যাদেশ বাতিল করতে হবে।
  2. এনবিআর চেয়ারম্যানকে অপসারণ করতে হবে।
  3. রাজস্ব সংস্কার সংক্রান্ত পরামর্শক কমিটির সুপারিশ প্রকাশ করতে হবে।
  4. খসড়া সংস্কার প্রস্তাবনায় সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের মতামতের ভিত্তিতে টেকসই ও অংশগ্রহণমূলক রাজস্ব ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।

এনবিআরের কর্মকর্তারা মনে করছেন, দীর্ঘদিনের উপেক্ষিত সমস্যা ও বঞ্চনার প্রেক্ষিতে তারা যেসব দাবি তুলেছেন, তা বাস্তবায়ন হলে রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় গতি আসবে এবং কর্মপরিবেশে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




ড. ইউনূসের সঙ্গে রাজনৈতিক দলের নেতাদের বৈঠক শুরু

রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচিত এক উদ্যোগে দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারা বৈঠকে বসেছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে। রবিবার (২৫ মে) রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় এই গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা পর্ব শুরু হয়।

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং সূত্রে জানা গেছে, বৈঠকটি দুই ধাপে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। প্রথম ধাপে অংশ নিয়েছেন—লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম, নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক হাসনাত কাইয়ূম, এবি পার্টির মহাসচিব মুজিবর রহমান মঞ্জু এবং বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাবেক সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম।

এছাড়া প্রথম দফার আলোচনায় আরও অংশ নিয়েছেন বাসদের উপদেষ্টা খালেকুজ্জামান ভূঁইয়া, জাতীয় গণফ্রন্টের সমন্বয়কারী টিপু বিশ্বাস এবং জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি)-এর সাধারণ সম্পাদক শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন।

প্রেস উইংয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, দ্বিতীয় দফায় অংশ নেবেন বিভিন্ন ইসলামি দলের নেতৃবৃন্দ। তাদের মধ্যে রয়েছেন—হেফাজতে ইসলামের মহাসচিব মাওলানা সাজিদুর রহমান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম (চরমোনাই পীর), বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক, খেলাফত মজলিসের মহাসচিব আহমেদ আবদুল কাদের, হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদি এবং জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী।

এছাড়াও বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির জাতীয় নির্বাহী পরিষদের মহাসচিব মাওলানা মুসা বিন ইজহার এবং ইসলামী ঐক্য জোটের মহাসচিব মুফতি সাখাওয়াত হোসাইন রাজি।

এ বৈঠককে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আগ্রহ দেখা দিয়েছে। রাজনৈতিক সমঝোতা ও ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নির্ধারণে এই বৈঠক কতটা ফলপ্রসূ হবে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




মে মাসের ২৪ দিনেই প্রবাসী আয় ছাড়াল ২৭ হাজার কোটি টাকা

পবিত্র ঈদুল আজহা সামনে রেখে দেশে প্রবাসী আয়ের প্রবাহ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। চলতি মে মাসের মাত্র ২৪ দিনেই প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন ২৭ হাজার ৬২৭ কোটি টাকার সমপরিমাণ রেমিট্যান্স।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্যমতে, ১ মে থেকে ২৪ মে পর্যন্ত দেশে পাঠানো রেমিট্যান্সের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২২৪ কোটি ৬০ লাখ ৭০ হাজার মার্কিন ডলার। বর্তমান বিনিময় হার অনুযায়ী (প্রতি ডলার ১২৩ টাকা ধরে) এই অঙ্ক প্রায় ২৭ হাজার ৬২৭ কোটি টাকার সমান।

গত বছর মে মাসে (৩১ দিনে) প্রবাসী আয় ছিল ২২৫ কোটি মার্কিন ডলার। এবার মাত্র ২৪ দিনেই প্রায় সমান অঙ্কে রেমিট্যান্স আসায় ইতিবাচক ধারা স্পষ্ট হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে,

  • রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ৬৬ কোটি ৫২ লাখ ৬০ হাজার ডলার
  • বিশেষায়িত কৃষি ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে ২০ কোটি ৪৯ লাখ ৯০ হাজার ডলার
  • বেসরকারি ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে সর্বোচ্চ ১৩৭ কোটি ১৬ লাখ ৮০ হাজার ডলার
  • বিদেশি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ৪১ লাখ ৩০ হাজার ডলার

একক ব্যাংক হিসেবে সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স এসেছে ইসলামী ব্যাংকের মাধ্যমে, যার পরিমাণ ৩৭ কোটি ৭ লাখ ৮০ হাজার ডলার

ঈদের আগে বাজারে চাহিদা ও খরচ বেড়ে যাওয়ায় প্রবাসীরা দেশমুখী অর্থ পাঠাতে উৎসাহী হয়েছেন বলে মনে করছেন অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা।


এস. এল. টি. তুহিন / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে নির্বাচন চায় এবি পার্টি: মঞ্জু

আসন্ন জাতীয় নির্বাচন ৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে আয়োজনের আহ্বান জানিয়েছে আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি)। দলটির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, সমঝোতার ভিত্তিতে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হওয়া জরুরি।

রবিবার (২৫ মে) প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সংবাদমাধ্যমকে এসব কথা বলেন তিনি।

মঞ্জু জানান, “আমরা বলেছি, ৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে যথাসম্ভব নির্বাচন আয়োজন করা উচিত। তবে সেটা চাপিয়ে দিয়ে নয়, প্রধান উপদেষ্টা যেন সুবিধাজনক সময়ে এই নির্বাচন আয়োজন করেন।”

ছাত্র আন্দোলনের ঐক্য নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, “জেনজি, মাদ্রাসা ও পাবলিক-প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের মধ্যে যে ঐক্য ছিল, তা ধরে রাখা যায়নি। বরং কিছু উপদেষ্টার কারণে ঐক্য বিনষ্ট হয়েছে।”

এবি পার্টির চেয়ারম্যান আরও বলেন, “বর্তমান অস্থিতিশীল অবস্থা কাটিয়ে উঠতে হলে চারটি পক্ষ—অন্তর্বর্তীকালীন সরকার, প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সমঝোতা জরুরি।”

তিনি জানান, “আমরা উপদেষ্টা পরিষদের পুনর্গঠনসহ প্রয়োজনীয় সংস্কারের পরামর্শ দিয়েছি। ইগো বা অহংকার আমাদের এই অবস্থায় এনে দিয়েছে।”

পদত্যাগ নয়, দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়ে মঞ্জু বলেন, “আপনার, আমার, আমাদের সবার পরাজয়ের সুযোগ নেই। সফল হতেই হবে। আপনি এখন দায়িত্ব ছেড়ে দিলে নির্বাচন ও সংস্কার সব অনিশ্চিত হয়ে পড়বে। তাই আপনাকে দায়িত্বে থেকেই এগিয়ে যেতে হবে।”

নির্বাচনের রোডম্যাপ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “স্থিতিশীল অবস্থা তৈরি হলে প্রধান উপদেষ্টা নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা করবেন। যদিও তিনি ব্যক্তিগতভাবে কিছুটা হতাশ, তবুও আমরা বলেছি হতাশ না হয়ে এগিয়ে যান।”


এস. এল. টি. তুহিন / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




ডিসেম্বরে জাতীয় নির্বাচন দেখতে চায় জনগণ: তারেক রহমান

তারেক রহমান

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান আশা প্রকাশ করেছেন যে, দেশের জনগণ আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই জাতীয় সংসদ নির্বাচন দেখতে পাবে।

রোববার (২৫ মে) বিকেলে ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (এনপিপি)-এর ১৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

তারেক রহমান বলেন, “অন্তবর্তীকালীন সরকারের প্রধানের সঙ্গে বৈঠকে রাজনৈতিক দলগুলো জাতীয় নির্বাচনের নির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা করার দাবি জানিয়েছে। বিএনপির অবস্থান পরিষ্কার—আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, “নির্বাচনের জন্য প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রয়োজনীয় সংস্কারে আমরা আন্দোলনরত দলগুলো অন্তবর্তীকালীন সরকারকে সর্বাত্মক সমর্থন দিয়ে আসছি। আশা করি, অভিজ্ঞ ও দক্ষ নেতৃত্বে একটি অবাধ, সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষ জাতীয় নির্বাচন হবে।”

বাজেট ঘোষণার প্রাক্কালে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)-এ হঠাৎ সংস্কার চাপিয়ে দেওয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “এটি রাজস্ব আদায়ের প্রক্রিয়ায় অচলাবস্থা তৈরি করেছে, যা দেশের অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক নয়।” তারেক রহমান মনে করেন, জবাবদিহিমূলক একটি গণতান্ত্রিক সরকারই এ ধরনের পরিস্থিতি দক্ষতার সঙ্গে মোকাবিলা করতে পারে।

তারেক রহমান বলেন, “বর্তমান অন্তবর্তীকালীন সরকারের রাজনৈতিক বৈধতা থাকলেও এটি জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক নয়। সরকারের পরিকল্পনা স্পষ্টভাবে জনগণের সামনে তুলে ধরতে হবে, না হলে তা কখনোই কার্যকর বা টেকসই হবে না।”

তিনি আরও বলেন, “স্বৈরাচার মাথাচাড়া দিয়ে উঠার সুযোগ নিতে পারে যদি আমরা গড়িমসি করি। তাই গণতন্ত্রকামী জনগণের উচিত সরকারের গঠনমূলক সমালোচনার ধারা অব্যাহত রাখা এবং নিজেদের অধিকার রক্ষায় সোচ্চার থাকা।”

তারেক রহমান উল্লেখ করেন, “স্থিতিশীল গণতান্ত্রিক সরকার না থাকায় দেশে ও বিদেশে বিনিয়োগ স্থবির হয়ে পড়েছে। প্রতিদিন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ন্যায্য দাবিতে রাস্তায় নামছে, কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত তাদের কথা শোনার মতো কেউ নেই।”

শেষে তিনি বলেন, “যদিও বিভিন্ন ফ্যাসিবাদবিরোধী দলগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য আছে, তবে জনগণের স্বার্থে ঐক্যবদ্ধভাবে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করাই সময়ের দাবি।”

এনপিপির সভাপতি অ্যাডভোকেট ফরিদুজ্জামান ফরহাদের সভাপতিত্বে এবং মহাসচিব মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তফার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বিএনপির সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, মাহদী আমিন, বিএলডিপির সাহাদাত হোসেন সেলিম, ভাসানী জনশক্তির শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু, লেবার পার্টির মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাগপার খন্দকার লুৎফুর রহমান, গণদলের এটিএম গোলাম মাওলা চৌধুরী এবং সাম্যবাদী দলের সৈয়দ নুরুল ইসলাম।