নারী সংস্কার কমিশনের বিতর্কিত ধারার বৈধতা নিয়ে হাইকোর্টের আদেশ আজ

নারী সংস্কার কমিশনের সুপারিশে অন্তর্ভুক্ত কয়েকটি বিতর্কিত ধারার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা রিটের আদেশ আজ (২৬ মে) ঘোষণা করবেন হাইকোর্ট। বিচারপতি ফাতেমা নজীব ও বিচারপতি শিকদার মাহমুদুর রাজীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেবেন।

গত ১৯ মে এই রিটের শুনানি শেষ হয়। শুনানি শেষে আদালত আজকের দিন আদেশের জন্য নির্ধারণ করেন।

রিটের পক্ষে আদালতে শুনানি করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট রওশন আলী, আর কমিশনের পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন অ্যাডভোকেট ফাওজিয়া করিম ফিরোজ।

রিট আবেদনে নারী সংস্কার কমিশনের ২০২৫ সালের রিপোর্টের অধ্যায় ৩, ৪, ৬, ১০, ১১ ও ১২-তে উল্লেখিত কিছু সুপারিশকে ইসলামী শরিয়ত, ধর্মীয় মূল্যবোধ এবং সংবিধান পরিপন্থি হিসেবে উল্লেখ করা হয়। আইনজীবী রওশন আলীর ভাষ্য অনুযায়ী, এসব সুপারিশ দেশের ধর্মপ্রাণ জনগণের অনুভূতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

উল্লেখযোগ্য বিতর্কিত সুপারিশগুলোর মধ্যে রয়েছে—

  • পুরুষ ও নারীর জন্য সমান উত্তরাধিকার প্রস্তাব, যা কোরআনের সুরা নিসা (৪:১১)-এর বিরোধী।
  • বহুবিবাহ নিষিদ্ধের প্রস্তাব, যা ইসলামী শরীয়ত ও সংবিধানের ৪১ অনুচ্ছেদে প্রতিস্ঠিত ধর্মচর্চার স্বাধীনতার পরিপন্থি।
  • “মাই বডি, মাই চয়েজ” স্লোগানের অন্ধ সমর্থন, যা শরিয়তের সীমা লঙ্ঘন করতে পারে বলে দাবি।
  • যৌনকর্মকে বৈধ পেশা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার প্রস্তাব, যা সংবিধানের ২(ক) ও ২৬ অনুচ্ছেদের বিরোধী।
  • লিঙ্গ পরিচয় ও ট্রান্সজেন্ডার বিষয়ে ব্যবহৃত ভাষা, যা ধর্মীয় বিশ্বাসের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে দাবি করা হয়।

রিটে তিনটি মন্ত্রণালয় এবং উইমেন রিফর্ম কমিশনের চেয়ারম্যানকে বিবাদী করা হয়েছে। এর পাশাপাশি বিতর্কিত সুপারিশসমূহ পর্যালোচনার জন্য একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠনের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।

হাইকোর্ট আজ এই বিষয়ে আদেশ দেবেন।




“অন্তর্বর্তীকালীন সরকার তার দায়িত্ব শেষ করেই বিদায় নিবে”, জোনায়েদ সাকি

গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি বলেছেন, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে তার দায়িত্ব সম্পূর্ণভাবে পালন করে বিদায় নিতে হবে। তিনি বলেন, “এই দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।”

রোববার (২৫ মে) রাতে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক শেষে সংবাদমাধ্যমকে তিনি এসব কথা জানান।

সাকি জানান, বৈঠকে সংস্কার ও সুষ্ঠু নির্বাচনের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়েছে। তিনি বলেন, “বর্তমান সরকারকে একদিকে হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করতে হবে এবং অন্যদিকে জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী নতুন রাজনৈতিক কাঠামো গঠনে গণতান্ত্রিক সংস্কারে যেতে হবে। এই দায়িত্ব সরকারেরই।”

তিনি আরও বলেন, ড. মুহাম্মদ ইউনূস জনগণের আস্থার প্রতীক হিসেবে কাজ করছেন। “তাঁর ওপর যত চাপই থাকুক না কেন, ইতিহাসে দৃষ্টান্ত স্থাপনের দায়িত্ব তিনিই পালন করবেন বলে আমরা আশা করি।”

রাজনৈতিক অস্থিরতা প্রসঙ্গে সাকি বলেন, “দলগুলোর মধ্যে যে দূরত্ব তৈরি হয়েছে, তা একটি অস্থিতিশীল পরিস্থিতির জন্ম দিচ্ছে। এই দূরত্ব দূর করতে পরস্পরের সঙ্গে খোলামেলা আলোচনার দরকার আছে।”

বৈঠকে বিচার বিভাগের প্রতি জনগণের প্রত্যাশার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে জানিয়ে সাকি বলেন, প্রধান উপদেষ্টা এই বিষয়ে সর্বোচ্চ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন এবং দ্রুত ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন বিচারপ্রক্রিয়ার আশা প্রকাশ করেছেন।

সংস্কার প্রক্রিয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “ঐকমত্য কমিশন যেহেতু ১৫ জুলাই পর্যন্ত সময় নিয়েছে, তাই এই সময়ের মধ্যে সকল আলোচনা ও ঐক্যকে একটি জাতীয় সনদের মাধ্যমে প্রকাশ করতে হবে।” তিনি আরও বলেন, “প্রধান উপদেষ্টা জানিয়েছেন, এর বাইরে অন্য কোনো প্রক্রিয়ার সুযোগ নেই।”

নির্বাচন প্রসঙ্গে গণসংহতি আন্দোলনের পক্ষ থেকে একটি নির্দিষ্ট সময়সূচি ঘোষণার দাবি জানানো হয়েছে। সাকি বলেন, “নির্দিষ্ট সময় ঘোষণার মাধ্যমে রাজনৈতিক দলগুলো প্রস্তুতি নিতে পারবে এবং অর্থনৈতিক বিনিয়োগও সহজ হবে।”

প্রধান উপদেষ্টা জুনের ৩০ তারিখের মধ্যে নির্বাচন আয়োজনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন এবং নির্বাচন পরিচালনার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো পূর্ণমাত্রায় কাজ শুরু করলে নির্ধারিত তারিখ ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছেন।

জুলাই অভ্যুত্থান প্রসঙ্গেও আলোচনা হয়েছে। সাকি বলেন, “এটি সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল। কোনো একক পক্ষ যদি এর কৃতিত্ব দাবি করে, তবে সরকারকে তা বিবেচনায় রাখতে হবে।”

তিনি বলেন, “ন্যূনতম ঐকমত্য ছাড়া গণতান্ত্রিক উত্তরণ সম্ভব নয়। প্রশাসনসহ নির্বাচন সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোতে আরও স্বচ্ছতা প্রয়োজন।”

বিএনপির তিন উপদেষ্টার পদত্যাগ ইস্যুতে সাকি বলেন, “তিনজন উপদেষ্টা জুলাই আন্দোলনের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। তাদের মধ্যে একজন ইতোমধ্যে রাজনৈতিক দায়িত্বে নিয়োজিত হয়েছেন। বাকি দু’জনের রাজনৈতিক পরিকল্পনা থাকলে তাদেরও সরে যাওয়া উচিত।”

গণসংহতি আন্দোলনের মতে, বাংলাদেশ বর্তমানে একটি জাতীয় পুনর্গঠনের গুরুত্বপূর্ণ সময় অতিক্রম করছে। এই প্রেক্ষাপটে জাতীয় নির্বাচনই মুখ্য এবং একটি সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ প্রয়োজন। স্থানীয় নির্বাচন পরে হলেও কোনো সমস্যা নেই বলেও মন্তব্য করেন সাকি।




দুই উপদেষ্টার পদত্যাগ চেয়ে সরকারের প্রতি আহ্বান নুরুল হক নুরের

গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর জানিয়েছেন, ছাত্র আন্দোলনপূর্ব পটভূমি থেকে আসা এবং বিতর্কিত রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার অভিযোগ থাকা দুই উপদেষ্টাকে পদত্যাগের দিকে নিয়ে যাওয়ার জন্য সরকারকে আহ্বান জানানো হয়েছে। রোববার (২৫ মে) রাতে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই তথ্য জানান।

নুর বলেন, “যেসব উপদেষ্টার নিয়োগ নিয়ে বিতর্ক রয়েছে, বিশেষ করে যাদের বিরুদ্ধে কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উঠেছে, তাদের সরিয়ে দিলে সরকারের ভাবমূর্তি রক্ষা পাবে।”

তিনি আরও জানান, সরকার প্রশাসন ও সামরিক বাহিনীর ওপর একটি মহল প্রতিনিয়ত চাপ সৃষ্টি করছে, যা রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতার জন্য হুমকিস্বরূপ। এ বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টাকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন তিনি।

রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সরকারের সম্পর্ক প্রসঙ্গে গণঅধিকার পরিষদের এই নেতা বলেন, “প্রধান উপদেষ্টা এ বিষয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন এবং ভবিষ্যতে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ঘন ঘন বৈঠকের আশ্বাস দিয়েছেন।”

করিডর ইস্যুতে সরকারের প্রতি অবস্থান স্পষ্ট করে নুর জানান, “বর্তমানে এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত না নিতে সরকারকে অনুরোধ জানিয়েছি।”

নির্বাচনের রোডম্যাপ নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করে নুর বলেন, “সরকার ডিসেম্বর থেকে জুন পর্যন্ত সময়সীমা নির্ধারণ করলেও, এর মধ্যে রোজা, ঈদ, ইজতেমার মতো বড় বড় আয়োজন রয়েছে। তাই আমরা বলেছি, একটি নির্দিষ্ট মাস ঘোষণা করা হোক যাতে জনগণ প্রস্তুতি নিতে পারে।”

সরকার গঠনের সময় দেওয়া সমর্থনের বিষয়ে নুর বলেন, “নয় মাস আগে আমরা যে সমর্থন দিয়েছিলাম, এখন আর তা নেই।”

তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচনসহ বিভিন্ন ইস্যুতে সরকারকে সহযোগিতা করবে, তবে তার জন্য সরকারের পক্ষ থেকেও স্পষ্টতা ও সদিচ্ছার প্রয়োজন রয়েছে।




“আমি যতদিন আছি দেশের কোনো ক্ষতি হবে না “,ড. ইউনুস

জাতীয় ঐক্য ও স্থিতিশীলতার গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস জানিয়েছেন, তার উপস্থিতিতে দেশের কোনো অনিষ্ট হবে না। রোববার (২৫ মে) রাতে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি এ আশ্বাস দেন। বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।

বৈঠকে ড. ইউনূস বলেন, “আমি যতদিন আছি, দেশের অনিষ্ট হবে এমন কোনো কাজ হবে না, নিশ্চিন্ত থাকুন।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা এখন একটি বড় যুদ্ধাবস্থার মধ্যে রয়েছি। আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়ার পর দেশকে অস্থিতিশীল করার নানা প্রচেষ্টা চলছে। এসব থেকে রক্ষা পেতে হলে আমাদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। বিভাজনের অবসান ঘটিয়ে আত্মমর্যাদাসম্পন্ন জাতি হিসেবে আমাদের সামনে এগিয়ে যেতে হবে।”

প্রধান উপদেষ্টা জানান, দেশের বর্তমান পরিস্থিতিকে ‘মহা সুযোগ’ হিসেবে দেখছেন তিনি। তার ভাষায়, “অভ্যুত্থানের কারণে আমরা একটি মহা সুযোগ পেয়েছি ধ্বংসপ্রাপ্ত দেশকে ঘুরে দাঁড় করানোর। কিন্তু আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দেশে-বিদেশে আরেকটি যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, যাতে আমরা অগ্রসর হতে না পারি, সবকিছু ভেঙে পড়ে এবং জাতি আবার পরাধীনতার পথে ফিরে যায়।”

বৈঠকে উপস্থিত বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের উদ্দেশে ড. ইউনূস বলেন, “সবাই একসঙ্গে বসায় সাহস পেয়েছি। যদি আমরা সুষ্ঠু নির্বাচন করতে না পারি, আমি নিজেকে অপরাধী মনে করব।”

প্রসঙ্গত, দেশের চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা ও বিভাজন নিরসনে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথ খুঁজছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও জাতীয় উপদেষ্টা পরিষদ।




শিশুদের দাঁত ক্ষয় থেকে রক্ষা করতে যা করবেন

অনেকেই ভাবেন, দুধের দাঁত পড়ে যাবে—তাই আলাদা যত্নের প্রয়োজন নেই। কিন্তু এই ধারণা ভুল। শিশুদের দুধের দাঁতের সুস্থতা ভবিষ্যতে তাদের স্থায়ী দাঁতের গঠন ও স্বাস্থ্যেও বড় প্রভাব ফেলে। তাই ছোটবেলা থেকেই দাঁতের সঠিক যত্ন নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।

দাঁতের ক্ষয়ের কারণ কী?

শিশুর দাঁত ক্ষয়ের মূল কারণ হলো মুখের ব্যাকটেরিয়া এবং অতিরিক্ত চিনি। নিয়মিত মিষ্টিজাতীয় খাবার বা চিনিযুক্ত পানীয় গ্রহণ করলে এবং ঠিকমতো দাঁত পরিষ্কার না করলে ব্যাকটেরিয়া থেকে অ্যাসিড তৈরি হয়, যা দাঁতের এনামেল নষ্ট করে দেয়। এর ফলেই শুরু হয় দাঁতের ক্ষয়।


করণীয় ৫টি ধাপ:

🔹 ১. নিয়মিত দাঁত ব্রাশ করানো
সকালে নাশতার পরে ও রাতে ঘুমানোর আগে শিশুর দাঁত ব্রাশ করানো অভ্যাসে পরিণত করুন। দুই বছর বয়সের পর থেকে শিশুবান্ধব ফ্লুরাইডযুক্ত টুথপেস্ট ব্যবহার করা যেতে পারে।

🔹 ২. চিনি ও মিষ্টিজাত খাবার নিয়ন্ত্রণ
চকলেট, মিষ্টি, কোমল পানীয় ইত্যাদিতে থাকা চিনি দাঁতের ক্ষয় বাড়ায়। এগুলো খাওয়ানোর পরপরই মুখ ধোয়া বা দাঁত ব্রাশ করানো উচিত।

🔹 ৩. নিজে দাঁতের যত্ন নেওয়ার শিক্ষা দেওয়া
ব্রাশ, কুলি, ও টুথপেস্ট ব্যবহারের পরিমাণ শেখাতে হবে ধাপে ধাপে, যেন শিশু নিজের যত্ন নিজেই নিতে শিখে।

🔹 ৪. নিয়মিত ডেন্টাল চেকআপ
প্রতি ছয় মাসে একবার দাঁতের চিকিৎসকের কাছে নিয়ে গিয়ে দাঁতের অবস্থা যাচাই করা ভালো। অনেক সময় দাঁতের ক্ষয় বাহ্যিকভাবে বোঝা যায় না।

🔹 ৫. রাতে দুধ খাওয়ার পর পানি পান করানো
ঘুমানোর আগে দুধ খাওয়ার পরে শিশুকে অল্প পানি খাওয়ানো বা দাঁত ব্রাশ করানো উচিত, কারণ দুধে থাকা প্রাকৃতিক চিনি দাঁতের ক্ষয় ঘটাতে পারে।


শিশুর দাঁতের প্রতি শুরু থেকেই যত্নবান হলে ভবিষ্যতে দাঁতের জটিলতা, ব্যথা ও খরচ—সবকিছুই অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




ধনী হওয়ার সঠিক পথ: নবীজির শিক্ষা ও ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি

দুনিয়ার অধিকাংশ মানুষই ধনী হতে চায়; তবে ধনী হওয়া শুধুমাত্র অর্থ-সম্পদে সীমাবদ্ধ নয়। প্রকৃত ধনী হওয়া মানে হলো অন্তর থেকে ধনী হওয়া—আল্লাহর প্রতি ঈমান, তাওয়াক্কুল (বিশ্বাস) ও তাকদিরে বিশ্বাস রাখা। নবী করিম (সা.) বলেছেন, হৃদয়ের ধনী ব্যক্তিই প্রকৃত ধনী।

বিশ্বজুড়ে সফলতার মাপকাঠি ভিন্ন ভিন্ন; কেউ দুনিয়ার মাল-সম্পদ, কেউ স্বাস্থ্য বা ক্ষমতাকে সফলতা বলে মনে করে। কিন্তু ইসলামে সফলতার মাপকাঠি পরকালের জন্য প্রস্তুতি এবং জান্নাত অর্জন।

মানবস্বভাব অনুযায়ী, সম্পদের অভাব কখনো মেটানো যায় না, যেমন এক পাহাড় স্বর্ণ হলেও তার চেয়ে বড় পাহাড়ের আকাঙ্ক্ষা জন্মায়। এজন্য নবীজির শিক্ষা হলো—ধনী হওয়ার প্রকৃত মানদণ্ড হলো মন ও অন্তরের তৃপ্তি।

হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী করিম (সা.) বলেন,
“ধন-সম্পদের আধিক্য হলেই ধনী হয় না, বরং অন্তরের ধনীই প্রকৃত ধনী।” (সহিহ বুখারী: ৬৪৪৬)
আরেকবার তিনি বলেন,
“সচ্ছলতা হলো হৃদয়ের সচ্ছলতা, আর হৃদয়ের দারিদ্র্যই প্রকৃত দারিদ্র্য।” (ইবনে হিব্বান: ৬৮৫)

অর্থাৎ, মনের শান্তি ও সন্তুষ্টিই প্রকৃত সম্পদ, যা পরম করুণাময় আল্লাহতায়ালার পক্ষ থেকে মুমিন বান্দাদের দেওয়া হয়।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




“ড. ইউনুসের নেতৃত্বেই ইতিহাসে সবচেয়ে সুষ্ঠু নির্বাচন হবে”,তারেক রহমান

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান আশা প্রকাশ করেছেন যে, অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে বাংলাদেশের জনগণ শিগগিরই দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে অবাধ ও নিরপেক্ষ জাতীয় নির্বাচন দেখতে পাবে।

রবিবার (২৫ মে) রাজধানীর রমনায় ন্যাশনাল পিপলস পার্টির (এনপিপি) ১৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এনপিপি’র সভাপতি ফরিদুজ্জামান ফরহাদ।

তারেক রহমান বলেন, “রাজনৈতিক দলগুলো ইতোমধ্যে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধানের সঙ্গে দেখা করে জাতীয় নির্বাচনের নির্দিষ্ট দিন ও সময় ঘোষণার দাবি জানিয়েছে। বিএনপির দাবি, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই জাতীয় নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, নির্বাচন আয়োজনের প্রক্রিয়ায় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাঠামোগত সংস্কার জরুরি। তিনি দাবি করেন, আন্দোলনের মাধ্যমে যারা এসব সংস্কারের দাবিতে রাজপথে ছিলেন, তারা সরকারকে সহযোগিতা করে যাচ্ছেন।

আলোচনা সভায় বাজেট প্রসঙ্গে মন্তব্য করে তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারকে নিয়ম অনুযায়ী চলতি অর্থবছরের বাজেট ঘোষণা করতে হবে। তবে বাজেট বাস্তবায়নে ঘাটতি ও এনবিআরের হঠাৎ সংস্কার চাপিয়ে দেওয়ার কারণে অর্থনীতিতে অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

বর্তমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, “স্থিতিশীল গণতান্ত্রিক সরকার না থাকায় দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ স্থবির হয়ে পড়েছে এবং জনমনে অসন্তোষ তৈরি হচ্ছে। প্রতিদিন জনগণ বিভিন্ন দাবি নিয়ে রাজপথে নামলেও সেসব শোনার কেউ নেই।”

তিনি ফ্যাসিবাদী শাসনের পুনরাবৃত্তির আশঙ্কা তুলে ধরে বলেন, “ফ্যাসিবাদের পথ রুদ্ধ করে রাষ্ট্র ও রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তন আনতে সাংবিধানিক ও আইনগত সংস্কার অপরিহার্য।”

তারেক রহমান আরও বলেন, জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত সরকারই জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে বাধ্য থাকে। তিনি সতর্ক করেন, জনগণের ক্ষমতা নিশ্চিত না হলে যে কোনো সরকারই ফ্যাসিবাদী চরিত্র ধারণ করতে পারে। তাই নাগরিকদের উচিত সরকারের প্রতি গঠনমূলক সমালোচনার ধারা অব্যাহত রাখা।

তিনি বলেন, “সরকার জনগণের করুণার পাত্র নয়, বরং জনগণের কথাই শোনার বাধ্যবাধকতা সরকারের রয়েছে। এখানে সরকারের ব্যক্তিগত রাগ-অনুরাগের কোনো স্থান নেই।”

তারেক রহমান শেষ পর্যন্ত বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের হয়তো নৈতিক বা রাজনৈতিক বৈধতার সংকট নেই, কিন্তু জনগণের কাছে তাদের জবাবদিহিতার অভাব রয়েছে। তাই সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা জনগণের সামনে স্পষ্টভাবে উপস্থাপন করা জরুরি।

তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন যে, রাজনৈতিক দলগুলোকে অনিশ্চয়তায় রেখে বা জনগণকে অন্ধকারে রেখে কোনো পরিকল্পনাই কার্যকর বা টেকসই হতে পারে না।




গুচির প্রথম শাড়ি পরে কান মাতালেন আলিয়া ভাট

বিশ্বখ্যাত ফ্যাশন ব্র্যান্ড গুচি তাদের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো শাড়ি ডিজাইন করেছে—আর সেই শাড়িতেই কান চলচ্চিত্র উৎসব মাতিয়ে দিলেন বলিউড তারকা আলিয়া ভাট

গুচির গ্লোবাল ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হিসেবে আলিয়ার জন্যই বিশেষভাবে তৈরি করা হয়েছে এই অনন্য শাড়িটি। একই সঙ্গে তিনি ল’রিয়েল ফ্রান্স-এরও অ্যাম্বাসেডর। এই দুটি পরিচয়েই কান-এর রেড কার্পেটে তার উপস্থিতি যেন হয়ে উঠল ঐতিহাসিক।

গুচির শাড়িটি ডিজাইন করা হয়েছে ন্যুড বেসের উপর ল্যাটিস প্যাটার্নে বসানো সোয়ারভস্কি ক্রিস্টাল দিয়ে। এই পোশাকের সিলুয়েটে আছে শাড়ির আঁচলের মতো লম্বা ড্রেপ, যা একত্রে টপ ও স্কার্টের সঙ্গে জুড়ে রাজসিক এক লুক তৈরি করেছে। আলিয়া তার লুককে আরও কমপ্লিমেন্ট করেছেন খোলা চুল, হালকা মেকআপ ও মিনিমাল গয়নায়।

আলিয়ার এই অনবদ্য ফ্যাশন স্টেটমেন্ট শুধু গুচির জন্যই নতুন ইতিহাস নয়, বরং ভারতীয় পোশাকের মর্যাদাকেও নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে। কান উৎসবের সমাপনী দিনে এই রেড কার্পেট লুক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঝড় তুলেছে, প্রশংসা কুড়িয়েছে আন্তর্জাতিক ফ্যাশন বোদ্ধাদের কাছেও।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের জাপান সফরে সম্ভাব্য ১ বিলিয়ন ডলার সহায়তা ও ৫টি চুক্তি

সবকিছু ঠিক থাকলে আসছে ২৭ মে (মঙ্গলবার) জাপানের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়বেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। সফরের অংশ হিসেবে জাপান বাংলাদেশকে ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বাজেট সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিতে পারে। এ সফরে পাঁচটি সমঝোতা স্মারক ও চুক্তি সই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যার মধ্যে একটি চুক্তি প্রতিরক্ষা সহযোগিতা সংক্রান্ত।

সরকারি সূত্রে জানা গেছে, সফরের সমন্বয় করছেন প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী। সফরসূচি অনুযায়ী, ড. ইউনূস ২৯ মে টোকিওতে অনুষ্ঠিতব্য নিক্কেই ফোরামে অংশ নেবেন এবং ৩০ মে জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিগেরু ইশিবার সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন। বৈঠকের পর পাঁচটি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই হওয়ার কথা রয়েছে।

এই চুক্তিগুলোর মধ্যে রয়েছে:

  • প্রতিরক্ষা খাতে সহযোগিতা
  • অর্থনৈতিক অঞ্চলে জাপানি বিনিয়োগ
  • জ্বালানি খাতে সমঝোতা
  • বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) সক্ষমতা বৃদ্ধি
  • জনশক্তি রপ্তানি, বিশেষ করে নার্স ও কেয়ারগিভার নিয়োগ

এ সফরে জাপান থেকে আরও সহজ শর্তে ঋণ সহায়তা এবং ঋণ পরিশোধের সময়সীমা বাড়ানো নিয়ে আলোচনা হবে বলে জানা গেছে। এছাড়াও, বঙ্গোপসাগরীয় উদ্যোগ (বিগ-বি) ও ইন্দো-প্যাসিফিক সহযোগিতা, এবং নতুন কিছু উন্নয়ন প্রকল্পের ঘোষণা আসার সম্ভাবনাও রয়েছে।

সফরকালে ড. ইউনূস জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, জাইকা এবং জেট্রো-র প্রেসিডেন্টদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। একইসঙ্গে তিনি একটি বিজনেস সেমিনারে অংশ নেবেন এবং সেখানে বাংলাদেশে আরও বেশি বিনিয়োগের আহ্বান জানাবেন।

  1. সম্প্রতি টোকিওতে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ-জাপান পররাষ্ট্র সচিব পর্যায়ের বৈঠকে সফর নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বাংলাদেশ পক্ষ থেকে অফিশিয়াল ডেভেলপমেন্ট অ্যাসিস্ট্যান্স (ওডিএ) ঋণ বৃদ্ধি ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতার বিষয়টি তুলে ধরা হয়। জাপানও এ বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

ঢাকায় নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনিইচি জানিয়েছেন, তিনি আশা করছেন এই সফরের মধ্য দিয়ে দুই দেশের সম্পর্ক আরও দৃঢ় হবে এবং পারস্পরিক সহযোগিতার নতুন দ্বার উন্মোচিত হবে।




 পাকিস্তানে ঘূর্ণিঝড়-বৃষ্টিতে প্রাণ গেল ১৩ জনের, আহত ৯২

প্রবল বৃষ্টি ও ঝড়ো হাওয়ায় পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ১৩ জন। আহত হয়েছেন আরও অন্তত ৯২ জন। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বহু কাঁচা ঘরবাড়ি ও অবকাঠামো।

রবিবার (২৫ মে) পাকিস্তানি গণমাধ্যম ডন-এর বরাতে জানা গেছে, প্রদেশজুড়ে ভারী বর্ষণের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বয়ে যাওয়া ঝড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে। সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ও আহতের ঘটনা ঘটেছে ঘরবাড়ি ধসে পড়ার কারণে।

পাঞ্জাব প্রাদেশিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ (PDMA) জানিয়েছে, সকল নাগরিককে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে জেলা পর্যায়ের সব জরুরি সেবা সংস্থাকে প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নাগরিকদের বিদ্যুৎ লাইন, খুঁটি ও ঝুলন্ত তার থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

 ঘরধসে প্রাণহানি বেশিস্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, পুরনো ও কাঁচা ঘরবাড়িগুলোই ঝড়ের ধকল সহ্য করতে না পেরে ধসে পড়ে। বেশিরভাগ মৃত্যুই ঘটেছে এসব ঘরের নিচে চাপা পড়ে। আহতদের দ্রুত চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

পাঞ্জাব সরকার ক্ষতিগ্রস্তদের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি আর্থিক সহায়তারও ঘোষণা দিয়েছে। দুর্যোগ পরবর্তী পুনর্বাসন এবং ঘরবাড়ি সংস্কারের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /