এটিএম আজহারুল ইসলামকে নিয়ে আসিফ নজরুলের পোস্ট

মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াত নেতা এটিএম আজহারুল ইসলাম নির্দোষ প্রমাণিত হওয়ায় খালাস পেয়েছেন। এ মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল।

মঙ্গলবার (২৭ মে) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে তিনি বলেন ,  “নির্দোষ প্রমাণ হওয়ায় মুক্তিযুদ্ধকালের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডাদেশ থেকে খালাস পেয়েছেন জামায়াত নেতা এ টি এম আজহারুল ইসলাম। দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে তাঁর করা রিভিউ সর্বসম্মতিতে মঞ্জুজুর করেছেন প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন সুপ্রীম কোর্টের আপিল বিভাগ। আজহারুলকে মৃত্যুদণ্ড দিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায় এবং মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখে এর আগে আপিল বিভাগের দেওয়া রায় বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে আজকের রায়ে।”

সেই সাথে তিনি বলেন, “এই ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার সুযোগ তৈরি করেছে জুলাইয়ের গণআন্দোলনের অকুতোভয় নেতৃত্ব।” তিনি আরও যোগ করেন, “এ সুযোগ রক্ষা করা এখন আমাদের সবার দায়িত্ব।”




সীমান্তে পুশইন বেড়েছে, তবে নিরাপত্তায় ঘাটতি নেই: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

সীমান্তে পুশইন বেড়েছে, তবে নিরাপত্তা অক্ষুণ্ণ এবং কোনো ধরনের ঘাটতি নেই বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।

মঙ্গলবার (২৭ মে) সকালে রাজশাহীর কারা প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে ১৪তম ডেপুটি জেলার ও ৬২তম ব্যাচের কারারক্ষী ও মহিলা কারারক্ষীদের সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, “সীমান্তে পুশইন বেড়েছে ঠিকই, তবে যারা আসছে তারা আমাদের দেশেরই নাগরিক। আমরা ভারতকে অনুরোধ করেছি এসব মানুষকে আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ায় ফেরত পাঠাতে। কিন্তু তারা তা করছে না। বিষয়টি নিয়ে বৈঠকও হয়েছে। তবুও সীমান্তে আমাদের বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা পুশইনের বিষয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছি এবং ভারত সরকারকে বাংলাদেশি নাগরিকদের ফেরতের বিষয়ে সঠিক প্রক্রিয়া অনুসরণের অনুরোধ করেছি।”

কারাগার সংস্কারের বিষয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জানান, “কারাগারকে একটি ‘কারেকশন সেন্টার’ হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। বন্দিরা এখানে কাজ করে আয় করতে পারবে, যাতে তাদের পরিবারকে সহায়তা করতে পারে এবং বন্দিজীবন আরও মানবিক হয়।”

তিনি রাজনৈতিক বন্দিদের ক্ষেত্রেও আইনের শাসন ও সমতার ভিত্তিতে আচরণের ওপর গুরুত্ব দেন।

আসন্ন ঈদ ও দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও আশাবাদ ব্যক্ত করেন উপদেষ্টা। তিনি বলেন, “গতবার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রস্তুতি ভালো ছিল, এবারও ভালো থাকবে বলে আশা করছি।”

অনুষ্ঠানে তিনি প্যারেড গ্রাউন্ডে সালাম ও অভিবাদন গ্রহণ করেন। এ সময় রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ, জেলা পুলিশ, বিজিবি, কারা কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এই ব্যাচের মাধ্যমে ১৮ জন ডেপুটি জেলার এবং ৫০৮ জন নতুন কারারক্ষী ও মহিলা কারারক্ষী চাকরিতে যোগ দিচ্ছেন।




ট্রাইব্যুনালের রায় বাতিল, আজহারুল ইসলামের মুক্তির আদেশ আপিল বিভাগে

মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় জামায়াতে ইসলামীর নেতা এটিএম আজহারুল ইসলামকে দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের রায় বাতিল করে তাকে খালাস দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।

মঙ্গলবার (২৭ মে) সকালে প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে সাত সদস্যের পূর্ণাঙ্গ আপিল বেঞ্চ এই রায় ঘোষণা করেন। বেঞ্চের বাকি বিচারপতিরা হলেন: মো. আশফাকুল ইসলাম, জুবায়ের রহমান চৌধুরী, মো. রেজাউল হক, ইমদাদুল হক, মো. আসাদুজ্জামান ও ফারাহ মাহবুব। সর্বসম্মতিক্রমে দেওয়া এই রায়ে আজহারকে অবিলম্বে মুক্তি দেওয়ার নির্দেশ দেন আদালত।

রায় ঘোষণার সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের আইনজীবীরা এবং জামায়াতের শীর্ষ নেতারা। সকাল ৯টা ৫০ মিনিটে আদালতের কার্যক্রম শুরু হয় এবং ৯টা ৫৫ মিনিটে রায় ঘোষণা করা হয়।

আজহারের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির, ব্যারিস্টার এহসান আবদুল্লাহ সিদ্দিক, ইমরান আবদুল্লাহ সিদ্দিক ও নাজিব মোমেন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল অনীক আর হক এবং প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম।

জামায়াত নেতাদের মধ্যে আদালতে উপস্থিত ছিলেন দলটির নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের, ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এটিএম মাসুম, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খানসহ অনেকে।

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে রংপুর অঞ্চলে হত্যা, গণহত্যা, অপহরণ, ধর্ষণ, নির্যাতনসহ ছয়টি মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত ছিলেন এটিএম আজহার। ২০১৪ সালের ৩০ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তাকে ২, ৩ ও ৪ নম্বর অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড, ৫ নম্বর অভিযোগে ২৫ বছরের কারাদণ্ড এবং ৬ নম্বর অভিযোগে ৫ বছরের সাজা দেয়।

ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলে ২০১৯ সালের ৩১ অক্টোবর চার বিচারপতির বেঞ্চ সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের ভিত্তিতে মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখে এবং ৫ নম্বর অভিযোগে খালাস দেয়। পরে, আজহার ২০২০ সালের ১৯ জুলাই রায়ের পুনর্বিবেচনার আবেদন করেন। ১৪টি যুক্তি তুলে ধরে ২৩ পৃষ্ঠার আবেদনটি আপিল বিভাগে উপস্থাপন করা হয়।

২০২৫ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি পুনর্বিবেচনার আবেদনের শুনানি শেষে আদালত আজহারকে আপিলের অনুমতি দেয়। এরপর শুনানি শেষে আজকের রায়ে তাকে খালাস দেওয়া হলো।




“দেশের নিরাপত্তায় আপস নয়: করিডর ইস্যুতে স্পষ্ট বার্তা সেনাবাহিনীর”

বাংলাদেশ সেনাবাহিনী স্পষ্ট জানিয়েছে, তারা এমন কোনো কার্যক্রমে সম্পৃক্ত হবে না, যা দেশের নিরাপত্তার জন্য হুমকি সৃষ্টি করতে পারে। ‘করিডর’ ইস্যুকে সেনাবাহিনী অত্যন্ত স্পর্শকাতর বিষয় হিসেবে বিবেচনা করছে।

সোমবার (২৬ মে) দুপুরে সেনানিবাসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মিলিটারি অপারেশন্স ডিরেক্টরেটের কর্নেল স্টাফ, কর্নেল মো. শফিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন। সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তবর্তী করিডর ইস্যু নিয়ে চলমান আলোচনার প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “করিডর একটি স্পর্শকাতর বিষয়। সেনাবাহিনী দেশের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয় এমন কোনো কাজে সম্পৃক্ত হবে না।”

আরাকান আর্মির বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ ও বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের বিষয়ে এক প্রশ্নের উত্তরে কর্নেল শফিকুল বলেন, “আমাদের আরাকান আর্মির সঙ্গে কোনো যোগাযোগ নেই। গণমাধ্যমে প্রকাশিত এসব খবরের যথার্থতা যাচাই করা প্রয়োজন।”

সাম্প্রতিক সময়ে সেনাবাহিনী প্রধানের ‘অফিসার্স অ্যাড্রেস’ প্রসঙ্গ উঠে এলে তিনি জানান, সেখানে করিডর, বন্দর, স্টারলিংক এবং নির্বাচনসহ বিভিন্ন বিষয় উঠে এসেছে বলে শোনা যাচ্ছে। তবে সেনাবাহিনী প্রধান নিয়মিত সেনা সদস্যদের সঙ্গে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দিয়ে থাকেন, এবং এটি সেই ধারাবাহিকতার অংশ মাত্র। তিনি আরও বলেন, “এ নিয়ে কোনো সাংবাদিককে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি, এবং কোনো সরকারিভাবে বিবৃতি দেওয়া হয়নি। তাই যেসব তথ্য গণমাধ্যম বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এসেছে, তার সঠিকতা যাচাই প্রয়োজন।”

করিডর, বন্দর ও স্টারলিংক ইস্যু দেশের সার্বভৌমত্বের জন্য চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করতে পারে— এমন আশঙ্কার বিষয়ে জানতে চাইলে কর্নেল শফিকুল বলেন, “জাতীয় নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয় এমন কোনো বিষয়ে সেনাবাহিনী কখনোই সম্পৃক্ত হবে না।”

পার্বত্য চট্টগ্রামের একটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের বৈঠক নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, “এই দলটি আত্মস্বীকৃত সন্ত্রাসী গোষ্ঠী, যারা সংঘাতপূর্ণ কর্মকাণ্ড চালিয়ে থাকে। তাই তাদের নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় যুক্ত করা যুক্তিযুক্ত নয়।”

সেনাবাহিনী ও সরকারের মধ্যে কোনো মতবিরোধ রয়েছে কি না— এমন প্রশ্নের জবাবে কর্নেল শফিকুল বলেন, “আমাদের মধ্যে কোনো মুখোমুখি অবস্থান নেই। সরকার ও সেনাবাহিনী সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে একসঙ্গে দেশের স্বার্থে কাজ করছে।”

দেশের সার্বভৌমত্বে হুমকি এলে সেনাবাহিনী কী পদক্ষেপ নেবে— জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমরা সবসময় দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা রক্ষায় একতাবদ্ধভাবে কাজ করেছি এবং ভবিষ্যতেও করে যাব।”

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বর্তমান অবস্থা আগের তুলনায় কিছুটা উন্নত হয়েছে। তবে এটি কেবল সেনাবাহিনীর একক দায়িত্ব নয়, অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সম্মিলিত প্রচেষ্টায়ই প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব। সেনাবাহিনী নিরলসভাবে কাজ করছে এবং ভবিষ্যতে আরও উন্নতির আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।




হাসনাত-সার্জিস রাজনীতিতেই থাকবে, সরকারি চাকরিতে নয়

৪৬তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেও লিখিত পরীক্ষায় অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই সাবেক শিক্ষার্থী হাসনাত আব্দুল্লাহ ও সারজিস আলম। দীর্ঘদিন ধরে বিসিএস ক্যাডার হওয়ার স্বপ্ন দেখে আসা এই দুই তরুণ বর্তমানে রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে উঠেছেন।

২০২৪ সালের ২৬ এপ্রিল অনুষ্ঠিত ৪৬তম বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় সফলভাবে উত্তীর্ণ হন হাসনাত (ইংরেজি বিভাগ) ও সারজিস (প্রাণিবিদ্যা বিভাগ)। তবে পরীক্ষার পরই সরকারি চাকরিতে কোটা ব্যবস্থা পুনর্বহালের খবরে তারা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান এবং কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনে জড়িয়ে পড়েন। গত বছরের জুনের শেষ দিকে শুরু হওয়া আন্দোলনে তারা ছিলেন কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে।

এই আন্দোলনের বিরুদ্ধে দমন-পীড়ন এবং সহিংসতার ঘটনাপ্রবাহ রূপ নেয় গণআন্দোলনে। ছাত্রদের সঙ্গে একাত্ম হয়ে দেশের সাধারণ মানুষও মাঠে নামে, যার ফলে শেখ হাসিনা নেতৃত্বাধীন সরকারের পতন ঘটে এবং দেশের রাজনীতিতে বড় পরিবর্তন আসে।

আন্দোলনের নেতৃস্থানীয় ছাত্রদের উদ্যোগে গঠিত হয় নতুন রাজনৈতিক দল ‘জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)’। এ দলে দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন হাসনাত, আর উত্তরাঞ্চলের সংগঠক সারজিস।

তাদের বিসিএস লিখিত পরীক্ষায় অংশ নেওয়া নিয়ে জনমনে কৌতূহল থাকলেও, জুলাই আন্দোলনের সমন্বয়ক ও বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের আহ্বায়ক আবু বাকের মজুমদার নিশ্চিত করেছেন, হাসনাত ও সারজিস বিসিএস লিখিত পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন না।

আবু বাকের বলেন, “তারা এখন রাজনীতির মাধ্যমে দেশ ও জাতির বৃহত্তর স্বার্থে কাজ করার সুযোগ পেয়েছেন। তাই এই সুযোগকে কাজে লাগাতে চান। আপাতত তারা চাকরির চেয়ে দেশের কল্যাণে কাজ করাকেই প্রাধান্য দিচ্ছেন।”

পিএসসির পুনর্নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী, ৪৬তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষা শুরু হবে ২৪ জুলাই থেকে এবং চলবে ৩ আগস্ট পর্যন্ত। পদ-সংশ্লিষ্ট লিখিত পরীক্ষা শুরু হবে ১০ আগস্ট এবং শেষ হবে ২১ আগস্ট।

এই দুই তরুণের বিসিএস না দেওয়ার সিদ্ধান্ত দেশজুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, তারা রাজনৈতিক আদর্শ এবং জাতীয় দায়িত্বকে ব্যক্তিগত ক্যারিয়ারের চেয়ে অগ্রাধিকার দিয়েছেন।




সচিবালয়ে মঙ্গলবার দর্শনার্থী প্রবেশ বন্ধ, রাজনৈতিক উত্তেজনা তুঙ্গে

আগামীকাল মঙ্গলবার (২৭ মে) বাংলাদেশ সচিবালয়ে দর্শনার্থী প্রবেশ সাময়িকভাবে বন্ধ থাকবে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

সোমবার (২৬ মে) রাতে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অনিবার্য কারণে ২৭ মে সচিবালয়ে সব ধরনের দর্শনার্থীর প্রবেশ নিষিদ্ধ থাকবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সচিবালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চলমান আন্দোলনের পাশাপাশি আগামীকালই নবগঠিত রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) একটি বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দিয়েছে। এই দুটি ঘটনাকে ঘিরেই বাড়তি সতর্কতা হিসেবে দর্শনার্থী প্রবেশ বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এদিকে এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে সচিবালয়ের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে তীব্র বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি বলেন, “সচিবালয়ের কর্মকর্তারা তাদের ক্যু অব্যাহত রাখলে, তাদের পরিণতি পতিত হাসিনার মতো হবে।”

তিনি আরও লেখেন, “জনদুর্ভোগ ও ফ্যাসিবাদ দীর্ঘায়িত করার ক্যান্টনমেন্ট হিসেবে পরিচিত সচিবালয়ের ক্যু সম্পর্কে সচেতন থাকুন। পাঁচ আগস্ট পর্যন্ত কালো ব্যাজ ধারণ করে, হাসিনাকে সমর্থন দিয়ে অফিস করা কর্মকর্তারা জনগণের নজরে রয়েছেন। সুতরাং, সাবধান!”

উল্লেখ্য, সম্প্রতি সচিবালয়ে সরকারি চাকরি সংক্রান্ত বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ও আন্দোলনের কারণে উত্তেজনা বিরাজ করছে। সেই প্রেক্ষাপটেই এনসিপির ঘোষিত কর্মসূচি এবং সরকারি সতর্কতা একযোগে আলোচনায় এসেছে।




সারাদেশে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মবিরতির ঘোষণা

বিদ্যুৎ সেবা অব্যাহত রেখেই আগামী মঙ্গলবার (২৭ মে) থেকে সারাদেশে কর্মবিরতির ঘোষণা দিয়েছেন পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

সোমবার (২৬ মে) রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সাত দফা দাবিতে চলমান অবস্থান কর্মসূচির ৬ষ্ঠ দিনে এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন পল্লী বিদ্যুৎ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি প্রকৌশলী তাজুল ইসলাম।

তিনি জানান, অভিন্ন চাকরিবিধি বাস্তবায়ন, হয়রানি বন্ধ ও মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারসহ সাত দফা দাবিতে সারাদেশের ৮০টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ৪৫ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারী ২১ মে থেকে অনির্দিষ্টকালের অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির চলমান আন্দোলন একটি বৈষম্যহীন, আধুনিক ও টেকসই বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থার জন্য। অথচ বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (আরইবি) সরকারের কাছে ভুল বার্তা দিয়ে এই যৌক্তিক আন্দোলনকে ভিন্নভাবে উপস্থাপনের অপচেষ্টা করছে। বক্তারা দাবি করেন, আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী সকল কর্মী স্বেচ্ছায় এবং স্বতঃস্ফূর্তভাবে এতে যুক্ত হয়েছেন। তারা আরইবির শোষণ, বৈষম্য ও নির্যাতন থেকে মুক্তি চান। তারা স্পষ্ট করেছেন, এই আন্দোলনের সঙ্গে কোনো ব্যক্তি, সংস্থা বা বিদেশি শক্তির সংশ্লিষ্টতা নেই—এটি একান্তই আরইবির সঙ্গে বিরোধ এবং তারই সমাধানের দাবিতে এই কর্মসূচি পালিত হচ্ছে।

তারা আরও জানান, আন্দোলনের প্রথম চার দিন শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি পালন করা হলেও সরকারের কোনো সদর্থক সাড়া না পাওয়ায় ৫ম দিন থেকে আরইবির বিরুদ্ধে অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দেওয়া হয়। ৬ষ্ঠ দিনেও বিদ্যুৎ সেবা সচল রেখে কর্মসূচি চললেও এখনো পর্যন্ত সমস্যার সমাধানে সরকারের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সাত দফা দাবি:

১. আরইবি চেয়ারম্যানের অপসারণ, যিনি কর্মপরিবেশ অস্থিতিশীল করেছেন এবং দমন-পীড়ন চালাচ্ছেন।
২. আরইবি-পবিস একীভূত করে এক ও অভিন্ন চাকরিবিধি বাস্তবায়ন অথবা অন্যান্য বিতরণ সংস্থার মতো পুনর্গঠন।
৩. মিটার রিডার, লাইন শ্রমিক ও পৌষ্য কর্মীদের চাকরি স্থায়ীকরণ।
৪. মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও চাকরিচ্যুতদের পুনর্বহাল।
৫. সব হয়রানি ও শাস্তিমূলক বদলি আদেশ বাতিল এবং বরখাস্ত কর্মীদের পুনঃপদায়ন।
৬. জরুরি সেবায় কর্মরতদের জন্য আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী শিফট ডিউটি চালু এবং জনবল ঘাটতি পূরণ।
৭. পূর্ণ সংস্কারের আগ পর্যন্ত অন্তর্বর্তীকালীন বোর্ড গঠন করে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কার্যক্রম পরিচালনা।




ঈদে বুবলীর দুই চমক: ‘সর্দারবাড়ির খেলা’ ও ‘পিনিক’

আসন্ন ঈদুল আজহায় বড়পর্দায় দর্শকদের জন্য চমক নিয়ে হাজির হচ্ছেন ঢালিউডের জনপ্রিয় নায়িকা শবনম বুবলী। ঈদে মুক্তি পাচ্ছে তার অভিনীত দুটি সিনেমা—‘সর্দারবাড়ির খেলা’ ও ‘পিনিক’।

‘সর্দারবাড়ির খেলা’ একটি ভিন্নধর্মী সিনেমা। এটি পরিচালনা করেছেন রাখাল সবুজ, চিত্রনাট্য, সংলাপ ও কাহিনি লিখেছেন নাট্যকার অনন জামান। এই সিনেমায় বুবলীর বিপরীতে অভিনয় করেছেন চিত্রনায়ক জিয়াউল রোশান।

বুবলী নিজেই তার ফেসবুক পেজে সিনেমার পোস্টার শেয়ার করে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। পোস্টারে তাকে দেখা যাচ্ছে এক পোড় খাওয়া নারীর চরিত্রে—চোখে করুণতা, এলোমেলো চুল ও কপালে দুশ্চিন্তার রেখা। এমন ভিন্ন লুকে বুবলীকে দেখে ভক্তরা ইতোমধ্যেই উচ্ছ্বাস প্রকাশ করছেন। তারা আশা করছেন এই ছবিতে নতুন কিছু পাবেন।

অন্যদিকে, একই ঈদে মুক্তি পাচ্ছে বুবলীর আরেকটি ছবি ‘পিনিক’। এই সিনেমায় তাকে দেখা যাবে এক নেতিবাচক চরিত্রে। তার বিপরীতে অভিনয় করছেন আদর আজাদ। ‘পিনিক’-এ বুবলীর এমন চরিত্রের রূপান্তর দর্শকদের জন্য হতে পারে বড় চমক।

ঈদকে ঘিরে শুধু বুবলীর ছবি নয়, প্রেক্ষাগৃহে আসছে আরও বেশ কিছু আকর্ষণীয় সিনেমা। এর মধ্যে রয়েছে শাকিব খান, জয়া আহসান ও সাবিলা নূরের ‘তাণ্ডব’, আরিফিন শুভর ‘নীলচক্র’, শরীফুল রাজ ও মোশাররফ করিমের ‘ইনসাফ’, আজমেরী হক বাঁধনের ‘এশা মার্ডার’ এবং তারকাবহুল ছবি ‘উৎসব’।

এছাড়া অভিনেতা ইরফান সাজ্জাদ আসছেন নতুন ছবি ‘আলী’ নিয়ে। পোস্টারে দেখা যাচ্ছে, মুখে ক্ষত ও চোখে আগুন ঝরানো এক চরিত্রে তিনি হাজির হয়েছেন। নির্মাতা বিপ্লব হায়দারের পরিচালনায় এই ছবিটি ঈদে মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে।

চলচ্চিত্রপ্রেমীরা তাই এই ঈদে পাবেন নানা স্বাদের ছবির ভিন্ন এক অভিজ্ঞতা, যেখানে শবনম বুবলীর দুটি ভিন্নধর্মী চরিত্র নিঃসন্দেহে থাকবে আলোচনার কেন্দ্রে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




মরুভূমিতে উটকে সন্তান মেনে একাকী জীবন কাটাচ্ছেন রুকিয়া

সৌদি আরবের উত্তর সীমান্তের তপ্ত মরুভূমিতে উটের দল নিয়ে একাকী, নির্ভীক ও আত্মমর্যাদাশীল জীবন কাটাচ্ছেন এক নারী – রুকিয়া আল-রুওয়াইলি। শহুরে জীবনের আরাম-আয়েশ নয়, মরুভূমির নিঃসঙ্গতা আর উটের সঙ্গেই গড়ে তুলেছেন নিজের সংসার।

প্রায় ৭০ বছর বয়সী এই বিধবা নারী তার মৃত স্বামীর রেখে যাওয়া উটগুলোকেই পরিবার ও সন্তান মনে করে আগলে রেখেছেন দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে। স্বামীর সঙ্গে মরুভূমিতে পার করেছেন ২০টি বছর। তার মৃত্যুর পর আর শহরমুখো হননি।

রুকিয়া বলেন, “আমার কোনো সন্তান নেই। উটগুলোই এখন আমার সন্তান, আমার পরিবার। তারা আমার কণ্ঠ শুনেই দৌড়ে আসে। আমি তাদের ভাষা বুঝি, তারাও আমাকে বুঝে। এই টান রক্তের চেয়েও গাঢ়।”

শুধু উটের যত্ন নেওয়াই নয়, প্রতিদিন নিজেই পিকআপ ট্রাক চালিয়ে মরুভূমিতে যান, তাদের খাদ্য-পানির ব্যবস্থা করেন। আধুনিক প্রযুক্তির প্রতি তার কোনো আগ্রহ নেই, বরং নিজেকে খুঁজে পান এই নিস্তব্ধ প্রাকৃতিক পরিবেশে।

তিনি বলেন, “আমার স্বামীর সঙ্গে এই মরুভূমিতেই জীবনের শ্রেষ্ঠ সময় কেটেছে। শহরের কোলাহলে তার স্মৃতিগুলো হারিয়ে যাবে। তাই এখানেই থেকে গেছি। উট আর মরুভূমিই আমার ঘর।”

রুকিয়া আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেন, এমন একটি উট যেন তার হয় যেটি বিক্রি করে ৮০ লাখ টাকা পাওয়া যায়। বলেন, “আমি কিং আবদুল আজিজ উট উৎসবের কথা শুনেছি। সেখানে উট বিক্রি হয় লাখ লাখ টাকায়। আমি চাই, এমন একটি উট যেন আমার হয়।”

তবে তার বড় চাহিদা একটি নিজস্ব পানির ট্যাঙ্কার। মরুভূমিতে পানি সংকট ভয়াবহ। বর্তমানে একজন প্রতিবেশী দয়া করে তার পানির চাহিদা মেটান। রুকিয়া বলেন, “যদি কেউ আমাকে একটি পানি ট্যাঙ্কার উপহার দেয়, আমি তার জন্য আজীবন দোয়া করব।”

“মরুভূমির জীবন অর্ধেক হতাশা, অর্ধেক আশা”—এভাবেই নিজের জীবনকে ব্যাখ্যা করলেন রুকিয়া। তার এই অনন্য গল্প এখন সৌদির নানা প্রান্তে আলোড়ন তুলেছে। যেখানে সমাজে বয়স্কদের দূরে সরিয়ে দেওয়া হয়, সেখানে রুকিয়া হয়ে উঠেছেন বিশ্বাস, ধৈর্য ও আত্মনির্ভরতার প্রতীক


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




ঈদে পর্দা কাঁপাতে আসছে ‘১০০% দেশী’, নাচে মাতালেন আদর-পূজা

এই ঈদুল আজহায় মুক্তির অপেক্ষায় থাকা সিনেমা ‘টগর’-এর প্রথম গান ‘১০০% দেশী’ ইতোমধ্যেই অনলাইন ও সামাজিক মাধ্যমে দারুণ সাড়া ফেলেছে। গানটিতে জমকালো নাচ, রঙিন লোকেশন এবং প্রাণবন্ত কোরিওগ্রাফি দিয়ে মন জয় করেছেন চিত্রনায়ক আদর আজাদ ও চিত্রনায়িকা পূজা চেরী

‘১০০% দেশী’ গানটি লিখেছেন রণক ইকরাম, আর কণ্ঠ দিয়েছেন কামরুজ্জামান রাব্বি ও কর্ণিয়া। দেশীয় সুর ও উৎসবমুখর মেজাজে নির্মিত গানটির কোরিওগ্রাফি করেছেন হাবিব রহমান।

চিত্রায়ণে অংশ নিয়েছেন ৭০ জনেরও বেশি পেশাদার নৃত্যশিল্পী। ভিন্ন ভিন্ন লোকেশনে ধারণ করা এই গানে রঙ, মিউজিক ও মুভমেন্টে এসেছে ঝলমলে বৈচিত্র্য।

নায়ক আদর আজাদ বলেন, “এমন এনার্জি-ভরা গানে পারফর্ম করা দারুণ অভিজ্ঞতা। পুরো টিম কাজ করেছে এক হয়ে, ফলে আমরা দারুণ একটি ভিজ্যুয়াল দিতে পেরেছি।”

নায়িকা পূজা চেরী বলেন, “‘১০০% দেশী’ গানটি আমার ক্যারিয়ারের অন্যতম রঙিন কাজ। শুটিংয়ে অনেক আনন্দ করেছি, দর্শকরাও সেই আনন্দ ঠিকই টের পাবেন।”

‘টগর’ সিনেমাটি পরিচালনা করেছেন আলোক হাসান, প্রযোজনা ও পরিবেশনায় রয়েছে এআর মুভি নেটওয়ার্ক। ছবির অন্যান্য গান ও কনটেন্ট নিয়েও ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে দর্শকের আগ্রহ।

ঈদের বড়পর্দায় ‘টগর’ নিয়ে আশাবাদী নির্মাতা ও কলাকুশলীরা।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /