হাসনাত-সার্জিস রাজনীতিতেই থাকবে, সরকারি চাকরিতে নয়

৪৬তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেও লিখিত পরীক্ষায় অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই সাবেক শিক্ষার্থী হাসনাত আব্দুল্লাহ ও সারজিস আলম। দীর্ঘদিন ধরে বিসিএস ক্যাডার হওয়ার স্বপ্ন দেখে আসা এই দুই তরুণ বর্তমানে রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে উঠেছেন।
২০২৪ সালের ২৬ এপ্রিল অনুষ্ঠিত ৪৬তম বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় সফলভাবে উত্তীর্ণ হন হাসনাত (ইংরেজি বিভাগ) ও সারজিস (প্রাণিবিদ্যা বিভাগ)। তবে পরীক্ষার পরই সরকারি চাকরিতে কোটা ব্যবস্থা পুনর্বহালের খবরে তারা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান এবং কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনে জড়িয়ে পড়েন। গত বছরের জুনের শেষ দিকে শুরু হওয়া আন্দোলনে তারা ছিলেন কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে।
এই আন্দোলনের বিরুদ্ধে দমন-পীড়ন এবং সহিংসতার ঘটনাপ্রবাহ রূপ নেয় গণআন্দোলনে। ছাত্রদের সঙ্গে একাত্ম হয়ে দেশের সাধারণ মানুষও মাঠে নামে, যার ফলে শেখ হাসিনা নেতৃত্বাধীন সরকারের পতন ঘটে এবং দেশের রাজনীতিতে বড় পরিবর্তন আসে।
আন্দোলনের নেতৃস্থানীয় ছাত্রদের উদ্যোগে গঠিত হয় নতুন রাজনৈতিক দল ‘জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)’। এ দলে দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন হাসনাত, আর উত্তরাঞ্চলের সংগঠক সারজিস।
তাদের বিসিএস লিখিত পরীক্ষায় অংশ নেওয়া নিয়ে জনমনে কৌতূহল থাকলেও, জুলাই আন্দোলনের সমন্বয়ক ও বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের আহ্বায়ক আবু বাকের মজুমদার নিশ্চিত করেছেন, হাসনাত ও সারজিস বিসিএস লিখিত পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন না।
আবু বাকের বলেন, “তারা এখন রাজনীতির মাধ্যমে দেশ ও জাতির বৃহত্তর স্বার্থে কাজ করার সুযোগ পেয়েছেন। তাই এই সুযোগকে কাজে লাগাতে চান। আপাতত তারা চাকরির চেয়ে দেশের কল্যাণে কাজ করাকেই প্রাধান্য দিচ্ছেন।”
পিএসসির পুনর্নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী, ৪৬তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষা শুরু হবে ২৪ জুলাই থেকে এবং চলবে ৩ আগস্ট পর্যন্ত। পদ-সংশ্লিষ্ট লিখিত পরীক্ষা শুরু হবে ১০ আগস্ট এবং শেষ হবে ২১ আগস্ট।
এই দুই তরুণের বিসিএস না দেওয়ার সিদ্ধান্ত দেশজুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, তারা রাজনৈতিক আদর্শ এবং জাতীয় দায়িত্বকে ব্যক্তিগত ক্যারিয়ারের চেয়ে অগ্রাধিকার দিয়েছেন।








