হাসনাত-সার্জিস রাজনীতিতেই থাকবে, সরকারি চাকরিতে নয়

৪৬তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেও লিখিত পরীক্ষায় অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই সাবেক শিক্ষার্থী হাসনাত আব্দুল্লাহ ও সারজিস আলম। দীর্ঘদিন ধরে বিসিএস ক্যাডার হওয়ার স্বপ্ন দেখে আসা এই দুই তরুণ বর্তমানে রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে উঠেছেন।

২০২৪ সালের ২৬ এপ্রিল অনুষ্ঠিত ৪৬তম বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় সফলভাবে উত্তীর্ণ হন হাসনাত (ইংরেজি বিভাগ) ও সারজিস (প্রাণিবিদ্যা বিভাগ)। তবে পরীক্ষার পরই সরকারি চাকরিতে কোটা ব্যবস্থা পুনর্বহালের খবরে তারা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান এবং কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনে জড়িয়ে পড়েন। গত বছরের জুনের শেষ দিকে শুরু হওয়া আন্দোলনে তারা ছিলেন কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে।

এই আন্দোলনের বিরুদ্ধে দমন-পীড়ন এবং সহিংসতার ঘটনাপ্রবাহ রূপ নেয় গণআন্দোলনে। ছাত্রদের সঙ্গে একাত্ম হয়ে দেশের সাধারণ মানুষও মাঠে নামে, যার ফলে শেখ হাসিনা নেতৃত্বাধীন সরকারের পতন ঘটে এবং দেশের রাজনীতিতে বড় পরিবর্তন আসে।

আন্দোলনের নেতৃস্থানীয় ছাত্রদের উদ্যোগে গঠিত হয় নতুন রাজনৈতিক দল ‘জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)’। এ দলে দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন হাসনাত, আর উত্তরাঞ্চলের সংগঠক সারজিস।

তাদের বিসিএস লিখিত পরীক্ষায় অংশ নেওয়া নিয়ে জনমনে কৌতূহল থাকলেও, জুলাই আন্দোলনের সমন্বয়ক ও বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের আহ্বায়ক আবু বাকের মজুমদার নিশ্চিত করেছেন, হাসনাত ও সারজিস বিসিএস লিখিত পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন না।

আবু বাকের বলেন, “তারা এখন রাজনীতির মাধ্যমে দেশ ও জাতির বৃহত্তর স্বার্থে কাজ করার সুযোগ পেয়েছেন। তাই এই সুযোগকে কাজে লাগাতে চান। আপাতত তারা চাকরির চেয়ে দেশের কল্যাণে কাজ করাকেই প্রাধান্য দিচ্ছেন।”

পিএসসির পুনর্নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী, ৪৬তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষা শুরু হবে ২৪ জুলাই থেকে এবং চলবে ৩ আগস্ট পর্যন্ত। পদ-সংশ্লিষ্ট লিখিত পরীক্ষা শুরু হবে ১০ আগস্ট এবং শেষ হবে ২১ আগস্ট।

এই দুই তরুণের বিসিএস না দেওয়ার সিদ্ধান্ত দেশজুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, তারা রাজনৈতিক আদর্শ এবং জাতীয় দায়িত্বকে ব্যক্তিগত ক্যারিয়ারের চেয়ে অগ্রাধিকার দিয়েছেন।




সচিবালয়ে মঙ্গলবার দর্শনার্থী প্রবেশ বন্ধ, রাজনৈতিক উত্তেজনা তুঙ্গে

আগামীকাল মঙ্গলবার (২৭ মে) বাংলাদেশ সচিবালয়ে দর্শনার্থী প্রবেশ সাময়িকভাবে বন্ধ থাকবে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

সোমবার (২৬ মে) রাতে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অনিবার্য কারণে ২৭ মে সচিবালয়ে সব ধরনের দর্শনার্থীর প্রবেশ নিষিদ্ধ থাকবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সচিবালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চলমান আন্দোলনের পাশাপাশি আগামীকালই নবগঠিত রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) একটি বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দিয়েছে। এই দুটি ঘটনাকে ঘিরেই বাড়তি সতর্কতা হিসেবে দর্শনার্থী প্রবেশ বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এদিকে এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে সচিবালয়ের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে তীব্র বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি বলেন, “সচিবালয়ের কর্মকর্তারা তাদের ক্যু অব্যাহত রাখলে, তাদের পরিণতি পতিত হাসিনার মতো হবে।”

তিনি আরও লেখেন, “জনদুর্ভোগ ও ফ্যাসিবাদ দীর্ঘায়িত করার ক্যান্টনমেন্ট হিসেবে পরিচিত সচিবালয়ের ক্যু সম্পর্কে সচেতন থাকুন। পাঁচ আগস্ট পর্যন্ত কালো ব্যাজ ধারণ করে, হাসিনাকে সমর্থন দিয়ে অফিস করা কর্মকর্তারা জনগণের নজরে রয়েছেন। সুতরাং, সাবধান!”

উল্লেখ্য, সম্প্রতি সচিবালয়ে সরকারি চাকরি সংক্রান্ত বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ও আন্দোলনের কারণে উত্তেজনা বিরাজ করছে। সেই প্রেক্ষাপটেই এনসিপির ঘোষিত কর্মসূচি এবং সরকারি সতর্কতা একযোগে আলোচনায় এসেছে।




সারাদেশে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মবিরতির ঘোষণা

বিদ্যুৎ সেবা অব্যাহত রেখেই আগামী মঙ্গলবার (২৭ মে) থেকে সারাদেশে কর্মবিরতির ঘোষণা দিয়েছেন পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

সোমবার (২৬ মে) রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সাত দফা দাবিতে চলমান অবস্থান কর্মসূচির ৬ষ্ঠ দিনে এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন পল্লী বিদ্যুৎ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি প্রকৌশলী তাজুল ইসলাম।

তিনি জানান, অভিন্ন চাকরিবিধি বাস্তবায়ন, হয়রানি বন্ধ ও মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারসহ সাত দফা দাবিতে সারাদেশের ৮০টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ৪৫ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারী ২১ মে থেকে অনির্দিষ্টকালের অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির চলমান আন্দোলন একটি বৈষম্যহীন, আধুনিক ও টেকসই বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থার জন্য। অথচ বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (আরইবি) সরকারের কাছে ভুল বার্তা দিয়ে এই যৌক্তিক আন্দোলনকে ভিন্নভাবে উপস্থাপনের অপচেষ্টা করছে। বক্তারা দাবি করেন, আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী সকল কর্মী স্বেচ্ছায় এবং স্বতঃস্ফূর্তভাবে এতে যুক্ত হয়েছেন। তারা আরইবির শোষণ, বৈষম্য ও নির্যাতন থেকে মুক্তি চান। তারা স্পষ্ট করেছেন, এই আন্দোলনের সঙ্গে কোনো ব্যক্তি, সংস্থা বা বিদেশি শক্তির সংশ্লিষ্টতা নেই—এটি একান্তই আরইবির সঙ্গে বিরোধ এবং তারই সমাধানের দাবিতে এই কর্মসূচি পালিত হচ্ছে।

তারা আরও জানান, আন্দোলনের প্রথম চার দিন শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি পালন করা হলেও সরকারের কোনো সদর্থক সাড়া না পাওয়ায় ৫ম দিন থেকে আরইবির বিরুদ্ধে অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দেওয়া হয়। ৬ষ্ঠ দিনেও বিদ্যুৎ সেবা সচল রেখে কর্মসূচি চললেও এখনো পর্যন্ত সমস্যার সমাধানে সরকারের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সাত দফা দাবি:

১. আরইবি চেয়ারম্যানের অপসারণ, যিনি কর্মপরিবেশ অস্থিতিশীল করেছেন এবং দমন-পীড়ন চালাচ্ছেন।
২. আরইবি-পবিস একীভূত করে এক ও অভিন্ন চাকরিবিধি বাস্তবায়ন অথবা অন্যান্য বিতরণ সংস্থার মতো পুনর্গঠন।
৩. মিটার রিডার, লাইন শ্রমিক ও পৌষ্য কর্মীদের চাকরি স্থায়ীকরণ।
৪. মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও চাকরিচ্যুতদের পুনর্বহাল।
৫. সব হয়রানি ও শাস্তিমূলক বদলি আদেশ বাতিল এবং বরখাস্ত কর্মীদের পুনঃপদায়ন।
৬. জরুরি সেবায় কর্মরতদের জন্য আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী শিফট ডিউটি চালু এবং জনবল ঘাটতি পূরণ।
৭. পূর্ণ সংস্কারের আগ পর্যন্ত অন্তর্বর্তীকালীন বোর্ড গঠন করে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কার্যক্রম পরিচালনা।




ঈদে বুবলীর দুই চমক: ‘সর্দারবাড়ির খেলা’ ও ‘পিনিক’

আসন্ন ঈদুল আজহায় বড়পর্দায় দর্শকদের জন্য চমক নিয়ে হাজির হচ্ছেন ঢালিউডের জনপ্রিয় নায়িকা শবনম বুবলী। ঈদে মুক্তি পাচ্ছে তার অভিনীত দুটি সিনেমা—‘সর্দারবাড়ির খেলা’ ও ‘পিনিক’।

‘সর্দারবাড়ির খেলা’ একটি ভিন্নধর্মী সিনেমা। এটি পরিচালনা করেছেন রাখাল সবুজ, চিত্রনাট্য, সংলাপ ও কাহিনি লিখেছেন নাট্যকার অনন জামান। এই সিনেমায় বুবলীর বিপরীতে অভিনয় করেছেন চিত্রনায়ক জিয়াউল রোশান।

বুবলী নিজেই তার ফেসবুক পেজে সিনেমার পোস্টার শেয়ার করে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। পোস্টারে তাকে দেখা যাচ্ছে এক পোড় খাওয়া নারীর চরিত্রে—চোখে করুণতা, এলোমেলো চুল ও কপালে দুশ্চিন্তার রেখা। এমন ভিন্ন লুকে বুবলীকে দেখে ভক্তরা ইতোমধ্যেই উচ্ছ্বাস প্রকাশ করছেন। তারা আশা করছেন এই ছবিতে নতুন কিছু পাবেন।

অন্যদিকে, একই ঈদে মুক্তি পাচ্ছে বুবলীর আরেকটি ছবি ‘পিনিক’। এই সিনেমায় তাকে দেখা যাবে এক নেতিবাচক চরিত্রে। তার বিপরীতে অভিনয় করছেন আদর আজাদ। ‘পিনিক’-এ বুবলীর এমন চরিত্রের রূপান্তর দর্শকদের জন্য হতে পারে বড় চমক।

ঈদকে ঘিরে শুধু বুবলীর ছবি নয়, প্রেক্ষাগৃহে আসছে আরও বেশ কিছু আকর্ষণীয় সিনেমা। এর মধ্যে রয়েছে শাকিব খান, জয়া আহসান ও সাবিলা নূরের ‘তাণ্ডব’, আরিফিন শুভর ‘নীলচক্র’, শরীফুল রাজ ও মোশাররফ করিমের ‘ইনসাফ’, আজমেরী হক বাঁধনের ‘এশা মার্ডার’ এবং তারকাবহুল ছবি ‘উৎসব’।

এছাড়া অভিনেতা ইরফান সাজ্জাদ আসছেন নতুন ছবি ‘আলী’ নিয়ে। পোস্টারে দেখা যাচ্ছে, মুখে ক্ষত ও চোখে আগুন ঝরানো এক চরিত্রে তিনি হাজির হয়েছেন। নির্মাতা বিপ্লব হায়দারের পরিচালনায় এই ছবিটি ঈদে মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে।

চলচ্চিত্রপ্রেমীরা তাই এই ঈদে পাবেন নানা স্বাদের ছবির ভিন্ন এক অভিজ্ঞতা, যেখানে শবনম বুবলীর দুটি ভিন্নধর্মী চরিত্র নিঃসন্দেহে থাকবে আলোচনার কেন্দ্রে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




মরুভূমিতে উটকে সন্তান মেনে একাকী জীবন কাটাচ্ছেন রুকিয়া

সৌদি আরবের উত্তর সীমান্তের তপ্ত মরুভূমিতে উটের দল নিয়ে একাকী, নির্ভীক ও আত্মমর্যাদাশীল জীবন কাটাচ্ছেন এক নারী – রুকিয়া আল-রুওয়াইলি। শহুরে জীবনের আরাম-আয়েশ নয়, মরুভূমির নিঃসঙ্গতা আর উটের সঙ্গেই গড়ে তুলেছেন নিজের সংসার।

প্রায় ৭০ বছর বয়সী এই বিধবা নারী তার মৃত স্বামীর রেখে যাওয়া উটগুলোকেই পরিবার ও সন্তান মনে করে আগলে রেখেছেন দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে। স্বামীর সঙ্গে মরুভূমিতে পার করেছেন ২০টি বছর। তার মৃত্যুর পর আর শহরমুখো হননি।

রুকিয়া বলেন, “আমার কোনো সন্তান নেই। উটগুলোই এখন আমার সন্তান, আমার পরিবার। তারা আমার কণ্ঠ শুনেই দৌড়ে আসে। আমি তাদের ভাষা বুঝি, তারাও আমাকে বুঝে। এই টান রক্তের চেয়েও গাঢ়।”

শুধু উটের যত্ন নেওয়াই নয়, প্রতিদিন নিজেই পিকআপ ট্রাক চালিয়ে মরুভূমিতে যান, তাদের খাদ্য-পানির ব্যবস্থা করেন। আধুনিক প্রযুক্তির প্রতি তার কোনো আগ্রহ নেই, বরং নিজেকে খুঁজে পান এই নিস্তব্ধ প্রাকৃতিক পরিবেশে।

তিনি বলেন, “আমার স্বামীর সঙ্গে এই মরুভূমিতেই জীবনের শ্রেষ্ঠ সময় কেটেছে। শহরের কোলাহলে তার স্মৃতিগুলো হারিয়ে যাবে। তাই এখানেই থেকে গেছি। উট আর মরুভূমিই আমার ঘর।”

রুকিয়া আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেন, এমন একটি উট যেন তার হয় যেটি বিক্রি করে ৮০ লাখ টাকা পাওয়া যায়। বলেন, “আমি কিং আবদুল আজিজ উট উৎসবের কথা শুনেছি। সেখানে উট বিক্রি হয় লাখ লাখ টাকায়। আমি চাই, এমন একটি উট যেন আমার হয়।”

তবে তার বড় চাহিদা একটি নিজস্ব পানির ট্যাঙ্কার। মরুভূমিতে পানি সংকট ভয়াবহ। বর্তমানে একজন প্রতিবেশী দয়া করে তার পানির চাহিদা মেটান। রুকিয়া বলেন, “যদি কেউ আমাকে একটি পানি ট্যাঙ্কার উপহার দেয়, আমি তার জন্য আজীবন দোয়া করব।”

“মরুভূমির জীবন অর্ধেক হতাশা, অর্ধেক আশা”—এভাবেই নিজের জীবনকে ব্যাখ্যা করলেন রুকিয়া। তার এই অনন্য গল্প এখন সৌদির নানা প্রান্তে আলোড়ন তুলেছে। যেখানে সমাজে বয়স্কদের দূরে সরিয়ে দেওয়া হয়, সেখানে রুকিয়া হয়ে উঠেছেন বিশ্বাস, ধৈর্য ও আত্মনির্ভরতার প্রতীক


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




ঈদে পর্দা কাঁপাতে আসছে ‘১০০% দেশী’, নাচে মাতালেন আদর-পূজা

এই ঈদুল আজহায় মুক্তির অপেক্ষায় থাকা সিনেমা ‘টগর’-এর প্রথম গান ‘১০০% দেশী’ ইতোমধ্যেই অনলাইন ও সামাজিক মাধ্যমে দারুণ সাড়া ফেলেছে। গানটিতে জমকালো নাচ, রঙিন লোকেশন এবং প্রাণবন্ত কোরিওগ্রাফি দিয়ে মন জয় করেছেন চিত্রনায়ক আদর আজাদ ও চিত্রনায়িকা পূজা চেরী

‘১০০% দেশী’ গানটি লিখেছেন রণক ইকরাম, আর কণ্ঠ দিয়েছেন কামরুজ্জামান রাব্বি ও কর্ণিয়া। দেশীয় সুর ও উৎসবমুখর মেজাজে নির্মিত গানটির কোরিওগ্রাফি করেছেন হাবিব রহমান।

চিত্রায়ণে অংশ নিয়েছেন ৭০ জনেরও বেশি পেশাদার নৃত্যশিল্পী। ভিন্ন ভিন্ন লোকেশনে ধারণ করা এই গানে রঙ, মিউজিক ও মুভমেন্টে এসেছে ঝলমলে বৈচিত্র্য।

নায়ক আদর আজাদ বলেন, “এমন এনার্জি-ভরা গানে পারফর্ম করা দারুণ অভিজ্ঞতা। পুরো টিম কাজ করেছে এক হয়ে, ফলে আমরা দারুণ একটি ভিজ্যুয়াল দিতে পেরেছি।”

নায়িকা পূজা চেরী বলেন, “‘১০০% দেশী’ গানটি আমার ক্যারিয়ারের অন্যতম রঙিন কাজ। শুটিংয়ে অনেক আনন্দ করেছি, দর্শকরাও সেই আনন্দ ঠিকই টের পাবেন।”

‘টগর’ সিনেমাটি পরিচালনা করেছেন আলোক হাসান, প্রযোজনা ও পরিবেশনায় রয়েছে এআর মুভি নেটওয়ার্ক। ছবির অন্যান্য গান ও কনটেন্ট নিয়েও ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে দর্শকের আগ্রহ।

ঈদের বড়পর্দায় ‘টগর’ নিয়ে আশাবাদী নির্মাতা ও কলাকুশলীরা।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




নয় দফা দাবিতে বরিশাল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে শিক্ষার্থীদের লাগাতার আন্দোলন

বরিশাল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে টানা তৃতীয় দিনের মতো চলছে সাধারণ শিক্ষার্থীদের আন্দোলন। নয় দফা দাবিতে তারা ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জন করে কলেজের প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান, বিক্ষোভ মিছিল ও পথনাটকের আয়োজন করেছে।

সোমবার (২৬ মে) বেলা ১১টার দিকে শিক্ষার্থীরা “শিক্ষার অধিকার, লড়াই করে নিতে হবে” স্লোগানে মুখর করে তোলে ক্যাম্পাস। তারা প্রতীকীভাবে কম্বাইন্ড পরীক্ষা পদ্ধতির কুশপুত্তলিকা দাহ করে এবং মানসিক চাপের প্রতিবাদে পথনাটক পরিবেশন করে।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানান, তাদের দাবি হলো—কম্বাইন্ড পরীক্ষা পদ্ধতি বাতিল, অ্যাকাডেমিক স্বতন্ত্রতা প্রতিষ্ঠা, নিজস্ব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের দিয়ে প্রশ্নপত্র তৈরি, সময়মতো ফলাফল প্রকাশ, পর্যাপ্ত ক্লাসরুম ও ল্যাব সুবিধা, ছাত্রাবাস উন্নয়ন, মানসম্পন্ন শিক্ষা পরিবেশ, স্বাস্থ্য সুরক্ষা সুবিধা এবং প্রশাসনিক জবাবদিহিতা।

এই নয় দফা দাবিতে তাঁরা কলেজের “অ্যাকাডেমিক শাটডাউন” ঘোষণা করেছেন। এ বিষয়ে কলেজের অধ্যক্ষ প্রকৌশলী মো. লিটন রাব্বানী বলেন, “শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো যৌক্তিক। তবে বরিশাল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত হওয়ায় আমাদের অনেক সীমাবদ্ধতা রয়েছে। এককভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব নয়।”

তিনি আরও জানান, বর্তমানে কলেজের দুটি বিভাগে ৫১৫ জন শিক্ষার্থী রয়েছে এবং চলমান আন্দোলনে কলেজ কার্যত অচল হয়ে পড়েছে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /


 




সরকার ও সেনাবাহিনী সমন্বয়ে কাজ করছে: সেনা সদর

সরকার ও সেনাবাহিনী একযোগে এবং সমন্বিতভাবে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন সেনাবাহিনীর মিলিটারি অপারেশন্স বিভাগের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. নাজিম-উল-দৌলা। সোমবার (২৬ মে) দুপুরে সেনানিবাসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান।

সংবেদনশীল করিডর ইস্যু
প্রশাসন ও সেনাবাহিনীর মধ্যে করিডর বিষয়ে কোনো মতপার্থক্য নেই উল্লেখ করে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নাজিম-উল-দৌলা বলেন, এটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর বিষয়। তিনি জানান, করিডর ও বর্ডারে আরসা (ARSA)-র মুভমেন্ট সম্পূর্ণ আলাদা ইস্যু এবং একে অন্যের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলা উচিত নয়।

তিনি বলেন, “সরকার ও সেনাবাহিনী পরস্পরের সহযোগিতায় দায়িত্ব পালন করছে এবং এটি ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। আমরা সরকারের নির্দেশেই কাজ করি এবং দেশের স্বার্থেই একযোগে কাজ চলছে।”

কেএনএফ ও বিপুল পরিমাণ ইউনিফর্ম উদ্ধার
সাম্প্রতিক সময়ে চট্টগ্রামের একটি কারখানায় ৩০ হাজার ইউনিফর্ম উদ্ধার এবং তা কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্ট (কেএনএফ)-এর সঙ্গে সম্পৃক্ত কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নাজিম বলেন, কেএনএফ একটি বম-ভিত্তিক সংগঠন, যারা পার্বত্য চট্টগ্রামে অস্ত্র ব্যবহার করছে এবং এর আক্রমণে সেনাবাহিনীর সদস্যরা হতাহত হয়েছেন। উদ্ধারকৃত ইউনিফর্মের বিষয়টি গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

তিনি বলেন, “বম সম্প্রদায়ের জনসংখ্যা মাত্র ১২ হাজার, তাই ৩০ হাজার ইউনিফর্ম কার জন্য তৈরি হয়েছিল, তা অনুসন্ধান করা হচ্ছে। এটি দেশের নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এবং হালকাভাবে নেওয়া হচ্ছে না।”

বর্ডার নিরাপত্তা ও মিয়ানমার পরিস্থিতি
বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নাজিম জানান, সীমান্ত পরিস্থিতি অত্যন্ত সংবেদনশীল। মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় কাঠামো প্রায় বিলীন এবং রাখাইন রাজ্যের ৮৫-৯০ শতাংশ এলাকা আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, যারা একটি অস্বীকৃত সশস্ত্র গোষ্ঠী।

তিনি বলেন, “সীমান্তে কিছু সশস্ত্র গোষ্ঠীর চলাচল স্বাভাবিক, তবে তা মানে এই নয় যে আমরা তাদের কার্যক্রম মেনে নিচ্ছি। বিজিবি ও সেনাবাহিনী যৌথভাবে সীমান্তে কঠোর নজরদারি চালাচ্ছে এবং সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় রাখা হয়েছে।”

আরসা ও ছায়া যুদ্ধের শঙ্কা
সাম্প্রতিক সময়ে আরসা সদস্যদের ভারী অস্ত্রসহ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ঢুকে অপারেশন চালানোর খবরের পরিপ্রেক্ষিতে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নে তিনি বলেন, “আমরা কোনোভাবেই সীমান্ত কম্প্রোমাইজ করিনি এবং করব না। দেশের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় আমাদের শক্তি শেষ বিন্দু পর্যন্ত প্রয়োগ করব।”

তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশ একটি ছায়া যুদ্ধের মুখে রয়েছে—এমন আশঙ্কা বাস্তবতা থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন নয়, তবে রাষ্ট্রীয় প্রতিরক্ষা বাহিনী এর জন্য প্রস্তুত রয়েছে।




ক্ষমতা ছাড়ার অঙ্গীকার ড. ইউনূসের, ৩০ জুনের পর এক ঘণ্টাও নয়

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক জানিয়েছেন, প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস আশ্বাস দিয়েছেন যে, সকলের সহযোগিতায় তিনি দেশ ও জাতিকে একটি সঠিক গন্তব্যে পৌঁছে দিয়ে দায়িত্ব শেষ করবেন এবং একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন করবেন যা দেশের জনগণ ও আন্তর্জাতিক মহলে গ্রহণযোগ্য হবে।

রোববার (২৫ মে) রাতে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা জানান। মামুনুল হক বলেন, ড. ইউনূস দৃঢ়ভাবে জানিয়েছেন, ২০২৬ সালের ৩০ জুনের পর তিনি এক ঘণ্টাও ক্ষমতায় থাকবেন না এবং তার আগেই নির্বাচন সম্পন্ন করবেন।

তিনি জানান, বৈঠকে তিনটি বিষয় গুরুত্ব সহকারে তুলে ধরা হয়। প্রথমত, সরকারের পক্ষ থেকে কাঙ্ক্ষিত কোনো সংস্কারের লক্ষণ এখনো দেখা যায়নি, যা অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত দেয়। এজন্য তারা সুস্পষ্টভাবে জানতে চেয়েছেন, কী কী সংস্কার হচ্ছে।

দ্বিতীয়ত, শাপলা চত্বর থেকে শুরু করে জুলাই বিপ্লব পর্যন্ত সংঘটিত সব হত্যাকাণ্ডের বিচার নিয়ে প্রশ্ন তোলেন মামুনুল হক। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ সংশ্লিষ্টদের বিচার কার্যক্রম দৃশ্যমান অগ্রগতি নিয়ে প্রধান উপদেষ্টা আশ্বস্ত করেছেন এবং শিগগিরই সুসংবাদ আসবে।

তৃতীয়ত, করিডরের বিষয়ে ড. ইউনূস স্পষ্ট করে বলেছেন, তার মাধ্যমে কোনো দেশবিরোধী কার্যক্রম পরিচালিত হবে না এবং এ ধরনের কোনো পদক্ষেপ নিলে তা সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা করেই নেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে যে অনৈক্য তৈরি হয়েছে তা দূর করতে প্রধান উপদেষ্টা যেন দলগুলোর সঙ্গে ঘনঘন আলোচনা করেন—এ দাবি তিনি গ্রহণ করেছেন। শাপলা চত্বরের গণহত্যা নিয়ে তারা দুই মাসের আল্টিমেটাম দিয়েছেন এবং এ বিষয়ে নিজ দায়িত্বে সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা।

নারী সংস্কার কমিশন নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে মামুনুল হক বলেন, বিতর্কিত কোনো ইসলামী আইন কার্যকর করা হবে না—এই বিষয়ে তারা আশ্বস্ত হয়েছেন।

সবশেষে তিনি জানান, নির্বাচন যেন একটি নির্দিষ্ট সময়ে হয় এবং জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি না ছড়ায়, সে লক্ষ্যে জুনের মধ্যেই নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা।




সারজিস আলমকে ক্ষমা চাইতে লিগ্যাল নোটিশ

হাইকোর্ট সম্পর্কে বিতর্কিত মন্তব্য করায় এনসিপি নেতা সারজিস আলমকে লিখিতভাবে ও সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে একটি লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

শনিবার (২৪ মে) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. জসিম উদ্দিন এই নোটিশ পাঠান। এবং এটি অমান্য করলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জনান।

গত ২২ মে, হাইকোর্ট বিএনপির নেতা ইশরাক হোসেনকে ঢাকার মেয়র হিসেবে শপথ না পড়ানোর নির্দেশনা চেয়ে করা রিট খারিজ করে দেয়। এর পর সারজিস আলম তার ফেসবুকে লেখেন, “মব তৈরি করে যদি হাইকোর্টের রায় নেওয়া যায় তাহলে এই হাইকোর্টের দরকার কি?”

এই মন্তব্যের প্রেক্ষিতে পাঠানো নোটিশে বলা হয়েছে, সারজিস আলমকে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলের কাছে লিখিতভাবে ক্ষমা চাইতে হবে এবং নোটিশ পাওয়ার দুই ঘণ্টার মধ্যে সংবাদ সম্মেলন করে প্রকাশ্যে দুঃখ প্রকাশ করতে হবে। অন্যথায় তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান আইনজীবী।