পটুয়াখালীতে মেছো বিড়াল সংরক্ষণে মোবাইল ভ্যান, সচেতনতায় নতুন দিগন্ত

বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে পটুয়াখালীতে চালু হয়েছে এক অভিনব উদ্যোগ—মেছো বিড়াল সংরক্ষণভিত্তিক মোবাইল প্রচার ভ্যান। উপকূলীয় বন বিভাগের ব্যবস্থাপনায় ২৭ মে (সোমবার) জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে এ ভ্যানের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (আইসিটি) মহসিন উদ্দীন এবং বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোঃ সফিকুল ইসলাম।
উল্লেখ্য, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান এর আগেও যশোরে একই ধরনের ভ্যান উদ্বোধন করেছিলেন। পটুয়াখালীর উদ্যোগটি সেই ধারাবাহিক প্রচেষ্টারই একটি অংশ।
এই ভ্যান পটুয়াখালী ও বরগুনা জেলার বিভিন্ন উপজেলায় ঘুরে ঘুরে মাইকিং ও লিফলেট বিতরণের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মাঝে সচেতনতা ছড়িয়ে দিচ্ছে। এতে জানানো হচ্ছে, মেছো বিড়াল হিংস্র প্রাণী নয়, বরং এটি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় অপরিহার্য।
উপকূলীয় বন কর্মকর্তা মোঃ সফিকুল ইসলাম বলেন, “অনেকেই চিতাবাঘের মতো দাগ থাকার কারণে মেছো বিড়ালকে ভয় পেয়ে মেরে ফেলেন। অথচ এটি একটি নিরীহ প্রাণী, যা মাছ, ব্যাঙ, ইঁদুর ও ক্ষতিকর পোকামাকড় খেয়ে পরিবেশকে পরিষ্কার রাখে এবং কৃষিক্ষেত্রে উপকারী ভূমিকা রাখে।”
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মহসিন উদ্দীন বলেন, “সঠিক তথ্য দিয়ে জনগণের ভুল ধারণা ভাঙতে পারলে এই প্রাণীটির অকারণ হত্যা রোধ করা সম্ভব। এটি পরিবেশবান্ধব বন্যপ্রাণী, যা বাস্তুতন্ত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।”
এসময় উপস্থিত ছিলেন এনিমেল লাভার্স অব পটুয়াখালীর রেস্কিউ অ্যান্ড রিলিজ উইং প্রধান মোঃ আসাদুল্লাহ হাসান মুসা। তিনি বলেন, “মানুষের অজ্ঞতার কারণেই মেছো বিড়ালের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। আমাদের প্রচেষ্টার লক্ষ্য হলো—মানুষ ও বন্যপ্রাণীর মধ্যে সহাবস্থান নিশ্চিত করা।”
বর্তমানে প্রচার ভ্যানটি জেলার বিভিন্ন এলাকায় সচেতনতামূলক প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে। স্থানীয় পরিবেশপ্রেমী ও জনগণ এই উদ্যোগকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন উদ্যোগ বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ছাড়াও একটি পরিবেশবান্ধব সমাজ গঠনে সহায়ক হবে।








