বিসিবি সভাপতির দায়িত্ব নিতে প্রস্তুত আমিনুল ইসলাম বুলবুল

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতির পদে পরিবর্তনের জোর গুঞ্জন চলছিল বেশ কিছুদিন ধরে। সেই গুঞ্জন এবার বাস্তবের দিকে এগোচ্ছে। সাবেক জাতীয় দলের অধিনায়ক আমিনুল ইসলাম বুলবুলের নাম এই পদে শোনা যাচ্ছিল আগেই, তবে এখন তা অনেকটাই নিশ্চিত বলেই ধারণা করা হচ্ছে।

বুধবার রাতে বিসিবি সভাপতি ফারুক আহমেদ ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বাসভবনে গিয়ে দেখা করলে পরিস্থিতি আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। সেখানেই ফারুককে পদ ছাড়ার বার্তা দেওয়া হয়। তবে ফারুক কিছু প্রশ্ন তুললে ক্রীড়া উপদেষ্টা তাতে কোনো উত্তর দেননি। পরে তিনি পদত্যাগ নিয়ে চিন্তা-ভাবনার জন্য কিছুদিন সময় চেয়ে নেন।

সরকার পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই বিসিবির নেতৃত্বে পরিবর্তনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। আর এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে আমিনুল ইসলাম বুলবুলকে দায়িত্ব দেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে। সম্প্রতি দেশে ফিরে আসায় তার সম্ভাবনা আরও জোরালো হয়েছে।

আজ দুপুরের আগেই একটি গণমাধ্যমকে আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, ‘আমাকে এখনো বিসিবি সভাপতির দায়িত্ব নিতে বলা হয়নি। গতকালের আলোচনাতেও আমি ছিলাম না। তবে ১০-১৫ দিন আগে ক্রীড়া উপদেষ্টার পক্ষ থেকে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল। তারা আমাকে অল্প সময়ের জন্য কোনো একটি দায়িত্বে দেখতে চায়। আমি এতে রাজি আছি।’

তার এই বক্তব্য থেকেই ধারণা করা যাচ্ছে, বিসিবিতে শিগগিরই বড় ধরনের পরিবর্তন আসছে। সরকার বিষয়টি খুব সতর্কতার সঙ্গে সামাল দিতে চাচ্ছে যেন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) সরকারের হস্তক্ষেপ হিসেবে না দেখে। কারণ, সেটি হলে আইসিসির নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে পারে বাংলাদেশ ক্রিকেট। তবে সবকিছু মিলিয়ে ধারণা করা হচ্ছে, ফারুক আহমেদকে সরিয়ে আমিনুল ইসলাম বুলবুলকেই বিসিবির অন্তর্বর্তীকালীন সভাপতি করা হচ্ছে।




জনগণের জন্য একটা নির্বাচিত সরকার প্রতিষ্ঠা দরকার : তারেক রহমান

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, জনগণের রায় বাস্তবায়নের জন্য একটি জবাবদিহিমূলক, নির্বাচিত সরকার প্রয়োজন। তিনি অভিযোগ করেন, জাতীয় নির্বাচন নিয়ে ইতোমধ্যেই টালবাহানা শুরু হয়েছে এবং কথিত অল্প সংস্কার ও অতিরিক্ত সংস্কারের ভেতরে আটকে যাচ্ছে নির্বাচনের ভবিষ্যৎ।

বুধবার (২৮ মে) রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে জাতীয়তাবাদী যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদল আয়োজিত ‘তারুণ্যের সমাবেশে’ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব মন্তব্য করেন।

তারেক রহমান বলেন, সংস্কারের নামে সময়ক্ষেপণের পেছনে অন্তর্বর্তী সরকারের ভেতরে ও বাইরে বিশেষ কোনো উদ্দেশ্য কাজ করছে বলে জনগণ বিশ্বাস করতে শুরু করেছে। তিনি অভিযোগ করেন, আদালতের রায় অবজ্ঞা করে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নির্বাচিত কাউন্সিলর ইশরাক হোসেনকে দায়িত্ব গ্রহণে বাধা দেওয়া হয়েছে, যা অতীতের স্বৈরশাসনের পুনরাবৃত্তি।

তিনি প্রশ্ন তোলেন, যারা আদালতের নির্দেশ মানে না, আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল নয়, তাদের কাছ থেকে সংস্কারের কতটুকু আশা করা যায়? পুঁথিগত সংস্কারের চেয়ে মানুষের মানসিকতার সংস্কার জরুরি বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি বলেন, “নর্থ কোরিয়ার সংবিধানেও ‘ডেমোক্রেটিক’ লেখা আছে, কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। তাই শুধু কি লেখা আছে, তা নয়— বাস্তবে কী হচ্ছে সেটাই গুরুত্বপূর্ণ।”

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, নিরপেক্ষতা ও বিশ্বাসযোগ্যতাই অন্তর্বর্তী সরকারের মূল ভিত্তি হওয়া উচিত। সরকার যেন এমন কোনো পদক্ষেপ না নেয়, যাতে জনগণের আস্থা ও ভালোবাসা হারিয়ে যায়।

তিনি বলেন, “যদি কেউ রাষ্ট্র পরিচালনায় থাকতে চান, তবে সরকার থেকে পদত্যাগ করে সাধারণ জনগণের কাতারে এসে নির্বাচনে অংশ নিন। জনগণ যদি ভোট দেয়, তাহলে পুনরায় সরকারে যান।”

তিনি আরও জানান, গত দেড় দশকে ভোটার তালিকায় প্রায় সাড়ে তিন কোটি নতুন ভোটার যুক্ত হয়েছে, যারা এখনও একটি সুষ্ঠু জাতীয় নির্বাচনে ভোট দিতে পারেনি। তিনি বলেন, “এই নতুন ভোটারদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় এবং একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যে অন্তর্বর্তী সরকারের উচিত দৃশ্যমান প্রস্তুতি নেওয়া।”

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, অতীতে এমন সরকার তিন মাসের মধ্যেই নির্বাচন সম্পন্ন করেছে। অথচ বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার ১০ মাস পার করেও নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা করেনি।

তারেক রহমান দাবি করেন, “আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই জাতীয় নির্বাচন আয়োজন করতে হবে।” তিনি তরুণ সমাজ ও দেশবাসীকে জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে আহ্বান জানান।

সমাবেশে তিনি বিএনপি নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, “জনগণের কাছে যান, তাদের প্রত্যাশা জানুন এবং তাদের মন জয় করুন। কারণ, জনগণই বিএনপির সকল রাজনৈতিক শক্তির উৎস।”

বক্তব্যের শেষে তিনি দেশবাসীর উদ্দেশে স্লোগান দেন:
‘দিল্লি নয়, দিল্লি না; নয় অন্য কোনো দেশ; সবার আগে বাংলাদেশ।’

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জাতীয়তাবাদী যুবদলের সভাপতি মোনায়েম মুন্না। অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক রাজীব আহসান এবং ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছির।
এছাড়াও বক্তব্য রাখেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও সালাহউদ্দিন আহমেদ।




বাংলাদেশে জিলহজের চাঁদ দেখা গেছে, ঈদুল আজহা ৭ জুন

বাংলাদেশে ১৪৪৬ হিজরি সনের পবিত্র জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা গেছে। ফলে আগামী ৭ জুন, শনিবার সারা দেশে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও কোরবানির মহিমায় উদযাপিত হবে ঈদুল আজহা।

বুধবার (২৮ মে) সন্ধ্যায় রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় দেশের বিভিন্ন জেলা প্রশাসন, আবহাওয়া অধিদপ্তর এবং ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মাঠপর্যায়ের কার্যালয় থেকে পাওয়া তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে চাঁদ দেখার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২৯ মে (বৃহস্পতিবার) থেকে জিলহজ মাসের গণনা শুরু হবে। সেই অনুযায়ী, ৭ জুন (শনিবার) ঈদুল আজহা উদযাপিত হবে।

ধর্ম মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, চাঁদ দেখা সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহের জন্য টেলিফোন ও ফ্যাক্স নম্বর চালু রাখা হয়েছিল। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে চাঁদ দেখার খবর পাওয়ায় দ্রুত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব হয়েছে।

সভায় উপস্থিত ছিলেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক, আবহাওয়া অধিদপ্তরের প্রতিনিধি, বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব, চাঁদ দেখা কমিটির সদস্য এবং ধর্ম মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

উল্লেখ্য, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ওমান ও ইন্দোনেশিয়ায়ও ২৮ মে চাঁদ দেখা গেছে। এসব দেশে ৫ জুন পালিত হবে আরাফাতের দিন এবং ৬ জুন ঈদুল আজহা উদযাপন করা হবে।




নতুন মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয় ৯ সাবেক আওয়ামী লীগ নেতাকে

জুলাই মাসে ধানমন্ডিতে মো. রিয়াজ (২৩) নামের এক যুবক হত্যার ঘটনায় শেখ হাসিনার উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক ও আওয়ামী লীগ নেতা নুরু মিয়ার রিমান্ড মঞ্জুরের পর এবার নতুন মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে আরও ৯ জন প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতাকে।

বুধবার (২৮ মে) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মেহেরা মাহবুব পৃথক শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।

যাত্রাবাড়ী থানার বিভিন্ন হত্যা ও হত্যাচেষ্টা মামলায় সাবেক মন্ত্রী আমির হোসেন আমু, জাসদের সভাপতি হাসানুল হক ইনু, ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেননসহ নয়জনকে গ্রেফতার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেন আদালত।

বাকি গ্রেফতার দেখানো নেতারা হলেন:

  • সাবেক খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম
  • তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক
  • সাবেক ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম
  • সাবেক সংসদ সদস্য মনিরুল ইসলাম মনু
  • সাবেক স্বরাষ্ট্র সচিব জাহাঙ্গীর আলম
  • আওয়ামী লীগ নেত্রী রজনী আক্তার টুসী

তদন্ত কর্মকর্তাদের আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত এই নেতাদের বিভিন্ন মামলায় গ্রেফতার দেখানোর আদেশ দেন।

এছাড়া, একই থানা দায়ের করা আরও দুটি মামলায় সালমান এফ রহমানকে একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় এবং আনিসুল হককে একটি হত্যা ও একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।

মামলার নথি অনুযায়ী, আমির হোসেন আমুকে একটি হত্যাচেষ্টা মামলায়, ইনু ও মেননকে একটি হত্যাচেষ্টা এবং দুটি করে হত্যা মামলায়, পলককে একটি হত্যা ও একটি হত্যাচেষ্টা মামলায়, মনিরুল ইসলাম মনুকে দুটি হত্যা মামলায়, কামরুল ইসলাম ও আতিকুল ইসলামকে একটি করে হত্যাচেষ্টা মামলায় এবং জাহাঙ্গীর আলম ও রজনী আক্তার টুসীকে একটি করে হত্যা মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।এবং সব মামলাগুলো যাত্রাবাড়ী থানায় দায়ের করা হয়েছে।

এই বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ওমর ফারুক ফারুকী গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।




রাজনৈতিক দল গুলোর অধিকাংশ মামলাই প্রত্যাহারের সুপারিশ

রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহারে গঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটি এ পর্যন্ত ১১ হাজার ৪৪৮টি মামলার প্রত্যাহারের সুপারিশ করেছে। আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এসব মামলার দ্রুত নিষ্পত্তিতে রাজনৈতিক দলগুলোর সহযোগিতা প্রয়োজন।

বুধবার (২৮ মে) মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহারে বিলম্ব নিয়ে বিভিন্ন দল অভিযোগ করলেও তা বাস্তবতার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। চলমান কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ২০২৩ সালের ২২ সেপ্টেম্বর উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের নেতৃত্বে গঠিত কমিটি নিয়মিত সভার মাধ্যমে মামলাগুলো পর্যালোচনা করছে।

কমিটি এখন পর্যন্ত ১৬টি সভায় বিভিন্ন জেলা কমিটি ও সলিসিটর কার্যালয় থেকে প্রাপ্ত তালিকা ও দলিলপত্র বিশ্লেষণ করে ১১ হাজার ৪৪৮টি মামলার প্রত্যাহারের সুপারিশ করেছে। এ কার্যক্রম এখনও চলমান রয়েছে।

প্রক্রিয়া দ্রুততর করতে রাজনৈতিক দলগুলোকেও হয়রানিমূলক মামলার তালিকা দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) চলতি বছরের ১০ থেকে ১৪ জানুয়ারির মধ্যে প্রায় ১৬ হাজার মামলা এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ২৭ এপ্রিল ১,২০০টি মামলার তালিকা জমা দিয়েছে।

তবে এসব তালিকার প্রায় অর্ধেক মামলার সঙ্গে প্রয়োজনীয় দলিল যেমন এজাহার ও চার্জশিট না থাকায় বাকিগুলোর নিষ্পত্তি বিলম্বিত হচ্ছে বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।

এছাড়া হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ গত ২০ মে ৪৪টি মামলার একটি তালিকা জমা দিয়েছে, যেগুলোর কাগজপত্র পর্যালোচনা করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে দ্রুতনিষ্পত্তির স্বার্থে রাজনৈতিক দলগুলোকে পাঠানো মামলাগুলোর পূর্ণাঙ্গ কাগজপত্র, বিশেষ করে এজাহার ও প্রযোজ্য ক্ষেত্রে চার্জশিট, অবিলম্বে কমিটির কাছে জমা দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।




বাউফলে মোটরসাইকেল চুরি: তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় বাইক উদ্ধার, এক যুবক গ্রেপ্তার

পটুয়াখালীর বাউফল থেকে চুরি যাওয়া একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করেছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ ও পটুয়াখালী সদর থানা পুলিশ। একইসঙ্গে মোটরসাইকেল চুরির ঘটনায় জড়িত এক যুবককেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১টার দিকে জেলা শহরের ডিসি বাংলো সংলগ্ন একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে চোরাই মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করা হয়। অভিযানে গ্রেপ্তার করা হয় মো. ইমরান হোসেন (২৫) নামের এক যুবককে। তিনি পটুয়াখালী পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আব্দুস সালামের ছেলে।

জেলা গোয়েন্দা পুলিশের সূত্র জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ইমরান হোসেন মোটরসাইকেল চুরির কথা স্বীকার করেছেন। পরে তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী বাইকটি উদ্ধার করা হয়।

জানা গেছে, গত ২৬ মে (সোমবার) সন্ধ্যায় বাউফল পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের চন্দ্রপাড়া এলাকার বাসিন্দা মো. জুয়েল রানার দোকানের সামনে থেকে তার ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি চুরি হয়। পরে তিনি বাউফল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত শুরু করে ডিবি পুলিশ। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় চুরির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিকে শনাক্ত করে দ্রুত অভিযান পরিচালনা করা হয়।

বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আখতারুজ্জামান সরকার বলেন, “ঘটনার পরপরই আমরা গুরুত্বের সঙ্গে বিষয়টি তদন্ত শুরু করি। ইতোমধ্যে একটি মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। চুরির সঙ্গে আরও কেউ জড়িত রয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”

জেলার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এমন তৎপরতায় স্থানীয় বাসিন্দারা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন।

মোঃ আল-আমিন
স্টাফ রিপোর্টার, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



কর্মচারীদের দাবি প্রধান উপদেষ্টাকে জানানো হবে- মন্ত্রীপরিষদ সচিব

সরকারি চাকরি (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ বাতিলের দাবিসহ কর্মচারীদের বিভিন্ন দাবার কথা প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে উপস্থাপন করবেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব শেখ আবদুর রশীদ। বর্তমানে জাপান সফরে থাকা প্রধান উপদেষ্টা ৩১ মে দেশে ফিরবেন। এরপরই বিষয়টি তার কাছে তোলা হবে বলে জানানো হয়েছে।

বুধবার (২৮ মে) সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিবের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ভূমি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এ এস এম সালেহ আহমেদ এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, “কর্মচারীদের দাবির বিষয়টি এবং আগের দিনের আলোচনার বিষয়বস্তু মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে জানানো হয়েছে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার তার নেই। বিষয়টি প্রধান উপদেষ্টার কাছে উপস্থাপন করা হবে।”

এর আগে, ২৭ মে (মঙ্গলবার) সচিবালয়ের ভূমি মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে কর্মচারী নেতাদের সঙ্গে এক বৈঠকে অংশ নেন কয়েকজন সচিব। বৈঠক শেষে সিনিয়র সচিব সালেহ আহমেদ জানান, কর্মচারীদের দাবি যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপন করা হবে এবং বিষয়টি নিয়ে সরকারের উচ্চপর্যায়ে থেকে সিদ্ধান্ত আসবে।




ডাকসু রোডম্যাপসহ ৭ দফা দাবি উপস্থাপন ছাত্রশিবিরের

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচন আয়োজনের রোডম্যাপ ঘোষণাসহ সাত দফা দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে ইসলামী ছাত্র শিবিরের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা।

মঙ্গলবার (২৭ মে) বিকেল সাড়ে ৫টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহাসিক মধুর ক্যান্টিনে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে শাখা সভাপতি এসএম ফরহাদ লিখিত বক্তব্য পাঠ করে সাতটি দাবি তুলে ধরেন। তিনটি প্রধান দাবি হলো:

  1. অবিলম্বে ডাকসুর রোডম্যাপ ঘোষণা করে শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি নির্বাচনের অধিকার নিশ্চিত করা,
  2. ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা জোরদারে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ,
  3. পূর্বের ন্যায় যান চলাচল ও বহিরাগতদের প্রবেশ সীমিত করা।

অন্য চারটি দাবি হলো:

  • ক্যাম্পাস এলাকা থেকে ভবঘুরে ও অপ্রকৃতস্থদের উচ্ছেদে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা,
  • পুরো ক্যাম্পাস ও প্রবেশপথগুলোতে সিসিটিভি স্থাপন,
  • পাঁচটি প্রবেশপথে থাকা নিরাপত্তা বক্সগুলো দ্রুত সংস্কার ও প্রহরীর নিয়োগ,
  • প্রয়োজন অনুযায়ী প্রক্টরিয়াল মোবাইল টিমের সদস্য সংখ্যা বাড়িয়ে নিয়মিত টহলের ব্যবস্থা।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মহিউদ্দিন খান, সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী আশিক, দাওয়াহ সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম এবং ক্রীড়া সম্পাদক মেফতাহুল হোসেন মারুফ।

সভাপতি এসএম ফরহাদ বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পরিচালিত এক জরিপে দেখা গেছে, প্রায় ৯৬ শতাংশ শিক্ষার্থী ডাকসু নির্বাচনের পক্ষে। অথচ প্রশাসন শিক্ষার্থীদের এ দাবি বাস্তবায়নে হতাশাজনকভাবে ধীরগতিতে অগ্রসর হচ্ছে।”

তিনি আরও বলেন, “গত বছরের ডিসেম্বরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর বলেছিলেন ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারির মধ্যে ডাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এখন মে মাসের শেষ পর্যায়ে, কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই। দ্রুত রোডম্যাপ ঘোষণা না হলে আমরা শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ে কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হব।”




আবারও রিমান্ডে সালমান এফ রহমান ও আনিসুল হক

রাজধানীর ধানমন্ডিতে গত বছরের জুলাই আন্দোলনের সময় মো. রিয়াজ (২৩) নামের এক যুবককে হত্যার মামলায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক এবং আওয়ামী লীগ নেতা নুরু মিয়ার দুইদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

বুধবার (২৮ মে) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মেহেরা মাহবুব রিমান্ড শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, পিবিআইর পরিদর্শক মুহাম্মদ কামরুজ্জামান সিকদার, এ চারজনের পাঁচদিন করে রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। আদালত শুনানির জন্য তাদের হাজিরের নির্দেশ দেন এবং প্রথমে গ্রেফতার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেন।

রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী। সোহানুর রহমান আজাদের পক্ষে আইনজীবী জহিরুল ইসলাম রিমান্ড বাতিল ও জামিন আবেদন করেন। অন্য তিন আসামির পক্ষে আইনজীবীরা রিমান্ড বাতিলের আবেদন করলেও তারা শুনানিতে অংশ নেননি।

শুনানি শেষে আদালত সোহানুর রহমান আজাদ ছাড়া বাকি তিনজন—সালমান এফ রহমান, আনিসুল হক ও নুরু মিয়ার দুইদিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন। আজাদের রিমান্ড বিষয়ে আদালত পরবর্তীতে আদেশ দিবেন।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, গত ৪ আগস্ট সাইন্সল্যাব থেকে জিগাতলা যাওয়ার পথে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারাত্মক আহত হন মো. রিয়াজ। দীর্ঘ দুই সপ্তাহ চিকিৎসাধীন থাকার পর ১৭ আগস্ট বিকেলে তার মৃত্যু হয়। পরে ৯ সেপ্টেম্বর নিহতের মা মোসা. শাফিয়া বেগম ধানমন্ডি থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ওমর ফারুক ফারুকী।




গন্তব্য জাপানে পৌঁছেছেন ড.মুহাম্মদ ইউনুস

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস জাপানে পৌঁছেছেন। বুধবার (২৮ মে) স্থানীয় সময় দুপুর ২টা ৫ মিনিটে নির্ধারিত সময়ের ২৫ মিনিট আগেই তিনি টোকিওর হানেদা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান।

বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান জাপানে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত দাউদ আলী। এ তথ্য প্রধান উপদেষ্টার অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে প্রকাশ করা হয়েছে।

এর আগে মঙ্গলবার (২৭ মে) বাংলাদেশ সময় রাত ২টা ১৫ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে জাপানের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন তিনি।

ড. ইউনূস টোকিওতে অনুষ্ঠিতব্য ৩০তম নিক্কেই ফোরাম: ফিউচার অব এশিয়া সম্মেলনে অংশ নেবেন।

প্রেস উইং সূত্রে জানা গেছে, বুধবার বিকেল ৫টায় প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন জাপান-বাংলাদেশ পার্লামেন্টারি ফ্রেন্ডশিপ লীগের সভাপতি ও সাবেক উপ-প্রধানমন্ত্রী টারো আসো

সাক্ষাতের পর তিনি নিপ্পন ফাউন্ডেশনের সভাপতি ইয়োহেই সাসাকাওয়া আয়োজিত এক নৈশভোজে অংশ নেবেন। নৈশভোজ শেষে জাপানের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে একটি মতবিনিময় সভায় অংশগ্রহণ করবেন তিনি।