দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে ২৫.৮০ বিলিয়ন ডলার

বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সামান্য বৃদ্ধি পেয়ে বর্তমানে ২৫ দশমিক ৮০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ হালনাগাদ তথ্যে জানানো হয়েছে, ২৭ মে পর্যন্ত দেশের মোট (গ্রস) রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে দুই হাজার ৫৮০ কোটি ডলারে।

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) নির্ধারিত হিসাব পদ্ধতি বিপিএম৬ অনুযায়ী এই রিজার্ভের পরিমাণ ২০ দশমিক ৫৬ বিলিয়ন ডলার, যা দুই হাজার ৫৬ কোটি ২২ লাখ ডলারের সমান। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে ২২ মে পর্যন্ত রিজার্ভ ছিল ২৫ দশমিক ৬৪ বিলিয়ন ডলার এবং বিপিএম৬ অনুযায়ী ২০ দশমিক ২৭ বিলিয়ন ডলার। চলতি মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহও ঊর্ধ্বমুখী। মে মাসের প্রথম ২৪ দিনেই প্রবাসী আয় এসেছে প্রায় ২ দশমিক ২৫ বিলিয়ন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২৭ হাজার ৪০১ কোটি টাকা। এ ধারা অব্যাহত থাকলে চলতি মাসে রেমিট্যান্স প্রায় তিন বিলিয়ন ডলার স্পর্শ করতে পারে।

গত সপ্তাহে পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট আয়োজিত এক আলোচনায় বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর জানান, আগামী মাসে রিজার্ভ ৩০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ব্যাংকিং খাতকে শক্তিশালী করে ৪০ বিলিয়ন ডলারের রিজার্ভ অর্জনের লক্ষ্যে কাজ চলছে।




জানা গেলো সৌদি সব বেশ কয়েকটি দেশের ঈদুল আজহার তারিখ

সৌদি আরবে জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা যাওয়ায় দেশটিতে আগামী ৬ জুন (শুক্রবার) ঈদুল আজহা উদযাপিত হবে। সৌদি আরবের তামির অঞ্চলে মঙ্গলবার (২৭ মে) চাঁদ দেখা যাওয়ার পর সৌদি সুপ্রিম কোর্ট এই ঘোষণা দেয়।

ঘোষণা অনুযায়ী, পবিত্র জিলহজ মাস শুরু হবে ২৮ মে (বুধবার) থেকে। সেই হিসেবে পবিত্র হজের গুরুত্বপূর্ণ অংশ ‘আরাফাহ দিবস’ পালিত হবে ৫ জুন (বৃহস্পতিবার), আর পরদিন ৬ জুন অনুষ্ঠিত হবে ঈদুল আজহা।

মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম গালফ নিউজ সৌদি কর্তৃপক্ষের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে।

এর আগে ব্রুনাই, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও ওমান ইতোমধ্যে ঈদুল আজহার তারিখ ঘোষণা করেছে। এসব দেশেও জুন মাসের প্রথম সপ্তাহে ঈদ উদযাপিত হবে বলে জানা গেছে।




লালমনিরহাট বিমানবন্দর চালু হলে পাল্টা পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি ভারতের

বাংলাদেশ লালমনিরহাট বিমানবন্দর চালু করলে পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের কৈলাশহর এলাকায় তিন দশক আগের একটি পরিত্যক্ত বিমানঘাঁটি পুনরায় সচল করতে পারে—এমন দাবি করেছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি।

মঙ্গলবার (২৭ মে) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এনডিটিভির বিশেষ প্রতিনিধি রত্নদ্বীপ চৌধুরী জানিয়েছেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়কার লালমনিরহাট বিমানবন্দরটি চীনের সহায়তায় পুনরায় চালুর পরিকল্পনা করছে বাংলাদেশ।

এ প্রসঙ্গে গতকাল সোমবার (২৬ মে) সেনাসদরে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মিলিটারি অপারেশন্স অধিদপ্তরের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. নাজিম-উদ-দৌলা বলেন, দীর্ঘদিন অকার্যকর থাকা বিমানবন্দরটি কেবল প্রয়োজনের ভিত্তিতে সচল করা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, চীনা কোনো সংস্থা সেখানে যুক্ত আছে কি না, সে বিষয়ে তাদের কাছে কোনো তথ্য নেই।

তবে এনডিটিভির দাবি, চীনের সামরিক সহযোগিতায় বিমানবন্দরটি পুনরায় চালু করা হচ্ছে—এমন আশঙ্কায় ভারতীয় প্রশাসনে সতর্কতা তৈরি হয়েছে। কারণ, লালমনিরহাট ভারতের সীমান্ত থেকে মাত্র ২০ কিলোমিটার দূরে এবং এই এলাকায় রয়েছে ভারতের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ‘চিকেন নেক’, যার মাধ্যমে মূল ভূখণ্ড থেকে উত্তরপূর্বাঞ্চলের সেভেন সিস্টার্স অঞ্চলে যোগাযোগ রাখা হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারত আশঙ্কা করছে—যদি চীনের সহায়তায় বিমানবন্দরটি চালু হয়, তাহলে সেখানে চীন যুদ্ধবিমান, রাডারসহ নজরদারি সরঞ্জাম স্থাপন করতে পারে। এই সম্ভাব্য পরিস্থিতির জবাবে ভারত ত্রিপুরার পুরোনো কৈলাশহর বিমানঘাঁটি সচল করার পরিকল্পনা করছে। প্রাথমিকভাবে এটি বেসামরিক উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হলেও ভবিষ্যতে এর কাঠামো এমনভাবে উন্নয়ন করা হবে, যাতে যুদ্ধকালীন সময়ে যুদ্ধবিমান চলাচল ও জ্বালানি সরবরাহ করা সম্ভব হয়।

প্রতিবেদনটিতে আরও দাবি করা হয়, শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার ভারতের প্রতি আগের মতো বন্ধুত্বপূর্ণ নয় এবং চীন ও পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারে আগ্রহী। ফলে ভারতের কূটনৈতিক উদ্বেগ বেড়েছে।

এর মধ্যেই ২৬ মে একটি ভারতীয় প্রতিনিধি দল কৈলাশহর বিমানঘাঁটি পরিদর্শনে যায় এবং বিমানবন্দরটির বর্তমান অবস্থা মূল্যায়ন করে। প্রতিনিধি দলটি পরে জানায়, বিমানবন্দর নিয়ে রাজ্য সরকারের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণ করা হবে।




বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপ, পায়রাসহ সকল বন্দরে ৩ নম্বর সংকেত

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের কারণে দেশের চারটি সমুদ্র বন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। মঙ্গলবার (২৭ মে) সকালে আবহাওয়াবিদ ড. মো. ওমর ফারুক স্বাক্ষরিত এক সতর্ক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়।

সতর্ক বার্তায় জানানো হয়, উত্তরপশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হয়েছে, যা ঘনীভূত হয়ে গভীর নিম্নচাপে রূপ নিতে পারে। এর প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর, উপকূলীয় এলাকা এবং সমুদ্রবন্দরসমূহের ওপর দিয়ে দমকা হাওয়া অথবা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এ অবস্থায় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরের জন্য ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত জারি করা হয়েছে এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তা বজায় রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া সাগরে অবস্থানরত সব মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে এবং পরবর্তী নির্দেশ না পাওয়া পর্যন্ত গভীর সাগরে না যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

আবহাওয়াবিদদের মতে, লঘুচাপটি ঘনীভূত হয়ে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার সৃষ্টি করতে পারে। ফলে জনসাধারণ ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে সচেতন থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



কিশোরীকে ধ’র্ষ’ণচেষ্টার অভিযোগে জেলে গ্রে’ফ’তা’র রাঙ্গাবালীতে

পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার চরমোন্তাজ ইউনিয়নে কওমি মাদ্রাসায় পড়ুয়া এক কিশোরীকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগে আবুল প্যাদা (৩২) নামে এক জেলেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সোমবার (২৬ মে) রাতে নিজ বাড়ি থেকে তাকে আটক করা হয়।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী কিশোরী নিজে বাদী হয়ে রাঙ্গাবালী থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন। মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, অভিযুক্ত আবুল প্যাদা বেশ কিছুদিন ধরে কিশোরীকে কুপ্রস্তাব দিয়ে উত্ত্যক্ত করে আসছিল।

রোববার রাতে সাড়ে তিনটার দিকে ওই কিশোরী প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে ঘরের পেছনের টয়লেটে গেলে অভিযুক্ত আবুল প্যাদা সেখানে গিয়ে তার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। কিশোরীর চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে আবুল প্যাদাকে হাতেনাতে আটক করে।

পরে তাকে স্থানীয়দের সহায়তায় পুলিশে হস্তান্তর করা হয়।

রাঙ্গাবালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এমারৎ হোসেন বলেন, “ঘটনার পর পরই মামলা রুজু হয়েছে। আসামিকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।”

ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। স্থানীয়রা দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



চতুর্থ দিনের মতো সচিবালয়ে কর্মচারীদের বিক্ষোভ

সরকারি চাকরি সংশোধন অধ্যাদেশ ২০২৫ বাতিলের দাবিতে টানা চতুর্থ দিনের মতো সচিবালয়ে বিক্ষোভ করছেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। মঙ্গলবার (২৭ মে) সকাল ১১টার দিকে ৬ নম্বর ভবনের পাশে বাদামতলায় কর্মীরা জড়ো হয়ে প্রতিবাদ শুরু করেন।

বিক্ষোভ মিছিলে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ‘লেগেছে রে লেগেছে, রক্তে আগুন লেগেছে’, ‘অবৈধ কালো আইন, বাতিল কর করতে হবে’, ‘কর্মচারী মানে না, অবৈধ কালে আইন’, ‘মানি না মানবো না, অবৈধ কাল আইন’, ‘এক হও লড়াই কর, ১৮ লাখ কর্মচারী’, ‘সচিবালয়ের কর্মচারী, এক হও এক হও’, ‘আপস না সংগ্রাম, সংগ্রাম সংগ্রাম’- এ ধরনের বিভিন্ন স্লোগান দিচ্ছেন।পাশাপাশি আন্দোলনে যোগ না দেওয়া সহকর্মীদেরও অংশগ্রহণে আহ্বান জানানো হয়।

এই অবস্থায় সচিবালয়ে দর্শনার্থী প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। নিরাপত্তা জোরদারে মোতায়েন করা হয়েছে সোয়াট ও বিজিবি। এমনকি এদিন গণমাধ্যমকর্মীদেরও সচিবালয়ে ঢুকতে দেওয়া হয়নি।

গত ২৫ মে সন্ধ্যায় রাষ্ট্রপতির জারিকৃত অধ্যাদেশ অনুযায়ী, চারটি শৃঙ্খলাভঙ্গের ঘটনায় বিভাগীয় মামলা ছাড়াই শুধুমাত্র কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়ে চাকরিচ্যুত করা যাবে। এই বিধান বাতিলের দাবিতে কর্মচারীরা আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।




এটিএম আজহারুল ইসলামকে নিয়ে আসিফ নজরুলের পোস্ট

মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াত নেতা এটিএম আজহারুল ইসলাম নির্দোষ প্রমাণিত হওয়ায় খালাস পেয়েছেন। এ মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল।

মঙ্গলবার (২৭ মে) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে তিনি বলেন ,  “নির্দোষ প্রমাণ হওয়ায় মুক্তিযুদ্ধকালের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডাদেশ থেকে খালাস পেয়েছেন জামায়াত নেতা এ টি এম আজহারুল ইসলাম। দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে তাঁর করা রিভিউ সর্বসম্মতিতে মঞ্জুজুর করেছেন প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন সুপ্রীম কোর্টের আপিল বিভাগ। আজহারুলকে মৃত্যুদণ্ড দিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায় এবং মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখে এর আগে আপিল বিভাগের দেওয়া রায় বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে আজকের রায়ে।”

সেই সাথে তিনি বলেন, “এই ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার সুযোগ তৈরি করেছে জুলাইয়ের গণআন্দোলনের অকুতোভয় নেতৃত্ব।” তিনি আরও যোগ করেন, “এ সুযোগ রক্ষা করা এখন আমাদের সবার দায়িত্ব।”




সীমান্তে পুশইন বেড়েছে, তবে নিরাপত্তায় ঘাটতি নেই: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

সীমান্তে পুশইন বেড়েছে, তবে নিরাপত্তা অক্ষুণ্ণ এবং কোনো ধরনের ঘাটতি নেই বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।

মঙ্গলবার (২৭ মে) সকালে রাজশাহীর কারা প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে ১৪তম ডেপুটি জেলার ও ৬২তম ব্যাচের কারারক্ষী ও মহিলা কারারক্ষীদের সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, “সীমান্তে পুশইন বেড়েছে ঠিকই, তবে যারা আসছে তারা আমাদের দেশেরই নাগরিক। আমরা ভারতকে অনুরোধ করেছি এসব মানুষকে আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ায় ফেরত পাঠাতে। কিন্তু তারা তা করছে না। বিষয়টি নিয়ে বৈঠকও হয়েছে। তবুও সীমান্তে আমাদের বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা পুশইনের বিষয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছি এবং ভারত সরকারকে বাংলাদেশি নাগরিকদের ফেরতের বিষয়ে সঠিক প্রক্রিয়া অনুসরণের অনুরোধ করেছি।”

কারাগার সংস্কারের বিষয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জানান, “কারাগারকে একটি ‘কারেকশন সেন্টার’ হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। বন্দিরা এখানে কাজ করে আয় করতে পারবে, যাতে তাদের পরিবারকে সহায়তা করতে পারে এবং বন্দিজীবন আরও মানবিক হয়।”

তিনি রাজনৈতিক বন্দিদের ক্ষেত্রেও আইনের শাসন ও সমতার ভিত্তিতে আচরণের ওপর গুরুত্ব দেন।

আসন্ন ঈদ ও দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও আশাবাদ ব্যক্ত করেন উপদেষ্টা। তিনি বলেন, “গতবার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রস্তুতি ভালো ছিল, এবারও ভালো থাকবে বলে আশা করছি।”

অনুষ্ঠানে তিনি প্যারেড গ্রাউন্ডে সালাম ও অভিবাদন গ্রহণ করেন। এ সময় রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ, জেলা পুলিশ, বিজিবি, কারা কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এই ব্যাচের মাধ্যমে ১৮ জন ডেপুটি জেলার এবং ৫০৮ জন নতুন কারারক্ষী ও মহিলা কারারক্ষী চাকরিতে যোগ দিচ্ছেন।




ট্রাইব্যুনালের রায় বাতিল, আজহারুল ইসলামের মুক্তির আদেশ আপিল বিভাগে

মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় জামায়াতে ইসলামীর নেতা এটিএম আজহারুল ইসলামকে দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের রায় বাতিল করে তাকে খালাস দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।

মঙ্গলবার (২৭ মে) সকালে প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে সাত সদস্যের পূর্ণাঙ্গ আপিল বেঞ্চ এই রায় ঘোষণা করেন। বেঞ্চের বাকি বিচারপতিরা হলেন: মো. আশফাকুল ইসলাম, জুবায়ের রহমান চৌধুরী, মো. রেজাউল হক, ইমদাদুল হক, মো. আসাদুজ্জামান ও ফারাহ মাহবুব। সর্বসম্মতিক্রমে দেওয়া এই রায়ে আজহারকে অবিলম্বে মুক্তি দেওয়ার নির্দেশ দেন আদালত।

রায় ঘোষণার সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের আইনজীবীরা এবং জামায়াতের শীর্ষ নেতারা। সকাল ৯টা ৫০ মিনিটে আদালতের কার্যক্রম শুরু হয় এবং ৯টা ৫৫ মিনিটে রায় ঘোষণা করা হয়।

আজহারের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির, ব্যারিস্টার এহসান আবদুল্লাহ সিদ্দিক, ইমরান আবদুল্লাহ সিদ্দিক ও নাজিব মোমেন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল অনীক আর হক এবং প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম।

জামায়াত নেতাদের মধ্যে আদালতে উপস্থিত ছিলেন দলটির নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের, ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এটিএম মাসুম, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খানসহ অনেকে।

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে রংপুর অঞ্চলে হত্যা, গণহত্যা, অপহরণ, ধর্ষণ, নির্যাতনসহ ছয়টি মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত ছিলেন এটিএম আজহার। ২০১৪ সালের ৩০ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তাকে ২, ৩ ও ৪ নম্বর অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড, ৫ নম্বর অভিযোগে ২৫ বছরের কারাদণ্ড এবং ৬ নম্বর অভিযোগে ৫ বছরের সাজা দেয়।

ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলে ২০১৯ সালের ৩১ অক্টোবর চার বিচারপতির বেঞ্চ সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের ভিত্তিতে মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখে এবং ৫ নম্বর অভিযোগে খালাস দেয়। পরে, আজহার ২০২০ সালের ১৯ জুলাই রায়ের পুনর্বিবেচনার আবেদন করেন। ১৪টি যুক্তি তুলে ধরে ২৩ পৃষ্ঠার আবেদনটি আপিল বিভাগে উপস্থাপন করা হয়।

২০২৫ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি পুনর্বিবেচনার আবেদনের শুনানি শেষে আদালত আজহারকে আপিলের অনুমতি দেয়। এরপর শুনানি শেষে আজকের রায়ে তাকে খালাস দেওয়া হলো।




“দেশের নিরাপত্তায় আপস নয়: করিডর ইস্যুতে স্পষ্ট বার্তা সেনাবাহিনীর”

বাংলাদেশ সেনাবাহিনী স্পষ্ট জানিয়েছে, তারা এমন কোনো কার্যক্রমে সম্পৃক্ত হবে না, যা দেশের নিরাপত্তার জন্য হুমকি সৃষ্টি করতে পারে। ‘করিডর’ ইস্যুকে সেনাবাহিনী অত্যন্ত স্পর্শকাতর বিষয় হিসেবে বিবেচনা করছে।

সোমবার (২৬ মে) দুপুরে সেনানিবাসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মিলিটারি অপারেশন্স ডিরেক্টরেটের কর্নেল স্টাফ, কর্নেল মো. শফিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন। সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তবর্তী করিডর ইস্যু নিয়ে চলমান আলোচনার প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “করিডর একটি স্পর্শকাতর বিষয়। সেনাবাহিনী দেশের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয় এমন কোনো কাজে সম্পৃক্ত হবে না।”

আরাকান আর্মির বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ ও বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের বিষয়ে এক প্রশ্নের উত্তরে কর্নেল শফিকুল বলেন, “আমাদের আরাকান আর্মির সঙ্গে কোনো যোগাযোগ নেই। গণমাধ্যমে প্রকাশিত এসব খবরের যথার্থতা যাচাই করা প্রয়োজন।”

সাম্প্রতিক সময়ে সেনাবাহিনী প্রধানের ‘অফিসার্স অ্যাড্রেস’ প্রসঙ্গ উঠে এলে তিনি জানান, সেখানে করিডর, বন্দর, স্টারলিংক এবং নির্বাচনসহ বিভিন্ন বিষয় উঠে এসেছে বলে শোনা যাচ্ছে। তবে সেনাবাহিনী প্রধান নিয়মিত সেনা সদস্যদের সঙ্গে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দিয়ে থাকেন, এবং এটি সেই ধারাবাহিকতার অংশ মাত্র। তিনি আরও বলেন, “এ নিয়ে কোনো সাংবাদিককে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি, এবং কোনো সরকারিভাবে বিবৃতি দেওয়া হয়নি। তাই যেসব তথ্য গণমাধ্যম বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এসেছে, তার সঠিকতা যাচাই প্রয়োজন।”

করিডর, বন্দর ও স্টারলিংক ইস্যু দেশের সার্বভৌমত্বের জন্য চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করতে পারে— এমন আশঙ্কার বিষয়ে জানতে চাইলে কর্নেল শফিকুল বলেন, “জাতীয় নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয় এমন কোনো বিষয়ে সেনাবাহিনী কখনোই সম্পৃক্ত হবে না।”

পার্বত্য চট্টগ্রামের একটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের বৈঠক নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, “এই দলটি আত্মস্বীকৃত সন্ত্রাসী গোষ্ঠী, যারা সংঘাতপূর্ণ কর্মকাণ্ড চালিয়ে থাকে। তাই তাদের নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় যুক্ত করা যুক্তিযুক্ত নয়।”

সেনাবাহিনী ও সরকারের মধ্যে কোনো মতবিরোধ রয়েছে কি না— এমন প্রশ্নের জবাবে কর্নেল শফিকুল বলেন, “আমাদের মধ্যে কোনো মুখোমুখি অবস্থান নেই। সরকার ও সেনাবাহিনী সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে একসঙ্গে দেশের স্বার্থে কাজ করছে।”

দেশের সার্বভৌমত্বে হুমকি এলে সেনাবাহিনী কী পদক্ষেপ নেবে— জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমরা সবসময় দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা রক্ষায় একতাবদ্ধভাবে কাজ করেছি এবং ভবিষ্যতেও করে যাব।”

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বর্তমান অবস্থা আগের তুলনায় কিছুটা উন্নত হয়েছে। তবে এটি কেবল সেনাবাহিনীর একক দায়িত্ব নয়, অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সম্মিলিত প্রচেষ্টায়ই প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব। সেনাবাহিনী নিরলসভাবে কাজ করছে এবং ভবিষ্যতে আরও উন্নতির আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।