চিকিৎসাধীন জুলাই যোদ্ধাদের পাশে তারেক রহমান, দিলেন আর্থিক সহায়তা

গণঅভ্যুত্থানে চোখ হারানো চার ‘জুলাই যোদ্ধা’ যারা বর্তমানে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন, তাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (২৯ মে) তার পক্ষ থেকে আর্থিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হয় এসব আহত যুবকদের কাছে।

তারেক রহমানের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী এই সহায়তা পৌঁছে দেন বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব ও ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর উপদেষ্টা শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি এবং সংগঠনের আহ্বায়ক আতিকুর রহমান রুমন। তারা ‘বিষপান’ করা আহত চারজনের সঙ্গে দেখা করে তাদের চিকিৎসার খোঁজ-খবর নেন এবং সহমর্মিতা জানান।

প্রতিনিধিদল চিকিৎসকদের সাথেও কথা বলেন এবং জানান, তারেক রহমান সব সময় তাদের পাশে আছেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন—
আমরা বিএনপি পরিবারের উপদেষ্টা ইঞ্জিনিয়ার আশরাফ উদ্দিন বকুল, আবুল কাশেম, ইঞ্জিনিয়ার মোস্তফা-ই-জামান সেলিম, কৃষিবিদ মোকছেদুল মোমিন মিথুন, মাসুদ রানা লিটন, মুস্তাকিম বিল্লাহ ও ফরহাদ আলী সজীব।

এছাড়াও ছিলেন—
বিএনপির স্বাস্থ্য বিষয়ক সহ-সম্পাদক ডা. পারভেজ রেজা কাকন, ড্যাবের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক ডা. আ ন ম মনোয়ারুল কাদির বিটু, সাংবাদিক জাহিদুল ইসলাম রনি এবং ছাত্রদল ও শেকৃবি ছাত্রদলের সাবেক ও বর্তমান নেতারা।

জানা গেছে, গত রোববার (২৫ মে) দুপুরে জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটে গিয়ে গণঅভ্যুত্থানে চোখ হারানো চার যুবক— শিমুল, মারুফ, সাগর ও আখতার হোসেন তাহের—বিষপান করেন। পরে তাদের তাৎক্ষণিকভাবে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।




ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়নের আহ্বান সোবহানের

বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও বরিশাল-১ আসনের সম্ভাব্য সংসদ সদস্য প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার আবদুস সোবহান বলেছেন, “দলকে সংগঠিত করতে হলে দুর্দিনের ত্যাগী, নির্যাতিত ও কারাবরণকারী নেতাকর্মীদের যথাযথ মূল্যায়ন করতে হবে। তারেক রহমানেরও এ বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে।”

মঙ্গলবার (২৭ মে) বিকেলে বরিশালের আগৈলঝাড়ায় বিএনপি মৎস্যজীবী দলের আহ্বায়ক সদ্য প্রয়াত হারুন-অর রশিদের স্মরণে আয়োজিত আলোচনা সভা ও দোয়া-মিলাদে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

সোবহান আরও বলেন, “যেসব নেতাকর্মী বিএনপির দুঃসময়ে রাজপথে ছিলেন, নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, তাদের সম্মান দেওয়া আমাদের দায়িত্ব। একইসঙ্গে যারা জিয়াউর রহমানের পরিবারকে কটাক্ষ করে এখনও দলে সক্রিয়—তাদের চিহ্নিত করে দল থেকে বাদ দিতে হবে।”

তিনি জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে দলের মধ্যে ঐক্যের ওপরও গুরুত্ব দেন।
তার ভাষায়, “বিএনপির ভাবমূর্তি নষ্ট করতে একটি মহল অতীতের মতোই ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। এমন পরিস্থিতিতে ইস্পাতকঠিন ঐক্য বজায় রাখা ছাড়া কোনো পথ নেই।”

রাজিহার ইউনিয়ন পরিষদ মাঠে অনুষ্ঠিত এ স্মরণ সভায় সভাপতিত্ব করেন ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ফারুক হোসেন শিকদার।
অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন:

  • জেলা উত্তর মৎস্যজীবী দলের আহ্বায়ক আবু বকর সিদ্দিক ফারুক
  • আগৈলঝাড়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. মাহবুবুল ইসলাম
  • গৌরনদী উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি আব্দুল মালেক আকন
  • জেলা উত্তর যুবদলের সদস্য সচিব গোলাম মোর্শেদ মাসুদ
  • আগৈলঝাড়া উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক শোভন রহমান মনির
  • গৌরনদী উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মনির হাওলাদার
  • জেলা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি এসএম হীরা
  • উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক শাকিল সিকদার
  • মরহুম হারুন-অর রশিদের ছেলে আব্দুর রহমান

আলোচনা শেষে মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনায় দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম  / 




চন্দ্রদ্বীপে ইউনিয়ন পরিষদ ভবন নির্মাণে মধ্যস্থল চায় এলাকাবাসী

পটুয়াখালীর বাউফলের নবগঠিত ১৫ নম্বর চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) ভবন নির্মাণে সবার জন্য সুবিধাজনক একটি মধ্যবর্তী স্থানে ভবন স্থাপনের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

মঙ্গলবার (২৭ মে) দুপুর ১২টার দিকে ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর দিয়ারা কচুয়া চর মিয়া জান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে বিভিন্ন গ্রাম থেকে আসা শতাধিক স্থানীয় বাসিন্দা অংশগ্রহণ করেন।

মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা বলেন, বর্তমান ইউপি ভবনটি ইউনিয়নের এক প্রান্তে অবস্থিত হওয়ায় অধিকাংশ বাসিন্দাকে সেবা পেতে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হয়। ভবনটি যদি ইউনিয়নের কেন্দ্রস্থলে স্থাপন করা হয়, তাহলে সবার জন্য সেবাপ্রাপ্তি সহজ হবে এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমও আরও কার্যকর হবে।

মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন স্থানীয় বিএনপির সাবেক সভাপতি সামশুল হক হাওলাদার, সাবেক সাধারণ সম্পাদক বাবুল খান, ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি রুহুল আমিন, শ্রমিক দলের আহ্বায়ক কালাম হাওলাদারসহ আরও অনেকে।

এছাড়া শিক্ষক, শিক্ষার্থী, পেশাজীবী, তরুণ সমাজ ও সচেতন নাগরিকরাও মানববন্ধনে উপস্থিত থেকে এ দাবির প্রতি সংহতি জানান।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




ইশরাক ইস্যুতে সিদ্ধান্ত আপিল রায়ের পর: সিইসি

বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেনের মেয়র পদ সংক্রান্ত বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায় পাওয়ার পর—এমনটাই জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন।

বৃহস্পতিবার (২৯ মে) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “আপিল বিভাগের রায় এখনো হাতে পাইনি। যখন রায় হাতে পাব, তখন সেটি পরীক্ষা করে আইন অনুযায়ী করণীয় নির্ধারণ করা হবে।”

রায় সম্পর্কে তিনি আরও বলেন, “টেলিভিশনের স্ক্রলে ভেসে আসা তথ্য দেখে তো সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় না। পূর্ণাঙ্গ রায় দেখে তারপর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”

এর আগে, সকালে বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেনকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র ঘোষণা সংক্রান্ত গেজেট স্থগিত চেয়ে করা লিভ টু আপিল নিষ্পত্তি করে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ এই আদেশ দেন।

বিকেলে নির্বাচন কমিশনারদের সঙ্গে বৈঠক করেন সিইসি। সেখানে উপস্থিত ছিলেন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ, বেগম তাহমিদা আহমদ এবং মো. আনোয়ারুল ইসলাম।

এখন আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায় হাতে আসার পর নির্বাচন কমিশন পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে বলে জানা গেছে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




খুব শিগগিরই দেশে গণতন্ত্র ফিরবে: খালেদা জিয়া

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেছেন, “খুব শিগগিরই আমরা বাংলাদেশে গণতন্ত্রের পুনঃপ্রতিষ্ঠা দেখতে পাবো।” তিনি অভিযোগ করেন, দেশে গণতন্ত্রের ধারাবাহিক অগ্রযাত্রা এখনো প্রতিনিয়ত বাধার মুখে পড়ছে।

বৃহস্পতিবার (২৯ মে) রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশ (আইইবি) মিলনায়তনে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমানের ৪৪তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

খালেদা জিয়া বলেন, “এই দিনটি আমাদের জীবনে ফিরে আসে এক গভীর বেদনার স্মৃতি নিয়ে। শুধু আমাদের পরিবার নয়, সমগ্র জাতি সেই দিনটি হারিয়েছিল এক দূরদর্শী দেশপ্রেমিক নেতাকে।”

তিনি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে বাংলাদেশের ইতিহাসে অবিচ্ছেদ্য একটি নাম উল্লেখ করে বলেন, “যে চট্টগ্রামে তিনি স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন, সেখান থেকেই তিনি নিজেকে এই দেশের অঙ্গ করে গড়ে তুলেছিলেন। তার নেতৃত্বে দেশ পেয়েছে গণতন্ত্র, সংবাদপত্র ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, আত্মনির্ভরতা এবং একটি শক্তিশালী জাতীয়তাবাদ। তিনি ছিলেন এক সফল, সৎ এবং দূরদর্শী রাষ্ট্রনায়ক।”

খালেদা জিয়া আরও বলেন, “যে গণতন্ত্র ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার সংগ্রামে শহীদ জিয়া জীবন দিয়েছেন, সেই গণতন্ত্র আজও ব্যাহত হচ্ছে। আমাদের অঙ্গীকার হওয়া উচিত—তার দেখানো পথ অনুসরণ করে শিগগিরই গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা।”

তিনি দলের সব স্তরের নেতাকর্মী এবং সাধারণ জনগণের উদ্দেশে আহ্বান জানিয়ে বলেন, “শহীদ জিয়ার রেখে যাওয়া গণতন্ত্র ও উন্নয়নের রাজনীতিকে বাস্তবে রূপ দিতে হবে। সেটাই হবে তার প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা।”

আলোচনা সভায় ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে বক্তব্য রাখেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. মঈন খান, মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, সালাহউদ্দিন আহমদ এবং অর্থনীতিবিদ ও বিশ্লেষক অধ্যাপক মাহবুব উল্লাহ।




বাংলাদেশে দ্রুত নির্বাচনের পক্ষে ভারত

বাংলাদেশে দ্রুততম সময়ের মধ্যে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক, অবাধ ও সুষ্ঠু জাতীয় নির্বাচন দেখতে চায় ভারত। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বৃহস্পতিবার (২৯ মে) এ বিষয়ে তাদের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে মুখপাত্র রণধির জয়সওয়াল বলেন, “বাংলাদেশের প্রয়োজন এমন একটি নির্বাচন, যা দ্রুততম সময়ে অনুষ্ঠিত হবে এবং জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটাবে।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা সবসময় বলে এসেছি—বাংলাদেশে এমন নির্বাচন প্রয়োজন, যেখানে সব পক্ষ অংশগ্রহণ করবে এবং যা হবে অবাধ ও নিরপেক্ষ।”

অন্যদিকে, জাপানের টোকিওতে আয়োজিত ‘৩০তম নিক্কেই ফোরাম’-এ বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসও নির্বাচন প্রসঙ্গে বক্তব্য দেন। তিনি জানান, “আমরা এমন একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছি, যা ন্যায়বিচার, স্বাধীনতা ও মানুষের মর্যাদা রক্ষা করবে।”

ড. ইউনূস বলেন, “এই নির্বাচন শান্তিপূর্ণ ও কার্যকর গণতান্ত্রিক রূপান্তরের সূচনা করবে। বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে জনগণের ক্ষমতায়ন ও তৃণমূল নেতৃত্ব আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।”

তিনি আরও উল্লেখ করেন, “অনেক চ্যালেঞ্জ পেরিয়ে আমরা এখন দায়িত্বে আছি। সরকারের মূল লক্ষ্য হচ্ছে জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণ করা।”

এ সময় তিনি রোহিঙ্গা সংকটে বাংলাদেশের মানবিক ভূমিকা এবং জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী মিশনে দেশের সক্রিয় অংশগ্রহণের কথাও তুলে ধরেন।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




বিসিবিতে নেতৃত্ব সংকট, অনড় ফারুক

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডে (বিসিবি) নেতৃত্ব ঘিরে সৃষ্টি হয়েছে গভীর সংকট। সরকারের পক্ষ থেকে সরে যাওয়ার চাপ থাকলেও, বিসিবি সভাপতি ফারুক আহমেদ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন—তিনি পদত্যাগ করছেন না।

সূত্র বলছে, গতকাল রাতে যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা ফারুক আহমেদকে অনুরোধ করেন পদ ছাড়ার জন্য। তবে ফারুক আজ জানিয়েছেন, পদত্যাগের প্রশ্নই ওঠে না। তার বক্তব্য, “সরতে বলেছে, কিন্তু কেন সরতে হবে তা বলা হয়নি।”

মাত্র ৯ মাস আগে ফারুককে সভাপতি হিসেবে নিয়োগ দেয় বর্তমান সরকার, জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের মনোনয়নে। হঠাৎ করে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তে তিনি হতবাক। ইতোমধ্যে জানা গেছে, সাবেক অধিনায়ক আমিনুল ইসলাম বুলবুলকে নতুন সভাপতি হিসেবে ভাবা হচ্ছে। তবে গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তাকে বোর্ডের কাউন্সিলর ও পরিচালক বানাতে হবে। এই প্রক্রিয়া সময়সাপেক্ষ এবং আইনি জটিলতায় ভরা।

বর্তমানে বিসিবির দুই এনএসসি পরিচালক—ফারুক আহমেদ ও নাজমুল আবেদীন ফাহিম। বুলবুলকে আনতে হলে এদের একজনকে সরাতেই হবে, যেটা এখন প্রধান সংকটের কারণ। ফারুক সরতে রাজি নন।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) বারবার বলে এসেছে, কোনো দেশের ক্রিকেট বোর্ডে সরকারের হস্তক্ষেপ গ্রহণযোগ্য নয়। অতীতে এই কারণে শ্রীলঙ্কা ও জিম্বাবুয়ে নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়েছে। তাই জোর করে ফারুককে সরানোর চেষ্টায় আন্তর্জাতিক মহলেও নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া আসতে পারে।

বিসিবির বোর্ড সভা আগামী শনিবার (৩১ মে) অনুষ্ঠিত হবে। সেদিন সভাপতির বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে। তবে ফারুক যদি নিজে পদত্যাগ না করেন, তাহলে অক্টোবরের আগে সরকারও তাকে সরাতে পারবে না—এটাই গঠনতন্ত্রের বিধান।

ফারুকের স্থানে বুলবুল আসলেও, সেটি হবে এনএসসি কোটায় তৃতীয় পরিবর্তন। এতে নতুন বিতর্ক তৈরি হওয়াও অসম্ভব নয়। প্রশ্ন উঠছে—একই মেয়াদে কতোবার পরিচালক বদলানো যাবে?

বাংলাদেশ ক্রিকেট এখন এক অনিশ্চিত পথে। বোর্ডের নেতৃত্বে স্থিতিশীলতা না ফিরলে, আইসিসির নজরদারির ঝুঁকিতে পড়তে পারে দেশের ক্রিকেট।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




জাপানে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হচ্ছে বাংলাদেশীদের

আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশ থেকে এক লাখ শ্রমিক নেবে জাপান—এমন ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও ব্যবসায়ীরা। শ্রমিক সংকট মোকাবিলায় এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৯ মে) টোকিওতে ‘বাংলাদেশ সেমিনার অন হিউম্যান রিসোর্সেস’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে এই তথ্য জানানো হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেন, “জাপানে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা সরকারের অগ্রাধিকার। এটি শুধু কাজের সুযোগ নয়, জাপানকে জানারও একটি দ্বার উন্মোচন করবে।”

সেমিনারে দুটি সমঝোতা স্মারক সই হয়:

  1. বিএমইটি ও কাইকম ড্রিম স্ট্রিট (জাপান-বাংলাদেশ যৌথ উদ্যোগ)
  2. বিএমইটি, এনবিসিসি (জাপানের ৬৫টি কোম্পানির ফেডারেশন), ও জেবিবিআরএ (জাপান-বাংলাদেশ রিক্রুটিং এজেন্সি)

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “১৮ কোটির বেশি মানুষের এই দেশে অর্ধেকই ২৭ বছরের নিচে। সরকারের দায়িত্ব হলো তাদের সম্ভাবনার দরজা খুলে দেওয়া।”

জাপানি প্রতিনিধি মিতসুরু মাতসুশিতা বলেন, “বাংলাদেশি তরুণদের মধ্যে বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে এবং জাপানি কোম্পানিগুলো তাদের নিয়ে আগ্রহী।”

এনবিসিসি চেয়ারম্যান মিকিও কেসাগায়ামা জানান, তাদের ফেডারেশন আগামী পাঁচ বছরে এক লাখ বাংলাদেশি শ্রমিককে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত।

ওয়াতামি গ্রুপের প্রেসিডেন্ট মিকি ওয়াতানাবে বলেন, তারা বাংলাদেশে পরিচালিত স্কুলে প্রতিবছর ১৫০০ শিক্ষার্থীকে প্রশিক্ষণ দেন এবং ভবিষ্যতে এই সংখ্যা ৩০০০-এ উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

জেইটিসিও চেয়ারম্যান হিরোআকি ইয়াগি বলেন, বাংলাদেশিদের জাপানে কাজের সুযোগ বাড়ছে, তবে ভাষাশিক্ষায় ঘাটতি রয়েছে।

জাপানের শ্রম ও কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নিকি হিরোবুমি জানান, “জাপানে জনসংখ্যা হ্রাস পাচ্ছে, শ্রমিক সংকট বাড়ছে। বাংলাদেশ এই সংকট নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হতে পারে।”

বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. দাউদ আলী বলেন, ২০৪০ সালের মধ্যে জাপানে শ্রমিক সংকট ১ কোটি ১০ লাখে পৌঁছাতে পারে। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশ আরও দক্ষ কর্মী পাঠাতে পারে।




ইশরাকের শপথ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবে ইসি, গেজেট বহাল: আপিল বিভাগ

বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেনকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র হিসেবে শপথ গ্রহণের বিষয়ে নির্বাচন কমিশন (ইসি) সাংবিধানিকভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারে বলে রায় দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। একইসঙ্গে, ইশরাককে মেয়র ঘোষণা করে নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালের রায় ও নির্বাচন কমিশনের গেজেট স্থগিত চেয়ে করা ‘লিভ টু আপিল’ নিষ্পত্তি করে দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৯ মে), প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ এ আদেশ দেন। শুনানিতে ইসির পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার ড. মুহাম্মদ ইয়াসিন খান এবং ইশরাকের পক্ষে ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন ও এ কে এম এহসানুর রহমান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার অনিক আর হক। আপিলকারীর পক্ষে শুনানি করেন সিনিয়র অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ হোসেন লিপু।

ইসির আইনজীবী জানান, গেজেট প্রকাশে আইন মন্ত্রণালয়ের মতামতের দরকার থাকলেও, ট্রাইব্যুনালের রায়ের পর ১০ দিন সময় বাকি ছিল। তাই ইসি আপিল না করে গেজেট প্রকাশ করেছিল। এখন নতুন করে গেজেট প্রকাশের প্রয়োজন নেই। শপথ গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিতে ইসি স্বাধীন এবং তাদের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হবে।

ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, গেজেট বহাল রয়েছে এবং ইসির হাতে এখন সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষমতা আছে। চাইলে তারা স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়কে অবহিত করতে পারে।

উল্লেখ্য, শপথের জন্য গেজেটের মেয়াদ শেষ হয়েছে ২৬ মে। এখনো ইশরাক শপথ নেননি। তার আইনজীবীরা বলছেন, তার মেয়র পদ পাওয়ার দাবি এখনো আইনগতভাবে বহাল।

এর আগে, হাইকোর্ট গত ২২ মে রায় দিয়ে নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালের রায় এবং গেজেটের কার্যক্রম স্থগিত চেয়ে করা রিট খারিজ করেন। এরপর ২৫ মে আপিল করা হয়। এই আবেদন শুনানির জন্য চেম্বার আদালত ২৯ মে দিন নির্ধারণ করে। সেই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার আপিল বিভাগ চূড়ান্ত আদেশ দেয়।

পেছনের প্রেক্ষাপটে, ২০২০ সালের ১ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে আওয়ামী লীগের শেখ ফজলে নূর তাপস মেয়র নির্বাচিত হন এবং পরদিন গেজেট প্রকাশিত হয়। ২০২০ সালের ৩ মার্চ ইশরাক ফলাফল বাতিল চেয়ে মামলা করেন। এরপর ২০২৪ সালের ২৭ মার্চ আদালত তাকে মেয়র ঘোষণা করে এবং ২৭ এপ্রিল নির্বাচন কমিশন গেজেট প্রকাশ করে।

এখন সুপ্রিম কোর্ট বলেছে, এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার একমাত্র এখতিয়ার ইসির। এর ফলে, এখন ইশরাকের শপথ নেওয়া না নেওয়ার বিষয়টি নির্ভর করছে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের ওপর।




চাকরি অধ্যাদেশ বাতিল চেয়ে প্রধান উপদেষ্টার প্রত্যাবর্তনের অপেক্ষা

সরকারি চাকরি (সংশোধন) অধ্যাদেশ ২০২৫ বাতিলের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ সচিবালয় কর্মচারী ঐক্য ফোরাম। তারা জানিয়েছেন, আপাতত কর্মবিরতি বন্ধ থাকলেও দাবি আদায়ের আন্দোলন থেমে নেই।

বৃহস্পতিবার সচিবালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে এক ঘণ্টার কর্মবিরতির পর কো-চেয়ারম্যান মো. নুরুল ইসলাম জানান, প্রধান উপদেষ্টা আগামী শনিবার দেশে ফিরবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই রোববার (১ জুন) তারা আশাব্যঞ্জক কোনো ফল পাবেন বলে প্রত্যাশা করছেন।

তিনি আরও বলেন, আন্দোলনের একটি সময়সীমা থাকা উচিত। ঈদের আগে চারদিন সময় রয়েছে, এর মধ্যেই ভালো কোনো ফলাফলের প্রত্যাশা করছেন তারা। রোববার উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার, মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান ও সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান এবং সোমবার মাহফুজ আলম ও আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার কাছে স্মারকলিপি প্রদান করা হবে। পাশাপাশি মাঠ পর্যায় থেকেও মন্ত্রিপরিষদ সচিবের কাছে স্মারকলিপি পাঠানো হবে।

নুরুল ইসলাম বলেন, ভালো খবর এলে সব কর্মসূচি প্রত্যাহার করে ঈদ উদযাপন করবেন তারা। তবে দাবি পূরণ না হলে আন্দোলন চলবে।

প্রসঙ্গত, গত ২২ মে উপদেষ্টা পরিষদ সরকারি চাকরি (সংশোধন) অধ্যাদেশ ২০২৫-এর খসড়া অনুমোদন দেয়। এতে কিছু কঠোর শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েই চাকরিচ্যুত করার বিধান রাখা হয়, যা নিয়ে সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে।