খুব শিগগিরই দেশে গণতন্ত্র ফিরবে: খালেদা জিয়া

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেছেন, “খুব শিগগিরই আমরা বাংলাদেশে গণতন্ত্রের পুনঃপ্রতিষ্ঠা দেখতে পাবো।” তিনি অভিযোগ করেন, দেশে গণতন্ত্রের ধারাবাহিক অগ্রযাত্রা এখনো প্রতিনিয়ত বাধার মুখে পড়ছে।

বৃহস্পতিবার (২৯ মে) রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশ (আইইবি) মিলনায়তনে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমানের ৪৪তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

খালেদা জিয়া বলেন, “এই দিনটি আমাদের জীবনে ফিরে আসে এক গভীর বেদনার স্মৃতি নিয়ে। শুধু আমাদের পরিবার নয়, সমগ্র জাতি সেই দিনটি হারিয়েছিল এক দূরদর্শী দেশপ্রেমিক নেতাকে।”

তিনি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে বাংলাদেশের ইতিহাসে অবিচ্ছেদ্য একটি নাম উল্লেখ করে বলেন, “যে চট্টগ্রামে তিনি স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন, সেখান থেকেই তিনি নিজেকে এই দেশের অঙ্গ করে গড়ে তুলেছিলেন। তার নেতৃত্বে দেশ পেয়েছে গণতন্ত্র, সংবাদপত্র ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, আত্মনির্ভরতা এবং একটি শক্তিশালী জাতীয়তাবাদ। তিনি ছিলেন এক সফল, সৎ এবং দূরদর্শী রাষ্ট্রনায়ক।”

খালেদা জিয়া আরও বলেন, “যে গণতন্ত্র ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার সংগ্রামে শহীদ জিয়া জীবন দিয়েছেন, সেই গণতন্ত্র আজও ব্যাহত হচ্ছে। আমাদের অঙ্গীকার হওয়া উচিত—তার দেখানো পথ অনুসরণ করে শিগগিরই গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা।”

তিনি দলের সব স্তরের নেতাকর্মী এবং সাধারণ জনগণের উদ্দেশে আহ্বান জানিয়ে বলেন, “শহীদ জিয়ার রেখে যাওয়া গণতন্ত্র ও উন্নয়নের রাজনীতিকে বাস্তবে রূপ দিতে হবে। সেটাই হবে তার প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা।”

আলোচনা সভায় ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে বক্তব্য রাখেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. মঈন খান, মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, সালাহউদ্দিন আহমদ এবং অর্থনীতিবিদ ও বিশ্লেষক অধ্যাপক মাহবুব উল্লাহ।




বাংলাদেশে দ্রুত নির্বাচনের পক্ষে ভারত

বাংলাদেশে দ্রুততম সময়ের মধ্যে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক, অবাধ ও সুষ্ঠু জাতীয় নির্বাচন দেখতে চায় ভারত। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বৃহস্পতিবার (২৯ মে) এ বিষয়ে তাদের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে মুখপাত্র রণধির জয়সওয়াল বলেন, “বাংলাদেশের প্রয়োজন এমন একটি নির্বাচন, যা দ্রুততম সময়ে অনুষ্ঠিত হবে এবং জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটাবে।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা সবসময় বলে এসেছি—বাংলাদেশে এমন নির্বাচন প্রয়োজন, যেখানে সব পক্ষ অংশগ্রহণ করবে এবং যা হবে অবাধ ও নিরপেক্ষ।”

অন্যদিকে, জাপানের টোকিওতে আয়োজিত ‘৩০তম নিক্কেই ফোরাম’-এ বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসও নির্বাচন প্রসঙ্গে বক্তব্য দেন। তিনি জানান, “আমরা এমন একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছি, যা ন্যায়বিচার, স্বাধীনতা ও মানুষের মর্যাদা রক্ষা করবে।”

ড. ইউনূস বলেন, “এই নির্বাচন শান্তিপূর্ণ ও কার্যকর গণতান্ত্রিক রূপান্তরের সূচনা করবে। বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে জনগণের ক্ষমতায়ন ও তৃণমূল নেতৃত্ব আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।”

তিনি আরও উল্লেখ করেন, “অনেক চ্যালেঞ্জ পেরিয়ে আমরা এখন দায়িত্বে আছি। সরকারের মূল লক্ষ্য হচ্ছে জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণ করা।”

এ সময় তিনি রোহিঙ্গা সংকটে বাংলাদেশের মানবিক ভূমিকা এবং জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী মিশনে দেশের সক্রিয় অংশগ্রহণের কথাও তুলে ধরেন।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




বিসিবিতে নেতৃত্ব সংকট, অনড় ফারুক

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডে (বিসিবি) নেতৃত্ব ঘিরে সৃষ্টি হয়েছে গভীর সংকট। সরকারের পক্ষ থেকে সরে যাওয়ার চাপ থাকলেও, বিসিবি সভাপতি ফারুক আহমেদ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন—তিনি পদত্যাগ করছেন না।

সূত্র বলছে, গতকাল রাতে যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা ফারুক আহমেদকে অনুরোধ করেন পদ ছাড়ার জন্য। তবে ফারুক আজ জানিয়েছেন, পদত্যাগের প্রশ্নই ওঠে না। তার বক্তব্য, “সরতে বলেছে, কিন্তু কেন সরতে হবে তা বলা হয়নি।”

মাত্র ৯ মাস আগে ফারুককে সভাপতি হিসেবে নিয়োগ দেয় বর্তমান সরকার, জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের মনোনয়নে। হঠাৎ করে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তে তিনি হতবাক। ইতোমধ্যে জানা গেছে, সাবেক অধিনায়ক আমিনুল ইসলাম বুলবুলকে নতুন সভাপতি হিসেবে ভাবা হচ্ছে। তবে গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তাকে বোর্ডের কাউন্সিলর ও পরিচালক বানাতে হবে। এই প্রক্রিয়া সময়সাপেক্ষ এবং আইনি জটিলতায় ভরা।

বর্তমানে বিসিবির দুই এনএসসি পরিচালক—ফারুক আহমেদ ও নাজমুল আবেদীন ফাহিম। বুলবুলকে আনতে হলে এদের একজনকে সরাতেই হবে, যেটা এখন প্রধান সংকটের কারণ। ফারুক সরতে রাজি নন।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) বারবার বলে এসেছে, কোনো দেশের ক্রিকেট বোর্ডে সরকারের হস্তক্ষেপ গ্রহণযোগ্য নয়। অতীতে এই কারণে শ্রীলঙ্কা ও জিম্বাবুয়ে নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়েছে। তাই জোর করে ফারুককে সরানোর চেষ্টায় আন্তর্জাতিক মহলেও নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া আসতে পারে।

বিসিবির বোর্ড সভা আগামী শনিবার (৩১ মে) অনুষ্ঠিত হবে। সেদিন সভাপতির বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে। তবে ফারুক যদি নিজে পদত্যাগ না করেন, তাহলে অক্টোবরের আগে সরকারও তাকে সরাতে পারবে না—এটাই গঠনতন্ত্রের বিধান।

ফারুকের স্থানে বুলবুল আসলেও, সেটি হবে এনএসসি কোটায় তৃতীয় পরিবর্তন। এতে নতুন বিতর্ক তৈরি হওয়াও অসম্ভব নয়। প্রশ্ন উঠছে—একই মেয়াদে কতোবার পরিচালক বদলানো যাবে?

বাংলাদেশ ক্রিকেট এখন এক অনিশ্চিত পথে। বোর্ডের নেতৃত্বে স্থিতিশীলতা না ফিরলে, আইসিসির নজরদারির ঝুঁকিতে পড়তে পারে দেশের ক্রিকেট।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




জাপানে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হচ্ছে বাংলাদেশীদের

আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশ থেকে এক লাখ শ্রমিক নেবে জাপান—এমন ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও ব্যবসায়ীরা। শ্রমিক সংকট মোকাবিলায় এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৯ মে) টোকিওতে ‘বাংলাদেশ সেমিনার অন হিউম্যান রিসোর্সেস’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে এই তথ্য জানানো হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেন, “জাপানে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা সরকারের অগ্রাধিকার। এটি শুধু কাজের সুযোগ নয়, জাপানকে জানারও একটি দ্বার উন্মোচন করবে।”

সেমিনারে দুটি সমঝোতা স্মারক সই হয়:

  1. বিএমইটি ও কাইকম ড্রিম স্ট্রিট (জাপান-বাংলাদেশ যৌথ উদ্যোগ)
  2. বিএমইটি, এনবিসিসি (জাপানের ৬৫টি কোম্পানির ফেডারেশন), ও জেবিবিআরএ (জাপান-বাংলাদেশ রিক্রুটিং এজেন্সি)

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “১৮ কোটির বেশি মানুষের এই দেশে অর্ধেকই ২৭ বছরের নিচে। সরকারের দায়িত্ব হলো তাদের সম্ভাবনার দরজা খুলে দেওয়া।”

জাপানি প্রতিনিধি মিতসুরু মাতসুশিতা বলেন, “বাংলাদেশি তরুণদের মধ্যে বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে এবং জাপানি কোম্পানিগুলো তাদের নিয়ে আগ্রহী।”

এনবিসিসি চেয়ারম্যান মিকিও কেসাগায়ামা জানান, তাদের ফেডারেশন আগামী পাঁচ বছরে এক লাখ বাংলাদেশি শ্রমিককে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত।

ওয়াতামি গ্রুপের প্রেসিডেন্ট মিকি ওয়াতানাবে বলেন, তারা বাংলাদেশে পরিচালিত স্কুলে প্রতিবছর ১৫০০ শিক্ষার্থীকে প্রশিক্ষণ দেন এবং ভবিষ্যতে এই সংখ্যা ৩০০০-এ উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

জেইটিসিও চেয়ারম্যান হিরোআকি ইয়াগি বলেন, বাংলাদেশিদের জাপানে কাজের সুযোগ বাড়ছে, তবে ভাষাশিক্ষায় ঘাটতি রয়েছে।

জাপানের শ্রম ও কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নিকি হিরোবুমি জানান, “জাপানে জনসংখ্যা হ্রাস পাচ্ছে, শ্রমিক সংকট বাড়ছে। বাংলাদেশ এই সংকট নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হতে পারে।”

বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. দাউদ আলী বলেন, ২০৪০ সালের মধ্যে জাপানে শ্রমিক সংকট ১ কোটি ১০ লাখে পৌঁছাতে পারে। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশ আরও দক্ষ কর্মী পাঠাতে পারে।




ইশরাকের শপথ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবে ইসি, গেজেট বহাল: আপিল বিভাগ

বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেনকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র হিসেবে শপথ গ্রহণের বিষয়ে নির্বাচন কমিশন (ইসি) সাংবিধানিকভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারে বলে রায় দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। একইসঙ্গে, ইশরাককে মেয়র ঘোষণা করে নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালের রায় ও নির্বাচন কমিশনের গেজেট স্থগিত চেয়ে করা ‘লিভ টু আপিল’ নিষ্পত্তি করে দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৯ মে), প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ এ আদেশ দেন। শুনানিতে ইসির পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার ড. মুহাম্মদ ইয়াসিন খান এবং ইশরাকের পক্ষে ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন ও এ কে এম এহসানুর রহমান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার অনিক আর হক। আপিলকারীর পক্ষে শুনানি করেন সিনিয়র অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ হোসেন লিপু।

ইসির আইনজীবী জানান, গেজেট প্রকাশে আইন মন্ত্রণালয়ের মতামতের দরকার থাকলেও, ট্রাইব্যুনালের রায়ের পর ১০ দিন সময় বাকি ছিল। তাই ইসি আপিল না করে গেজেট প্রকাশ করেছিল। এখন নতুন করে গেজেট প্রকাশের প্রয়োজন নেই। শপথ গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিতে ইসি স্বাধীন এবং তাদের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হবে।

ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, গেজেট বহাল রয়েছে এবং ইসির হাতে এখন সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষমতা আছে। চাইলে তারা স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়কে অবহিত করতে পারে।

উল্লেখ্য, শপথের জন্য গেজেটের মেয়াদ শেষ হয়েছে ২৬ মে। এখনো ইশরাক শপথ নেননি। তার আইনজীবীরা বলছেন, তার মেয়র পদ পাওয়ার দাবি এখনো আইনগতভাবে বহাল।

এর আগে, হাইকোর্ট গত ২২ মে রায় দিয়ে নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালের রায় এবং গেজেটের কার্যক্রম স্থগিত চেয়ে করা রিট খারিজ করেন। এরপর ২৫ মে আপিল করা হয়। এই আবেদন শুনানির জন্য চেম্বার আদালত ২৯ মে দিন নির্ধারণ করে। সেই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার আপিল বিভাগ চূড়ান্ত আদেশ দেয়।

পেছনের প্রেক্ষাপটে, ২০২০ সালের ১ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে আওয়ামী লীগের শেখ ফজলে নূর তাপস মেয়র নির্বাচিত হন এবং পরদিন গেজেট প্রকাশিত হয়। ২০২০ সালের ৩ মার্চ ইশরাক ফলাফল বাতিল চেয়ে মামলা করেন। এরপর ২০২৪ সালের ২৭ মার্চ আদালত তাকে মেয়র ঘোষণা করে এবং ২৭ এপ্রিল নির্বাচন কমিশন গেজেট প্রকাশ করে।

এখন সুপ্রিম কোর্ট বলেছে, এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার একমাত্র এখতিয়ার ইসির। এর ফলে, এখন ইশরাকের শপথ নেওয়া না নেওয়ার বিষয়টি নির্ভর করছে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের ওপর।




চাকরি অধ্যাদেশ বাতিল চেয়ে প্রধান উপদেষ্টার প্রত্যাবর্তনের অপেক্ষা

সরকারি চাকরি (সংশোধন) অধ্যাদেশ ২০২৫ বাতিলের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ সচিবালয় কর্মচারী ঐক্য ফোরাম। তারা জানিয়েছেন, আপাতত কর্মবিরতি বন্ধ থাকলেও দাবি আদায়ের আন্দোলন থেমে নেই।

বৃহস্পতিবার সচিবালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে এক ঘণ্টার কর্মবিরতির পর কো-চেয়ারম্যান মো. নুরুল ইসলাম জানান, প্রধান উপদেষ্টা আগামী শনিবার দেশে ফিরবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই রোববার (১ জুন) তারা আশাব্যঞ্জক কোনো ফল পাবেন বলে প্রত্যাশা করছেন।

তিনি আরও বলেন, আন্দোলনের একটি সময়সীমা থাকা উচিত। ঈদের আগে চারদিন সময় রয়েছে, এর মধ্যেই ভালো কোনো ফলাফলের প্রত্যাশা করছেন তারা। রোববার উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার, মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান ও সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান এবং সোমবার মাহফুজ আলম ও আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার কাছে স্মারকলিপি প্রদান করা হবে। পাশাপাশি মাঠ পর্যায় থেকেও মন্ত্রিপরিষদ সচিবের কাছে স্মারকলিপি পাঠানো হবে।

নুরুল ইসলাম বলেন, ভালো খবর এলে সব কর্মসূচি প্রত্যাহার করে ঈদ উদযাপন করবেন তারা। তবে দাবি পূরণ না হলে আন্দোলন চলবে।

প্রসঙ্গত, গত ২২ মে উপদেষ্টা পরিষদ সরকারি চাকরি (সংশোধন) অধ্যাদেশ ২০২৫-এর খসড়া অনুমোদন দেয়। এতে কিছু কঠোর শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েই চাকরিচ্যুত করার বিধান রাখা হয়, যা নিয়ে সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে।




বিসিবি সভাপতির দায়িত্ব নিতে প্রস্তুত আমিনুল ইসলাম বুলবুল

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতির পদে পরিবর্তনের জোর গুঞ্জন চলছিল বেশ কিছুদিন ধরে। সেই গুঞ্জন এবার বাস্তবের দিকে এগোচ্ছে। সাবেক জাতীয় দলের অধিনায়ক আমিনুল ইসলাম বুলবুলের নাম এই পদে শোনা যাচ্ছিল আগেই, তবে এখন তা অনেকটাই নিশ্চিত বলেই ধারণা করা হচ্ছে।

বুধবার রাতে বিসিবি সভাপতি ফারুক আহমেদ ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বাসভবনে গিয়ে দেখা করলে পরিস্থিতি আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। সেখানেই ফারুককে পদ ছাড়ার বার্তা দেওয়া হয়। তবে ফারুক কিছু প্রশ্ন তুললে ক্রীড়া উপদেষ্টা তাতে কোনো উত্তর দেননি। পরে তিনি পদত্যাগ নিয়ে চিন্তা-ভাবনার জন্য কিছুদিন সময় চেয়ে নেন।

সরকার পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই বিসিবির নেতৃত্বে পরিবর্তনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। আর এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে আমিনুল ইসলাম বুলবুলকে দায়িত্ব দেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে। সম্প্রতি দেশে ফিরে আসায় তার সম্ভাবনা আরও জোরালো হয়েছে।

আজ দুপুরের আগেই একটি গণমাধ্যমকে আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, ‘আমাকে এখনো বিসিবি সভাপতির দায়িত্ব নিতে বলা হয়নি। গতকালের আলোচনাতেও আমি ছিলাম না। তবে ১০-১৫ দিন আগে ক্রীড়া উপদেষ্টার পক্ষ থেকে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল। তারা আমাকে অল্প সময়ের জন্য কোনো একটি দায়িত্বে দেখতে চায়। আমি এতে রাজি আছি।’

তার এই বক্তব্য থেকেই ধারণা করা যাচ্ছে, বিসিবিতে শিগগিরই বড় ধরনের পরিবর্তন আসছে। সরকার বিষয়টি খুব সতর্কতার সঙ্গে সামাল দিতে চাচ্ছে যেন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) সরকারের হস্তক্ষেপ হিসেবে না দেখে। কারণ, সেটি হলে আইসিসির নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে পারে বাংলাদেশ ক্রিকেট। তবে সবকিছু মিলিয়ে ধারণা করা হচ্ছে, ফারুক আহমেদকে সরিয়ে আমিনুল ইসলাম বুলবুলকেই বিসিবির অন্তর্বর্তীকালীন সভাপতি করা হচ্ছে।




জনগণের জন্য একটা নির্বাচিত সরকার প্রতিষ্ঠা দরকার : তারেক রহমান

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, জনগণের রায় বাস্তবায়নের জন্য একটি জবাবদিহিমূলক, নির্বাচিত সরকার প্রয়োজন। তিনি অভিযোগ করেন, জাতীয় নির্বাচন নিয়ে ইতোমধ্যেই টালবাহানা শুরু হয়েছে এবং কথিত অল্প সংস্কার ও অতিরিক্ত সংস্কারের ভেতরে আটকে যাচ্ছে নির্বাচনের ভবিষ্যৎ।

বুধবার (২৮ মে) রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে জাতীয়তাবাদী যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদল আয়োজিত ‘তারুণ্যের সমাবেশে’ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব মন্তব্য করেন।

তারেক রহমান বলেন, সংস্কারের নামে সময়ক্ষেপণের পেছনে অন্তর্বর্তী সরকারের ভেতরে ও বাইরে বিশেষ কোনো উদ্দেশ্য কাজ করছে বলে জনগণ বিশ্বাস করতে শুরু করেছে। তিনি অভিযোগ করেন, আদালতের রায় অবজ্ঞা করে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নির্বাচিত কাউন্সিলর ইশরাক হোসেনকে দায়িত্ব গ্রহণে বাধা দেওয়া হয়েছে, যা অতীতের স্বৈরশাসনের পুনরাবৃত্তি।

তিনি প্রশ্ন তোলেন, যারা আদালতের নির্দেশ মানে না, আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল নয়, তাদের কাছ থেকে সংস্কারের কতটুকু আশা করা যায়? পুঁথিগত সংস্কারের চেয়ে মানুষের মানসিকতার সংস্কার জরুরি বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি বলেন, “নর্থ কোরিয়ার সংবিধানেও ‘ডেমোক্রেটিক’ লেখা আছে, কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। তাই শুধু কি লেখা আছে, তা নয়— বাস্তবে কী হচ্ছে সেটাই গুরুত্বপূর্ণ।”

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, নিরপেক্ষতা ও বিশ্বাসযোগ্যতাই অন্তর্বর্তী সরকারের মূল ভিত্তি হওয়া উচিত। সরকার যেন এমন কোনো পদক্ষেপ না নেয়, যাতে জনগণের আস্থা ও ভালোবাসা হারিয়ে যায়।

তিনি বলেন, “যদি কেউ রাষ্ট্র পরিচালনায় থাকতে চান, তবে সরকার থেকে পদত্যাগ করে সাধারণ জনগণের কাতারে এসে নির্বাচনে অংশ নিন। জনগণ যদি ভোট দেয়, তাহলে পুনরায় সরকারে যান।”

তিনি আরও জানান, গত দেড় দশকে ভোটার তালিকায় প্রায় সাড়ে তিন কোটি নতুন ভোটার যুক্ত হয়েছে, যারা এখনও একটি সুষ্ঠু জাতীয় নির্বাচনে ভোট দিতে পারেনি। তিনি বলেন, “এই নতুন ভোটারদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় এবং একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যে অন্তর্বর্তী সরকারের উচিত দৃশ্যমান প্রস্তুতি নেওয়া।”

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, অতীতে এমন সরকার তিন মাসের মধ্যেই নির্বাচন সম্পন্ন করেছে। অথচ বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার ১০ মাস পার করেও নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা করেনি।

তারেক রহমান দাবি করেন, “আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই জাতীয় নির্বাচন আয়োজন করতে হবে।” তিনি তরুণ সমাজ ও দেশবাসীকে জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে আহ্বান জানান।

সমাবেশে তিনি বিএনপি নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, “জনগণের কাছে যান, তাদের প্রত্যাশা জানুন এবং তাদের মন জয় করুন। কারণ, জনগণই বিএনপির সকল রাজনৈতিক শক্তির উৎস।”

বক্তব্যের শেষে তিনি দেশবাসীর উদ্দেশে স্লোগান দেন:
‘দিল্লি নয়, দিল্লি না; নয় অন্য কোনো দেশ; সবার আগে বাংলাদেশ।’

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জাতীয়তাবাদী যুবদলের সভাপতি মোনায়েম মুন্না। অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক রাজীব আহসান এবং ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছির।
এছাড়াও বক্তব্য রাখেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও সালাহউদ্দিন আহমেদ।




বাংলাদেশে জিলহজের চাঁদ দেখা গেছে, ঈদুল আজহা ৭ জুন

বাংলাদেশে ১৪৪৬ হিজরি সনের পবিত্র জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা গেছে। ফলে আগামী ৭ জুন, শনিবার সারা দেশে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও কোরবানির মহিমায় উদযাপিত হবে ঈদুল আজহা।

বুধবার (২৮ মে) সন্ধ্যায় রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় দেশের বিভিন্ন জেলা প্রশাসন, আবহাওয়া অধিদপ্তর এবং ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মাঠপর্যায়ের কার্যালয় থেকে পাওয়া তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে চাঁদ দেখার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২৯ মে (বৃহস্পতিবার) থেকে জিলহজ মাসের গণনা শুরু হবে। সেই অনুযায়ী, ৭ জুন (শনিবার) ঈদুল আজহা উদযাপিত হবে।

ধর্ম মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, চাঁদ দেখা সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহের জন্য টেলিফোন ও ফ্যাক্স নম্বর চালু রাখা হয়েছিল। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে চাঁদ দেখার খবর পাওয়ায় দ্রুত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব হয়েছে।

সভায় উপস্থিত ছিলেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক, আবহাওয়া অধিদপ্তরের প্রতিনিধি, বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব, চাঁদ দেখা কমিটির সদস্য এবং ধর্ম মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

উল্লেখ্য, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ওমান ও ইন্দোনেশিয়ায়ও ২৮ মে চাঁদ দেখা গেছে। এসব দেশে ৫ জুন পালিত হবে আরাফাতের দিন এবং ৬ জুন ঈদুল আজহা উদযাপন করা হবে।




নতুন মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয় ৯ সাবেক আওয়ামী লীগ নেতাকে

জুলাই মাসে ধানমন্ডিতে মো. রিয়াজ (২৩) নামের এক যুবক হত্যার ঘটনায় শেখ হাসিনার উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক ও আওয়ামী লীগ নেতা নুরু মিয়ার রিমান্ড মঞ্জুরের পর এবার নতুন মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে আরও ৯ জন প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতাকে।

বুধবার (২৮ মে) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মেহেরা মাহবুব পৃথক শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।

যাত্রাবাড়ী থানার বিভিন্ন হত্যা ও হত্যাচেষ্টা মামলায় সাবেক মন্ত্রী আমির হোসেন আমু, জাসদের সভাপতি হাসানুল হক ইনু, ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেননসহ নয়জনকে গ্রেফতার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেন আদালত।

বাকি গ্রেফতার দেখানো নেতারা হলেন:

  • সাবেক খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম
  • তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক
  • সাবেক ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম
  • সাবেক সংসদ সদস্য মনিরুল ইসলাম মনু
  • সাবেক স্বরাষ্ট্র সচিব জাহাঙ্গীর আলম
  • আওয়ামী লীগ নেত্রী রজনী আক্তার টুসী

তদন্ত কর্মকর্তাদের আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত এই নেতাদের বিভিন্ন মামলায় গ্রেফতার দেখানোর আদেশ দেন।

এছাড়া, একই থানা দায়ের করা আরও দুটি মামলায় সালমান এফ রহমানকে একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় এবং আনিসুল হককে একটি হত্যা ও একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।

মামলার নথি অনুযায়ী, আমির হোসেন আমুকে একটি হত্যাচেষ্টা মামলায়, ইনু ও মেননকে একটি হত্যাচেষ্টা এবং দুটি করে হত্যা মামলায়, পলককে একটি হত্যা ও একটি হত্যাচেষ্টা মামলায়, মনিরুল ইসলাম মনুকে দুটি হত্যা মামলায়, কামরুল ইসলাম ও আতিকুল ইসলামকে একটি করে হত্যাচেষ্টা মামলায় এবং জাহাঙ্গীর আলম ও রজনী আক্তার টুসীকে একটি করে হত্যা মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।এবং সব মামলাগুলো যাত্রাবাড়ী থানায় দায়ের করা হয়েছে।

এই বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ওমর ফারুক ফারুকী গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।