ভরসার নাম ‘বরগুনা তথ্যসেবা’ অ্যাপস

রাতের অন্ধকারে হঠাৎ শিশুর শ্বাসকষ্ট—হাতের কাছে না ছিল ডাক্তার, না ছিল অ্যাম্বুলেন্সের নম্বর। সেই সংকটময় মুহূর্তে উদ্ধার করে একটি মোবাইল অ্যাপস—‘বরগুনা তথ্যসেবা’।

এমন অভিজ্ঞতার কথা জানালেন বরগুনা সদরের গৃহবধূ পারভীন আক্তার। তার মতে, “ডাউনলোড করেই অ্যাপস থেকে নম্বর পেয়ে দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছাতে পারি, আমার ছেলেটা বেঁচে গেছে।”

সার্বিক দরকারি তথ্য একত্র করে স্থানীয় মানুষদের সুবিধার জন্য অ্যাপটি তৈরি করেন বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার মো. রিয়াদ হোসাইন। ঢাকায় বসবাস করলেও নিজের জেলাকে ভালোবেসে এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নেন তিনি।

রিয়াদ জানান, বরগুনাবাসীর জন্য কিছু করতে চেয়েছিলেন। তাই বন্ধু আবুবকর ছিদ্দিককে সঙ্গে নিয়ে কোনো বড় টিম বা আর্থিক সহায়তা ছাড়াই শুরু করেন তথ্য সংগ্রহের কাজ। নানা চ্যালেঞ্জ পেরিয়ে গুগল প্লে-স্টোরে ‘বরগুনা তথ্যসেবা’ অ্যাপ উন্মুক্ত করেন।

এই অ্যাপে রয়েছে ৪৩টি বিভাগের প্রয়োজনীয় ফোন নম্বর ও তথ্য—হাসপাতাল, অ্যাম্বুলেন্স, ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ, সাংবাদিক, জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনসহ আরও অনেক কিছু।

এই অ্যাপ ব্যবহার করে অনেকেই কঠিন মুহূর্তে পাশে পেয়েছেন সাহায্য।
পাথরঘাটার ব্যবসায়ী আমজাদ হোসেন বলেন, “এক বৃদ্ধ বাবার নিখোঁজ মেয়েকে খুঁজে দিতে আমি এই অ্যাপ থেকে থানার নম্বর দিই। ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই পুলিশ মেয়েটিকে উদ্ধার করে।”

তালতলীর বাসিন্দা হারুন অর রশিদ বলেন, “পাশের বাড়িতে আগুন লাগলে অ্যাপ থেকে ফায়ার সার্ভিসের নম্বর নিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নিই। দেরি হলে বড় ক্ষতি হতো।”

বরগুনা জেলা সাংবাদিক কল্যাণ পরিষদের সভাপতি মো. হাফিজুর রহমান বলেন, “এই অ্যাপ শুধু সফটওয়্যার নয়, বরং এটি বরগুনাবাসীর জীবনের অংশ হয়ে গেছে।”

বর্তমানে রিয়াদ হোসাইন ঢাকার একটি আইটি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত থাকলেও কাজের ফাঁকে অ্যাপটির উন্নয়ন কাজে নিয়মিত যুক্ত থাকেন। তার ভাষায়, “এটা শুধু কাজ নয়, এটা আমার স্বপ্ন।”


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /


 




নতুন মামলায় ফের রিমান্ডে মমতাজ

হরিরামপুর থানায় দায়ের করা হামলা ও ভাঙচুরের মামলায় দুই দিনের রিমান্ডে পাঠানো হয়েছে কণ্ঠশিল্পী ও মানিকগঞ্জ-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মমতাজ বেগমকে।

শুক্রবার (৩০ মে) দুপুরে মানিকগঞ্জের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৩ এর বিচারক দোলন বিশ্বাস এ আদেশ দেন। এর আগে সিংগাইর থানার একটি হত্যা মামলায় চার দিনের রিমান্ড শেষে তাকে আদালতে হাজির করা হয়।

আদালত এলাকায় নেয়া হয় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। তবে আগের দুই দিনের মতো এবার আদালত চত্বরে বিএনপি কিংবা তাদের অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের উপস্থিতি দেখা যায়নি।

কোর্ট ইন্সপেক্টর মো. আবুল খায়ের জানান, “সিংগাইর থানার হত্যা মামলায় চার দিনের রিমান্ড শেষে মমতাজ বেগমকে আদালতে উপস্থাপন করা হয়। এরপর হরিরামপুর থানার মামলায় তাকে আবারও দুই দিনের রিমান্ডে নেয়া হয়েছে।”

এর আগে ২২ মে সিংগাইরের চারটি হত্যা মামলায় মমতাজের চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে আদালত। একইদিন হরিরামপুর থানার আরেক মামলায় দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর হয়। ওই দিন আদালতের হাজতখানা থেকে তাকে প্রিজন ভ্যানে তোলার সময় বিক্ষুব্ধ জনতা ডিম নিক্ষেপ করে।

২৭ মে ফের আদালতে হাজির করা হলে জামিন নামঞ্জুর করে হরিরামপুর থানার মামলায় আবারও দুই দিনের রিমান্ডে পাঠানোর নির্দেশ দেন বিচারক। এ সময়ও প্রিজনভ্যানে তোলার সময় মমতাজকে লক্ষ্য করে ডিম ছুড়ে মারে উত্তেজিত জনতা।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




 চীনের বাজারে প্রবেশ করলো বাংলাদেশের তাজা আম

বাংলাদেশের রপ্তানির ইতিহাসে নতুন এক মাইলফলক যুক্ত হলো — প্রথমবারের মতো চীনের বাজারে প্রবেশ করলো দেশের উৎপাদিত তাজা আম। বৃহস্পতিবার (২৯ মে) বাংলাদেশ থেকে পাঠানো তিন টন আমের একটি চালান চীনের হুনান প্রদেশের চাংশা শহরে পৌঁছায় এবং তা সাফল্যের সঙ্গে খালাস হয়।

চীনের চাংশা হুয়াংহুয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের শুল্ক ও কাস্টমস কর্মকর্তারা চালানটি গ্রহণের সময় প্রয়োজনীয় শুল্ক প্রক্রিয়া, ফাইটোস্যানিটারি (উদ্ভিদ-স্বাস্থ্য বিষয়ক) সার্টিফিকেট যাচাই এবং ফলের মান যাচাই করেন। ফলের গুণগত মানে কোনো অস্বাভাবিকতা না থাকায় দ্রুততম সময়ে চালানটি ছাড় করে দেওয়া হয়।

বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের আম

বাংলাদেশের আম আন্তর্জাতিকভাবে স্বাদ, সুবাস ও উচ্চ চিনির পরিমাণের জন্য প্রশংসিত। এতদিন মূলত মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপীয় বাজারে রপ্তানি হতো, এবার চীনও যুক্ত হলো সেই তালিকায়।

আমদানিকারক চীনা প্রতিষ্ঠান হুনান বাবাইলি হোল্ডিং গ্রুপ জানিয়েছে, বাংলাদেশের আম তারা ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম, সুপারমার্কেট এবং সারা চীনজুড়ে তাজা ফল সরবরাহ চেইনের মাধ্যমে বাজারজাত করবে। প্রথম বছরেই তারা ১০০ টনের বেশি আম আমদানি করার পরিকল্পনা নিয়েছে।

রপ্তানির পেছনে চীনা প্রযুক্তি ও সহায়তা

বাংলাদেশের আম উৎপাদনে নিরাপদ ও আন্তর্জাতিক মান রক্ষা করতে সম্প্রতি চীনা ব্যাগিং প্রযুক্তি ব্যবহার শুরু করেছেন অনেক কৃষক, বিশেষ করে আমের রাজধানী হিসেবে খ্যাত চাঁপাইনবাবগঞ্জ অঞ্চলে।

চীন-বাংলাদেশ কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে দুই দেশের মধ্যে কৃষিপণ্য রপ্তানিতে এ ধরণের অগ্রগতি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের দৃঢ়তার প্রতীক হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী:

  • ২০২৫ সালে বাংলাদেশের আম উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা: ২.৭ মিলিয়ন টন
  • রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা: ৫ হাজার টন

চীনের বিশাল ফল আমদানি বাজারে (২০২৪ সালে যার আকার ছিল প্রায় ১৯.৪৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার) বাংলাদেশের আমের প্রবেশ সম্ভাব্য একটি বড় বাণিজ্যিক সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিল।


এই সফল রপ্তানি শুধু কৃষিখাতে নয়, বাংলাদেশের বৈদেশিক বাণিজ্য এবং রপ্তানি বৈচিত্র্যকরণের এক যুগান্তকারী ধাপ। এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে মান ও সরবরাহ শৃঙ্খলা বজায় রেখে এই বাজারে স্থায়ী অবস্থান গড়ে তোলা।




 ভোলায় বাঁধ ভেঙে ২০ গ্রাম প্লাবিত, ক্ষতিগ্রস্ত পাঁচ শতাধিক ঘর

নিম্নচাপ ও মেঘনা নদীর পানি অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় ভোলার উপকূলীয় এলাকায় ভয়াবহ জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। ভেঙে গেছে একাধিক বাঁধ, তলিয়ে গেছে অন্তত ২০টি গ্রাম, পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন হাজারো মানুষ। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে পাঁচ শতাধিক ঘরবাড়ি এবং শতাধিক গবাদি পশু ও মাছ ভেসে গেছে।

শুক্রবার (৩০ মে) সকাল থেকে তজুমদ্দিন, দৌলতখান ও মনপুরা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় রিং বাঁধ ও নদী সংলগ্ন বাঁধগুলো ভেঙে গিয়ে নদীর পানি প্রবেশ করে গ্রামগুলো প্লাবিত হয়। বিশেষ করে কুকরি-মুকরি, ঢালচর, চর পাতিলা ও আশপাশের চরাঞ্চল এখন পানির নিচে।

ভোলা পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, মেঘনা নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে প্রবাহিত হওয়ায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে প্রবল জোয়ারের ফলে বাঁধ ভেঙে পড়ায় লোকালয়ের ভিতরে পানি ঢুকে পড়ে ভয়াবহ ক্ষতির মুখে পড়ে হাজারো মানুষ।

স্থানীয় চিত্র:

  • অসংখ্য পুকুরের মাছ ভেসে গেছে।
  • শতাধিক গবাদি পশু নিখোঁজ।
  • বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ থাকায় ভোগান্তিতে পড়েছে অধিকাংশ এলাকা।
  • গত ২৪ ঘণ্টায় ভোলায় রেকর্ড হয়েছে ১১৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত।
  • অভ্যন্তরীণ ও দূরপাল্লার লঞ্চ চলাচল বন্ধ রয়েছে দ্বিতীয় দিনের মতো।

ভোলার জেলা প্রশাসক মো. আজাদ জাহান বলেন, “নিম্নচাপের কারণে এক থেকে দেড় হাজার ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য তাৎক্ষণিক চাল ও শুকনো খাবার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে এবং আরও সহায়তা কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।”

স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন, দীর্ঘদিন ধরে বাঁধ সংস্কারের দাবি থাকলেও কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় আজকের এই বিপর্যয় সৃষ্টি হয়েছে। তারা দ্রুত বাঁধ মেরামত ও পুনর্বাসনের দাবি জানিয়েছেন।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




মুহূর্তেই ডুবে গেল বরগুনার দুটি গ্রাম, পানিবন্দি শতাধিক পরিবার

নিম্নচাপ ও টানা বর্ষণে বিষখালী নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বরগুনার দুটি গ্রাম মুহূর্তেই তলিয়ে গেছে। শুক্রবার (৩০ মে) দুপুরে বরগুনা সদর উপজেলার ঢলুয়া ইউনিয়নের উত্তর ডালভাঙ্গা এলাকায় নদীর তীরবর্তী রিং বেড়িবাঁধ ভেঙে গেলে ভয়াবহ জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। এতে পানিবন্দি হয়ে পড়ে প্রায় ২৩০টি পরিবারের সহস্রাধিক মানুষ।

প্রবল জোয়ারের চাপে বিষখালী নদীর পানি বেড়ে গিয়ে বেড়িবাঁধের ভাঙা অংশ দিয়ে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করে। সরেজমিনে দেখা গেছে, ঘরের ভেতরে কোমর সমান পানি জমে রয়েছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, নদীতে পানির উচ্চতা আরও বাড়লে ঘরবাড়ি পুরোপুরি ডুবে যেতে পারে।

স্থানীয় বাসিন্দা মালেক বলেন, “গতকাল থেকেই ঘরে পানি ঢুকেছে। এখন আবারও পানি ঢুকছে। স্ত্রী-সন্তান নিয়ে কোথায় যাবো, কোনো ব্যবস্থাও নেই।”

আরেক বাসিন্দা ছালাম বলেন, “বাঁধ ভেঙে ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়ে গেছে। ঘরে থাকা, রান্না করারও সুযোগ নেই। আমরা দিন এনে দিন খাই, নতুন করে কোথাও যাওয়ার সামর্থ্য নেই।”

এছাড়াও বরগুনার বেতাগী উপজেলার মোকামিয়া ইউনিয়নের ছোট মূল্লা এলাকা থেকেও একই ধরনের ভাঙনের খবর পাওয়া গেছে। সেখানেও বিষখালী নদীর জোয়ারের চাপে রিং বাঁধ ভেঙে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করেছে।

এ বিষয়ে বরগুনার জেলা প্রশাসক মো. শফিউল আলম জানান, “ভাঙা অংশটি মূল বেড়িবাঁধ নয়, এটি নদীসংলগ্ন রিং বেড়িবাঁধ। যেসব পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তারা মূল বেড়িবাঁধের বাইরে বসবাস করতেন। ইতিমধ্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

স্থানীয়দের মতে, এখনই জরুরি ভিত্তিতে রিং বাঁধ সংস্কার না করলে পুরো এলাকা বড় ধরনের দুর্যোগের সম্মুখীন হতে পারে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




ঈদের আগে ঝুঁকিপূর্ণ ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক, সংস্কারের দাবি

আসন্ন ঈদ-উল-আযহায় ঘরমুখো মানুষের ঢল নামার আগেই ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের বেহাল দশা জনমনে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দক্ষিণাঞ্চলের লাখো মানুষ রাজধানীসহ বিভিন্ন জেলা থেকে এই মহাসড়ক ব্যবহার করে নিজ নিজ গন্তব্যে ফিরবেন। তবে সরু এবং জরাজীর্ণ এই মহাসড়কে খানাখন্দ ও গর্তের কারণে যাত্রা হয়ে উঠছে ঝুঁকিপূর্ণ ও কষ্টসাধ্য।

সরেজমিনে দেখা গেছে, গৌরনদী উপজেলার ভূরঘাটা বাসস্ট্যান্ড থেকে বরিশাল সদর পর্যন্ত প্রায় ৪৫ কিলোমিটার মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত ও ফাটল সৃষ্টি হয়েছে। কোথাও বিটুমিন উঠে গিয়ে বৃষ্টির পানি জমে রয়েছে, যা যান চলাচলের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। গৌরনদী বাসস্ট্যান্ডের জিরো পয়েন্টে রাস্তার অবস্থা সবচেয়ে ভয়াবহ, যেখানে একাধিক গর্তে যানবাহনের চাকা আটকে দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।

সাকুরা পরিবহনের চালক জাকির কাজী জানান, টরকী বাসস্ট্যান্ডে প্রায় ২০-৩০ ফুট জায়গা জুড়ে বিটুমিন উঠে গেছে। নিন্মমানের ইট দিয়ে সাময়িকভাবে সংস্কার করা হলেও বৃষ্টিতে তা উঠে গেছে। এছাড়া রাস্তাজুড়ে উঁচু-নিচু ঢেউয়ের মতো জায়গা তৈরি হয়েছে, যা যানবাহনের ভারসাম্য নষ্ট করে দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

গৌরনদী হাইওয়ে থানা সূত্রে জানা গেছে, গত এক মাসে মহাসড়কে অন্তত ১০টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। সর্বশেষ বার্থী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় কলেজ ছাত্র শাহারিয়া এক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন।

পরিবহন চালক আমির হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “এটা এমনিতেই ব্যস্ততম মহাসড়ক। তার ওপর এই খানাখন্দে একাকার রাস্তা দিয়ে ঈদের সময় কয়েকগুণ যাত্রী ও যানবাহন চলবে, এতে বড় দুর্ঘটনার ঝুঁকি রয়েছে।” তিনি অবিলম্বে রাস্তার জরুরি সংস্কারের দাবি জানান।

এ বিষয়ে সড়ক বিভাগের কোনো কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি, কারণ তারা ফোন রিসিভ করেননি। তবে গৌরনদী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) রিফাত আরা মৌরি জানান, “ঈদের আগেই মহাসড়কটি চলাচলের উপযোগী করতে জরুরি সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট বিভাগকে অবহিত করা হবে।”

এখনই সংস্কার কার্যক্রম শুরু না হলে, ঈদযাত্রা দক্ষিণাঞ্চলের লাখো মানুষের জন্য দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন ভুক্তভোগীরা।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




বরগুনার খেয়াঘাটে ভাড়া কমানোর দাবিতে মানববন্ধন

বরগুনা সদর উপজেলার বড়ইতলা-বাইনচটকি খেয়াঘাটসহ জেলার সব খেয়াঘাটে ভাড়া কমানোর দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। একইসঙ্গে স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের জন্য খেয়া ভাড়া সম্পূর্ণ মওকুফের দাবি জানানো হয়েছে।

শুক্রবার (৩০ মে) দুপুরে “আমরা বরগুনাবাসী” ব্যানারে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের উদ্যোগে বড়ইতলা ও পুরাকাটা খেয়াঘাট এলাকায় ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশগ্রহণ করেন সংগঠনের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা।

মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ বরগুনা জেলা শাখার সভাপতি মুফতি মিজানুর রহমান কাসেমি, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক প্রভাষক মাওলানা নুরুল আলম, ইসলামী যুব আন্দোলন বরগুনা জেলা শাখার সভাপতি মাওলানা রেজাউল করিম আকনসহ আরও অনেকে।

বক্তারা বলেন, “প্রতিদিন হাজারো গরিব ও অসহায় মানুষ জরুরি প্রয়োজনে এসব খেয়াঘাট ব্যবহার করে নদী পারাপার হন। বর্তমানে জনপ্রতি ২৫ টাকা করে খেয়া ভাড়া নেওয়া হচ্ছে, যা নিম্নবিত্ত মানুষের জন্য বড় বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে।”

তারা আরও বলেন, “এই ভাড়া কমিয়ে ১৫ টাকা নির্ধারণ করতে হবে এবং শিক্ষার্থীদের জন্য সম্পূর্ণভাবে ভাড়া মওকুফ করতে হবে। কারণ অনেক শিক্ষার্থী প্রতিদিন খেয়া পারাপার করে স্কুলে যায়, যা তাদের পরিবারের জন্য অতিরিক্ত খরচ হয়ে যাচ্ছে।”

বক্তারা জানান, তাদের এ দাবিগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন না হলে সামনে আরও বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / 




 পিরোজপুরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়ার শাহাদাতবার্ষিকী পালন

পিরোজপুরে স্বাধীনতার ঘোষক ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৪ তম শাহাদাতবার্ষিকী যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করা হয়েছে। আজ শুক্রবার (৩০ মে) জেলা বিএনপি এবং এর সহযোগী সংগঠনগুলো নানা কর্মসূচির মাধ্যমে দিবসটি পালন করে।

পিরোজপুর জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে সকাল সাড়ে ৬ টায় জেলা বিএনপি কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে দিবসের সূচনা করা হয়। এরপর শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রুহের মাগফেরাত কামনায় কোরান খতম করা হয়।

সকাল ১০ টায় স্থানীয় শিল্পকলা একাডেমী মিলনায়তনে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেনের সভাপতিত্বে এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। সভায় বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির সদস্য সচিব গাজী অহিদুজ্জামান লাভলু, জেলা বিএনপির জ্যেষ্ঠ সদস্য অ্যাড. আবুল কালাম আকন, শ্রমিক দল সভাপতি আব্দুস ছালাম বাতেন, জেলা মহিলাদলের সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. রহিমা আক্তার হাসি, যুবদল আহবায়ক কামরুজ্জামান তুষার, স্বেচ্ছাসেবকদল আহবায়ক মনির শরীফসহ বিভিন্ন দলের নেতা-কর্মীরা।

আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেন। তিনি বলেন, “বাংলাদেশে বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে হত্যার মাধ্যমে এক স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী বিদেশী শক্তির সহায়তায় দেশে একদলীয় শাসন প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিল। কিন্তু দেশবাসী জানে যে, এক জিয়া শহীদ হলেও দেশে লাখো কোটি জিয়া রয়েছে। বিএনপি কখনো বিনা ভোটে বা রাতের ভোটে বিশ্বাসী নয়, এবং জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে সরকার গঠন করে শহীদ জিয়ার স্বপ্ন বাস্তবায়ন করবে।”

আলোচনা সভা শেষে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রুহের মাগফেরাত কামনায় দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। পরে, দুপুরে জুমার নামাজের পর মাদ্রাসার ইয়াতিমখানায় খাবার পরিবেশন করা হয়।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




 বরিশালে জলাবদ্ধতায় বিপর্যস্ত জনজীবন, নদী-নদীর পানি বিপৎসীমা ছাড়িয়েছে

বরিশালে গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিপাত ও ভারী বর্ষণের কারণে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে, যার ফলে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের প্রভাবে বরিশাল বিভাগের সবগুলো নদী ও নালার পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এর ফলে উপকূলীয় নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে এবং বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সড়কেও পানি জমে গেছে।

বিশেষত, বরিশালের অভ্যন্তরীণ ও দূরপাল্লার লঞ্চ চলাচলও দ্বিতীয় দিনের মতো বন্ধ রয়েছে। নদী বন্দরে ২ নম্বর বিপদ সংকেত জারি করায় বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই কারণে যাত্রীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে সকল লঞ্চ চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে, যার ফলে বিপুল সংখ্যক যাত্রী বিপদে পড়েছেন।

বিআইডব্লিউটিএর নৌ-নিরাপত্তা ও ট্রাফিক বিভাগের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ সেলিম রেজা জানিয়েছেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত লঞ্চ চলাচল বন্ধ থাকবে। আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় বরিশালে ১২০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে এবং বাতাসের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৪৬ কিলোমিটার।

বরিশাল শহরসহ অন্যান্য এলাকার বিভিন্ন সড়কে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। নগরীর বগুড়া রোড, মুন্সির গ্যারেজ, শীতলাখোলা মোড়, জিয়া সড়কসহ অনেক গুরুত্বপূর্ণ সড়কে পানি জমে গেছে। যার ফলে যান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে।

বগুড়া রোডের বাসিন্দা মিসবাহ হোসেন জানিয়েছেন, বৃষ্টির কারণে রাস্তাগুলো নদীতে পরিণত হয়ে গেছে, এবং টানা বৃষ্টির ফলে বাসা থেকে বের হওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী আব্দুল মালেক শেখ বলেন, তার দোকানে পানি ঢুকে গেছে এবং মালামাল রক্ষা করা সম্ভব হয়নি। নগরবাসীরা অভিযোগ করেছেন, ড্রেনেজ ব্যবস্থা সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও বাস্তবে তা বাস্তবায়ন হয়নি, যার ফলে সামান্য বৃষ্টিতে শহরের বিভিন্ন এলাকা জলাবদ্ধ হয়ে পড়ে।

এছাড়াও বরিশাল, পটুয়াখালী, ভোলা, পিরোজপুরসহ বিভিন্ন উপকূলীয় এলাকা জলাবদ্ধতার কারণে ব্যাপক দুর্ভোগের মুখে পড়েছে। বিশেষ করে মেঘনা তীরবর্তী হিজলা, মেহেন্দীগঞ্জ, মুলাদী, বাকেরগঞ্জ, কলাপাড়া, গলাচিপা, বাউফল, পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া, স্বরূপকাঠি, ভান্ডারিয়া, বরগুনা জেলার বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়ে জনদুর্ভোগ বৃদ্ধি পেয়েছে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




 যুবদল নেতার বাবা-মায়ের কবরস্থান ভাঙার অভিযোগ

বরিশালের গৌরনদী উপজেলার পূর্ব মাহিলাড়া এলাকায় খাল খননের কাজ নিয়ে তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় যুবদল নেতা মোয়াজ্জেম হোসেন অভিযোগ করেছেন, খাল খননের কাজের নামে তার বাবা-মায়ের কবরস্থান ভেঙে ফেলা হয়েছে এবং স্থানীয়দের ব্যক্তিগত জমি কেটে খালে ফেলা হয়েছে। এই ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।

মোয়াজ্জেম হোসেন জানান, মাহিলাড়া থেকে বাসুদেবপাড়া খাল খননের জন্য বিএডিসির ঠিকাদার নিয়োগ করা হয়। তবে মূল ঠিকাদারকে ছাড়িয়ে স্থানীয় ভেক্যু ব্যবসায়ী শওকত সরদার খালটি খননের কাজ শুরু করেন। তিনি আরও জানান, খাল খননের শুরু থেকেই অনিয়ম করা হয়েছে। প্রতিবাদ জানালে তার বাবা-মায়ের কবরস্থান ভেঙে ফেলা হয় এবং স্থানীয়দের জমি কাটার ঘটনা ঘটেছে।

এই বিষয়ে খাল খননের মূল ঠিকাদার মোহাম্মদ আলী বলেন, খাল খননের জন্য তিনি ১৬ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি কাজ গ্রহণ করেছিলেন, তবে তিনি জানালেন, তিনি নিজে কাজ বাস্তবায়ন করছেন না, বরং স্থানীয় শওকত সরদার এই কাজ করছেন। মোহাম্মদ আলী জানান, তিনি শওকতকে সরকারি নিয়ম অনুসরণ করতে বলেছিলেন, তবে শওকত যদি অনিয়ম করেন, তার দায় তাঁর নয়।

অপরদিকে, শওকত সরদার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিনি খাল খননের কাজের সাথে যুক্ত নন এবং স্থানীয় বিএনপি নেতা বাদশা হাওলাদার খালটি খনন করছেন। তিনি আরও জানান, কারো কবরস্থান বা জমি কাটার ঘটনা ঘটেনি।

স্থানীয় বিএনপি নেতা বাদশা হাওলাদারও একই মন্তব্য করেন, দাবি করেন যে, খালের পানি থাকায় খনন কাজ বন্ধ রয়েছে এবং সরকারি নিয়ম মেনে কাজ করা হবে।

এছাড়া, বিএডিসির গৌরনদী উপ-সহকারী প্রকৌশলী শাহেদ আহম্মেদ চৌধুরী বলেন, খাল খননের সময় মানুষের ক্ষতি যাতে না হয়, সেজন্য ঠিকাদারকে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, যদি খাল খননকালে সরকারি নিয়ম লঙ্ঘন হয়, তবে বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে এবং যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /