মুহূর্তেই ডুবে গেল বরগুনার দুটি গ্রাম, পানিবন্দি শতাধিক পরিবার

নিম্নচাপ ও টানা বর্ষণে বিষখালী নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বরগুনার দুটি গ্রাম মুহূর্তেই তলিয়ে গেছে। শুক্রবার (৩০ মে) দুপুরে বরগুনা সদর উপজেলার ঢলুয়া ইউনিয়নের উত্তর ডালভাঙ্গা এলাকায় নদীর তীরবর্তী রিং বেড়িবাঁধ ভেঙে গেলে ভয়াবহ জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। এতে পানিবন্দি হয়ে পড়ে প্রায় ২৩০টি পরিবারের সহস্রাধিক মানুষ।

প্রবল জোয়ারের চাপে বিষখালী নদীর পানি বেড়ে গিয়ে বেড়িবাঁধের ভাঙা অংশ দিয়ে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করে। সরেজমিনে দেখা গেছে, ঘরের ভেতরে কোমর সমান পানি জমে রয়েছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, নদীতে পানির উচ্চতা আরও বাড়লে ঘরবাড়ি পুরোপুরি ডুবে যেতে পারে।

স্থানীয় বাসিন্দা মালেক বলেন, “গতকাল থেকেই ঘরে পানি ঢুকেছে। এখন আবারও পানি ঢুকছে। স্ত্রী-সন্তান নিয়ে কোথায় যাবো, কোনো ব্যবস্থাও নেই।”

আরেক বাসিন্দা ছালাম বলেন, “বাঁধ ভেঙে ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়ে গেছে। ঘরে থাকা, রান্না করারও সুযোগ নেই। আমরা দিন এনে দিন খাই, নতুন করে কোথাও যাওয়ার সামর্থ্য নেই।”

এছাড়াও বরগুনার বেতাগী উপজেলার মোকামিয়া ইউনিয়নের ছোট মূল্লা এলাকা থেকেও একই ধরনের ভাঙনের খবর পাওয়া গেছে। সেখানেও বিষখালী নদীর জোয়ারের চাপে রিং বাঁধ ভেঙে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করেছে।

এ বিষয়ে বরগুনার জেলা প্রশাসক মো. শফিউল আলম জানান, “ভাঙা অংশটি মূল বেড়িবাঁধ নয়, এটি নদীসংলগ্ন রিং বেড়িবাঁধ। যেসব পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তারা মূল বেড়িবাঁধের বাইরে বসবাস করতেন। ইতিমধ্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

স্থানীয়দের মতে, এখনই জরুরি ভিত্তিতে রিং বাঁধ সংস্কার না করলে পুরো এলাকা বড় ধরনের দুর্যোগের সম্মুখীন হতে পারে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




ঈদের আগে ঝুঁকিপূর্ণ ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক, সংস্কারের দাবি

আসন্ন ঈদ-উল-আযহায় ঘরমুখো মানুষের ঢল নামার আগেই ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের বেহাল দশা জনমনে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দক্ষিণাঞ্চলের লাখো মানুষ রাজধানীসহ বিভিন্ন জেলা থেকে এই মহাসড়ক ব্যবহার করে নিজ নিজ গন্তব্যে ফিরবেন। তবে সরু এবং জরাজীর্ণ এই মহাসড়কে খানাখন্দ ও গর্তের কারণে যাত্রা হয়ে উঠছে ঝুঁকিপূর্ণ ও কষ্টসাধ্য।

সরেজমিনে দেখা গেছে, গৌরনদী উপজেলার ভূরঘাটা বাসস্ট্যান্ড থেকে বরিশাল সদর পর্যন্ত প্রায় ৪৫ কিলোমিটার মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত ও ফাটল সৃষ্টি হয়েছে। কোথাও বিটুমিন উঠে গিয়ে বৃষ্টির পানি জমে রয়েছে, যা যান চলাচলের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। গৌরনদী বাসস্ট্যান্ডের জিরো পয়েন্টে রাস্তার অবস্থা সবচেয়ে ভয়াবহ, যেখানে একাধিক গর্তে যানবাহনের চাকা আটকে দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।

সাকুরা পরিবহনের চালক জাকির কাজী জানান, টরকী বাসস্ট্যান্ডে প্রায় ২০-৩০ ফুট জায়গা জুড়ে বিটুমিন উঠে গেছে। নিন্মমানের ইট দিয়ে সাময়িকভাবে সংস্কার করা হলেও বৃষ্টিতে তা উঠে গেছে। এছাড়া রাস্তাজুড়ে উঁচু-নিচু ঢেউয়ের মতো জায়গা তৈরি হয়েছে, যা যানবাহনের ভারসাম্য নষ্ট করে দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

গৌরনদী হাইওয়ে থানা সূত্রে জানা গেছে, গত এক মাসে মহাসড়কে অন্তত ১০টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। সর্বশেষ বার্থী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় কলেজ ছাত্র শাহারিয়া এক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন।

পরিবহন চালক আমির হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “এটা এমনিতেই ব্যস্ততম মহাসড়ক। তার ওপর এই খানাখন্দে একাকার রাস্তা দিয়ে ঈদের সময় কয়েকগুণ যাত্রী ও যানবাহন চলবে, এতে বড় দুর্ঘটনার ঝুঁকি রয়েছে।” তিনি অবিলম্বে রাস্তার জরুরি সংস্কারের দাবি জানান।

এ বিষয়ে সড়ক বিভাগের কোনো কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি, কারণ তারা ফোন রিসিভ করেননি। তবে গৌরনদী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) রিফাত আরা মৌরি জানান, “ঈদের আগেই মহাসড়কটি চলাচলের উপযোগী করতে জরুরি সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট বিভাগকে অবহিত করা হবে।”

এখনই সংস্কার কার্যক্রম শুরু না হলে, ঈদযাত্রা দক্ষিণাঞ্চলের লাখো মানুষের জন্য দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন ভুক্তভোগীরা।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




বরগুনার খেয়াঘাটে ভাড়া কমানোর দাবিতে মানববন্ধন

বরগুনা সদর উপজেলার বড়ইতলা-বাইনচটকি খেয়াঘাটসহ জেলার সব খেয়াঘাটে ভাড়া কমানোর দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। একইসঙ্গে স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের জন্য খেয়া ভাড়া সম্পূর্ণ মওকুফের দাবি জানানো হয়েছে।

শুক্রবার (৩০ মে) দুপুরে “আমরা বরগুনাবাসী” ব্যানারে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের উদ্যোগে বড়ইতলা ও পুরাকাটা খেয়াঘাট এলাকায় ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশগ্রহণ করেন সংগঠনের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা।

মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ বরগুনা জেলা শাখার সভাপতি মুফতি মিজানুর রহমান কাসেমি, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক প্রভাষক মাওলানা নুরুল আলম, ইসলামী যুব আন্দোলন বরগুনা জেলা শাখার সভাপতি মাওলানা রেজাউল করিম আকনসহ আরও অনেকে।

বক্তারা বলেন, “প্রতিদিন হাজারো গরিব ও অসহায় মানুষ জরুরি প্রয়োজনে এসব খেয়াঘাট ব্যবহার করে নদী পারাপার হন। বর্তমানে জনপ্রতি ২৫ টাকা করে খেয়া ভাড়া নেওয়া হচ্ছে, যা নিম্নবিত্ত মানুষের জন্য বড় বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে।”

তারা আরও বলেন, “এই ভাড়া কমিয়ে ১৫ টাকা নির্ধারণ করতে হবে এবং শিক্ষার্থীদের জন্য সম্পূর্ণভাবে ভাড়া মওকুফ করতে হবে। কারণ অনেক শিক্ষার্থী প্রতিদিন খেয়া পারাপার করে স্কুলে যায়, যা তাদের পরিবারের জন্য অতিরিক্ত খরচ হয়ে যাচ্ছে।”

বক্তারা জানান, তাদের এ দাবিগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন না হলে সামনে আরও বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / 




 পিরোজপুরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়ার শাহাদাতবার্ষিকী পালন

পিরোজপুরে স্বাধীনতার ঘোষক ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৪ তম শাহাদাতবার্ষিকী যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করা হয়েছে। আজ শুক্রবার (৩০ মে) জেলা বিএনপি এবং এর সহযোগী সংগঠনগুলো নানা কর্মসূচির মাধ্যমে দিবসটি পালন করে।

পিরোজপুর জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে সকাল সাড়ে ৬ টায় জেলা বিএনপি কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে দিবসের সূচনা করা হয়। এরপর শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রুহের মাগফেরাত কামনায় কোরান খতম করা হয়।

সকাল ১০ টায় স্থানীয় শিল্পকলা একাডেমী মিলনায়তনে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেনের সভাপতিত্বে এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। সভায় বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির সদস্য সচিব গাজী অহিদুজ্জামান লাভলু, জেলা বিএনপির জ্যেষ্ঠ সদস্য অ্যাড. আবুল কালাম আকন, শ্রমিক দল সভাপতি আব্দুস ছালাম বাতেন, জেলা মহিলাদলের সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. রহিমা আক্তার হাসি, যুবদল আহবায়ক কামরুজ্জামান তুষার, স্বেচ্ছাসেবকদল আহবায়ক মনির শরীফসহ বিভিন্ন দলের নেতা-কর্মীরা।

আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেন। তিনি বলেন, “বাংলাদেশে বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে হত্যার মাধ্যমে এক স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী বিদেশী শক্তির সহায়তায় দেশে একদলীয় শাসন প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিল। কিন্তু দেশবাসী জানে যে, এক জিয়া শহীদ হলেও দেশে লাখো কোটি জিয়া রয়েছে। বিএনপি কখনো বিনা ভোটে বা রাতের ভোটে বিশ্বাসী নয়, এবং জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে সরকার গঠন করে শহীদ জিয়ার স্বপ্ন বাস্তবায়ন করবে।”

আলোচনা সভা শেষে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রুহের মাগফেরাত কামনায় দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। পরে, দুপুরে জুমার নামাজের পর মাদ্রাসার ইয়াতিমখানায় খাবার পরিবেশন করা হয়।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




 বরিশালে জলাবদ্ধতায় বিপর্যস্ত জনজীবন, নদী-নদীর পানি বিপৎসীমা ছাড়িয়েছে

বরিশালে গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিপাত ও ভারী বর্ষণের কারণে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে, যার ফলে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের প্রভাবে বরিশাল বিভাগের সবগুলো নদী ও নালার পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এর ফলে উপকূলীয় নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে এবং বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সড়কেও পানি জমে গেছে।

বিশেষত, বরিশালের অভ্যন্তরীণ ও দূরপাল্লার লঞ্চ চলাচলও দ্বিতীয় দিনের মতো বন্ধ রয়েছে। নদী বন্দরে ২ নম্বর বিপদ সংকেত জারি করায় বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই কারণে যাত্রীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে সকল লঞ্চ চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে, যার ফলে বিপুল সংখ্যক যাত্রী বিপদে পড়েছেন।

বিআইডব্লিউটিএর নৌ-নিরাপত্তা ও ট্রাফিক বিভাগের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ সেলিম রেজা জানিয়েছেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত লঞ্চ চলাচল বন্ধ থাকবে। আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় বরিশালে ১২০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে এবং বাতাসের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৪৬ কিলোমিটার।

বরিশাল শহরসহ অন্যান্য এলাকার বিভিন্ন সড়কে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। নগরীর বগুড়া রোড, মুন্সির গ্যারেজ, শীতলাখোলা মোড়, জিয়া সড়কসহ অনেক গুরুত্বপূর্ণ সড়কে পানি জমে গেছে। যার ফলে যান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে।

বগুড়া রোডের বাসিন্দা মিসবাহ হোসেন জানিয়েছেন, বৃষ্টির কারণে রাস্তাগুলো নদীতে পরিণত হয়ে গেছে, এবং টানা বৃষ্টির ফলে বাসা থেকে বের হওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী আব্দুল মালেক শেখ বলেন, তার দোকানে পানি ঢুকে গেছে এবং মালামাল রক্ষা করা সম্ভব হয়নি। নগরবাসীরা অভিযোগ করেছেন, ড্রেনেজ ব্যবস্থা সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও বাস্তবে তা বাস্তবায়ন হয়নি, যার ফলে সামান্য বৃষ্টিতে শহরের বিভিন্ন এলাকা জলাবদ্ধ হয়ে পড়ে।

এছাড়াও বরিশাল, পটুয়াখালী, ভোলা, পিরোজপুরসহ বিভিন্ন উপকূলীয় এলাকা জলাবদ্ধতার কারণে ব্যাপক দুর্ভোগের মুখে পড়েছে। বিশেষ করে মেঘনা তীরবর্তী হিজলা, মেহেন্দীগঞ্জ, মুলাদী, বাকেরগঞ্জ, কলাপাড়া, গলাচিপা, বাউফল, পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া, স্বরূপকাঠি, ভান্ডারিয়া, বরগুনা জেলার বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়ে জনদুর্ভোগ বৃদ্ধি পেয়েছে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




 যুবদল নেতার বাবা-মায়ের কবরস্থান ভাঙার অভিযোগ

বরিশালের গৌরনদী উপজেলার পূর্ব মাহিলাড়া এলাকায় খাল খননের কাজ নিয়ে তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় যুবদল নেতা মোয়াজ্জেম হোসেন অভিযোগ করেছেন, খাল খননের কাজের নামে তার বাবা-মায়ের কবরস্থান ভেঙে ফেলা হয়েছে এবং স্থানীয়দের ব্যক্তিগত জমি কেটে খালে ফেলা হয়েছে। এই ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।

মোয়াজ্জেম হোসেন জানান, মাহিলাড়া থেকে বাসুদেবপাড়া খাল খননের জন্য বিএডিসির ঠিকাদার নিয়োগ করা হয়। তবে মূল ঠিকাদারকে ছাড়িয়ে স্থানীয় ভেক্যু ব্যবসায়ী শওকত সরদার খালটি খননের কাজ শুরু করেন। তিনি আরও জানান, খাল খননের শুরু থেকেই অনিয়ম করা হয়েছে। প্রতিবাদ জানালে তার বাবা-মায়ের কবরস্থান ভেঙে ফেলা হয় এবং স্থানীয়দের জমি কাটার ঘটনা ঘটেছে।

এই বিষয়ে খাল খননের মূল ঠিকাদার মোহাম্মদ আলী বলেন, খাল খননের জন্য তিনি ১৬ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি কাজ গ্রহণ করেছিলেন, তবে তিনি জানালেন, তিনি নিজে কাজ বাস্তবায়ন করছেন না, বরং স্থানীয় শওকত সরদার এই কাজ করছেন। মোহাম্মদ আলী জানান, তিনি শওকতকে সরকারি নিয়ম অনুসরণ করতে বলেছিলেন, তবে শওকত যদি অনিয়ম করেন, তার দায় তাঁর নয়।

অপরদিকে, শওকত সরদার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিনি খাল খননের কাজের সাথে যুক্ত নন এবং স্থানীয় বিএনপি নেতা বাদশা হাওলাদার খালটি খনন করছেন। তিনি আরও জানান, কারো কবরস্থান বা জমি কাটার ঘটনা ঘটেনি।

স্থানীয় বিএনপি নেতা বাদশা হাওলাদারও একই মন্তব্য করেন, দাবি করেন যে, খালের পানি থাকায় খনন কাজ বন্ধ রয়েছে এবং সরকারি নিয়ম মেনে কাজ করা হবে।

এছাড়া, বিএডিসির গৌরনদী উপ-সহকারী প্রকৌশলী শাহেদ আহম্মেদ চৌধুরী বলেন, খাল খননের সময় মানুষের ক্ষতি যাতে না হয়, সেজন্য ঠিকাদারকে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, যদি খাল খননকালে সরকারি নিয়ম লঙ্ঘন হয়, তবে বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে এবং যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




বাংলাদেশ ও জাইকার মধ্যে অর্থনীতির সংস্কার, জলবায়ু সহনশীলতা ও দক্ষ জনশক্তির বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি স্বাক্ষর

বাংলাদেশ ও জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা) অর্থনৈতিক সংস্কার, জলবায়ু সহনশীলতা এবং দক্ষ জনশক্তি তৈরির লক্ষ্যে দুটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। আজ জাপানের রাজধানী টোকিওতে অনুষ্ঠিত ঋণ ও অনুদান চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

জাইকা’র প্রেসিডেন্ট ড. তানাকা আকিহিকো এবং বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে জাপানে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. দাউদ আলী দুটি চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। চুক্তিগুলোর মধ্যে একটি হলো ‘অর্থনৈতিক সংস্কার ও জলবায়ু সহনশীলতা শক্তিশালীকরণে উন্নয়ন নীতি ঋণ চুক্তি’ এবং অপরটি ‘২০২৫ সালের জেডএস স্কলারশিপ নিয়ে অনুদান চুক্তি’।

‘অর্থনৈতিক সংস্কার ও জলবায়ু সহনশীলতা শক্তিশালীকরণে উন্নয়ন নীতি ঋণ’ চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশের জন্য বাজেটরি সাপোর্ট প্রদান করা হবে। এই ঋণের লক্ষ্য হলো বাংলাদেশের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার এবং দীর্ঘমেয়াদি টেকসই উন্নয়নে সহায়তা করা। চুক্তিটি ৬০ বিলিয়ন জাপানি ইয়েন (প্রায় ৪২২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার) ঋণ সহ সহায়তা প্রদান করবে, যার মাধ্যমে সরকারকে অর্থনৈতিক সংস্কার এবং জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় নীতিগত পদক্ষেপ বাস্তবায়নে সহায়তা করা হবে।

ব্যবসা পরিবেশ উন্নয়ন এবং শিল্প খাতের প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে কাঠামোগত সংস্কার প্রত্যাশা করা হচ্ছে। স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানসমূহ ও সরকারি অর্থ ব্যবস্থার সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্যও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

জেডএস স্কলারশিপ: উচ্চশিক্ষার সুযোগ সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য

অন্যদিকে, ‘২০২৫ সালের জেডএস স্কলারশিপ নিয়ে অনুদান চুক্তি’ প্রোগ্রামের আওতায়, ৩৩ জন সরকারি কর্মকর্তা জাপানের শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস্টার্স এবং পিএইচডি ডিগ্রি অর্জনের সুযোগ পাবেন। এই স্কলারশিপের মাধ্যমে তারা বাংলাদেশের সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন নীতি নির্ধারণে অবদান রাখবেন।

প্রোগ্রামের আওতায় ৬০৬ মিলিয়ন জাপানি ইয়েন (প্রায় ৪.২২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার) অর্থায়ন করা হবে এবং ২০০২ সাল থেকে এখন পর্যন্ত ৫৯১ জন বাংলাদেশি সরকারি কর্মকর্তা জেডএস স্কলারশিপ লাভ করেছেন।

বিশ্বব্যাপী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা: ইউক্রেন সংকট এবং জলবায়ু পরিবর্তন

ইউক্রেন সংকটের কারণে সৃষ্ট বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি এবং জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ঘন ঘন প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখোমুখি হচ্ছে বাংলাদেশ। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে সরকার এখন ‘অর্থনৈতিক সংস্কার ও জলবায়ু সহনশীলতা শক্তিশালীকরণে উন্নয়ন নীতি ঋণ’ চুক্তির মাধ্যমে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

ঋণ ও অনুদান চুক্তি স্বাক্ষরের আগে, বাংলাদেশ এবং জাপান সরকারের মধ্যে ‘এক্সচেঞ্জ অব নোটস’ (ই/এন) স্বাক্ষর করা হয়। চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জাপানে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. দাউদ আলী এবং জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনিচি।

এই চুক্তি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সংস্কার, জলবায়ু সহনশীলতা এবং দক্ষ জনশক্তির বিকাশে একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /


 




রাঙ্গাবালীতে পানি বন্দি দুই লাখ মানুষ

বৈরী আবহাওয়ায় টানা দুই দিন ধরে পটুয়াখালীর উপকূলীয় দ্বীপ উপজেলা রাঙ্গাবালী মূল ভূখণ্ড থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছে। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) থেকে সব ধরনের লঞ্চ, স্পিডবোট ও ট্রলার চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করায় অন্তত দুই লাখ মানুষ দ্বীপের ভেতরেই আটকে পড়েছেন। বুধবার (২৮ মে) থেকে শুরু হওয়া এই দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতি শুক্রবার (৩০ মে) পর্যন্তও অব্যাহত থাকায় মানুষের মধ্যে চরম ভোগান্তি তৈরি হয়েছে। যাতায়াত ব্যবস্থা বন্ধ থাকায় সাধারণ জীবনযাত্রা যেমন থমকে গেছে, তেমনি বন্ধ হয়ে গেছে চিকিৎসাসেবা, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং জরুরি যোগাযোগ। এদিকে গত তিনদিন ধরে পুরো উপজেলাজুড়ে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে, যা মানুষকে আরও বড় দুর্দশায় ফেলে দিয়েছে।

রাঙ্গাবালী মূলত সমুদ্র ও নদীবেষ্টিত একটি দুর্গম দ্বীপ। এখানকার মানুষের যাতায়াতের একমাত্র ভরসা জলপথ। কলাপাড়া বা গলাচিপা হয়ে এই অঞ্চলে প্রবেশ করতে হয় নৌপথে। কিন্তু বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপ ও ঘূর্ণিঝড়ের আশঙ্কায় সব ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। ফলে এই দ্বীপের মানুষ এখন ‘বন্দি’ অবস্থায় রয়েছে। বয়স্ক, শিশু ও অসুস্থ মানুষের জন্য এই অবস্থা যেন এক ভয়াবহ যন্ত্রণা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিশেষ করে রাঙ্গাবালীতে একটি পূর্ণাঙ্গ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স না থাকায় মানুষকে গুরুতর অসুস্থতা বা জটিল সমস্যায় পড়লে জেলা শহর পটুয়াখালী বা নিকটবর্তী গলাচিপায় নিতে হয়। কিন্তু বৈরী আবহাওয়ার কারণে কোনো ধরনের যানবাহনই চালু না থাকায় জরুরি রোগীদের চিকিৎসা পাওয়া এখন একপ্রকার অসম্ভব হয়ে পড়েছে। বড়বাইশদিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা মো. কাশেম মিয়া জানান, ‘গতকাল আমার ছোট ভাই হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে। বরিশাল নিয়ে যেতে চাইলেও কোনো ট্রলার বা স্পিডবোট পাওয়া যায়নি। অসহায় হয়ে তাকিয়ে আছি।’

স্থানীয়রা জানান, যোগাযোগ বন্ধ থাকায় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়তে শুরু করেছে। কারণ বাইরের কোনো পণ্য দ্বীপে প্রবেশ করতে পারছে না। যদিও এখনো সম্পূর্ণ সংকট দেখা না দিলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে, যদি আবহাওয়া আরও দুই-একদিন এমন থাকে, তাহলে খাদ্যদ্রব্য, ওষুধ ও প্রয়োজনীয় পণ্যে ঘাটতি দেখা দেবে। ব্যবসায়ী ও দোকানদাররা বলছেন, পণ্যের চাহিদা থাকলেও যোগান না থাকায় তারা বিপাকে পড়েছেন।

দ্বীপজুড়ে বিদ্যুৎ সংযোগ না থাকায় উপজেলার প্রতিটি বাজার কার্যত অচল হয়ে গেছে। ফ্রিজে সংরক্ষিত মাছ, মাংস, দুধসহ নানা খাদ্যপণ্য নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, যার ফলে সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতির মুখে পড়ছেন। কম্পিউটার ও অনলাইনভিত্তিক সেবাদানকারী দোকানগুলোও বন্ধ। বাহেরচর বাজারের ব্যবসায়ী প্রিন্স মাহমুদ বলেন, ‘প্রতিদিন নানা ধরনের কাজ করি, কিন্তু বিদ্যুৎ না থাকায় সব বন্ধ। ল্যাপটপে সীমিত সময় কাজ করা গেলেও প্রিন্টার চালাতে পারছি না। দোকান খোলা থাকলেও লাভ হচ্ছে না।’

বাড়িঘরে রাখা খাদ্যদ্রব্য নষ্ট হয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন অনেক গৃহিণীও। পূর্ব বাহেরচর গ্রামের রোজিনা বেগম বলেন, ‘এক সপ্তাহের বাজার একসঙ্গে করি। ফ্রিজে রাখলেও বিদ্যুৎ না থাকায় সব নষ্ট হয়ে গেছে। এখন আবার কিনতে হবে, অথচ বাজারে জিনিসপত্রের দামও বেশি।’

বিদ্যুৎ না থাকায় মোবাইল চার্জ দিতে না পারায় মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। শিক্ষার্থীদের পড়ালেখা বন্ধ, কর্মজীবীরা কর্মস্থলে যেতে পারছেন না। এক কথায়, পুরো রাঙ্গাবালী যেন অচল হয়ে পড়েছে।

রাঙ্গাবালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইকবাল হাসান জানিয়েছেন, মানুষের নিরাপত্তার স্বার্থেই নৌযান চলাচল সাময়িক বন্ধ রাখা হয়েছে। আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে পুনরায় চলাচল চালু হবে। জরুরি প্রয়োজনে নৌপুলিশ বা কোস্টগার্ডের সহায়তায় ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানান তিনি।

আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপ এখনো সক্রিয়। ঝোড়ো হাওয়া ও দমকা বাতাস অব্যাহত রয়েছে। ফলে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ার সম্ভাবনা নেই। নদীপথে ৩ নম্বর সতর্কতা সংকেতও জারি রয়েছে।

উপজেলার এই বিচ্ছিন্নতা একবারেই তাৎক্ষণিক নয়, বরং এটি অবকাঠামোগত দুর্বলতার দীর্ঘমেয়াদি ফল। স্থলপথ না থাকায় একটি সাধারণ দুর্যোগও এখানকার মানুষের জীবনযাত্রাকে স্তব্ধ করে দিতে পারে। জরুরি মুহূর্তে চিকিৎসা, শিক্ষা ও যোগাযোগের মতো মৌলিক প্রয়োজন মেটাতে না পারায় রাঙ্গাবালীর জনগণ নিয়মিত দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। এখন প্রয়োজন দ্বীপাঞ্চলের টেকসই উন্নয়ন এবং দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা পরিকল্পনা বাস্তবায়নের।

 

####
মো: আল-আমিন



সোকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মাননায় ড. ইউনূস

বিশ্বখ্যাত নোবেল বিজয়ী এবং গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে জাপানের সোকা বিশ্ববিদ্যালয় সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি প্রদান করেছে।

শুক্রবার (৩০ মে) বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাঁকে এই ডিগ্রি প্রদান করে, সামাজিক উদ্ভাবন এবং বৈশ্বিক উন্নয়নে তাঁর অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ।

এই উপলক্ষে টোকিওর সোকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত বিশেষ অনুষ্ঠানে ড. ইউনূস উপস্থিত বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের উদ্দেশ্যে বক্তব্য প্রদান করেন। অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেসিডেন্ট সুজুকিও বক্তব্য রাখেন এবং ড. ইউনূসের অবদানকে আন্তর্জাতিকভাবে অনুকরণীয় বলে অভিহিত করেন।

জানা যায়, অধ্যাপক ইউনূস ২৭ মে চার দিনের সরকারি সফরে জাপানে পৌঁছান। সফর শেষে আগামীকাল (৩১ মে) সকালে তিনি সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে টোকিও ত্যাগ করবেন এবং সিঙ্গাপুর হয়ে রাতেই ঢাকায় ফেরার কথা রয়েছে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




সকল দলই চায় ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন: এলডিপি মহাসচিব

এলডিপি মহাসচিব

লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) মহাসচিব ড. রেদোয়ান আহমেদ বলেছেন, দেশে মাত্র একটি রাজনৈতিক দল ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন চায়—ড. মুহাম্মদ ইউনূসের এমন মন্তব্য সত্যের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়। তিনি বলেন, বাস্তবতা হচ্ছে, অন্তত ২০টি নিবন্ধিত দলসহ দেশের প্রায় সব রাজনৈতিক দলই ডিসেম্বরের মধ্যে জাতীয় নির্বাচন চায়। এলডিপিসহ বিএনপি নেতৃত্বাধীন যুগপৎ আন্দোলনে শরিক দলগুলো স্পষ্টভাবে এই সময়ের মধ্যেই নির্বাচনের দাবি জানিয়ে আসছে। এ নিয়ে আর কোনো টালবাহানার সুযোগ নেই বলে তিনি সাফ জানিয়ে দেন।

বৃহস্পতিবার (২১ মে) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এসব কথা বলেন।

ড. রেদোয়ান আহমেদ অভিযোগ করে বলেন, নির্বাচন নিয়ে এখন পরিকল্পিতভাবে ধোঁয়াশা সৃষ্টি করা হচ্ছে। কিন্তু জনগণ আর কোনো ব্যাখ্যা শুনতে চায় না—জাতীয় নির্বাচন ডিসেম্বরের মধ্যেই হতে হবে। তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান দায়িত্ব ছিল দেশের রাজনৈতিক সংকট নিরসন করে দ্রুত একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করা। কিন্তু বাস্তবে সরকার সেই দায়িত্ব থেকে সরে গিয়ে ক্ষমতায় থাকার পথ মজবুত করতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে।

এ সময় তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, ৯ মাসে সরকার কী ধরনের সংস্কার করেছে? বরং দেখা যাচ্ছে, গ্রামীণ ব্যাংকের ৬৬৬ কোটি টাকা ও গ্রামীণফোনের ৪ হাজার কোটি টাকা সুদ মওকুফ করা হয়েছে। এমনকি স্টারলিংকের সঙ্গে গ্রামীণ ব্যাংক ও গ্রামীণফোনের অংশীদারিত্ব নিয়েও প্রশ্ন আছে। এগুলো কী আদৌ কোনো প্রকৃত রাজনৈতিক সংস্কার?

তিনি আরও বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান যে ৩১ দফা রাষ্ট্র সংস্কারের রূপরেখা দিয়েছেন, তা একটি ধ্বংসপ্রাপ্ত রাষ্ট্রকে পুনর্গঠনের জন্য যথেষ্ট। এই ৩১ দফা কেবল বিএনপির একক উদ্যোগ নয়—এটি গণতন্ত্রকামী সব রাজনৈতিক দলের দীর্ঘ সংগ্রামের প্রতিফলন। এই দফাগুলো বাস্তবায়ন করলে আর আলাদা করে সংস্কারের প্রয়োজন থাকবে না।

এলডিপির মহাসচিব জোর দিয়ে বলেন, দেশের সাধারণ মানুষ এখন একটিই কথা বলছে—তা হলো অবিলম্বে একটি জাতীয় নির্বাচন আয়োজন করা। তিনি বলেন, “যত মামলা, হামলা, গুম, খুন—সবই হয়েছে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের দাবিতে। এখন আর সময়ক্ষেপণ বা দ্ব্যর্থহীন অবস্থান চলবে না। ডিসেম্বরের মধ্যেই নির্বাচন দিতে হবে—এটাই জনগণের চূড়ান্ত প্রত্যাশা।”