নৌবাহিনীর সক্ষমতা বাড়াতে জাপানের উপহার পাঁচটি পেট্রোল বোট

বাংলাদেশ নৌবাহিনীকে পাঁচটি পেট্রোল বোট উপহার হিসেবে দেবে জাপান। শুক্রবার (৩০ মে) জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিগেরু ইশিবার সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের পর এই তথ্য জানান প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।

বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রেস সচিব জানান, বাংলাদেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রায় জাপান আগামীতেও পাশে থাকবে বলে আবারও আশ্বাস দিয়েছেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, জাপান সরকার বাজেট সহায়তা, শিক্ষাবৃত্তি এবং মানবসম্পদ উন্নয়নসহ একাধিক খাতে বাংলাদেশকে ১.০৬ বিলিয়ন ডলারের ঋণ সহায়তা দেবে।

এ সময় প্রেস সচিব আরও জানান, অন্তর্বর্তী সরকার কক্সবাজারের মহেশখালী ও মাতারবাড়িকে ঘিরে একটি মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে। সরকারের লক্ষ্য—এই অঞ্চলকে একটি আধুনিক লজিস্টিকস, পোর্ট, এনার্জি এবং ফিশারিজ হাবে রূপান্তর করা। প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস এই অঞ্চলে ‘নিউ সিঙ্গাপুর’ গড়ে তোলার আকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত করেছেন। এই প্রকল্প বাস্তবায়নেও বাংলাদেশের পাশে থাকবে জাপান—বৈঠকে এমন আশ্বাস মিলেছে বলে জানান তিনি।

এই বৈঠককে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যকার সহযোগিতা আরও গভীর হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।




হজ পালন করতে গিয়ে এ পর্যন্ত মৃত্যু ১৫ বাংলাদেশী

চলতি বছরের পবিত্র হজ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরবে পৌঁছেছেন ৮০ হাজার ৭২৩ জন বাংলাদেশি হজযাত্রী। তাদের মধ্যে শুক্রবার দিনগত মধ্যরাত পর্যন্ত ২০৮টি ফ্লাইটে তারা সৌদি পৌঁছান। হজ পোর্টালে প্রকাশিত ‘পবিত্র হজ-২০২৫ প্রতিদিনের বুলেটিন’-এ এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এদিকে, হজ পালনকালে সৌদি আরবে আরও তিনজন বাংলাদেশি হজযাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে এ পর্যন্ত মোট ১৫ জন হজযাত্রী মারা গেলেন। সর্বশেষ মারা যাওয়া তিনজন হলেন—গাজীপুরের পূর্ব টঙ্গীর আবুল কালাম আজাদ (৬২), মাদারীপুরের মোজলেম হাওলাদার (৬৩) এবং জয়পুরহাটের মো. মোস্তাফিজুর রহমান (৫৩)। তারা সবাই বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজে গিয়েছিলেন।

এবার বাংলাদেশ থেকে মোট ৮৭ হাজার ১০০ জন হজযাত্রী হজ পালনের জন্য সৌদি আরবে যাচ্ছেন। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় যাচ্ছেন ৫ হাজার ২০০ জন এবং বাকি ৮১ হাজার ৯০০ জন বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ পালন করছেন।

হজযাত্রী পরিবহনে এখন পর্যন্ত বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স পরিচালনা করেছে ১০৪টি, সৌদি এয়ারলাইন্স ৭৬টি এবং ফ্লাইনাস এয়ারলাইন্স ২৮টি ফ্লাইট।

চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ৫ জুন পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হবে। হজযাত্রীদের সৌদি যাত্রা শুরু হয় ২৯ এপ্রিল এবং শেষ ফ্লাইটটি যাবে আজ ৩১ মে। হজ শেষে ফিরতি ফ্লাইট শুরু হবে ১০ জুন এবং শেষ হবে ১০ জুলাই।




পূর্ণ বিশ্রামে ছাত্রদল সভাপতি রাকিবুল ইসলাম

জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব শারীরিক অসুস্থতার কারণে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সম্পূর্ণ বিশ্রামে রয়েছেন। ফলে গত দুই দিন ধরে তিনি কোনো সাংগঠনিক কার্যক্রমে অংশ নিতে পারেননি।

শুক্রবার রাতে ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক এবং সহ-সভাপতি মর্যাদার নেতা জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, আগামী রোববার থেকে সভাপতি রাকিব পুনরায় সংগঠনের কর্মসূচিতে সক্রিয় হবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

বিজ্ঞপ্তিতে রাকিবুল ইসলাম রাকিব তার দ্রুত আরোগ্যের জন্য সংগঠনের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের কাছে দোয়া চেয়েছেন। একইসঙ্গে তাঁর শারীরিক অবস্থা নিয়ে বিভ্রান্তিকর কোনো তথ্য না ছড়ানোর আহ্বান জানানো হয়। নেতাকর্মীদের গুজব থেকে সতর্ক থাকার জন্য কেন্দ্রীয় সংসদের পক্ষ থেকেও অনুরোধ জানানো হয়েছে।

এদিকে সংগঠনের অভ্যন্তরে ও বাইরে ছাত্রদল সভাপতিকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে—এমন একটি গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে। তবে এ বিষয়ে ছাত্রদল বা বিএনপির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি।

ছাত্রদল সভাপতি রাকিবের অসুস্থতা ও পদ নিয়ে ছড়িয়ে পড়া গুজবের প্রেক্ষাপটে কেন্দ্রীয় সংসদের এই বিবৃতি গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।




জাপানি কোম্পানিগুলোর প্রতি বাংলাদেশে আরও বিনিয়োগের আহ্বান প্রধান উপদেষ্টার

“নতুন বাংলাদেশ” গঠনে জাপানি কোম্পানিগুলোর সহায়তা চেয়ে এবং আরও বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

শুক্রবার (৩০ মে) জাপানে চলমান সফরের তৃতীয় দিনে টোকিওতে এক গোলটেবিল আলোচনায় তিনি এ আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনাকারী বিভিন্ন জাপানি কোম্পানির শীর্ষ নির্বাহীরা উপস্থিত ছিলেন। বিষয়টি প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক বিবৃতিতে জানানো হয়।

ড. ইউনূস বলেন, “আপনাদের এখানে দেখে আমরা আশ্বস্ত হয়েছি। গত ১০ মাসে আমরা নতুন বাংলাদেশ গঠনের ভিত্তি তৈরি করছি, এবং এই প্রক্রিয়ায় জাপানের সহযোগিতা অত্যন্ত মূল্যবান।”

তিনি আরও বলেন, “স্বৈরশাসনের অবসান আমাদের নতুন জীবনের সূচনা এনে দিয়েছে। এই মুহূর্তে আমাদের সবচেয়ে বেশি দরকার আন্তর্জাতিক বন্ধুদের সহযোগিতা। আমরা একটি নতুন, উদ্যমী বাংলাদেশ নির্মাণে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যেখানে পুরোনো ত্রুটিগুলো দূর করে একটি সম্ভাবনাময় ভবিষ্যতের পথে এগিয়ে যাব।”

ড. ইউনূস আশাবাদ ব্যক্ত করেন, বাংলাদেশের বিদ্যমান সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধান হবে এবং তা অতীতের বিষয় হয়ে উঠবে। “এটি জাতির জন্য একটি বড় সুযোগ,” বলেন তিনি, “আমরা কঠিন সময় পার করেছি এবং চাই তা পেছনে ফেলতে।”

আলোচনার শুরুতে জেট্রোর চেয়ারম্যান ও সিইও নোরিহিকো ইশিগুরো বলেন, “বাংলাদেশ সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি ও বিনিয়োগ সম্ভাবনা প্রদর্শন করেছে।”

জাপান-বাংলাদেশ বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা কমিটি (জেবিসিসিইসি) এর চেয়ারম্যান এবং মারুবেনি কর্পোরেশনের বোর্ড সদস্য ফুমিয়া কোকুবু বলেন, বাংলাদেশে কর্মরত ৮৫% জাপানি কোম্পানি প্রত্যাশা করছে, এ বছরই বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি (EPA) সই হবে। একইসঙ্গে তিনি কর নীতিতে সংস্কারেরও আশা প্রকাশ করেন।

বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত শিনিচি সাইদা বলেন, “অন্তর্বর্তী সরকার অর্থনীতিকে অগ্রাধিকার দিয়েছে। কোনও প্রকল্প বন্ধ হয়নি, কোনও ব্যবসা স্থগিত হয়নি – এটি ইতিবাচক বার্তা।”

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন:

  • সুমিতোমো কর্পোরেশনের সিইও শিঙ্গো উয়েনো
  • ইউগলেনা কোং লিমিটেডের সিইও মিতসুরু ইজুমো
  • জেরা-এর প্রধান বৈশ্বিক কৌশলবিদ স্টিভেন উইন
  • জেবিআইসির সিনিয়র ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজুনোরি ওগাওয়া
  • ওনোডা ইনকর্পোরেটেডের প্রেসিডেন্ট শিগেয়োশি ওনোদা
  • জেট্রোর নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট কাজুয়া নাকাজো
  • আইডিই-জেট্রোর নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট মায়ুমি মুরায়ামা

সমাপনী বক্তব্য রাখেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী।




বর্তমান সভ্যতা ধ্বংসের দিকে এগোচ্ছে : ড. মুহাম্মদ ইউনুস

বর্তমান সভ্যতাকে আত্মবিধ্বংসী আখ্যা দিয়ে তরুণদের প্রতি ‘থ্রি জিরো ক্লাব’ গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

শুক্রবার (৩০ মে) জাপানের টোকিওতে সোকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এক বক্তৃতায় তিনি বলেন, “আমরা এমন একটি সভ্যতা তৈরি করেছি, যা ধ্বংসের পথে এগোচ্ছে। পরিবেশের ওপর চলমান নিপীড়ন মানবজাতির টিকে থাকার জন্য হুমকি হয়ে উঠেছে।”

ড. ইউনূসের ‘থ্রি জিরো ক্লাব’ ধারণাটি তিনটি প্রধান লক্ষ্যকে ঘিরে—

  1. শূন্য দারিদ্র্য
  2. শূন্য বেকারত্ব
  3. শূন্য কার্বন নিঃসরণ

তিনি বলেন, পাঁচজন ব্যক্তি মিলে একটি থ্রি জিরো ক্লাব গঠন করতে পারেন, যেখানে তারা অঙ্গীকার করবেন জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার পরিহার করার।

ড. ইউনূস আরও বলেন, “বর্তমানে বিশ্বের অধিকাংশ সম্পদ অল্প কিছু মানুষের হাতে কেন্দ্রীভূত, যা একটি অভিশাপ। সবাই কেবল মুনাফা অর্জনের দিকেই মনোযোগী। এর বিপরীতে নতুন প্রজন্মকে সৃজনশীল হয়ে পৃথিবী রক্ষায় এগিয়ে আসতে হবে।”

চাকরিকে সৃজনশীলতার অন্তরায় আখ্যা দিয়ে তিনি তরুণদের উদ্যোক্তা হওয়ার পরামর্শ দেন। “মানুষ জন্মগতভাবে উদ্যোক্তা,”—উল্লেখ করে তিনি বলেন, “যদি তোমার মধ্যে সৃজনশীলতা না থাকে, তবে তুমি কিছুই না। প্রত্যেক মানুষের মাঝেই সৃজনশীলতা আছে।”

তিনি ছাত্রছাত্রীদের আহ্বান জানান একটি নতুন পৃথিবীর কল্পনা করতে—“কারণ কল্পনা মানুষকে নিজের ভেতর লুকিয়ে থাকা শক্তি উন্মোচনের সুযোগ দেয়।”

বক্তৃতায় তিনি স্মরণ করেন কীভাবে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করার সময় তিনি পাশের একটি গ্রামে ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম শুরু করেছিলেন।

অনুষ্ঠানে ড. ইউনূসকে সোকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি প্রদান করা হয়। সামাজিক উদ্ভাবন ও বৈশ্বিক উন্নয়নে অবদানের জন্য তাকে এই স্বীকৃতি দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেসিডেন্ট সুজুকিও বক্তব্য রাখেন।




ডিসেম্বরের মধ্যেই নির্বাচনের রোডম্যাপ দেয়া উচিত : সালাহউদ্দিন

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে অবিলম্বে একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন।

শুক্রবার (৩০ মে) দুপুরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ৪৪তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে হাইকোর্ট মাজার গেটে দুস্থদের মধ্যে খাবার বিতরণকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ দাবি জানান।

সালাহউদ্দিন বলেন, “দেশের মানুষ অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য আজ উন্মুখ। সেই জাতীয় আকাঙ্ক্ষার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আমরাও স্পষ্ট নির্বাচনী রোডম্যাপের দাবি জানাচ্ছি।”

তিনি আরও বলেন, “জিয়াউর রহমান শুধু একজন রাষ্ট্রপতি নন, তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতার প্রতীক। বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রবর্তন এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতার জন্য জুডিশিয়াল কাউন্সিল গঠনের মাধ্যমে তিনি গণতন্ত্রের ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন। তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছিল গণতন্ত্র ধ্বংসের ষড়যন্ত্রে।”

বর্তমান প্রেক্ষাপটে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও সাংবিধানিক কাঠামো রক্ষায় দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান বিএনপির এই নেতা। তিনি বলেন, “আমরা একটি বৈষম্যহীন ও সুবিচারভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে এগিয়ে যাচ্ছি। আমাদের ছাত্রসমাজ ও সাধারণ জনগণ রক্ত দিয়ে ফ্যাসিবাদ প্রতিরোধে লড়ছে।”

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের মহাসচিব ব্যারিস্টার কায়সার কামালসহ বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীর।




ভরসার নাম ‘বরগুনা তথ্যসেবা’ অ্যাপস

রাতের অন্ধকারে হঠাৎ শিশুর শ্বাসকষ্ট—হাতের কাছে না ছিল ডাক্তার, না ছিল অ্যাম্বুলেন্সের নম্বর। সেই সংকটময় মুহূর্তে উদ্ধার করে একটি মোবাইল অ্যাপস—‘বরগুনা তথ্যসেবা’।

এমন অভিজ্ঞতার কথা জানালেন বরগুনা সদরের গৃহবধূ পারভীন আক্তার। তার মতে, “ডাউনলোড করেই অ্যাপস থেকে নম্বর পেয়ে দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছাতে পারি, আমার ছেলেটা বেঁচে গেছে।”

সার্বিক দরকারি তথ্য একত্র করে স্থানীয় মানুষদের সুবিধার জন্য অ্যাপটি তৈরি করেন বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার মো. রিয়াদ হোসাইন। ঢাকায় বসবাস করলেও নিজের জেলাকে ভালোবেসে এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নেন তিনি।

রিয়াদ জানান, বরগুনাবাসীর জন্য কিছু করতে চেয়েছিলেন। তাই বন্ধু আবুবকর ছিদ্দিককে সঙ্গে নিয়ে কোনো বড় টিম বা আর্থিক সহায়তা ছাড়াই শুরু করেন তথ্য সংগ্রহের কাজ। নানা চ্যালেঞ্জ পেরিয়ে গুগল প্লে-স্টোরে ‘বরগুনা তথ্যসেবা’ অ্যাপ উন্মুক্ত করেন।

এই অ্যাপে রয়েছে ৪৩টি বিভাগের প্রয়োজনীয় ফোন নম্বর ও তথ্য—হাসপাতাল, অ্যাম্বুলেন্স, ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ, সাংবাদিক, জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনসহ আরও অনেক কিছু।

এই অ্যাপ ব্যবহার করে অনেকেই কঠিন মুহূর্তে পাশে পেয়েছেন সাহায্য।
পাথরঘাটার ব্যবসায়ী আমজাদ হোসেন বলেন, “এক বৃদ্ধ বাবার নিখোঁজ মেয়েকে খুঁজে দিতে আমি এই অ্যাপ থেকে থানার নম্বর দিই। ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই পুলিশ মেয়েটিকে উদ্ধার করে।”

তালতলীর বাসিন্দা হারুন অর রশিদ বলেন, “পাশের বাড়িতে আগুন লাগলে অ্যাপ থেকে ফায়ার সার্ভিসের নম্বর নিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নিই। দেরি হলে বড় ক্ষতি হতো।”

বরগুনা জেলা সাংবাদিক কল্যাণ পরিষদের সভাপতি মো. হাফিজুর রহমান বলেন, “এই অ্যাপ শুধু সফটওয়্যার নয়, বরং এটি বরগুনাবাসীর জীবনের অংশ হয়ে গেছে।”

বর্তমানে রিয়াদ হোসাইন ঢাকার একটি আইটি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত থাকলেও কাজের ফাঁকে অ্যাপটির উন্নয়ন কাজে নিয়মিত যুক্ত থাকেন। তার ভাষায়, “এটা শুধু কাজ নয়, এটা আমার স্বপ্ন।”


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /


 




নতুন মামলায় ফের রিমান্ডে মমতাজ

হরিরামপুর থানায় দায়ের করা হামলা ও ভাঙচুরের মামলায় দুই দিনের রিমান্ডে পাঠানো হয়েছে কণ্ঠশিল্পী ও মানিকগঞ্জ-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মমতাজ বেগমকে।

শুক্রবার (৩০ মে) দুপুরে মানিকগঞ্জের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৩ এর বিচারক দোলন বিশ্বাস এ আদেশ দেন। এর আগে সিংগাইর থানার একটি হত্যা মামলায় চার দিনের রিমান্ড শেষে তাকে আদালতে হাজির করা হয়।

আদালত এলাকায় নেয়া হয় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। তবে আগের দুই দিনের মতো এবার আদালত চত্বরে বিএনপি কিংবা তাদের অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের উপস্থিতি দেখা যায়নি।

কোর্ট ইন্সপেক্টর মো. আবুল খায়ের জানান, “সিংগাইর থানার হত্যা মামলায় চার দিনের রিমান্ড শেষে মমতাজ বেগমকে আদালতে উপস্থাপন করা হয়। এরপর হরিরামপুর থানার মামলায় তাকে আবারও দুই দিনের রিমান্ডে নেয়া হয়েছে।”

এর আগে ২২ মে সিংগাইরের চারটি হত্যা মামলায় মমতাজের চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে আদালত। একইদিন হরিরামপুর থানার আরেক মামলায় দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর হয়। ওই দিন আদালতের হাজতখানা থেকে তাকে প্রিজন ভ্যানে তোলার সময় বিক্ষুব্ধ জনতা ডিম নিক্ষেপ করে।

২৭ মে ফের আদালতে হাজির করা হলে জামিন নামঞ্জুর করে হরিরামপুর থানার মামলায় আবারও দুই দিনের রিমান্ডে পাঠানোর নির্দেশ দেন বিচারক। এ সময়ও প্রিজনভ্যানে তোলার সময় মমতাজকে লক্ষ্য করে ডিম ছুড়ে মারে উত্তেজিত জনতা।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




 চীনের বাজারে প্রবেশ করলো বাংলাদেশের তাজা আম

বাংলাদেশের রপ্তানির ইতিহাসে নতুন এক মাইলফলক যুক্ত হলো — প্রথমবারের মতো চীনের বাজারে প্রবেশ করলো দেশের উৎপাদিত তাজা আম। বৃহস্পতিবার (২৯ মে) বাংলাদেশ থেকে পাঠানো তিন টন আমের একটি চালান চীনের হুনান প্রদেশের চাংশা শহরে পৌঁছায় এবং তা সাফল্যের সঙ্গে খালাস হয়।

চীনের চাংশা হুয়াংহুয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের শুল্ক ও কাস্টমস কর্মকর্তারা চালানটি গ্রহণের সময় প্রয়োজনীয় শুল্ক প্রক্রিয়া, ফাইটোস্যানিটারি (উদ্ভিদ-স্বাস্থ্য বিষয়ক) সার্টিফিকেট যাচাই এবং ফলের মান যাচাই করেন। ফলের গুণগত মানে কোনো অস্বাভাবিকতা না থাকায় দ্রুততম সময়ে চালানটি ছাড় করে দেওয়া হয়।

বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের আম

বাংলাদেশের আম আন্তর্জাতিকভাবে স্বাদ, সুবাস ও উচ্চ চিনির পরিমাণের জন্য প্রশংসিত। এতদিন মূলত মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপীয় বাজারে রপ্তানি হতো, এবার চীনও যুক্ত হলো সেই তালিকায়।

আমদানিকারক চীনা প্রতিষ্ঠান হুনান বাবাইলি হোল্ডিং গ্রুপ জানিয়েছে, বাংলাদেশের আম তারা ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম, সুপারমার্কেট এবং সারা চীনজুড়ে তাজা ফল সরবরাহ চেইনের মাধ্যমে বাজারজাত করবে। প্রথম বছরেই তারা ১০০ টনের বেশি আম আমদানি করার পরিকল্পনা নিয়েছে।

রপ্তানির পেছনে চীনা প্রযুক্তি ও সহায়তা

বাংলাদেশের আম উৎপাদনে নিরাপদ ও আন্তর্জাতিক মান রক্ষা করতে সম্প্রতি চীনা ব্যাগিং প্রযুক্তি ব্যবহার শুরু করেছেন অনেক কৃষক, বিশেষ করে আমের রাজধানী হিসেবে খ্যাত চাঁপাইনবাবগঞ্জ অঞ্চলে।

চীন-বাংলাদেশ কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে দুই দেশের মধ্যে কৃষিপণ্য রপ্তানিতে এ ধরণের অগ্রগতি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের দৃঢ়তার প্রতীক হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী:

  • ২০২৫ সালে বাংলাদেশের আম উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা: ২.৭ মিলিয়ন টন
  • রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা: ৫ হাজার টন

চীনের বিশাল ফল আমদানি বাজারে (২০২৪ সালে যার আকার ছিল প্রায় ১৯.৪৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার) বাংলাদেশের আমের প্রবেশ সম্ভাব্য একটি বড় বাণিজ্যিক সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিল।


এই সফল রপ্তানি শুধু কৃষিখাতে নয়, বাংলাদেশের বৈদেশিক বাণিজ্য এবং রপ্তানি বৈচিত্র্যকরণের এক যুগান্তকারী ধাপ। এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে মান ও সরবরাহ শৃঙ্খলা বজায় রেখে এই বাজারে স্থায়ী অবস্থান গড়ে তোলা।




 ভোলায় বাঁধ ভেঙে ২০ গ্রাম প্লাবিত, ক্ষতিগ্রস্ত পাঁচ শতাধিক ঘর

নিম্নচাপ ও মেঘনা নদীর পানি অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় ভোলার উপকূলীয় এলাকায় ভয়াবহ জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। ভেঙে গেছে একাধিক বাঁধ, তলিয়ে গেছে অন্তত ২০টি গ্রাম, পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন হাজারো মানুষ। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে পাঁচ শতাধিক ঘরবাড়ি এবং শতাধিক গবাদি পশু ও মাছ ভেসে গেছে।

শুক্রবার (৩০ মে) সকাল থেকে তজুমদ্দিন, দৌলতখান ও মনপুরা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় রিং বাঁধ ও নদী সংলগ্ন বাঁধগুলো ভেঙে গিয়ে নদীর পানি প্রবেশ করে গ্রামগুলো প্লাবিত হয়। বিশেষ করে কুকরি-মুকরি, ঢালচর, চর পাতিলা ও আশপাশের চরাঞ্চল এখন পানির নিচে।

ভোলা পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, মেঘনা নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে প্রবাহিত হওয়ায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে প্রবল জোয়ারের ফলে বাঁধ ভেঙে পড়ায় লোকালয়ের ভিতরে পানি ঢুকে পড়ে ভয়াবহ ক্ষতির মুখে পড়ে হাজারো মানুষ।

স্থানীয় চিত্র:

  • অসংখ্য পুকুরের মাছ ভেসে গেছে।
  • শতাধিক গবাদি পশু নিখোঁজ।
  • বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ থাকায় ভোগান্তিতে পড়েছে অধিকাংশ এলাকা।
  • গত ২৪ ঘণ্টায় ভোলায় রেকর্ড হয়েছে ১১৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত।
  • অভ্যন্তরীণ ও দূরপাল্লার লঞ্চ চলাচল বন্ধ রয়েছে দ্বিতীয় দিনের মতো।

ভোলার জেলা প্রশাসক মো. আজাদ জাহান বলেন, “নিম্নচাপের কারণে এক থেকে দেড় হাজার ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য তাৎক্ষণিক চাল ও শুকনো খাবার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে এবং আরও সহায়তা কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।”

স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন, দীর্ঘদিন ধরে বাঁধ সংস্কারের দাবি থাকলেও কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় আজকের এই বিপর্যয় সৃষ্টি হয়েছে। তারা দ্রুত বাঁধ মেরামত ও পুনর্বাসনের দাবি জানিয়েছেন।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /