মে মাসে মূল্যস্ফীতির হালকা কমতি, স্বস্তিতে ভোক্তারা

দেশের সার্বিক মূল্যস্ফীতি মে মাসে কিছুটা কমেছে। এক মাস আগের তুলনায় কমেছে খাদ্য ও অখাদ্য উভয় খাতে মূল্যস্ফীতির হার। ফলে সামান্য হলেও স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন সাধারণ জনগণ।

সোমবার (২ জুন) বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) প্রকাশিত মে মাসের ভোক্তা মূল্যসূচক (সিপিআই) অনুযায়ী, এ চিত্র দেখা গেছে।

বিবিএস জানায়, মে মাসে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ১৭ শতাংশ থেকে কমে ৯ দশমিক ০৫ শতাংশে নেমে এসেছে। অর্থাৎ, কমেছে শূন্য দশমিক ১২ শতাংশ।

খাদ্য মূল্যস্ফীতিও সামান্য হ্রাস পেয়েছে। মে মাসে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ৮ দশমিক ৬৩ শতাংশ থেকে কমে দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ৫৯ শতাংশে, যা পূর্ববর্তী মাসের তুলনায় শূন্য দশমিক ০৪ শতাংশ কম।

অন্যদিকে খাদ্যবহির্ভূত (নন-ফুড) মূল্যস্ফীতির হারও কমেছে। এপ্রিলে যা ছিল ৯ দশমিক ৬১ শতাংশ, মে মাসে তা কমে দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ৪২ শতাংশে। হ্রাস পেয়েছে শূন্য দশমিক ১৯ শতাংশ।

গ্রাম ও শহরভিত্তিক তথ্য:

  • গ্রামাঞ্চলে মে মাসে সার্বিক মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ০৫ শতাংশ, যেখানে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ৮ দশমিক ৩০ শতাংশ এবং খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ৭৫ শতাংশ।
  • শহরাঞ্চলে সার্বিক মূল্যস্ফীতির হার ৯ দশমিক ৫০ শতাংশ। এর মধ্যে খাদ্য খাতে ৯ দশমিক ২৯ শতাংশ এবং অখাদ্য খাতে ৯ দশমিক ৬৩ শতাংশ মূল্যস্ফীতি দেখা গেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু পণ্যের দাম কমায় এ পরিবর্তন হলেও সামগ্রিকভাবে এখনও মূল্যস্ফীতির চাপ অনেক বেশি, যা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে প্রভাবিত করছে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




কলাপাড়ায় মহাসড়ক দখল করে বসানো পশুর হাট বন্ধ করলো প্রশাসন

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় কলাপাড়া-কুয়াকাটা মহাসড়কের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে বসানো একটি পশুর হাট বন্ধ করে দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। সোমবার (২ জুন) দুপুরে উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের পাখিমারা বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে হাটটি উচ্ছেদ করেন কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইয়াসিন সাদীক। এ সময় অভিযান কাজে সহায়তা করেন কলাপাড়া থানা পুলিশের একটি দল।

জানা গেছে, প্রশাসনের অনুমতি ছাড়াই প্রভাবশালীরা প্রতিসপ্তাহের সোমবার ওই স্থানে পশুর হাট বসিয়ে আসছিলেন। হাটটি ইজারাবিহীনভাবে পরিচালিত হওয়ায় সরকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছিল। পাশাপাশি মহাসড়ক দখলের কারণে স্থানীয়দের চলাচলে চরম দুর্ভোগ তৈরি হতো।

এ বিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইয়াসিন সাদীক বলেন, “মহাসড়ক দখল করে হাট বসানো আইনগতভাবে শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এতে সাধারণ মানুষের চলাচলে বিঘ্ন ঘটে এবং সরকার রাজস্ব হারায়। তাই হাটটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে এমন অবৈধ হাট বসালে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

প্রশাসনের এমন উদ্যোগে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। তারা মনে করছেন, নিয়মবহির্ভূত হাট বন্ধ হওয়ায় যানজট ও জনদুর্ভোগ কিছুটা হলেও কমবে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ রিপোর্টার, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



ভারত থেকে পুশইনের সংখ্যা বেড়ে চলছে, মৌলভীবাজারে অনুপ্রবেশে উদ্বেগ

ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) গত এক মাসে মৌলভীবাজার জেলার বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে ৩৩৭ জন বাংলাদেশিকে অবৈধভাবে পুশইন করেছে। ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে এই অনুপ্রবেশের ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে।

সবচেয়ে বেশি অনুপ্রবেশের ঘটনা ঘটেছে বড়লেখা উপজেলার উত্তর শাহবাজপুর, দক্ষিণ শাহবাজপুর ও পাল্লথল সীমান্ত দিয়ে। এছাড়া জুড়ী উপজেলার রাজকি, কুলাউড়ার মুরইছড়া এবং কমলগঞ্জ উপজেলার ধলই, বাগীছড়া ও চাম্পাছড়া সীমান্ত দিয়েও পুশইনের ঘটনা ঘটে।

বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, গত ৭ মে থেকে এখন পর্যন্ত মোট ৩৩৭ জনকে সীমান্ত পেরিয়ে প্রবেশের সময় আটক করা হয়েছে। এর মধ্যে বড়লেখা উপজেলায় ২৫১ জন, জুড়ীতে ১০ জন, কুলাউড়ায় ২১ জন এবং কমলগঞ্জে ৫৫ জনকে আটক করা হয়। তবে আরও কয়েক শতাধিক ব্যক্তি সীমান্ত অতিক্রম করলেও তাদের আটক করা সম্ভব হয়নি।

আটক ব্যক্তিদের মধ্যে পুরুষ, নারী ও শিশু রয়েছে। এদের অধিকাংশের বাড়ি নড়াইল, চট্টগ্রাম, কুড়িগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জেলায়। আটক ব্যক্তিদের অনেকেই জানিয়েছেন, তারা দীর্ঘদিন ধরে ভারতের আসামে বসবাস করছিলেন। হঠাৎ করে ভারতীয় পুলিশ তাদের বাড়িঘর ভেঙে হেলিকপ্টারে করে ত্রিপুরার মানিকভান্ডারে নিয়ে গিয়ে বিএসএফের হাতে তুলে দেয়। পরে বিএসএফ তাদের সীমান্ত গেট খুলে ধলই দিয়ে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠায়।

স্থানীয়রা অনেকে জানান, সীমান্ত দিয়ে এক হাজারের বেশি মানুষ বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। যদিও বিজিবি কয়েকশ লোককে আটক করতে সক্ষম হয়েছে, বাকিরা স্থানীয় দালালদের সহায়তায় বা বিভিন্ন যানবাহনে করে নিজ নিজ গন্তব্যে পৌঁছে গেছে। অনুপ্রবেশকারীদের কেউ কেউ বিকাশের মাধ্যমে ভাড়া পরিশোধ করেছেন বলে জানা গেছে। এছাড়া তাদের মধ্যে কয়েকজন রোহিঙ্গাও ছিলেন, যারা পরে চট্টগ্রামে চলে গেছেন।

এ বিষয়ে ৫২-বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী হাসান ও ৪৬-বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এ এস এম জাকারিয়া জানান, আটককৃতদের সবাই বাংলাদেশি নাগরিক। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাদের থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং পুলিশ পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।




মেজর সিনহা হত্যা: বহুল আলোচিত মামলার আপিলের রায় আজ হাইকোর্টে

বহুল আলোচিত অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা মেজর সিনহা মো. রাশেদ খান হত্যা মামলার ডেথ রেফারেন্স ও আসামিদের দাখিল করা আপিলের রায় ঘোষণা করবেন হাইকোর্ট। সোমবার (২ জুন) বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমান ও বিচারপতি মো. সগীর হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেবেন।

গত ২৯ মে এ মামলার আপিল ও ডেথ রেফারেন্সের শুনানি শেষ হয়। শুনানি শেষে আদালত রায়ের জন্য আজকের দিন নির্ধারণ করেন।

রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে অংশ নেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান। তার সঙ্গে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল শামীমা দিপ্তী, জসিম সরকার এবং সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার সুমাইয়া আজিজ ও লাবনী আক্তার।

২০২৩ সালের ২১ এপ্রিল প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ মামলাটি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিষ্পত্তির নির্দেশ দেন। একইসঙ্গে মামলার যাবতীয় নথি বিচারপতি মোস্তাফিজুর রহমান ও সগীর হোসেনের বেঞ্চে পাঠানো হয়। এরপর ২৩ জুন শুরু হয় ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের মূল শুনানি।

উল্লেখ্য, ২০২০ সালের ৩১ জুলাই রাতে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কের শামলাপুর তল্লাশিচৌকিতে পুলিশের গুলিতে নিহত হন মেজর সিনহা। ঘটনার পাঁচদিন পর নিহত সিনহার বোন শারমিন শাহরিয়ার ফেরদৌস টেকনাফ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

পরবর্তীতে তদন্ত শেষে ২০২০ সালের ১৩ ডিসেম্বর র‍্যাব ১৫ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়। এতে সিনহার হত্যাকে একটি ‘পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

২০২২ সালের ৩১ জানুয়ারি কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালত মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায়ে বাহারছড়া তদন্তকেন্দ্রের তৎকালীন ইনচার্জ পরিদর্শক লিয়াকত আলী ও টেকনাফ থানার সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার দাশকে মৃত্যুদণ্ড এবং আরও পাঁচজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। মামলার অপর সাত আসামিকে খালাস দেওয়া হয়।

মৃত্যুদণ্ডাদেশ অনুমোদনের জন্য মামলার ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টে আসে এবং দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা আপিল করেন। আজকের রায়ে উচ্চ আদালত এ মামলার বিচারিক আদালতের রায় বহাল রাখবে নাকি সংশোধন করবে, তা নির্ধারিত হবে।




সফর শেষে প্রধান উপদেষ্টাকে যে বার্তা দিলো জাপান

আঞ্চলিক শান্তি ও সহযোগিতা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশের সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রত্যাশা করেছে জাপান। দেশটির প্রধানমন্ত্রী ইশিবা শিগেরু এ বার্তা দিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে। গত ৩০ মে শুক্রবার, টোকিওতে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে এ আলোচনা হয়।

বৈঠকে দুই নেতা অর্থনৈতিক সহযোগিতা, প্রতিরক্ষা, ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশল, মানবসম্পদ উন্নয়ন, রোহিঙ্গা সংকটসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে আলোচনা করেন। আঞ্চলিক সহযোগিতা প্রসঙ্গে শিগেরু জানান, জাপান চায় বাংলাদেশ এমন একটি অবস্থান নিক যেখানে আঞ্চলিক ঐকমত্য ও শান্তি বজায় থাকে।

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক অধ্যাপক ড. ইমতিয়াজ আহমদ মনে করেন, জাপানের এই বার্তার পেছনে রয়েছে মিয়ানমার ও ভারতের সঙ্গে তার সুসম্পর্ক। করিডর সংক্রান্ত কিছু বিষয় এবং আরাকান আর্মি ইস্যুতে বাংলাদেশ সরকারের অবস্থানের প্রতি ইঙ্গিত করে জাপান চায় আঞ্চলিক প্রতিবেশীদের সঙ্গে বাংলাদেশ সমন্বয় রেখে চলুক।

ছয়টি সমঝোতা স্মারক ও ঋণ-অনুদান চুক্তি

প্রধান উপদেষ্টার সফরকালে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে ছয়টি সমঝোতা স্মারক (MoU) সই হয়। এর মধ্যে রয়েছে—

  • বাংলাদেশ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় ও জাপান ব্যাংক ফর ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশনের (JBIC) মধ্যে চুক্তি
  • বাংলাদেশ বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল (BSEZ)-এ জমি ইজারা নিয়ে ওনোডা ইনকরপোরেশন এবং ন্যাক্সিস কোম্পানি লিমিটেড-এর সঙ্গে পৃথক দুটি চুক্তি
  • গ্লাগিট, মুসাশি সেইমিৎসু ও বিআইডিএ-এর মধ্যে শিল্প খাত উন্নয়ন সংক্রান্ত চুক্তি
  • সাইফার কোর কোম্পানির ২০ মিলিয়ন ডলারের তথ্য নিরাপত্তা বিনিয়োগ
  • জাইকা ও বিআইডিএ-এর মধ্যে প্রশাসনিক সহযোগিতা চুক্তি

১০৬ কোটি ৩০ লাখ ডলারের ঋণ ও অনুদান

জাপান সরকার বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সংস্কার, রেল উন্নয়ন ও জলবায়ু স্থিতিশীলতায় ১০৬ কোটি ৩০ লাখ মার্কিন ডলার সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এর মধ্যে—

  • ৪১ কোটি ৮০ লাখ ডলার উন্নয়ন নীতি ঋণ (জলবায়ু ও অর্থনৈতিক সংস্কারে)
  • ৬৪ কোটি ১০ লাখ ডলার জয়দেবপুর-ঈশ্বরদী রেলপথকে ডুয়াল গেজ ডাবল লাইনে রূপান্তরের জন্য
  • ৪২ লাখ ডলার বৃত্তি বাবদ অনুদান

প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা সহযোগিতা

যৌথ সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি হস্তান্তর বিষয়ে বাংলাদেশ ও জাপান নীতিগতভাবে একমত হয়েছে এবং দ্রুত চুক্তি সম্পন্নের প্রত্যাশা প্রকাশ করেছে। একইসঙ্গে, বাংলাদেশ নৌবাহিনীকে পাঁচটি টহল নৌকা সরবরাহের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে জাপান।

ইন্দো-প্যাসিফিক ও কৌশলগত অংশীদারত্ব

দুই দেশই মুক্ত, শান্তিপূর্ণ এবং সমৃদ্ধ ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের লক্ষ্যে অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করেছে। এ ছাড়া, অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (EPA) দ্রুত সম্পন্ন করতে আলোচনার গতি বাড়াতে সম্মত হয়েছে উভয়পক্ষ।

বিনিয়োগে উৎসাহ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা

বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগকে আরও উৎসাহিত করতে বিডা’র ওয়ান স্টপ সার্ভিস, প্রিপেইড গ্যাস মিটার, ব্যাটারিচালিত সাইকেল কারখানা এবং তথ্য নিরাপত্তার পাইলট প্রকল্প বাস্তবায়ন সংক্রান্ত এমওইউ-গুলোকে স্বাগত জানানো হয়।

মানবসম্পদ ও বাস্তুচ্যুত জনগণ

উভয়পক্ষ বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিয়োগ ও মানবসম্পদ উন্নয়নে সহযোগিতা আরও বাড়াতে সম্মত হয়েছে। রোহিঙ্গা শব্দটি উল্লেখ না করে যৌথ বিবৃতিতে জানানো হয়, বাস্তুচ্যুত জনগণের নিরাপদ, স্বেচ্ছাসেবী ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

কৃতজ্ঞতা ও ভবিষ্যৎ সহযোগিতা

প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস জাপান সরকারের প্রতি বঙ্গোপসাগরীয় শিল্প বৃদ্ধি বেল্ট (BIG-B) এবং মহেশখালী-মাতারবাড়ি সমন্বিত উন্নয়ন উদ্যোগ (MDI)-এর মাধ্যমে বাংলাদেশের টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে অব্যাহত সহায়তার জন্য কৃতজ্ঞতা জানান।

এই সফরের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ-জাপান কৌশলগত সম্পর্ক নতুন মাত্রায় পৌঁছেছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। উভয় দেশই দ্বিপাক্ষিক অংশীদারত্বকে আরও জোরদার করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।




যেমন হচ্ছে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেট _

২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকার জাতীয় বাজেট আজ উপস্থাপন করতে যাচ্ছেন অন্তর্বর্তী সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। বিকেল ৩টায় তার বাজেট বক্তব্য রেকর্ড করা হবে এবং সন্ধ্যা ৪টায় তা রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) ও বাংলাদেশ বেতারে প্রচারিত হবে। অন্যান্য বেসরকারি টিভি ও রেডিও চ্যানেলগুলোকেও বিটিভির ‘ফিড’ থেকে একই সময়ে সম্প্রচারের অনুরোধ জানানো হয়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এবারের বাজেটে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি এবং সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা পুনঃপ্রতিষ্ঠাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। বাজেটের আকার গত অর্থবছরের তুলনায় সামান্য কম। উল্লেখ্য, আওয়ামী লীগ সরকারের শেষ সময়ে প্রস্তাবিত বাজেটের আকার ছিল ৭ লাখ ৯৭ হাজার কোটি টাকা। তবে বাস্তবায়নের সময় তা কাটছাঁট হয়ে দাঁড়ায় ৭ লাখ ৮৯ হাজার ৯৯৮ কোটি টাকায়।

স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ের ইতিহাসে এই প্রথমবারের মতো একটি প্রস্তাবিত বাজেট আগের বছরের তুলনায় আকারে ছোট হচ্ছে। জাতীয় সংসদ বিলুপ্ত থাকায় এবারের বাজেট নিয়ে কোনো সংসদীয় আলোচনা বা বিতর্ক অনুষ্ঠিত হবে না। পরিবর্তে বাজেট ঘোষণার পর নাগরিকদের মতামত আহ্বান করবে অর্থ মন্ত্রণালয়। সেই মতামতের আলোকে বাজেটে প্রয়োজনীয় সংশোধন এনে ২৩ জুনের পর উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে তা চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য তোলা হবে। পরবর্তীতে রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশের মাধ্যমে ১ জুলাই থেকে নতুন অর্থবছরের বাজেট কার্যকর করা হবে।

এছাড়া, সামাজিক নিরাপত্তা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধির পাশাপাশি কর্মসূচির আওতায় ভাতা এবং উপকারভোগীর সংখ্যা বাড়ানো হবে। গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন, যেমন—রাস্তা নির্মাণ ও সংস্কার, কর্মসংস্থান তৈরির মাধ্যমে অর্থনীতিকে চাঙা রাখার চেষ্টা থাকবে বাজেটে।

এভাবেই অনন্য এক প্রেক্ষাপটে দেশের সামষ্টিক অর্থনীতির ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নিয়ে আজ উপস্থাপিত হতে যাচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রথম বাজেট।




গণতন্ত্রে অংশগ্রহণমূলক ধারায় ফিরছে রাজনীতি: বিএনপি নেতারা

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী রাজনৈতিক দল হিসেবে নিবন্ধন ফিরে পাওয়ায় দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্রের পরিপূর্ণতা এসেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির শীর্ষ নেতারা। তাঁদের মতে, সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের এ রায় অংশগ্রহণমূলক রাজনীতির পক্ষে একটি ইতিবাচক বার্তা বহন করে।

দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর রাজনৈতিক দল হিসেবে নিবন্ধন বাতিল ছিল রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। তবে রবিবার (১ জুন) আপিল বিভাগ হাইকোর্টের সেই আদেশকে অবৈধ ঘোষণা করে, ফলে দলটির আবারও নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধনের পথ উন্মুক্ত হয়।

এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, “বিএনপি শুরু থেকেই বহু মত ও পথের সমর্থক। গণতন্ত্রে ভিন্নমতের অবস্থান থাকা স্বাভাবিক ও প্রয়োজনীয়। আদালতের এই সিদ্ধান্ত বহুত্ববাদী রাজনীতির চর্চাকে শক্তিশালী করবে।”

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, “এই সংগ্রামে জনগণের সমর্থন যার সঙ্গে থাকবে, সেই শক্তিই হবে প্রকৃত রাজনৈতিক শক্তি। অতীতের বিভাজন ভুলে আমরা সবাই মিলে একটি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়তে চাই।”

বিএনপি নেতারা মনে করেন, গণতন্ত্রের বিকাশ ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সব দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা জরুরি। জামায়াতের নিবন্ধন ফিরে পাওয়া সেই বহুদলীয় রাজনৈতিক কাঠামোর অংশ বলেই তাঁরা মনে করছেন।




গণতন্ত্র এখনও অধরা” — শহীদ জিয়ার মৃত্যুবার্ষিকীতে ডা. রফিকুল

বিএনপির স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম বলেছেন, দেশের বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গণতন্ত্রে ফেরার পথে হাঁটছে না। তিনি অভিযোগ করেন, দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে দেশে প্রকৃত গণতন্ত্র অনুপস্থিত এবং ৫ আগস্টের অভ্যুত্থানের পর সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক ধারায় ফিরে যাওয়ার যে প্রত্যাশা ছিল, তা পূরণ হয়নি।

রবিবার (১ জুন) ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত মিলাদ ও দোয়া মাহফিল এবং এতিমদের মাঝে খাবার বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। আয়োজক ছিল জাতীয়তাবাদী চিকিৎসক, কর্মকর্তা, নার্স ও কর্মচারীবৃন্দ।

ডা. রফিকুল বলেন, “বাকশাল প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে দেশের গণতন্ত্র যেভাবে বিলুপ্ত হয়েছিল, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বেই বাংলাদেশ ফের গণতন্ত্রের পথে হাঁটতে শুরু করেছিল। তিনি চাইলে ক্ষমতা ভোগ করতে পারতেন, কিন্তু সেটি না করে বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রবর্তন করেন।”

তিনি আরও বলেন, “দেশনেত্রী খালেদা জিয়া গণতন্ত্রের জন্য আজীবন সংগ্রাম করে যাচ্ছেন। তিনি ৯০-এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের অবিসংবাদিত নেত্রী এবং তিনবারের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী। তাঁর নেতৃত্বে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের লড়াই চলমান রয়েছে।”

তারেক রহমান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “১/১১ সময়ের রাজনীতিতে তাকে নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে। মিডিয়ায় তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রচারণা চালানো হয়েছে। কিন্তু তিনি কখনো দেশকে ভুলে যাননি। চলমান জুলাই আন্দোলনে তাঁর নেতৃত্ব এখন ওপেন সিক্রেট। রাজপথ থেকে আহতদের চিকিৎসা পর্যন্ত তিনি সরাসরি দেখভাল করছেন।”

ডা. রফিকুল ইসলাম বক্তব্যের শেষে বলেন, “আমাদের গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার লড়াই এখনো শেষ হয়নি। শহীদ জিয়ার আদর্শে গড়া বিএনপি সামনে থেকেই নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছে। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত জিয়ার আদর্শের একজন সৈনিকও ঘরে ফিরবে না।”




‘আমরা বিএনপি পরিবার’ এর উদ্যোগে জিয়া উদ্যানের লেকে শাপলা ফুল রোপিত হলো

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তমের মাজার কমপ্লেক্স এলাকায় পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও শাপলা ফুলের চারা রোপণ কর্মসূচি পালন করেছে ‘আমরা বিএনপি পরিবার’। রবিবার (১ জুন) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের জিয়া উদ্যান এলাকায় এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

রবিবার সকালে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেন সংগঠনের আহ্বায়ক আতিকুর রহমান রুমন। উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের উপদেষ্টা ইঞ্জিনিয়ার মোস্তফা-ই জামান সেলিম, সদস্য সচিব কৃষিবিদ মোকছেদুল মোমিন মিথুন, সদস্য মাসুদ রানা লিটন ও ফরহাদ আলী সজীব।

অনুষ্ঠানে আরও অংশ নেন মালয়েশিয়া বিএনপির সভাপতি প্রকৌশলী বাদলুর রহমান খান বাদল, জাতীয় প্রেস ক্লাবের স্থায়ী সদস্য জাহিদুল ইসলাম রনি, জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ—সহ-সভাপতি হাবিবুল বাশার, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক হাসানুর রহমান, সহ-সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান রনি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (শেকৃবি) ও বিভিন্ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদল নেতারাও কর্মসূচিতে অংশ নেন। এদের মধ্যে ছিলেন ঢাবির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আনিসুর রহমান অনিক, শেকৃবির সাংগঠনিক সম্পাদক ফরহাদ হোসেন, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের যুগ্ম-সম্পাদক মশিউর রহমান মহান, ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের আব্দুল্লাহ আল মিসবাহ, শেকৃবির মেজবাহ উদ্দিন, আব্দুল্লাহ আল মারুফ, শোয়েব হাসান, অনিক হাসান, শাহরিয়ার হোসেন ও মারুফ মেলিন।

এছাড়া বগুড়া জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সহ-সভাপতি ইমতিয়াজ সেতু, ঢাকা মহানগর যুবদল নেতা মইনুল ইসলাম রনি, ফয়সাল হায়দার ও লিটন ফকিরসহ আরও অনেকে কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন।

পরিচ্ছন্নতা ও প্রাকৃতিক পরিবেশ সংরক্ষণের বার্তা পৌঁছে দিতেই এ ধরনের কার্যক্রমের আয়োজন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন আয়োজকরা।




পুরানা পল্টনে বহুতল ভবনে অগ্নিকাণ্ড, ১৭ মিনিটে নিয়ন্ত্রণে

রাজধানীর পুরানা পল্টনে একটি ১০তলা ভবনের ৬তলায় আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। সোমবার ২ জুন সকাল ৬টা ৫৫ মিনিটে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হলেও দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মাত্র ১৭ মিনিটের প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে ফায়ার সার্ভিসের পাঁচটি ইউনিট।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদফতরের মিডিয়া সেলের কর্মকর্তা খায়রুল ইসলাম রনি জানান, সড়ক ফাঁকা থাকায় খবর পাওয়ার মাত্র ছয় মিনিটের মধ্যে—সকাল ৭টা ১ মিনিটে—ঘটনাস্থলে পৌঁছায় ফায়ার সার্ভিস। এরপর সকাল ৭টা ১৮ মিনিটে আগুন সম্পূর্ণভাবে নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।

ঘটনার সময় ভবনের অন্যান্য তলায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে, তবে তাৎক্ষণিকভাবে হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি। প্রাথমিকভাবে আগুন লাগার কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানাতে পারেনি কর্তৃপক্ষ।

এ বিষয়ে বিস্তারিত তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস।