বিএনপি কোনো হুমকি বা ষড়যন্ত্রকে পরোয়া করে না; এটা জনগণের দল

বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য অধ্যাপক ডা. এ. জেড. এম. জাহিদ হোসেন বলেছেন, ষড়যন্ত্র কিংবা হুমকি দিয়ে বিএনপিকে দমন করা যাবে না। মহান আল্লাহ ছাড়া বিএনপিকে থামিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা কারও নেই। বিএনপি একটি জনগণের দল—যারা এ দলকে রুখতে চায়, তারা ব্যর্থ হবে।

শনিবার (১ জুন) বগুড়া জেলা বিএনপির আয়োজনে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৪তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. জাহিদ হোসেন বলেন, “১৯৭৫ সালে সিপাহি-জনতার বিপ্লবের মাধ্যমে মেজর জিয়া এ দেশকে মুক্তির পথ দেখিয়েছেন। তিনি জন্ম থেকেই প্রস্তুত ছিলেন দেশের নেতৃত্ব দিতে। তাঁর কালজয়ী দর্শনের সবচেয়ে বড় অবদান হচ্ছে বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ ও জাতীয়তাবাদী দল। তাঁর সর্বশ্রেষ্ঠ অবদান স্বাধীনতার ঘোষণা।”

তিনি অভিযোগ করে বলেন, আওয়ামী লীগ একটি অন্যায়-অনাচারের দল, যারা বাকশাল কায়েম করে দেশে গণতন্ত্রকে হত্যা করেছিল। তিনি আরও বলেন, “বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের নেতৃত্বে আজ বিএনপি দেশের মানুষের মুক্তির সংগ্রামে অবিচল রয়েছে। বিএনপি একসময় স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছে, আজও ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে লড়ছে।”

আওয়ামী লীগের শাসনামলে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা হরণ করা হয়েছিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি। “মাত্র চারটি পত্রিকা রেখে বাকিগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল,” বলেন জাহিদ হোসেন।

বিএনপির নেতা আরও বলেন, “বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয় এবং শিশু ও মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরসহ বহু যুগান্তকারী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আর তারেক রহমান ৩১ দফার মাধ্যমে দেশের পুনর্গঠনের রূপরেখা দিয়েছেন, যার মধ্য দিয়ে একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ে উঠবে।”

আন্দোলনে নিহত শহীদদের স্মরণ করে তিনি বলেন, “শহীদ আবু সাইদ ও মুগ্ধরা কোনো দলের নয়, তারা দেশের মানুষের জন্য জীবন দিয়েছেন। আমরা মনে রাখতে চাই—৪৭ বাদ দিয়ে ৭১ হবে না, ৭১ বাদ দিয়ে ৭৫ হবে না, ৭৫ বাদ দিয়ে ৯০ হবে না, আর ৯০ বাদ দিয়ে ২০২৪-২৫ হবে না। অতএব, সকল গুম-খুনের বিচার করতে হবে।”

সভায় আরও বক্তব্য রাখেন বগুড়া জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মোশারফ হোসেন, জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সাবেক এমপি কাজী রফিকুল ইসলাম, আলী আজগর তালুকদার হেনা, জয়নাল আবেদীন চান, মাহবুবর রহমান হারেজ এবং সাবেক সাধারণ সম্পাদক ফজলুল বারী বেলাল প্রমুখ।




অবশেষে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শিরোপা জিতল পিএসজি

প্যারিস সেইন্ট জার্মেইন (পিএসজি) ইউরোপিয়ান ক্লাব ফুটবলের শ্রেষ্ঠত্বের মঞ্চে রচনা করল নতুন ইতিহাস। মিউনিখে অনুষ্ঠিত ২০২৪–২৫ মৌসুমের উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে ইতালিয়ান ক্লাব ইন্টার মিলানকে ৫-০ গোলের বড় ব্যবধানে পরাজিত করে প্রথমবারের মতো এই প্রতিযোগিতার শিরোপা জিতেছে ফরাসি জায়ান্টরা।

মিউনিখে খেলা মানেই নতুন চ্যাম্পিয়ন—১৯৯৩ সালে অলিম্পিক মার্শেইর পর এবার পিএসজির সাফল্যে যেন সেই অলিখিত নিয়ম আবারও সত্যি হলো। বিশাল জয় দিয়ে কেবল ইউরোপ সেরা হওয়ার তৃপ্তিই নয়, একই সঙ্গে লিগ ও কাপ মিলিয়ে ট্রেবল (তিনটি শিরোপা) নিশ্চিত করল ক্লাবটি।

শুরুর বাঁশি বাজতেই আক্রমণে ঝাঁপিয়ে পড়ে লুইস এনরিকের দল। বল দখলে আধিপত্য রেখে একের পর এক আক্রমণে দিশেহারা করে তোলে ইন্টার মিলানকে। ম্যাচের প্রথম ১৫ মিনিটেই পিএসজির বল দখলের হার ছিল ৬৩ শতাংশের বেশি।

১২তম মিনিটে ভিতিনহার দুর্দান্ত পাস থেকে গোলের সূচনা করেন সাবেক ইন্টার তারকা আশরাফ হাকিমি। এর মাত্র আট মিনিট পর দ্বিতীয় গোলটি করেন ম্যাচে প্রথম গোলের অ্যাসিস্ট দেওয়া ডুজুয়ে। ডেম্বেলের সঙ্গে বোঝাপড়ায় দুর্দান্ত এক গোল করে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন এই উইঙ্গার।

প্রথমার্ধের বাকি সময়টাতে কিছুটা সামলানোর চেষ্টা করলেও কোনো উল্লেখযোগ্য আক্রমণ গড়তে পারেনি ইন্টার মিলান। উল্টো পিএসজির আক্রমণ রুখতেই ব্যস্ত থাকতে হয় তাদের। প্রথমার্ধ শেষ হয় ২-০ ব্যবধানে।

বিরতির পর কিছুটা গোছানো শুরু করলেও গোল মুখে জোরালো কিছু করতে পারেনি ইতালিয়ান ক্লাবটি। বরং দ্বিতীয়ার্ধে আরও বিধ্বংসী রূপে দেখা যায় পিএসজিকে। ৬৩ মিনিটে ডেম্বেলের ব্যাকহিল থেকে ভিতিনহার পাসে গোল করেন দিজেরে দুয়ে। ৭৩ মিনিটে ডেম্বেলের আরেকটি অ্যাসিস্ট থেকে চতুর্থ গোলটি করেন কাভারাত্সখেলিয়া।

শেষের দিকে আরও এক গোল যোগ করে পিএসজি। ৮৬ মিনিটে বারকোলার পাস থেকে সেনি মায়ুলু স্কোরলাইন দাঁড় করান ৫-০ তে। ফাইনালের ইতিহাসে এটি অন্যতম বড় ব্যবধানের জয় হিসেবে রেকর্ডে জায়গা করে নিয়েছে।

একসময় মেসি, নেইমার ও এমবাপে নিয়ে ইউরোপ সেরা হবার স্বপ্ন দেখলেও সে পথে সফল হয়নি পিএসজি। এবার নতুন প্রজন্মের তারকা ডেম্বেলে, ভিতিনহা, হাকিমি, কাভারাত্সখেলিয়া ও মায়ুলুর অসাধারণ পারফরম্যান্সে সেই স্বপ্নপূরণ হলো।

ইতিহাস গড়ে ইউরোপ সেরার মুকুট জয়ে উল্লসিত প্যারিসিয়ানরা। এখন ফুটবলবিশ্ব চেনে নতুন রাজাকে—প্যারিস সেইন্ট জার্মেইন।




ছাত্রদল-বামজোটের কার্যক্রম ‘সন্ত্রাসী’ উল্লেখ করে ছাত্রশিবিরের নিন্দা

ছাত্রদল ও বামপন্থি ছাত্রসংগঠনগুলোর সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডকে ‘সন্ত্রাসী কার্যকলাপ’ আখ্যা দিয়ে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। শনিবার (৩১ মে) এক যৌথ বিবৃতিতে সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম ও সেক্রেটারি জেনারেল নূরুল ইসলাম সাদ্দাম এ প্রতিক্রিয়া জানান।

বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করেন, জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের পর একটি ন্যায়ভিত্তিক ও নিরাপদ বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখলেও কিছু রাজনৈতিক সংগঠনের ‘ফ্যাসিবাদী চরিত্র’ অপরিবর্তিত রয়ে গেছে। তাদের ভাষ্যমতে, ছাত্রদল ও বাম ছাত্রসংগঠনগুলো এখনো সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, মাদক বাণিজ্য, নারী নির্যাতনসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত।

ছাত্রশিবিরের বিবৃতিতে দাবি করা হয়, ঢাকার সরকারি গ্রাফিক আর্টস কলেজ, খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট), কক্সবাজার পলিটেকনিকসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালিয়েছে ছাত্রদল। চট্টগ্রাম সরকারি কমার্স কলেজে শিবিরের ‘হেল্প ডেস্কে’ হামলার ঘটনায় তিনজন কর্মী আহত হয়েছেন বলেও জানানো হয়। এছাড়া চট্টগ্রাম ইসলামিয়া কলেজ ও রংপুর অঞ্চলেও তাদের কার্যক্রমে বাধা দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ফরিদপুরে এক ছাত্রীকে নির্যাতন, রাজধানীর আদাবরে এক নারীকে হুমকি এবং অন্যান্য এলাকায় নারী নির্যাতনের ঘটনায় ছাত্রদল নেতারা জড়িত। অথচ এ ঘটনায় নারী অধিকার সংগঠনগুলো নীরবতা পালন করছে, যা পক্ষপাতদুষ্ট মানবাধিকার চেতনার প্রকাশ বলে মন্তব্য করে ছাত্রশিবির।

ছাত্রশিবির অভিযোগ করে, নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের মতোই ছাত্রদল এখন ক্যাম্পাসে জোর-জুলুম চালাচ্ছে। তারা দাবি করে, ৩০ মে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মসূচিতে অংশ না নেওয়ায় দুই নারী শিক্ষার্থীকে হল ছাড়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, বামজোটকে ব্যবহার করে পরিকল্পিতভাবে শিক্ষাঙ্গনে অস্থিরতা তৈরি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ আনা হয়।

বিবৃতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলা হয়, রাজশাহী মহানগরের ছাত্রদল নেতা আহনাফ তাহমিদ এবং ছাত্র ইউনিয়নের শাহরিয়ার ইব্রাহিমের বক্তব্য সন্ত্রাসকে উৎসাহিত করছে, যা সমাজের জন্য হুমকিস্বরূপ।

ছাত্রশিবির হুঁশিয়ারি দিয়ে জানায়, যদি ছাত্রদল ও বামজোট সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড থেকে সরে না আসে, তবে তারা ‘৩৬ জুলাইয়ের চেতনায়’ দেশব্যাপী ছাত্রসমাজকে সঙ্গে নিয়ে আন্দোলন গড়ে তুলবে। একই সঙ্গে লাল সন্ত্রাসীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।




নিবন্ধন ও প্রতীক নিয়ে আপিলের রায় আজ: সুপ্রিম কোর্টের দিকে তাকিয়ে জামায়াত

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন ও নির্বাচনী প্রতীক ‘দাঁড়িপাল্লা’ ফিরে পাওয়ার বিষয়ে আপিল বিভাগের বহুল প্রত্যাশিত রায় আজ ১ জুন (রোববার) ঘোষণা করা হবে। প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে চার সদস্যের বেঞ্চ এই রায় ঘোষণা করবেন। সুপ্রিম কোর্টের কার্যতালিকায় মামলাটি ১ নম্বরে রয়েছে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণআন্দোলনের মাধ্যমে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বড় পরিবর্তন আসে। সেই প্রেক্ষাপটে জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন ও প্রতীক ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়। দলটি হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে, যেখানে সংবিধান সংশ্লিষ্ট গুরুতর আইনি প্রশ্ন উত্থাপিত হয়। শুনানি শেষে এখন রায় ঘোষণার অপেক্ষায়।

এদিকে নির্বাচন কমিশন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের নির্ধারিত সময়সূচি এখনও ঘোষণা না করলেও, দেশের বড় রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচনী প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে। জামায়াত ইসলামীও পিছিয়ে নেই। দলটি ইতোমধ্যেই ৩০০ আসনে প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে। তবে নিবন্ধন ও নির্বাচনী প্রতীক পুনরুদ্ধার না হওয়ায় দলটি এক ধরনের আইনি অনিশ্চয়তায় রয়েছে।

দলটির আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির জানিয়েছেন, দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে এখন শেষ পর্যায়ে এসেছে বিষয়টি। তিনি আশাবাদী যে আজকের রায়ে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত আসবে।

নিবন্ধন ও প্রতীক ফিরে পাওয়ার বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কর্মসূচি চালিয়ে এসেছে জামায়াত। দলে হতাশা থাকলেও শীর্ষ নেতারা শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত আশাবাদী ছিলেন। আজকের রায় সে প্রত্যাশার ফলাফল নিয়ে আসবে কি না, তা জানতে চোখ এখন দেশের সর্বোচ্চ আদালতের দিকে।

জামায়াতে ইসলামীসহ রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সাধারণ মানুষের দৃষ্টি এখন আপিল বিভাগের রায়ের দিকে। এই রায়ের মাধ্যমে পরিষ্কার হবে—নিবন্ধন ও প্রতীক ফিরে পাচ্ছে কি না জামায়াতে ইসলামী।




চীনের বাণিজ্যমন্ত্রীর ঢাকা সফর: সঙ্গে ২৫০ বিনিয়োগকারী ও ব্যবসায়ী প্রতিনিধি

তিন দিনের সফরে বাংলাদেশে পৌঁছেছেন চীনের বাণিজ্যমন্ত্রী ওয়াং ওয়েনতাও। শনিবার (৩১ মে) দুপুরে তিনি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করলে তাকে অভ্যর্থনা জানান বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন।

এই সফরে মন্ত্রী ওয়েনতাওয়ের সঙ্গে রয়েছেন প্রায় ২৫০ জন চীনা বিনিয়োগকারী ও ব্যবসায়ী প্রতিনিধি। সফরের মূল লক্ষ্য হলো বাংলাদেশ-চীন দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্পর্ক জোরদার করা এবং বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগ সম্প্রসারণ।

শনিবার বিকেল ৫টায় হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে বাণিজ্য উপদেষ্টার সঙ্গে একটি দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে অংশ নেন চীনের প্রতিনিধি দল।

রোববার (১ জুন) রাজধানীর বিনিয়োগ ভবনে অনুষ্ঠিত হবে দিনব্যাপী ‘বাংলাদেশ-চীন বিনিয়োগ ও বাণিজ্য সম্মেলন’। সম্মেলনের আয়োজন করছে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

সম্মেলনে অংশ নিচ্ছেন চীনা ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীরা, যারা প্রায় ১০০টি উদ্যোগের প্রতিনিধিত্ব করবেন। অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ছয় থেকে সাতটি ফরচুন ৫০০ কোম্পানির শীর্ষ নির্বাহীরাও থাকছেন।

সম্মেলনের অংশ হিসেবে আয়োজিত পাঁচটি পৃথক ‘ম্যাচমেকিং সেশন’-এ অংশ নেবেন দুই দেশের ব্যবসায়ীরা। সেশনগুলোতে আলোচনার বিষয়বস্তু হবে তৈরি পোশাক ও বস্ত্র, কৃষি প্রক্রিয়াকরণ, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, ইলেকট্রনিক্সসহ বিভিন্ন সম্ভাবনাময় খাত।

এই সফরের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা নতুন মাত্রা পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।




বাউফলে কমরেড শাহাবুদ্দিনের শেষ বিদায় রাষ্ট্রীয় মর্যাদায়

পটুয়াখালীর বাউফলের কাছিপাড়া ইউনিয়নে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন সম্পন্ন হয়েছে বীর মুক্তিযোদ্ধা, বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী ও কমিউনিস্ট আন্দোলনের বর্ষীয়ান নেতা কমরেড শাহাবুদ্দিন আহম্মেদের। শনিবার (৩১ মে) সকাল ৯টায় কারখানা মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন হয়। জানাজা পূর্ব মুহূর্তে বাউফল থানা পুলিশের একটি চৌকস দল গার্ড অব অনার প্রদান করে এই বীর সন্তানকে।

শাহাবুদ্দিন আহম্মেদ শুধু একজন মুক্তিযোদ্ধাই ছিলেন না, তিনি ছিলেন শিক্ষা ও রাজনীতিতে প্রজ্ঞার প্রতীক। তার মৃত্যুতে স্থানীয়ভাবে শোকের ছায়া নেমে আসে। জানাজা ও দাফন কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রতীক কুমার কুন্ডু, পটুয়াখালী জেলা কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি মোতালেব মোল্লা, কাছিপাড়া আবদুর রশিদ মিয়া ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ এস এম কবীর হোসেনসহ আরও অনেকে।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, তিনি গত শুক্রবার দুপুর ১টায় পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮২ বছর। তিনি রেখে গেছেন তিন ছেলে, দুই মেয়ে এবং অসংখ্য শুভাকাঙ্ক্ষী ও গুণগ্রাহী।

দশমিনা সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে দীর্ঘকাল দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। পাশাপাশি বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির জেলা সভাপতি ও কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। তার পুত্র মো. সাদেক আহমেদ সজল বর্তমানে দৈনিক আজকের পত্রিকার সহকারী বার্তা সম্পাদক হিসেবে কর্মরত।

এই মহান ব্যক্তির বিদায়ে এলাকাবাসী এক অভিভাবককে হারাল।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি চূড়ান্তে এগোচ্ছে দুই দেশ

বাংলাদেশ ও জাপান চলতি বছরের শেষ নাগাদ একটি অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি (ইপিএ) স্বাক্ষর করবে বলে ঘোষণা দিয়েছে। শুক্রবার (৩০ মে) টোকিওতে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে এক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে এই ঘোষণা দেন বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিগেরু ইশিবা।

বৈঠকে দুই নেতা অর্থনৈতিক ও কৌশলগত অংশীদারত্ব আরও গভীর করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। জাপানের প্রধানমন্ত্রী ইশিবা বাংলাদেশকে ‘দীর্ঘদিনের বন্ধু’ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, তার দেশ বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রূপান্তরের প্রচেষ্টায় পাশে থাকবে। তিনি আরও বলেন, ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় বাংলাদেশের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এ সময় ড. ইউনূস বাংলাদেশের অর্থনৈতিক পুনর্গঠন ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিতে জাপানের সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “গত ১০ মাসে আমরা জাপানের কাছ থেকে যে নিরবচ্ছিন্ন সমর্থন পেয়েছি, তা আমাদের সংস্কার প্রক্রিয়াকে আরও দৃঢ় করেছে।”

চুক্তি স্বাক্ষর ছাড়াও উভয় দেশের মধ্যে বিভিন্ন অর্থনৈতিক খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়ে আলোচনা হয়। ড. ইউনূস জাপানের কাছে মাতারবাড়িতে ভূমি ভিত্তিক এলএনজি টার্মিনাল, মহেশখালীতে এলপিজি টার্মিনাল নির্মাণ এবং শুল্ক ও কোটামুক্ত বাণিজ্য সুবিধা চেয়ে সহযোগিতা চান। একইসঙ্গে তিনি অবকাঠামো উন্নয়নের লক্ষ্যে ঢাকা-চট্টগ্রাম এক্সপ্রেসওয়ে, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক এবং মেঘনা-গোমতী নদীর ওপর নতুন সেতু নির্মাণে সফট লোনের আহ্বান জানান।

প্রধান উপদেষ্টা আরও আহ্বান জানান, জাপানি প্রতিষ্ঠানগুলো যেন বাংলাদেশে অটোমোবাইল, ইলেকট্রিক যানবাহন, হালকা যন্ত্রপাতি ও সৌরবিদ্যুৎ খাতে বিনিয়োগ করে এবং শিল্প মূল্য শৃঙ্খলে যুক্ত হয়। তিনি জাপানকে দক্ষ শ্রমিক কর্মসূচি চালুর অনুরোধ জানান যাতে বাংলাদেশি কর্মীরা জাপানে কাজের সুযোগ পান।

শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রেও সহযোগিতা চেয়ে ড. ইউনূস জাপানে বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ও প্রশিক্ষকদের জন্য আরও বেশি পড়াশোনার সুযোগ সৃষ্টির আহ্বান জানান।

বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানে জাপানের ভূমিকা বৃদ্ধির আহ্বানও জানান ড. ইউনূস।

জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিগেরু ইশিবা বলেন, “বাংলাদেশ যেন তার চ্যালেঞ্জগুলো কাটিয়ে উঠে একটি সমৃদ্ধ, গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে, সে জন্য টোকিও প্রয়োজনীয় সহায়তা দেবে।”

তিনি ৩৮ বছর আগে বাংলাদেশ সফরের স্মৃতিচারণা করে বলেন, যমুনা সেতুর উদ্বোধনে অংশগ্রহণ ছিল একটি স্মরণীয় ঘটনা। একইসঙ্গে তিনি ড. ইউনূস ও গ্রামীণ ব্যাংকের বিশ্বব্যাপী দারিদ্র্য বিমোচনে অবদানের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং পারস্পরিক সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের আগ্রহ জানান।

এই বৈঠককে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের একটি নতুন মাইলফলক হিসেবে দেখছেন দুই দেশের কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা। ইপিএ স্বাক্ষর হলে তা বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও কৌশলগত সহযোগিতার এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।




চীনা বাণিজ্যমন্ত্রীর ঢাকা সফর: বিদেশি বিনিয়োগে স্বস্তির আভাস

দীর্ঘদিনের বিদেশি বিনিয়োগ খরা কাটিয়ে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে পারে বাংলাদেশ। অন্তর্বর্তী সরকারের শীর্ষ পর্যায়ে এমনই আশাবাদ। আজ (৩১ মে) শনিবার ঢাকা সফরে আসছেন চীনের বাণিজ্যমন্ত্রী ওয়াং ওয়েনতাও, সঙ্গে থাকছে শতাধিক ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীর বিশাল প্রতিনিধি দল। এ সফর থেকেই আসতে পারে উল্লেখযোগ্য কিছু বিনিয়োগ ঘোষণাও।

সরকারি সূত্রে জানা গেছে, চীনা বাণিজ্যমন্ত্রীর সফরের মূল উদ্দেশ্য বাংলাদেশ-চীন যৌথ অর্থনৈতিক ও বাণিজ্য কমিশনের বৈঠকে অংশগ্রহণ। তবে এর পাশাপাশি গঠনমূলক বিনিয়োগ আলোচনাও হবে। শনিবার বিকেলে বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীনের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন ওয়েনতাও। রোববার পাঁচটি সেশনে বাংলাদেশের ব্যবসায়ী ও সরকারি প্রতিনিধিদের সঙ্গে ‘ম্যাচমেকিং’ বৈঠকেও অংশ নেবেন চীনা প্রতিনিধি দল, যেখানে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস উপস্থিত থাকবেন।

চীনা প্রতিনিধি দলের সফরকালে গাজীপুরের একটি তৈরি পোশাক কারখানা পরিদর্শনের পাশাপাশি গার্মেন্টস খাতেও পৃথক বৈঠক রয়েছে। সোমবার যৌথ অর্থনৈতিক ও বাণিজ্য কমিশনের মূল বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে নেতৃত্ব দেবেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ।

বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) জানায়, সফরে ব্যবসা-বাণিজ্য সহজীকরণে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা এবং আমদানি-রপ্তানিতে প্রতিবন্ধকতা দূর করতে একটি সমঝোতা স্মারক (MoU) সই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিডার এক কর্মকর্তা বলেন, “চীনা প্রতিনিধিরা কিছু বিনিয়োগের ঘোষণা দেবেন বলে আশা করছি। তবে পরিমাণ এখনই বলা সম্ভব নয়।”

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, বিদেশি বিনিয়োগে বাংলাদেশ পিছিয়ে রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে (জুলাই-মার্চ) নিট বিদেশি বিনিয়োগ এসেছে মাত্র ৮৬ কোটি ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৬ শতাংশ কম।

অর্থনীতিবিদ ড. মাহফুজ কবির বলেন, “বিদেশি বিনিয়োগ থমকে আছে। গ্যাস সংকট, উচ্চ ব্যবসায় খরচ এবং আমলাতান্ত্রিক জটিলতা বড় বাধা। বিনিয়োগ বাড়াতে হলে গ্যাস সরবরাহ এবং ব্যয় হ্রাস করতে হবে।”

এদিকে, চীনা বিনিয়োগে সরকারের আশাবাদ থাকলেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়া নিয়েও সতর্কতা রয়েছে। অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, চীনা বিনিয়োগের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনৈতিক টানাপড়েন তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে বাণিজ্য যুদ্ধ ও কৌশলগত প্রতিদ্বন্দ্বিতার পটভূমিতে এমন বিনিয়োগ স্পর্শকাতর হয়ে উঠতে পারে।

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানিয়েছে, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে সরকার ইতিমধ্যে বিনিয়োগ, শ্রম ও বাণিজ্য খাতে সংস্কার চালিয়েছে। এছাড়া বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সমস্যা সমাধানে হটলাইন এবং কল সেন্টার চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

চীনা কোম্পানিগুলোর মধ্যে চট্টগ্রাম ও মোংলায় চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগে আগ্রহ রয়েছে। সেই সঙ্গে কিছু প্রতিষ্ঠান ইভি (ইলেকট্রিক ভেহিকেল), লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি, বায়ু বিদ্যুৎ ও সৌর বিদ্যুৎ খাতে বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

চীনা বাণিজ্যমন্ত্রীর সফর বাংলাদেশে বিনিয়োগের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে কিনা, তা নির্ভর করছে কার্যকর চুক্তি ও ঘোষণার ওপর। তবে সংশ্লিষ্টরা আশাবাদী, এই সফর অন্তর্বর্তী সরকারের জন্য একটি বড় সফলতা হয়ে উঠতে পারে।




জামায়াত একটি আদর্শ নেতৃত্ব ও কল্যানমুখী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় কাজ করে যাচ্ছে : ডা.তাহের


বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ও সাবেক সংসদ সদস্য ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের বলেছেন, “জামায়াত একটি কল্যাণভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে।” তিনি বলেন, দলের মূল উদ্দেশ্য হলো—সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রতিটি স্তরে সৎ, যোগ্য ও আদর্শ নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করা।

শুক্রবার (৩০ মে) চট্টগ্রামের বাকলিয়ায় দক্ষিণ জেলা জামায়াত আয়োজিত এক সদস্য (রুকন) শিক্ষাশিবিরে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. তাহের বলেন, “অতীতে শহীদ আমিরে জামায়াত মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী ও আলী আহসান মুজাহিদ দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছেন। এমনকি তাদের পরিচালিত মন্ত্রণালয়গুলো দুর্নীতিমুক্ত ছিল—এমন সত্য স্বীকার করতেও তৎকালীন ফ্যাসিবাদী সরকার বাধ্য হয়েছিল।”

তিনি অভিযোগ করেন, “১৯৭১ সালে স্বাধীনতার লক্ষ্য থেকে সরে গিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব বাকশাল কায়েম করে দেশে ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠা করেন। এরপর একের পর এক সরকার দেশকে দুর্নীতির অতল গহ্বরে ঠেলে দিয়েছে। সর্বশেষ ফ্যাসিস্ট সরকার ৩০০ আসনের সংসদ সদস্যদের দেশত্যাগে বাধ্য করেছে। এমনকি উপজেলা ও ইউনিয়ন চেয়ারম্যানরাও পালিয়ে বেড়াচ্ছেন—এ ধরনের নজির ইতিহাসে বিরল।”

তাহের আরও বলেন, “বর্তমানে জনগণ নতুন আস্থার জায়গা খুঁজছে এবং তারা জামায়াতের দিকেই তাকিয়ে আছে। আমাদের দায়িত্ব জনগণের সেই আস্থার প্রতিদান দেওয়া এবং দেশকে নৈতিক নেতৃত্বের মাধ্যমে এগিয়ে নেওয়া।”

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা মুহাম্মদ শাহজাহান, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য অধ্যাপক জাফর সাদেক, চট্টগ্রাম মহানগরী নায়েবে আমির মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম, এবং জেলা জামায়াতের সাংগঠনিক সেক্রেটারি ও চট্টগ্রাম-১৩ আসনের প্রার্থী অধ্যাপক মাহমুদুল হাছান চৌধুরী।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন দক্ষিণ জেলা জামায়াতের আমির আনোয়ারুল আলম চৌধুরী এবং সঞ্চালনা করেন সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মাওলানা বদরুল হক।

শিক্ষাশিবিরে আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা ও উপজেলার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা, প্রার্থীরা ও সাংগঠনিক ব্যক্তিত্বরা।




চট্টগ্রাম ও পার্বত্য জেলায় ভূমিধসের ঝুঁকি, আবহাওয়া অফিসের সতর্কবার্তা

দেশের সাতটি বিভাগে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এ সময় পাহাড়ি এলাকাগুলোতে ভূমিধস এবং প্রধান শহরগুলোতে জলাবদ্ধতার আশঙ্কাও প্রকাশ করা হয়েছে।

শুক্রবার (৩০ মে) সন্ধ্যায় আবহাওয়া অফিসের জারি করা সতর্কবার্তায় জানানো হয়, সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় রংপুর, খুলনা, বরিশাল, ঢাকা, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় ৪৪ থেকে ১৮৮ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হতে পারে।

এ ধরনের অতিভারী বৃষ্টিপাতের কারণে চট্টগ্রাম, রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান ও কক্সবাজারের পাহাড়ি এলাকায় কোথাও কোথাও ভূমিধসের সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে ঢাকার বিভিন্ন এলাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরীর কিছু অংশে অস্থায়ী জলাবদ্ধতা দেখা দিতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।

আবহাওয়া অফিস আরও জানায়, সাতক্ষীরা ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত স্থল গভীর নিম্নচাপটি উত্তর ও উত্তর-পূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে ক্রমান্বয়ে দুর্বল হয়েছে। এটি প্রথমে স্থল নিম্নচাপে এবং পরে আরও দুর্বল হয়ে সুস্পষ্ট লঘুচাপ হিসেবে শেরপুর ও তৎসংলগ্ন ভারতের মেঘালয় অঞ্চলে অবস্থান করছে।

আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিম্নচাপের এই প্রভাব আগামী এক-দুই দিন দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টিপাত অব্যাহত রাখতে পারে। জনসাধারণকে পাহাড়ি এলাকায় সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।