প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারীর বৈঠক

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী গোয়েন লুইস।

মঙ্গলবার (৩ জুন) রাজধানীর যমুনা ভবনে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বাংলাদেশের চলমান উন্নয়ন, সংস্কার উদ্যোগ এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা প্রসঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

আবাসিক সমন্বয়কারী গোয়েন লুইস অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সহযোগিতার প্রশংসা করেন এবং জাতিসংঘের পক্ষ থেকে উন্নয়ন কাঠামো শক্তিশালী করতে সব ধরনের সহায়তার আশ্বাস দেন। আলোচনায় স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা (এলডিসি) থেকে বাংলাদেশের উত্তরণ প্রক্রিয়া নির্বিঘ্ন করার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়।

উভয়পক্ষ রোহিঙ্গা সংকট এবং চলমান অর্থায়ন সংকট নিয়েও মতবিনিময় করেন। তারা উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে শিক্ষা ও জরুরি সহায়তা কর্মসূচিগুলো তহবিল হ্রাসের কারণে মারাত্মকভাবে প্রভাবিত হচ্ছে।

প্রধান উপদেষ্টা রোহিঙ্গাদের সহায়তায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও সক্রিয় ভূমিকা ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “তহবিল সংকট প্রশমনে এবং ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর পাশে দাঁড়াতে বিশ্ব সম্প্রদায়ের অব্যাহত সহানুভূতি ও সমর্থন জরুরি।”

বৈঠকের শেষদিকে গোয়েন লুইস বাংলাদেশের সংস্কার ও রূপান্তরের পথে জাতিসংঘের অবিচল সমর্থনের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, “টেকসই উন্নয়ন এবং দীর্ঘমেয়াদি সমৃদ্ধির লক্ষ্যে জাতিসংঘ বাংলাদেশের পাশে আছে এবং থাকবে।”


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




মীরগঞ্জ সেতু ও কুয়াকাটাকে ঘিরে পর্যটন হাব তৈরির দাবি ব্যারিস্টার ফুয়াদের

বরিশাল বিভাগের দক্ষিণাঞ্চলে পর্যটনের অপার সম্ভাবনা কাজে লাগাতে মীরগঞ্জ সেতু, কুয়াকাটা ও সংশ্লিষ্ট মহাসড়ককে ঘিরে একটি পূর্ণাঙ্গ পর্যটন অঞ্চল গড়ে তোলার দাবি জানিয়েছেন এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ।

বাবুগঞ্জে স্মারকলিপি প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, “কুয়াকাটাকে কেন্দ্র করে বঙ্গোপসাগরের তীরবর্তী অঞ্চলকে আধুনিক পর্যটন হাবে পরিণত করা এখন সময়ের দাবি। এজন্য কুয়াকাটায় একটি আন্তর্জাতিকমানের বিমানবন্দর নির্মাণ এবং বরিশাল বিমানবন্দর থেকে ঢাকা, যশোর, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার রুটে নিয়মিত ফ্লাইট চালু করা জরুরি।”

তিনি আরও বলেন, স্থানীয় অবকাঠামো উন্নয়ন, নিরাপদ ও সহজগম্য যাতায়াত ব্যবস্থা এবং ঐতিহ্যবাহী স্টিমার সার্ভিস পুনরায় চালু করলেই পর্যটনখাতকে নতুন উচ্চতায় নেওয়া সম্ভব। তিনি উল্লেখ করেন, “ব্রিটিশ আমল থেকে চালু থাকা এমভি বাঙালী, পিএস মাসুদ, মধুমতি, টার্ন/ল্যাপচা স্টিমারগুলোকে আধুনিকীকরণ করে ঢাকা-কোলকাতা-বরিশাল রুটে পুনরায় চালুর মাধ্যমে দক্ষিণাঞ্চলে সমুদ্রভিত্তিক পর্যটনের নবদ্বার খুলে দেওয়া যাবে।”

এ সময় উপস্থিত ছিলেন এবি পার্টির বরিশাল বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক গাজী নাসির, বরিশাল সোসাইটির আহ্বায়ক আমানুল্লাহ খান নোমান এবং সহকারী অর্থ সম্পাদক আবু বকর সিদ্দিক।

ব্যারিস্টার ফুয়াদ আরও বলেন, “পদ্মা সেতুর পরবর্তী অংশে ভাঙ্গা থেকে কুয়াকাটা পর্যন্ত সড়ককে ৬ লেনে উন্নীত করার সরকারি সিদ্ধান্ত একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। একইসাথে মীরগঞ্জে সেতু নির্মাণের মাধ্যমে মুলাদী, হিজলা ও মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলাকে বরিশাল শহরের সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনাও প্রশংসনীয়।”

তিনি সরকারকে আহ্বান জানান, “এই অবকাঠামোগুলোকে ঘিরে এখনই পর্যটন হাব তৈরির পরিকল্পনা করা হোক। বর্তমানে যেহেতু সরকারি জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়াধীন, তাই সময়ের অপচয় না করে পেশাদার ডিজাইনারের সহায়তায় পরিবেশবান্ধব ও অর্থনৈতিকভাবে টেকসই পর্যটন অবকাঠামো গড়ে তোলা সম্ভব।”

উপদেষ্টা মহোদয় এবি পার্টির বক্তব্য গুরুত্ব সহকারে শোনেন এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আর্থিক ঘাটতি ও ঋণনির্ভর নীতিমালা সম্পর্কেও আলোকপাত করেন।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




পদত্যাগ করলেন নেদারল্যান্ডসের প্রধানমন্ত্রী স্কুফ

নেদারল্যান্ডসের প্রধানমন্ত্রী ডিক স্কুফ ক্ষমতাসীন জোট ভেঙে পড়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন। ইসলামবিরোধী রাজনৈতিক নেতা গির্ট উইল্ডারসের নেতৃত্বাধীন পিভিভি দল জোট থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর মঙ্গলবার তিনি এই সিদ্ধান্ত নেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, স্কুফের পদত্যাগ ডাচ রাজনীতিতে নতুন অস্থিরতার সূচনা করতে পারে। সামনে আগাম নির্বাচনের সম্ভাবনা জোরালো হলেও, আগামী অক্টোবরের আগে নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ। কারণ ঐতিহাসিকভাবে দেশটিতে সরকার গঠনে দীর্ঘ সময় লেগে থাকে।

ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, পিভিভি দলের মন্ত্রীরা সরকারের মন্ত্রিসভা থেকে সরে দাঁড়াবেন এবং বাকিরা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দায়িত্ব পালন করবেন।

এই রাজনৈতিক সংকটের সময়টাও তাৎপর্যপূর্ণ। ইউরোপজুড়ে কট্টর ডানপন্থার উত্থান, অভিবাসন ইস্যু এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির কারণে জনমনে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। এই পরিবর্তন শুধু নেদারল্যান্ডস নয়, পুরো ইউরোপের রাজনৈতিক ভারসাম্য, অভিবাসননীতি এবং রাশিয়া ও সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে ঘিরে পশ্চিমা বিশ্বের কৌশলগত অবস্থানেও প্রভাব ফেলতে পারে।

জোট ভাঙার পেছনে মূল কারণ হিসাবে গির্ট উইল্ডারস বলেন, “অভিবাসন ইস্যুতে আমাদের পরিকল্পনায় জোটের অন্য দলগুলোর সমর্থন না পাওয়ায় পিভিভি জোট ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।”

বর্তমানে ক্ষমতাসীন জোটের অন্য দলগুলো বিকল্প সংখ্যালঘু সরকার গঠনের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করলেও বিশ্লেষকরা তা নাকচ করছেন। এদিকে বিরোধী দলগুলো নতুন নির্বাচন দাবি করে রাজপথে সক্রিয় হয়ে উঠেছে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




গাজায় মানবিক সহায়তার নামে মৃত্যুর ফাঁদ?—ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ভয়াবহ অভিযোগ

গাজা সরকারের মিডিয়া অফিস এক তীব্র বিবৃতিতে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে “ভয়াবহ ও ইচ্ছাকৃত অপরাধ” সংঘটনের অভিযোগ এনেছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইসরায়েলি বাহিনী খাদ্য সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষুধার্ত ফিলিস্তিনিদের নির্দয়ভাবে ফাঁদে ফেলে গুলি চালাচ্ছে।

টেলিগ্রামে প্রকাশিত ওই বিবৃতিতে জানানো হয়, ২৭ মে যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত গাজা এইড ফাউন্ডেশন সহায়তা কার্যক্রম শুরু করার পর থেকে ইসরায়েলি হামলায় কমপক্ষে ১০২ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং প্রায় ৫০০ জন আহত হয়েছেন।

মিডিয়া অফিসের বক্তব্য অনুযায়ী, “এগুলো কোনো সাহায্য কেন্দ্র নয়—এগুলো এখন মৃত্যুকূপ। এগুলো স্থাপন করা হয়েছে এমন উন্মুক্ত ও বিপজ্জনক এলাকায়, যেগুলো দখলদার বাহিনীর সরাসরি নিয়ন্ত্রণে। ভয়াবহ খাদ্য সংকটে থাকা সাধারণ মানুষদের সেখানে টেনে নিয়ে গিয়ে তাদের উপর নির্বিচারে গুলি চালানো হচ্ছে।”

গাজা কর্তৃপক্ষ এসব ঘটনাকে “সুপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড” আখ্যা দিয়ে বলেছে, “এই সহায়তা বিতরণ কেন্দ্রের নামে চালানো হামলার নৃশংসতা এবং এর প্রকৃত উদ্দেশ্য এখন স্পষ্ট—এটি মানবিক সঙ্কটকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে জনগণকে নিঃশেষ করার অপচেষ্টা।”

তারা জাতিসংঘ, নিরাপত্তা পরিষদ এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর কাছে অবিলম্বে হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছে। একইসঙ্গে তারা গাজার সীমান্ত ক্রসিংগুলোকে ইসরায়েলি শর্ত ছাড়াই পুরোপুরি খুলে দেওয়ার দাবি জানিয়েছে, যাতে অবরুদ্ধ জনগণের মাঝে নিরাপদে সহায়তা পৌঁছানো যায় এবং আরও প্রাণহানি ঠেকানো যায়।

গাজায় গত কয়েক সপ্তাহ ধরে মানবিক সহায়তা বিতরণ কেন্দ্রগুলোর আশপাশে বহু সহিংসতা ঘটেছে। এসব ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন অনেক বেসামরিক মানুষ। জাতিসংঘ জানিয়েছে, গাজার ৯০ শতাংশের বেশি মানুষ এখন চরম খাদ্য সংকটে দিন পার করছেন—বিশেষ করে শিশুরা রয়েছে ভয়াবহ ঝুঁকিতে।

আন্তর্জাতিক সমালোচনার মুখেও ইসরায়েল এ ধরনের অভিযানের পক্ষে যুক্তি দাঁড় করাচ্ছে যে তারা কেবলমাত্র “আত্মরক্ষার” ব্যবস্থা নিচ্ছে।

এদিকে মানবাধিকার সংগঠনগুলো সতর্ক করে বলেছে, ইসরায়েলের এই কৌশল আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন লঙ্ঘন করছে এবং গাজায় যে মানবসৃষ্ট দুর্ভিক্ষ (man-made famine) তৈরি হচ্ছে, তা আন্তর্জাতিক অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

বর্তমানে গাজার স্বাস্থ্য ব্যবস্থা প্রায় সম্পূর্ণরূপে ভেঙে পড়েছে। অধিকাংশ হাসপাতাল ও চিকিৎসাকেন্দ্র ওষুধ, সরঞ্জাম ও বিদ্যুৎ সংকটে অচল হয়ে পড়েছে, যেখানে আহতদের চিকিৎসা দেওয়া কার্যত অসম্ভব হয়ে উঠেছে।

এই অবস্থাকে “জরুরি মানবিক বিপর্যয়” আখ্যা দিয়ে বিশ্ববাসীর প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে—নীরবতা নয়, পদক্ষেপই পারে রক্ষা করতে হাজারো নিরপরাধ জীবন।




‘এক মাসেই সম্ভব সব সংস্কার’, বললেন বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন আহমদ

“এমন কোনো সংস্কার নেই, যা এক মাসের মধ্যে বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়”—এমন মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন আহমদ।

সোমবার (২ জুন) প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর সংলাপ শেষে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, “সংবিধান ছাড়া অন্যান্য সকল সংস্কার নির্বাহী আদেশ বা অর্ডিন্যান্সের মাধ্যমে এক মাসের মধ্যে করা সম্ভব। আমরা বৈঠকে সেটাই তুলে ধরেছি। তাই নির্বাচন ডিসেম্বরের পর হওয়ার কোনো যুক্তি নেই।”

সংস্কার কমিশন নিয়ে বিএনপির অবস্থান
সালাউদ্দিন আহমদ জানান, বিএনপি তিন দিন ধরে সংস্কার কমিশনের সঙ্গে আলোচনা করেছে এবং লিখিত মতামতও জমা দিয়েছে। তিনি বলেন, “আমরা এমন প্রস্তাবই গ্রহণ করব, যা জাতির বৃহত্তর স্বার্থ রক্ষা করবে ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র নির্মাণে সহায়ক হবে।”

তিনি আরও বলেন, “জাতীয় নীতিতে এসব সংস্কার গৃহীত হলে দেশের জনগণের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের পথ খুলে যাবে। আমরা ভারসাম্যপূর্ণ রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়তে চাই।”

নির্বাচন প্রসঙ্গে বিএনপির মতামত
ডিসেম্বরেই নির্বাচন সম্ভব—এমন বিশ্বাস পুনর্ব্যক্ত করে সালাউদ্দিন আহমদ বলেন, “নির্বাচনের আগে জরুরি সংস্কারগুলো এক মাসের মধ্যে সম্পন্ন করা সম্ভব। বেশিরভাগ রাজনৈতিক দলও ডিসেম্বরের আগেই নির্বাচন চায়।”

প্রধান উপদেষ্টার নিরপেক্ষ ভূমিকা নিয়ে তিনি বলেন, “আমরা আশা করি তিনি কারও প্রতি পক্ষপাত দেখাবেন না। জাতি তার কাছ থেকে নিরপেক্ষতা প্রত্যাশা করে।”

সংবিধান সংশোধনী ও ঐকমত্যের সম্ভাবনা
বিএনপি নেতা জানান, কিছু বিষয়ে মতবিরোধ থাকলেও অধিকাংশ বিষয়ে ঐকমত্য সম্ভব। “একটি সম্মিলিত সনদে স্বাক্ষরের মাধ্যমে এসব সংস্কার নির্বাচনী অঙ্গীকার হিসেবেও অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে।”

শেষে তিনি বলেন, “প্রধান উপদেষ্টা আন্তরিক হলেও সময় অনেকটাই পেরিয়ে গেছে। এই জুন মাসের মধ্যেই একটি সম্মিলিত প্রস্তাবনা তৈরি করা সম্ভব।”


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




গৌরনদী পৌরসভার বৈধ মেয়র দাবি, আদালতে বিএনপি প্রার্থীর আবেদন

গৌরনদী পৌরসভার বৈধ মেয়র হিসেবে নিজেকে দাবি করে আদালতে মামলা দায়েরের আবেদন করেছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী শরীফ জহির সাজ্জাদ হান্নান। সোমবার (২ জুন) দুপুরে বরিশালের প্রথম যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ আদালতে এই আবেদন করা হয়।

আবেদনকারী শরীফ জহির ২০২১ সালের ৩০ জানুয়ারির তৃতীয় ধাপের পৌরসভা নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। বর্তমানে তিনি গৌরনদী উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

মামলার আবেদন গ্রহণ করে আদালতের বিচারক মো. ইউনুস খান শুনানির জন্য সময় নির্ধারণ করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আজাদ রহমান।

কি বলা হয়েছে মামলার আবেদনে?
আবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে, নির্বাচনের দিন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী হারিছুর রহমান ও তার সমর্থকরা ভোট কেন্দ্রগুলোতে প্রভাব বিস্তার করেন এবং পেশিশক্তির মাধ্যমে কারচুপি করে প্রকৃত বিজয় ছিনিয়ে নেন। ফলস্বরূপ, শরীফ জহির নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াতে বাধ্য হন এবং ওই দিন বিকেলে নিজ বাসায় সংবাদ সম্মেলন করে ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন।

পুনঃনির্বাচন ও পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহ:
এরপর ২০২৪ সালের ২৬ জুন গৌরনদী পৌরসভায় উপ-নির্বাচনের মাধ্যমে স্বতন্ত্র প্রার্থী আলহাজ্ব মো. আলাউদ্দিন ভূঁইয়া মেয়র নির্বাচিত হন। তিনি আওয়ামী লীগ প্রার্থী এইচএম জয়নাল আবেদীনকে হারান। তবে ৫ আগস্টের পর কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তে তাকেও অপসারণ করা হয়।

মামলা করতে এত দেরি কেন?
এ বিষয়ে শরীফ জহির সাজ্জাদ হান্নান জানান, “হারিছুর রহমানের সন্ত্রাসী বাহিনী ও ফ্যাসিবাদী আচরণের কারণে আমি দীর্ঘদিন মামলা করতে পারিনি। প্রাণনাশের হুমকি পেয়েছি বহুবার।” তিনি আরও বলেন, “আদালতের ওপর আমার পূর্ণ আস্থা রয়েছে। আশা করি ন্যায় বিচার পাবো।”


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




মে মাসে মূল্যস্ফীতির হালকা কমতি, স্বস্তিতে ভোক্তারা

দেশের সার্বিক মূল্যস্ফীতি মে মাসে কিছুটা কমেছে। এক মাস আগের তুলনায় কমেছে খাদ্য ও অখাদ্য উভয় খাতে মূল্যস্ফীতির হার। ফলে সামান্য হলেও স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন সাধারণ জনগণ।

সোমবার (২ জুন) বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) প্রকাশিত মে মাসের ভোক্তা মূল্যসূচক (সিপিআই) অনুযায়ী, এ চিত্র দেখা গেছে।

বিবিএস জানায়, মে মাসে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ১৭ শতাংশ থেকে কমে ৯ দশমিক ০৫ শতাংশে নেমে এসেছে। অর্থাৎ, কমেছে শূন্য দশমিক ১২ শতাংশ।

খাদ্য মূল্যস্ফীতিও সামান্য হ্রাস পেয়েছে। মে মাসে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ৮ দশমিক ৬৩ শতাংশ থেকে কমে দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ৫৯ শতাংশে, যা পূর্ববর্তী মাসের তুলনায় শূন্য দশমিক ০৪ শতাংশ কম।

অন্যদিকে খাদ্যবহির্ভূত (নন-ফুড) মূল্যস্ফীতির হারও কমেছে। এপ্রিলে যা ছিল ৯ দশমিক ৬১ শতাংশ, মে মাসে তা কমে দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ৪২ শতাংশে। হ্রাস পেয়েছে শূন্য দশমিক ১৯ শতাংশ।

গ্রাম ও শহরভিত্তিক তথ্য:

  • গ্রামাঞ্চলে মে মাসে সার্বিক মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ০৫ শতাংশ, যেখানে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ৮ দশমিক ৩০ শতাংশ এবং খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ৭৫ শতাংশ।
  • শহরাঞ্চলে সার্বিক মূল্যস্ফীতির হার ৯ দশমিক ৫০ শতাংশ। এর মধ্যে খাদ্য খাতে ৯ দশমিক ২৯ শতাংশ এবং অখাদ্য খাতে ৯ দশমিক ৬৩ শতাংশ মূল্যস্ফীতি দেখা গেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু পণ্যের দাম কমায় এ পরিবর্তন হলেও সামগ্রিকভাবে এখনও মূল্যস্ফীতির চাপ অনেক বেশি, যা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে প্রভাবিত করছে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




কলাপাড়ায় মহাসড়ক দখল করে বসানো পশুর হাট বন্ধ করলো প্রশাসন

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় কলাপাড়া-কুয়াকাটা মহাসড়কের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে বসানো একটি পশুর হাট বন্ধ করে দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। সোমবার (২ জুন) দুপুরে উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের পাখিমারা বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে হাটটি উচ্ছেদ করেন কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইয়াসিন সাদীক। এ সময় অভিযান কাজে সহায়তা করেন কলাপাড়া থানা পুলিশের একটি দল।

জানা গেছে, প্রশাসনের অনুমতি ছাড়াই প্রভাবশালীরা প্রতিসপ্তাহের সোমবার ওই স্থানে পশুর হাট বসিয়ে আসছিলেন। হাটটি ইজারাবিহীনভাবে পরিচালিত হওয়ায় সরকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছিল। পাশাপাশি মহাসড়ক দখলের কারণে স্থানীয়দের চলাচলে চরম দুর্ভোগ তৈরি হতো।

এ বিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইয়াসিন সাদীক বলেন, “মহাসড়ক দখল করে হাট বসানো আইনগতভাবে শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এতে সাধারণ মানুষের চলাচলে বিঘ্ন ঘটে এবং সরকার রাজস্ব হারায়। তাই হাটটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে এমন অবৈধ হাট বসালে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

প্রশাসনের এমন উদ্যোগে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। তারা মনে করছেন, নিয়মবহির্ভূত হাট বন্ধ হওয়ায় যানজট ও জনদুর্ভোগ কিছুটা হলেও কমবে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ রিপোর্টার, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



ভারত থেকে পুশইনের সংখ্যা বেড়ে চলছে, মৌলভীবাজারে অনুপ্রবেশে উদ্বেগ

ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) গত এক মাসে মৌলভীবাজার জেলার বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে ৩৩৭ জন বাংলাদেশিকে অবৈধভাবে পুশইন করেছে। ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে এই অনুপ্রবেশের ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে।

সবচেয়ে বেশি অনুপ্রবেশের ঘটনা ঘটেছে বড়লেখা উপজেলার উত্তর শাহবাজপুর, দক্ষিণ শাহবাজপুর ও পাল্লথল সীমান্ত দিয়ে। এছাড়া জুড়ী উপজেলার রাজকি, কুলাউড়ার মুরইছড়া এবং কমলগঞ্জ উপজেলার ধলই, বাগীছড়া ও চাম্পাছড়া সীমান্ত দিয়েও পুশইনের ঘটনা ঘটে।

বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, গত ৭ মে থেকে এখন পর্যন্ত মোট ৩৩৭ জনকে সীমান্ত পেরিয়ে প্রবেশের সময় আটক করা হয়েছে। এর মধ্যে বড়লেখা উপজেলায় ২৫১ জন, জুড়ীতে ১০ জন, কুলাউড়ায় ২১ জন এবং কমলগঞ্জে ৫৫ জনকে আটক করা হয়। তবে আরও কয়েক শতাধিক ব্যক্তি সীমান্ত অতিক্রম করলেও তাদের আটক করা সম্ভব হয়নি।

আটক ব্যক্তিদের মধ্যে পুরুষ, নারী ও শিশু রয়েছে। এদের অধিকাংশের বাড়ি নড়াইল, চট্টগ্রাম, কুড়িগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জেলায়। আটক ব্যক্তিদের অনেকেই জানিয়েছেন, তারা দীর্ঘদিন ধরে ভারতের আসামে বসবাস করছিলেন। হঠাৎ করে ভারতীয় পুলিশ তাদের বাড়িঘর ভেঙে হেলিকপ্টারে করে ত্রিপুরার মানিকভান্ডারে নিয়ে গিয়ে বিএসএফের হাতে তুলে দেয়। পরে বিএসএফ তাদের সীমান্ত গেট খুলে ধলই দিয়ে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠায়।

স্থানীয়রা অনেকে জানান, সীমান্ত দিয়ে এক হাজারের বেশি মানুষ বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। যদিও বিজিবি কয়েকশ লোককে আটক করতে সক্ষম হয়েছে, বাকিরা স্থানীয় দালালদের সহায়তায় বা বিভিন্ন যানবাহনে করে নিজ নিজ গন্তব্যে পৌঁছে গেছে। অনুপ্রবেশকারীদের কেউ কেউ বিকাশের মাধ্যমে ভাড়া পরিশোধ করেছেন বলে জানা গেছে। এছাড়া তাদের মধ্যে কয়েকজন রোহিঙ্গাও ছিলেন, যারা পরে চট্টগ্রামে চলে গেছেন।

এ বিষয়ে ৫২-বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী হাসান ও ৪৬-বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এ এস এম জাকারিয়া জানান, আটককৃতদের সবাই বাংলাদেশি নাগরিক। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাদের থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং পুলিশ পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।




মেজর সিনহা হত্যা: বহুল আলোচিত মামলার আপিলের রায় আজ হাইকোর্টে

বহুল আলোচিত অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা মেজর সিনহা মো. রাশেদ খান হত্যা মামলার ডেথ রেফারেন্স ও আসামিদের দাখিল করা আপিলের রায় ঘোষণা করবেন হাইকোর্ট। সোমবার (২ জুন) বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমান ও বিচারপতি মো. সগীর হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেবেন।

গত ২৯ মে এ মামলার আপিল ও ডেথ রেফারেন্সের শুনানি শেষ হয়। শুনানি শেষে আদালত রায়ের জন্য আজকের দিন নির্ধারণ করেন।

রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে অংশ নেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান। তার সঙ্গে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল শামীমা দিপ্তী, জসিম সরকার এবং সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার সুমাইয়া আজিজ ও লাবনী আক্তার।

২০২৩ সালের ২১ এপ্রিল প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ মামলাটি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিষ্পত্তির নির্দেশ দেন। একইসঙ্গে মামলার যাবতীয় নথি বিচারপতি মোস্তাফিজুর রহমান ও সগীর হোসেনের বেঞ্চে পাঠানো হয়। এরপর ২৩ জুন শুরু হয় ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের মূল শুনানি।

উল্লেখ্য, ২০২০ সালের ৩১ জুলাই রাতে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কের শামলাপুর তল্লাশিচৌকিতে পুলিশের গুলিতে নিহত হন মেজর সিনহা। ঘটনার পাঁচদিন পর নিহত সিনহার বোন শারমিন শাহরিয়ার ফেরদৌস টেকনাফ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

পরবর্তীতে তদন্ত শেষে ২০২০ সালের ১৩ ডিসেম্বর র‍্যাব ১৫ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়। এতে সিনহার হত্যাকে একটি ‘পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

২০২২ সালের ৩১ জানুয়ারি কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালত মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায়ে বাহারছড়া তদন্তকেন্দ্রের তৎকালীন ইনচার্জ পরিদর্শক লিয়াকত আলী ও টেকনাফ থানার সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার দাশকে মৃত্যুদণ্ড এবং আরও পাঁচজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। মামলার অপর সাত আসামিকে খালাস দেওয়া হয়।

মৃত্যুদণ্ডাদেশ অনুমোদনের জন্য মামলার ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টে আসে এবং দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা আপিল করেন। আজকের রায়ে উচ্চ আদালত এ মামলার বিচারিক আদালতের রায় বহাল রাখবে নাকি সংশোধন করবে, তা নির্ধারিত হবে।