দেশবাসীকে ঈদের  শুভেচ্ছা জানালেন জামায়াত আমির

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা ও মোবারকবাদ জানিয়েছেন। বুধবার (৪ জুন) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এ শুভেচ্ছা জানান।

বিবৃতিতে জামায়াত আমির বলেন, “হযরত ইব্রাহিম (আ.), হযরত হাজেরা এবং তাদের পুত্র হযরত ইসমাইল (আ.) এর স্মৃতি বিজড়িত পবিত্র ঈদুল আজহা ত্যাগ ও কুরবানির অনন্য দৃষ্টান্ত। এই উৎসব আমাদের আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য আত্মত্যাগে উদ্বুদ্ধ করে। একইসঙ্গে এটি সমাজ থেকে বৈষম্য দূরীকরণ ও ইনসাফভিত্তিক একটি ইসলামী সমাজ প্রতিষ্ঠায় প্রেরণা জোগায়।”

তিনি বলেন, “ত্যাগ ও কুরবানির মানসিকতা নিয়ে ব্যক্তিগত, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে ন্যায়বিচার ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ইসলামের আদর্শকে বাস্তবায়ন করতে হবে।”

বিবৃতিতে তিনি বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও মন্তব্য করেন। তার অভিযোগ, “যদিও দেশে ফ্যাসিবাদের পতন হয়েছে, তবু তা পুরোপুরি নির্মূল হয়নি। দেশ-বিদেশে ছড়িয়ে থাকা ফ্যাসিবাদী শক্তি এখনও দেশে অস্থিতিশীলতা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির ষড়যন্ত্র করছে। এ পরিস্থিতির অবসানে সরকারকে অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।”

তিনি দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে এসব অপতৎপরতার বিরুদ্ধে সজাগ ও সতর্ক থাকার আহ্বান জানান এবং বলেন, “মানবিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন-সংগ্রাম চালিয়ে যেতে হবে।”

বিবৃতির শেষাংশে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “ঈদুল আজহার মহান শিক্ষা অনুসরণ করে যদি আমরা আল্লাহর জমিনে তাঁর দ্বীন প্রতিষ্ঠায় জান-মাল কুরবানি করতে পারি, তাহলে তবেই আমাদের ত্যাগ সার্থক হবে। আমি দেশবাসীর সুখ-শান্তি, সুস্বাস্থ্য ও কল্যাণ কামনা করি এবং জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে সবাইকে ঈদের আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাই।”




খালেদা জিয়াকে উপহার দিতে ‘কালো মানিক’ নিয়ে ঢাকার পথে পটুয়াখালীর কৃষক সোহাগ মৃধা

পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার আলোচিত কৃষক সোহাগ মৃধা তাঁর নিজ হাতে লালন-পালন করা বিরল প্রজাতির ফ্রিজিয়ান ষাঁড় ‘কালো মানিক’ উপহার দিতে রওনা হয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার উদ্দেশ্যে। বৃহস্পতিবার (৫ জুন) সকাল ১০টায় সুবিদখালী বাজার থেকে ঢাকার গুলশানের পথে এই বিশেষ যাত্রা শুরু হয়।

প্রায় ৩৫ মণ ওজনের, ১০ ফুট লম্বা এবং ৫ ফুট ৪ ইঞ্চি উচ্চতার বিশাল আকৃতির ষাঁড়টি এলাকাবাসীর কাছে ‘কালো মানিক’ নামেই পরিচিত। তার কুচকুচে কালো রঙ ও চওড়া গঠন একে দিয়েছে এক অনন্য বৈশিষ্ট্য। সোহাগ মৃধার বাড়িতে সকাল থেকেই ষাঁড়টিকে এক নজর দেখতে ভিড় জমে শত শত মানুষের।

জাঁকজমকপূর্ণ এই শোভাযাত্রায় রয়েছে তিনটি সুসজ্জিত ট্রাক, ব্যান্ড পার্টি, সাউন্ড সিস্টেমসহ প্রায় অর্ধশত সঙ্গী। সোহাগ মৃধা জানান, “কালো মানিক আমার সন্তানের মতো। আমি নিজ হাতে খালেদা জিয়ার কাছে এই উপহার পৌঁছে দিতে চাই। তিনি যেন শুধু এটুকু গ্রহণ করেন—এটাই আমার চাওয়া।”

তবে খালেদা জিয়া উপহারটি গ্রহণ করবেন কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। এ বিষয়ে আমড়াগাছিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি রফিকুল ইসলাম বলেন, “সোহাগ আমার ভাতিজা। গরুটি তার পরিবারের শেষ সম্বল হলেও নেত্রীর প্রতি তার ভালোবাসা দেখার মতো। অনেকবার বোঝালেও সে তার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেনি। আমরা সবাই চাই, আমাদের মমতাময়ী মা এই উপহার গ্রহণ করে তার ভালোবাসার মূল্য দিন।”

২০১৮ সালের শেষের দিকে মাত্র ১ লাখ ৩৭ হাজার টাকায় একটি গাভি কিনে খামার যাত্রা শুরু করেন সোহাগ মৃধা। গাভিটি জন্ম দেয় একটি বাছুর, যা ছয় বছরের পরিচর্যায় পরিণত হয় আজকের ‘কালো মানিক’-এ।

 

মো: আল-আমিন




ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কে চরম ভোগান্তিতে ঈদযাত্রীরা

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে ঘরমুখো মানুষের চাপ ও সড়কে একাধিক দুর্ঘটনা ও যানবাহন বিকল হয়ে পড়ার ঘটনায় ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কে সৃষ্টি হয়েছে দীর্ঘ যানজট। বুধবার (৪ জুন) মধ্যরাত থেকে শুরু হয়ে যানজট ছড়িয়ে পড়ে টাঙ্গাইলের রাবনা বাইপাস থেকে যমুনা সেতু পর্যন্ত প্রায় ২৩ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে।

চালক ও যাত্রীরা জানান, রাত থেকেই উত্তরবঙ্গগামী লেনে যানবাহনের চাপ বাড়তে থাকে। পাকুল্যা এলাকা থেকে শুরু হয়ে যানজট ছড়িয়ে পড়ে মহাসড়কের বিস্তীর্ণ অংশে। ফলে শত শত বাস, ট্রাক ও ব্যক্তিগত যানবাহন থেমে যায়, যার মধ্যে রয়েছে কোরবানির পশুবাহী শতাধিক ট্রাকও।

যানজটে আটকে পড়া যাত্রীরা জানান, ঘণ্টার পর ঘণ্টা এক জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। গরম, পানির সংকট ও টয়লেট সমস্যায় ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে শিশু, নারী ও বৃদ্ধসহ সব শ্রেণির যাত্রীদের।

এ বিষয়ে এলেঙ্গা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শরীফ জানান, “যমুনা সেতুর টোল প্লাজা থেকে শুরু হয়ে এলেঙ্গা পর্যন্ত দীর্ঘ যানজট তৈরি হয়েছে। সেনাবাহিনী ও পুলিশ যৌথভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে। ইতোমধ্যে পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিকের দিকে।”

উল্লেখ্য, ঈদ উপলক্ষে প্রতিবছর ঢাকা ছাড়ে লাখো মানুষ। ফলে দেশের উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের প্রবেশদ্বার এই মহাসড়কে এমন যানজট প্রায় নিয়মিত চিত্রে পরিণত হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আগাম প্রস্তুতি ও সমন্বিত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় আরও কার্যকর উদ্যোগ নিতে আহ্বান জানিয়েছেন যাত্রীরা।




তারেক রহমানের ঈদবার্তা: ঈদের আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার আহ্বান

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে দেশবাসীসহ বিশ্বের মুসলমানদের আন্তরিক শুভেচ্ছা ও মোবারকবাদ জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। একই সঙ্গে তিনি ঈদের আনন্দ সবার মাঝে ভাগ করে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

বুধবার (৪ জুন) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বার্তায় তিনি বলেন, “পবিত্র ঈদুল আজহা অর্থাৎ ত্যাগের উৎসব আমাদের কাছে শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং আত্মত্যাগ, আত্মশুদ্ধি এবং মানবতার কল্যাণে নিজেকে উৎসর্গ করার এক মহান শিক্ষা।”

তারেক রহমান বলেন, “এই উৎসবের অন্যতম শিক্ষা হলো—আল্লাহর নৈকট্য লাভের জন্য আমাদের ইচ্ছা ও মনোভাব শুদ্ধ করা। কোরবানি আল্লাহর দরবারে শুধু পশু নয়, বরং আমাদের নিষ্কলুষ আত্মা ও ইমানের প্রতিফলন। ঈদুল আজহার এই ত্যাগের শিক্ষা সমাজে সংহতি, ঐক্য ও মানবিক মেলবন্ধন গড়ে তোলে।”

তিনি বলেন, দেশের জনগণ দীর্ঘ সময় ধরে ফ্যাসিবাদের এক কঠিন সময় পেরিয়েছে। গত বছরের ৫ আগস্টের পর রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে কিছুটা স্বস্তি ফিরে আসায় এবার ঈদের আনন্দ তুলনামূলকভাবে উজ্জ্বল হতে পারে। তবে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, জীবনধারণের খরচ বৃদ্ধি এবং মৌলিক সেবার অভাবে সাধারণ মানুষ ঈদের আনন্দ উপভোগে বাধাগ্রস্ত হতে পারে বলে তিনি সতর্ক করেন।

তারেক রহমান বলেন, “ঈদের দিন যেন কেউ অভুক্ত না থাকে, সেদিকে খেয়াল রাখা আমাদের সবার দায়িত্ব। উৎসবের আনন্দ সকলের সঙ্গে ভাগ করে নিতে হবে এক কাতারে দাঁড়িয়ে।”

তিনি আরও বলেন, “ফ্যাসিবাদী শাসনামলে লুটপাট, দুর্নীতি এবং মূল্যবোধের অবক্ষয়ের যে চিত্র দেখা গেছে, তা যেন আর কখনও পুনরাবৃত্তি না ঘটে—সে জন্য নতুন বাস্তবতায় নৈতিকতা ও সামাজিক সুবিচার প্রতিষ্ঠায় সবার ঐক্যবদ্ধ প্রয়াস প্রয়োজন।”

শেষে তিনি বলেন, “ঈদুল আজহা আমাদের জীবনে শান্তি, সমৃদ্ধি ও পারস্পরিক সম্প্রীতির বার্তা বয়ে আনুক। মহান আল্লাহ তায়ালার দরবারে আমি এই প্রার্থনাই জানাই।”




আরাফায় হজের মূল পর্ব আজ, নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় নজিরবিহীন প্রস্তুতি

আজ বৃহস্পতিবার ( ৬ জুন ) সৌদি আরবের আরাফাতের ময়দানে অনুষ্ঠিত হচ্ছে পবিত্র হজের প্রধান পর্ব। হিজরি ১৪৪৬ সনের হজ পালন করছেন বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত লাখো মুসল্লি। হজের অন্যতম প্রধান রোকন ‘ওকুফে আরাফা’ পালনের জন্য হাজিরা আজ সূর্যাস্ত পর্যন্ত আরাফাতে অবস্থান করবেন।

হজের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছিল মিনায় রাত যাপনের মধ্য দিয়ে। আজ ভোরে মিনায় রাত কাটিয়ে হজযাত্রীরা আরাফার উদ্দেশে যাত্রা করেন। মিনার ১৫ কিলোমিটার পূর্বে অবস্থিত এই পবিত্র ভূমিতে দাঁড়িয়ে তারা মহান আল্লাহর দরবারে মোনাজাতে রত থাকবেন। সূর্যাস্তের পর তারা ৯ কিলোমিটার দূরের মুজদালিফার উদ্দেশ্যে রওনা হবেন, যেখানে তারা রাতযাপন করবেন এবং শয়তানকে পাথর মারার জন্য পাথর সংগ্রহ করবেন।

আরাফাতের ময়দানে আজ জোহর ও আসরের নামাজ একত্রে আদায় করা হবে এবং মসজিদে নামিরা থেকে হজের খুতবা প্রদান করা হবে, যা হাজিরা গভীর মনোযোগে শুনবেন।

সৌদি হজ কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর ইতোমধ্যে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে প্রায় ১৫ লাখেরও বেশি হজযাত্রী সৌদি আরবে পৌঁছেছেন। হজের সময় ঘন ঘন তাপপ্রবাহের সম্ভাবনার কথা মাথায় রেখে সৌদি সরকার ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।

সৌদি হজমন্ত্রী তৌফিক রাবিয়া জানিয়েছেন, এ বছর ২ লাখ ৫০ হাজারেরও বেশি কর্মী হজ ব্যবস্থাপনায় নিয়োজিত রয়েছেন। পাশাপাশি ৫০ হাজার বর্গমিটার ছায়াযুক্ত এলাকা তৈরি, হাজার হাজার চিকিৎসাকর্মীর মোতায়েন এবং ৪০০-এরও বেশি শীতলীকরণ ইউনিট চালু করা হয়েছে।

আনাদোলু বার্তা সংস্থা জানিয়েছে, গত বছর (১৪৪৫ হিজরি / ২০২৪ সাল) বিশ্বজুড়ে ১৮ লাখ ৩৩ হাজার ১৬৪ জন হজ পালন করেন। এর মধ্যে ২ লাখ ২১ হাজার ৮৫৪ জন ছিলেন সৌদি আরবের অভ্যন্তরীণ হজযাত্রী।

এ বছর হজের নিয়মাবলিতে বেশ কিছু কঠোরতা দেখা গেছে। ১২ বছরের নিচের শিশুদের হজে অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পাশাপাশি, অনুমতিপত্র ছাড়া কেউ হজ পালনের চেষ্টা করলে তাকে ৫ হাজার মার্কিন ডলার জরিমানা এবং পরবর্তী ১০ বছরের জন্য সৌদি আরবে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞার মুখোমুখি হতে হবে।

হজমন্ত্রী আরও জানান, গত বছর হজে অংশ নিয়ে যাঁরা মৃত্যুবরণ করেন, তাঁদের ৮০ শতাংশই ছিলেন অবৈধ বা নিবন্ধনবিহীন। তারা পর্যাপ্ত আবাসন, পরিবহন ও চিকিৎসা সুবিধা থেকে বঞ্চিত ছিলেন। অনেকের মৃত্যুর কারণ ছিল চরম তাপদাহ, যা ৫১ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছেছিল। মৃতদের মধ্যে শত শত মিশরীয় ও ইন্দোনেশীয়ও ছিলেন।

ইসলামের পাঁচ স্তম্ভের অন্যতম হজ, মুসলিমদের জীবনে শারীরিক ও আর্থিক সামর্থ্য থাকলে একবার হলেও তা পালন করা ফরজ। হজের বিভিন্ন ধাপে পুরুষরা ইহরাম পরিধান করেন—সাদা দুটি কাপড়, আর নারীরা পরেন শালীন পোশাক ও মাথা ঢাকা থাকে। হাজিরা কাবা শরিফ তাওয়াফ করেন, সাফা-মারওয়া সাঈ করেন, মিনায় রাত কাটান এবং আরাফায় অবস্থান করেন।

আজ সেই আরাফার দিন—যেদিন নবী মুহাম্মদ (সা.) বিদায় হজে তাঁর ঐতিহাসিক খুতবা দিয়েছিলেন। ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক’ ধ্বনিতে মুখরিত এখন আরাফার পবিত্র ভূমি, যেখানে লাখো মুসলিম মহান স্রষ্টার নিকট প্রার্থনায় নিবিষ্ট।

সৌদি আরবের আরাফাতের ময়দানে অনুষ্ঠিত হচ্ছে পবিত্র হজের প্রধান পর্ব। হিজরি ১৪৪৬ সনের হজ পালন করছেন বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত লাখো মুসল্লি। হজের অন্যতম প্রধান রোকন ‘ওকুফে আরাফা’ পালনের জন্য হাজিরা আজ সূর্যাস্ত পর্যন্ত আরাফাতে অবস্থান করবেন।

হজের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছিল মিনায় রাত যাপনের মধ্য দিয়ে। আজ ভোরে মিনায় রাত কাটিয়ে হজযাত্রীরা আরাফার উদ্দেশে যাত্রা করেন। মিনার ১৫ কিলোমিটার পূর্বে অবস্থিত এই পবিত্র ভূমিতে দাঁড়িয়ে তারা মহান আল্লাহর দরবারে মোনাজাতে রত থাকবেন। সূর্যাস্তের পর তারা ৯ কিলোমিটার দূরের মুজদালিফার উদ্দেশ্যে রওনা হবেন, যেখানে তারা রাতযাপন করবেন এবং শয়তানকে পাথর মারার জন্য পাথর সংগ্রহ করবেন।

আরাফাতের ময়দানে আজ জোহর ও আসরের নামাজ একত্রে আদায় করা হবে এবং মসজিদে নামিরা থেকে হজের খুতবা প্রদান করা হবে, যা হাজিরা গভীর মনোযোগে শুনবেন।

সৌদি হজ কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর ইতোমধ্যে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে প্রায় ১৫ লাখেরও বেশি হজযাত্রী সৌদি আরবে পৌঁছেছেন। হজের সময় ঘন ঘন তাপপ্রবাহের সম্ভাবনার কথা মাথায় রেখে সৌদি সরকার ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।

সৌদি হজমন্ত্রী তৌফিক রাবিয়া জানিয়েছেন, এ বছর ২ লাখ ৫০ হাজারেরও বেশি কর্মী হজ ব্যবস্থাপনায় নিয়োজিত রয়েছেন। পাশাপাশি ৫০ হাজার বর্গমিটার ছায়াযুক্ত এলাকা তৈরি, হাজার হাজার চিকিৎসাকর্মীর মোতায়েন এবং ৪০০-এরও বেশি শীতলীকরণ ইউনিট চালু করা হয়েছে।

আনাদোলু বার্তা সংস্থা জানিয়েছে, গত বছর (১৪৪৫ হিজরি / ২০২৪ সাল) বিশ্বজুড়ে ১৮ লাখ ৩৩ হাজার ১৬৪ জন হজ পালন করেন। এর মধ্যে ২ লাখ ২১ হাজার ৮৫৪ জন ছিলেন সৌদি আরবের অভ্যন্তরীণ হজযাত্রী।

এ বছর হজের নিয়মাবলিতে বেশ কিছু কঠোরতা দেখা গেছে। ১২ বছরের নিচের শিশুদের হজে অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পাশাপাশি, অনুমতিপত্র ছাড়া কেউ হজ পালনের চেষ্টা করলে তাকে ৫ হাজার মার্কিন ডলার জরিমানা এবং পরবর্তী ১০ বছরের জন্য সৌদি আরবে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞার মুখোমুখি হতে হবে।

হজমন্ত্রী আরও জানান, গত বছর হজে অংশ নিয়ে যাঁরা মৃত্যুবরণ করেন, তাঁদের ৮০ শতাংশই ছিলেন অবৈধ বা নিবন্ধনবিহীন। তারা পর্যাপ্ত আবাসন, পরিবহন ও চিকিৎসা সুবিধা থেকে বঞ্চিত ছিলেন। অনেকের মৃত্যুর কারণ ছিল চরম তাপদাহ, যা ৫১ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছেছিল। মৃতদের মধ্যে শত শত মিশরীয় ও ইন্দোনেশীয়ও ছিলেন।

ইসলামের পাঁচ স্তম্ভের অন্যতম হজ, মুসলিমদের জীবনে শারীরিক ও আর্থিক সামর্থ্য থাকলে একবার হলেও তা পালন করা ফরজ। হজের বিভিন্ন ধাপে পুরুষরা ইহরাম পরিধান করেন—সাদা দুটি কাপড়, আর নারীরা পরেন শালীন পোশাক ও মাথা ঢাকা থাকে। হাজিরা কাবা শরিফ তাওয়াফ করেন, সাফা-মারওয়া সাঈ করেন, মিনায় রাত কাটান এবং আরাফায় অবস্থান করেন।

আজ সেই আরাফার দিন—যেদিন নবী মুহাম্মদ (সা.) বিদায় হজে তাঁর ঐতিহাসিক খুতবা দিয়েছিলেন। ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক’ ধ্বনিতে মুখরিত এখন আরাফার পবিত্র ভূমি, যেখানে লাখো মুসলিম মহান স্রষ্টার নিকট প্রার্থনায় নিবিষ্ট।




পাকিস্তানের সেনা অভিযানে ১৪ ভারতীয় সন্ত্রাসী নিহত!

উত্তর ওয়াজিরিস্তানে পরিচালিত সাম্প্রতিক এক সেনা অভিযানে ১৪ জন সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী। বুধবার (৪ জুন) এক বিবৃতিতে দেশটির আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ বিভাগ (আইএসপিআর) এ তথ্য নিশ্চিত করে।

বিবৃতিতে জানানো হয়, “গোপন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে উত্তর ওয়াজিরিস্তানের দাত্তা খেল এলাকায় একটি লক্ষ্যবস্তুতে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এতে ভারতীয় মদতপুষ্ট ১৪ সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে।”

আইএসপিআরের বিবৃতিতে আরও দাবি করা হয়, ভারত পাকিস্তানে ‘প্রক্সি সন্ত্রাস’ চালিয়ে যাচ্ছে এবং সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে এ ধরনের যৌথ অভিযান চলমান থাকবে যতক্ষণ না তা সম্পূর্ণ নির্মূল হয়।

এদিকে, প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের দপ্তর থেকেও এ অভিযানের প্রশংসা করে আলাদা বিবৃতি দেওয়া হয়েছে। সেখানে বলা হয়, “যারা সন্ত্রাসবাদের সমর্থক এবং মানবতার শত্রু— তাদের এভাবেই নির্মূল করা হবে।”

এর আগে, পাঁচ দিন আগেও বেলুচিস্তানের কাছি জেলায় আরেকটি অভিযান চালায় সেনা ও পুলিশ বাহিনী। সেসময় পাঁচ বিচ্ছিন্নতাবাদী নিহত হন। ওই অভিযানের ক্ষেত্রেও সেনাবাহিনী দাবি করেছিল, নিহতরা সবাই ভারতের পৃষ্ঠপোষকতায় পরিচালিত সংগঠনের সদস্য।

প্রসঙ্গত, পাকিস্তানের চারটি প্রদেশ ও তিনটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের মধ্যে খাইবার পাখতুনখোয়া ও বেলুচিস্তান— এই দুই প্রদেশে বিগত কয়েক বছরে সন্ত্রাসী তৎপরতার উল্লম্ফন দেখা গেছে। খাইবার পাখতুনখোয়া মূলত তালেবানপন্থী তেহরিক-ই তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি)-এর ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত, আর বেলুচিস্তানে সক্রিয় রয়েছে বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন বালোচ লিবারেশন আর্মি (বিএলএ)। উভয় গোষ্ঠীই পাকিস্তান থেকে স্বতন্ত্র রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সশস্ত্র তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে।

সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২১ সাল থেকে পাকিস্তানে সন্ত্রাসী হামলার সংখ্যা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ২০২4 সালকে দেশটির ইতিহাসে সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে ভয়াবহ বছর হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে, যেখানে মোট ৪৪টি সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছে, যা গত এক দশকের তুলনায় প্রায় ৪০ শতাংশ বেশি।

 

 




বিএনপির নতুন কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা!

বিএনপি আগামীতে ক্ষমতায় এলে প্রথম ১৮০ দিনে অর্থনৈতিক কর্মপরিকল্পনার রূপরেখা ঘোষণা করেছে।

বুধবার (৪ জুন) গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এই পরিকল্পনার সারসংক্ষেপ তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, “অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা, মানুষের আস্থা পুনরুদ্ধার এবং ভবিষ্যতের জন্য একটি শক্ত ভিত্তি নির্মাণই আমাদের মূল লক্ষ্য। এজন্য প্রয়োজন স্বচ্ছ, অংশগ্রহণমূলক ও উদ্ভাবনভিত্তিক অর্থনৈতিক পরিকল্পনা। এখন সময় গতানুগতিক ধারা থেকে বের হয়ে সাহসী ও দূরদর্শী সিদ্ধান্ত নেওয়ার।”

আমির খসরু আরও বলেন, বিশ্বের বহু দেশে রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচনের আগে জনগণকে জানিয়ে দেয়, ক্ষমতায় এলে শুরুতে কী কী করবে। বিএনপি জনগণের শক্তিতে বিশ্বাসী একটি দল হিসেবে বাংলাদেশে এমন একটি গণতান্ত্রিক ও বাস্তবধর্মী সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করতে চায়।

তিনি জানান, নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে সরকার গঠনের পর প্রথম ছয় মাসের (১৮০ দিন) মধ্যে কি কি লক্ষ্য পূরণ করা হবে, তা নির্বাচনের আগেই স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া হবে। এই সময়ের জন্য একটি অ্যাকশন-ভিত্তিক রোডম্যাপ প্রণয়ন করা হবে, যার মাধ্যমে বিভিন্ন খাতে বিএনপির পদক্ষেপগুলো সুনির্দিষ্টভাবে বাস্তবায়ন করা হবে।

সংবাদ সম্মেলনে মূলত প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে দলের অবস্থান তুলে ধরা হলেও, অন্তর্বর্তী সরকারের বাজেট প্রস্তাবের ওপর বিএনপির মন্তব্য ছিল সংক্ষিপ্ত এবং সীমিত পরিসরে।




করোনাভাইরাসের নতুন ধরন এনবি.১.৮.১ ছড়িয়ে পড়ছে যুক্তরাজ্যে: টিকাও কার্যকর নয় বলে আশঙ্কা

করোনাভাইরাসের একটি নতুন ও উদ্বেগজনক সাবভ্যারিয়েন্ট NB.1.8.1 যুক্তরাজ্যে ছড়িয়ে পড়ছে বলে জানিয়েছে দেশটির স্বাস্থ্যসেবা সংস্থা। অন্যান্য ধরনগুলোর তুলনায় এই নতুন ধরনটি বেশি সংক্রামক এবং টিকার প্রতিরোধ ক্ষমতা ভেঙে দিতে সক্ষম, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য নতুন হুমকি হিসেবে দেখা দিয়েছে।

যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস (NHS) জানায়, নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডে ইতোমধ্যে অন্তত ৭ জন এনবি.১.৮.১ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। এ নিয়ে দেশটিতে উদ্বেগ বাড়ছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) বলছে, NB.1.8.1 এখন পর্যন্ত চিহ্নিত করোনাভাইরাসের তুলনায় চারগুণ দ্রুত ছড়ায় এবং এটিকে তারা “Variant Under Monitoring” (নজরদারির তালিকাভুক্ত ধরন) হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে। এর বিপক্ষে বর্তমানে প্রচলিত টিকাগুলোর কার্যকারিতা সীমিত, বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এই সাবভ্যারিয়েন্ট কেবল যুক্তরাজ্যেই নয়, হংকং, চীন, যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, থাইল্যান্ড, মিসর এবং মালদ্বীপেও শনাক্ত হয়েছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য সূত্রে জানা গেছে।

অস্ট্রেলিয়ার গ্রিফিথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইরোলজিস্ট ড. লারা হেরেরো ব্রিটিশ দৈনিক দ্য মিররকে বলেন,

“NB.1.8.1 অন্যান্য সাবভ্যারিয়েন্টের মতোই ছড়ায়, তবে এটি আরও দ্রুত সংক্রমিত হয় এবং টিকা-উৎপন্ন রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে এড়িয়ে যেতে পারে।”

এই ভাইরাসের লক্ষণগুলো: দীর্ঘ সময় ধরে কাশি, যা এক ঘণ্টার বেশি স্থায়ী হতে পারে, দিনে তিনবার বা তার বেশি কাশির দমক, স্বাদ ও ঘ্রাণশক্তি লোপ, শ্বাসকষ্ট ও ক্লান্তি, গা ও মাথাব্যথা, গলা ব্যথা, নাক বন্ধ হওয়া

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সংক্রমণ এড়াতে এখনও মাস্ক পরা, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা এবং প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি। নতুন এই ধরন বিশ্বব্যাপী স্বাস্থ্যব্যবস্থার জন্য একটি নতুন চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে।

সূত্র: দ্যা মিরর




বাউফলে যুবলীগ নেতার হত্যাচেষ্টা মামলায় ১৪ জনের দণ্ড, অধিকাংশই আসামি বর্তমান হত্যা মামলারও

পটুয়াখালীর বাউফলে দশ বছর আগের একটি আলোচিত হত্যাচেষ্টা মামলার রায় ঘোষণা করেছেন আদালত। মামলায় উপজেলা যুবলীগের সভাপতি মো. শাহজাহান সিরাজ ও মদনপুরা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. মাহবুবুর রহমানসহ ১৪ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩ জুন) পটুয়াখালী অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক এ কে এম এনামুল করিম এ রায় ঘোষণা করেন।

২০১৫ সালের ১ মে বিকেলে বাউফলের মদনপুরা গ্রামে স্থানীয় যুবলীগ নেতা ও ওষুধ ব্যবসায়ী মো. মনিরুল ইসলাম ওরফে শাহিনকে (৪০) প্রকাশ্যে কুপিয়ে গুরুতর জখম করেন সন্ত্রাসীরা। ঘটনার তিন দিন পর তাঁর বাবা মোসলেম উদ্দিন মৃধা ৩২ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাত ১৫ জনকে আসামি করে আদালতে মামলা করেন।

দীর্ঘ তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালত ৪ জনকে ১০ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দেন। অপর ১০ আসামিকে ৯ ও ৬ বছর মেয়াদে কারাদণ্ড দেন। এছাড়া, চার আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে। দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে ১৫ জন আদালতে উপস্থিত ছিলেন, তিনজন পলাতক রয়েছেন। তাঁদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। আদালতে উপস্থিত ১১ জনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

প্রসঙ্গত, মনিরুল ইসলামকে ২০১৫ সালে হত্যাচেষ্টার ৯ বছর পর, ২০২4 সালের ৫ আগস্ট রাতে আবারও ঘরে ঢুকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় তাঁর বাবা মোসলেম উদ্দিন মৃধাও হামলার শিকার হন—দুই পা ও দুই হাত ভেঙে দেওয়া হয়। এই ঘটনায় পৃথক একটি হত্যা মামলা চলমান রয়েছে, যার অধিকাংশ আসামি ২০১৫ সালের মামলারও অভিযুক্ত।

বাদী মোসলেম উদ্দিন মৃধা বলেন, “২০১৫ সালে ছেলেকে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা করেছিল। সেই কাজটাই তারা ২০২৪ সালে শেষ করেছে। এখন আমরা পরিবারসহ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। এলাকায় ফিরতে পারছি না। আমি আমার ছেলের হত্যার সুষ্ঠু বিচার চাই।”

অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মো. ফরিদ হোসেন জানান, মামলাটি শুরুতে বাউফল থানা-পুলিশ তদন্ত করলেও পরে বাদীর আপত্তির ভিত্তিতে তদন্তভার দেওয়া হয় পিবিআইকে। ২০১৬ সালে পিবিআই ৩২ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয়। শুনানি শেষে ১৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু হয়।

এই মামলার রায়ের মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চলা একটি আলোচিত মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া শেষ হলো, তবে সংশ্লিষ্টদের মতে, এখন মনিরুল হত্যার চূড়ান্ত বিচারের অপেক্ষায় রয়েছে এলাকাবাসী ও পরিবার।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



উনারা কষ্ট করে দেশ চালায় না? টাকা নিলে মানুষে খারাপ বলবো

কমলাপুর রেলস্টেশনের পাশে এক হৃদয়ছোঁয়া ঘটনার সাক্ষী হলেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম। গাড়ি থেকে নামতেই তার দিকে ছুটে আসে এক ছিন্নমূল শিশু। পায়ে হাত দিয়ে আবেগঘন কণ্ঠে বলে ওঠে, “স্যার, আমার জন্য দোয়া কইরেন।”

ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যায়, উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম শিশুটির মাথায় স্নেহভরে হাত বুলিয়ে তার সহকারীর দিকে ফিরে টাকা দিতে বলেন। সহকারী মানিব্যাগ থেকে ৫০০ টাকার একটি নোট বের করতেই শিশুটি পিছু হটতে থাকে। বারবার অনুরোধ সত্ত্বেও সে টাকা নিতে রাজি হয়নি।

“না, না স্যার, টাকা নিমু না। আপনি শুধু দোয়া কইরেন,” — শিশুটির এই জবাবে অভিভূত হন উপস্থিত সকলে। পাশে থাকা এক পুলিশ কর্মকর্তাও শিশুটিকে টাকা নিতে অনুরোধ করেন, কিন্তু শিশুটি অপ্রস্তুত ও লজ্জিত হয়ে তার অবস্থানে অনড় থাকে।

পরে এক সাংবাদিক শিশুটিকে প্রশ্ন করেন, কেন সে টাকা নিল না। উত্তরে শিশুটি বলে, “উনারা কষ্ট করে দেশ চালায় না!? টাকা নিলে মানুষে খারাপ বলবো। দোয়া করলে চলতে পারবো, টাকা নিলে ২ দিনে শেষ হয়ে যাইতো।”

ঘটনাটি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সাড়া পড়ে যায়। অনেকেই এই ছিন্নমূল শিশুর সরলতা ও আত্মমর্যাদাবোধে মুগ্ধতা প্রকাশ করেন।

উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের জুলাই-আগস্টের গণ-আন্দোলনে বিপুলসংখ্যক ছিন্নমূল কিশোর পথে নেমেছিল। পুলিশের মুখোমুখি হয়ে তারা ছাত্রদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে আন্দোলনের সামনের সারিতে অবস্থান নেয়। আন্দোলনে প্রায় ১৬০ জন ছিন্নমূল কিশোর নিহত হয়েছিল বলে বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা জানিয়েছে।

অনেকেই মনে করেন, এই শিশুদের আত্মত্যাগ ও সাহসিকতা ইতিহাসে বিশেষভাবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। আর আজকের ঘটনাটি তাদের মানবিক ও নৈতিক চেতনাকে নতুন করে স্মরণ করিয়ে দেয়।

নাম না-জানা ছিন্নমূল শিশুটির প্রতি ভালোবাসা এবং উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলমের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন উপস্থিত সকলেই।