হার্টের রোগীদের যেই নিয়ম মেনে গরুর গোশত খেতে হবে!

গরুর মাংস অনেক পুষ্টিকর হলেও এতে থাকা অতিরিক্ত চর্বি ও কোলেস্টেরল হৃদরোগীদের জন্য ঝুঁকির কারণ হতে পারে। তবে কিছু নিয়ম মেনে চললে হার্টের রোগীরাও সীমিত পরিমাণে গরুর মাংস খেতে পারেন।

চর্বিমুক্ত অংশ বেছে নিন:
মাংস রান্নার আগে ভালোভাবে চর্বি কেটে ফেলুন। লাল মাংসের সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হচ্ছে এতে থাকা স্যাচুরেটেড ফ্যাট। যতটা সম্ভব লীন বা চর্বিমুক্ত অংশ গ্রহণ করুন।

মাপজোখ করে খান:
সপ্তাহে ১-২ বার এবং একবারে ৫০-৭৫ গ্রাম (১-২ টুকরা) পরিমাণে খাওয়া নিরাপদ বিবেচিত হয়।

সেদ্ধ বা গ্রিল করে রান্না করুন:
ভাজাপোড়া পরিহার করে সিদ্ধ, গ্রিলড বা হালকা তেলে রান্না করা খাবার বেছে নিন। তেলে ভাজা মাংস হৃদযন্ত্রে বাড়তি চাপ ফেলতে পারে।

লবণ কম ব্যবহার করুন:
উচ্চ রক্তচাপ হৃদরোগের বড় কারণ। রান্নায় অতিরিক্ত লবণ, সস, ফাস্টফুড টাইপ মশলা ব্যবহার থেকে বিরত থাকুন।

সাথে আঁশযুক্ত খাবার খান:
মাংসের সাথে সালাদ, সবজি, ডাল বা শাক খেলে হজম ভালো হয় ও রক্তে কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে থাকে।

রাতের খাবারে গরুর মাংস এড়িয়ে চলুন:
রাতে হজমের গতি কমে যায়, তাই গরুর মাংস দুপুরে খাওয়াই ভালো।

প্রক্রিয়াজাত (Processed) মাংস একেবারেই নয়:
সসেজ, সালামী, বিফ বারগার ইত্যাদি রেডি টু ইট খাবারে থাকে অতিরিক্ত সোডিয়াম ও সংরক্ষণকৃত রাসায়নিক—যা হার্টের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।

যাদের একদম এড়ানো উচিত:
যাদের হৃদযন্ত্রে স্টেন্ট বসানো হয়েছে বা ওপেন হার্ট সার্জারি হয়েছে
উচ্চমাত্রার কোলেস্টেরল রয়েছে
কনজেস্টিভ হার্ট ফেইলিউর বা হৃদযন্ত্র দুর্বল হয়ে পড়েছে

বিশেষজ্ঞের পরামর্শ:
হার্টের রোগীদের খাদ্য তালিকা নির্ধারণে অবশ্যই একজন ডায়েটিশিয়ান বা হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ-এর পরামর্শ নেওয়া উচিত। স্বাস্থ্যের বর্তমান অবস্থা অনুযায়ী মাংস খাওয়ার পরিমাণ ও পদ্ধতি ভিন্ন হতে পারে।

হার্টের রোগীদের জন্য গরুর মাংস পুরোপুরি নিষিদ্ধ নয়, তবে এটি খাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্কতা ও পরিমিতিবোধ অত্যন্ত জরুরি। স্বাস্থ্যই প্রথম—তাই আনন্দের খাবার যেন দুঃখের কারণ না হয়, তা নিশ্চিত করাই বুদ্ধিমানের কাজ।

 




১২ ঘণ্টারও কম সময়ে ঢাকার বর্জ্য সরানো হলো!

রাজধানী ঢাকায় কোরবানির ঈদের পশু জবাইয়ের পর সৃষ্ট সব বর্জ্য মাত্র ১২ ঘণ্টারও কম সময়ে অপসারণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। শনিবার দিবাগত রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ তথ্য জানান।

তিনি জানান, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সমন্বিত উদ্যোগে এই পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এটি শুধু প্রশাসনিক দক্ষতার পরিচয় নয়, বরং জনকল্যাণে নিবেদিত স্থানীয় সরকারের প্রতিশ্রুতিশীল পদক্ষেপের বাস্তব উদাহরণ। নগরবাসীর সহযোগিতা এবং পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের আন্তরিক প্রচেষ্টায় রাজধানী দ্রুত পরিচ্ছন্ন করা সম্ভব হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি আরও বলেন, যারা নিরলসভাবে কাজ করেছেন তারা আমাদের নীরব নায়ক। প্রচারের আড়ালে থাকা এই পরিশ্রমীরা প্রকৃতপক্ষে নগরীর সৌন্দর্য রক্ষাকারী। কোরবানির ঈদের প্রকৃত বীর তারাই, যাদের ত্যাগে শহর পেয়েছে পরিচ্ছন্ন চেহারা।

তিনি জানান, শুধু ঢাকা নয়, দেশের সব সিটি করপোরেশনেই পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম সফলভাবে পরিচালিত হয়েছে। এ বছর ৩৫ হাজার ২৭২ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মী ঈদের আনন্দ উপেক্ষা করে সবার ঈদ উদযাপনকে সুন্দর ও স্বাস্থ্যকর রাখতে নিরলসভাবে কাজ করেছেন।

 

 

 




আধিপত্যের খেলায় চীনের নতুন ট্রাম্প কার্ড!

চীনের দুটি ষষ্ঠ প্রজন্মের যুদ্ধবিমান প্রকল্পের মধ্যে বৃহত্তমটির নতুন একটি ছবি সম্প্রতি প্রকাশ পেয়েছে, যা এ পর্যন্ত পাওয়া বিমানের সবচেয়ে স্পষ্ট সামনের দৃশ্য তুলে ধরেছে। অজ্ঞাতনামা এই যুদ্ধবিমানটির ছবি দূর থেকে দীর্ঘ লেন্সে ধারণ করা হয়েছে, যেখানে এর তিনটি উন্মুক্ত নিচের দিকের অস্ত্র বহনকারী বেলি দেখা যাচ্ছে। এই অস্ত্র কক্ষগুলো সম্মিলিতভাবে ফিফথ জেনারেশনের যুদ্ধবিমান যেমন এফ-৩৫ বা জে-২০ এর তুলনায় বহুগুণ বেশি সংখ্যক অস্ত্র বহন করতে সক্ষম বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিমানটির নাকের বিশাল কন যেটি আশপাশে থাকা মানুষদের তুলনায় স্পষ্ট বোঝা যায়, তা প্রায় নিশ্চিত করে যে, এতে বিশ্বের যেকোনো যুদ্ধবিমানের তুলনায় অনেক বড় এবং শক্তিশালী রাডার ব্যবহৃত হচ্ছে। ছবিতে আরও দেখা গেছে, মূল অস্ত্র কক্ষের উভয় পাশে দুটি ছোট অস্ত্র কক্ষও রয়েছে, যেগুলোতে নতুন প্রজন্মের পিএল-১৬ এয়ার-টু-এয়ার মিসাইলের মতো হালকা অস্ত্র বহনের জন্য ব্যবহার করা হতে পারে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, বিমানটির নিচের অংশে আরও অস্ত্র কক্ষ থাকতে পারে, যেখানে রোটারি অস্ত্র র‍্যাকের ব্যবস্থা থাকতেও পারে, যা অতিরিক্ত গোলাবারুদ বহনের সুযোগ তৈরি করবে।

এই যুদ্ধবিমানে বড় অভ্যন্তরীণ অস্ত্র কক্ষ, উন্নত সেন্সর ব্যবস্থা এবং প্রচুর পরিমাণে জ্বালানি ধারণের সক্ষমতা রয়েছে— যা সাধারণ আকারের যুদ্ধবিমানের তুলনায় অনেক বেশি সুবিধা দেয়। অনেকে মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্রের নির্মাণাধীন ষষ্ঠ প্রজন্মের এফ-৪৭ যুদ্ধবিমানও আকারে বিশাল হবে, তবে এখন পর্যন্ত কেবল চীনের প্রকল্পগুলোর প্রোটোটাইপ বিমানগুলোই পরীক্ষামূলক উড্ডয়নের পর্যায়ে পৌঁছেছে।

সাম্প্রতিক ছবিতে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, এই নতুন যুদ্ধবিমানটি একটি টুইন-সিটার বা দ্বৈত পাইলট কনফিগারেশন ব্যবহার করছে, যেখানে পাইলটরা পাশাপাশি বসে। দুটি আলাদা হেডস-আপ ডিসপ্লের সবুজ প্রতিফলন এটি নিশ্চিত করে। এই ধরনের ককপিট ডিজাইন চীনের বর্তমান J-20, J-16, J-10C ও JF-17 ব্লক ৩ যুদ্ধবিমানেও দেখা যায়।

এই দ্বৈত পাইলটের নকশা এমন সব বিমান মিশনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, যেগুলো দীর্ঘ সময় ও দূরত্বের উপর ভিত্তি করে পরিচালিত হবে। যদিও স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি এবং এআই ব্যবহারে অগ্রগতি হচ্ছে, তবুও ষষ্ঠ প্রজন্মের এসব বিমানের জটিল অপারেশন পরিচালনায় একটি পাইলটের একার পক্ষে তা সম্ভব নয় বলে মনে করা হচ্ছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, নতুন এই বিমানটি প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে (Pacific Theatre) দীর্ঘ পাল্লার গমনক্ষমতা ও স্ট্রাইক ক্ষমতার জন্য ডিজাইন করা হয়েছে, যা ফার্স্ট আইল্যান্ড চেইনের বাইরেও কার্যক্রম চালাতে পারবে। এতে যুক্তরাষ্ট্র ও তার পশ্চিমা মিত্রদের জন্য এ অঞ্চলে শক্তি প্রদর্শন ও প্রতিরক্ষা নিশ্চিত করা আরও কঠিন হয়ে উঠবে।

এই নতুন যুদ্ধবিমানটিকে অনেকেই J-36 নামে অভিহিত করছেন, যদিও সরকারিভাবে এখনও এর নাম বা শ্রেণি ঘোষণা করা হয়নি। তবে প্রযুক্তি, অস্ত্র ও আকারের দিক থেকে এটি যে চীনের সামরিক বিমানবাহিনীর এক যুগান্তকারী সংযোজন হবে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

 

 

 




“জাতীয় নির্বাচন পেছানোর ঘোষণায় জনগণ ব্যথিত: বিএনপি মহাসচিব”

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পক্ষ থেকে আগামী বছরের এপ্রিল মাসে জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের ঘোষণা দেওয়ায় গভীর হতাশা প্রকাশ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, “এই সময়সীমা জাতির প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি।”

শুক্রবার দিবাগত রাতে থাইল্যান্ডে চিকিৎসা শেষে দেশে ফেরার পর রাজধানীর হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা বলেন তিনি।

মির্জা ফখরুল বলেন, “বিএনপি বহুবার বলেছে, আমরা দ্রুত নির্বাচন চাই। আমাদের প্রত্যাশা ছিল অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস ডিসেম্বরের মধ্যেই নির্বাচনের সময় নির্ধারণ করবেন। কিন্তু তার ঘোষণায় পুরো জাতিই হতাশ হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “এই সিদ্ধান্ত শুধু বিএনপি নয়, দেশের সব জনগণকেই হতাশ করেছে। এমন বিলম্বিত সময়সীমা গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা ও জনগণের অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার পথকে আরও দীর্ঘায়িত করবে।”

এ বিষয়ে বিএনপি শিগগিরই দলের অবস্থান স্পষ্ট করে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানাবে বলেও জানান তিনি।




ঈদ উপলক্ষে ‘ফিরোজা’য় বিএনপির শীর্ষ নেতাদের মিলনমেলা

ঈদুল আজহা উপলক্ষে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যরা। শনিবার (৭ জুন) রাতে রাজধানীর গুলশানে খালেদা জিয়ার বাসভবন ‘ফিরোজা’-তে এ সৌজন্য সাক্ষাৎ ও শুভেচ্ছা বিনিময়ের আয়োজন হয়।

সাক্ষাৎ শেষে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, “এটি আমাদের জন্য এক আনন্দঘন মুহূর্ত। আমাদের নেত্রীকে কেন্দ্র করে আমরা দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতি করছি। তাঁর নেতৃত্বে বিএনপি বহু সফলতা অর্জন করেছে। তিনি বাংলাদেশের রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তন এনেছেন। তাঁর সঙ্গে কথা বললে আমরা নতুন করে অনুপ্রাণিত হই।”

তিনি আরও বলেন, “গণতন্ত্রের প্রতি বেগম জিয়ার অবিচল আস্থা আমাদের প্রতিটি কথোপকথনে প্রতিফলিত হয়। তিনি বিশ্বাস করেন, গণতান্ত্রিক পদ্ধতির বাইরে কোনো ব্যবস্থাই দেশের উপকারে আসতে পারে না।”

মির্জা ফখরুল জানান, বেগম জিয়া আগের তুলনায় ভালো আছেন এবং দেশবাসীকে ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। একই সঙ্গে দেশ ও জনগণের কল্যাণ কামনায় দোয়া চেয়েছেন।

রাত সাড়ে ৮টায় ‘ফিরোজা’য় প্রবেশ করেন স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, জমির উদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আবদুল মঈন খান, সালাহউদ্দিন আহমদ, সেলিমা রহমান, হাফিজ উদ্দিন আহমেদ ও এজেডএম জাহিদ হোসেন।

পরবর্তীতে দলের ভাইস চেয়ারম্যান আলতাফ হোসেন চৌধুরী, মোহাম্মদ শাহজাহান, আবদুল আউয়াল মিন্টু এবং উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আবদুল হালিম, আফরোজা খানম রিতা প্রমুখ নেত্রী খালেদা জিয়ার সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময়ে অংশ নেন।

দলের শীর্ষ নেতৃত্বের এই উপস্থিতি বিএনপির ঐক্য ও খালেদা জিয়ার প্রতি অবিচল আস্থার প্রতীক হিসেবে দেখা হচ্ছে।




ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে শিবিরের ব্যতিক্রমী আয়োজন ঢাকা কলেজে

ঈদুল আজহা উপলক্ষে ঢাকা কলেজে আবাসিক শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সম্মানে প্রীতিভোজের আয়োজন করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির, ঢাকা কলেজ শাখা। শনিবার (৭ জুন) কলেজ ক্যাম্পাসে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে শিক্ষার্থী ও কর্মীদের একত্রিত করে উৎসবের আনন্দ ভাগাভাগি করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ লইয়ার্স কাউন্সিলের কেন্দ্রীয় সভাপতি অ্যাডভোকেট জসিম উদ্দিন সরকার। তিনি বলেন, “ঈদ শুধু উৎসব নয়, এটি আত্মত্যাগ, সহানুভূতি ও ভ্রাতৃত্ববোধের অনুশীলন। ছাত্রদের মাঝে এই মূল্যবোধ ছড়িয়ে দিতে শিবিরের এমন উদ্যোগ প্রশংসার দাবিদার।”

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় প্রকাশনা সম্পাদক সাদিক কায়েম।

আয়োজকরা জানান, ঈদের সময় অনেক আবাসিক শিক্ষার্থী বাড়ি ফিরতে না পারায় তাদের পাশে দাঁড়াতেই এই আয়োজন করা হয়েছে। তারা বলেন, এ আয়োজন কেবল ধর্মীয় উৎসব নয়, বরং একটি বন্ধুত্বপূর্ণ ও মানবিক ছাত্রসমাজ গড়ে তোলার লক্ষ্যে নেওয়া পদক্ষেপ।

আয়োজনে অংশ নিয়ে শিক্ষার্থীরাও সন্তোষ প্রকাশ করেন। ইতিহাস বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আব্দুল কাদের বলেন, “ঈদের সময় পরিবার থেকে দূরে থাকাটা কষ্টদায়ক। আজকের আয়োজন আমাদের সেই অভাব অনেকটাই পূরণ করেছে।”

রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী রাফিদ ইসলাম বলেন, “এখানে শুধু খাবার নয়, ছিল আন্তরিকতা ও সামাজিক বন্ধনের পরশ। ঈদের প্রকৃত রূপই তো এমন—সবাই এক হয়ে আনন্দ ভাগাভাগি করা।”

আবাসিক হলের কর্মচারী কাশেম মিয়া বলেন, “সাধারণত এমন আয়োজনে আমরা থাকি না। আজ আমরাও আমন্ত্রিত ছিলাম, এটি আমাদের জন্য গর্বের। ছাত্ররা এমন মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে পাশে দাঁড়িয়েছে—এটা আমাদের হৃদয় ছুঁয়ে গেছে।”

অনুষ্ঠানে ছাত্রশিবিরের ঢাকা কলেজ শাখার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।




ত্যাগের আলোয় গড়ে উঠুক মানবতা: এনসিপির ঈদ বার্তা

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে দেশবাসীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক কমিটি (এনসিপি)।
শনিবার (৭ জুন) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এবং সদস্যসচিব আখতার হোসেন ঈদের শুভেচ্ছা জানান।

বিবৃতিতে বলা হয়, ঈদুল আজহা শুধুমাত্র পশু কোরবানির উৎসব নয়—এটি ত্যাগ, ধৈর্য ও আত্মশুদ্ধির প্রতীক। এই দিনে কোরবানির পশুর পাশাপাশি আত্মঅহংকার, স্বার্থপরতা ও অন্যায়ের সঙ্গে আপসের মানসিকতাকেও বিসর্জন দেওয়ার আহ্বান জানান তারা।

শুভেচ্ছা বার্তায় আরও বলা হয়, সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা, দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সত্য ও ন্যায়ের পথ সুগম করাই হওয়া উচিত ঈদের মূল শিক্ষা।

এনসিপি মনে করে, অতীতের জুলাই অভ্যুত্থানে জাতি যেভাবে ত্যাগ ও সাহসের অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিল, তা আজও প্রাসঙ্গিক। শহীদদের আত্মত্যাগের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে বিবৃতিতে বলা হয়, “আত্মত্যাগ ছাড়া কোনো বড় পরিবর্তন সম্ভব নয়। সাহসী মানুষদের হাত ধরেই সমাজে আসে প্রকৃত রূপান্তর।”

বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, ঈদের এই পবিত্র দিনে শহীদদের স্বপ্ন বাস্তবায়নে ‘জুলাই সনদ’ ও ‘জুলাই ঘোষণা’ দ্রুত বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। কারণ, ব্যক্তি ও সমাজ—উভয়ের পরিশুদ্ধির মূল ভিত্তি হলো ত্যাগের শিক্ষা।এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




বিশ্ব মুসলিমকে ঈদের শুভেচ্ছা জানালেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিন

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে বিশ্বের মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতি শুভেচ্ছা জানিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। শুক্রবার (৬ জুন) এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতির মাধ্যমে তিনি এই শুভেচ্ছা জানান।

রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের দপ্তর ক্রেমলিন-এর ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে ঈদুল আজহাকে ‘কুরবান বায়রাম’ বলে উল্লেখ করেন পুতিন। এতে তিনি বলেন, “এই উৎসব মুসলিমদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় দিন, যা পূর্বপুরুষদের শিক্ষা, করুণা এবং সহানুভূতির চেতনায় ভরপুর। মুসলিম সম্প্রদায় সেই শিক্ষা ধারন করে পরবর্তী প্রজন্মে তা ছড়িয়ে দিচ্ছে।”

তিনি আরও বলেন, “রাশিয়ায় মুসলিম সম্প্রদায় বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংস্থার মাধ্যমে সমাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে। তারা নিজেদের সংস্কৃতি, ধর্মীয় মূল্যবোধ ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে রাশিয়ার সার্বিক উন্নয়ন এবং জনগণের কল্যাণে অবদান রাখছে। এসব অবদান বিশেষ স্বীকৃতি এবং প্রশংসার দাবি রাখে।”

রাশিয়ায় সরকারিভাবে চারটি ধর্ম—খ্রিস্টান, ইসলাম, ইহুদি ও বৌদ্ধধর্ম—স্বীকৃত। প্রায় ১৪ কোটি ৬০ লাখ জনসংখ্যার এই দেশে মুসলিমরা দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মীয় গোষ্ঠী হিসেবে স্বীকৃত, যা মোট জনসংখ্যার প্রায় ১০ শতাংশ।

ঈদুল আজহার এই বার্তায় পুতিন মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতি শুভকামনা জানিয়ে শান্তি, সম্প্রীতি এবং পারস্পরিক সহাবস্থানের বার্তা দেন।




বেশিরভাগই মৌসুমি কসাই ও সাধারণ মানুষ; আহতের সংখ্যা অনেক

পবিত্র ঈদুল আজহার প্রথম দিনে রাজধানী ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় কোরবানির পশু জবাই এবং মাংস কাটাকাটির সময় অসাবধানতাবশত আহত হয়েছেন শতাধিক ব্যক্তি। আহতদের অধিকাংশই মৌসুমি কসাই, তবে সাধারণ মানুষও রয়েছেন এই তালিকায়।

শনিবার (৭ জুন) সকাল থেকে বিকেল সোয়া ৩টা পর্যন্ত আহত ব্যক্তিরা চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে আসেন।

হাসপাতালের জরুরি বিভাগের আবাসিক সার্জন ডা. মুশতাক আহমেদ জানান, “সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত ১০০ জনের বেশি ব্যক্তি হাসপাতালে এসেছেন কোরবানির সময় ছুরিকাঘাত কিংবা কাটাকাটির কারণে আহত হয়ে। তাদের মধ্যে কয়েকজনকে ভর্তি করা হয়েছে, তবে সবাই শঙ্কামুক্ত। বাকিদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।”

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, আহতদের অনেকেই মৌসুমি কসাই, যাদের পেশাগত অভিজ্ঞতা কম। আবার অনেক সাধারণ মানুষও আছেন যারা নিজেরাই কোরবানি দিতে গিয়ে আহত হয়েছেন। কর্তৃপক্ষ বলছে, আহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

প্রতিবছর ঈদুল আজহার দিন এমন দুর্ঘটনা ঘটার নজির রয়েছে। চিকিৎসকরা বলছেন, পশু জবাই ও মাংস প্রস্তুতের সময় বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন না করলে এমন ঘটনা ঘটতেই পারে।

সচেতনতা এবং অভিজ্ঞ কসাইয়ের সহায়তায় কোরবানির কার্যক্রম পরিচালনার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।




ঢাকা শহরে নেমে এসেছে নীরবতা

ঈদুল আজহার ছুটিতে রাজধানী ঢাকা হারিয়েছে তার চিরচেনা ব্যস্ততা। প্রিয়জনের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে রাজধানীবাসী ছুটে গেছেন নিজ নিজ গ্রামের বাড়িতে। ফলে ফাঁকা হয়ে পড়েছে ঢাকার সড়কগুলো, নেমে এসেছে এক নিস্তব্ধতা।

শনিবার (৭ জুন) সকালে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, কোথাও নেই যানজট, নেই মানুষের ভিড়। কারওয়ান বাজার, ফার্মগেট, শাহবাগ, পল্টন, মালিবাগ, রামপুরা, বাড্ডা, মহাখালী, জাহাঙ্গীর গেট, বিজয় সরণি, আগারগাঁও ও শ্যামলীসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় যানবাহনের উপস্থিতি ছিল প্রায় শূন্যের কোঠায়।

সড়কে গাড়ি ও মানুষের সংখ্যা কমে যাওয়ায় এক ধরনের অচেনা নীরবতায় ঢেকে গেছে পুরো নগরী। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ব্যক্তিগত গাড়ি, সিএনজি ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চলাচল শুরু হয়। গণপরিবহন ছিল অত্যন্ত সীমিত, যার ফলে রাজধানীতে ঈদ পালন করা মানুষদের কিছুটা ভোগান্তিতে পড়তে হয়।

শহরের এক বাসযাত্রী জানান, “বেশ কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকার পর একটা বাস পেয়েছি। রাস্তা একদম ফাঁকা, বাসেও যাত্রী নেই তেমন। ভাড়া একটু বেশি চেয়েছে, ঈদের বকশিশ হিসেবে ১০ টাকা বাড়িয়ে দিয়েছি।”

এক পরিবহনের চালক বলেন, “নামাজ পড়ে গাড়ি নিয়ে বের হয়েছি। রাস্তায় যাত্রী একেবারেই কম। সবাই এখন কোরবানির কাজে ব্যস্ত, বিকেলে যাত্রী বাড়বে।”

ঈদের এই ব্যতিক্রমধর্মী চিত্র নগরবাসীর জন্য যেমন স্বস্তির, তেমনি সড়কে থাকা অল্প সংখ্যক যাত্রীদের জন্য কিছুটা কষ্টেরও কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।