সহিংসতার আতঙ্কে উত্তপ্ত মণিপুর, চলছে কারফিউ ও ইন্টারনেট বন্ধ

জাতিগত সহিংসতায় বিপর্যস্ত ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য মণিপুর নতুন করে আরও বড় ধরনের দাঙ্গার আশঙ্কায় রয়েছে। হিন্দু মেইতেই ও খ্রিস্টান কুকি জনগোষ্ঠীর মধ্যে উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে রাজ্যজুড়ে টানটান পরিস্থিতি বিরাজ করছে। এ অবস্থায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে রোববার রাজ্যপাল অজয় কুমার ভাল্লা রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের নিয়ে জরুরি বৈঠক করেন।

ইতিমধ্যে রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় কারফিউ জারি রয়েছে। কিন্তু তাতেও অস্থিরতা কমেনি। শনিবার চরমপন্থি গোষ্ঠী আরামবাই তেংগোল (এটি)-এর কয়েক সদস্যকে গ্রেপ্তারের জেরে রাজ্যের বিভিন্ন অংশে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। গ্রেপ্তারকৃতদের মুক্তির দাবিতে উগ্রবাদীরা পুলিশের ওপর হামলা চালায় এবং জনতা রাস্তায় নেমে বিক্ষোভে ফেটে পড়ে।

পরে রাজ্যপাল বিজেপি, এনপিপি ও কংগ্রেসের ২৫ জন বিধায়কের একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। প্রতিনিধিরা রাজ্যের সংকটাপন্ন পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে দ্রুত সমাধানের দাবি জানান। রাজ্যপাল আশ্বস্ত করেন যে, স্বাভাবিকতা ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে রাজ্যের বিষ্ণুপুর জেলায় অনির্দিষ্টকালের জন্য কারফিউ জারি করা হয়েছে। এছাড়া ইম্ফাল পূর্ব, ইম্ফাল পশ্চিম, কাকচিং ও থৌবাল জেলায় চার বা ততোধিক ব্যক্তি একত্রে সমাবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

সরকারি নির্দেশে এসব এলাকায় পাঁচ দিনের জন্য ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখা হয়েছে। পুলিশের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, শনিবার রাত ৯টা ৪০ মিনিটে এনআইএ ও মণিপুর পুলিশের যৌথ অভিযানে ‘এটি’-র কথিত সেনাপ্রধান কানন মেইতেই-কে গ্রেপ্তার করা হয়। এর পরপরই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ইম্ফাল পশ্চিম জেলার কোয়াকিথেল এলাকায় শত শত মানুষ পুলিশের গাড়িবহর থামিয়ে তাকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। পুলিশ তখন বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে গুলি ছোড়ে।

২০২৩ সালের ৩ মে রাজ্যে জাতিগত সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ার পর আরামবাই তেংগোল (এটি) গোষ্ঠী সক্রিয় হয়ে ওঠে। সশস্ত্র এই মেইতেই গোষ্ঠী কুকি সম্প্রদায়ের জনগণের ওপর একাধিক হামলা ও নির্যাতনের ঘটনায় জড়িত ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। তৎকালীন সময়ে ভারতীয় প্রশাসনের ‘পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ’ নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বারবার সহিংসতার পুনরাবৃত্তি রোধে এখন প্রয়োজন রাজনৈতিক সংলাপ, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং নিরপেক্ষ প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ। রাজ্যপাল অজয় কুমার ভাল্লার নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় সরকারের সহায়তায় পরিস্থিতি স্থিতিশীল করা না গেলে, মণিপুরের সংকট আরও দীর্ঘায়িত হতে পারে।




ঈদের তৃতীয় দিনেও চলবে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম: আসিফ মাহমুদ

ঈদুল আজহার তৃতীয় দিনেও দেশে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চলমান থাকবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া। রোববার দিবাগত রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক পোস্টে তিনি এ তথ্য জানান।

উপদেষ্টা জানান, ঈদের দিনসহ পরবর্তী দুই দিন—মোট তিন দিন ধরে কোরবানি হয়ে থাকে। ঈদের দ্বিতীয় দিনেও বিপুলসংখ্যক পশু কোরবানি হয়েছে এবং সে অনুযায়ী বর্জ্যও তৈরি হয়েছে। তবে নির্ধারিত সময়ের আগেই এসব বর্জ্য অপসারণের কাজ সফলভাবে শেষ করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, ঈদের দ্বিতীয় দিনে কোরবানি করা পশুর বর্জ্য নিয়ে যেসব সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে, সেগুলো প্রকৃতপক্ষে দ্বিতীয় দিনের কোরবানির বর্জ্য। যদিও অনেকেই সিটি করপোরেশনের নির্ধারিত স্থানে পশু কোরবানি করেননি, তবুও সংশ্লিষ্ট কর্মীদের আন্তরিক প্রচেষ্টায় দ্রুততম সময়ের মধ্যে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে।

পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা

আসিফ মাহমুদ বলেন, ঈদের দিন রাতেই সব সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম সম্পন্ন হয়। তিনি জানান, মোট ৩৫ হাজার ২৭২ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মী ঈদের আনন্দ ত্যাগ করে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে অংশ নেন। এ জন্য তাঁদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন উপদেষ্টা।

বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় প্রস্তুত সিটি করপোরেশন

ধর্মীয় দিক থেকে ঈদুল আজহার তৃতীয় দিনেও কোরবানি করা বৈধ, ফলে অনেক মানুষ আজও পশু কোরবানি করছেন। এ বাস্তবতা বিবেচনায় রেখে সিটি করপোরেশনগুলো ঈদের তৃতীয় দিনেও বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সক্রিয় থাকবে বলে জানানো হয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, সময়মতো বর্জ্য অপসারণ ও শহরের পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে ঈদের তিন দিনজুড়ে সমন্বিত পরিকল্পনায় কাজ করছে স্থানীয় সরকার বিভাগ ও সিটি করপোরেশনসমূহ।




তাপদাহ নিয়ে আবহাওয়া অধিদপ্তরের জরুরি বার্তা!

রাজশাহী, রংপুর, খুলনা বিভাগসহ ফেনী ও ময়মনসিংহ জেলার ওপর দিয়ে মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ২৪ ঘণ্টা এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে। পাশাপাশি সারাদেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে, যার ফলে গরমের অনুভূতিও আরও তীব্র হবে।

সোমবার (৯ জুন) সকালে আবহাওয়া অধিদপ্তরের ঝড় সতর্কীকরণ কেন্দ্র থেকে প্রকাশিত ১২০ ঘণ্টার পূর্বাভাস অনুযায়ী, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

৯ জুন: চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং ঢাকা, বরিশাল ও সিলেট বিভাগের দু-একটি স্থানে অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি হতে পারে। অন্যান্য এলাকায় আকাশ আংশিক মেঘলা থাকলেও আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে।

১০ জুন: রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের কিছু জায়গায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। দিনব্যাপী তাপমাত্রা কিছুটা বাড়তে পারে, তবে রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকবে।

১১ জুন: চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের কিছু স্থানে বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে। কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণের সম্ভাবনাও রয়েছে। ওই দিন সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা ১-২ ডিগ্রি সেলসিয়াস কমতে পারে।

১২ জুন: ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের বিভিন্ন জায়গায় এবং রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের কিছু স্থানে দমকা হাওয়াসহ বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। কোথাও কোথাও ভারী বর্ষণের আশঙ্কা রয়েছে। এই সময় তাপমাত্রা দিনে ও রাতে সামান্য কমতে পারে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, বর্তমানে মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর কম সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে তা দুর্বল থেকে মাঝারি অবস্থায় রয়েছে। এই পরিস্থিতি বজায় থাকলে তাপদাহ কিছুটা স্থায়ী হতে পারে, তবে কয়েক দিনের মধ্যে বৃষ্টির প্রবণতা বাড়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।

দেশবাসীকে বৃষ্টির সময় নিরাপদে থাকার পাশাপাশি তাপদাহের সময়ে সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।




অরাজনৈতিকীকরণের পথে শিক্ষা ব্যবস্থা: অন্তর্বর্তী সরকারের নজরকাড়া সিদ্ধান্ত

আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে গত ১০ মাসে দেশের মোট ২২৭টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তন করা হয়েছে। ইতিহাসে এই প্রথম কোনো সরকারের আমলে এত স্বল্প সময়ে এত বিপুল সংখ্যক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নাম বদলের ঘটনা ঘটল। এসব পরিবর্তনে বাদ পড়েছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, শেখ হাসিনা, তাঁদের পরিবার ও আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত নেতাদের নাম।

সরকারি সূত্র জানিয়েছে, সর্বশেষ গত ৪ জুন ২৪টি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই প্রক্রিয়া চলমান থাকবে।

নামকরণে পরিবর্তনের দৃষ্টিভঙ্গি

শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নামকরণে এখন থেকে ব্যক্তিনির্ভরতার পরিবর্তে স্থানীয়তা ও গণগ্রাহ্যতাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পূর্ববর্তী সরকার যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নাম রাজনৈতিক বা পারিবারিক ভিত্তিতে নির্ধারণ করেছিল, সেগুলোর নাম সংশ্লিষ্ট জেলা, উপজেলা বা এলাকা অনুযায়ী পুনর্নির্ধারণ করা হচ্ছে।

নাম পরিবর্তনের কিছু উদাহরণ

২০২৪ সালের ৩০ অক্টোবর একটি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ছয়টি সরকারি মেডিকেল কলেজের নাম পরিবর্তন করা হয়। এর মধ্যে মানিকগঞ্জের কর্নেল মালেক মেডিকেল কলেজের নতুন নাম রাখা হয়েছে ‘মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ’ এবং ফরিদপুরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজের নাম পরিবর্তন করে রাখা হয়েছে ‘ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ’।

২০২৫ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি দেশের ১৩টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম বদল করা হয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর নতুন নাম সংশ্লিষ্ট জেলার নামে নির্ধারিত হয়। যেমন, নেত্রকোনার ‘শেখ হাসিনা বিশ্ববিদ্যালয়’ এখন ‘নেত্রকোনা বিশ্ববিদ্যালয়’ এবং কিশোরগঞ্জের ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিশ্ববিদ্যালয়’ এখন পরিচিত ‘কিশোরগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়’ নামে।

১৫ এপ্রিল অধ্যাদেশ জারি করে আরও তিনটি মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তন করা হয়। এর মধ্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) নতুন নাম হয় ‘বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়’। খুলনার শেখ হাসিনা মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম হয় ‘খুলনা মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়’ এবং সিলেটের বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় ‘সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়’।

২৯ মে প্রকাশিত আরেক প্রজ্ঞাপনে ৩৭ জেলার ৬৮টি সরকারি কলেজের নাম পরিবর্তনের ঘোষণা দেওয়া হয়। তবে গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ ডিগ্রি কলেজের নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত এলাকায় ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করলে সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী জানান, ওই কলেজের নাম পরিবর্তন করা হবে না।

কারিগরি ও প্রাথমিক শিক্ষাতেও পরিবর্তন

১৩ এপ্রিল কারিগরি শিক্ষাক্ষেত্রে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়। এদিন ১৫টি সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং একটি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ থেকে শেখ হাসিনা ও অন্যান্য রাজনৈতিক নেতাদের নাম বাদ দেওয়া হয়। ২৪ এপ্রিল আরও ২১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তন করা হয়, যার মধ্যে ছিল ১৬টি স্কুল, ৩টি স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং ২টি কলেজ।

প্রাথমিক স্তরেও ব্যাপক নাম পরিবর্তন হয়েছে। গত ১০ মাসে পাঁচ দফায় মোট ৭৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নাম বদলানো হয়েছে। সর্বশেষ ১৮ মে ১১টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তনের ঘোষণা দেওয়া হয়।

সরকারের ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষকদের মত

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক সিনিয়র কর্মকর্তা জানিয়েছেন, “জাতীয় প্রতিষ্ঠান বা স্থাপনার নামকরণ কোনো ব্যক্তি বা রাজনৈতিক দলের নামে হওয়া উচিত নয়। এটি হওয়া উচিত দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও ভৌগোলিক পরিচয়ের ভিত্তিতে। আমরা সেই নীতিতেই কাজ করছি।”

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ বলছেন, এটি একটি ‘অরাজনৈতিকীকরণ প্রক্রিয়া’, যার মাধ্যমে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে রাজনৈতিক প্রভাব থেকে মুক্ত করার চেষ্টা চলছে। অন্যদিকে, কেউ কেউ এটিকে কেবল প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং একটি রাজনৈতিক বার্তা হিসেবেও দেখছেন। তাঁদের মতে, অন্তর্বর্তী সরকার এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে নিজেদের নিরপেক্ষতা এবং অরাজনৈতিক রাষ্ট্র পরিচালনার অঙ্গীকার তুলে ধরতে চাইছে।

প্রসঙ্গত, ২০০৯ সাল থেকে টানা তিন মেয়াদে রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ সরকার তাদের শাসনামলে বিভিন্ন স্তরের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অবকাঠামো ও প্রশাসনিক প্রতিষ্ঠানের নামকরণে রাজনৈতিক ও পারিবারিক প্রতীক ব্যবহার করেছিল। শেখ মুজিবুর রহমান, শেখ হাসিনা এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যদের নামে অসংখ্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সেতু, রাস্তাঘাট, মেডিকেল কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা কেন্দ্র, এমনকি প্রকল্প ও ভবনের নামকরণ করা হয়। এই পরিবর্তনের মাধ্যমে অন্তর্বর্তী সরকার সেই ধারা থেকে সরে এসে একটি ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে।




ড. ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ চেয়ে চিঠি দিলেন টিউলিপ সিদ্দিক

বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাতের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন যুক্তরাজ্যের এমপি ও সাবেক মন্ত্রী টিউলিপ সিদ্দিক। এ উদ্দেশ্যে তিনি ড. ইউনূসকে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন, যেখানে ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক বিষয়ে ‘ভুল বোঝাবুঝি’ মীমাংসার কথা উল্লেখ করেছেন তিনি।

চিঠিতে টিউলিপ সিদ্দিক উল্লেখ করেন, তার বিরুদ্ধে বাংলাদেশে যে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে, তার প্রকৃত তথ্য তুলে ধরতেই তিনি এই সাক্ষাৎ চান। তিনি বলেন, “আমি যুক্তরাজ্যের একজন নাগরিক, লন্ডনে জন্মেছি এবং গত এক দশক ধরে যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টে হ্যাম্পস্টেড অ্যান্ড হাইগেট এলাকার মানুষের প্রতিনিধিত্ব করে আসছি। বাংলাদেশে আমার কোনো সম্পত্তি নেই, এবং সেখানে কোনো বাণিজ্যিক আগ্রহও নেই।”

প্রসঙ্গত, শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার পতনের পর দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করে। অভিযোগ অনুযায়ী, রূপপুর পারমাণবিক প্রকল্প থেকে অর্থ আত্মসাৎ এবং লন্ডনে একটি ফ্ল্যাট গ্রহণসহ নানা দুর্নীতির সঙ্গে তার নাম জড়ায়। যদিও টিউলিপ দাবি করেছেন, ফ্ল্যাটটি তিনি উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছেন এবং এর প্রকৃত উৎস সম্পর্কে তিনি অবগত ছিলেন না।

চিঠিতে টিউলিপ অভিযোগ করেন, তার আইনজীবীরা দুদকের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও সংস্থাটি তাদের সঙ্গে কথা বলেনি এবং বাংলাদেশে যে ঠিকানায় চিঠি পাঠানো হয়েছে, সেটিও ভুল। পাশাপাশি, তদন্তের নানা তথ্য গণমাধ্যমে প্রকাশ করা হলেও তার লিগ্যাল টিমকে কিছু জানানো হয়নি বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

টিউলিপ সিদ্দিক চিঠিতে আরও লেখেন, “আপনি যুক্তরাজ্যে সফর করছেন জেনে আমি অত্যন্ত আগ্রহ নিয়ে আপনার সঙ্গে সাক্ষাতের অনুরোধ জানাচ্ছি। আমার সঙ্গে আমার আত্মীয়তা নিয়ে দেশে যে ভ্রান্ত ধারণা তৈরি হয়েছে, আমি আশা করি, আপনার সঙ্গে সাক্ষাতের মাধ্যমে তা দূর করা সম্ভব হবে।”

উল্লেখ্য, ড. মুহাম্মদ ইউনূস আগামীকাল ৯ জুন রাজা তৃতীয় চার্লসের আমন্ত্রণে যুক্তরাজ্যে চার দিনের সরকারি সফরে যাচ্ছেন। এ সফরে তাঁর ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কেইর স্টারমার ও রাজপরিবারের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।




কারাগারে ঈদে বন্দিদের গান শোনালেন গায়ক নোবেল

ঈদের দিন ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দিদের জন্য আয়োজন করা এক বিশেষ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে গান পরিবেশন করেছেন কারাবন্দি গায়ক মাইনুল আহসান নোবেল। শনিবার (৭ জুন) বিকেল তিনটার দিকে কারা কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে এই আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়।

কারাগারের মাঠে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে নোবেল পরিবেশন করেন জনপ্রিয় শিল্পী জেমস ও আইয়ুব বাচ্চুর গান, যার মধ্যে ছিল ‘ভিগি ভিগি’ ও ‘সেই তুমি কেন এত অচেনা হলে’। তিনি নিজের একটি গানও পরিবেশন করেন।

নোবেলের কণ্ঠে গান শুনে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন অনেক বন্দি। গানের মধ্যে দিয়ে তারা ঈদের আনন্দ ভাগ করে নেন, কারাগারের পরিবেশে সৃষ্টি হয় উৎসবমুখর মুহূর্ত।

কারা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ঈদ উপলক্ষে বন্দিদের জন্য ইতিবাচক ও মানবিক পরিবেশ তৈরি করতেই এই বিশেষ সাংস্কৃতিক আয়োজন করা হয়েছে। নোবেলের অংশগ্রহণ সেই উদ্দেশ্যকে আরও রঙিন করেছে।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি একটি নারী নির্যাতনের মামলায় গ্রেপ্তার হন নোবেল। সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওর ভিত্তিতে তার বিরুদ্ধে রাজধানীর ডেমরা থানায় মামলা দায়ের হয়। পরে সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রযুক্তির সহায়তায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এক সময়ের জনপ্রিয় এই গায়ক এখন বিভিন্ন বিতর্কে জড়ালেও ঈদের এই ব্যতিক্রমী পরিবেশনায় কারাগারে থাকা বন্দিদের মাঝে কিছুটা আনন্দ ও আশার আলো ছড়িয়ে দিয়েছেন—এমনটাই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।




যুক্তরাজ্য সফরে আজ রওনা হচ্ছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস

চার দিনের সরকারি সফরে আজ ( ৯ জুন) সোমবার যুক্তরাজ্যের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করবেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। এই সফরে তিনি ব্রিটিশ রাজা তৃতীয় চার্লসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন এবং রাজা চার্লসের হাত থেকে গ্রহণ করবেন ‘কিংস চার্লস হারমনি অ্যাওয়ার্ড’।

প্রধান উপদেষ্টার সফরসঙ্গী হিসেবে রয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান ড. আবদুল মোমেন।

এই সফরকে ঘিরে দুই দেশের মধ্যে অর্থনীতি, বাণিজ্য ও বিনিয়োগে সহযোগিতা জোরদার করাসহ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নতুনভাবে পুনরুজ্জীবিত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

গত বুধবার রাজধানীর বেইলি রোডে অবস্থিত ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানান, সফরকালীন সময়ে রাজা চার্লসের সঙ্গে সাক্ষাতের পাশাপাশি ব্রিটিশ সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।

প্রেস সচিব আরও জানান, ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক সম্প্রতি প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সফরের বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেছেন। বৈঠকে যুক্তরাজ্যে পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনার বিষয়েও আলোচনা হবে বলে জানান তিনি।

এদিকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব রুহুল আলম সিদ্দিকী এক বিবৃতিতে জানান, “এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সফর। প্রধান উপদেষ্টা ৯ জুন ঢাকা ত্যাগ করবেন এবং ১৪ জুন দেশে ফিরবেন।”

সফরের অংশ হিসেবে ব্রিটিশ রাজা চার্লসের সঙ্গে সাক্ষাৎ ছাড়াও প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে অংশ নেবেন অধ্যাপক ইউনূস। সফরসূচিতে আরও কয়েকটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক ও অনুষ্ঠান অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।




রাঙ্গাবালীর বড়বাইশদিয়ায় ছাত্রদলের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালিত

জাতীয় পরিবেশ দিবস উপলক্ষে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার বড়বাইশদিয়া ইউনিয়নে “গাছ লাগান, পরিবেশ বাঁচান” স্লোগানে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন করেছে ইউনিয়ন ছাত্রদল।

রবিবার (৮ জুন) সকাল ১০টায় চরগঙ্গা আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সংলগ্ন মসজিদ মাঠে এ বৃক্ষরোপণ করা হয়। এসময় বিভিন্ন প্রজাতির গাছ রোপণ করেন ইউনিয়ন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।

কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেন বড়বাইশদিয়া ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি মাসুদ হাওলাদার। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সহ-সভাপতি গাজী মো. জাহিদুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক জুলহাস মৃধা, সাংগঠনিক সম্পাদক লাজিম ইমরান, প্রচার সম্পাদক আমানউল্লাহ আরমানসহ অন্যান্য নেতা-কর্মীরা।

বক্তারা বলেন, “শুধু রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়, সামাজিক ও মানবিক উদ্যোগেও ছাত্রদল এগিয়ে যাচ্ছে। পরিবেশ রক্ষা ও জনসচেতনতা তৈরির অংশ হিসেবে এই বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।”

তারা আরও বলেন, “ভবিষ্যতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল ও তার অঙ্গ সংগঠনগুলো পরিবেশ, সমাজ ও জনগণের কল্যাণে আরও বড় পরিসরে কাজ করবে। পাশাপাশি গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে, যাতে পটুয়াখালী-৪ আসনে জননন্দিত নেতা এবিএম মোশাররফ হোসেন মোশাররফের নেতৃত্বে বিএনপিকে সরকার গঠনের সুযোগ করে দেওয়া যায়।”

মো. আল-আমিন
স্টাফ রিপোর্টার, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



দুমকিতে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা আটক

পটুয়াখালীর দুমকিতে এক সময়ের আলোচিত ও প্রভাবশালী ছাত্রলীগ নেতা নাঈম হোসেনকে আটক করেছে পুলিশ। নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নাঈমকে শনিবার (৭ জুন) সন্ধ্যা ৬টার দিকে উপজেলার লেবুখালী সরকারি হাবিবুল্লাহ স্কুল এলাকায় সন্দেহজনকভাবে ঘোরাঘুরির সময় আটক করা হয়।

আটককৃত নাঈম হোসেন লেবুখালী ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা এবং মরহুম দেলোয়ার সরদারের ছেলে। তিনি পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (পবিপ্রবি) শাখা ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তাকে আটক করে থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন উপজেলা ছাত্রদলের সদস্যসচিব সুমন শরীফ ও তার সঙ্গে থাকা কয়েকজন ছাত্র-জনতা।
সুমন শরীফ জানান, নাঈম হোসেন সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান হারুন হাওলাদারের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তার বিরুদ্ধে পবিপ্রবি ও উপজেলা প্রশাসনে প্রভাব খাটানো, চাকরির দালালি, ঠিকাদারি কাজের কমিশন আদায়সহ একাধিক অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। এমনকি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও অন্যান্য সরকারি প্রকল্পের বরাদ্দকৃত অর্থ আত্মসাতের কথাও স্থানীয়দের মাঝে প্রচলিত।

তিনি আরও জানান, আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর দীর্ঘদিন আত্মগোপনে ছিলেন নাঈম। ঈদের দিন বিকেলে তাকে এলাকায় ঘোরাফেরা করতে দেখে স্থানীয়দের সহযোগিতায় আটক করে পুলিশে দেওয়া হয়।

আটকের সময় নাঈম হোসেন কোনো শারীরিক নির্যাতনের শিকার হননি বলেও জানান তিনি।

ঘটনার বিষয়ে দুমকি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জাকির হোসেন বলেন, “আটকের ঘটনা সত্য। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এই ঘটনায় এলাকাজুড়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। কেউ কেউ নাঈমের গ্রেফতারে সন্তোষ প্রকাশ করলেও, তার রাজনৈতিক পরিচিতি ঘিরে আলোচনার ঝড় উঠেছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ স্থানীয় মহলে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



বাউফলে শতাধিক জেলেকে লাইফ জ্যাকেট উপহার

পটুয়াখালীর বাউফলে উপকূলীয় অঞ্চলের জেলেদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সেক্রেটারি ও বাউফল উন্নয়ন ফোরামের চেয়ারম্যান ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ।

রোববার সকাল ১০টায় নিমদী লঞ্চঘাটে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে উপকূলীয় এলাকার শতাধিক জেলেকে লাইফ জ্যাকেট বিতরণ করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, “জেলেরা প্রতিনিয়ত জীবনবাজি রেখে সাগরে মাছ ধরতে যান। ঝড়-তুফানের মধ্যে কাজ করতে গিয়ে তাদের জীবন সব সময় ঝুঁকিতে থাকে। সেই ভাবনা থেকেই এই উদ্যোগ।”
তিনি আরও বলেন, “জেলেদের কষ্ট করে ধরা মাছ থেকে চাঁদা আদায় করা হচ্ছে এমন খবর দুঃখজনক। তরমুজ ব্যবসায়ীদের কাছ থেকেও চাঁদাবাজির অভিযোগ এসেছে। আমরা এমন অন্যায়ের বিরুদ্ধে এবং আগামীতে একটি আদর্শ বাউফল গড়ার লক্ষ্যে কাজ করছি।”

ড. মাসুদ জানান, বাউফলের প্রতিটি মানুষ যেন নিরাপদে ও সম্মান নিয়ে বসবাস করতে পারে, সেটিই তার লক্ষ্য। ভবিষ্যতেও বাউফলের সাধারণ মানুষের পাশে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাউফল উপজেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি মো. রেদোয়ান উল্লাহ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাউফল উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা ইসাহাক মিয়া, নায়েবে আমির মাওলানা রফিকুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট মুনতাসির মুজাহিদ, নাজিরপুর ইউনিয়নের আমির রাসেল মাহমুদ প্রমুখ। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সেক্রেটারি মাহমুদুল হাসান।

স্থানীয় জেলেরা এই উপহার পেয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং এমন সহানুভূতিশীল উদ্যোগের জন্য আয়োজককে ধন্যবাদ জানান।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম