ঈদ উপলক্ষে ‘ফিরোজা’য় বিএনপির শীর্ষ নেতাদের মিলনমেলা

ঈদুল আজহা উপলক্ষে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যরা। শনিবার (৭ জুন) রাতে রাজধানীর গুলশানে খালেদা জিয়ার বাসভবন ‘ফিরোজা’-তে এ সৌজন্য সাক্ষাৎ ও শুভেচ্ছা বিনিময়ের আয়োজন হয়।

সাক্ষাৎ শেষে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, “এটি আমাদের জন্য এক আনন্দঘন মুহূর্ত। আমাদের নেত্রীকে কেন্দ্র করে আমরা দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতি করছি। তাঁর নেতৃত্বে বিএনপি বহু সফলতা অর্জন করেছে। তিনি বাংলাদেশের রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তন এনেছেন। তাঁর সঙ্গে কথা বললে আমরা নতুন করে অনুপ্রাণিত হই।”

তিনি আরও বলেন, “গণতন্ত্রের প্রতি বেগম জিয়ার অবিচল আস্থা আমাদের প্রতিটি কথোপকথনে প্রতিফলিত হয়। তিনি বিশ্বাস করেন, গণতান্ত্রিক পদ্ধতির বাইরে কোনো ব্যবস্থাই দেশের উপকারে আসতে পারে না।”

মির্জা ফখরুল জানান, বেগম জিয়া আগের তুলনায় ভালো আছেন এবং দেশবাসীকে ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। একই সঙ্গে দেশ ও জনগণের কল্যাণ কামনায় দোয়া চেয়েছেন।

রাত সাড়ে ৮টায় ‘ফিরোজা’য় প্রবেশ করেন স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, জমির উদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আবদুল মঈন খান, সালাহউদ্দিন আহমদ, সেলিমা রহমান, হাফিজ উদ্দিন আহমেদ ও এজেডএম জাহিদ হোসেন।

পরবর্তীতে দলের ভাইস চেয়ারম্যান আলতাফ হোসেন চৌধুরী, মোহাম্মদ শাহজাহান, আবদুল আউয়াল মিন্টু এবং উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আবদুল হালিম, আফরোজা খানম রিতা প্রমুখ নেত্রী খালেদা জিয়ার সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময়ে অংশ নেন।

দলের শীর্ষ নেতৃত্বের এই উপস্থিতি বিএনপির ঐক্য ও খালেদা জিয়ার প্রতি অবিচল আস্থার প্রতীক হিসেবে দেখা হচ্ছে।




ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে শিবিরের ব্যতিক্রমী আয়োজন ঢাকা কলেজে

ঈদুল আজহা উপলক্ষে ঢাকা কলেজে আবাসিক শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সম্মানে প্রীতিভোজের আয়োজন করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির, ঢাকা কলেজ শাখা। শনিবার (৭ জুন) কলেজ ক্যাম্পাসে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে শিক্ষার্থী ও কর্মীদের একত্রিত করে উৎসবের আনন্দ ভাগাভাগি করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ লইয়ার্স কাউন্সিলের কেন্দ্রীয় সভাপতি অ্যাডভোকেট জসিম উদ্দিন সরকার। তিনি বলেন, “ঈদ শুধু উৎসব নয়, এটি আত্মত্যাগ, সহানুভূতি ও ভ্রাতৃত্ববোধের অনুশীলন। ছাত্রদের মাঝে এই মূল্যবোধ ছড়িয়ে দিতে শিবিরের এমন উদ্যোগ প্রশংসার দাবিদার।”

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় প্রকাশনা সম্পাদক সাদিক কায়েম।

আয়োজকরা জানান, ঈদের সময় অনেক আবাসিক শিক্ষার্থী বাড়ি ফিরতে না পারায় তাদের পাশে দাঁড়াতেই এই আয়োজন করা হয়েছে। তারা বলেন, এ আয়োজন কেবল ধর্মীয় উৎসব নয়, বরং একটি বন্ধুত্বপূর্ণ ও মানবিক ছাত্রসমাজ গড়ে তোলার লক্ষ্যে নেওয়া পদক্ষেপ।

আয়োজনে অংশ নিয়ে শিক্ষার্থীরাও সন্তোষ প্রকাশ করেন। ইতিহাস বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আব্দুল কাদের বলেন, “ঈদের সময় পরিবার থেকে দূরে থাকাটা কষ্টদায়ক। আজকের আয়োজন আমাদের সেই অভাব অনেকটাই পূরণ করেছে।”

রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী রাফিদ ইসলাম বলেন, “এখানে শুধু খাবার নয়, ছিল আন্তরিকতা ও সামাজিক বন্ধনের পরশ। ঈদের প্রকৃত রূপই তো এমন—সবাই এক হয়ে আনন্দ ভাগাভাগি করা।”

আবাসিক হলের কর্মচারী কাশেম মিয়া বলেন, “সাধারণত এমন আয়োজনে আমরা থাকি না। আজ আমরাও আমন্ত্রিত ছিলাম, এটি আমাদের জন্য গর্বের। ছাত্ররা এমন মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে পাশে দাঁড়িয়েছে—এটা আমাদের হৃদয় ছুঁয়ে গেছে।”

অনুষ্ঠানে ছাত্রশিবিরের ঢাকা কলেজ শাখার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।




ত্যাগের আলোয় গড়ে উঠুক মানবতা: এনসিপির ঈদ বার্তা

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে দেশবাসীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক কমিটি (এনসিপি)।
শনিবার (৭ জুন) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এবং সদস্যসচিব আখতার হোসেন ঈদের শুভেচ্ছা জানান।

বিবৃতিতে বলা হয়, ঈদুল আজহা শুধুমাত্র পশু কোরবানির উৎসব নয়—এটি ত্যাগ, ধৈর্য ও আত্মশুদ্ধির প্রতীক। এই দিনে কোরবানির পশুর পাশাপাশি আত্মঅহংকার, স্বার্থপরতা ও অন্যায়ের সঙ্গে আপসের মানসিকতাকেও বিসর্জন দেওয়ার আহ্বান জানান তারা।

শুভেচ্ছা বার্তায় আরও বলা হয়, সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা, দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সত্য ও ন্যায়ের পথ সুগম করাই হওয়া উচিত ঈদের মূল শিক্ষা।

এনসিপি মনে করে, অতীতের জুলাই অভ্যুত্থানে জাতি যেভাবে ত্যাগ ও সাহসের অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিল, তা আজও প্রাসঙ্গিক। শহীদদের আত্মত্যাগের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে বিবৃতিতে বলা হয়, “আত্মত্যাগ ছাড়া কোনো বড় পরিবর্তন সম্ভব নয়। সাহসী মানুষদের হাত ধরেই সমাজে আসে প্রকৃত রূপান্তর।”

বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, ঈদের এই পবিত্র দিনে শহীদদের স্বপ্ন বাস্তবায়নে ‘জুলাই সনদ’ ও ‘জুলাই ঘোষণা’ দ্রুত বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। কারণ, ব্যক্তি ও সমাজ—উভয়ের পরিশুদ্ধির মূল ভিত্তি হলো ত্যাগের শিক্ষা।এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




বিশ্ব মুসলিমকে ঈদের শুভেচ্ছা জানালেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিন

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে বিশ্বের মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতি শুভেচ্ছা জানিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। শুক্রবার (৬ জুন) এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতির মাধ্যমে তিনি এই শুভেচ্ছা জানান।

রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের দপ্তর ক্রেমলিন-এর ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে ঈদুল আজহাকে ‘কুরবান বায়রাম’ বলে উল্লেখ করেন পুতিন। এতে তিনি বলেন, “এই উৎসব মুসলিমদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় দিন, যা পূর্বপুরুষদের শিক্ষা, করুণা এবং সহানুভূতির চেতনায় ভরপুর। মুসলিম সম্প্রদায় সেই শিক্ষা ধারন করে পরবর্তী প্রজন্মে তা ছড়িয়ে দিচ্ছে।”

তিনি আরও বলেন, “রাশিয়ায় মুসলিম সম্প্রদায় বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংস্থার মাধ্যমে সমাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে। তারা নিজেদের সংস্কৃতি, ধর্মীয় মূল্যবোধ ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে রাশিয়ার সার্বিক উন্নয়ন এবং জনগণের কল্যাণে অবদান রাখছে। এসব অবদান বিশেষ স্বীকৃতি এবং প্রশংসার দাবি রাখে।”

রাশিয়ায় সরকারিভাবে চারটি ধর্ম—খ্রিস্টান, ইসলাম, ইহুদি ও বৌদ্ধধর্ম—স্বীকৃত। প্রায় ১৪ কোটি ৬০ লাখ জনসংখ্যার এই দেশে মুসলিমরা দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মীয় গোষ্ঠী হিসেবে স্বীকৃত, যা মোট জনসংখ্যার প্রায় ১০ শতাংশ।

ঈদুল আজহার এই বার্তায় পুতিন মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতি শুভকামনা জানিয়ে শান্তি, সম্প্রীতি এবং পারস্পরিক সহাবস্থানের বার্তা দেন।




বেশিরভাগই মৌসুমি কসাই ও সাধারণ মানুষ; আহতের সংখ্যা অনেক

পবিত্র ঈদুল আজহার প্রথম দিনে রাজধানী ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় কোরবানির পশু জবাই এবং মাংস কাটাকাটির সময় অসাবধানতাবশত আহত হয়েছেন শতাধিক ব্যক্তি। আহতদের অধিকাংশই মৌসুমি কসাই, তবে সাধারণ মানুষও রয়েছেন এই তালিকায়।

শনিবার (৭ জুন) সকাল থেকে বিকেল সোয়া ৩টা পর্যন্ত আহত ব্যক্তিরা চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে আসেন।

হাসপাতালের জরুরি বিভাগের আবাসিক সার্জন ডা. মুশতাক আহমেদ জানান, “সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত ১০০ জনের বেশি ব্যক্তি হাসপাতালে এসেছেন কোরবানির সময় ছুরিকাঘাত কিংবা কাটাকাটির কারণে আহত হয়ে। তাদের মধ্যে কয়েকজনকে ভর্তি করা হয়েছে, তবে সবাই শঙ্কামুক্ত। বাকিদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।”

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, আহতদের অনেকেই মৌসুমি কসাই, যাদের পেশাগত অভিজ্ঞতা কম। আবার অনেক সাধারণ মানুষও আছেন যারা নিজেরাই কোরবানি দিতে গিয়ে আহত হয়েছেন। কর্তৃপক্ষ বলছে, আহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

প্রতিবছর ঈদুল আজহার দিন এমন দুর্ঘটনা ঘটার নজির রয়েছে। চিকিৎসকরা বলছেন, পশু জবাই ও মাংস প্রস্তুতের সময় বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন না করলে এমন ঘটনা ঘটতেই পারে।

সচেতনতা এবং অভিজ্ঞ কসাইয়ের সহায়তায় কোরবানির কার্যক্রম পরিচালনার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।




ঢাকা শহরে নেমে এসেছে নীরবতা

ঈদুল আজহার ছুটিতে রাজধানী ঢাকা হারিয়েছে তার চিরচেনা ব্যস্ততা। প্রিয়জনের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে রাজধানীবাসী ছুটে গেছেন নিজ নিজ গ্রামের বাড়িতে। ফলে ফাঁকা হয়ে পড়েছে ঢাকার সড়কগুলো, নেমে এসেছে এক নিস্তব্ধতা।

শনিবার (৭ জুন) সকালে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, কোথাও নেই যানজট, নেই মানুষের ভিড়। কারওয়ান বাজার, ফার্মগেট, শাহবাগ, পল্টন, মালিবাগ, রামপুরা, বাড্ডা, মহাখালী, জাহাঙ্গীর গেট, বিজয় সরণি, আগারগাঁও ও শ্যামলীসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় যানবাহনের উপস্থিতি ছিল প্রায় শূন্যের কোঠায়।

সড়কে গাড়ি ও মানুষের সংখ্যা কমে যাওয়ায় এক ধরনের অচেনা নীরবতায় ঢেকে গেছে পুরো নগরী। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ব্যক্তিগত গাড়ি, সিএনজি ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চলাচল শুরু হয়। গণপরিবহন ছিল অত্যন্ত সীমিত, যার ফলে রাজধানীতে ঈদ পালন করা মানুষদের কিছুটা ভোগান্তিতে পড়তে হয়।

শহরের এক বাসযাত্রী জানান, “বেশ কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকার পর একটা বাস পেয়েছি। রাস্তা একদম ফাঁকা, বাসেও যাত্রী নেই তেমন। ভাড়া একটু বেশি চেয়েছে, ঈদের বকশিশ হিসেবে ১০ টাকা বাড়িয়ে দিয়েছি।”

এক পরিবহনের চালক বলেন, “নামাজ পড়ে গাড়ি নিয়ে বের হয়েছি। রাস্তায় যাত্রী একেবারেই কম। সবাই এখন কোরবানির কাজে ব্যস্ত, বিকেলে যাত্রী বাড়বে।”

ঈদের এই ব্যতিক্রমধর্মী চিত্র নগরবাসীর জন্য যেমন স্বস্তির, তেমনি সড়কে থাকা অল্প সংখ্যক যাত্রীদের জন্য কিছুটা কষ্টেরও কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।




হানাহানির রাজনীতি ফেরার আশঙ্কা নেই: এনসিপি নেতা

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আব্দুল হান্নান মাসউদ বলেছেন, দেশে যেন আর হানাহানির রাজনীতি ফিরে না আসে—এটাই সবার প্রত্যাশা। তিনি দাবি করেন, গত ৫ আগস্টের পূর্বে আন্দোলনের সময় তাঁর নিজ বাড়িতে অগ্নিসংযোগের চেষ্টা করা হয়েছিল।

শনিবার (৭ জুন) ঈদুল আজহার নামাজ শেষে নোয়াখালীর হাতিয়ার বুড়িরচর ইউনিয়নের নিজ গ্রামের মসজিদে স্থানীয়দের উদ্দেশে এক সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

হান্নান মাসউদ বলেন, “৫ আগস্টের আগে চলমান আন্দোলনের সময় ফ্যাসিবাদী শক্তি দেশের মানুষকে পাড়ায়-মহল্লায় শোষণ করেছে। আমার বাড়িতে আগুন লাগানোরও চেষ্টা হয়েছে। কিন্তু আমার গ্রামের শান্তিপ্রিয় মানুষ সে চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়েছে। এই গ্রামের মানুষ আমার আপনজন, তারা সব সময় শান্তি চায়। আমরা কখনোই চাই না দেশে আবার হানাহানির রাজনীতি ফিরে আসুক।”

বক্তব্য শেষে তিনি স্থানীয়দের সঙ্গে ঈদুল আজহার আনন্দ ভাগাভাগি করে নেন। এ সময় এনসিপির হাতিয়া প্রতিনিধি মো. ইউসুফ রেজাসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।




ঈদের নামাজ, কোলাকুলি ও কোরবানিতে মুখর সারাদেশ

সারা দেশে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও আনন্দঘন পরিবেশে উদযাপিত হচ্ছে মুসলিম সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল আজহা। শনিবার (৭ জুন) সকাল থেকেই শুরু হয়েছে ঈদের আনুষ্ঠানিকতা। কোরবানির মাধ্যমে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের পাশাপাশি সমাজে সহানুভূতি ও সহমর্মিতার বার্তা ছড়িয়ে দিতেই পালিত হচ্ছে এই উৎসব।

সকালে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলার মসজিদ ও ঈদগাহ মাঠে অনুষ্ঠিত হয় ঈদের জামাত। ঢাকার জাতীয় ঈদগাহে হয় প্রধান জামাত, যেখানে বিপুল সংখ্যক মুসল্লি অংশ নেন। নামাজ শেষে মুসল্লিরা পরস্পরের সঙ্গে কোলাকুলি করেন ও শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

নামাজ শেষে শুরু হয় কোরবানির পশু জবাইয়ের কার্যক্রম। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, গৃহস্থালির আঙিনা, গলি-মহল্লা ও খোলা স্থানে পশু জবাই ও মাংস প্রক্রিয়াকরণের কাজ চলছে। অনেকে ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী মাংস তিন ভাগ করে আত্মীয়স্বজন, দরিদ্র ও নিজের পরিবারের মধ্যে বণ্টন করছেন। পাশাপাশি সরকারি-বেসরকারি সংস্থা ও বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন দরিদ্র মানুষের ঘরে ঘরে মাংস পৌঁছে দিচ্ছে।

এবারের ঈদুল আজহায় কোরবানির ব্যবস্থাপনায় রাজধানীসহ সারাদেশে তুলনামূলক শৃঙ্খলা লক্ষ্য করা গেছে। ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় নিয়েছে বিশেষ উদ্যোগ। সিটি কর্পোরেশনের একাধিক সূত্র জানায়, ঈদের দিন দুপুরের মধ্যেই অধিকাংশ ওয়ার্ডে কোরবানির বর্জ্য পরিষ্কারের কার্যক্রম শুরু হয়েছে এবং রাতের মধ্যেই তা সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে।

এ উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস দেশবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়ে শান্তি, সমৃদ্ধি ও ভ্রাতৃত্ববোধের বার্তা দেন।




চট্টগ্রাম বন্দর বাংলাদেশের হৃৎপিণ্ড, বিরোধিতা রুখে দিন: প্রধান উপদেষ্টা

চট্টগ্রাম বন্দরকে বাংলাদেশের অর্থনীতির ‘হৃৎপিণ্ড’ আখ্যা দিয়ে এর উন্নয়ন পরিকল্পনায় বিরোধিতাকারীদের প্রতিহত করার আহ্বান জানিয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

শুক্রবার (৬ জুন) সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া ভাষণে তিনি বলেন, “এই বন্দরকে বর্তমান দুর্বল অবস্থায় রেখে দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি সম্ভব নয়। আমাদের বন্দর ব্যবস্থাপনায় যেসব আন্তর্জাতিক অংশীদার আসছে তারা বিশ্বের সেরা এবং অভিজ্ঞ। তারা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সফলভাবে বন্দর পরিচালনা করছে।”

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “চট্টগ্রাম বন্দর শুধু বাংলাদেশ নয়, বরং দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনীতির কেন্দ্রে পরিণত হবে। নেপাল-ভুটানের মতো প্রতিবেশী দেশগুলোর জন্যও তা হবে একটি নির্ভরযোগ্য বাণিজ্যিক পথ।”

তিনি বলেন, “আমাদের লক্ষ্য, ২০৩১ সালের মধ্যে এসব কোম্পানির কাছ থেকে বন্দরের আধুনিক ব্যবস্থাপনা শেখা। এর পরবর্তী পাঁচ বছরে বাংলাদেশিরাই বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন বন্দর পরিচালনা করবে।”

ড. ইউনূস আরও বলেন, “বন্দরের উন্নয়ন কেন্দ্র করে সমুদ্রভিত্তিক নতুন শিল্প যেমন মাছ চাষ ও প্রক্রিয়াজাতকরণ গড়ে উঠবে, যা দেশের কর্মসংস্থান ও বৈদেশিক আয় বাড়াবে।”

বিরোধীদের প্রতি কড়া বার্তা দিয়ে তিনি বলেন, “ভিত্তিহীন অপপ্রচারে কান না দিয়ে বন্দরের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে অংশ নিন। যারা বিরোধিতা করছে, তাদের প্রতিহত করুন। এ উদ্যোগ জাতীয় স্বার্থে।”


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




‘তাণ্ডব’ দিয়ে নতুন রূপে সাবিলা: এখন অনেকটাই নির্ভার

দেশের আলোচিত নায়ক শাকিব খানের বিপরীতে ‘তাণ্ডব’ সিনেমায় অভিষেক ঘটেছে ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী সাবিলা নূরের। সিনেমায় যুক্ত হওয়ার পর থেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হয় নানা আলোচনা-সমালোচনা। কেউ তার প্রশংসা করেছেন, আবার কেউ তুলেছেন প্রশ্ন—সাবিলার গ্ল্যামার কম, সিনেমার জন্য উপযুক্ত নন ইত্যাদি।

তবে ‘তাণ্ডব’ সিনেমার গান ‘লিচুর বাগানে’ মুক্তির পর সেই সমালোচকদের অনেকেই চমকে গেছেন সাবিলার নতুন রূপ দেখে। দর্শকদের মধ্যে তৈরি হয়েছে ইতিবাচক সাড়া, যা সাবিলাকেও দিয়েছে আত্মবিশ্বাস। তিনি নিজেই জানিয়েছেন, এখন তিনি অনেকটাই নির্ভার।

সম্প্রতি এক প্রতিক্রিয়ায় সাবিলা বলেন, “আমার জীবনের প্রথম বাণিজ্যিক সিনেমার প্রথম গান ‘লিচুর বাগানে’। গানটির জন্য আমি কৃতজ্ঞ পরিচালক রায়হান রাফী ও পুরো টিমের কাছে। শাকিব খান মেগাস্টার—তার সঙ্গে কাজ করাটা যেমন রোমাঞ্চকর ছিল, তেমনি ভয়ও লাগছিল। কিন্তু শুটিং শুরু হতেই সব সহজ হয়ে গেল। মনে হয়নি এটাই আমাদের প্রথম কাজ।”

তিনি আরও বলেন, “গানটি দর্শক ভালোভাবে গ্রহণ করেছেন। ইউটিউবে দেখছেন, টিকটকে ডান্স কাভার করছেন, গানটি গুনগুন করে গাইছেন। এমন প্রতিক্রিয়া পেয়ে খুব ভালো লাগছে। ভেবেছিলাম দর্শক আমাকে এই নতুন রূপে গ্রহণ করবেন কি না, কিন্তু এখন বলতেই পারি—আমি অনেকটাই নির্ভার।”

‘লিচুর বাগানে’ গানটি ইতোমধ্যে ইউটিউবে দ্রুত ভিউ অর্জন করে রেকর্ড গড়েছে। গানটিতে সাবিলার পারফরম্যান্স, নাচ ও রোমান্টিক রসায়ন দর্শকের নজর কেড়েছে। গানটির সংগীত পরিচালনা করেছেন প্রীতম হাসান ও জেফার রহমান।

শাকিব খানের সঙ্গে সাবিলার এ জুটি নিয়ে এখন আগ্রহ তুঙ্গে। ‘তাণ্ডব’ সিনেমার বাকি অংশ কেমন হয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /