আবারও বাড়ছে করোনা, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ৭ সতর্কবার্তা

বিশ্বজুড়ে আবারও বাড়তে শুরু করেছে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ। বিভিন্ন দেশে চিহ্নিত হচ্ছে ভাইরাসটির নতুন নতুন সাব ভ্যারিয়েন্ট। এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশেও করোনার সংক্রমণ বৃদ্ধির আশঙ্কায় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। বুধবার (১১ জুন) দুপুরে অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান সংস্থাটির মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবু জাফর।

তিনি বলেন, “আন্তর্জাতিক ভ্রমণকারীদের মাধ্যমে দেশে সংক্রমণের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। সে কারণে দেশের সকল স্থলবন্দর, নৌবন্দর ও বিমানবন্দরে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। আইএইচআর ডেস্কগুলোকে আরও সক্রিয় করা হয়েছে। পাশাপাশি জনগণকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার অনুরোধ জানানো হচ্ছে।”

সংক্রমণ প্রতিরোধে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ৭টি নির্দেশনা জারি করেছে। নির্দেশনাগুলো হলো:

১. জনসমাগম এড়িয়ে চলুন এবং প্রয়োজন হলে অবশ্যই মাস্ক পরুন।
২. শ্বাসতন্ত্রের রোগ প্রতিরোধে নিয়মিত মাস্ক ব্যবহার করুন।
৩. হাঁচি-কাশির সময় নাক-মুখ ঢেকে রাখুন (কনুই বা টিস্যু ব্যবহার করে)।
৪. ব্যবহৃত টিস্যু ঢাকনাযুক্ত ময়লার ঝুড়িতে ফেলুন।
৫. সাবান ও পানি অথবা হ্যান্ড স্যানিটাইজার দিয়ে কমপক্ষে ২০ সেকেন্ড ধরে হাত ধুয়ে ফেলুন।
৬. অপরিষ্কার হাতে চোখ, নাক বা মুখ স্পর্শ করবেন না।
৭. আক্রান্ত ব্যক্তিদের থেকে অন্তত ৩ ফুট দূরত্ব বজায় রাখুন।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, সংক্রমণ বৃদ্ধির আশঙ্কায় দেশে পুনরায় করোনা শনাক্তে আরটি-পিসিআর ও র‌্যাপিড অ্যান্টিজেন পরীক্ষার ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। সেই সঙ্গে করোনার টিকা, প্রয়োজনীয় ওষুধ, অক্সিজেন, হাই-ফ্লো ক্যানুলা, আইসিইউ ও এইচডিইউ সুবিধা প্রস্তুত রাখতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

স্বাস্থ্যকর্মীদের সুরক্ষায় কেএন-৯৫ মাস্ক, পিপিই, ফেস শিল্ডসহ প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের সরবরাহ নিশ্চিত করার পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থার সঙ্গে সমন্বয়ে এসব প্রস্তুতি চলছে বলে জানায় অধিদপ্তর।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্বাস্থ্যবিধি না মানলে সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে। তাই নতুন করে বড় বিপর্যয় এড়াতে জনসচেতনতা ও প্রতিরোধ ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



তারেক রহমানের দেশে ফিরে আসার সময় হয়ে আসছে :ফখরুল

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান শিগগিরই দেশে ফেরার পথে আছেন বলে জানিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। মঙ্গলবার (১০ জুন) গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি এই তথ্য জানিয়েছেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, “তারেক সাহেব নিশ্চয়ই দেশে ফিরবেন, অবশ্যই দেশে ফিরবেন।” তবে তারেক রহমান কবে দেশে ফিরবেন, তা নিয়ে নির্দিষ্ট কোনো দিনক্ষণ তিনি জানাননি।

এর আগে লন্ডনে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বৈঠকের দিনক্ষণ জানানো হয়েছে। বৈঠকটি দলীয় সংকট নিরসনে ‘টার্নিং পয়েন্ট’ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে বলে মত দিয়েছেন মহাসচিব।

অন্যদিকে, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা আগের তুলনায় উন্নত বলে জানিয়েছেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, “আলহামদুলিল্লাহ, উনি আগের চেয়ে শারীরিকভাবে অনেক ভালো আছেন। ডাক্তাররাও তাই বলছেন। তিনি অনেক ভালো আছেন।”

বিএনপি মহাসচিবের এই ঘোষণা দলের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।




সিঙ্গাপুরের কাছে হার, এশিয়ান কাপে বাংলাদেশের স্বপ্ন ভাঙলো ঢাকাতেই

ঢাকায় ১০ বছর পর ফিরে এসে আবারও বাংলাদেশকে হতাশ করলো সিঙ্গাপুর। ২০১৫ সালের মতো এবারও একই ব্যবধানে (২-১) জয় নিয়ে মাঠ ছেড়েছে পূর্ব এশিয়ার এই দল। মঙ্গলবার জাতীয় স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এএফসি এশিয়ান কাপ বাছাই পর্বের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে হেরে গ্রুপ শীর্ষস্থান হারালো বাংলাদেশ।

প্রথমার্ধে সিঙ্গাপুর এগিয়ে যায় ১-০ গোলে। দ্বিতীয়ার্ধে ব্যবধান বাড়ায় তারা। এরপর ৬৮ মিনিটে রাকিব হোসেনের গোলে ব্যবধান কমালেও শেষ পর্যন্ত ২-১ গোলের পরাজয় নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় হামজা-শামিতদের।ম্যাচ ঘিরে জাতীয় স্টেডিয়ামে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়েছিল। গ্যালারি ছিল কানায় কানায় পূর্ণ। সমর্থকদের উৎসাহে ভরপুর ছিল লাল-সবুজের যোদ্ধারা। কিন্তু ম্যাচের ৯০ মিনিট শেষে হতাশা নিয়েই মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ।

প্রথমার্ধে ৪৫তম মিনিটে ডান দিক থেকে আসা থ্রো থেকে গোল করে সিঙ্গাপুর। বাংলাদেশের গোলরক্ষক মিতুল মারমা বল পাঞ্চ করলেও ঠিকমতো পোস্টে ফিরতে না পারায় বলটি সংইয়ংয়ের পায়ে পড়ে যায় এবং তিনি নিখুঁত প্লেসিংয়ে গোল করেন দ্বিতীয়ার্ধে (৫৮ মিনিটে) ইকশান ফান্দির শটে ব্যবধান ২-০ করে ফেলে সিঙ্গাপুর। মিতুলের ক্লিয়ার করা বল ধরে গোল করেন ফান্দি।

৬৮ মিনিটে হামজা চৌধুরীর বাড়ানো বল থেকে নিচু শটে গোল করেন রাকিব হোসেন। সিঙ্গাপুরের গোলরক্ষকের পায়ের ফাঁক দিয়ে বল জালে চলে যায়। ২-১ ব্যবধানের পর বাংলাদেশের আক্রমণের ধার বাড়লেও আর গোলের দেখা মেলেনি।ম্যাচের শেষ দিকে কর্নার থেকে হেড করেছিলেন শাহরিয়ার ইমন। বল লাগে ক্রসবারে। সেই সঙ্গে শেষ হয় বাংলাদেশের প্রত্যাশার অধ্যায়।

কোচ হ্যাভিয়ের ক্যাবরেরা ম্যাচের আগে আশা করেছিলেন ঘরের মাঠে তিন ম্যাচ থেকে ইতিবাচক ফল নিয়ে গ্রুপে এগিয়ে যেতে। ভারতের সঙ্গে শিলংয়ে ড্র করার পর এশিয়ান কাপে খেলার ৪৫ বছরের স্বপ্নটা উঁকি দিচ্ছিল। কিন্তু সিঙ্গাপুরের কাছে হারে তা অনেকটাই নিভে গেল।

মিতুল মারমা (গোলরক্ষক), তপু বর্মন, তারিক কাজী, সাদ উদ্দিন, শাকিল আহাদ তপু (আল-আমিন), হামজা চৌধুরী, শামিত সোম, কাজেম শাহ (শাহরিয়ার ইমন), মো. রিদয় (আল-আমিন), ফাহামিদুল ইসলাম (ফাহিম), রাকিব হোসেন। গ্রুপের অন্য ম্যাচে হংকংয়ের কাছে ভারত হেরে যাওয়ায় সিঙ্গাপুর উঠে গেছে শীর্ষে। এবং বাংলাদেশ পিছিয়ে পড়েছে।

এই হারের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের জন্য এশিয়ান কাপে খেলার আশা এখন কঠিন সমীকরণে বন্দি। আগামী ম্যাচে ঘুরে দাঁড়ানোই হতে পারে একমাত্র ভরসা।




নির্বিঘ্ন চিকিৎসাসেবা বন্ধ, চক্ষুবিজ্ঞান হাসপাতালে চলছে শুধু জরুরি কার্যক্রম

দুই সপ্তাহ ধরে বন্ধ রয়েছে দেশের একমাত্র সরকারি জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের স্বাভাবিক চিকিৎসাসেবা। ২৮ মে থেকে প্রতিষ্ঠানটির সকল বিভাগে চিকিৎসা কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে, যদিও এক সপ্তাহ পর সীমিত পরিসরে চালু করা হয়েছে জরুরি বিভাগ।

আজ মঙ্গলবার (১০ জুন) পর্যন্ত শুধুমাত্র জরুরি বিভাগ চালু থাকলেও অন্যান্য বিভাগগুলো এখনও বন্ধ রয়েছে। হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. জানে আলম জানিয়েছেন, “আজ ৬৬ জন রোগীকে জরুরি সেবা দেওয়া হয়েছে, এর মধ্যে ৮টি জরুরি অস্ত্রোপচারও করা হয়েছে।”

হাসপাতালের অচলাবস্থার মূল কারণ হিসেবে উঠে এসেছে জুলাই আন্দোলনে আহতদের অবস্থান। জানা গেছে, বর্তমানে ওই আন্দোলনে আহত তিনজন রোগী হাসপাতালের চতুর্থ তলায় অবস্থান করছেন। তারা ভেতর থেকে তালা লাগিয়ে রেখেছেন, ফলে চিকিৎসা কার্যক্রমে ব্যাঘাত ঘটছে। কেউ তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তারা কথা বলতে চাইছেন না।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, জুলাই আহতদের আগমন-বহির্গমন সম্পর্কে তাদের কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য দেওয়া হয়নি। তারা কারা আসছেন বা যাচ্ছেন, সেই তথ্যও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে নেই।

এদিকে এই পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে স্বাস্থ্য প্রশাসনের ওপর চাপ বাড়ছে। হাসপাতালটি কার্যত রোগীশূন্য অবস্থায় থাকলেও জরুরি সেবার জন্য সীমিত পরিসরে চালু রাখা হয়েছে, যাতে গুরুতর রোগীরা অন্তত প্রাথমিক সেবা পেতে পারেন।

পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপের দাবি জানাচ্ছেন চিকিৎসক ও সাধারণ রোগীরা।




লন্ডনে  বৈঠকে বসছেন ড. ইউনূস ও তারেক রহমান

আগামী ১৩ জুন লন্ডনে বৈঠকে বসছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বৈঠকটি লন্ডনের স্থানীয় সময় সকাল ৯টায় শুরু হয়ে বেলা ১১টা পর্যন্ত চলবে।

মঙ্গলবার (১০ জুন) রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ তথ্য জানান। তিনি জানান, লন্ডনে ড. ইউনূস যে হোটেলে অবস্থান করবেন, সেখানেই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হবে।

জানা গেছে, বৈঠকে আগামী জাতীয় নির্বাচন, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট এবং কৌশলগত নানা বিষয়ে আলোচনা হতে পারে। নির্বাচনের সময়সূচি নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকার ও বিএনপির অবস্থান ইতোমধ্যেই পরস্পরবিরোধী হয়ে উঠেছে। অন্তর্বর্তী সরকার প্রথমে ২০২৬ সালের জুনের মধ্যে নির্বাচনের কথা জানালেও, সম্প্রতি ঈদুল আজহা উপলক্ষে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা নির্বাচন অনুষ্ঠানের সময় এগিয়ে এনে ২০২৬ সালের এপ্রিলের প্রথমার্ধে নির্বাচনের ঘোষণা দেন।

অন্যদিকে বিএনপি বরাবরই ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের মধ্যেই জাতীয় নির্বাচন দাবি করে আসছে। ফলে আসন্ন বৈঠকটি দুই পক্ষের মতপার্থক্য নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

বৈঠক ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে জল্পনা-কল্পনা তৈরি হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, আলোচনায় অংশ নিতে লন্ডনে অবস্থানরত বিএনপির শীর্ষ নেতাদেরও প্রস্তুত রাখা হয়েছে।




সাদাপাথরে ঈদের তৃতীয় দিনেও পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড়

সিলেটের কোম্পানীগঞ্জে অবস্থিত জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র সাদাপাথরে ঈদের তৃতীয় দিনেও ছিল পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড়। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা হাজারো মানুষ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর এই স্থানে সময় কাটিয়েছেন পরিবার-পরিজন, বন্ধু-বান্ধব কিংবা প্রিয়জনদের সঙ্গে।

সোমবার (৯ জুন) সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ধলাই নদীর পাড়ে সাদাপাথরের সাদা পাথর, স্বচ্ছ জলরাশি এবং সবুজ পাহাড়ঘেরা দৃশ্য উপভোগ করতে দেখা যায় পর্যটকদের। ঈদের ছুটির আনন্দ প্রকৃতির সান্নিধ্যে খুঁজে পেতে এখানে ছুটে এসেছেন অনেকেই।

নোয়াখালী থেকে আসা এক পর্যটক বলেন, “সাদাপাথরের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য মনকে প্রশান্তি দেয়। এখানে এসে প্রকৃতির এত কাছাকাছি থাকতে পেরে ঈদের আনন্দটা আরও গভীরভাবে অনুভব করেছি। সিলেট সত্যিই অসাধারণ।”

আরেক পর্যটক  বলেন, “ছবিতে যেমনটা দেখেছি, বাস্তবে তার চেয়েও অনেক বেশি সুন্দর সাদাপাথর। পাহাড়, নদী আর পাথরের সমন্বয়ে তৈরি হয়েছে অনন্য এক প্রাকৃতিক দৃশ্যপট।”

স্থানীয়রাও সাদাপাথরের পরিবেশে আনন্দ খুঁজে পান। সিলেট শহর থেকে আসা  এক পর্যটক  জানান, “প্রায়ই আসা হয় এখানে। তবে ঈদের সময় সাদাপাথরে আলাদা একটা আমেজ থাকে। বন্ধুদের সঙ্গে দারুণ সময় কাটছে। নিরাপত্তার ব্যবস্থাও ভালো।”

পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ট্যুরিস্ট পুলিশ রয়েছে সরব ভূমিকায়। কোম্পানীগঞ্জে দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্যুরিস্ট পুলিশের  এক কর্মকর্তা বলেন, “ঈদের তৃতীয় দিনেও সাদাপাথরে পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড় ছিল। ট্যুরিস্ট পুলিশের একাধিক টিম সার্বক্ষণিকভাবে মাঠে কাজ করছে। আমরা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছি।”

সাদাপাথরের ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তা প্রসঙ্গে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)বলেন, “সাদাপাথর এখন দেশের অন্যতম পর্যটন গন্তব্য। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পর্যটকদের নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনায় নিবিড় তদারকি রাখা হচ্ছে। একটি পর্যটনবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে আমরা সচেষ্ট এবং পর্যটকদের সহযোগিতা আমাদের অনুপ্রাণিত করছে।”

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে মোড়ানো সাদাপাথর এখন শুধু সিলেট নয়, দেশের পর্যটন মানচিত্রে এক আকর্ষণীয় স্থান হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেয়েছে।




কলাপাড়ায় অবৈধ করাতকলের দাপট

পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলায় বৈধতার চেয়ে অবৈধ করাতকলের সংখ্যাই বেশি। সংরক্ষিত বনাঞ্চল, নদীর তীর, এমনকি জনবসতিপূর্ণ আবাসিক এলাকাগুলোতেও গড়ে তোলা হয়েছে এসব করাতকল। দিনের বেলায় প্রকাশ্যে আর রাতের অন্ধকারে গোপনে চলছে ম্যানগ্রোভ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ক গাছের নির্বিচার চেরাই। বন বিভাগের নিয়ম, পরিবেশ আইনের ধারা, সবই যেন কেবল কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ।

উপজেলা জুড়ে থাকা ৬৯টি করাতকলের মধ্যে ৩৫টি অবৈধ। সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি মহিপুর রেঞ্জে—সেখানে ৩২টি করাতকলের ২৪টি চলছে কোনোরকম বৈধ কাগজপত্র ছাড়া। অথচ এই করাতকলগুলো খাজুরা, কুয়াকাটা, গঙ্গামতি ও ধুলাসারের সংরক্ষিত বনাঞ্চলের পাশেই স্থাপন করা হয়েছে। নদীর তীর এবং বেড়িবাঁধের বাইরেও গড়ে তোলা হয়েছে করাতকল। জনসাধারণের চলাচলের প্রধান কুয়াকাটা মহাসড়কের পাশে, এমনকি কুয়াকাটা পৌর এলাকার মসজিদের পাশেও বসানো হয়েছে করাতকল।

স্থানীয়রা বলছেন, এক শ্রেণির প্রভাবশালীরা পরিবেশ বিধিনিষেধের তোয়াক্কা না করে যত্রতত্র করাতকল বসিয়ে রেখেছেন। কাঠ চেরাইয়ের জন্য গড়ে উঠেছে শক্তিশালী সিন্ডিকেট। ফলে বন ধ্বংসের গতি দিনকে দিন বেড়েই চলেছে। পরিবেশ কর্মী কামাল হাসান রনি জানান, এসব করাতকলের কারণে পুরো অঞ্চলের বনাঞ্চল চরম ঝুঁকিতে পড়েছে। খাপড়াভাঙ্গা নদীতীর, যেখানে রয়েছে ম্যানগ্রোভ গাছের বিস্তৃত বন, সেখানে দখল করে করাতকল বসানো হয়েছে।

২০১২ সালের ২৭ মে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, রক্ষিত, অর্পিত বা সংরক্ষিত বনভূমি থেকে ১০ কিলোমিটারের মধ্যে করাতকল স্থাপন নিষিদ্ধ (পৌর এলাকা ছাড়া)। এছাড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, মসজিদ, সরকারি অফিস এবং জনস্বাস্থ্য বা পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর স্থানের ২০০ মিটারের মধ্যে করাতকল বসানো যাবে না। এমনকি দিনে নির্ধারিত সময়ের (সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা) বাইরে করাতকল চালানোও নিষিদ্ধ।

এইসব নিয়ম-কানুন কোথাও মানা হচ্ছে না। কলাপাড়া ক্যাম্পের আওতায় থাকা ৩৭টি করাতকলের ১১টিই অবৈধভাবে পরিচালিত হচ্ছে। লালুয়ার বানাতি বাজারে অবৈধ করাতকল বন্ধে স্থানীয়রা লিখিত অভিযোগ করলেও কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যায়নি।

পরিবেশবাদী সংগঠন ‘আমরা কলাপাড়াবাসী’-এর সংগঠক নজরুল ইসলাম জানান, উপকূলীয় কলাপাড়ার পরিবেশ এমনিতেই দুর্যোগপ্রবণ। এই অঞ্চলের বনভূমিই মানুষকে প্রাথমিকভাবে সুরক্ষা দিয়ে আসছে। অথচ সেই বনই আজ অবৈধ করাতকলের কারণে ধ্বংসের পথে। তিনি বনবিভাগের কঠোর পদক্ষেপ দাবি করেন।

এ ব্যাপারে মহিপুর রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান জানান, তিনি সদ্য যোগ দিয়েছেন এবং শিগগিরই সরেজমিন তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন। কলাপাড়া বন কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম জানান, করাতকলগুলোর লাইসেন্স নবায়ন এবং বৈধ করণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। ইতিমধ্যে তিনটি করাতকলের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে বলেও তিনি জানান।

স্থানীয়দের মতে, দ্রুত অভিযান চালিয়ে অবৈধ করাতকল বন্ধ করা না গেলে কলাপাড়ার বনভূমি ও পরিবেশের ভারসাম্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়বে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



মহিপুরে ৩টি অবৈধ ট্রলিং বোট জব্দ

পটুয়াখালীর মহিপুরে কোস্ট গার্ডের বিশেষ অভিযানে জব্দ করা হয়েছে ৩টি অবৈধ ট্রলিং বোট। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত এ অভিযানে কাগজপত্র ও নিরাপত্তা সরঞ্জামবিহীন বোটগুলো আটক করা হয় বলে নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার হারুন-অর-রশীদ।

মঙ্গলবার দুপুরে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে তিনি জানান, সোমবার সকাল ১১টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড স্টেশন নিজামপুরের একটি টিম মহিপুর থানার অলীপুর এলাকার শীপবাড়ীয়া ঘাটসংলগ্ন খাপড়াভাঙ্গা নদীতে এই অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে অংশ নেওয়া টিমটি নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে ঘুরে ঘুরে বোটগুলো পরীক্ষা করে।

চলমান অভিযানে দেখা যায়, ‘এফ বি ফেরদৌস’, ‘এফ বি সাইম’ এবং ‘এফ বি বিসমিল্লাহ’ নামের তিনটি ট্রলিং বোটে কোনো বৈধ কাগজপত্র ও বাধ্যতামূলক নিরাপত্তা সরঞ্জাম, যেমন লাইফ জ্যাকেট বা লাইফ বয়া, নেই। এছাড়াও এসব বোটে ছিল না কোনো বৈধ ফিশিং লাইসেন্স বা চলাচলের অনুমতিপত্র।

এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ট্রলিং বোটগুলোকে মহিপুর থানায় হস্তান্তর করা হয়। পরবর্তীতে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের লেফটেন্যান্ট কমান্ডার হারুন-অর-রশীদ আরও বলেন, উপকূলীয় অঞ্চলে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ও চোরাচালান প্রতিরোধে কোস্ট গার্ড নিয়মিত টহল ও নজরদারি চালিয়ে যাচ্ছে। দেশব্যাপী আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় তারা সর্বদা তৎপর এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

স্থানীয়দের অনেকে এই অভিযানে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন এবং কোস্ট গার্ডের ভূমিকাকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাদের মতে, এ ধরনের নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকলে উপকূলীয় অঞ্চলে অবৈধ কার্যক্রম হ্রাস পাবে এবং জেলেদের নিরাপত্তাও নিশ্চিত হবে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



দশমিনায় স্ত্রীর সঙ্গে ঝগড়ার পর যুবকের আত্মহত্যা

পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলায় গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন মো. সোহাগ মৃধা (৩০) নামে এক যুবক। সোমবার (৯ জুন) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে দশমিনা সদর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের নিজ বাড়িতে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। মৃত সোহাগ ওই এলাকার সেলিম মৃধার ছোট ছেলে।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার সকালে সোহাগ মৃধা তার স্ত্রী ফারজানা আক্তারের সঙ্গে পারিবারিক বিষয় নিয়ে কথা কাটাকাটিতে জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে উত্তেজিত হয়ে স্ত্রীকে ঘর থেকে বের করে দেন এবং ঘরের আসবাবপত্র ভাঙচুর করেন। পরে তিনি একাকী ঘরের ভেতর মেঝের আড়ার সঙ্গে প্লাস্টিকের দড়ি ব্যবহার করে আত্মহত্যা করেন।

দীর্ঘক্ষণ ঘরের ভেতর কোনো সাড়া শব্দ না পেয়ে তার বড় ভাই ও বাবা-মা সন্দেহে দরজা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করেন। তখন তারা সোহাগকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। সঙ্গে সঙ্গে উদ্ধার করে দশমিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে দশমিনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল আলিম জানান, মৃত্যুর খবর পেয়ে হাসপাতাল থেকে মৃতদেহ উদ্ধার করে থানায় নেওয়া হয়েছে। পরবর্তীতে লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য পটুয়াখালী মর্গে পাঠানো হয়েছে।

স্থানীয়দের মধ্যে কেউ কেউ জানিয়েছেন, পারিবারিক বিরোধ ও মানসিক অস্থিরতা থেকেই এমন ঘটনা ঘটতে পারে। তবে পুরো বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। অনেকেই বলছেন, পারিবারিক সমস্যা বা মানসিক চাপ থাকলে তা পরিবার ও সমাজের সঙ্গে শেয়ার করা উচিত, যাতে এমন মর্মান্তিক ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



পটুয়াখালীর বাউফলে বিএনপি নেতাদের রক্তাক্ত করে পালালো হামলাকারীরা

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার কালাইয়া ইউনিয়নে রক্তক্ষয়ী হামলার শিকার হয়েছেন স্বেচ্ছাসেবক দল এবং জিয়া সৈনিক দলের গুরুত্বপূর্ণ দুই নেতা। রোববার (৮ জুন) রাত সাড়ে ৯টার দিকে ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্যকর্পূরকাঠী গ্রামের উত্তরকান্দা এলাকায় এই বর্বর হামলার ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন কালাইয়া ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক সাইফুল আলম রেজভি (৩০) ও জিয়া সৈনিক দলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক আল আমিন ওরফে সবুজ (৩৫)। তাদেরকে প্রথমে বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। জানা যায়, বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-দপ্তর সম্পাদক মুনির হোসেনের সঙ্গে দলীয় কার্যক্রম শেষে রাতে মোটরসাইকেলে বাড়ি ফিরছিলেন আহতরা। পথে উত্তরকান্দা এলাকায় আগে থেকে ওঁৎ পেতে থাকা দুর্বৃত্তরা তাদের গতিরোধ করে অতর্কিত হামলা চালায়। দেশি অস্ত্র ব্যবহার করে চালানো এই হামলায় তারা রক্তাক্ত হন। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। আহতদের পরিবার ও ঘনিষ্ঠদের অভিযোগ, এই হামলার নেতৃত্ব দেন হালিম চৌধুরী নামে একজন প্রভাবশালী ব্যক্তি, যিনি নিজেকে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য এ কে এম ফারুক আহম্মেদ তালুকদারের অনুসারী হিসেবে পরিচয় দেন। তবে পাল্টা বক্তব্যে হালিম চৌধুরী দাবি করেছেন, তার ওপরই হামলার চেষ্টা করা হয়েছে এবং তিনি পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে পরিস্থিতি সামাল দিয়েছেন। এ প্রসঙ্গে বাউফল থানার ওসি মো. আকতারুজ্জামান সরকার জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং লিখিত অভিযোগ পেলে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পুরো ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় এখন চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং সাধারণ মানুষ আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। দলের নেতাকর্মীদের দাবি, এই হামলা পরিকল্পিত এবং রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকে করা হয়েছে। আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনার পাশাপাশি, দোষীদের বিচারের আওতায় আনার জন্য জোর দাবি জানিয়েছেন তারা।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম