লন্ডনে  বৈঠকে বসছেন ড. ইউনূস ও তারেক রহমান

আগামী ১৩ জুন লন্ডনে বৈঠকে বসছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বৈঠকটি লন্ডনের স্থানীয় সময় সকাল ৯টায় শুরু হয়ে বেলা ১১টা পর্যন্ত চলবে।

মঙ্গলবার (১০ জুন) রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ তথ্য জানান। তিনি জানান, লন্ডনে ড. ইউনূস যে হোটেলে অবস্থান করবেন, সেখানেই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হবে।

জানা গেছে, বৈঠকে আগামী জাতীয় নির্বাচন, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট এবং কৌশলগত নানা বিষয়ে আলোচনা হতে পারে। নির্বাচনের সময়সূচি নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকার ও বিএনপির অবস্থান ইতোমধ্যেই পরস্পরবিরোধী হয়ে উঠেছে। অন্তর্বর্তী সরকার প্রথমে ২০২৬ সালের জুনের মধ্যে নির্বাচনের কথা জানালেও, সম্প্রতি ঈদুল আজহা উপলক্ষে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা নির্বাচন অনুষ্ঠানের সময় এগিয়ে এনে ২০২৬ সালের এপ্রিলের প্রথমার্ধে নির্বাচনের ঘোষণা দেন।

অন্যদিকে বিএনপি বরাবরই ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের মধ্যেই জাতীয় নির্বাচন দাবি করে আসছে। ফলে আসন্ন বৈঠকটি দুই পক্ষের মতপার্থক্য নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

বৈঠক ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে জল্পনা-কল্পনা তৈরি হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, আলোচনায় অংশ নিতে লন্ডনে অবস্থানরত বিএনপির শীর্ষ নেতাদেরও প্রস্তুত রাখা হয়েছে।




সাদাপাথরে ঈদের তৃতীয় দিনেও পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড়

সিলেটের কোম্পানীগঞ্জে অবস্থিত জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র সাদাপাথরে ঈদের তৃতীয় দিনেও ছিল পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড়। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা হাজারো মানুষ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর এই স্থানে সময় কাটিয়েছেন পরিবার-পরিজন, বন্ধু-বান্ধব কিংবা প্রিয়জনদের সঙ্গে।

সোমবার (৯ জুন) সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ধলাই নদীর পাড়ে সাদাপাথরের সাদা পাথর, স্বচ্ছ জলরাশি এবং সবুজ পাহাড়ঘেরা দৃশ্য উপভোগ করতে দেখা যায় পর্যটকদের। ঈদের ছুটির আনন্দ প্রকৃতির সান্নিধ্যে খুঁজে পেতে এখানে ছুটে এসেছেন অনেকেই।

নোয়াখালী থেকে আসা এক পর্যটক বলেন, “সাদাপাথরের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য মনকে প্রশান্তি দেয়। এখানে এসে প্রকৃতির এত কাছাকাছি থাকতে পেরে ঈদের আনন্দটা আরও গভীরভাবে অনুভব করেছি। সিলেট সত্যিই অসাধারণ।”

আরেক পর্যটক  বলেন, “ছবিতে যেমনটা দেখেছি, বাস্তবে তার চেয়েও অনেক বেশি সুন্দর সাদাপাথর। পাহাড়, নদী আর পাথরের সমন্বয়ে তৈরি হয়েছে অনন্য এক প্রাকৃতিক দৃশ্যপট।”

স্থানীয়রাও সাদাপাথরের পরিবেশে আনন্দ খুঁজে পান। সিলেট শহর থেকে আসা  এক পর্যটক  জানান, “প্রায়ই আসা হয় এখানে। তবে ঈদের সময় সাদাপাথরে আলাদা একটা আমেজ থাকে। বন্ধুদের সঙ্গে দারুণ সময় কাটছে। নিরাপত্তার ব্যবস্থাও ভালো।”

পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ট্যুরিস্ট পুলিশ রয়েছে সরব ভূমিকায়। কোম্পানীগঞ্জে দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্যুরিস্ট পুলিশের  এক কর্মকর্তা বলেন, “ঈদের তৃতীয় দিনেও সাদাপাথরে পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড় ছিল। ট্যুরিস্ট পুলিশের একাধিক টিম সার্বক্ষণিকভাবে মাঠে কাজ করছে। আমরা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছি।”

সাদাপাথরের ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তা প্রসঙ্গে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)বলেন, “সাদাপাথর এখন দেশের অন্যতম পর্যটন গন্তব্য। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পর্যটকদের নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনায় নিবিড় তদারকি রাখা হচ্ছে। একটি পর্যটনবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে আমরা সচেষ্ট এবং পর্যটকদের সহযোগিতা আমাদের অনুপ্রাণিত করছে।”

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে মোড়ানো সাদাপাথর এখন শুধু সিলেট নয়, দেশের পর্যটন মানচিত্রে এক আকর্ষণীয় স্থান হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেয়েছে।




কলাপাড়ায় অবৈধ করাতকলের দাপট

পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলায় বৈধতার চেয়ে অবৈধ করাতকলের সংখ্যাই বেশি। সংরক্ষিত বনাঞ্চল, নদীর তীর, এমনকি জনবসতিপূর্ণ আবাসিক এলাকাগুলোতেও গড়ে তোলা হয়েছে এসব করাতকল। দিনের বেলায় প্রকাশ্যে আর রাতের অন্ধকারে গোপনে চলছে ম্যানগ্রোভ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ক গাছের নির্বিচার চেরাই। বন বিভাগের নিয়ম, পরিবেশ আইনের ধারা, সবই যেন কেবল কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ।

উপজেলা জুড়ে থাকা ৬৯টি করাতকলের মধ্যে ৩৫টি অবৈধ। সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি মহিপুর রেঞ্জে—সেখানে ৩২টি করাতকলের ২৪টি চলছে কোনোরকম বৈধ কাগজপত্র ছাড়া। অথচ এই করাতকলগুলো খাজুরা, কুয়াকাটা, গঙ্গামতি ও ধুলাসারের সংরক্ষিত বনাঞ্চলের পাশেই স্থাপন করা হয়েছে। নদীর তীর এবং বেড়িবাঁধের বাইরেও গড়ে তোলা হয়েছে করাতকল। জনসাধারণের চলাচলের প্রধান কুয়াকাটা মহাসড়কের পাশে, এমনকি কুয়াকাটা পৌর এলাকার মসজিদের পাশেও বসানো হয়েছে করাতকল।

স্থানীয়রা বলছেন, এক শ্রেণির প্রভাবশালীরা পরিবেশ বিধিনিষেধের তোয়াক্কা না করে যত্রতত্র করাতকল বসিয়ে রেখেছেন। কাঠ চেরাইয়ের জন্য গড়ে উঠেছে শক্তিশালী সিন্ডিকেট। ফলে বন ধ্বংসের গতি দিনকে দিন বেড়েই চলেছে। পরিবেশ কর্মী কামাল হাসান রনি জানান, এসব করাতকলের কারণে পুরো অঞ্চলের বনাঞ্চল চরম ঝুঁকিতে পড়েছে। খাপড়াভাঙ্গা নদীতীর, যেখানে রয়েছে ম্যানগ্রোভ গাছের বিস্তৃত বন, সেখানে দখল করে করাতকল বসানো হয়েছে।

২০১২ সালের ২৭ মে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, রক্ষিত, অর্পিত বা সংরক্ষিত বনভূমি থেকে ১০ কিলোমিটারের মধ্যে করাতকল স্থাপন নিষিদ্ধ (পৌর এলাকা ছাড়া)। এছাড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, মসজিদ, সরকারি অফিস এবং জনস্বাস্থ্য বা পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর স্থানের ২০০ মিটারের মধ্যে করাতকল বসানো যাবে না। এমনকি দিনে নির্ধারিত সময়ের (সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা) বাইরে করাতকল চালানোও নিষিদ্ধ।

এইসব নিয়ম-কানুন কোথাও মানা হচ্ছে না। কলাপাড়া ক্যাম্পের আওতায় থাকা ৩৭টি করাতকলের ১১টিই অবৈধভাবে পরিচালিত হচ্ছে। লালুয়ার বানাতি বাজারে অবৈধ করাতকল বন্ধে স্থানীয়রা লিখিত অভিযোগ করলেও কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যায়নি।

পরিবেশবাদী সংগঠন ‘আমরা কলাপাড়াবাসী’-এর সংগঠক নজরুল ইসলাম জানান, উপকূলীয় কলাপাড়ার পরিবেশ এমনিতেই দুর্যোগপ্রবণ। এই অঞ্চলের বনভূমিই মানুষকে প্রাথমিকভাবে সুরক্ষা দিয়ে আসছে। অথচ সেই বনই আজ অবৈধ করাতকলের কারণে ধ্বংসের পথে। তিনি বনবিভাগের কঠোর পদক্ষেপ দাবি করেন।

এ ব্যাপারে মহিপুর রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান জানান, তিনি সদ্য যোগ দিয়েছেন এবং শিগগিরই সরেজমিন তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন। কলাপাড়া বন কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম জানান, করাতকলগুলোর লাইসেন্স নবায়ন এবং বৈধ করণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। ইতিমধ্যে তিনটি করাতকলের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে বলেও তিনি জানান।

স্থানীয়দের মতে, দ্রুত অভিযান চালিয়ে অবৈধ করাতকল বন্ধ করা না গেলে কলাপাড়ার বনভূমি ও পরিবেশের ভারসাম্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়বে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



মহিপুরে ৩টি অবৈধ ট্রলিং বোট জব্দ

পটুয়াখালীর মহিপুরে কোস্ট গার্ডের বিশেষ অভিযানে জব্দ করা হয়েছে ৩টি অবৈধ ট্রলিং বোট। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত এ অভিযানে কাগজপত্র ও নিরাপত্তা সরঞ্জামবিহীন বোটগুলো আটক করা হয় বলে নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার হারুন-অর-রশীদ।

মঙ্গলবার দুপুরে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে তিনি জানান, সোমবার সকাল ১১টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড স্টেশন নিজামপুরের একটি টিম মহিপুর থানার অলীপুর এলাকার শীপবাড়ীয়া ঘাটসংলগ্ন খাপড়াভাঙ্গা নদীতে এই অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে অংশ নেওয়া টিমটি নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে ঘুরে ঘুরে বোটগুলো পরীক্ষা করে।

চলমান অভিযানে দেখা যায়, ‘এফ বি ফেরদৌস’, ‘এফ বি সাইম’ এবং ‘এফ বি বিসমিল্লাহ’ নামের তিনটি ট্রলিং বোটে কোনো বৈধ কাগজপত্র ও বাধ্যতামূলক নিরাপত্তা সরঞ্জাম, যেমন লাইফ জ্যাকেট বা লাইফ বয়া, নেই। এছাড়াও এসব বোটে ছিল না কোনো বৈধ ফিশিং লাইসেন্স বা চলাচলের অনুমতিপত্র।

এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ট্রলিং বোটগুলোকে মহিপুর থানায় হস্তান্তর করা হয়। পরবর্তীতে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের লেফটেন্যান্ট কমান্ডার হারুন-অর-রশীদ আরও বলেন, উপকূলীয় অঞ্চলে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ও চোরাচালান প্রতিরোধে কোস্ট গার্ড নিয়মিত টহল ও নজরদারি চালিয়ে যাচ্ছে। দেশব্যাপী আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় তারা সর্বদা তৎপর এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

স্থানীয়দের অনেকে এই অভিযানে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন এবং কোস্ট গার্ডের ভূমিকাকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাদের মতে, এ ধরনের নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকলে উপকূলীয় অঞ্চলে অবৈধ কার্যক্রম হ্রাস পাবে এবং জেলেদের নিরাপত্তাও নিশ্চিত হবে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



দশমিনায় স্ত্রীর সঙ্গে ঝগড়ার পর যুবকের আত্মহত্যা

পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলায় গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন মো. সোহাগ মৃধা (৩০) নামে এক যুবক। সোমবার (৯ জুন) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে দশমিনা সদর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের নিজ বাড়িতে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। মৃত সোহাগ ওই এলাকার সেলিম মৃধার ছোট ছেলে।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার সকালে সোহাগ মৃধা তার স্ত্রী ফারজানা আক্তারের সঙ্গে পারিবারিক বিষয় নিয়ে কথা কাটাকাটিতে জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে উত্তেজিত হয়ে স্ত্রীকে ঘর থেকে বের করে দেন এবং ঘরের আসবাবপত্র ভাঙচুর করেন। পরে তিনি একাকী ঘরের ভেতর মেঝের আড়ার সঙ্গে প্লাস্টিকের দড়ি ব্যবহার করে আত্মহত্যা করেন।

দীর্ঘক্ষণ ঘরের ভেতর কোনো সাড়া শব্দ না পেয়ে তার বড় ভাই ও বাবা-মা সন্দেহে দরজা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করেন। তখন তারা সোহাগকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। সঙ্গে সঙ্গে উদ্ধার করে দশমিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে দশমিনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল আলিম জানান, মৃত্যুর খবর পেয়ে হাসপাতাল থেকে মৃতদেহ উদ্ধার করে থানায় নেওয়া হয়েছে। পরবর্তীতে লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য পটুয়াখালী মর্গে পাঠানো হয়েছে।

স্থানীয়দের মধ্যে কেউ কেউ জানিয়েছেন, পারিবারিক বিরোধ ও মানসিক অস্থিরতা থেকেই এমন ঘটনা ঘটতে পারে। তবে পুরো বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। অনেকেই বলছেন, পারিবারিক সমস্যা বা মানসিক চাপ থাকলে তা পরিবার ও সমাজের সঙ্গে শেয়ার করা উচিত, যাতে এমন মর্মান্তিক ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



পটুয়াখালীর বাউফলে বিএনপি নেতাদের রক্তাক্ত করে পালালো হামলাকারীরা

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার কালাইয়া ইউনিয়নে রক্তক্ষয়ী হামলার শিকার হয়েছেন স্বেচ্ছাসেবক দল এবং জিয়া সৈনিক দলের গুরুত্বপূর্ণ দুই নেতা। রোববার (৮ জুন) রাত সাড়ে ৯টার দিকে ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্যকর্পূরকাঠী গ্রামের উত্তরকান্দা এলাকায় এই বর্বর হামলার ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন কালাইয়া ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক সাইফুল আলম রেজভি (৩০) ও জিয়া সৈনিক দলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক আল আমিন ওরফে সবুজ (৩৫)। তাদেরকে প্রথমে বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। জানা যায়, বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-দপ্তর সম্পাদক মুনির হোসেনের সঙ্গে দলীয় কার্যক্রম শেষে রাতে মোটরসাইকেলে বাড়ি ফিরছিলেন আহতরা। পথে উত্তরকান্দা এলাকায় আগে থেকে ওঁৎ পেতে থাকা দুর্বৃত্তরা তাদের গতিরোধ করে অতর্কিত হামলা চালায়। দেশি অস্ত্র ব্যবহার করে চালানো এই হামলায় তারা রক্তাক্ত হন। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। আহতদের পরিবার ও ঘনিষ্ঠদের অভিযোগ, এই হামলার নেতৃত্ব দেন হালিম চৌধুরী নামে একজন প্রভাবশালী ব্যক্তি, যিনি নিজেকে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য এ কে এম ফারুক আহম্মেদ তালুকদারের অনুসারী হিসেবে পরিচয় দেন। তবে পাল্টা বক্তব্যে হালিম চৌধুরী দাবি করেছেন, তার ওপরই হামলার চেষ্টা করা হয়েছে এবং তিনি পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে পরিস্থিতি সামাল দিয়েছেন। এ প্রসঙ্গে বাউফল থানার ওসি মো. আকতারুজ্জামান সরকার জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং লিখিত অভিযোগ পেলে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পুরো ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় এখন চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং সাধারণ মানুষ আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। দলের নেতাকর্মীদের দাবি, এই হামলা পরিকল্পিত এবং রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকে করা হয়েছে। আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনার পাশাপাশি, দোষীদের বিচারের আওতায় আনার জন্য জোর দাবি জানিয়েছেন তারা।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



সহিংসতার আতঙ্কে উত্তপ্ত মণিপুর, চলছে কারফিউ ও ইন্টারনেট বন্ধ

জাতিগত সহিংসতায় বিপর্যস্ত ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য মণিপুর নতুন করে আরও বড় ধরনের দাঙ্গার আশঙ্কায় রয়েছে। হিন্দু মেইতেই ও খ্রিস্টান কুকি জনগোষ্ঠীর মধ্যে উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে রাজ্যজুড়ে টানটান পরিস্থিতি বিরাজ করছে। এ অবস্থায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে রোববার রাজ্যপাল অজয় কুমার ভাল্লা রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের নিয়ে জরুরি বৈঠক করেন।

ইতিমধ্যে রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় কারফিউ জারি রয়েছে। কিন্তু তাতেও অস্থিরতা কমেনি। শনিবার চরমপন্থি গোষ্ঠী আরামবাই তেংগোল (এটি)-এর কয়েক সদস্যকে গ্রেপ্তারের জেরে রাজ্যের বিভিন্ন অংশে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। গ্রেপ্তারকৃতদের মুক্তির দাবিতে উগ্রবাদীরা পুলিশের ওপর হামলা চালায় এবং জনতা রাস্তায় নেমে বিক্ষোভে ফেটে পড়ে।

পরে রাজ্যপাল বিজেপি, এনপিপি ও কংগ্রেসের ২৫ জন বিধায়কের একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। প্রতিনিধিরা রাজ্যের সংকটাপন্ন পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে দ্রুত সমাধানের দাবি জানান। রাজ্যপাল আশ্বস্ত করেন যে, স্বাভাবিকতা ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে রাজ্যের বিষ্ণুপুর জেলায় অনির্দিষ্টকালের জন্য কারফিউ জারি করা হয়েছে। এছাড়া ইম্ফাল পূর্ব, ইম্ফাল পশ্চিম, কাকচিং ও থৌবাল জেলায় চার বা ততোধিক ব্যক্তি একত্রে সমাবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

সরকারি নির্দেশে এসব এলাকায় পাঁচ দিনের জন্য ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখা হয়েছে। পুলিশের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, শনিবার রাত ৯টা ৪০ মিনিটে এনআইএ ও মণিপুর পুলিশের যৌথ অভিযানে ‘এটি’-র কথিত সেনাপ্রধান কানন মেইতেই-কে গ্রেপ্তার করা হয়। এর পরপরই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ইম্ফাল পশ্চিম জেলার কোয়াকিথেল এলাকায় শত শত মানুষ পুলিশের গাড়িবহর থামিয়ে তাকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। পুলিশ তখন বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে গুলি ছোড়ে।

২০২৩ সালের ৩ মে রাজ্যে জাতিগত সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ার পর আরামবাই তেংগোল (এটি) গোষ্ঠী সক্রিয় হয়ে ওঠে। সশস্ত্র এই মেইতেই গোষ্ঠী কুকি সম্প্রদায়ের জনগণের ওপর একাধিক হামলা ও নির্যাতনের ঘটনায় জড়িত ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। তৎকালীন সময়ে ভারতীয় প্রশাসনের ‘পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ’ নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বারবার সহিংসতার পুনরাবৃত্তি রোধে এখন প্রয়োজন রাজনৈতিক সংলাপ, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং নিরপেক্ষ প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ। রাজ্যপাল অজয় কুমার ভাল্লার নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় সরকারের সহায়তায় পরিস্থিতি স্থিতিশীল করা না গেলে, মণিপুরের সংকট আরও দীর্ঘায়িত হতে পারে।




ঈদের তৃতীয় দিনেও চলবে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম: আসিফ মাহমুদ

ঈদুল আজহার তৃতীয় দিনেও দেশে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চলমান থাকবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া। রোববার দিবাগত রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক পোস্টে তিনি এ তথ্য জানান।

উপদেষ্টা জানান, ঈদের দিনসহ পরবর্তী দুই দিন—মোট তিন দিন ধরে কোরবানি হয়ে থাকে। ঈদের দ্বিতীয় দিনেও বিপুলসংখ্যক পশু কোরবানি হয়েছে এবং সে অনুযায়ী বর্জ্যও তৈরি হয়েছে। তবে নির্ধারিত সময়ের আগেই এসব বর্জ্য অপসারণের কাজ সফলভাবে শেষ করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, ঈদের দ্বিতীয় দিনে কোরবানি করা পশুর বর্জ্য নিয়ে যেসব সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে, সেগুলো প্রকৃতপক্ষে দ্বিতীয় দিনের কোরবানির বর্জ্য। যদিও অনেকেই সিটি করপোরেশনের নির্ধারিত স্থানে পশু কোরবানি করেননি, তবুও সংশ্লিষ্ট কর্মীদের আন্তরিক প্রচেষ্টায় দ্রুততম সময়ের মধ্যে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে।

পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা

আসিফ মাহমুদ বলেন, ঈদের দিন রাতেই সব সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম সম্পন্ন হয়। তিনি জানান, মোট ৩৫ হাজার ২৭২ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মী ঈদের আনন্দ ত্যাগ করে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে অংশ নেন। এ জন্য তাঁদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন উপদেষ্টা।

বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় প্রস্তুত সিটি করপোরেশন

ধর্মীয় দিক থেকে ঈদুল আজহার তৃতীয় দিনেও কোরবানি করা বৈধ, ফলে অনেক মানুষ আজও পশু কোরবানি করছেন। এ বাস্তবতা বিবেচনায় রেখে সিটি করপোরেশনগুলো ঈদের তৃতীয় দিনেও বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সক্রিয় থাকবে বলে জানানো হয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, সময়মতো বর্জ্য অপসারণ ও শহরের পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে ঈদের তিন দিনজুড়ে সমন্বিত পরিকল্পনায় কাজ করছে স্থানীয় সরকার বিভাগ ও সিটি করপোরেশনসমূহ।




তাপদাহ নিয়ে আবহাওয়া অধিদপ্তরের জরুরি বার্তা!

রাজশাহী, রংপুর, খুলনা বিভাগসহ ফেনী ও ময়মনসিংহ জেলার ওপর দিয়ে মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ২৪ ঘণ্টা এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে। পাশাপাশি সারাদেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে, যার ফলে গরমের অনুভূতিও আরও তীব্র হবে।

সোমবার (৯ জুন) সকালে আবহাওয়া অধিদপ্তরের ঝড় সতর্কীকরণ কেন্দ্র থেকে প্রকাশিত ১২০ ঘণ্টার পূর্বাভাস অনুযায়ী, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

৯ জুন: চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং ঢাকা, বরিশাল ও সিলেট বিভাগের দু-একটি স্থানে অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি হতে পারে। অন্যান্য এলাকায় আকাশ আংশিক মেঘলা থাকলেও আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে।

১০ জুন: রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের কিছু জায়গায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। দিনব্যাপী তাপমাত্রা কিছুটা বাড়তে পারে, তবে রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকবে।

১১ জুন: চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের কিছু স্থানে বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে। কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণের সম্ভাবনাও রয়েছে। ওই দিন সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা ১-২ ডিগ্রি সেলসিয়াস কমতে পারে।

১২ জুন: ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের বিভিন্ন জায়গায় এবং রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের কিছু স্থানে দমকা হাওয়াসহ বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। কোথাও কোথাও ভারী বর্ষণের আশঙ্কা রয়েছে। এই সময় তাপমাত্রা দিনে ও রাতে সামান্য কমতে পারে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, বর্তমানে মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর কম সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে তা দুর্বল থেকে মাঝারি অবস্থায় রয়েছে। এই পরিস্থিতি বজায় থাকলে তাপদাহ কিছুটা স্থায়ী হতে পারে, তবে কয়েক দিনের মধ্যে বৃষ্টির প্রবণতা বাড়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।

দেশবাসীকে বৃষ্টির সময় নিরাপদে থাকার পাশাপাশি তাপদাহের সময়ে সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।




অরাজনৈতিকীকরণের পথে শিক্ষা ব্যবস্থা: অন্তর্বর্তী সরকারের নজরকাড়া সিদ্ধান্ত

আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে গত ১০ মাসে দেশের মোট ২২৭টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তন করা হয়েছে। ইতিহাসে এই প্রথম কোনো সরকারের আমলে এত স্বল্প সময়ে এত বিপুল সংখ্যক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নাম বদলের ঘটনা ঘটল। এসব পরিবর্তনে বাদ পড়েছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, শেখ হাসিনা, তাঁদের পরিবার ও আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত নেতাদের নাম।

সরকারি সূত্র জানিয়েছে, সর্বশেষ গত ৪ জুন ২৪টি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই প্রক্রিয়া চলমান থাকবে।

নামকরণে পরিবর্তনের দৃষ্টিভঙ্গি

শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নামকরণে এখন থেকে ব্যক্তিনির্ভরতার পরিবর্তে স্থানীয়তা ও গণগ্রাহ্যতাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পূর্ববর্তী সরকার যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নাম রাজনৈতিক বা পারিবারিক ভিত্তিতে নির্ধারণ করেছিল, সেগুলোর নাম সংশ্লিষ্ট জেলা, উপজেলা বা এলাকা অনুযায়ী পুনর্নির্ধারণ করা হচ্ছে।

নাম পরিবর্তনের কিছু উদাহরণ

২০২৪ সালের ৩০ অক্টোবর একটি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ছয়টি সরকারি মেডিকেল কলেজের নাম পরিবর্তন করা হয়। এর মধ্যে মানিকগঞ্জের কর্নেল মালেক মেডিকেল কলেজের নতুন নাম রাখা হয়েছে ‘মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ’ এবং ফরিদপুরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজের নাম পরিবর্তন করে রাখা হয়েছে ‘ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ’।

২০২৫ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি দেশের ১৩টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম বদল করা হয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর নতুন নাম সংশ্লিষ্ট জেলার নামে নির্ধারিত হয়। যেমন, নেত্রকোনার ‘শেখ হাসিনা বিশ্ববিদ্যালয়’ এখন ‘নেত্রকোনা বিশ্ববিদ্যালয়’ এবং কিশোরগঞ্জের ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিশ্ববিদ্যালয়’ এখন পরিচিত ‘কিশোরগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়’ নামে।

১৫ এপ্রিল অধ্যাদেশ জারি করে আরও তিনটি মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তন করা হয়। এর মধ্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) নতুন নাম হয় ‘বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়’। খুলনার শেখ হাসিনা মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম হয় ‘খুলনা মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়’ এবং সিলেটের বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় ‘সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়’।

২৯ মে প্রকাশিত আরেক প্রজ্ঞাপনে ৩৭ জেলার ৬৮টি সরকারি কলেজের নাম পরিবর্তনের ঘোষণা দেওয়া হয়। তবে গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ ডিগ্রি কলেজের নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত এলাকায় ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করলে সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী জানান, ওই কলেজের নাম পরিবর্তন করা হবে না।

কারিগরি ও প্রাথমিক শিক্ষাতেও পরিবর্তন

১৩ এপ্রিল কারিগরি শিক্ষাক্ষেত্রে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়। এদিন ১৫টি সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং একটি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ থেকে শেখ হাসিনা ও অন্যান্য রাজনৈতিক নেতাদের নাম বাদ দেওয়া হয়। ২৪ এপ্রিল আরও ২১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তন করা হয়, যার মধ্যে ছিল ১৬টি স্কুল, ৩টি স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং ২টি কলেজ।

প্রাথমিক স্তরেও ব্যাপক নাম পরিবর্তন হয়েছে। গত ১০ মাসে পাঁচ দফায় মোট ৭৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নাম বদলানো হয়েছে। সর্বশেষ ১৮ মে ১১টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তনের ঘোষণা দেওয়া হয়।

সরকারের ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষকদের মত

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক সিনিয়র কর্মকর্তা জানিয়েছেন, “জাতীয় প্রতিষ্ঠান বা স্থাপনার নামকরণ কোনো ব্যক্তি বা রাজনৈতিক দলের নামে হওয়া উচিত নয়। এটি হওয়া উচিত দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও ভৌগোলিক পরিচয়ের ভিত্তিতে। আমরা সেই নীতিতেই কাজ করছি।”

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ বলছেন, এটি একটি ‘অরাজনৈতিকীকরণ প্রক্রিয়া’, যার মাধ্যমে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে রাজনৈতিক প্রভাব থেকে মুক্ত করার চেষ্টা চলছে। অন্যদিকে, কেউ কেউ এটিকে কেবল প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং একটি রাজনৈতিক বার্তা হিসেবেও দেখছেন। তাঁদের মতে, অন্তর্বর্তী সরকার এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে নিজেদের নিরপেক্ষতা এবং অরাজনৈতিক রাষ্ট্র পরিচালনার অঙ্গীকার তুলে ধরতে চাইছে।

প্রসঙ্গত, ২০০৯ সাল থেকে টানা তিন মেয়াদে রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ সরকার তাদের শাসনামলে বিভিন্ন স্তরের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অবকাঠামো ও প্রশাসনিক প্রতিষ্ঠানের নামকরণে রাজনৈতিক ও পারিবারিক প্রতীক ব্যবহার করেছিল। শেখ মুজিবুর রহমান, শেখ হাসিনা এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যদের নামে অসংখ্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সেতু, রাস্তাঘাট, মেডিকেল কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা কেন্দ্র, এমনকি প্রকল্প ও ভবনের নামকরণ করা হয়। এই পরিবর্তনের মাধ্যমে অন্তর্বর্তী সরকার সেই ধারা থেকে সরে এসে একটি ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে।