কলাপাড়ায় এসএসসি পরীক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় এক মর্মান্তিক ঘটনায় নাসিমা আক্তার (১৫) নামের এক এসএসসি পরীক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘটে শুক্রবার (১৩ জুন) রাতে কলাপাড়া উপজেলার পশ্চিম মধুখালী গ্রামে। নাসিমা চলতি বছর মধুখালী মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার দুপুরে নাসিমার বাবা মোজাম্মেল হক ব্যক্তিগত কাজে বরিশালে যান। বাড়িতে ছিলেন মা নাজমা বেগম, ছোট ভাই ইয়াসিন ও নাসিমা। দুপুরের খাবার শেষে পারিবারিক বিষয় নিয়ে মা মেয়ের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। পরে বিকেলের দিকে নাজমা বেগম ছোট ছেলেকে নিয়ে পাশের বাড়িতে যান। প্রায় এক ঘণ্টা পর ফিরে এসে ঘরের দরজা বন্ধ পান। সন্দেহ হলে জানালার ফাঁক দিয়ে উঁকি দিয়ে তিনি মেয়েকে ঘরের বারান্দার আড়ার সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান।

মা ও ভাইয়ের কান্না ও চিৎকারে ছুটে আসেন প্রতিবেশীরা। দরজা ভেঙে উদ্ধার করা হয় নাসিমার নিথর দেহ। এরপর খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় কলাপাড়া থানা-পুলিশ। তারা মরদেহের সুরতহাল শেষে থানায় নিয়ে যায়।

এলাকাবাসীর অনেকেই ধারণা করছেন, পারিবারিক অভিমানের জেরে নাসিমা আত্মহত্যা করেছে। তবে পুলিশ বলছে, বিষয়টি নিয়ে এখনই নিশ্চিত কিছু বলা যাচ্ছে না।
কলাপাড়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ইলিয়াস তালুকদার বলেন, “প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যার ঘটনা বলেই মনে হচ্ছে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।” এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা রুজু করা হয়েছে।

নাসিমার সহপাঠীরা জানায়, সে ছিল অত্যন্ত মেধাবী ও ভদ্র স্বভাবের। তার এমন অকাল মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পরিবার ও আত্মীয়স্বজন এখনো সেই দুঃসহ মুহূর্ত থেকে স্বাভাবিক হতে পারেননি।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



বেড়েই চলছে ডেঙ্গুর প্রকোপ ; একদিনে পাঁচ জনের মৃত্যু

দেশে ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয়ে একদিনে সর্বোচ্চ পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে মারা যাওয়া পাঁচজনের মধ্যে দুইজন পুরুষ এবং তিনজন নারী। মৃতদের মধ্যে বরিশাল বিভাগের চারজন এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের একজন রয়েছেন। চলতি বছর এটি এখন পর্যন্ত একদিনে ডেঙ্গুতে সর্বোচ্চ মৃত্যু। ২০২৫ সালে এ পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মোট ২৮ জনের মৃত্যু হয়েছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১৫৯ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে বরিশাল বিভাগেই আক্রান্ত হয়েছেন ১২৪ জন। আক্রান্তদের মধ্যে ৮৮ জন পুরুষ এবং ৭১ জন নারী। একই সময়ে ১০৪ জন রোগী সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৩ জুন পর্যন্ত দেশে মোট ৫ হাজার ৫৭০ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে ৫৫ দশমিক ৩ শতাংশ পুরুষ এবং ৪৪ দশমিক ৭ শতাংশ নারী। এ পর্যন্ত ডেঙ্গু থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন মোট ৫ হাজার ১১ জন রোগী।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর দেশের সকল নাগরিককে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সতর্কতা অবলম্বন এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার ওপর গুরুত্বারোপ করার আহ্বান জানিয়েছে।




ড. মুহাম্মদ ইউনুস ও তারেক রহমানের বৈঠক দেশের রাজনীতির এক টার্নিং পয়েন্ট : মির্জা ফখরুল

প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের লন্ডন বৈঠককে বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক ‘টার্নিং পয়েন্ট’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সেই সঙ্গে নির্বাচনের সম্ভাব্য সময়সীমা এগিয়ে আনার সিদ্ধান্তকে দেশের গণতন্ত্রের জন্য ‘সুসংবাদ’ বলে অভিহিত করেছেন তিনি।

শুক্রবার বিকেলে লন্ডনে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকের পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বিএনপি মহাসচিব এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, “আমরা আজ বহুল প্রতীক্ষিত একটি সুসংবাদের প্রত্যাশায় ছিলাম। ড. ইউনূস ও তারেক রহমানের প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী বৈঠক নিয়ে গোটা জাতি উৎকণ্ঠার মধ্যে ছিল। আমি আগেই বলেছিলাম—এই বৈঠকটি একটি টার্নিং পয়েন্ট হতে পারে। বাস্তবেও সেটিই ঘটেছে।”

তিনি জানান, বৈঠক শেষে যৌথ ঘোষণায় বলা হয়েছে, আলোচনা অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। আলোচনায় নির্বাচন ইস্যুই ছিল প্রধান। তারেক রহমান নির্বাচনের সময়সূচি পরিবর্তনের যে প্রস্তাব দিয়েছেন, সেটি গৃহীত হয়েছে। ঘোষণায় জানানো হয়েছে, ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিষয়ে দু’পক্ষ সম্মত হয়েছে।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, “তারেক রহমান আবারও প্রমাণ করেছেন, রাজনৈতিক নেতৃত্বের মধ্যে রাষ্ট্রনায়কোচিত গুণাবলী তার রয়েছে। এই বৈঠকে তিনি অত্যন্ত সফল হয়েছেন। দলের পক্ষ থেকে আমি তারেক রহমানকে ধন্যবাদ জানাই।”

ড. ইউনূসকেও ধন্যবাদ জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, “সবকিছু যখন অনিশ্চয়তার মধ্যে চলে গিয়েছিল, তখন ড. ইউনূস ও তারেক রহমান সেই অনিশ্চয়তা কাটিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার নতুন স্বপ্ন দেখিয়েছেন।”

তিনি আরও বলেন, “চতুর্দিকে যখন অনিশ্চয়তা ছিল, তখন দুই নেতা প্রমাণ করেছেন—বাংলাদেশের মানুষ প্রয়োজনের সময় একত্রিত হতে পারে এবং সঠিক নেতৃত্ব দিতে সক্ষম।”




ড.মুহাম্মদ ইউনুসের যুক্তরাজ্য সফরের মধ্যে দিয়ে যে পাঁচটি অর্জন হলো বাংলাদেশের

চার দিনের সরকারি সফর শেষে যুক্তরাজ্য থেকে দেশে ফিরেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। গত ৯ জুন ঢাকা থেকে লন্ডনে পৌঁছানোর পর এই সফরে গুরুত্বপূর্ণ পাঁচটি অর্জনের কথা জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।

শুক্রবার রাতে নিজের ফেসবুক পোস্টে সফরের অর্জনগুলো তুলে ধরেন প্রেস সচিব। সেখানে তিনি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টার বৈঠককে ষড়যন্ত্রকারীদের জন্য ‘গেম ওভার’ মুহূর্ত বলে উল্লেখ করেন।

প্রেস সচিবের উল্লেখিত পাঁচটি অর্জন নিম্নরূপ:

১. ব্রিটিশ রাজার সঙ্গে বৈঠক ও পুরস্কার অর্জন:
রাজা চার্লসের কাছ থেকে মর্যাদাপূর্ণ একটি পুরস্কার গ্রহণ করেন ড. ইউনূস। একইসঙ্গে ব্রিটিশ রাজার সঙ্গে তার একান্ত ৩০ মিনিটের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। প্রেস সচিবের মতে, এই অর্জন জুলাই অভ্যুত্থান এবং বাংলাদেশের চলমান যুগান্তকারী পরিবর্তনের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির প্রতীক।

২. ইতিহাসের অংশ ঐতিহাসিক বৈঠক:
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ও দেশের বৃহত্তম রাজনৈতিক দলের (বিএনপি) নেতার মধ্যে এই ঐতিহাসিক বৈঠককে ষড়যন্ত্রকারীদের জন্য ‘গেম ওভার’ মুহূর্ত হিসেবে আখ্যা দেন শফিকুল আলম।

৩. বৈদেশিক সম্পদ জব্দ:
যুক্তরাজ্যের জাতীয় অপরাধ সংস্থা (এনসিএ) প্রধানমন্ত্রী হাসিনার ঘনিষ্ঠ এক সহকারীর ৩২০টি সম্পত্তি জব্দ করেছে, যার মূল্য প্রায় ১৭০ মিলিয়ন পাউন্ড। এনসিএর মতে, এটি তাদের ইতিহাসে এককভাবে সর্ববৃহৎ সম্পদ জব্দের ঘটনা। প্রেস সচিবের ভাষায়, এটি দুর্নীতিপরায়ণ কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী ও রাজনীতিকদের জন্য কঠিন বার্তা এবং বিদেশে পাচার হওয়া সম্পদ উদ্ধারে ইউনূস সরকারের কার্যক্রমের অংশ।

৪. আন্তর্জাতিক সহযোগিতা প্রসারিত:
ব্রিটিশ মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ও দুর্নীতি দমন কমিশনের প্রধানসহ বাংলাদেশি কর্মকর্তাদের ধারাবাহিক বৈঠক হয়েছে। প্রেস সচিব আশা প্রকাশ করেন, এসব বৈঠকের ফলে বৈশ্বিক সম্পদ পুনরুদ্ধার কার্যক্রমে আরও নিবিড় সহযোগিতার পথ সুগম হবে।

৫. রোহিঙ্গা সংকটে অগ্রগতি:
রোহিঙ্গা সংকট সমাধানের প্রশ্নেও কিছুটা আশার আলো দেখা যাচ্ছে বলে জানান শফিকুল আলম।

প্রধান উপদেষ্টার এই সফরকে সরকার গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক সাফল্য হিসেবে দেখছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।




ড. ইউনূস-তারেক বৈঠকের পর নির্বাচন নিয়ে যা বললো এনসিপি

জুলাই ঘোষণাপত্র প্রণয়ন, মৌলিক সংস্কার বাস্তবায়নে জুলাই সনদ কার্যকর করা এবং বিচারের রোডম্যাপ ঘোষণা করার পরই জাতীয় নির্বাচন আয়োজন করা উচিত বলে মন্তব্য করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। শুক্রবার এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব (দপ্তর) সালেহ উদ্দিন সিফাত স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ কথা জানানো হয়।

বিবৃতিতে এনসিপি জানায়, রাষ্ট্রকাঠামো সংস্কার প্রশ্নে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা হিসেবে অন্তর্বর্তী সরকারের বিভিন্ন দলের সঙ্গে চলমান আলোচনাকে ইতিবাচকভাবে দেখছে দলটি। এর অংশ হিসেবেই সম্প্রতি লন্ডনে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মধ্যে অনুষ্ঠিত বৈঠককে নির্বাচন প্রশ্নে সরকারের আস্থা অর্জনের পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করে এনসিপি।

তবে এনসিপি মনে করে, ওই আলোচনায় নির্বাচনের তারিখ নিয়ে যেভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, তার তুলনায় বিচার ও কাঠামোগত সংস্কারের বিষয়টি উপেক্ষিত হয়েছে। এ অবস্থাকে ‘অত্যন্ত হতাশাজনক’ বলে অভিহিত করে দলটি। এনসিপির অভিযোগ, নির্বাচন নিয়ে সরকার শুধুমাত্র একটি রাজনৈতিক দলের দাবি ও অবস্থানকে গুরুত্ব দিচ্ছে, যা বারবার প্রতীয়মান হচ্ছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’ প্রণয়ন, ‘জুলাই সনদ’ কার্যকর এবং বিচারের সুস্পষ্ট রোডম্যাপ ছাড়া জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজন করলে তা গণঅভ্যুত্থানকে কেবল ক্ষমতা হস্তান্তরের একটি প্রক্রিয়ায় পরিণত করবে। এতে রাষ্ট্র বিনির্মাণের জনআকাঙ্ক্ষা উপেক্ষিত হবে বলে উল্লেখ করে এনসিপি।

এনসিপি সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছে, রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে সংস্কারের বিষয়গুলোতে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠা, জুলাই সনদ রচনা ও কার্যকর করার মাধ্যমে আসন্ন জুলাইকে যথাযথ মর্যাদায় স্মরণ করার উদ্যোগ নেওয়া হোক।




ইরানের শতাধিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় কাঁপছে ইসরায়েল

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার আগুন আরও উসকে দিয়েছে ইরান ও ইসরায়েলের মুখোমুখি সংঘর্ষ। ইরান থেকে ছোড়া শতাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে ইসরায়েলের বিভিন্ন অঞ্চলে, যার মধ্যে রাজধানী তেলআবিব অন্যতম। সেখানে অন্তত সাতটি স্থানে বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে।

স্থানীয় সময় শুক্রবার রাতভর এই হামলায় গোটা ইসরায়েলজুড়ে জরুরি সতর্কতা জারি করা হয়। দেশটির সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েল জানায়, ক্ষেপণাস্ত্রগুলো দফায় দফায় ইসরায়েলের আকাশসীমায় প্রবেশ করতে থাকে এবং পুরো দেশজুড়ে সাইরেন বেজে ওঠে।

ইসরায়েলের জরুরি স্বাস্থ্যসেবা সংস্থা মাগেন ডেভিড আদম জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন এবং বহু ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইসরায়েলি পুলিশের পক্ষ থেকেও বলা হয়েছে, বিস্ফোরণের ফলে তেলআবিবসহ বিভিন্ন শহরের আকাশে কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী উঠতে দেখা গেছে।

ইসরায়েলি সেনাবাহিনী (আইডিএফ) নিশ্চিত করেছে, ইরান থেকে আরও ডজনখানেক ব্যালিস্টিক মিসাইল নিক্ষেপ করা হয়েছে। দেশের সব নাগরিককে নিকটস্থ আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে জনগণকে সতর্ক করে বলা হয়েছে, বিস্ফোরণের ছবি বা ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার না করতে, কারণ এতে শত্রুপক্ষ ভবিষ্যতের জন্য কৌশল নির্ধারণ করতে পারে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা এই হামলাকে ইসরায়েলের সাম্প্রতিক বিমান হামলার জবাব বলে উল্লেখ করেছে। যদিও ইসরায়েল দাবি করছে, অনেক মিসাইল মাঝপথেই তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দিয়ে ধ্বংস করা হয়েছে, ফলে প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে কিছুটা বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।

এদিকে, এই পাল্টাপাল্টি হামলার ফলে পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সম্পূর্ণ সক্রিয় থাকলেও, ইসরায়েলি নিরাপত্তা বাহিনী আশঙ্কা করছে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে। একাধিক বিশ্লেষক এই সংঘাতকে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার জন্য বড় হুমকি বলে আখ্যায়িত করেছেন।

বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন রাষ্ট্র ও কূটনৈতিক সংস্থাগুলো পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং উত্তেজনা প্রশমনের আহ্বান জানানো হচ্ছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



পটুয়াখালীর চারাবুনিয়ায় দা দিয়ে গলা কেটে সৎমা ও দাদিকে হত্যা

পটুয়াখালীর সদর উপজেলার মাদারবুনিয়া ইউনিয়নের চারাবুনিয়া গ্রামে সৎমা সাহিদা বেগম (৪৮) ও শতায়ু দাদি কুলসুম বিবি (১২৫) কে নির্মমভাবে গলা কেটে হত্যা করেছে মানসিক ভারসাম্যহীন আল-আমিন (২৭) নামের এক যুবক। গতকাল (১০ জুন) দুপুর ১টার দিকে এ রক্তাক্ত ঘটনা ঘটে।

নিহত সাহিদা বেগম ছিলেন আল-আমিনের সৎমা এবং কুলসুম বিবি তার দাদি। ঘাতক আল-আমিন ওই গ্রামের আবদুর রাজ্জাক খানের ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বেশ কিছুদিন আগে আল-আমিন নিখোঁজ হন। পরিবার ও আত্মীয়স্বজনের খোঁজাখুঁজির পর ৩-৪ দিন আগে তাকে পাওয়া যায় এবং বাড়িতে আনা হয়। পরিবার সূত্রে জানা যায়, আল-আমিনের মানসিক অসুস্থতা ছিল, এবং তাকে পাবনার মানসিক হাসপাতালে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছিল। ঘটনার দিন দুপুরে তার বড় ভাই পরিচয়পত্রের কাগজপত্র আনতে স্থানীয় মহিলা ইউপি সদস্যের কাছে যান এবং পিতা রাজ্জাক খান ছিলেন বাইরে কাজে।

এই সুযোগে আল-আমিন ঘরে একা পেয়ে তার সৎমা সাহিদা বেগম ও শতায়ু দাদি কুলসুম বিবিকে ধারালো দা দিয়ে কুপিয়ে গলা কেটে হত্যা করে। হত্যাকাণ্ডের পরপরই সে পালিয়ে যায়।

ঘটনার খবর পেয়ে পটুয়াখালী সদর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুই নারীর মরদেহ উদ্ধার করে। পটুয়াখালী সদর থানার ওসি (তদন্ত) মোস্তাফিজুর রহমান জানান, “দুইটি মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্ত আল-আমিনকে গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান চলছে।”

এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। আতঙ্কে রয়েছেন এলাকাবাসী।

স্থানীয়রা বলছেন, “মানসিক রোগীর চিকিৎসায় পরিবারের অবহেলা ছিল। যদি আগে থেকেই তাকে হাসপাতালে পাঠানো হতো, তাহলে এমন ভয়াবহ ঘটনা ঘটতো না।”

মো: আল-আমিন
স্টাফ রিপোর্টার, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



পটুয়াখালীর কালাইয়ায় হামলার প্রতিবাদে বিএনপির মানববন্ধন

পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার কালাইয়া ইউনিয়নে বিএনপির চার নেতার ওপর সশস্ত্র হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। হামলাকারীদের গ্রেপ্তার ও দ্রুত বিচার দাবি করে আজ শুক্রবার (১৩ জুন) সকাল ১০টায় ইউনিয়নের মধ্য কপুরকাঠি গ্রামে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা এই কর্মসূচি পালন করেন।

এক ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন শেষে অনুষ্ঠিত প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তারা হামলার তীব্র নিন্দা জানান এবং প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন। সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বিএনপি নেতা সাইফুল ইসলাম রিজভি, রিয়াজ হোসেন বাদশা, মো. জসিম উদ্দিন পঞ্চায়েত, মোয়াজ্জেম হোসেন বাদল ও আতাহার উদ্দিন সিকদারসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

বক্তারা বলেন, “প্রকাশ্যে হামলা চালিয়ে বিএনপি নেতাকর্মীদের রক্তাক্ত করা হয়েছে অথচ এখন পর্যন্ত কেউ গ্রেপ্তার হয়নি। এমন পরিস্থিতিতে আমরা উদ্বিগ্ন ও ক্ষুব্ধ।”

উল্লেখ্য, গত ৮ জুন রাত ৯টার দিকে মধ্য কপুরকাঠি গ্রামের মোকলেস হাওলাদারের বাড়ির সামনে পরিকল্পিতভাবে হামলার ঘটনা ঘটে। স্থানীয় হালিম ও মোকলেসের নেতৃত্বে ৮-১০ জনের একটি সংঘবদ্ধ দল জিয়া সৈনিক দলের সদস্য মো. আরিফ হাজি, কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক আল আমিন সবুজ, কালাইয়া ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক সাইফুল আলম রিজভি এবং ইউনিয়ন ছাত্রদল নেতা ঈমাম হোসেনকে ধারালো অস্ত্র ও লাঠি দিয়ে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর জখম করে।

এ ঘটনার পরপরই ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে থানায় একটি লিখিত এজাহার দাখিল করা হয়। তবে অভিযোগ রয়েছে, ঘটনার পাঁচদিন পেরিয়ে গেলেও পুলিশ এখন পর্যন্ত কোনো অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়নি। এই পরিস্থিতির প্রতিবাদেই আজকের মানববন্ধন ও সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

স্থানীয় বিএনপি নেতারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “যদি হামলাকারীরা দ্রুত গ্রেপ্তার না হয়, তাহলে বৃহত্তর কর্মসূচি দেওয়া হবে। আমরা আর মুখ বুজে সহ্য করব না।”

পটুয়াখালীর রাজনীতিতে প্রতিনিয়ত উত্তেজনা বেড়ে চলেছে। হামলা, মামলা ও প্রতিবাদ কর্মসূচি ঘিরে সাধারণ জনগণের মাঝেও উদ্বেগ বাড়ছে। রাজনৈতিক সহিংসতা রোধে প্রশাসনের কার্যকর ভূমিকা এখন সময়ের দাবি।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



একদিকে অস্বীকার অন্যদিকে ট্রাম্পের হুমকি: যুক্তরাষ্ট্রের কেমন দ্বিচারিতা!

আজ সকালে ইরানের বিরুদ্ধে চালানো সামরিক হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলে স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। তিনি এই হামলাকে ইসরায়েলের “একতরফা পদক্ষেপ” হিসেবে উল্লেখ করেছেন। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে।

তবে একই দিনে ভিন্ন সুরে কথা বলেছেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বিকেলে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ দেওয়া এক পোস্টে তিনি ইরানকে কঠোর ভাষায় হুঁশিয়ার করে বলেন, “সব শেষ হয়ে যাওয়ার আগে তেহরানকে অবশ্যই সমঝোতায় ফিরতে হবে।”

ট্রাম্প বলেন, “আমি তাদের (ইসরায়েলকে) শক্ত ভাষায় বলেছিলাম—এটি করো। কিন্তু তারা করেনি। ইতোমধ্যে অনেক প্রাণহানি ও ধ্বংস হয়েছে। তবে এখনও রক্তপাত থামানোর সুযোগ আছে। কারণ পরবর্তী হামলাগুলো আরও ভয়াবহ হতে চলেছে।”

তিনি আরও বলেন, “যেটিকে একসময় পারস্য সাম্রাজ্য বলা হতো, সেটিকে রক্ষা করো। আর কোনও মৃত্যু নয়, আর কোনও ধ্বংস নয়—এখনই সময় সিদ্ধান্ত নেওয়ার।”

ট্রাম্পের এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে, যখন ইরানের পারমাণবিক কার্যক্রম ও মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে চুক্তি বিষয়ক ষষ্ঠ দফার আলোচনা রোববার অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এমন দোটানা অবস্থান নতুন নয়। একদিকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিরপেক্ষতার বার্তা, অন্যদিকে প্রেসিডেন্টের সরাসরি হুমকি—এই অবস্থান আন্তর্জাতিক মহলে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে।

 

 

 




তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকে নির্বাচন প্রসঙ্গে আলোচনা ড. ইউনূসের

আগামী বছরের এপ্রিলের প্রথমার্ধের মধ্যে জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের সম্ভাবনার কথা জানিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হলে ২০২৬ সালের রমজান শুরু হওয়ার আগের সপ্তাহেও নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে।

শুক্রবার (১৩ জুন) লন্ডনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমানের সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠানের পাশাপাশি সংস্কার ও বিচারিক প্রক্রিয়ায় পর্যাপ্ত অগ্রগতি অর্জনের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন প্রধান উপদেষ্টা। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি দ্রুত সম্পন্ন করার ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।