ড. ইউনূস-তারেক বৈঠকের পর নির্বাচন নিয়ে যা বললো এনসিপি

জুলাই ঘোষণাপত্র প্রণয়ন, মৌলিক সংস্কার বাস্তবায়নে জুলাই সনদ কার্যকর করা এবং বিচারের রোডম্যাপ ঘোষণা করার পরই জাতীয় নির্বাচন আয়োজন করা উচিত বলে মন্তব্য করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। শুক্রবার এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব (দপ্তর) সালেহ উদ্দিন সিফাত স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ কথা জানানো হয়।

বিবৃতিতে এনসিপি জানায়, রাষ্ট্রকাঠামো সংস্কার প্রশ্নে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা হিসেবে অন্তর্বর্তী সরকারের বিভিন্ন দলের সঙ্গে চলমান আলোচনাকে ইতিবাচকভাবে দেখছে দলটি। এর অংশ হিসেবেই সম্প্রতি লন্ডনে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মধ্যে অনুষ্ঠিত বৈঠককে নির্বাচন প্রশ্নে সরকারের আস্থা অর্জনের পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করে এনসিপি।

তবে এনসিপি মনে করে, ওই আলোচনায় নির্বাচনের তারিখ নিয়ে যেভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, তার তুলনায় বিচার ও কাঠামোগত সংস্কারের বিষয়টি উপেক্ষিত হয়েছে। এ অবস্থাকে ‘অত্যন্ত হতাশাজনক’ বলে অভিহিত করে দলটি। এনসিপির অভিযোগ, নির্বাচন নিয়ে সরকার শুধুমাত্র একটি রাজনৈতিক দলের দাবি ও অবস্থানকে গুরুত্ব দিচ্ছে, যা বারবার প্রতীয়মান হচ্ছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’ প্রণয়ন, ‘জুলাই সনদ’ কার্যকর এবং বিচারের সুস্পষ্ট রোডম্যাপ ছাড়া জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজন করলে তা গণঅভ্যুত্থানকে কেবল ক্ষমতা হস্তান্তরের একটি প্রক্রিয়ায় পরিণত করবে। এতে রাষ্ট্র বিনির্মাণের জনআকাঙ্ক্ষা উপেক্ষিত হবে বলে উল্লেখ করে এনসিপি।

এনসিপি সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছে, রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে সংস্কারের বিষয়গুলোতে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠা, জুলাই সনদ রচনা ও কার্যকর করার মাধ্যমে আসন্ন জুলাইকে যথাযথ মর্যাদায় স্মরণ করার উদ্যোগ নেওয়া হোক।




ইরানের শতাধিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় কাঁপছে ইসরায়েল

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার আগুন আরও উসকে দিয়েছে ইরান ও ইসরায়েলের মুখোমুখি সংঘর্ষ। ইরান থেকে ছোড়া শতাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে ইসরায়েলের বিভিন্ন অঞ্চলে, যার মধ্যে রাজধানী তেলআবিব অন্যতম। সেখানে অন্তত সাতটি স্থানে বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে।

স্থানীয় সময় শুক্রবার রাতভর এই হামলায় গোটা ইসরায়েলজুড়ে জরুরি সতর্কতা জারি করা হয়। দেশটির সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েল জানায়, ক্ষেপণাস্ত্রগুলো দফায় দফায় ইসরায়েলের আকাশসীমায় প্রবেশ করতে থাকে এবং পুরো দেশজুড়ে সাইরেন বেজে ওঠে।

ইসরায়েলের জরুরি স্বাস্থ্যসেবা সংস্থা মাগেন ডেভিড আদম জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন এবং বহু ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইসরায়েলি পুলিশের পক্ষ থেকেও বলা হয়েছে, বিস্ফোরণের ফলে তেলআবিবসহ বিভিন্ন শহরের আকাশে কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী উঠতে দেখা গেছে।

ইসরায়েলি সেনাবাহিনী (আইডিএফ) নিশ্চিত করেছে, ইরান থেকে আরও ডজনখানেক ব্যালিস্টিক মিসাইল নিক্ষেপ করা হয়েছে। দেশের সব নাগরিককে নিকটস্থ আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে জনগণকে সতর্ক করে বলা হয়েছে, বিস্ফোরণের ছবি বা ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার না করতে, কারণ এতে শত্রুপক্ষ ভবিষ্যতের জন্য কৌশল নির্ধারণ করতে পারে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা এই হামলাকে ইসরায়েলের সাম্প্রতিক বিমান হামলার জবাব বলে উল্লেখ করেছে। যদিও ইসরায়েল দাবি করছে, অনেক মিসাইল মাঝপথেই তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দিয়ে ধ্বংস করা হয়েছে, ফলে প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে কিছুটা বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।

এদিকে, এই পাল্টাপাল্টি হামলার ফলে পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সম্পূর্ণ সক্রিয় থাকলেও, ইসরায়েলি নিরাপত্তা বাহিনী আশঙ্কা করছে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে। একাধিক বিশ্লেষক এই সংঘাতকে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার জন্য বড় হুমকি বলে আখ্যায়িত করেছেন।

বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন রাষ্ট্র ও কূটনৈতিক সংস্থাগুলো পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং উত্তেজনা প্রশমনের আহ্বান জানানো হচ্ছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



পটুয়াখালীর চারাবুনিয়ায় দা দিয়ে গলা কেটে সৎমা ও দাদিকে হত্যা

পটুয়াখালীর সদর উপজেলার মাদারবুনিয়া ইউনিয়নের চারাবুনিয়া গ্রামে সৎমা সাহিদা বেগম (৪৮) ও শতায়ু দাদি কুলসুম বিবি (১২৫) কে নির্মমভাবে গলা কেটে হত্যা করেছে মানসিক ভারসাম্যহীন আল-আমিন (২৭) নামের এক যুবক। গতকাল (১০ জুন) দুপুর ১টার দিকে এ রক্তাক্ত ঘটনা ঘটে।

নিহত সাহিদা বেগম ছিলেন আল-আমিনের সৎমা এবং কুলসুম বিবি তার দাদি। ঘাতক আল-আমিন ওই গ্রামের আবদুর রাজ্জাক খানের ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বেশ কিছুদিন আগে আল-আমিন নিখোঁজ হন। পরিবার ও আত্মীয়স্বজনের খোঁজাখুঁজির পর ৩-৪ দিন আগে তাকে পাওয়া যায় এবং বাড়িতে আনা হয়। পরিবার সূত্রে জানা যায়, আল-আমিনের মানসিক অসুস্থতা ছিল, এবং তাকে পাবনার মানসিক হাসপাতালে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছিল। ঘটনার দিন দুপুরে তার বড় ভাই পরিচয়পত্রের কাগজপত্র আনতে স্থানীয় মহিলা ইউপি সদস্যের কাছে যান এবং পিতা রাজ্জাক খান ছিলেন বাইরে কাজে।

এই সুযোগে আল-আমিন ঘরে একা পেয়ে তার সৎমা সাহিদা বেগম ও শতায়ু দাদি কুলসুম বিবিকে ধারালো দা দিয়ে কুপিয়ে গলা কেটে হত্যা করে। হত্যাকাণ্ডের পরপরই সে পালিয়ে যায়।

ঘটনার খবর পেয়ে পটুয়াখালী সদর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুই নারীর মরদেহ উদ্ধার করে। পটুয়াখালী সদর থানার ওসি (তদন্ত) মোস্তাফিজুর রহমান জানান, “দুইটি মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্ত আল-আমিনকে গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান চলছে।”

এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। আতঙ্কে রয়েছেন এলাকাবাসী।

স্থানীয়রা বলছেন, “মানসিক রোগীর চিকিৎসায় পরিবারের অবহেলা ছিল। যদি আগে থেকেই তাকে হাসপাতালে পাঠানো হতো, তাহলে এমন ভয়াবহ ঘটনা ঘটতো না।”

মো: আল-আমিন
স্টাফ রিপোর্টার, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



পটুয়াখালীর কালাইয়ায় হামলার প্রতিবাদে বিএনপির মানববন্ধন

পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার কালাইয়া ইউনিয়নে বিএনপির চার নেতার ওপর সশস্ত্র হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। হামলাকারীদের গ্রেপ্তার ও দ্রুত বিচার দাবি করে আজ শুক্রবার (১৩ জুন) সকাল ১০টায় ইউনিয়নের মধ্য কপুরকাঠি গ্রামে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা এই কর্মসূচি পালন করেন।

এক ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন শেষে অনুষ্ঠিত প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তারা হামলার তীব্র নিন্দা জানান এবং প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন। সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বিএনপি নেতা সাইফুল ইসলাম রিজভি, রিয়াজ হোসেন বাদশা, মো. জসিম উদ্দিন পঞ্চায়েত, মোয়াজ্জেম হোসেন বাদল ও আতাহার উদ্দিন সিকদারসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

বক্তারা বলেন, “প্রকাশ্যে হামলা চালিয়ে বিএনপি নেতাকর্মীদের রক্তাক্ত করা হয়েছে অথচ এখন পর্যন্ত কেউ গ্রেপ্তার হয়নি। এমন পরিস্থিতিতে আমরা উদ্বিগ্ন ও ক্ষুব্ধ।”

উল্লেখ্য, গত ৮ জুন রাত ৯টার দিকে মধ্য কপুরকাঠি গ্রামের মোকলেস হাওলাদারের বাড়ির সামনে পরিকল্পিতভাবে হামলার ঘটনা ঘটে। স্থানীয় হালিম ও মোকলেসের নেতৃত্বে ৮-১০ জনের একটি সংঘবদ্ধ দল জিয়া সৈনিক দলের সদস্য মো. আরিফ হাজি, কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক আল আমিন সবুজ, কালাইয়া ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক সাইফুল আলম রিজভি এবং ইউনিয়ন ছাত্রদল নেতা ঈমাম হোসেনকে ধারালো অস্ত্র ও লাঠি দিয়ে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর জখম করে।

এ ঘটনার পরপরই ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে থানায় একটি লিখিত এজাহার দাখিল করা হয়। তবে অভিযোগ রয়েছে, ঘটনার পাঁচদিন পেরিয়ে গেলেও পুলিশ এখন পর্যন্ত কোনো অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়নি। এই পরিস্থিতির প্রতিবাদেই আজকের মানববন্ধন ও সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

স্থানীয় বিএনপি নেতারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “যদি হামলাকারীরা দ্রুত গ্রেপ্তার না হয়, তাহলে বৃহত্তর কর্মসূচি দেওয়া হবে। আমরা আর মুখ বুজে সহ্য করব না।”

পটুয়াখালীর রাজনীতিতে প্রতিনিয়ত উত্তেজনা বেড়ে চলেছে। হামলা, মামলা ও প্রতিবাদ কর্মসূচি ঘিরে সাধারণ জনগণের মাঝেও উদ্বেগ বাড়ছে। রাজনৈতিক সহিংসতা রোধে প্রশাসনের কার্যকর ভূমিকা এখন সময়ের দাবি।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



একদিকে অস্বীকার অন্যদিকে ট্রাম্পের হুমকি: যুক্তরাষ্ট্রের কেমন দ্বিচারিতা!

আজ সকালে ইরানের বিরুদ্ধে চালানো সামরিক হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলে স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। তিনি এই হামলাকে ইসরায়েলের “একতরফা পদক্ষেপ” হিসেবে উল্লেখ করেছেন। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে।

তবে একই দিনে ভিন্ন সুরে কথা বলেছেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বিকেলে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ দেওয়া এক পোস্টে তিনি ইরানকে কঠোর ভাষায় হুঁশিয়ার করে বলেন, “সব শেষ হয়ে যাওয়ার আগে তেহরানকে অবশ্যই সমঝোতায় ফিরতে হবে।”

ট্রাম্প বলেন, “আমি তাদের (ইসরায়েলকে) শক্ত ভাষায় বলেছিলাম—এটি করো। কিন্তু তারা করেনি। ইতোমধ্যে অনেক প্রাণহানি ও ধ্বংস হয়েছে। তবে এখনও রক্তপাত থামানোর সুযোগ আছে। কারণ পরবর্তী হামলাগুলো আরও ভয়াবহ হতে চলেছে।”

তিনি আরও বলেন, “যেটিকে একসময় পারস্য সাম্রাজ্য বলা হতো, সেটিকে রক্ষা করো। আর কোনও মৃত্যু নয়, আর কোনও ধ্বংস নয়—এখনই সময় সিদ্ধান্ত নেওয়ার।”

ট্রাম্পের এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে, যখন ইরানের পারমাণবিক কার্যক্রম ও মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে চুক্তি বিষয়ক ষষ্ঠ দফার আলোচনা রোববার অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এমন দোটানা অবস্থান নতুন নয়। একদিকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিরপেক্ষতার বার্তা, অন্যদিকে প্রেসিডেন্টের সরাসরি হুমকি—এই অবস্থান আন্তর্জাতিক মহলে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে।

 

 

 




তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকে নির্বাচন প্রসঙ্গে আলোচনা ড. ইউনূসের

আগামী বছরের এপ্রিলের প্রথমার্ধের মধ্যে জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের সম্ভাবনার কথা জানিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হলে ২০২৬ সালের রমজান শুরু হওয়ার আগের সপ্তাহেও নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে।

শুক্রবার (১৩ জুন) লন্ডনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমানের সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠানের পাশাপাশি সংস্কার ও বিচারিক প্রক্রিয়ায় পর্যাপ্ত অগ্রগতি অর্জনের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন প্রধান উপদেষ্টা। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি দ্রুত সম্পন্ন করার ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।




রাজনৈতিক সমাধান খুঁজতে মুখোমুখি হচ্ছেন ড. ইউনূস ও তারেক রহমান

যুক্তরাজ্য সফররত বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মধ্যে আজ লন্ডনে বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। লন্ডনের স্থানীয় সময় সকাল ৯টায় (বাংলাদেশ সময় দুপুর ২টা) শহরের পার্ক লেনের হোটেল ডোরচেস্টারে এ বৈঠক শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম লন্ডনে উপস্থিত সাংবাদিকদের জানান, এই বৈঠকের জন্য নির্দিষ্ট কোনো ফরমেট নির্ধারণ করা হয়নি। তিনি বলেন, “যেহেতু তারেক রহমান বাংলাদেশের অন্যতম বড় রাজনৈতিক দলের নেতা, তাই প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকটি হতে যাচ্ছে।”

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাংবাদিকদের জানান, প্রধান উপদেষ্টা লন্ডনে যে হোটেলে অবস্থান করছেন, সেখানেই এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে এই বৈঠক চলতে পারে।

সূত্র জানায়, আলোচনায় বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি, আগামী নির্বাচন, চলমান সংস্কার কার্যক্রম এবং ‘জুলাই চার্টার’সহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মতবিনিময় হতে পারে। ধারণা করা হচ্ছে, দেশের রাজনৈতিক সংকট নিরসনে কৌশল নির্ধারণ নিয়েও আলোচনা হবে।

এর আগে লন্ডনে বৈঠকের জন্য ড. ইউনূসের পক্ষ থেকে তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। বৈঠকের উদ্দেশ্য হিসেবে উভয়পক্ষই দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার প্রসঙ্গকে গুরুত্ব দিতে পারেন বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।




ইরানের শীর্ষ সামরিক কমান্ডার হোসেইন সালামি নিহত

ইরানের রাজধানী তেহরান ও আশপাশের এলাকায় ভয়াবহ বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। এই হামলায় দেশটির অভিজাত সামরিক বাহিনী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) প্রধান জেনারেল হোসেইন সালামি নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (১৩ জুন) ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

বার্তাসংস্থা রয়টার্স ও সিএনএন জানিয়েছে, ইসরায়েলের রাতভর পরিচালিত বিমান হামলায় তেহরানের আইআরজিসি সদর দপ্তরে আঘাত হানার সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন জেনারেল সালামি। হামলার পর শুক্রবার সকালে ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশন তার মৃত্যুর খবর আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করে।

২০১৯ সাল থেকে আইআরজিসির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন জেনারেল হোসেইন সালামি। তিনি ইরানের সামরিক ও পারমাণবিক কৌশল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তার নেতৃত্বেই ইরান আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তারে ইরাক, সিরিয়া ও লেবাননে বিভিন্ন সামরিক কার্যক্রম পরিচালনা করেছে।

ইসরায়েলের এই হামলায় রেভল্যুশনারি গার্ডসের সদর দপ্তরে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ ঘটেছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে জানানো হয়েছে, ওই এলাকায় বিস্ফোরণের পর ঘন ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা গেছে।

এই হামলার ঘটনায় ইরানজুড়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। ইরানি সেনাবাহিনী ও রেভল্যুশনারি গার্ডস ইতোমধ্যে এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিশোধ নেওয়ার হুমকি দিয়েছে।

ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস ইরানের একমাত্র সামরিক বাহিনী নয়; বরং এটি দেশটির রাজনৈতিক, সামরিক ও অর্থনৈতিক কাঠামোর গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হিসেবে বিবেচিত। আইআরজিসি ইরানের ইসলামি শাসনব্যবস্থার অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক হুমকির বিরুদ্ধে রক্ষণাত্মক ভূমিকা পালন করে থাকে। বিশেষ করে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে দেশটির প্রভাব বিস্তারে সংগঠনটির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বিবিসি জানিয়েছে, আইআরজিসি ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর সবচেয়ে শক্তিশালী শাখা হিসেবে দেশটির নীতিনির্ধারণী ক্ষেত্রে বড় প্রভাব রাখে।

এর আগে একই রাতে ইসরায়েল ইরানের একাধিক পারমাণবিক ও সামরিক স্থাপনাতেও হামলা চালিয়েছে। ইসরায়েল দাবি করেছে, এই হামলার মাধ্যমে তারা ইরানের পরমাণু কর্মসূচিকে ধ্বংস করতে চায়।




ইরানের পারমাণবিক ও সামরিক স্থাপনায় ইসরায়েলের ভয়াবহ বিমান হামলা

ইরানের রাজধানী তেহরান ও আশপাশের এলাকায় অবস্থিত পারমাণবিক ও সামরিক স্থাপনায় ভয়াবহ বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। শুক্রবার (১৩ জুন) ভোরে এই হামলার ঘটনা ঘটে। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু পূর্বে রেকর্ড করা এক ভিডিও বার্তায় হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। খবর আল জাজিরার।

ভিডিও বার্তায় নেতানিয়াহু বলেন, “এই অভিযানের লক্ষ্য হচ্ছে ইরানের পারমাণবিক অবকাঠামো এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির কারখানাগুলো ধ্বংস করা। এই কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত আমাদের অভিযান চলবে। কারণ ইসরায়েলের অস্তিত্ব রক্ষাই এখন প্রধান লক্ষ্য।”

ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর একজন কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানান, অভিযানে ডজনখানেক পারমাণবিক ও সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। তার দাবি, ইরানের কাছে এমন পরিমাণ ইউরেনিয়াম রয়েছে, যা দিয়ে অল্প সময়ের মধ্যে ১৫টি পারমাণবিক বোমা তৈরি করা সম্ভব।

ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানায়, এই অভিযানের নাম দেওয়া হয়েছে “নেশন অব লায়ন্স”। সেনাবাহিনীর ভাষ্য অনুযায়ী, ইরান থেকে আসা তাৎক্ষণিক হুমকির প্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম নূর নিউজ জানিয়েছে, তেহরান শহর ও আশপাশে একাধিক শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইরান তার বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রেখেছে এবং ইমাম খোমেনি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সব ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে।

ইরানি রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশন প্রেস টিভি জানায়, হামলায় অনেক হতাহতের ঘটনা ঘটেছে, যদিও নির্দিষ্ট সংখ্যা প্রকাশ করা হয়নি। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, হামলায় ইরানের সেনাবাহিনীর চিফ অব স্টাফ এবং কয়েকজন উচ্চপর্যায়ের পারমাণবিক বিজ্ঞানীর মৃত্যুর আশঙ্কা রয়েছে।

ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ এই হামলাকে “প্রতিরোধমূলক আঘাত” হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, ইরান থেকে শিগগিরই ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার আশঙ্কা রয়েছে। হামলার পর ইসরায়েলজুড়ে সাইরেন বাজিয়ে জনগণকে সতর্ক করা হয়েছে এবং ভোর ৩টা থেকে জরুরি কার্যক্রম ছাড়া সবকিছু বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কর্মক্ষেত্র ও জনসমাগম স্থলও বন্ধ রাখা হয়েছে। দেশটির বিমান চলাচল সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানান, এই হামলায় যুক্তরাষ্ট্র জড়িত নয়। তিনি বলেন, “মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন সেনাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। তবে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ বা সেনাদের ওপর হামলা হলে তার পরিণতি হবে ভয়াবহ।”

এর আগে, গত বুধবার ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী আজিজ নাসিরজাদেহ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন, পারমাণবিক আলোচনা ভেঙে পড়লে এবং যুদ্ধ শুরু হলে ইরান সরাসরি মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে হামলা চালাবে।




ভারতে বিমান দুর্ঘটনা ; যা বললেন প্রধান উপদেষ্টা

ভারতের গুজরাট রাজ্যের আহমেদাবাদে এক ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনা ঘটে।  যেখানে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। বৃহস্পতিবার ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উদ্দেশ্যে পাঠানো শোকবার্তায় তিনি নিহতদের পরিবারের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানিয়েছেন।

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে পাঠানো বার্তায় জানানো হয়, আহমেদাবাদে ২৪২ জন যাত্রীবাহী এয়ার ইন্ডিয়ার বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনায় ড. ইউনূস অত্যন্ত মর্মাহত। শোকবার্তায় তিনি বলেন, “এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় যারা তাদের প্রিয়জনকে হারিয়েছেন, তাদের প্রতি আমার আন্তরিক সহানুভূতি ও সমবেদনা।”

তিনি আরও বলেন, “এই দুঃসময়ে আমরা ভারতের জনগণ ও সরকারের পাশে আছি। প্রয়োজনে সব ধরনের সহায়তা দিতে বাংলাদেশ প্রস্তুত রয়েছে।”

প্রসঙ্গত, দুর্ঘটনার সময় বিমানটি ৮২৫ ফুট উচ্চতায় পৌঁছানোর পরই আকস্মিকভাবে বিধ্বস্ত হয়। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত অন্তত ১৩৩ জন নিহত হয়েছেন।