সচিবালয়ের দিকে মিছিল, বাধা দিতে পুলিশের সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ

জাতীয় প্রেস ক্লাব এলাকায় হঠাৎ উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) নিয়োগ প্রত্যাশীরা পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে মিছিল নিয়ে সচিবালয়ের দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করলে এ ঘটনা ঘটে।

রোববার (১৫ জুন) দুপুর ১টা ২৫ মিনিটের দিকে এ পরিস্থিতির সূত্রপাত হয়। আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ পাঁচটির বেশি সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে এবং লাঠিচার্জ চালায়। তবে পুলিশের কঠোর অবস্থানের পরও নিয়োগ প্রত্যাশীরা ব্যারিকেডের সামনে অবস্থান চালিয়ে যাচ্ছেন।

উল্লেখ্য, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) গত ৮ জুন একটি গণবিজ্ঞপ্তি জারি করে বাংলাদেশ সচিবালয় ও প্রধান উপদেষ্টার সরকারি বাসভবন যমুনাসহ পার্শ্ববর্তী এলাকায় যেকোনো ধরনের সভা-সমাবেশ, গণজমায়েত, মিছিল ও শোভাযাত্রা নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “জনশৃঙ্খলা ও প্রধান উপদেষ্টার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ অর্ডিন্যান্স (অর্ডিন্যান্স নং-III/৭৬) এর ২৯ ধারায় অর্পিত ক্ষমতাবলে আগামী ৯ জুন ২০২৫ থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকবে।”

এদিকে, এর আগে আন্দোলনকারীরা ঈদের পর থেকেই তাদের নিয়োগ দাবি আদায়ের লক্ষ্যে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছিলেন।




ইশরাকের নেতৃত্বে ডিএসসিসিতে ফের আন্দোলন, শপথ দাবি অব্যাহত

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়রের দায়িত্ব গ্রহণের দাবিতে চলমান আন্দোলন আরও জোরালো করেছেন বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেন। ঈদের বিরতির পর রবিবার (১৫ জুন) সকাল থেকে আন্দোলনে ফের সক্রিয় হয়েছেন ডিএসসিসির কর্মচারীরা ও ইশরাকের অনুসারীরা। নগর ভবনে অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন ইশরাক।

বেলা ১১টার দিকে নগর ভবনে উপস্থিত হয়ে ইশরাক হোসেন বলেন, “সরকারকে আহ্বান জানাচ্ছি দ্রুততম সময়ের মধ্যে এ সমস্যার সমাধান করুন। সমস্যা মীমাংসা না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে।”

তিনি আরও বলেন, “স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা সংবিধান লঙ্ঘন করেছেন। আমরা নিয়মতান্ত্রিক রাষ্ট্র পরিচালনায় বিশ্বাস করি। প্রধান উপদেষ্টাকে আহ্বান জানাবো, তিনি যেন এ বিষয়টি সরাসরি তত্ত্বাবধান করেন। আদালতের রায় জনগণের রায়কে মেনে নেওয়ার আহ্বান জানাই।”

আন্দোলনকারীরা এ সময় বিভিন্ন স্লোগানে নগর ভবন প্রাঙ্গণ সরব করে তোলেন। তাদের স্লোগান ছিল— ‘শপথ শপথ শপথ চাই, ইশরাক ভাইয়ের শপথ চাই’, ‘মেয়র নিয়ে টালবাহানা, সহ্য করা হবে না’, ‘চলছে লড়াই চলবে, ইশরাক ভাই লড়বে’ ইত্যাদি।

ইশরাক জানান, জনগণের দুর্ভোগ লাঘব করতে ডিএসসিসির দৈনন্দিন কার্যক্রম আন্দোলনের মধ্যেও চালু রাখা হবে। তবে মেয়রের দায়িত্ব বুঝিয়ে না দেওয়া পর্যন্ত তারা আন্দোলন থেকে পিছু হটবেন না বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

প্রসঙ্গত, ২০২০ সালের ১ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ডিএসসিসির নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী শেখ ফজলে নূর তাপসকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। তবে নির্বাচন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ এনে ফল বাতিলের দাবি জানিয়ে ২০২০ সালের ৩ মার্চ আদালতে যান ইশরাক হোসেন।

পরবর্তীতে চলতি বছরের ২৭ মার্চ ঢাকার নির্বাচনী ট্রাইব্যুনাল সেই ফল বাতিল করে ইশরাককে মেয়র ঘোষণা করে। নির্বাচন কমিশন ২৭ এপ্রিল গেজেট প্রকাশ করলেও হাইকোর্টে রিটের কারণে তার শপথ অনুষ্ঠান আটকে রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে ১৫ মে থেকে ইশরাকের সমর্থকরা নগর ভবনে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন। ফলে ডিএসসিসির কার্যক্রম অনেকাংশেই স্থবির হয়ে পড়ে।




“উত্তরের জনপদ আর বৈষম্য মেনে নেবে না: হুঁশিয়ারি সারজিস আলমের”

ঈদযাত্রায় উত্তরাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘ যানজট ও ভোগান্তি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সমন্বয়ক সারজিস আলম। তিনি বলেছেন, বছরের পর বছর ধরে চলা এই বৈষম্য উত্তরবঙ্গের মানুষ আর মেনে নেবে না।

শনিবার (১৪ জুন) সন্ধ্যায় নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে এসব কথা বলেন তিনি।

সারজিস আলম লিখেছেন, “শুধু সংকীর্ণ টোল প্লাজার কারণে যমুনা সেতুর পূর্ব পাশে ২০ কিলোমিটারের বেশি সড়কে যানজট তৈরি হয়। ঘণ্টার পর ঘণ্টা মানুষ সেই জ্যামে আটকে থাকে। এরপরও সংশ্লিষ্টদের কোনো পদক্ষেপ নেই।”

তিনি উল্লেখ করেন, “ঢাকা-রংপুর চার লেন মহাসড়কের কাজ চলছে এক দশক ধরে, এখনও তা সম্পূর্ণ হয়নি। গোবিন্দগঞ্জ ও পলাশবাড়িতে রাস্তার অর্ধেক কাজ শেষ না হওয়ায় সেখানেও ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে আটকে থাকতে হয়। ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়কও এখনও চার লেনে উন্নীত হয়নি।”

রেলের অব্যবস্থাপনার দিকেও ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, “ঢাকা থেকে দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড়ে যেতে এখনো ট্রেনে ১২ থেকে ১৫ ঘণ্টা সময় লাগে। যদিও স্বাভাবিকভাবে ঢাকা-বগুড়া-রংপুর হয়ে এই রুটে যাওয়ার কথা। কিন্তু বর্তমানে রাজশাহী-নওগাঁ-নাটোর হয়ে প্রায় ২০০ কিলোমিটার বেশি পথ ঘুরে যেতে হয়। যদি বগুড়া হয়ে রংপুর পর্যন্ত ট্রেনলাইন থাকত তবে এত বড় পথ ঘুরতে হতো না।”

নিজের ভোগান্তির অভিজ্ঞতা জানিয়ে সারজিস বলেন, “এই ঈদে ঢাকা থেকে পঞ্চগড়ে যেতে আমার ১৭ ঘণ্টা লেগেছে, আর ফিরতে লেগেছে ১৫ ঘণ্টা। অনেকের ক্ষেত্রে ২০ ঘণ্টাও লেগেছে। ২০২৫ সালে দাঁড়িয়ে এই অবস্থাকে উন্নয়নের গল্প বলা যায় না। যমুনা সেতুর খরচ টোলের মাধ্যমে ৬-৭ বছর আগেই উঠে গেছে। তারপরও টোল প্লাজার কারণে এই ভোগান্তি দূর হয়নি। হয় টোল আদায় বন্ধ করতে হবে, না হলে টোল বুথের সংখ্যা তিনগুণ বাড়াতে হবে।”

সারজিস আলম অভিযোগ করেন, “উত্তরের জনপদ থেকে আওয়ামী লীগ শুধু শোষণ করেছে, দেওয়ার বেলায় পক্ষপাতিত্ব দেখিয়েছে।”

ভবিষ্যতের উন্নয়ন পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “ঢাকা থেকে সব বিভাগীয় শহরের সঙ্গে এক্সপ্রেসওয়ে অথবা চার লেন মহাসড়ক নির্মাণ করতে হবে। আন্তঃবিভাগীয় রেললাইনগুলো সর্বনিম্ন সময়ে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করতে হবে। আন্তঃনগর ট্রেনের পুরনো বগি বদলে মানসম্মত ও আরামদায়ক বগি সংযোজন করতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, “একটি দেশের সার্বিক উন্নয়নের জন্য সব অঞ্চলের অবকাঠামোগত ভারসাম্য প্রয়োজন। উত্তরবঙ্গের মানুষ সেই ভারসাম্য রক্ষায় সজাগ থাকবে।”

উত্তরাঞ্চলের জনগণকে উদ্দেশ করে সারজিস আহ্বান জানান, “আপনারা আপনাদের গুরুত্বপূর্ণ সমস্যাগুলো তুলে ধরুন। এই সমস্যাগুলোর সমাধানই হবে রাজনৈতিক দলগুলোর ইশতেহারে। যারা লুটপাট, চাঁদাবাজি, ক্ষমতার অপব্যবহার করবে না — তাদেরকেই ভোট দেবেন। যারা করবে না, তারা যে দলেরই হোক না কেন তাদের বর্জন করবেন।”




ড. ইউনূস-তারেক বৈঠক নিয়ে সমালোচকদের প্রশ্ন তুললেন রিজভী

লন্ডনে ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও তারেক রহমানের বৈঠক নিয়ে সমালোচকদের উদ্দেশে প্রশ্ন তুলেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী। তিনি বলেন, “এই বৈঠক অনেকের মনে জ্বালা ধরিয়েছে। কেন এই জ্বালা? আপনাদের উদ্দেশ্য কী?”

শনিবার (১৪ জুন) গাজীপুর সদর উপজেলার ভবানীপুরে মুক্তিযোদ্ধা কলেজ মাঠে বিএনপির সদস্য সংগ্রহ ও নবায়ন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

নির্বাচনের সম্ভাব্য সময় নিয়ে রিজভী বলেন, রমজান ও ঈদের কারণে এপ্রিল মাসে নির্বাচন কঠিন হবে। ফেব্রুয়ারির প্রথম বা দ্বিতীয় সপ্তাহে নির্বাচন আয়োজনের সময়টি উত্তম বলে মত দেন তিনি।

জামায়াতের সমালোচনা করে রিজভী বলেন, “আপনারা পাকিস্তান আন্দোলন থেকে শুরু করে ৭১ সালের বিরোধিতা, ৮৬ সালে আওয়ামী লীগের সাথে নির্বাচন, আবার ৯৫ সালে বিএনপির বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছেন। এখন আবার আওয়ামী লীগকে মাফ করার কথা বলেন। এটাই কি নিরপেক্ষতা?”

আওয়ামী লীগ সরকারের সমালোচনায় তিনি বলেন, “শেখ হাসিনার আমলে আন্দোলনকারীদের হত্যা, দমন-পীড়ন চালানো হয়েছে। বেগম খালেদা জিয়া মাথা নত করেননি বলেই আজও জেলে থাকতে হয়েছে।”

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বিএনপির বিভিন্ন কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা।




ইরান হামলার লাইভ সম্প্রচার দেখতে বিশ্ববাসীকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। ইরান ঘোষণা দিয়েছে, তারা পুনরায় ইসরায়েলে হামলা চালাবে এবং সেই হামলার দৃশ্য সরাসরি সম্প্রচারের মাধ্যমে বিশ্ববাসীকে দেখার আমন্ত্রণ জানিয়েছে। ইরানের সশস্ত্র বাহিনী তাদের ফেসবুক পেজে এ ঘোষণা দিয়েছে।

ইরানি গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক বার্তায় বলা হয়েছে, “আগামী প্রতিক্রিয়াটি হবে আগের তুলনায় আরও শক্তিশালী, বিস্তৃত এবং দৃশ্যমান। বিশ্বের সবাইকে সরাসরি দেখার জন্য প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানানো হচ্ছে।”

বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের এই বার্তা কেবল ইসরায়েল নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রসহ সমগ্র পশ্চিমা বিশ্বের জন্যও সতর্কবার্তা। বিশেষ করে মার্কিন ডিফেন্স স্যাটেলাইট ও ড্রোন সিস্টেমগুলোর প্রতিক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করে পরবর্তী পদক্ষেপ নিতে চায় তেহরান।

এদিকে ইসরায়েলের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে সরাসরি কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। তবে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছে।

এর আগে ১৩ জুন ভোররাতে ইসরায়েলের বিমানবাহিনী ইরানের রাজধানী তেহরানসহ অন্তত আটটি শহরে সমন্বিত বিমান হামলা চালায়। এ হামলায় এখন পর্যন্ত অন্তত ৭৮ জন নিহত এবং প্রায় ৩০০ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, ইরানের শতাধিক সামরিক স্থাপনায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।




পটুয়াখালীতে জেলা প্রশাসকের প্রত্যাহারের দাবিতে ছাত্র অধিকার পরিষদের বিক্ষোভ-মিছিল ও ঘেরাও

পটুয়াখালী জেলা প্রশাসক (ডিসি) আবু হাসনাত মোহাম্মদ আরেফীনের অপসারণ দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ঘেরাও কর্মসূচি পালন করেছে ছাত্র অধিকার পরিষদ। শনিবার (১৪ জুন) দুপুরে এ কর্মসূচি পালিত হয়।

জেলা শহরের ছোট চৌরাস্তা সংলগ্ন দলীয় কার্যালয় থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন সংগঠনটির নেতাকর্মীরা। মিছিলটি প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে তারা অবস্থান নিয়ে জেলা প্রশাসকের বিরুদ্ধে নানা স্লোগান দিতে থাকেন।

বিক্ষোভে নেতৃত্ব দেন জেলা ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি মহসীন ইসলাম। উপস্থিত ছিলেন গণঅধিকার পরিষদের উচ্চতর পরিষদের সদস্য ও কেন্দ্রীয় অর্থ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম ফাহিম, জেলা ও কেন্দ্রীয় পর্যায়ের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, “জেলা প্রশাসক আবু হাসনাত মোহাম্মদ আরেফীন গণঅভ্যুত্থানের চেতনার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। তিনি দলীয়করণে যুক্ত হয়ে জেলা প্রশাসনকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করছেন।” বক্তারা ডিসির দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে সব কর্মকাণ্ডের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং তার দ্রুত প্রত্যাহার দাবি করেন।

প্রসঙ্গত, এর আগে শুক্রবার (১৩ জুন) বিকেলে গলাচিপা উপজেলা চত্বরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ভিপি নুরুল হক নুর অভিযোগ করেন, “ডিসি আরেফীন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা হাসান মামুনের ঘনিষ্ঠজন। তিনি একচোখা প্রশাসন চালাচ্ছেন এবং আমাকে অবরুদ্ধ করার সময় কোনো ধরনের সহযোগিতা করেননি।” তিনি আরও বলেন, “এমন পক্ষপাতদুষ্ট কর্মকর্তা প্রশাসনের যোগ্যতা রাখেন না।”

জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

✍️ রিপোর্ট: মো. আল-আমিন
স্টাফ রিপোর্টার, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



লন্ডনে বৈঠক নিয়ে জামায়াতের উদ্বেগ: প্রধান উপদেষ্টার নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন

লন্ডনে বিএনপির শীর্ষ নেতার সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বৈঠক এবং যৌথ বিবৃতিকে দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতির ব্যত্যয় বলে উল্লেখ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির দাবি, এ ধরনের পদক্ষেপ প্রধান উপদেষ্টার নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে এবং সুষ্ঠু নির্বাচনের বিষয়ে জনগণের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

শনিবার (১৪ জুন) সকালে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আমির ডা. শফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনা হয়। বৈঠক শেষে জামায়াতের কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি মতিউর রহমান আকন্দ স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে সংগঠনটির অবস্থান তুলে ধরা হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, ১৩ জুন লন্ডনে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসের সঙ্গে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বৈঠক এবং পরে যৌথ প্রেস ব্রিফিং করার ঘটনা স্বাভাবিক রাজনৈতিক আলোচনার চেয়ে ভিন্ন বার্তা দেয়। এর মাধ্যমে প্রধান উপদেষ্টা একটি দলের প্রতি বিশেষ অনুরাগ প্রকাশ করেছেন বলে মনে করে জামায়াত। যা তার নিরপেক্ষতার প্রশ্ন তুলেছে এবং দেশের জনগণের মধ্যে নির্বাচনের সুষ্ঠুতা নিয়ে আশঙ্কা তৈরি করেছে।

বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, প্রধান উপদেষ্টা এর আগে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে পৃথক ও যৌথ বৈঠক করেছেন। কিন্তু দেশের বাইরে গিয়ে কোনো একটি দলের সঙ্গে আলোচনার পর যৌথ বিবৃতি দেওয়ার ঘটনা রাজনৈতিক শিষ্টাচারের পরিপন্থী। দলের মতে, দেশে ফিরে এসে সকল দলের সঙ্গে আলোচনা করে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করা অধিকতর যুক্তিসঙ্গত হতো।

জামায়াতের বিবৃতিতে জানানো হয়, প্রধান উপদেষ্টা গত ৬ জুন জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে ২০২৬ সালের এপ্রিলের প্রথমার্ধে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা করেছিলেন। এরপর লন্ডনে গিয়ে নির্দিষ্ট একটি দলের সঙ্গে বৈঠক ও যৌথ প্রেস ব্রিফিং করায় নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

দলটি আরও মনে করে, সরকারপ্রধান হিসেবে কোনো নির্দিষ্ট দলের সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলন করা নৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্য নয়। দেশে বহু রাজনৈতিক দল সক্রিয় রয়েছে। সেক্ষেত্রে শুধু একটি দলের সঙ্গে আলোচনা করে কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা সঠিক পন্থা হতে পারে না।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, জামায়াত আশা করছে, অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের স্বার্থে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার নিরপেক্ষতা বজায় রেখে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করবে এবং বিচার ও সংস্কারসহ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। এ ছাড়া, প্রধান উপদেষ্টার ভূমিকা নিয়ে উদ্ভূত সংশয় নিরসনে তার পক্ষ থেকে জাতির সামনে সুস্পষ্ট অবস্থান তুলে ধরা হবে বলেও আশা প্রকাশ করেছে জামায়াতের নির্বাহী পরিষদ।




অবশেষে অচলাবস্থা কাটিয়ে স্বাভাবিক হলো চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের চিকিৎসাসেবা

দীর্ঘ ১৮ দিনের অচলাবস্থা কাটিয়ে রাজধানীর জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা শনিবার (১৪ জুন) থেকে স্বাভাবিকভাবে চালু হয়েছে। সকাল থেকেই হাসপাতালের সব বিভাগে পুরোদমে চিকিৎসা কার্যক্রম শুরু হয়।

হাসপাতাল ভবন সকাল থেকেই কর্মচাঞ্চল্যে মুখর হয়ে ওঠে। চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীরা যথারীতি তাদের দায়িত্ব পালন করছেন। একই সঙ্গে রোগী ও তাদের স্বজনদের উপস্থিতিও ছিল চোখে পড়ার মতো। বহির্বিভাগ, ওয়ার্ড এবং জরুরি বিভাগে স্বাভাবিকভাবে চিকিৎসা প্রদান শুরু হয়েছে।

হাসপাতালের এক চিকিৎসক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, “সকাল থেকেই আমরা হাসপাতালে উপস্থিত হয়েছি। রোগীরাও নিয়মিত আসছেন। যার যেটা প্রয়োজন, সেই অনুযায়ী চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। অনেক রোগীকে ভর্তি করা হয়েছে।”

হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক ও আহতদের চিকিৎসা সমন্বয়ক ডা. যাকিয়া সুলতানা নীলা বলেন, “আজ সকাল থেকেই সব বিভাগে চিকিৎসা কার্যক্রম শুরু করেছি। চিকিৎসক ও নার্সরাও আগের মতোই কাজ করছেন। বর্তমানে সবকিছু স্বাভাবিক রয়েছে। আশা করছি, আর কোনো বিভ্রান্তি বা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটবে না। রোগী ও চিকিৎসকদের মধ্যে আবারও আস্থা ফিরিয়ে আনতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।”

উল্লেখ্য, বিভিন্ন কারণে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হয়। ফলে বিপাকে পড়েছিলেন বহু রোগী। তবে এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ায় রোগী ও স্বজনদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।




অস্ত্র ব্যবস্থায় নতুন নির্দেশনা: মারণাস্ত্র কেবল বিশেষায়িত বাহিনীর জন্য

মাঠপর্যায়ের পুলিশের কাছে রাইফেলের মতো অস্ত্র থাকলেও ভারি মারণাস্ত্র তাদের কাছে থাকবে না বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লে. জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। তবে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন)-এর মতো বিশেষায়িত ইউনিটের কাছে প্রয়োজনীয় ভারি অস্ত্র থাকবে বলে জানান তিনি।

শনিবার (১৪ জুন) সকাল ১১টায় রাজধানীতে এপিবিএনের সদর দপ্তর পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা। পরে তিনি র‍্যাব-১ কার্যালয়ও পরিদর্শন করেন।

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, “এপিবিএন, থানা পুলিশসহ দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সার্বিক উন্নয়নে সরকার কাজ করছে। তাদের আধুনিকায়ন ও সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যে নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।”

গত ১১ মাসের অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কালে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, “দু-একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া এবারের ঈদ উৎসব শান্তিপূর্ণভাবেই উদযাপন করেছে দেশের মানুষ।”

উল্লেখ্য, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা এদিন এপিবিএন সদর দপ্তর এবং র‍্যাব-১ এর বিভিন্ন কার্যক্রম ঘুরে দেখেন এবং বাহিনীর সদস্যদের সাথে মতবিনিময় করেন।




দশমিনা ও গলাচিপায় উত্তেজনার জেরে ১৪৪ ধারা জারি বহাল

পটুয়াখালীর দশমিনা ও গলাচিপায় বিএনপি এবং গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদের মধ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে ১৪৪ ধারা জারি করেছে স্থানীয় প্রশাসন। শুক্রবার (১৩ জুন) রাতে এই আদেশ জারি করা হয়, যা বলবৎ থাকবে রোববার (১৫ জুন) সকাল ৮টা পর্যন্ত।

প্রশাসনের জারি করা ১৪৪ ধারার আওতায় থাকবে—দশমিনা উপজেলার দশমিনা সদর ইউনিয়ন ও বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়ন, এবং গলাচিপা পৌর শহর ও এর আশপাশের এলাকা। যথাক্রমে দশমিনা ও গলাচিপার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা (ইউএনও) পৃথকভাবে আদেশ জারি করেন এবং স্থানীয়ভাবে মাইকিং করে জনগণকে বিষয়টি জানিয়ে দেন।

আদেশে বলা হয়েছে, এই সময়ের মধ্যে সব ধরনের সভা-সমাবেশ, মিছিল, বিক্ষোভ, গণজমায়েত, বিস্ফোরক দ্রব্য বা দেশীয় অস্ত্র বহন সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ থাকবে। একই সঙ্গে পাঁচজন বা ততোধিক মানুষের একসঙ্গে চলাফেরা বা অবস্থান করাও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

আরো পড়ুন : পটুয়াখালীর চারাবুনিয়ায় দা দিয়ে গলা কেটে সৎমা ও দাদিকে হত্যা

এর আগে বৃহস্পতিবার (১২ জুন) রাত ৮টার দিকে চরবিশ্বাস বাজারে বিএনপি ও গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে বিএনপির কার্যালয়ে ভাঙচুর এবং কয়েকজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়। একই রাতে গলাচিপার পাতাবুনিয়া গ্রামে গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরকে অবরুদ্ধ করে রাখার অভিযোগ ওঠে, যা রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দেয়।

প্রশাসনের মতে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ রিপোর্টার, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম