বরিশালে বিএনপির দুই শতাধিক নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ

শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে স্মৃতিবেদিতে ফুল দেওয়াকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট হাতাহাতির ঘটনায় বরিশালে বিএনপির দুই শতাধিক নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করা হয়েছে। মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আফরোজা খানম নাসরিন রোববার (১৪ ডিসেম্বর) রাতে বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানায় এ অভিযোগ দায়ের করেন।

থানা সূত্রে জানা যায়, অভিযোগপত্রে ১০ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও প্রায় ২০০ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। অভিযুক্তদের মধ্যে বিএনপি, ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীরা রয়েছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করে কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুন উল ইসলাম জানান, মহানগর বিএনপির একজন নেত্রী থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

অভিযোগকারী আফরোজা খানম নাসরিন বলেন, শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসে শ্রদ্ধা জানাতে ফুল দেওয়ার সময় তার ওপর হামলা চালানো হয়। তিনি দাবি করেন, হামলাকারীরা বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও বরিশাল সদর আসনের মনোনীত প্রার্থী মজিবর রহমান সরোয়ারের অনুসারী

তিনি আরও বলেন, হামলায় জড়িতদের নাম উল্লেখ করে আইনগত প্রতিকার চেয়ে থানায় অভিযোগ করা হয়েছে। এ ঘটনায় দলের অভ্যন্তরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে বলে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




বরিশাল বিভাগে ডেঙ্গুতে প্রাণ গেল অর্ধশতাধিকের

বরিশাল বিভাগে চলতি বছরে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা অর্ধশত ছাড়িয়েছে। বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ১ জানুয়ারি থেকে ১৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ৫১ জনের মৃত্যু হয়েছে। তারা সবাই বিভিন্ন সরকারি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়, এ সময়ের মধ্যে বরিশাল বিভাগের দুইটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সরকারি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে মোট ২১ হাজার ৫৩১ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হন। এর মধ্যে ২১ হাজার ৩১৭ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। বর্তমানে অল্পসংখ্যক রোগী এখনও চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

মৃতদের মধ্যে সর্বাধিক ৩২ জন মারা গেছেন বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। এছাড়া বরগুনার বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১৫ জন, পটুয়াখালীতে ৩ জন এবং ভোলায় ১ জন ডেঙ্গুতে প্রাণ হারিয়েছেন।

স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্টদের মতে, বরগুনা জেলা ও বরিশাল বিভাগের উপকূলীয় এলাকাগুলোতে এ বছর ডেঙ্গু ভয়াবহ আকার ধারণ করে। শুধু সরকারি হাসপাতালগুলোতেই বরগুনা জেলায় ৯ হাজার ৫৮৪ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। তবে প্রকৃত আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

কারণ হিসেবে জানানো হয়, বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ব্যক্তিগত চিকিৎসকের কাছে চিকিৎসা নেওয়া রোগীদের তথ্য সরকারি স্বাস্থ্য দপ্তরের পরিসংখ্যানে অন্তর্ভুক্ত নয়। ফলে ডেঙ্গুর প্রকৃত পরিস্থিতি পুরোপুরি প্রতিফলিত হচ্ছে না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




ধর্ষণ মামলার বাদীকে খুঁজে পাচ্ছে না পুলিশ, হয়রানির বিচার চেয়ে আসামির সংবাদ সম্মেলন

বরিশাল  অফিস ::  বরিশালের বানারীপাড়ায় দায়ের হওয়া একটি ধর্ষণ মামলার বাদীকে গত এক মাসের অধিক সময় ধরে খুঁজে পাচ্ছে না পুলিশ। এতে মামলার তদন্ত কার্যক্রমেও অগ্রগতি আসেনি। ফলে ভুক্তভোগী ও অভিযুক্ত উভয় পক্ষই যথাযথ আইনি সহায়তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
এদিকে- হয়রানি করতেই একজন ইউপি সদস্য ষড়যন্ত্র করে মিথ্যা ধর্ষণের মামলায় ফাঁসিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন মামলায় অভিযুক্ত মামুন ফরাজি। এমনকি সত্য সামনে আসার ভয়ে বাদীকেও পুলিশের সামনে আসতে দেয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ তার।
রোববার বেলা সাড়ে ১২টায় বরিশাল প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এমন অভিযোগ করেন মামলায় অভিযুক্ত মামুন ফরাজি। তিনি বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলার বাইশারী ইউনিয়নের বচুয়া গ্রামের বাসিন্দা মাহবুব ফরাজির ছেলে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের ২৭ অক্টোবর ভুক্তভোগী নারী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন বিশেষ ট্রাইব্যুনালে একটি নালিশি অভিযোগ দায়ের করেন। আদালত নালিশি অভিযোগটি গ্রহণ করে তা এফআইআর করতে বানারীপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জকে নির্দেশ দেন।

আদালতে দাখিল করা নালিশি দরখাস্তে ওই নারী উল্লেখ করেন, তিনি একজন অসহায়। পিতার মৃত্যুর পর মা অন্যত্র বিবাহ করায় চার বোন মানবেতর জীবনযাপন করছেন। জীবিকার তাগিদে তিনি বরিশাল শহরে ছোটখাটো কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন।

নালিশে বলা হয়, ২১ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা সাতটার দিকে তিনি দাদা বাড়ি বানারীপাড়া থেকে পায়ে হেঁটে বরিশাল শহরের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন। পথিমধ্যে অভিযুক্ত ব্যক্তি হঠাৎ এসে তাকে জোরপূর্বক নিকটস্থ একটি নির্মাণাধীন ভবনের ভেতরে নিয়ে যান। সেখানে তাকে ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ধর্ষণ করে। কিন্তু ভয়ে তিনি চিৎকার করতে পারেননি। একপর্যায়ে দু’জন পথচারীর কণ্ঠস্বর শুনে অভিযুক্ত ব্যক্তি ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। পরে ওই দুই পথচারীর সহায়তায় অভিযুক্তের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়।

ভুক্তভোগীর অভিযোগ, পরে তিনি বরিশালে এসে বোন ও আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে পরামর্শ করে থানায় মামলা করতে গেলে নানা ব্যস্ততার কথা বলে মামলা গ্রহণ করা হয়নি। এ কারণে বাধ্য হয়ে তিনি আদালতের শরণাপন্ন হন।

তবে ধর্ষণের এই ঘটনাটি সম্পূর্ণ পরিকল্পিত বলে দাবি করেছেন অভিযুক্ত মামুন ফরাজি। রোববার (১৪ ডিসেম্বর) বরিশাল প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, বানারীপাড়া উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক সবুর খান ওরফে সবুর মেম্বার ও তার সহযোগিরা ষড়যন্ত্রমূলকভাবে তাকে ধর্ষণ মামলায় ফাঁসিয়েছেন।

লিখিত বক্তব্যে মামুন ফরাজির বাবা মাহাবুব ফরাজি বলেন, গত ৫ আগস্টের পর থেকে সবুর খানের নেতৃত্বে চাঁদাবাজি, নারী নির্যাতন, ২০০ বছরের পুরোনো হিন্দু বাড়ি দখল, সরকারি ৯ একর জমির গাছ বিক্রির অর্থ আত্মসাৎ, খেয়াঘাট দখল, ট্রলার লুট, মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি, থানায় পুলিশের সামনে ছাত্রপ্রতিনিধিদের ওপর হামলা, গরিবদের সরকারি সহায়তা আত্মসাৎ, স্কুল কমিটি দখল, প্রবাসীদের অর্থ আত্মসাৎ ও অটোরিকশা দিয়ে চাঁদা উত্তোলনসহ নানা অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে, যা এখনো অব্যাহত রয়েছে।

তিনি বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট সবুর মেম্বারের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী ভুক্তভোগী মাহাবুব ফরাজির কাছে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে নির্মমভাবে মারধর করা হয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হয়ে দীর্ঘদিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। এরপর তার মালিকানাধীন দুটি ট্রলার ছিনতাইয়ের পর বিক্রি করে দেয়া হয়। এ ঘটনায় তার ছেলে মামুন ফরাজি বাদী হয়ে আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন।

তিনি জানান, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে সবুর মেম্বার ডিগ্রি পাসের ভুয়া সনদ ব্যবহার করে বাইশারী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সভাপতির পদ দখল করেন। এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগের পর তদন্ত করে বরিশাল শিক্ষা বোর্ড ভুয়া সনদের সত্যতা পায় এবং তাকে সভাপতির পদ থেকে অপসারণ করে।

এতে ক্ষুব্ধ হয়ে সবুর মেম্বার ও তার সহযোগীরা গত ২৭ অক্টোবর একজন নারীকে ব্যবহার করে মামুন ফরাজির বিরুদ্ধে মিথ্যা ধর্ষণ মামলা দায়ের করায়। আদালতের নির্দেশে ১ নভেম্বর মামলাটি থানায় এজাহার হিসেবে রেকর্ড করা হয়। এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানান ভুক্তভোগী মাহাবুব ও মামুন ফরাজি।

ধর্ষণ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বানারীপাড়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জাহিদ হোসেন বলেন, “মামলার বাদীর সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পারায় তদন্তে জটিলতা তৈরি হয়েছে। বাদীর দেয়া মোবাইল নম্বরও বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে এবং যে ঠিকানা দেয়া হয়েছে, সেখানে গিয়েও তাঁকে পাওয়া যায়নি। স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। বাদীকে পাওয়া গেলে তদন্ত এগিয়ে নেয়া সহজ হবে।”

এদিকে অভিযুক্ত মামুনের বাবা অভিযোগ করেন, তাঁর ছেলের সঙ্গে স্থানীয় বিএনপি নেতা সবুর খানের দীর্ঘদিনের পারিবারিক বিরোধ রয়েছে। তাঁর দাবি, ৫ আগস্টের পর রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তাঁদের পরিবারকে হয়রানি করা হচ্ছে। তিনি বলেন, “সবুর খান ভুয়া সনদ দিয়ে একটি বিদ্যালয়ের সভাপতির পদে ছিলেন। এ বিষয়ে আমার ছেলে শিক্ষা বোর্ডে অভিযোগ করলে তাঁকে পদ থেকে অপসারণ করা হয়। এরপরই পরিকল্পিতভাবে এই ধর্ষণ মামলা দায়ের করা হয়েছে। এখন বাদীকে পাওয়া না যাওয়ায় আমরাও সঠিক আইনি সহায়তা পাচ্ছি না।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




ভারতীয় হাইকমিশনারকে তলব

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ : জুলাই অভ্যুত্থানের সমর্থক ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদিকে গত শুক্রবার ঢাকায় গুলি করে দুর্বৃত্তরা। তিনি এখনো সংকটাপন্ন অবস্থায়  এভারকেয়ার হাসপাতালে মৃত্যুর দ্বার প্রান্তে,  তিনি যে আবার কবে আমাদের মাঝে ফিরবেন তা অনিশ্চিত। এদিকে ওসমান হাদিকে গুলিবর্ষণকারী দৃর্বৃত্ত  ভারতে পালিয়ে গেছে বলে গুঞ্জন রয়েছে।

এরই প্রেক্ষিতে ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মাকে আবার তলব করা হলো পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ওসমান হাদি হত্যাচেষ্টার সঙ্গে জড়িত সন্দেহভাজনদের ভারতে পালিয়ে যাওয়া প্রতিরোধে ভারতের সহযোগিতাও কামনা করা হয়েছে। তাঁরা যদি ভারতীয় ভূখণ্ডে প্রবেশ করতে সক্ষমও হন, তবে তাঁদের তাৎক্ষণিক গ্রেপ্তার ও বাংলাদেশের কাছে প্রত্যর্পণ নিশ্চিত করার অনুরোধ জানানো হয়।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে বিভিন্ন ঘটনায় এ নিয়ে অন্তত পাঁচবার তলব করা হলো প্রতিবেশী দেশটির রাষ্ট্রদূতকে।

আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা দিল্লিতে থেকে নানা বক্তব্য–বিবৃতি দিয়ে চলেছেন। তা বন্ধ করতে অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময় আহ্বান জানানো হলেও নয়াদিল্লি তাতে সাড়া দেয়নি।

এদিকে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তফসিল ঘোষণার পর শেখ হাসিনার আরও বক্তব্য–বিবৃতি আসতে থাকে।

সেই প্রেক্ষাপটে আবার  ও ভারতের হাইকমিশনারকে তলব করল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় তাঁকে ডেকে নিয়ে সরকারের পক্ষে উদ্বেগ তুলে ধরেন পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম।

ভারতের হাইকমিশনারকে বলা হয়, পলাতক শেখ হাসিনাকে উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ করে দেওয়া হচ্ছে, যার মাধ্যমে তিনি তাঁর সমর্থকদের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসন্ন নির্বাচন বানচালে প্ররোচিত করছেন। এই ঘটনায় বাংলাদেশ গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।




বানারীপাড়ার দুই শহীদ বুদ্ধিজীবীর স্মরণ

১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে দেশের জন্য আত্মত্যাগকারী বানারীপাড়ার দুই সন্তান—ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক ড. জ্যোতির্ময় গুহঠাকুরতা এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃত বিভাগের অধ্যাপক সুখরঞ্জন সমদ্দার—আজও এলাকার মানুষের মনে অমর। তারা দেশের স্বাধীনতার জন্য বীরত্বপূর্ণ জীবন উৎসর্গ করেছেন এবং বুদ্ধিজীবী সমাজে চিরস্মরণীয় হয়ে আছেন।

ড. জ্যোতির্ময় গুহঠাকুরতার পরিবার ২৫ মার্চ ১৯৭১-এর রাতে স্বাভাবিকভাবে দিনের কাজ শেষ করে ঘরে ছিলেন। হঠাৎ রাস্তায় জনতার ভিড় ও লাইট বোমার শব্দ শুনে পরিবারের সদস্যরা নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেন। পাক সেনারা তাদের ফ্ল্যাটে প্রবেশ করে ড. গুহঠাকুরতাকে হত্যা করে। আহত অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলেও সঠিক চিকিৎসা সম্ভব হয়নি এবং ৩০ মার্চ ১৯৭১ তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

ড. গুহঠাকুরতার জন্ম ময়মনসিংহে হলেও পৈত্রিক নিবাস বরিশালের বানারীপাড়ায়। শিক্ষাজীবন শুরু হয় ময়মনসিংহের জিলা স্কুল থেকে, এরপর কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজ ও আনন্দমোহন কলেজে পড়াশোনা করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজিতে এম.এ. ডিগ্রি অর্জন করেন এবং পরে লন্ডনের কিংস কলেজ থেকে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন। তিনি শিক্ষকতা, সাহিত্য, রাজনীতি ও সমাজচিন্তায় অগ্রণী ভূমিকা রেখেছিলেন। বানারীপাড়া পৌর শহরে তার নামানুসারে স্কুল প্রতিষ্ঠা ও রাস্তার নামকরণ করা হয়েছে।

অন্যদিকে, সুখরঞ্জন সমদ্দার রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃত বিভাগের প্রভাষক ছিলেন। মুক্তচিন্তা ও অসাম্প্রদায়িকতার দিক থেকে পরিচিত ছিলেন। ১৪ এপ্রিল ১৯৭১ পাক সেনারা তাকে তার বাসা থেকে ধরে নিয়ে যায় এবং বিনোদপুরে হত্যা করে ফেলে। তার পরিবার তখন ভারতেই ছিলেন। স্বাধীনতার পর দেহাবশেষ উদ্ধার করে বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরির সামনে পুনঃসমাহিত করা হয়।

সুখরঞ্জন সমদ্দারের জন্ম ১৫ জানুয়ারি ১৯৩৮ সালে বানারীপাড়ার ইলুহার গ্রামে। তিনি বরিশালের স্থানীয় স্কুল ও কলেজ থেকে শিক্ষাজীবন শুরু করেন, পরে কলকাতা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সংস্কৃত বিষয়ে শিক্ষা অর্জন করেন।

বানারীপাড়ার মানুষরা দুই শহীদ বুদ্ধিজীবীর স্মৃতি রক্ষার্থে তাদের ভাস্কর্য নির্মাণসহ প্রজন্মকে জানাতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২5




আগৈলঝাড়ায় হস্তশিল্প প্রতিষ্ঠান প্রকৃতির রজতজয়ন্তী উদযাপন

বরিশাল জেলার আগৈলঝাড়া উপজেলায় হস্তশিল্প প্রতিষ্ঠান প্রকৃতি পরিচালিত পাঁচটি প্রোডাকশন ইউনিট — বিবর্তন হ্যান্ডমেইড পেপার প্রজেক্ট, কেয়াপাম হ্যান্ডিক্রাফটস, তরুলতা ক্রাফটস, জোবারপাড় এন্টারপ্রাইজ এবং বাগধা এন্টারপ্রাইজ — এর রজতজয়ন্তী ও বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।

১৩ ডিসেম্বর, শনিবার, গৈলা ইউনিয়নের কালুরপাড় এলাকায় প্রতিষ্ঠানটির মাঠে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। রজতজয়ন্তীর আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রকৃতির নির্বাহী পরিচালক স্বপন কুমার দাস

সভায় স্বপন কুমার দাস বলেন, “লতাপাতা দিয়ে আমরা বিশ্বজয় করেছি। বাড়ির চারপাশে লতাপাতা ও জলাশয়ের কচুরিপানা ব্যবহার করে হাতে বানানো তৈজসপত্র এখন বিশ্বের ৪২টি দেশে পৌঁছেছে। এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে ৬ হাজার নারী। বিদেশীরা আমাদের নারীদের হাতে তৈরি নিখুঁত জিনিস দেখে বিস্মিত হয়। তারা প্রশ্ন করেন, এগুলো কি মেশিনে তৈরি করা হয়। আমি জানাই, এটা সম্পূর্ণ হাতে তৈরি। আমাদের দেশের নারীরা এই সব পণ্য তৈরি করে।”

তিনি আরও বলেন, “২০০১ সালে প্রকৃতি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়। মেনোনাইট সেন্ট্রাল কমিটি (এমসিসি) কর্তৃক শুরু করা আটটি কর্মসংস্থান প্রকল্পের দায়িত্ব আমরা গ্রহণ করি। প্রাথমিক সময়ে এমসিসি’র পরিচালকরা শাসন ব্যবস্থা, আর্থিক কাঠামো ও আন্তর্জাতিক ন্যায্য বানিজ্যের মানদণ্ড স্থাপন করতে আমাদের সহায়তা করেন। আমরা হস্তনির্মিত কাগজ, পাট, সিল্ক ও প্রাকৃতিক তন্তু উৎপাদন কেন্দ্র স্থাপন করি এবং নারী করিগরদের ন্যায্য মজুরি ও মর্যাদা নিশ্চিত করি। ধীরে ধীরে প্রকৃতি একটি স্বনির্ভর প্রতিষ্ঠান হিসেবে আত্মপ্রতিষ্ঠিত হয়।”

প্রকৃতির বোর্ড অব ডিরেক্টর সুфিয়া আক্তার রহমান, আবজালুল নেছা চৌধুরী, হাসিনা আক্তার বলেন, “আমরা ব্র্যান্ডিং শক্তিশালী করি, নিজস্ব পরিচিতি ও প্যাকেজিং তৈরি করি এবং ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা ও এশিয়ার ক্রেতাদের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদী সম্পর্ক গড়ে তুলি। রিসাইকেল করা শাড়ি, বর্জ, পাট ও কচুরিপানা দিয়ে তৈরি পরিবেশবান্ধব পণ্য আমাদের স্বাক্ষর হয়ে ওঠে। ২০১৫ সালে কচুরিপানা দিয়ে তৈরি একটি অলঙ্কারের জন্য আমরা গর্বের সঙ্গে (ডব্লিউএফটিও) মোহাম্মদ ইসলাম ডিজাইন পুরস্কার অর্জন করি। রপ্তানি বৃদ্ধি পায়, কারিগরদের আয় বাড়ে এবং পরিবারগুলো তাদের সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে সক্ষম হয়। ব্লক প্রিন্টিং, বাঁশের কারুশিল্প ও ক্রোশে খেলনা তৈরির প্রশিক্ষণ কর্মসূচি আমাদের পণ্যে বৈচিত্র্য আনে। আমরা টেরাকোটা, ফ্যাশন ডিজাইন ও আধুনিক পরিবেশবান্ধব কারুশিল্পেও নতুনত্ব এনেছি। ভবিষ্যতে প্রকৃতি আরও গভীর ক্ষমতায়ন, নবপ্রবর্তন এবং টেকসই উন্নয়নের পথে এগোবে। আমরা চাই নতুন প্রজন্মের নারী নেতৃত্ব গড়ে উঠুক।”

তারা আরও বলেন, “২০৫০ সালের মধ্যে হস্তশিল্প প্রতিষ্ঠান প্রকৃতি ন্যায্য বানিজ্যের আলোকবর্তিকা হিসেবে বিশ্বকে দেখাবে যে নৈতিক ব্যবসা সফল হতে পারে এবং গ্রামীণ বাংলাদেশে জীবন পরিবর্তন করতে পারে। আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্ট: ‘প্রকৃতি ২০৫০, নারী ক্ষমতায়ন, পৃথিবীর টেকসই উন্নয়ন।’”

আগৈলঝাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার লিখন বণিক বলেন, “প্রকৃতি আমাদের জেলার গর্ব। রজতজয়ন্তীতে মঞ্চের নির্মাণ ও পরিবেশের সৌন্দর্য আমাকে মুগ্ধ করেছে। লতাপাতা, বন, তালপাতা, কচুরিপানা ও ফুলের সংমিশ্রণে তৈরি মঞ্চ আমি আগে কোথাও দেখিনি। আমি এর ছবি তুলে রাখেছি, যেখানে কাজ করব সেখানে দেখাবো।”

রজতজয়ন্তীতে আরও বক্তব্য রাখেন উপজেলা সমাজসেবা অফিসার তপন বিশ্বাস, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মোসাম্মৎ দৌলাতুন নেছা নাজমা, থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ মাসুদ খান, পল্লীবিদ্যুৎ বরিশাল-২ সমিতির জিএম বিপুল কৃষ্ণ, আগৈলঝাড়া প্রেসক্লাব সভাপতি ডা. মো. মাহাবুবুল ইসলাম, সাংবাদিক এসএম ওমর আলী সানি, প্রকৃতি ডেপুটি ডিরেক্টর সজল কৃষ্ণ দত্ত, মো. সাজ্জাদ হোসেন, ম্যানেজার জগন্নাথ দত্ত, কালিপদ অধিকারী, অঞ্জন কুমার, মিজানুর রহমান, এমসিসি ফেরদৌসি হাওলাদার। সভা পরিচালনা করেন ম্যানেজার পাপড়ি মন্ডল


 




বরগুনায় ফেসবুকে প্রচার চালিয়ে মহাবিপন্ন বাঘা আইর মাছ বিক্রি

বরগুনায় ফেসবুকে প্রচারণা চালিয়ে ঢাকঢোল পিটিয়ে মহাবিপন্ন ও বিরল প্রজাতির বাঘা আইর মাছ কেটে রান্না করে বিক্রি করা হয়েছে। মাছটির ওজন ছিল ৭০ কেজি।

শনিবার দুপুরে বরগুনা পৌরশহরের জেলা বিএনপির অফিস সংলগ্ন মজিবর হোটেলে মাছটি রান্না করে বিক্রি করা হয়। এর আগে সকাল ১০টায় হোটেলের সামনে মাছটি প্রদর্শন করা হয় এবং স্থানীয় কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের মাধ্যমে ফেসবুকে প্রচারণাও চালানো হয়।

হোটেল মালিক মজিবর জানান, মাছটি ঢাকার তেজগাঁও বাজার থেকে ৮২ হাজার টাকায় বরগুনার স্থানীয় আড়তদার মোস্তফার মাধ্যমে ক্রয় করা হয়েছে। তিনি বলেন, “শখের বশে আমি এই মাছ এনেছি। এর আগে হোটেলে বড় বড় মাছ বিক্রি করেছি, তবে বাঘা আইর এবারই প্রথম।”

পরিবেশকর্মী ও পরিবেশ প্রেমী আরিফ রহমান অভিযোগ করেছেন, “বাঘা আইর মাছ শিকার ও বিক্রি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ, এটি মহাবিপন্ন একটি জলজ প্রাণি। হোটেলে রান্না বা বিক্রি আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। বন্যপ্রাণি (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন ২০১২ অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত, তবে প্রশাসন ও বন বিভাগ এখন পর্যন্ত কোন ব্যবস্থা নেয়নি।”

বরগুনা বন বিভাগের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আক্তারুজ্জামান মুঠোফোনে পাওয়া যায়নি। বরগুনা সদর উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা মোহাম্মদ সিফাত বিন সাদেক জানান, “ঘটনা সম্পর্কে আমার জানা নেই। খোঁজ নিয়ে দেখছি, সত্যতা পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




বরগুনায় ১০২ কেজি হরিণের মাংসসহ শিকারি আটক

বরগুনার পাথরঘাটায় বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের বিশেষ অভিযানে ১০২ কেজি হরিণের মাংসসহ এক শিকারিকে আটক করা হয়েছে।

আটককৃত ব্যক্তি মোঃ লিটন (৪৯), মোঃ রুস্তম আলীর পুত্র এবং পাথরঘাটা উপজেলার কাঠালতলী এলাকার বাসিন্দা। রবিবার ভোর রাত ৩টার দিকে পাথরঘাটার ০৭ নং কাঠালতলী ইউনিয়নের ০৩ নং ওয়ার্ডের কাঠালতলী গ্রাম থেকে তাকে আটক করা হয়।

বাংলাদেশ কোস্টগার্ড দক্ষিণ জোনের সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিসিজি স্টেশন পাথরঘাটা বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে ১০২ কেজি অবৈধভাবে শিকারকৃত হরিণের মাংস উদ্ধার করা হয়। এর আনুমানিক বাজারমূল্য এক লক্ষ দুই হাজার টাকা।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মোঃ লিটন অবৈধ হরিণ শিকারের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। বাংলাদেশের বন ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইনের অধীনে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাকে এবং উদ্ধারকৃত মাংস সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ কোস্টগার্ড জানিয়েছে, উপকূলীয় ও সংরক্ষিত বনাঞ্চলে অবৈধ শিকার ও পরিবেশবিরোধী কর্মকাণ্ড রোধে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




বরগুনার বেতাগী-বামনা রুহিতা চরের সীমানা নিয়ে ভূমিহীনদের অবস্থান কর্মসূচি

বরগুনায় জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন বেতাগী উপজেলার পাঁচশতাধিক ভূমিহীন কৃষক। বিষ খালি নদীর মধ্যে গড়ে ওঠা রুহিতা চরের মালিকানা ও সীমানা নিয়ে বামনা ও বেতাগী দুই উপজেলার মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই বিবাদ চলছিল।

বেতাগীর তিনটি ইউনিয়নের নারী ও পুরুষেরা জানান, তাদের রেকর্ডকৃত সম্পত্তি নদী ভাঙনে বিষ খালির প্রবাহে চলে যায়। পরবর্তীতে নদীর মাঝে গড়ে ওঠা রুহিতা চর দীর্ঘদিন ধরে তারা চাষাবাদ করে আসলেও ২০২৪ সালে বামনা উপজেলার চর সংলগ্ন স্থানীয় বাসিন্দারা তাদের বাধা দেয়। চলতি বছরের মার্চে প্রশাসনের মাধ্যমে দুই উপজেলার সীমানা নির্ধারণ করা হয়। এরপর চাষাবাদ করলে তাদের ধান কেটে নেওয়া ও একাধিক মামলার অভিযোগ আসে।

সীমানা নির্ধারণ ও মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে আজ বেলা ১১টায় বরগুনা জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে ঘণ্টাব্যাপী অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন বেতাগী উপজেলার তিন ইউনিয়নের ভূমিহীনরা।

অবস্থান কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেওয়া পাঁচজনকে পরে জেলা প্রশাসকের কক্ষে ডেকে সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হয়। সেই আশ্বাস পেয়ে কর্মসূচি শেষে শেষ হয়।

তবে বেতাগীর ভূমিহীনরা অভিযোগ করেছেন, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অবস্থানকালে বামনা উপজেলার একটি গোষ্ঠী রুহিতার চরে থাকা তিনটি ঘরে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




কলকাতার অস্থিরতা পেছনে ফেলে হায়দরাবাদে স্বস্তির হাসি মেসির

ভারতের তিন দিনের সফরে এসে প্রথম দিনেই সম্পূর্ণ ভিন্ন দুই অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছেন বিশ্বকাপজয়ী আর্জেন্টাইন মহাতারকা লিওনেল মেসি। সফরের সূচনা হয়েছিল কলকাতা দিয়ে। তবে যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে আয়োজকদের চরম অব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তার ঘাটতির কারণে সেই দিনটি রূপ নেয় তিক্ত স্মৃতিতে। ওই বিশৃঙ্খলার রেশ কাটিয়ে অবশেষে হায়দরাবাদে গিয়ে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেন ইন্টার মায়ামি তারকা।

রোববার (১৪ ডিসেম্বর) বিকেল ৫টার দিকে হায়দরাবাদে পৌঁছান মেসি। সন্ধ্যা ৮টার দিকে তিনি হাজির হন শহরের উপল স্টেডিয়ামে, যেখানে একটি প্রদর্শনী ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। ম্যাচ শেষে মাঠে নামেন মেসি। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন আর্জেন্টিনার সতীর্থ রদ্রিগো দি পল ও উরুগুইয়ান ফরোয়ার্ড লুইস সুয়ারেজ।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন তেলেঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী রেবন্ত রেড্ডি। গ্যালারিভর্তি দর্শক মেসিকে দেখেই উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়ে। মেসিও হাত নেড়ে ভক্তদের শুভেচ্ছার জবাব দেন। মাঠে মুখ্যমন্ত্রী ও শিশুদের সঙ্গে পাসিং খেলায় মেতে ওঠেন তিনি। কয়েকটি শট নেন গ্যালারির দিকে, যা দর্শকদের আনন্দ আরও বাড়িয়ে দেয়।

মাঠ প্রদক্ষিণের পাশাপাশি প্রদর্শনী ম্যাচের বিজয়ী দলের হাতে ‘গোট কাপ’ ট্রফি তুলে দেন মেসি। অনুষ্ঠানের এক পর্যায়ে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী মেসি ও লুইস সুয়ারেজকে সম্মাননা স্মারক প্রদান করেন। পরে সংবর্ধনা পর্বে মেসি রাহুল গান্ধীকে নিজের সই করা একটি জার্সিও উপহার দেন।

কলকাতার অভিজ্ঞতার সঙ্গে হায়দরাবাদের আয়োজন ছিল একেবারেই বিপরীত। যুবভারতী স্টেডিয়ামে মেসি মাঠে নামতেই কয়েক শ মানুষ তাকে ঘিরে ধরায় পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। নিরাপত্তাহীনতার কারণে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক। হাজার হাজার দর্শক মেসিকে সামনে থেকে দেখতে না পেয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। এক পর্যায়ে ভাঙচুর, সীমানা প্রাচীর ও খেলোয়াড়দের টানেল ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কোথাও কোথাও আগুন লাগানোর চেষ্টাও চলে।

এই ঘটনায় পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রকাশ্যে ক্ষমা চান। পরে মূল আয়োজককে গ্রেপ্তার করা হয় বলেও জানা যায়।

এর বিপরীতে হায়দরাবাদের উপল স্টেডিয়ামে ছিল কড়া নিরাপত্তা ও সুশৃঙ্খল আয়োজন। দর্শকেরা নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রেখে ছবি তোলার সুযোগ পান। বিমানবন্দর থেকে হোটেল ও স্টেডিয়াম—সবখানেই ছিল কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। ফলে নির্বিঘ্নেই পুরো অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়।

হায়দরাবাদ পর্ব শেষে মেসির ‘গোট ট্যুর’-এর পরবর্তী গন্তব্য মুম্বাই। সেখানে ক্রিকেট ক্লাব অব ইন্ডিয়ায় একটি প্যাডেল ম্যাচ এবং ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে ৭ বনাম ৭ জনের একটি প্রদর্শনী ম্যাচ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এসব আয়োজনে শচীন টেন্ডুলকারসহ বলিউডের একাধিক তারকার উপস্থিতির সম্ভাবনাও রয়েছে।

কলকাতার বিশৃঙ্খলার কালো ছায়া কাটিয়ে হায়দরাবাদের শৃঙ্খলাবদ্ধ আয়োজন মেসির ভারত সফরে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এখন অপেক্ষা মুম্বাই পর্বে ফুটবলের এই মহাতারকা কী নতুন চমক দেখান।

“এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫”