টিউলিপ সিদ্দিককে ফের দুদকে তলব, ইস্টার্ন হাউজিং থেকে ঘুষের অভিযোগ

ইস্টার্ন হাউজিং লিমিটেডের কাছ থেকে ঘুষ হিসেবে ফ্ল্যাট নেওয়ার অভিযোগে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভাগনি ও যুক্তরাজ্যের এমপি টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিককে ফের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে গতকাল (১৫ জুন) পাঠানো নোটিশে আগামী ২২ জুন সকাল ১০টায় দুদক কার্যালয়ে হাজির হওয়ার জন্য টিউলিপ সিদ্দিককে অনুরোধ জানানো হয়েছে। নোটিশটি তার ঢাকার মোহাম্মদপুরের জনতা হাউজিং সোসাইটি, ধানমন্ডি ও গুলশানের একাধিক ঠিকানায় পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি গুলশান ও ধানমন্ডি থানার মাধ্যমেও নোটিশ প্রেরণ করা হয়েছে।

এর আগে গত ১৪ মে একই মামলায় তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করেন দুদকের উপসহকারী পরিচালক মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন। সে সময় রাজউকের সাবেক সহকারী আইন উপদেষ্টা শাহ খসরুজ্জামান ও সর্দার মোশাররফ হোসেনকেও তলব করা হয়। তবে ওই সময় টিউলিপসহ কেউই দুদকের ডাকে সাড়া দেননি।

মামলার বিবরণে জানা যায়, ঢাকার গুলশানে এক বিঘা ১৯ কাঠা ১৩ ছটাক আয়তনের একটি প্লট ১৯৬৩ সালে তৎকালীন বিচারপতি ইমাম হোসেন চৌধুরীর নামে বরাদ্দ দেওয়া হয়। সরকারি ইজারা চুক্তি অনুযায়ী, ৯৯ বছরের মধ্যে এ জমি হস্তান্তর বা বিক্রি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ছিল।

তবে ১৯৭৩ সালে বিচারপতি ইমাম হোসেন আমমোক্তারনামার মাধ্যমে মো. মজিবুর রহমান ভূঁইয়ার কাছে প্লটটি হস্তান্তর করেন। এরপর ইস্টার্ন হাউজিং লিমিটেড এ প্লটের ওপর ভবন নির্মাণ শুরু করে। প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান জহুরুল ইসলামের মৃত্যুর পর উত্তরাধিকারীদের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয় এবং মামলাও শুরু হয়। মামলার চলমান অবস্থায় রাজউকের আইন উপদেষ্টারা ইস্টার্ন হাউজিংকে ফ্ল্যাট হস্তান্তরের অনুমোদন দেয়। অথচ কোম্পানিটি লিজ হোল্ডার বা বৈধ প্রতিনিধি ছিল না।

এভাবে রাজউকের আইন উপদেষ্টাদের সহায়তায় ইজারার শর্ত ভঙ্গ করে ইস্টার্ন হাউজিংকে আমমোক্তার দিয়ে ৩৬টি ফ্ল্যাট নির্মাণ ও হস্তান্তরের অনুমোদন দেওয়া হয়। এরই অংশ হিসেবে ইস্টার্ন হাউজিং থেকে ঘুষ হিসেবে টিউলিপ সিদ্দিক একটি ফ্ল্যাট গ্রহণ করেছেন বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ১২০বি, ৪০৯, ১৬১, ১৬২, ১৬৩, ১৬৪, ১৬৫(ক), ১০৯ ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

উল্লেখ্য, দুদকের উপপরিচালক মো. মনিরুল ইসলামের নেতৃত্বে সাত সদস্যের একটি দল শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধান করছে। এর আগে পূর্বাচলে প্লট দুর্নীতির মামলায় টিউলিপ সিদ্দিকসহ আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি করা হয়েছে। ওই মামলায় শেখ হাসিনা, শেখ রেহানা, সাবেক প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর সাবেক একান্ত সচিব সালাউদ্দিন এবং গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের ১৪ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মোট ছয়টি চার্জশিট দেওয়া হয়।

এই ছয় মামলার মধ্যে একমাত্র টিউলিপ সিদ্দিক পূর্বাচলের কোনো প্লট বরাদ্দ না নিয়েও আসামি হয়েছেন।




নেপাল থেকে বিদ্যুৎ আমদানি শুরু করলো বাংলাদেশ

নেপাল থেকে বাংলাদেশে ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি শুরু হয়েছে। শনিবার রাত থেকে এই আমদানি কার্যক্রম শুরু হয় বলে নিশ্চিত করেছে নেপালে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের একটি সূত্র।

জানা গেছে, নেপাল, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত ত্রিপক্ষীয় চুক্তির আওতায় এ বিদ্যুৎ আমদানি করা হচ্ছে। ভারতের বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন ব্যবহার করে নেপাল থেকে বিদ্যুৎ বাংলাদেশে সরবরাহ করা হচ্ছে। ভারতের মুজাফফরপুর-বাহারামপুর হয়ে বাংলাদেশের ভেড়ামারা গ্রিডে এই বিদ্যুৎ পৌঁছায়।

গত বছরের ৩ অক্টোবর নেপাল, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে হওয়া ত্রিপক্ষীয় চুক্তি অনুযায়ী, নেপাল থেকে বাংলাদেশে ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ রপ্তানির সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এই চুক্তির আওতায় ১৫ জুন থেকে শুরু হয়ে আগামী ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত পাঁচ মাসের জন্য নেপাল ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করবে।

এ লক্ষ্যে ভারতের ৪০০-কেভি ট্রান্সমিশন গ্রিড ব্যবহার করে বিদ্যুৎ সরবরাহের সমন্বয় করা হয়েছে। এ ব্যবস্থায় বাংলাদেশের জাতীয় গ্রিডে নতুন বিদ্যুৎ যোগ হওয়ায় আংশিক বিদ্যুৎ ঘাটতি কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।




ইরানে ইসরায়েলের হামলা: ৪০৬ নিহতের তথ্য দিল মানবাধিকার সংস্থা

ইরানে ইসরায়েলের চালানো হামলায় এখন পর্যন্ত অন্তত ৪০৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন আরও ৬৫৪ জন। রোববার (১৫ জুন) ওয়াশিংটনভিত্তিক এক মানবাধিকার সংস্থার বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তাসংস্থা এপি।

মানবাধিকার সংস্থাটি জানিয়েছে, তাদের নিজস্ব সূত্র এবং ইরানের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য যাচাই করে হতাহতের এ সংখ্যা নির্ধারণ করা হয়েছে। নিহতদের মধ্যে কতজন সেনা সদস্য এবং কতজন বেসামরিক নাগরিক রয়েছেন, তা নির্ধারণের চেষ্টা চলছে বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি।

গত শুক্রবার মধ্যরাতে ইসরায়েল ইরানে হামলা চালানো শুরু করে। এর পাল্টা জবাবে শনিবার রাতে তেহরান থেকে ইসরায়েলের বিভিন্ন স্থাপনায় মিসাইল হামলা চালানো হয়। এরপর থেকে দুই দেশের মধ্যে টানা হামলা-পাল্টা হামলা চলতে থাকে।

ইরানের পাল্টা হামলায় ইসরায়েলেও হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। জানা গেছে, ইরানে চালানো মিসাইল হামলায় ইসরায়েলে অন্তত ১০ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন দুই শতাধিক মানুষ।




আবারও ইসরায়েলে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান

টানা তৃতীয় দিনের মতো ইসরায়েলের বিভিন্ন স্থানে নতুন করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। রোববার স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় ইরানের এই হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)।

আইডিএফ এক বিবৃতিতে জানায়, গত এক ঘণ্টায় ইরান ইসরায়েলের ভূখণ্ড লক্ষ্য করে একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। তবে বেশিরভাগ ক্ষেপণাস্ত্র আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে ভূপাতিত করা হয়েছে বলে দাবি করেছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। এখন পর্যন্ত এ হামলায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

হামলার পর ইসরায়েলি সেনাবাহিনী দেশটির নাগরিকদের হোম ফ্রন্ট কমান্ডের নির্দেশনা অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। প্রাথমিকভাবে বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে নেওয়া হলেও কিছুক্ষণ পর তাদের আশ্রয়কেন্দ্র ত্যাগের অনুমতি দেওয়া হয়।

ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানিয়েছে, ইসরায়েলের আগ্রাসনের জবাবে পাল্টা প্রতিশোধ হিসেবে এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। এর আগে শুক্রবার ইরানের ওপর ইসরায়েলের হামলার মধ্য দিয়ে এই সংঘাতের সূত্রপাত হয়। এরপর থেকে দুপক্ষের মধ্যে হামলা-পাল্টা হামলা অব্যাহত রয়েছে।

ইসরায়েলের বিভিন্ন শহরে হামলার সময় সতর্কতা সাইরেন বাজিয়ে জনগণকে সতর্ক করা হয় বলে জানায় আইডিএফ।




ডেঙ্গু-করোনার ঝুঁকি: শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সতর্কতা জোরদারের নির্দেশ

দেশজুড়ে ডেঙ্গু পরিস্থিতির অবনতি এবং করোনাভাইরাসের নতুন ধরন ছড়িয়ে পড়ার প্রেক্ষাপটে দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা জোরদার করার নির্দেশ দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)।

রোববার (১৫ জুন) এক বিজ্ঞপ্তিতে মাউশি জানায়, শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের যৌথ নির্দেশনার আলোকে স্কুল, কলেজ ও অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে জরুরি পদক্ষেপ নিতে হবে। প্রতিষ্ঠান প্রধানদের এসব নির্দেশনার বাস্তবায়ন ও তদারকির জন্য বিশেষ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করে দেশব্যাপী বিশেষ সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন পরিচালনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই ক্যাম্পেইনের আওতায় আলোচনা সভা, র‍্যালি, দেয়াল পত্রিকা, পোস্টার তৈরি, লিফলেট বিতরণসহ বিভিন্ন সচেতনতামূলক কর্মসূচি গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ‘ডেঙ্গু সচেতনতা: ভবিষ্যতে করণীয়’ শীর্ষক বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এসব কার্যক্রম বাস্তবায়ন হবে।

এছাড়া, করোনা প্রতিরোধে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী পাঁচটি স্বাস্থ্যবিধি কঠোরভাবে মেনে চলারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেগুলো হলো—

১. সাবান ও পানি দিয়ে অন্তত ২০ সেকেন্ড ধরে হাত ধোয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা।
২. জনবহুল স্থানে যাওয়া এড়িয়ে চলা এবং বাইরে বের হলে মাস্ক পরা।
৩. আক্রান্ত ব্যক্তি থেকে দূরত্ব বজায় রাখা এবং অন্যদের থেকে অন্তত তিন ফুট দূরে থাকা।
৪. চোখ, নাক ও মুখে হাত দেওয়ার আগে হাত পরিষ্কার করা।
৫. হাঁচি বা কাশির সময় মুখ ঢাকতে টিস্যু, রুমাল বা কনুইয়ের ভাঁজ ব্যবহার করা।

উল্লেখ্য, ২০২০ সালের শুরুর দিকে বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়। এরপর কয়েক দফায় সংক্রমণ বেড়ে দেশে জনস্বাস্থ্য সংকট দেখা দেয়। পরবর্তীতে সরকার মাস্ক পরা, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা এবং জনসমাগম এড়ানোর নির্দেশ দেয়। সংক্রমণ হ্রাস পাওয়ায় সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এসব বিধিনিষেধ অনেকাংশে শিথিল করা হলেও সম্প্রতি আবারও কোভিড-১৯ সংক্রমণের হার কিছুটা বেড়েছে। ফলে নতুন করে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে সরকার।




ড. ইউনূস-তারেক বৈঠকের পর এখন পরিস্থিতি স্বস্তিকর: উপদেষ্টা রিজওয়ানা

প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সাম্প্রতিক বৈঠকের পর রাজনৈতিক অঙ্গনে স্বস্তির বাতাস বইছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টা পরিষদের বন ও পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।

রোববার (১৫ জুন) ঈদের ছুটির পর প্রথম কর্মদিবসে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।

সাম্প্রতিক লন্ডন বৈঠক প্রসঙ্গে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, “আমার কাছে পরিস্থিতিটা বেশ স্বস্তিকর মনে হচ্ছে। এখন রাজনৈতিক দলগুলো যার যার অবস্থান থেকে কথা বলবে। তারা যদি কোনো কথা বলেন, সেটা প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গেই বলবেন।”

নির্বাচন ইস্যুতে সরকারের সঙ্গে বিএনপির টানাপোড়েন নিরসনের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, “আসলে তেমন কিছু ছিল বলে তো মনে করি না। রাজনীতি, নির্বাচন, গণতন্ত্র কিংবা সংস্কার—সবক্ষেত্রেই সংলাপের মাধ্যমে অগ্রসর হতে হবে। তাই সংলাপ হচ্ছে বলেই এটাকে আমি ইতিবাচক মনে করি।”

উল্লেখ্য, সম্প্রতি লন্ডনে ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও তারেক রহমানের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এ বৈঠক ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা জল্পনা-কল্পনার জন্ম হয়।




সচিবালয়ের দিকে মিছিল, বাধা দিতে পুলিশের সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ

জাতীয় প্রেস ক্লাব এলাকায় হঠাৎ উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) নিয়োগ প্রত্যাশীরা পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে মিছিল নিয়ে সচিবালয়ের দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করলে এ ঘটনা ঘটে।

রোববার (১৫ জুন) দুপুর ১টা ২৫ মিনিটের দিকে এ পরিস্থিতির সূত্রপাত হয়। আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ পাঁচটির বেশি সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে এবং লাঠিচার্জ চালায়। তবে পুলিশের কঠোর অবস্থানের পরও নিয়োগ প্রত্যাশীরা ব্যারিকেডের সামনে অবস্থান চালিয়ে যাচ্ছেন।

উল্লেখ্য, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) গত ৮ জুন একটি গণবিজ্ঞপ্তি জারি করে বাংলাদেশ সচিবালয় ও প্রধান উপদেষ্টার সরকারি বাসভবন যমুনাসহ পার্শ্ববর্তী এলাকায় যেকোনো ধরনের সভা-সমাবেশ, গণজমায়েত, মিছিল ও শোভাযাত্রা নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “জনশৃঙ্খলা ও প্রধান উপদেষ্টার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ অর্ডিন্যান্স (অর্ডিন্যান্স নং-III/৭৬) এর ২৯ ধারায় অর্পিত ক্ষমতাবলে আগামী ৯ জুন ২০২৫ থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকবে।”

এদিকে, এর আগে আন্দোলনকারীরা ঈদের পর থেকেই তাদের নিয়োগ দাবি আদায়ের লক্ষ্যে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছিলেন।




ইশরাকের নেতৃত্বে ডিএসসিসিতে ফের আন্দোলন, শপথ দাবি অব্যাহত

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়রের দায়িত্ব গ্রহণের দাবিতে চলমান আন্দোলন আরও জোরালো করেছেন বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেন। ঈদের বিরতির পর রবিবার (১৫ জুন) সকাল থেকে আন্দোলনে ফের সক্রিয় হয়েছেন ডিএসসিসির কর্মচারীরা ও ইশরাকের অনুসারীরা। নগর ভবনে অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন ইশরাক।

বেলা ১১টার দিকে নগর ভবনে উপস্থিত হয়ে ইশরাক হোসেন বলেন, “সরকারকে আহ্বান জানাচ্ছি দ্রুততম সময়ের মধ্যে এ সমস্যার সমাধান করুন। সমস্যা মীমাংসা না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে।”

তিনি আরও বলেন, “স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা সংবিধান লঙ্ঘন করেছেন। আমরা নিয়মতান্ত্রিক রাষ্ট্র পরিচালনায় বিশ্বাস করি। প্রধান উপদেষ্টাকে আহ্বান জানাবো, তিনি যেন এ বিষয়টি সরাসরি তত্ত্বাবধান করেন। আদালতের রায় জনগণের রায়কে মেনে নেওয়ার আহ্বান জানাই।”

আন্দোলনকারীরা এ সময় বিভিন্ন স্লোগানে নগর ভবন প্রাঙ্গণ সরব করে তোলেন। তাদের স্লোগান ছিল— ‘শপথ শপথ শপথ চাই, ইশরাক ভাইয়ের শপথ চাই’, ‘মেয়র নিয়ে টালবাহানা, সহ্য করা হবে না’, ‘চলছে লড়াই চলবে, ইশরাক ভাই লড়বে’ ইত্যাদি।

ইশরাক জানান, জনগণের দুর্ভোগ লাঘব করতে ডিএসসিসির দৈনন্দিন কার্যক্রম আন্দোলনের মধ্যেও চালু রাখা হবে। তবে মেয়রের দায়িত্ব বুঝিয়ে না দেওয়া পর্যন্ত তারা আন্দোলন থেকে পিছু হটবেন না বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

প্রসঙ্গত, ২০২০ সালের ১ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ডিএসসিসির নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী শেখ ফজলে নূর তাপসকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। তবে নির্বাচন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ এনে ফল বাতিলের দাবি জানিয়ে ২০২০ সালের ৩ মার্চ আদালতে যান ইশরাক হোসেন।

পরবর্তীতে চলতি বছরের ২৭ মার্চ ঢাকার নির্বাচনী ট্রাইব্যুনাল সেই ফল বাতিল করে ইশরাককে মেয়র ঘোষণা করে। নির্বাচন কমিশন ২৭ এপ্রিল গেজেট প্রকাশ করলেও হাইকোর্টে রিটের কারণে তার শপথ অনুষ্ঠান আটকে রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে ১৫ মে থেকে ইশরাকের সমর্থকরা নগর ভবনে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন। ফলে ডিএসসিসির কার্যক্রম অনেকাংশেই স্থবির হয়ে পড়ে।




“উত্তরের জনপদ আর বৈষম্য মেনে নেবে না: হুঁশিয়ারি সারজিস আলমের”

ঈদযাত্রায় উত্তরাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘ যানজট ও ভোগান্তি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সমন্বয়ক সারজিস আলম। তিনি বলেছেন, বছরের পর বছর ধরে চলা এই বৈষম্য উত্তরবঙ্গের মানুষ আর মেনে নেবে না।

শনিবার (১৪ জুন) সন্ধ্যায় নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে এসব কথা বলেন তিনি।

সারজিস আলম লিখেছেন, “শুধু সংকীর্ণ টোল প্লাজার কারণে যমুনা সেতুর পূর্ব পাশে ২০ কিলোমিটারের বেশি সড়কে যানজট তৈরি হয়। ঘণ্টার পর ঘণ্টা মানুষ সেই জ্যামে আটকে থাকে। এরপরও সংশ্লিষ্টদের কোনো পদক্ষেপ নেই।”

তিনি উল্লেখ করেন, “ঢাকা-রংপুর চার লেন মহাসড়কের কাজ চলছে এক দশক ধরে, এখনও তা সম্পূর্ণ হয়নি। গোবিন্দগঞ্জ ও পলাশবাড়িতে রাস্তার অর্ধেক কাজ শেষ না হওয়ায় সেখানেও ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে আটকে থাকতে হয়। ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়কও এখনও চার লেনে উন্নীত হয়নি।”

রেলের অব্যবস্থাপনার দিকেও ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, “ঢাকা থেকে দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড়ে যেতে এখনো ট্রেনে ১২ থেকে ১৫ ঘণ্টা সময় লাগে। যদিও স্বাভাবিকভাবে ঢাকা-বগুড়া-রংপুর হয়ে এই রুটে যাওয়ার কথা। কিন্তু বর্তমানে রাজশাহী-নওগাঁ-নাটোর হয়ে প্রায় ২০০ কিলোমিটার বেশি পথ ঘুরে যেতে হয়। যদি বগুড়া হয়ে রংপুর পর্যন্ত ট্রেনলাইন থাকত তবে এত বড় পথ ঘুরতে হতো না।”

নিজের ভোগান্তির অভিজ্ঞতা জানিয়ে সারজিস বলেন, “এই ঈদে ঢাকা থেকে পঞ্চগড়ে যেতে আমার ১৭ ঘণ্টা লেগেছে, আর ফিরতে লেগেছে ১৫ ঘণ্টা। অনেকের ক্ষেত্রে ২০ ঘণ্টাও লেগেছে। ২০২৫ সালে দাঁড়িয়ে এই অবস্থাকে উন্নয়নের গল্প বলা যায় না। যমুনা সেতুর খরচ টোলের মাধ্যমে ৬-৭ বছর আগেই উঠে গেছে। তারপরও টোল প্লাজার কারণে এই ভোগান্তি দূর হয়নি। হয় টোল আদায় বন্ধ করতে হবে, না হলে টোল বুথের সংখ্যা তিনগুণ বাড়াতে হবে।”

সারজিস আলম অভিযোগ করেন, “উত্তরের জনপদ থেকে আওয়ামী লীগ শুধু শোষণ করেছে, দেওয়ার বেলায় পক্ষপাতিত্ব দেখিয়েছে।”

ভবিষ্যতের উন্নয়ন পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “ঢাকা থেকে সব বিভাগীয় শহরের সঙ্গে এক্সপ্রেসওয়ে অথবা চার লেন মহাসড়ক নির্মাণ করতে হবে। আন্তঃবিভাগীয় রেললাইনগুলো সর্বনিম্ন সময়ে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করতে হবে। আন্তঃনগর ট্রেনের পুরনো বগি বদলে মানসম্মত ও আরামদায়ক বগি সংযোজন করতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, “একটি দেশের সার্বিক উন্নয়নের জন্য সব অঞ্চলের অবকাঠামোগত ভারসাম্য প্রয়োজন। উত্তরবঙ্গের মানুষ সেই ভারসাম্য রক্ষায় সজাগ থাকবে।”

উত্তরাঞ্চলের জনগণকে উদ্দেশ করে সারজিস আহ্বান জানান, “আপনারা আপনাদের গুরুত্বপূর্ণ সমস্যাগুলো তুলে ধরুন। এই সমস্যাগুলোর সমাধানই হবে রাজনৈতিক দলগুলোর ইশতেহারে। যারা লুটপাট, চাঁদাবাজি, ক্ষমতার অপব্যবহার করবে না — তাদেরকেই ভোট দেবেন। যারা করবে না, তারা যে দলেরই হোক না কেন তাদের বর্জন করবেন।”




ড. ইউনূস-তারেক বৈঠক নিয়ে সমালোচকদের প্রশ্ন তুললেন রিজভী

লন্ডনে ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও তারেক রহমানের বৈঠক নিয়ে সমালোচকদের উদ্দেশে প্রশ্ন তুলেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী। তিনি বলেন, “এই বৈঠক অনেকের মনে জ্বালা ধরিয়েছে। কেন এই জ্বালা? আপনাদের উদ্দেশ্য কী?”

শনিবার (১৪ জুন) গাজীপুর সদর উপজেলার ভবানীপুরে মুক্তিযোদ্ধা কলেজ মাঠে বিএনপির সদস্য সংগ্রহ ও নবায়ন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

নির্বাচনের সম্ভাব্য সময় নিয়ে রিজভী বলেন, রমজান ও ঈদের কারণে এপ্রিল মাসে নির্বাচন কঠিন হবে। ফেব্রুয়ারির প্রথম বা দ্বিতীয় সপ্তাহে নির্বাচন আয়োজনের সময়টি উত্তম বলে মত দেন তিনি।

জামায়াতের সমালোচনা করে রিজভী বলেন, “আপনারা পাকিস্তান আন্দোলন থেকে শুরু করে ৭১ সালের বিরোধিতা, ৮৬ সালে আওয়ামী লীগের সাথে নির্বাচন, আবার ৯৫ সালে বিএনপির বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছেন। এখন আবার আওয়ামী লীগকে মাফ করার কথা বলেন। এটাই কি নিরপেক্ষতা?”

আওয়ামী লীগ সরকারের সমালোচনায় তিনি বলেন, “শেখ হাসিনার আমলে আন্দোলনকারীদের হত্যা, দমন-পীড়ন চালানো হয়েছে। বেগম খালেদা জিয়া মাথা নত করেননি বলেই আজও জেলে থাকতে হয়েছে।”

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বিএনপির বিভিন্ন কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা।