ডেঙ্গু তথ্য ঘাটতিতে বিপাকে বরিশাল স্বাস্থ্য বিভাগ

বরিশালসহ দক্ষিণাঞ্চলে ডেঙ্গু আক্রান্ত ও মৃত্যুর প্রকৃত তথ্য না থাকায় উদ্বেগজনক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। সরকারি হাসপাতালের সীমিত তথ্যের বাইরে বেসরকারি পর্যায়ে চিকিৎসাধীন রোগীদের হিসাব না থাকায় স্বাস্থ্য বিভাগের চিত্র ও বাস্তবতার মধ্যে বড় ব্যবধান তৈরি হয়েছে।

গত রোববার বরিশালের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গুতে মারা যান পটুয়াখালীর গলাচিপার এক এসএসসি পরীক্ষার্থী। একই দিন ঢাকা নেওয়ার পথে বরগুনার এক শিশু মারা যায়। কিন্তু বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তরের প্রতিবেদনে ওই মৃত্যুর কোনো উল্লেখ নেই।

স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়, ২০২৫ সালের শুরু থেকে ১৭ জুন পর্যন্ত বরিশাল বিভাগে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে সরকারি হিসেবে ৮ জন মারা গেছে। অথচ স্থানীয়দের দাবি, শুধু বরগুনা জেলাতেই মৃতের সংখ্যা ১৩ জন।

বরগুনার সিভিল সার্জন ডা. মো. আবুল ফাত্তাহ বলেন, “সরকারি হাসপাতালে ভর্তি রোগীর চেয়ে অন্তত দুই থেকে তিনগুণ রোগী বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। কিন্তু সেই তথ্য আমাদের কাছে নেই। সঠিক তথ্যের চেয়ে প্রতিরোধই এখন সবচেয়ে জরুরি।”

ডেঙ্গু আক্রান্তদের সঠিক সংখ্যা জানাতে না পারার কথা স্বীকার করেছেন বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. শ্যামল কৃষ্ণ মণ্ডল। তিনি বলেন, “প্রত্যেক জেলার সিভিল সার্জনদের মাধ্যমে বেসরকারি হাসপাতালের তথ্য চেয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু কেউই তা পাঠায়নি।”

স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যমতে, বরিশাল বিভাগের সরকারি হাসপাতালগুলোতে এ পর্যন্ত ৩ হাজার ৭৫ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে ২ হাজার ৬৬০ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন, চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৪০৭ জন। সর্বাধিক আক্রান্ত বরগুনা জেলায় এখন চিকিৎসাধীন রয়েছেন ২৩৩ জন।

তবে ডেঙ্গু পরিস্থিতি সম্পর্কে স্থানীয়রা বলছেন, বাস্তব অবস্থা আরও ভয়াবহ। বরগুনার পরিবেশ কর্মী আরিফুর রহমান বলেন, “ডেঙ্গুর প্রকোপ এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে, অনেক পরিবারেই আক্রান্ত রয়েছে। কিন্তু অনেকেই আর্থিক কারণে হাসপাতালে যায় না, কেউ কেউ ঢাকায় চলে যায় চিকিৎসার জন্য।”

বেসরকারি হাসপাতালগুলো সঠিক তথ্য না দিলে ডেঙ্গু প্রতিরোধ কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তথ্য সংগ্রহে নতুন করে উদ্যোগ নেওয়া হবে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




থেমে থেমে বৃষ্টিতে দুর্ভোগে বরিশালবাসী

বরিশালসহ দক্ষিণাঞ্চলের ছয় জেলায় সক্রিয় রয়েছে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু। এর প্রভাবে বরিশালে থেমে থেমে বৃষ্টি হচ্ছে, যা কখনো গুঁড়ি গুঁড়ি, কখনো বা মাঝারি মাত্রায় অব্যাহত রয়েছে। এই বৃষ্টিপাতের ফলে কমেছে তাপমাত্রা, তবে সঙ্গে বেড়েছে নগরবাসীর দুর্ভোগ।

গতকাল রাত থেকেই বরিশালের আকাশ ছিল মেঘাচ্ছন্ন। কখনো হালকা, আবার কখনো ভারি বৃষ্টি নগরবাসীর স্বাভাবিক চলাফেরায় বিঘ্ন ঘটায়। কর্মজীবী মানুষ, শিক্ষার্থী ও যানবাহন চলাচলে সমস্যা দেখা দিয়েছে।

আবহাওয়া অফিস জানায়, বরিশালে গত ২৪ ঘণ্টায় ৩৭ দশমিক ৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে। আজকের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৬ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আগামী কয়েক দিন এই আবহাওয়া অব্যাহত থাকতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে তারা।

এদিকে, সাগর উত্তাল থাকায় সমুদ্রবন্দরগুলোকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত এবং নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত বরিশাল নগরীতে কোথাও জলাবদ্ধতার খবর পাওয়া যায়নি।

বর্ষা মৌসুমের এমন আবহাওয়ায় ভোগান্তি থাকলেও অনেকেই স্বস্তি পাচ্ছেন গরম কমে আসায়।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




ধার দেওয়া টাকার দাবিতে গিয়ে নারী সদস্যদের মারধর, স্বর্ণালংকার ছিনতাইয়ের অভিযোগ

বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার দুধল ইউনিয়নে ধার দেওয়া টাকার দাবিতে গিয়ে এক ইউপি সদস্যসহ তার পরিবারের নারী সদস্যদের ওপর হামলা ও স্বর্ণালংকার ছিনতাইয়ের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী আবু জাফর খান নামে এক ব্যক্তি।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার দুধল গ্রামের বাসিন্দা মো. আবু জাফর খান স্থানীয় প্রতিবেশী আলতাফ হোসেনসহ ছয়জনকে বসতঘর নির্মাণের জন্য ২০২২ সালের ২০ ডিসেম্বর লিখিত স্ট্যাম্পে চুক্তিবদ্ধ হয়ে ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা ঋণ দেন। ধার্যকৃত সময়ে টাকা পরিশোধ না করে বারবার টালবাহানা করতে থাকেন অভিযুক্তরা।

পরবর্তীতে চলতি বছরের ২৬ মে বিকেল ৫টার দিকে বাদীর স্ত্রী মিনারা বেগম, পুত্রবধূ মনিকা আক্তার ও কন্যা কল্পনা আক্তার পাওনা টাকা চাইতে গেলে অভিযুক্ত আলতাফ হোসেন, বাবুল হাওলাদার, বিলকিস বেগম, আতিকুর রহমানসহ কয়েকজন তাদেরকে লোহার রড, লাঠিসোটা দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করেন। এতে তারা গুরুতর আহত হন।

এছাড়া অভিযোগে বলা হয়, হামলার সময় মিনারা বেগমের গলায় থাকা প্রায় ৮ আনা ওজনের স্বর্ণের চেইন এবং মনিকা আক্তারের কান থেকে ৪ আনা ওজনের স্বর্ণের কানের দুল ছিনিয়ে নেয় অভিযুক্তরা। শুধু তাই নয়, তাদের শ্লীলতাহানির চেষ্টা এবং প্রাণনাশের হুমকিও দেন তারা। এ সময় ভুক্তভোগীদের চিৎকারে স্থানীয় লোকজন ছুটে এসে তাদের উদ্ধার করেন এবং আহতদের স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

ঘটনার বিষয়ে বাকেরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি শফিকুল ইসলাম বলেন, ভুক্তভোগীর পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ বিষয়ে অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে এখনো কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযুক্তকারীরা বাদীকে বিভিন্ন ওভাবে হয়রানি এবং মৃত্যু হুমকি দিচ্ছে ।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসে জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের বৈঠক, আলোচনায় গণতন্ত্র ও নির্বাচনী ইস্যু

বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে ঢাকায় নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের রাজনৈতিক শাখাপ্রধান ম্যাথিউ বে-এর সঙ্গে বৈঠকে বসেছে জামায়াতে ইসলামী। মঙ্গলবার (১৭ জুন) বিকেলে ঢাকার মার্কিন দূতাবাসে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, আসন্ন নির্বাচন এবং মানবাধিকার বিষয়ে মতবিনিময় হয়।

জামায়াতের পক্ষ থেকে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন নায়েবে আমির ও সাবেক সংসদ সদস্য ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের এবং কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে অংশ নেন দূতাবাসের রাজনৈতিক কর্মকর্তা হারমানাস্কি ও জ্যামি স্টেলিও।

বিশ্বব্যাপী মানবাধিকার ও গণতন্ত্র নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রহের প্রেক্ষাপটে এ ধরনের বৈঠক বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। দলটির পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বৈঠকে অভ্যন্তরীণ গণতান্ত্রিক চর্চা, সিদ্ধান্ত গ্রহণে স্বচ্ছতা, নারী ও সংখ্যালঘুদের অধিকার রক্ষায় জামায়াতের অবস্থান তুলে ধরা হয়।

এছাড়া আলোচনায় উঠে আসে ১৯৭১ সালের জুলাই মাসে সংঘটিত গণ-অভ্যুত্থান ও সহিংসতার বিচার, রাজনৈতিক সংস্কার এবং একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের আয়োজনের প্রস্তাবনা।

বৈঠকে জামায়াত তাদের পক্ষ থেকে দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, সহনশীল রাজনৈতিক পরিবেশ তৈরি এবং সন্ত্রাস-চরমপন্থার বিরুদ্ধে দলের অবস্থানের কথাও তুলে ধরে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আন্তর্জাতিক কূটনীতিকদের সঙ্গে জামায়াতের এই সংলাপ আগামী নির্বাচন ও রাজনৈতিক পটপরিবর্তনে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।




জুলাই ঘোষণাপত্র বাস্তবায়নে মাঠে নামছে জাতীয় নাগরিক পার্টি

জুলাই ঘোষণাপত্র, জুলাই সনদ এবং জুলাই মাসে সংঘটিত গণহত্যার বিচারের দাবিতে দেশব্যাপী কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।

মঙ্গলবার (১৭ জুন) রাতে দলটির যুগ্ম সদস্য সচিব (দপ্তর) সালেহ উদ্দিন রিফাত স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কর্মসূচির কথা জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বৃহস্পতিবার (১৯ জুন) এনসিপির নবগঠিত জেলা ও উপজেলা সমন্বয় কমিটিগুলোকে নিজ নিজ কার্যালয়ে প্রথম কার্যনির্বাহী সভা আয়োজনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সভা শেষে প্রতিটি কমিটিকে নিজ এলাকায় কর্মসূচি পালনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

নির্দেশনা অনুযায়ী, এই কর্মসূচির আওতায় সংশ্লিষ্ট কমিটিগুলো জুলাই ঘোষণাপত্র ও সনদের বাস্তবায়ন এবং ঐ মাসে সংঘটিত গণহত্যার বিচারের দাবিতে সভা, মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদানের মতো পদক্ষেপ নেবে।

দলটির কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এবং সদস্য সচিব আখতার হোসেন যৌথভাবে এই কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য স্থানীয় নেতাদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিয়েছেন।

এনসিপির নেতারা জানিয়েছেন, জুলাই গণআন্দোলনের ইতিহাসকে কেন্দ্র করে এই দাবিগুলো বাস্তবায়ন করা সময়ের দাবি, যা রাজনৈতিক ন্যায়বিচার ও গণতন্ত্রের ভিত্তি আরও সুদৃঢ় করতে সহায়ক হবে।




দ্বিতীয় দিনের ঐকমত্য সভায় জামায়াতের সক্রিয় অংশগ্রহণ

জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের (জিওকম) দ্বিতীয় ধাপের দ্বিতীয় দিনের আলোচনা সভায় প্রথমবারের মতো অংশ নিয়েছে জামায়াতে ইসলামী।

বুধবার (১৮ জুন) বেলা ১১টা ৩০ মিনিটে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমির দোয়েল হলে শুরু হওয়া আলোচনায় দলটির পক্ষ থেকে সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান ও নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের অংশ নেন।

সভায় আজকের আলোচ্য বিষয় ছিল—জাতীয় সাংবিধানিক কাউন্সিল (এনসিসি), রাষ্ট্রপতি নির্বাচন পদ্ধতি এবং জেলা সমন্বয় কাউন্সিল গঠন।

সকাল সাড়ে ১০টা থেকেই ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে একে একে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা উপস্থিত হতে থাকেন।

উল্লেখ্য, প্রথম দিনের আলোচনা সভায় জামায়াতে ইসলামী উপস্থিত না থাকলেও আজকের বৈঠকে তাদের অংশগ্রহণকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।

সভা শেষে গণমাধ্যমে দেওয়া এক প্রতিক্রিয়ায় জামায়াত নেতারা জানান, গঠনমূলক জাতীয় সংলাপে অংশগ্রহণের মাধ্যমে তারা দেশের রাজনৈতিক অচলাবস্থা নিরসনে ভূমিকা রাখতে আগ্রহী।




বিএসএফের পুশ-ইন: শিবগঞ্জ সীমান্তে আটক ২০ নারী, পুরুষ ও শিশু

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ সীমান্ত দিয়ে ২০ জন বাংলাদেশিকে পুশ-ইন করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। বুধবার (১৮ জুন) ভোর ৪টা ৪৫ মিনিটে মাসুদপুর বর্ডার অবজারভেশন পোস্ট (বিওপি) সংলগ্ন সীমান্ত পিলার ৪/৫-১এস-এর কাছে এ ঘটনা ঘটে।

৫৩ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফাহাদ মাহমুদ রিংকু বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, পুশ-ইন হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে তিনজন পুরুষ, সাতজন নারী ও ১০ জন শিশু রয়েছে। মুষলধারে বৃষ্টি ও দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যে সীমান্ত এলাকা দিয়ে অনুপ্রবেশকালে বিজিবির টহল দল তাদের আটক করে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, আটক ব্যক্তিদের সবার বাড়ি কুড়িগ্রাম জেলায়। তারা সবাই বাংলাদেশি নাগরিক বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। বর্তমানে তাদেরকে শিবগঞ্জ থানায় হস্তান্তরের প্রস্তুতি চলছে।

এ ঘটনায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) বিরুদ্ধে কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। বিজিবির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই পুশ-ইন কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ জানানো হয়েছে বলে জানান লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফাহাদ মাহমুদ রিংকু।




ইসরায়েলের টানা হামলায় ইরানে বেসামরিক মৃত্যু ২৩৯, সামরিক ১২৬

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা আরও ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। ইসরায়েলের টানা বিমান হামলা, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় ইরানে গত পাঁচ দিনে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৫৮৫ জন। আহত হয়েছেন আরও ১ হাজার ৩২৬ জন। এমন তথ্য জানিয়েছে ওয়াশিংটনভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্টস

সংস্থাটির ওয়েবসাইটে বুধবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৩ জুন থেকে ইসরায়েলের বিমান বাহিনী (আইএএফ) ইরানে অভিযান শুরু করার পর রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন শহরে এই প্রাণহানি ঘটে। নিহতদের মধ্যে ১২৬ জনকে সামরিক ও ২৩৯ জনকে বেসামরিক ব্যক্তি হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। বাকিদের পরিচয় এখনো নিশ্চিত করা যায়নি।

এর আগে ১৪ জুন ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, তেহরানসহ বিভিন্ন অঞ্চলে ইসরায়েলের হামলায় নিহত হয়েছেন ২২৪ জন এবং আহত হয়েছেন ১ হাজার ২৭৭ জন। তবে সাম্প্রতিক তথ্য বলছে, ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা আরও বেড়েছে।

এদিকে, ইসরায়েলি অভিযানের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইরানও পাল্টা হামলা চালায়। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী দপ্তর থেকে ১৪ জুন দেওয়া এক বিবৃতিতে জানানো হয়, ইরানের প্রতিআক্রমণে ইসরায়েলে অন্তত ২৪ জন নিহত এবং ৫ শতাধিক মানুষ আহত হয়েছে। তবে এরপর থেকে ইসরায়েল তাদের হতাহতের তথ্য হালনাগাদ করেনি।

চলমান এই সংঘাতের ফলে অঞ্চলজুড়ে নিরাপত্তা পরিস্থিতি চরমভাবে অবনতির দিকে যাচ্ছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা। যুদ্ধের বিস্তার ঠেকাতে কূটনৈতিক সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা।




ট্রাম্প বললেন ‘নিশানা ঠিক’, খামেনি দিলেন ‘কঠোর জবাব’

টানা কয়েক দিনের সংঘাত, হামলা ও পাল্টা হামলায় চরম উত্তেজনায় বিপর্যস্ত মধ্যপ্রাচ্য। ইসরায়েলের ধারাবাহিক হামলায় ইরানে এখন পর্যন্ত প্রাণ হারিয়েছেন ৪৫০ জনের বেশি মানুষ। এমন উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুমকির পর আজ সরব হলেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি।

সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার বরাত দিয়ে জানা গেছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বার্তায় খামেনি বলেন, “মর্যাদাবান হায়দারের নামে, যুদ্ধ শুরু হলো।” ইসলামের চতুর্থ খলিফা ইমাম আলী (রা.)-এর আরেক নাম ‘হায়দার’— যাকে শিয়া মুসলিমরা তাদের প্রথম ইমাম হিসেবে মান্য করে থাকেন।

এটি ছিল খামেনির প্রথম প্রকাশ্য প্রতিক্রিয়া, যেটি ট্রাম্পের প্রকাশ্য হুমকির জবাব হিসেবে এসেছে। এর আগে এক পোস্টে ট্রাম্প খামেনিকে সরাসরি ইঙ্গিত করে লেখেন, “আমরা জানি তথাকথিত ‘সর্বোচ্চ নেতা’ কোথায় লুকিয়ে আছেন। তিনি সহজ লক্ষ্যবস্তু, কিন্তু এখনই তাকে আঘাত করব না।”

ট্রাম্প আরও বলেন, “আমরা চাই না বেসামরিক নাগরিক বা আমেরিকান সেনাদের ওপর ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হোক। আমাদের ধৈর্য ক্রমেই হ্রাস পাচ্ছে।”

এমন প্রেক্ষাপটে খামেনির হুঁশিয়ারি ছিল সরাসরি এবং দৃঢ়। ইংরেজিতে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, “আমাদের সন্ত্রাসী ইহুদিবাদী শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে কঠোর জবাব দিতে হবে। আমরা ইহুদিবাদীদের কোনও দয়া দেখাব না।”

উল্লেখ্য, এই মন্তব্যগুলো এমন সময় এসেছে, যখন সংঘাত আরও বড় ধরনের যুদ্ধের দিকে গড়ানোর আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এর আগে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প একাধিক পোস্টে দাবি করেন, “ইরানের আকাশসীমা এখন আমাদের নিয়ন্ত্রণে” এবং পরবর্তীতে ‘নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ’ দাবি করে আরেকটি পোস্ট দেন।

এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে উদ্বেগ বেড়েছে। যুদ্ধের পরিণতি কী হতে পারে, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা।




শেয়ারবাজারে কারসাজি: সাকিব আল হাসানের বিরুদ্ধে দুদকের বড় পদক্ষেপ

শেয়ারবাজারে প্রতারণার মাধ্যমে ২৫৭ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক ও সাবেক সংসদ সদস্য সাকিব আল হাসানসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

মঙ্গলবার (১৭ জুন) দুপুরে দুদকের সহকারী পরিচালক সাজ্জাদ হোসেন বাদী হয়ে সংস্থার সমন্বিত জেলা কার্যালয়, ঢাকা-১-এ মামলাটি দায়ের করেন। মামলার তথ্য নিশ্চিত করেছেন দুদকের মহাপরিচালক মো. আক্তার হোসেন।

তিনি জানান, সাকিব আল হাসান তিনটি কোম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগ করেন এবং সেখানে বাজার কারসাজিতে তার সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। শেয়ারবাজারে চলমান অনিয়মে তিনি সরাসরি লাভবান হয়েছেন বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ রয়েছে।

এর আগে, গতকাল সাকিবসহ মামলার অন্য ১৪ আসামির বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা জারি করেন আদালত। বাকি আসামিরা হলেন: সমবায় অধিদপ্তরের উপনিবন্ধক মো. আবুল খায়ের ও তার স্ত্রী কাজী সাদিয়া হাসান, আবুল কালাম মাদবর, কনিকা আফরোজ, মোহাম্মদ বাশার, সাজেদ মাদবর, আলেয়া বেগম, কাজী ফুয়াদ হাসান, কাজী ফরিদ হাসান, শিরিন আক্তার, জাভেদ এ মতিন, মো. জাহেদ কামাল, মো. হুমায়ুন কবির ও তানভির নিজাম।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, প্যারামাউন্ট ইস্যুরেন্স লিমিটেড, ক্রিস্টাল ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড ও সোনালী পেপারস লিমিটেড—এই তিনটি কোম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগের মাধ্যমে সাকিব শেয়ারবাজারে কারসাজিতে জড়িত ছিলেন। তিনি সাধারণ বিনিয়োগকারীদের ওই শেয়ারে বিনিয়োগে প্রলুব্ধ করে ২ কোটি ৯৫ লাখ টাকারও বেশি লাভ নিজের নামে উত্তোলন করেন।

চলতি বছরের এপ্রিল মাসে সাকিবের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। অর্থপাচার ও জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুদকের উপপরিচালক মাহবুবুল আলমের নেতৃত্বে দুই সদস্যের একটি তদন্ত দল গঠন করা হয়।