“বয়কট-ওয়াকআউটকে ইতিবাচক বলছেন প্রধান উপদেষ্টার মুখপাত্র”

জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের আলোচনায় অংশগ্রহণকারী রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতীকী বয়কট ও ওয়াকআউট নিয়ে মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার। তার মতে, এটি রাজনীতিতে অনৈক্যের নয়, বরং একটি ইতিবাচক রাজনৈতিক সংস্কৃতির প্রতিফলন।

বুধবার (১৮ জুন) দিবাগত রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে আজাদ মজুমদার লিখেছেন, “জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সভা একদিন একটি দল প্রতীকীভাবে বয়কট করেছিল। পরদিনই তারা আবার আলোচনায় ফিরে আসে। এরপর সভায় ওই দলকে বেশি কথা বলতে দেওয়ার অভিযোগে অন্য দুটি দল প্রতীকী ওয়াকআউট করে। অনেকে হয়তো এটিকে রাজনীতিতে অনৈক্যের ছায়া মনে করছেন, কিন্তু আমি এটিকে দেখছি খুবই ইতিবাচকভাবে।”

তিনি বলেন, বর্তমানে দেশে কোনো সংসদ নেই। যদিও গত দেড় যুগ ধরে সংসদ ছিল, সেখানে আইন প্রণয়নের চেয়ে নেতাদের প্রশংসা বা প্রতিপক্ষকে আক্রমণেই সময় বেশি ব্যয় হয়েছে। সংসদীয় চর্চার এই ঘাটতি পুষিয়ে দিতে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের মত একটি ফোরামে রাজনীতিবিদদের অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন তিনি।

আজাদ মজুমদার আরও বলেন, “গতকাল কিছুক্ষণ ঐকমত্য কমিশনের সভায় ছিলাম। সেখানে প্রাণবন্ত বিতর্কে রাজনীতিবিদদের অংশগ্রহণ দেখে মনে হয়েছে এটাই এখন আমাদের বিকল্প সংসদ। রাজনীতিবিদরা যে বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করছেন, সেগুলোই হয়তো ভবিষ্যতে আইনে পরিণত হবে।”

তিনি আশা প্রকাশ করেন, “এই রাজনীতিবিদদেরই অনেকে ভবিষ্যতে নির্বাচিত হয়ে সংসদে যাবেন। এখন যেমন তারা রাষ্ট্র কাঠামো নিয়ে মত প্রকাশ করছেন, তখনও তেমনি প্রাণবন্ত বিতর্ক হবে। কোনো বিষয়ে দ্বিমত থাকলে প্রতীকী প্রতিবাদ ও ওয়াকআউট করবেন। এ সংস্কৃতিটা আমাদের রাজনীতি থেকে হারিয়ে গিয়েছিল। ঐকমত্য কমিশনের মাধ্যমে তা আবার ফিরে এসেছে।”

উপ-প্রেস সচিব আশা করেন, ভবিষ্যতের নির্বাচিত সংসদও একইভাবে গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি ও মুক্ত আলোচনায় প্রাণবন্ত হয়ে উঠবে।




সংবিধান সংশোধন করে বিচার বিভাগের ক্ষমতা পুনর্বিন্যাসের প্রস্তাব সালাহউদ্দিন আহমদের

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, সুপ্রিম কোর্টসহ পুরো বিচার বিভাগকে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ করার লক্ষ্যে তাদের দল লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। এই বিচার বিভাগ সংসদ ও নির্বাহী বিভাগের ওপর নজরদারি রাখবে এবং জাতীয় অভিভাবক হিসেবে কাজ করবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

বুধবার (১৮ জুন) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর দিনব্যাপী আলোচনার পর এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে সালাহউদ্দিন আহমেদ এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, “আমরা চাই, সুপ্রিম কোর্ট পুরোপুরি স্বাধীন হোক, যেন এটি একটি রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করে। বিচার বিভাগ হতে হবে এমন একটি প্রতিষ্ঠান, যেটির ওপর দেশের প্রতিটি নাগরিক আস্থা রাখতে পারে। অতীতে সেই আস্থা আমরা পাইনি।”

বর্তমান সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির এককভাবে প্রধান বিচারপতি নিয়োগের ক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন বিএনপি নেতা। তিনি বলেন, “আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে হলে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতার ওপর কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করতে হবে। কী কী যোগ্যতার ভিত্তিতে তিনি প্রধান বিচারপতি মনোনয়ন দেবেন, তা সংজ্ঞায়িত করতে হবে। দুটি দল ছাড়া প্রায় সবাই এই বিষয়ে একমত।”

বিচারক নিয়োগ পদ্ধতি সংস্কারে ঐকমত্য রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, “যদি একটি স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রধান বিচারপতি ও বিচারকদের নিয়োগ শুরু হয়, তাহলে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় যে পদ্ধতি কলুষিত হয়েছিল, তা থেকে বেরিয়ে আসা সম্ভব।”

নারী সংরক্ষিত আসন প্রসঙ্গে তিনি জানান, বিএনপি এবং আরও কিছু রাজনৈতিক দল সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনের সংখ্যা ৫০ থেকে ১০০টিতে উন্নীত করার প্রস্তাব দিয়েছে। এই আসনগুলো বিদ্যমান সংবিধান অনুযায়ী দলীয়ভাবে মনোনীত হলেও বিকল্প প্রস্তাব হিসেবে সরাসরি নির্বাচনের ধারণাও আলোচনায় এসেছে।

এছাড়া দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট সংসদের বিষয়েও বিএনপি ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছে বলে জানান সালাহউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, “একশ আসনের একটি দ্বিতীয় কক্ষ গঠনের ধারণার সঙ্গে আমরা একমত। বেশিরভাগ দলও এই চিন্তার প্রতি ইতিবাচক। তবে কিছু বিষয়ে আপত্তি থাকায় আরও আলোচনা প্রয়োজন।”

তিনি বলেন, “কাজের ধরন ও কাঠামো নির্ধারণে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে একটি কার্যকর ঐকমত্য গড়তে আরও সময় লাগতে পারে, তবে আলোচনা এগোচ্ছে।”




এনসিসি বিরোধীরা ফ্যাসিবাদী কাঠামোই চায়: নাহিদ ইসলাম

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, যারা জাতীয় সাংবিধানিক কাউন্সিল (এনসিসি) গঠনের বিরোধিতা করছেন, তারা মূলত ফ্যাসিবাদী শাসনব্যবস্থায় থাকতে চান।

বুধবার (১৮ জুন) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর দ্বিতীয় পর্যায়ের তৃতীয় বৈঠকের বিরতিতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।

নাহিদ বলেন, “আমরা জানতে চাই— অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কি আগের ফ্যাসিবাদী কাঠামোই ধরে রাখতে চায়? কারণ, কয়েকটি রাজনৈতিক দল এনসিসির বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে। আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই, এনসিসি বিরোধীরা আসলে ফ্যাসিবাদী কাঠামোতেই থাকতে আগ্রহী।”

তিনি অভিযোগ করেন, দেশে বিদ্যমান মানবাধিকার কমিশন, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও নির্বাচন কমিশন (ইসি) গত ১৬ বছরে জনগণের আস্থা অর্জন করতে পারেনি। বরং এসব প্রতিষ্ঠান নির্দিষ্ট একটি দল ও ব্যক্তির আজ্ঞাবহ হয়ে উঠেছে, বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

এনসিপি নেতা নাহিদ ইসলাম বলেন, “নতুন বাংলাদেশের জন্য প্রয়োজন নির্বাহী বিভাগের ক্ষমতার ভারসাম্য আনা। এনসিসি গঠনের মাধ্যমে সেই ভারসাম্য নিশ্চিত করা সম্ভব।”

তিনি আরও জানান, এনসিসির কাঠামোতে সশস্ত্র বাহিনীর প্রধানদের নিয়োগের বিষয়টি রাখা উচিত নয়। একইভাবে, রাষ্ট্রপতি ও প্রধান বিচারপতিকেও এই কাউন্সিলের আওতার বাইরে রাখতে হবে। এ বিষয়ে জাতীয় ঐকমত্য প্রতিষ্ঠায় আরও আলোচনার প্রয়োজন রয়েছে বলে মত দেন তিনি।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, “সেই গণআন্দোলনের চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে রাজনৈতিক দলগুলোকে সাহসিকতার সঙ্গে সংস্কারমুখী অবস্থান নিতে হবে এবং এনসিসি গঠনে সুনির্দিষ্ট মতামত দিতে হবে।”




যৌথ সংবাদ সম্মেলন নিয়ে আপত্তি, তবে আলোচনায় ফিরেছে জামায়াত

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেছেন, বিএনপি ও সরকারের যৌথ সংবাদ সম্মেলন দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি ‘বিরল’ ঘটনা এবং এতে অন্য সব রাজনৈতিক দল বিব্রত হয়েছে। তার দাবি, এই কারণেই জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে দ্বিতীয় পর্যায়ের দ্বিতীয় বৈঠকে জামায়াত অংশ নেয়নি।

বুধবার (১৮ জুন) ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর দ্বিতীয় পর্যায়ের তৃতীয় বৈঠকের বিরতিতে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

তাহের বলেন, “কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সরকারের যৌথ সংবাদ সম্মেলন ইতিহাসে বিরল। এটি দেশের অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোর জন্যও বিব্রকের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এখানেই জামায়াতে ইসলামীর আপত্তি ছিল।”

তিনি আরও জানান, গত মঙ্গলবার দুপুরে প্রধান উপদেষ্টা জামায়াতের আমিরের সঙ্গে কথা বলেছেন। এরপর প্রধান উপদেষ্টা জামায়াতের অবস্থান বুঝতে চেয়েছেন বলে তারা মনে করেন। এ উপলব্ধির ভিত্তিতেই জামায়াত বুধবারের আলোচনায় অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয়।

আলোচনায় অংশ নিয়ে জামায়াতে ইসলামী জাতীয় সাংবিধানিক কাউন্সিল (এনসিসি) গঠনের পক্ষে মত দেয় বলে জানান তাহের। তার মতে, এ কাঠামোর মাধ্যমে রাষ্ট্রক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষা সম্ভব হবে। তবে এনসিসির কাঠামো ও কার্যপরিধি নিয়ে ভিন্নমতও রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, “আমরা রাষ্ট্রপতি ও প্রধান বিচারপতিকে এনসিসির আওতায় রাখার বিপক্ষে। একইভাবে, তিন বাহিনী প্রধানের নিয়োগও এই কমিটির আওতায় না রাখার পক্ষে জামায়াতে ইসলামী। তবে এ বিষয়গুলো নিয়ে আরও আলোচনা প্রয়োজন।”

তাহের বলেন, “আমরা কখনোই সরকারকে ব্যর্থ করতে চাই না। বরং আমরা চাচ্ছি, সরকারকে সহযোগিতা করতে—যাতে একটি কার্যকর রাজনৈতিক সমঝোতা গড়ে তোলা যায়।”




জামিনে মুক্তি পেলেন গান বাংলার তাপস

গানবাংলা টেলিভিশনের প্রধান নির্বাহী কৌশিক হোসেন তাপস জামিনে মুক্ত হয়ে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার (কেরানীগঞ্জ) থেকে বের হয়েছেন।

বুধবার (১৮ জুন) সন্ধ্যা ৭টার দিকে তিনি কারাগার থেকে মুক্তি পান। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকা বিভাগের কারা উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি প্রিজন্স) মো. জাহাঙ্গীর কবির।

তিনি বলেন, জামিনে মুক্ত হয়ে সন্ধ্যা ৭টার দিকে কৌশিক হোসেন তাপস কারাগার ত্যাগ করেন।

এর আগে, গত বছরের ৪ নভেম্বর রাত ৩টার দিকে উত্তরার তাপসের বাসার এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাকে গত বছরের ১৮ জুলাই কোটা আন্দোলনে রাজধানীর আজমপুরে ব্যবসায়ী ইশতিয়াক মাহমুদকে হত্যার চেষ্টার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছিল।




মেয়েকে নিয়ে মানবেতর দিন কাটাচ্ছেন অসহায় হেলাল

শৈশবে মা–বাবা হারানোর পর ভাই–বোনের নির্যাতনে ভিটেমাটি হারিয়েছেন মো. হেলাল। এরপর ঠাঁই হয় বরিশাল নগরীর ১০ নম্বর ওয়ার্ডের কেডিসি বালুরমাঠ বস্তিতে। সেখানেই শুরু করেন সংসার। কিন্তু ভাগ্য যেন কখনোই পাশে ছিল না তার।

কয়েক বছর আগে ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মারা যান হেলালের স্ত্রী বিউটি বেগম। দুই মেয়ের মধ্যে বড়টির বিয়ে হয়েছে, আর ছোট মেয়েকে নিয়ে এখন বেঁচে থাকার সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।

৪৫ বছর বয়সী এই মানুষটি শরীরে শ্বাসকষ্ট, চর্মরোগ ও হাড়ের ব্যথা নিয়ে এখন কোনো ভারী কাজ করতে পারেন না। রোগের কারণে কোনো স্থায়ী কাজও জোটে না। তার সামান্য ভরসা—a ছোট্ট টিনের বক্স নিয়ে রাস্তার পাশে পান-বিক্রির ভাসমান দোকান।

গত ১৭ জুন, বর্ষার ভেতর কেডিসি সড়কে পান বিক্রি করতে দেখা যায় তাকে। গলায় ঝুলানো টিনের বাক্সে বৃষ্টিভেজা পান–সিগারেটের কিছু জিনিস। দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকায় তার পণ্যও পচে যাচ্ছে, তাও বিক্রি হচ্ছে না ঠিকমতো।

হেলাল বলেন, “ভিক্ষা না করে ছোট ব্যবসা করে মেয়েটাকে নিয়ে বাঁচতে চাই। কিন্তু দোকানে তেমন পুঁজি নেই। কেউ যদি একটু সাহায্য করতেন, তাহলে হয়তো একটু স্বস্তিতে বাঁচতে পারতাম।”

হেলালের অসহায় জীবন দেখে কেউ কেউ একবার এক হাজার টাকার পণ্য দিয়েছিলেন, কিন্তু এখন তা-ও নেই। তার মতো একজন লড়াকু মানুষ সমাজের সহানুভূতি ও সহযোগিতা পাওয়ার দাবি রাখেন।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




ডেঙ্গু তথ্য ঘাটতিতে বিপাকে বরিশাল স্বাস্থ্য বিভাগ

বরিশালসহ দক্ষিণাঞ্চলে ডেঙ্গু আক্রান্ত ও মৃত্যুর প্রকৃত তথ্য না থাকায় উদ্বেগজনক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। সরকারি হাসপাতালের সীমিত তথ্যের বাইরে বেসরকারি পর্যায়ে চিকিৎসাধীন রোগীদের হিসাব না থাকায় স্বাস্থ্য বিভাগের চিত্র ও বাস্তবতার মধ্যে বড় ব্যবধান তৈরি হয়েছে।

গত রোববার বরিশালের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গুতে মারা যান পটুয়াখালীর গলাচিপার এক এসএসসি পরীক্ষার্থী। একই দিন ঢাকা নেওয়ার পথে বরগুনার এক শিশু মারা যায়। কিন্তু বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তরের প্রতিবেদনে ওই মৃত্যুর কোনো উল্লেখ নেই।

স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়, ২০২৫ সালের শুরু থেকে ১৭ জুন পর্যন্ত বরিশাল বিভাগে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে সরকারি হিসেবে ৮ জন মারা গেছে। অথচ স্থানীয়দের দাবি, শুধু বরগুনা জেলাতেই মৃতের সংখ্যা ১৩ জন।

বরগুনার সিভিল সার্জন ডা. মো. আবুল ফাত্তাহ বলেন, “সরকারি হাসপাতালে ভর্তি রোগীর চেয়ে অন্তত দুই থেকে তিনগুণ রোগী বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। কিন্তু সেই তথ্য আমাদের কাছে নেই। সঠিক তথ্যের চেয়ে প্রতিরোধই এখন সবচেয়ে জরুরি।”

ডেঙ্গু আক্রান্তদের সঠিক সংখ্যা জানাতে না পারার কথা স্বীকার করেছেন বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. শ্যামল কৃষ্ণ মণ্ডল। তিনি বলেন, “প্রত্যেক জেলার সিভিল সার্জনদের মাধ্যমে বেসরকারি হাসপাতালের তথ্য চেয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু কেউই তা পাঠায়নি।”

স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যমতে, বরিশাল বিভাগের সরকারি হাসপাতালগুলোতে এ পর্যন্ত ৩ হাজার ৭৫ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে ২ হাজার ৬৬০ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন, চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৪০৭ জন। সর্বাধিক আক্রান্ত বরগুনা জেলায় এখন চিকিৎসাধীন রয়েছেন ২৩৩ জন।

তবে ডেঙ্গু পরিস্থিতি সম্পর্কে স্থানীয়রা বলছেন, বাস্তব অবস্থা আরও ভয়াবহ। বরগুনার পরিবেশ কর্মী আরিফুর রহমান বলেন, “ডেঙ্গুর প্রকোপ এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে, অনেক পরিবারেই আক্রান্ত রয়েছে। কিন্তু অনেকেই আর্থিক কারণে হাসপাতালে যায় না, কেউ কেউ ঢাকায় চলে যায় চিকিৎসার জন্য।”

বেসরকারি হাসপাতালগুলো সঠিক তথ্য না দিলে ডেঙ্গু প্রতিরোধ কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তথ্য সংগ্রহে নতুন করে উদ্যোগ নেওয়া হবে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




থেমে থেমে বৃষ্টিতে দুর্ভোগে বরিশালবাসী

বরিশালসহ দক্ষিণাঞ্চলের ছয় জেলায় সক্রিয় রয়েছে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু। এর প্রভাবে বরিশালে থেমে থেমে বৃষ্টি হচ্ছে, যা কখনো গুঁড়ি গুঁড়ি, কখনো বা মাঝারি মাত্রায় অব্যাহত রয়েছে। এই বৃষ্টিপাতের ফলে কমেছে তাপমাত্রা, তবে সঙ্গে বেড়েছে নগরবাসীর দুর্ভোগ।

গতকাল রাত থেকেই বরিশালের আকাশ ছিল মেঘাচ্ছন্ন। কখনো হালকা, আবার কখনো ভারি বৃষ্টি নগরবাসীর স্বাভাবিক চলাফেরায় বিঘ্ন ঘটায়। কর্মজীবী মানুষ, শিক্ষার্থী ও যানবাহন চলাচলে সমস্যা দেখা দিয়েছে।

আবহাওয়া অফিস জানায়, বরিশালে গত ২৪ ঘণ্টায় ৩৭ দশমিক ৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে। আজকের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৬ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আগামী কয়েক দিন এই আবহাওয়া অব্যাহত থাকতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে তারা।

এদিকে, সাগর উত্তাল থাকায় সমুদ্রবন্দরগুলোকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত এবং নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত বরিশাল নগরীতে কোথাও জলাবদ্ধতার খবর পাওয়া যায়নি।

বর্ষা মৌসুমের এমন আবহাওয়ায় ভোগান্তি থাকলেও অনেকেই স্বস্তি পাচ্ছেন গরম কমে আসায়।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




ধার দেওয়া টাকার দাবিতে গিয়ে নারী সদস্যদের মারধর, স্বর্ণালংকার ছিনতাইয়ের অভিযোগ

বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার দুধল ইউনিয়নে ধার দেওয়া টাকার দাবিতে গিয়ে এক ইউপি সদস্যসহ তার পরিবারের নারী সদস্যদের ওপর হামলা ও স্বর্ণালংকার ছিনতাইয়ের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী আবু জাফর খান নামে এক ব্যক্তি।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার দুধল গ্রামের বাসিন্দা মো. আবু জাফর খান স্থানীয় প্রতিবেশী আলতাফ হোসেনসহ ছয়জনকে বসতঘর নির্মাণের জন্য ২০২২ সালের ২০ ডিসেম্বর লিখিত স্ট্যাম্পে চুক্তিবদ্ধ হয়ে ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা ঋণ দেন। ধার্যকৃত সময়ে টাকা পরিশোধ না করে বারবার টালবাহানা করতে থাকেন অভিযুক্তরা।

পরবর্তীতে চলতি বছরের ২৬ মে বিকেল ৫টার দিকে বাদীর স্ত্রী মিনারা বেগম, পুত্রবধূ মনিকা আক্তার ও কন্যা কল্পনা আক্তার পাওনা টাকা চাইতে গেলে অভিযুক্ত আলতাফ হোসেন, বাবুল হাওলাদার, বিলকিস বেগম, আতিকুর রহমানসহ কয়েকজন তাদেরকে লোহার রড, লাঠিসোটা দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করেন। এতে তারা গুরুতর আহত হন।

এছাড়া অভিযোগে বলা হয়, হামলার সময় মিনারা বেগমের গলায় থাকা প্রায় ৮ আনা ওজনের স্বর্ণের চেইন এবং মনিকা আক্তারের কান থেকে ৪ আনা ওজনের স্বর্ণের কানের দুল ছিনিয়ে নেয় অভিযুক্তরা। শুধু তাই নয়, তাদের শ্লীলতাহানির চেষ্টা এবং প্রাণনাশের হুমকিও দেন তারা। এ সময় ভুক্তভোগীদের চিৎকারে স্থানীয় লোকজন ছুটে এসে তাদের উদ্ধার করেন এবং আহতদের স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

ঘটনার বিষয়ে বাকেরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি শফিকুল ইসলাম বলেন, ভুক্তভোগীর পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ বিষয়ে অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে এখনো কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযুক্তকারীরা বাদীকে বিভিন্ন ওভাবে হয়রানি এবং মৃত্যু হুমকি দিচ্ছে ।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসে জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের বৈঠক, আলোচনায় গণতন্ত্র ও নির্বাচনী ইস্যু

বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে ঢাকায় নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের রাজনৈতিক শাখাপ্রধান ম্যাথিউ বে-এর সঙ্গে বৈঠকে বসেছে জামায়াতে ইসলামী। মঙ্গলবার (১৭ জুন) বিকেলে ঢাকার মার্কিন দূতাবাসে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, আসন্ন নির্বাচন এবং মানবাধিকার বিষয়ে মতবিনিময় হয়।

জামায়াতের পক্ষ থেকে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন নায়েবে আমির ও সাবেক সংসদ সদস্য ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের এবং কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে অংশ নেন দূতাবাসের রাজনৈতিক কর্মকর্তা হারমানাস্কি ও জ্যামি স্টেলিও।

বিশ্বব্যাপী মানবাধিকার ও গণতন্ত্র নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রহের প্রেক্ষাপটে এ ধরনের বৈঠক বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। দলটির পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বৈঠকে অভ্যন্তরীণ গণতান্ত্রিক চর্চা, সিদ্ধান্ত গ্রহণে স্বচ্ছতা, নারী ও সংখ্যালঘুদের অধিকার রক্ষায় জামায়াতের অবস্থান তুলে ধরা হয়।

এছাড়া আলোচনায় উঠে আসে ১৯৭১ সালের জুলাই মাসে সংঘটিত গণ-অভ্যুত্থান ও সহিংসতার বিচার, রাজনৈতিক সংস্কার এবং একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের আয়োজনের প্রস্তাবনা।

বৈঠকে জামায়াত তাদের পক্ষ থেকে দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, সহনশীল রাজনৈতিক পরিবেশ তৈরি এবং সন্ত্রাস-চরমপন্থার বিরুদ্ধে দলের অবস্থানের কথাও তুলে ধরে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আন্তর্জাতিক কূটনীতিকদের সঙ্গে জামায়াতের এই সংলাপ আগামী নির্বাচন ও রাজনৈতিক পটপরিবর্তনে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।