২৪ ঘণ্টায় করোনায় ২ জনের মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ৪

গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে করোনায় আক্রান্ত হয়ে ২ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ৪ জন।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুম থেকে শনিবার রাতে প্রকাশিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় মোট ২১১টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়, যার মধ্যে করোনা শনাক্তের হার ছিল ১.৯০ শতাংশ। আগের দিন শুক্রবার ৬ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছিল।

নতুন আক্রান্ত ৪ জনসহ দেশে মোট করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০ লাখ ৫১ হাজার ৯৪২ জনে। এ সময় ২ জনের মৃত্যু নিয়ে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৯ হাজার ৫১০ জনে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরো উল্লেখ করা হয়েছে, চলতি বছরে করোনায় মোট ১১ জনের মৃত্যু এবং ৩৯৭ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




কেমিক্যাল নয়, ঠোঁটে লাগুক প্রাকৃতিক ঘরোয়া রঙ

লিপস্টিকের ইতিহাস হাজার বছর পুরোনো। প্রাচীন মেসোপটেমিয়ার নারীরা পুষ্প ও রত্নের নির্যাস দিয়ে ঠোঁট রাঙাতেন। মিশরের বিখ্যাত রানী ক্লিওপেট্রা কারমাইন পোকা ব্যবহার করে লিপস্টিক বানাতেন। সেই যুগে লিপস্টিক ছিল রাজকীয় ঐশ্বর্যের প্রতীক।

মনোবিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন, দুঃখ, ক্লান্তি বা অবসাদে থাকা একজন নারী যখন লিপস্টিক লাগান, তা তার আত্মবিশ্বাস ও মর্যাদা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। লিপস্টিক শুধু সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে না, এটি নারীর আত্মপরিচয় ও ব্যক্তিত্বের এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

আধুনিক যুগে লিপস্টিক কেবল রঙই নয়, এটি নারীর ভাষা। তবে অনেক নারী এখন কেমিক্যাল মুক্ত, প্রাকৃতিক ও নিরাপদ লিপস্টিক ব্যবহার করতে চান। তাই আজ ঘরেই তৈরি করুন স্বাস্থ্যকর ও সুন্দর লিপস্টিক।

ঘরোয়া লিপস্টিক তৈরির উপকরণ:

  • ১ টেবিল চামচ নারকেল তেল
  • ১ টেবিল চামচ শিয়া বাটার বা কোকো বাটার
  • অর্ধেক চামচ মোম (বি ওয়্যাক্স)
  • কয়েক ফোঁটা এসেনশিয়াল অয়েল
  • ছোট কনটেইনার

তৈরির পদ্ধতি:

১. একটি পাত্রে পানি গরম করে স্টিলের একটি বাটি সেট করুন।
২. বাটিতে নারকেল তেল, মোম ও শিয়া বাটার একসাথে ঢেলে কম আঁচে গলাতে থাকুন এবং ভালো করে নাড়ুন।
৩. মিশ্রণ গরম থাকাকালীন ১-২ ফোঁটা এসেনশিয়াল অয়েল মেশান।
৪. ঠান্ডা হলে পুরানো লিপস্টিকের কনটেইনারে ঢেলে জমিয়ে নিন।
৫. রঙের জন্য বিটরুট গুঁড়া, কোকো পাউডার বা গাজরের রস ব্যবহার করতে পারেন।

ঘরোয়া প্রাকৃতিক এই লিপস্টিক ঠোঁটকে করবে সুস্থ, সুন্দর এবং নিরাপদ।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




শেখ হাসিনাকে বিচারমুখী দেখতে চাই: বিবিসিকে ড. ইউনূস

প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস জানিয়েছেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিচার একটি চলমান আইনি প্রক্রিয়া এবং তিনি চান, শেখ হাসিনা যেন বিচারকের সামনে হাজির হন।

ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ড. ইউনূস বলেন, “আমরা চাই তিনি বিচারের মুখোমুখি হোন। তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য আন্তর্জাতিক পদ্ধতি ব্যবহার করব।”

তিনি আরও জানান, শেখ হাসিনা বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন এবং সেখান থেকে নিয়মিতভাবে ভাষণ দিয়ে যাচ্ছেন। এ বিষয়টি বাংলাদেশের জন্য উদ্বেগজনক বলে মন্তব্য করেন ড. ইউনূস।

গত ১২ জুন যুক্তরাজ্য সফরে গিয়ে ব্রিটিশ রাজা তৃতীয় চার্লসের কাছ থেকে ‘হারমনি অ্যাওয়ার্ড’ গ্রহণের আগে বিবিসি সাংবাদিক রাজিনি বৈদ্যনাথনের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে এসব মন্তব্য করেন তিনি।

সাক্ষাৎকারে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “আমরা তাকে (শেখ হাসিনা) ফিরিয়ে আনার জন্য আন্তর্জাতিক আইন অনুসরণ করব। যেভাবে একজন অভিযুক্তকে ফিরিয়ে আনা হয়, আমরা সেই প্রক্রিয়া অনুসরণ করব। আমাদের কোনো ব্যক্তিগত ক্ষমতা নেই কাউকে ধরে আনার।”

আওয়ামী লীগের সমর্থকদের গ্রেপ্তার সংক্রান্ত প্রশ্নে ড. ইউনূস বলেন, “আওয়ামী লীগ সরকার ও অন্তর্বর্তী সরকারের মধ্যে তুলনা করাটা লজ্জাজনক। যারা এই তুলনা করে, তারা বাংলাদেশের বাস্তবতা বোঝে না।”

তিনি দাবি করেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ন্যায়বিচারের পথে চলছে এবং আইন অনুযায়ী পদক্ষেপ নিচ্ছে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




ঢাকা মেডিকেল শিক্ষার্থীদের হল ত্যাগে অনীহা, চলবে অবস্থান ও কর্মসূচি

ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) বন্ধের প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করে হল না ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। একইসঙ্গে তাদের পাঁচ দফা দাবি বাস্তবায়নে চলমান কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তারা।

শনিবার (২১ জুন) সন্ধ্যায় এক ঘোষণায় শিক্ষার্থীরা জানান, কলেজ প্রশাসনের একতরফা সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়া সম্ভব নয়। আলোচনা ছাড়াই হঠাৎ করে একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়ে হল ছাড়ার নির্দেশ অযৌক্তিক এবং অনৈতিক বলে দাবি করেন তারা।

শিক্ষার্থী তৌহিদুল আবেদীন তানভীর বলেন, “পরিত্যক্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে আমাদের রাখা হয়েছে। এসব ভবনে বিকল্প কোনো ব্যবস্থা না করেই এখন আমাদের হল ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যা অমানবিক।” তিনি আরও বলেন, “আমরা শান্তিপূর্ণভাবে হলে অবস্থান করব এবং দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি চালিয়ে যাব।”

এর আগে, শনিবার সকাল থেকে পাঁচ দফা দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি ও মিছিল করেন ঢামেক শিক্ষার্থীরা। তাদের দাবির মুখে বিকেলে কলেজ প্রশাসনের পক্ষ থেকে এক বিজ্ঞপ্তিতে ঘোষণা দেওয়া হয়, একাডেমিক কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ থাকবে এবং আগামীকাল ২২ জুন দুপুর ১২টার মধ্যে শিক্ষার্থীদের হল ত্যাগ করতে হবে।

ঢামেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মো. কামরুল আলম স্বাক্ষরিত ওই বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, “কলেজের চলমান অচলাবস্থা নিরসনের লক্ষ্যে একাডেমিক কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হলো। সব শিক্ষার্থীকে ২২ জুন দুপুর ১২টার মধ্যে হল ত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হলো।” তবে পেশাগত পরীক্ষার্থীদের ও বিদেশি শিক্ষার্থীদের এই বন্ধের আওতামুক্ত রাখা হয়েছে।

শিক্ষার্থীরা বলছেন, হঠাৎ করে হল ত্যাগের নির্দেশে বিপাকে পড়েছেন দূরের শিক্ষার্থীরা। ঈদের ছুটি শেষে appena ক্যাম্পাসে ফিরে আসা অনেক শিক্ষার্থীর এখন নতুন করে বাসস্থানের চিন্তায় উদ্বেগ বেড়েছে।

এক নারী শিক্ষার্থী বলেন, “বিকল্প ব্যবস্থা না করে হলে তালা দেওয়ার নির্দেশ মানে আমাদের নিরাপত্তা ও শিক্ষাজীবন দুটোই হুমকির মুখে ঠেলে দেওয়া। আমরা আন্দোলনে আছি এবং থাকব।”

শিক্ষার্থীদের পাঁচ দফা দাবি
১. দ্রুত নতুন ছাত্রাবাস ও ছাত্রীনিবাসের জন্য বাজেট অনুমোদন।
২. নতুন ভবন চালু না হওয়া পর্যন্ত বিকল্প আবাসনের ব্যবস্থা।
৩. নতুন একাডেমিক ভবনের বাজেট অনুমোদন।
৪. পৃথক বাজেট ও তার দ্রুত বাস্তবায়নের পরিকল্পনা।
৫. সব সিদ্ধান্ত ও কার্যক্রমে শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা।

শিক্ষার্থীরা জানান, শুধু আবাসন নয়, নিরাপদ ও টেকসই শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত একাডেমিক কার্যক্রম স্বাভাবিক হতে পারে না। এজন্য আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।




 বাংলাদেশ টেস্ট অভিযান, ড্র এর মাধ্যমে যাত্রা শুরু

 গলে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রথম টেস্ট ড্র করে আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের নতুন চক্রে যাত্রা শুরু করেছে বাংলাদেশ। ম্যাচের বেশিরভাগ সময়ই এগিয়ে থাকলেও শেষ পর্যন্ত লঙ্কানদের সবকটি উইকেট নিতে না পারায় ড্রতেই সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে টাইগারদের।

প্রথম ইনিংসে নাজমুল হোসেন শান্ত ও মুশফিকুর রহিমের ব্যাটে ভর করে ৪৯৫ রানের বড় সংগ্রহ গড়ে বাংলাদেশ। শান্তর ১৭৩ রানের দুর্দান্ত ইনিংস এবং মুশফিকের ৮৭ রানে ভর করে এগিয়ে যায় সফরকারীরা। জবাবে ব্যাটিং স্বর্গখ্যাত গলে শ্রীলঙ্কাও দেখিয়েছে প্রতিরোধ। দিমুথ করুণারত্নে ও ধনঞ্জয় ডি সিলভার হাফসেঞ্চুরিতে ভর করে স্বাগতিকরা ৪৮৫ রান তোলে। প্রথম ইনিংসে মাত্র ১০ রানের লিড পায় বাংলাদেশ।

দ্বিতীয় ইনিংসেও শান্ত ছিলেন অনবদ্য। আবারও সেঞ্চুরি তুলে নেন তিনি। তাকে সঙ্গ দেন নাইম হাসান। মুশফিক ৪৯ রানে রানআউট হলেও শান্ত পূর্ণ করেন শতক। ২৮৫ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে ইনিংস ঘোষণা করে বাংলাদেশ। ফলে শ্রীলঙ্কার সামনে লক্ষ্য দাঁড়ায় ২৯৬ রান, হাতে ছিল ৩৭ ওভার।

লঙ্কানদের শুরুটা ছিল আগ্রাসী, তবে বাংলাদেশের বোলিংয়ে খুব একটা সুবিধা করতে পারেনি তারা। ষষ্ঠ ওভারে লাহিরু উদারা স্টাম্পড হন লিটন দাসের হাতে, এরপরের বলেই নিশাঙ্কা ফেরেন শান্তর হাতে ক্যাচ দিয়ে। এরপর আর মাত্র দুই উইকেট হারিয়ে ৭২ রান করলে দুই অধিনায়কই ড্র মেনে নেন।

বাংলাদেশের হয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে তাইজুল, নাইম, মিরাজ ও শরিফুল একটি করে উইকেট শিকার করেন। আর ম্যাচজুড়ে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি হিসেবে ‘প্লেয়ার অব দ্য ম্যাচ’ নির্বাচিত হন শান্ত।

এই ড্রয়ের মাধ্যমে ২০২৫-২৭ চক্রের আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রথম পয়েন্ট অর্জন করল বাংলাদেশ। সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট শুরু হবে আগামী সপ্তাহে।




বাউফলে জমি বিরোধে নারীর মৃত্যু

পটুয়াখালীর বাউফলে জমি-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের হামলায় গুরুতর আহত সেতারা বেগম (৬০) অবশেষে মৃত্যুবরণ করেছেন। শুক্রবার (২০ জুন) দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাউফল উপজেলার কনকদিয়া ইউনিয়নের ঝিলনা গ্রামের বাসিন্দা সেতারা বেগমের সঙ্গে প্রতিবেশী নাসির মোল্লা, বশির মোল্লা ও তাদের ঘনিষ্ঠদের দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে এ বিরোধের জেরে হঠাৎ করে প্রতিপক্ষ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সেতারা বেগমের ওপর হামলা চালায়। সেসময় তিনি বাড়ির আঙিনায় অবস্থান করছিলেন।

হামলায় গুরুতর জখম হওয়ায় প্রথমে তাকে বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে অবস্থার আরও অবনতি ঘটলে তাকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

নিহতের ছেলে কাওছার হাওলাদার কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমার মাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। প্রতিপক্ষ আমাদের জমি দখলের জন্য আগেও হুমকি দিয়েছিল। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।”

এদিকে এলাকায় নিহতের মৃত্যুর খবরে শোকের ছায়া নেমে আসে। গ্রামবাসীদের মধ্যে ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।

বাউফল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ আখতারুজ্জামান সরকার বলেন, “আমরা বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখছি। ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

এ ঘটনায় এলাকায় নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় স্থানীয় প্রশাসন সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



বাচ্চাদের যেভাবে বড় করছেন জানালেন পরীমণি

ঢালিউডের আলোচিত-সমালোচিত নায়িকা পরীমণি। তার অভিনয় ক্যারিয়ার থেকে ব্যক্তিজীবন- সব ক্ষেত্রেই তুমুল বিতর্ক থাকলেও বেশিরভাগ মানুষ এটা স্বীকার করেন যে, মা হিসেবে পরীমণি অতুলনীয়। দুটি সন্তানকে কিভাবে একা হাতে সামলাচ্ছেন তা দেখার মতো। সন্তানরাই যেন এখন তার প্রথম পৃথিবী হয়ে উঠেছে।

তাই অনেকেরই জানার আগ্রহ রয়েছে, পরী কিভাবে তার সন্তানদের বড় করছেন? ছোট বয়স থেকেই কোন মূল্যবোধের চর্চা করাচ্ছেন? অবশেষে পরী নিজেই এক লম্বা পোস্টের মাধ্যমে নিজের মাতৃত্ব, গুড প্যারেন্টিং এবং সন্তানদের বড় করা নিয়ে নানা দিক তুলে ধরেছেন।

পরীমণি লিখেছেন, ‘একটা এক্সপেরিয়েন্স শেয়ার করি! মনে হলো দরকার আছে। খেয়াল করে দেখবেন, আপনার আশেপাশে কিছু মানুষ থাকবে তারা আপনার প্রতি তাদের কেয়ার বোঝানোর জন্য তাদের জীবনে ঘটে যাওয়া ভালো মন্দ নানান জিনিস উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরবে। যে এটা করবা, এটা করলে এটা ভালো হবে। এটা করবা না, এটা করলে এটা মন্দ হবে।

সেরকম আমার এক পরিচিত মানুষ (মায়ের সমতুল্য) আমাকে নানান রকম বুদ্ধি পরামর্শ দিতেন আর কি! আমার বাচ্চা নিয়ে দিতো। আমার ছেলে তখন একদমই ছোট। দুই/তিন মাসের হবে। আমি তো তখন প্রতিদিন নতুন নতুন অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। এখন অব্দি যাচ্ছি…

উনি সেসময়ে আমাকে নানান কিছু শেখাতেন। নতুন মায়েদের অবশ্য সবাই শেখাতে আসে। কিছু আসলে জানুক আর না জানুক। যাইহোক, উনি আমাকে বুঝাতেন- বাচ্চাকে ডিমের কুসুম দিতে ৩ মাস পর থেকেই (যেটা একদমই ঠিক নয়), আরও শেখাতেন- বাচ্চা বসা শিখলেই আমি যেন বাচ্চাকে ওয়াকার দিয়ে দেই! তাহলে নাকি বাচ্চা দ্রুত হাঁটতে শিখবে! আমি দেইনি বলে উনি নিজেই একদিন কিনে নিয়ে এলেন (যেটা এখন সাইন্টিফিক্যালি একদম ব্যান করে দেওয়া হয়েছে। কারণ বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দেখা গেছে এতে বাচ্চাদের মেরুদণ্ডের ক্ষতি করে। পঙ্গুত্ব পর্যন্ত হতে পারে!) তবে এ রকম অনেক ভুলভাল পরামর্শের মধ্যে কিছু ভালো জিনিসও উনি আমাকে শিখিয়েছেন। যেমন বাচ্চাকে প্রপার ওয়েতে ব্রেষ্ট ফিড করানো, তেল মালিশ করা, বাচ্চার গ্যাস ফাইন্ডআউট করা। আমি অবশ্যই তার জন্য কৃতজ্ঞ।’

এরপর তিনি এই লেখাটি কেন লিখছেন সে কথা তুলে ধরেন। পরীর ভাষ্য, ‘‘আজকের এই লেখাটার কারণ হচ্ছে অন্য একজন মায়ের জন্য। তার একটা ভিডিও আমি দেখলাম তার তিন বছরের বাচ্চাকে নিয়ে শপিংমলে শপিং করার ফুটেজে ভয়েস ওভারে গুড প্যারেন্টিং নিয়ে কথা বলতে! কথা বলা তো নয় বলা যায় এক রকম জ্ঞান দিচ্ছিলো আর কি। আমি খেয়াল করলাম, এই কথাগুলো আমার পরিচিত! কথাগুলো এমন- ‘বাবা মায়ের সাধ্য থাকলেও তাদের উচিত না বাচ্চাকে সব কিনে দেয়া। ঈদের শপিং এ তার ৩ বছরের বাচ্চাকে অপশন দিয়েছেন হয় জামা নিতে পারবে না হয় খেলনা।’’

এরপর পরী লিখেছেন, ‘এই কথাগুলো আমাকেও বলা হয়েছিলো। ওই যে যিনি আমাকে গুড প্যারেন্টিং নিয়ে উপদেশ দিতেন। উনি আমাকে এটাও বলেছিলেন, যে তার বাচ্চারা ছোটবেলায় বাইরে গেলে চিপস কিনতে চাইলেও নাকি তাদের তখন কিনে দেয়া হতো না। পরের দিন দিত। এতে নাকি বাচ্চার তার বাবা মায়ের সমর্থের উপর আস্থা আসে। বাচ্চা নাকি এতে অভাব বুঝতে শেখে। যাইহোক তারা তাই-ই শিখছে, মানে ওই ‘অভাব’ আর কি।

সরি ভাই! আমার মোটেও এই ধরনের প্যারেন্টিং বোধগম্যে হলো না। এই যে একটা বিষয়, ছোট্ট একটা বাচ্চা ২/৩ বছরের, ওরে তুমি অভাব শেখাও! কেমনে? তুমি তো ওরে মনুষত্ব শেখাবা। তবেই ও অভাব না শিখে অভাববোধ শিখবে। বাবা মায়ের সাধ্য সমর্থ্যের সঠিক মূল্যায়ন করতে শিখবে। না হলে বড় হয়ে তোমার মতোই ধোকাবাজি শিখবে।’ সবশেষে পরী লেখেন, ‘ভাই আমি বুঝিনা কোনও টোকাইও চায় তার বাচ্চাকে অন্তত ঈদের সময় দুনিয়াটা কিনে দিতে। আর আপনার সাধ্য আছে নিউ মার্কেট থেকে কেনাকাটার তাহলে আপনি নিশ্চয়ই বাচ্চাকে নিয়ে দুবাই চলে যাবেন না তাই না। এতে আপনার বাচ্চার কোমল মন ছোট অনুভব করে। অভাববোধ শেখাতে গিয়ে আপনি তাকে কৃপণ্যতা শেখাচ্ছেন।

হ্যাঁ, আমি আমার ছেলেকে একদম ছোট থেকেই খেলনার দোকানে ছেড়ে দিই। আর বলি, ‘আমার বাজান তোমার যা কিছু ভালো লাগে তুমি নিতে পারো।’ ফলে আমি ওর খুশি হওয়া দেখি। আমি দেখি কত লোভনীয় হার্মফুল টয় (পিস্তল, বন্দুক ইত্যাদি) ও ধরে না। ব্যাস, এতটুকুই শিক্ষা এই বয়সের জন্য যথেষ্ট। এক বস্তা খেলনা কিনে যখন সবাইকে ভাগ করে দেয়! ব্যাস, এতটুকু মন উদার হওয়াটাই ওর এই বয়সের জন্য যথেষ্ট। আমি জানি প্রত্যেক মায়ের বা বাচ্চাদের বড় হওয়ার জার্নি এক রকম নয়। শুধু এইটুকু বলার, আপনার সোশ্যাল কোনো কম্পিটিশনের মধ্যে বাচ্চদের ফেলবেন না প্লিজ।’




‘ইনশাল্লাহ্‌ ম্যাচ জেতা সম্ভব’ -আত্মবিশ্বাসী নাঈম

গল টেস্টের চতুর্থ দিন শেষে জমে উঠল লড়াই। প্রথম ইনিংসে ১০ রানের লিডের পর দ্বিতীয় ইনিংসে দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে শক্ত অবস্থানে বাংলাদেশ। সব মিলিয়ে এখন শ্রীলঙ্কার চেয়ে ১৮৭ রানে এগিয়ে আছে টাইগাররা। উইকেটে অপরাজিত রয়েছেন দলের দুই অভিজ্ঞ ব্যাটার-নাজমুল হোসেন শান্ত এবং মুশফিকুর রহিম। ইতোমধ্যে শান্ত তুলে নিয়েছেন ফিফটি। শেষ দিনে শনিবার নাটকীয় কিছু ঘটলেও অবাক হওয়া যাবে না!

ম্যাচে বাংলাদেশের সম্ভাবনাময় এই অবস্থানের পেছনে বড় অবদান অফ স্পিনার নাঈম হাসানের। দেশের বাইরে প্রথমবার বল হাতে পেয়েই পাঁচ উইকেট নিয়ে যেন বাজিমাত করেছেন এই তরুণ। লাঞ্চের পর শ্রীলঙ্কার ইনিংস যখন জমে উঠছিল, তখন হঠাৎ করেই নাঈমের ঘূর্ণিতে ধসে পড়ে লঙ্কান ব্যাটিং লাইনআপ। থামে ৪৮৫ রানে, মাত্র ১০ রানের লিড এনে দেয় টাইগারদের।

আজ দিন শেষে সংবাদ সম্মেলনে আত্মবিশ্বাসী সুরে শোনা গেল নাঈমকে। ম্যাচ জেতার পরিকল্পনা নিয়েই বললেন, ‘লাস্ট দিনের উইকেট ক্র্যাক করছে। যত ভালো টোটাল দিতে পারি, তত ভালো। তাহলে ওরা চাপে থাকবে।’ তিনি মনে করেন, শেষ দিনে মানসিক চাপের গুরুত্ব অনেক বেশি, যেখানে বাংলাদেশ এগিয়ে থাকতে পারে।

ব্যাটিং পরিকল্পনা প্রসঙ্গে নাঈম বলেন, ‘মাঝে যারা ব্যাটিং করছে, তারাই সবচেয়ে ভালো বুঝতে পারছে উইকেট কেমন। শান্ত ভাই, মুশফিক ভাই খুব ভালো ব্যাট করছেন। সাদমান ভাইয়ের শুরুটাও ভালো ছিল। এটা ধরে রাখতে পারলেই ভালো হবে।’

গলে জয়ের আশা নিয়ে নাঈম বলেন, ‘নরমাল ক্রিকেট খেলা আর চাপে থাকা আলাদা ব্যাপার। চাপে থাকলে প্রতিপক্ষের ভুল করার সম্ভাবনা থাকে। আমরা ভালো একটা টোটাল দিতে পারলে ইনশাল্লাহ্‌ ম্যাচ জেতা সম্ভব।’

ক্যারিয়ারের উত্থান-পতন নিয়েও খোলামেলা কথা বলেন এই তরুণ স্পিনার। নিজের পারফরম্যান্স কিংবা সুযোগ পাওয়া নিয়ে আক্ষেপ নেই তার। বরং ভাগ্যে যা লেখা, তা-ই মেনে নিয়ে বলেন, ‘আনলাকি বলতে কিছু নাই। যেটা রিজিকে আছে, সেটা হবেই। আলহামদুলিল্লাহ্‌।’

দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজের এটি প্রথম ম্যাচ। দ্বিতীয় টেস্ট শুরু হবে ২৫ জুন, কলম্বোতে। গলেই যদি জয় ধরা দেয়, তবে সেটি হবে শ্রীলঙ্কার মাটিতে বাংলাদেশের জন্য দারুণ এক সাফল্য!




ঝালকাঠিতে গভীর রাতে বাসা থেকে ছেলে গ্রেপ্তার, ‘আতঙ্কে’ বাবার মৃত্যু

ঝালকাঠির নলছিটিতে গভীর রাতে বাসা থেকে সুমন সরদার (৩৫) নামের এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে তাঁর বাবা মো. হাবিব সরদার (৫৮) মারা যান।

পরিবারের সদস্যরা বলছেন, ছেলেকে গ্রেপ্তার হতে দেখে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন হাবিব সরদার। এ সময় তিনি বুকে ব্যথা অনুভব করছেন বলে জানান। কিছুক্ষণ পর গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

গতকাল বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে উপজেলার সিদ্ধকাঠি ইউনিয়নের চৌদ্দবুড়িয়া গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। আজ শুক্রবার সকালে গ্রেপ্তার সুমন সরদারকে ঝালকাঠির জ্যেষ্ঠ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করলে বিচারক তাঁর জামিন মঞ্জুর করেন।

সুমনের পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, ওই রাতে নলছিটি থানা-পুলিশের একটি দল মারামারির একটি মামলায় সুমন সরদারকে গ্রেপ্তার করতে তাঁদের বাড়িতে যায়। পুলিশ সুমনকে গ্রেপ্তারের সময় আতঙ্কিত হয়ে পড়ে যান তাঁর বাবা হাবিব সরদার। এ সময় তিনি বুকে তীব্র ব্যথা অনুভব করেন এবং কিছুক্ষণের মধ্যেই অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে দ্রুত তাঁকে বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (শেবাচিম) নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়েছে।

ঝালকাঠির জ্যেষ্ঠ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা (জিআরও) এনামুল হাসান জামিনের তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

নলছিটি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবদুস ছালাম আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘সুমন সরদার একটি ফৌজদারি মামলার আসামি। তাঁকে গ্রেপ্তারে আদালতের পরোয়ানা রয়েছে। নিয়মিত আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ২টার দিকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। শুক্রবার সকালে সুমনকে আদালতে হাজির করেন তদন্ত কর্মকর্তা।’

সুমনকে গ্রেপ্তারের পর তাঁর বাবা হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে আবদুস ছালাম বলেন, ‘তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে বিষয়টি শুনেছি। আসামির বাবা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন বলে জেনেছি।’




ভোলার মেঘনায় নৌকা থেকে পড়ে জেলে নিখোঁজ, ৬ ঘন্টা পর মরদেহ উদ্ধার!

ভোলার মনপুরার মেঘনায় মাছ শিকার করে ঘাটে এসে নৌকা নোঙ্গর করার পর পড়ে গিয়ে নিখোঁজের ৬ (ছয়) ঘন্টা পর মহিউদ্দিন নামের এক জেলের মরদেহ উদ্ধার করে স্থানীয়রা। পরে পুলিশ আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে তার মরদেহ হস্তান্তর করে।

শুক্রবার (২০ই জুন) দুপুর ২টায় উপজেলার ৪ নং দক্ষিণ সাকুচিয়া ইউনিয়নের আলমপুর সংলগ্ন মেঘনায় নিখোঁজ জেলের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

এর আগে একইস্থানে সকাল ৮ টায় নোঙ্গর করা অবস্থায় নৌকা থেকে পড়ে নিখোঁজ হন ওই জেলে।

নিহত জেলে মহিউদ্দিন উপজেলার হাজিরহাট ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা মৃত জয়নাল আবেদিনের ছেলে। তিনি ইসমাইল মাঝির নৌকার জেলে ও বাবুর্চির (রান্নার) দায়িত্বে ছিলেন।

নৌকার মাঝি ইসমাইল মাঝি ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, সকাল ৮ টায় মাছ শিকার করে আলমপুর সংলগ্ন ঘাটে নৌকা নোঙ্গর করে রাখা হয়। ওই সময় অন্যান্য জেলেরা নামলেও নিহত জেলে মহিউদ্দিন নৌকা থেকে নামার সময় পড়ে গিয়ে নিখোঁজ হন। পরে দুপুর ২ টায় একইস্থানে লাশ ভেসে উঠে। পরে পুলিশ এসে আইনিপ্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তর করে।

এই ব্যাপারে মনপুরা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আহসান কবির জনকণ্ঠকে জানান, আইনিপ্রক্রিয়া শেষে জেলের লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। থানায় একটি ইউডি (অপমৃত্যু) মামলা করা হয়েছে।