ঢালিউডের আলোচিত-সমালোচিত নায়িকা পরীমণি। তার অভিনয় ক্যারিয়ার থেকে ব্যক্তিজীবন- সব ক্ষেত্রেই তুমুল বিতর্ক থাকলেও বেশিরভাগ মানুষ এটা স্বীকার করেন যে, মা হিসেবে পরীমণি অতুলনীয়। দুটি সন্তানকে কিভাবে একা হাতে সামলাচ্ছেন তা দেখার মতো। সন্তানরাই যেন এখন তার প্রথম পৃথিবী হয়ে উঠেছে।
তাই অনেকেরই জানার আগ্রহ রয়েছে, পরী কিভাবে তার সন্তানদের বড় করছেন? ছোট বয়স থেকেই কোন মূল্যবোধের চর্চা করাচ্ছেন? অবশেষে পরী নিজেই এক লম্বা পোস্টের মাধ্যমে নিজের মাতৃত্ব, গুড প্যারেন্টিং এবং সন্তানদের বড় করা নিয়ে নানা দিক তুলে ধরেছেন।
পরীমণি লিখেছেন, ‘একটা এক্সপেরিয়েন্স শেয়ার করি! মনে হলো দরকার আছে। খেয়াল করে দেখবেন, আপনার আশেপাশে কিছু মানুষ থাকবে তারা আপনার প্রতি তাদের কেয়ার বোঝানোর জন্য তাদের জীবনে ঘটে যাওয়া ভালো মন্দ নানান জিনিস উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরবে। যে এটা করবা, এটা করলে এটা ভালো হবে। এটা করবা না, এটা করলে এটা মন্দ হবে।
সেরকম আমার এক পরিচিত মানুষ (মায়ের সমতুল্য) আমাকে নানান রকম বুদ্ধি পরামর্শ দিতেন আর কি! আমার বাচ্চা নিয়ে দিতো। আমার ছেলে তখন একদমই ছোট। দুই/তিন মাসের হবে। আমি তো তখন প্রতিদিন নতুন নতুন অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। এখন অব্দি যাচ্ছি…
উনি সেসময়ে আমাকে নানান কিছু শেখাতেন। নতুন মায়েদের অবশ্য সবাই শেখাতে আসে। কিছু আসলে জানুক আর না জানুক। যাইহোক, উনি আমাকে বুঝাতেন- বাচ্চাকে ডিমের কুসুম দিতে ৩ মাস পর থেকেই (যেটা একদমই ঠিক নয়), আরও শেখাতেন- বাচ্চা বসা শিখলেই আমি যেন বাচ্চাকে ওয়াকার দিয়ে দেই! তাহলে নাকি বাচ্চা দ্রুত হাঁটতে শিখবে! আমি দেইনি বলে উনি নিজেই একদিন কিনে নিয়ে এলেন (যেটা এখন সাইন্টিফিক্যালি একদম ব্যান করে দেওয়া হয়েছে। কারণ বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দেখা গেছে এতে বাচ্চাদের মেরুদণ্ডের ক্ষতি করে। পঙ্গুত্ব পর্যন্ত হতে পারে!) তবে এ রকম অনেক ভুলভাল পরামর্শের মধ্যে কিছু ভালো জিনিসও উনি আমাকে শিখিয়েছেন। যেমন বাচ্চাকে প্রপার ওয়েতে ব্রেষ্ট ফিড করানো, তেল মালিশ করা, বাচ্চার গ্যাস ফাইন্ডআউট করা। আমি অবশ্যই তার জন্য কৃতজ্ঞ।’
এরপর তিনি এই লেখাটি কেন লিখছেন সে কথা তুলে ধরেন। পরীর ভাষ্য, ‘‘আজকের এই লেখাটার কারণ হচ্ছে অন্য একজন মায়ের জন্য। তার একটা ভিডিও আমি দেখলাম তার তিন বছরের বাচ্চাকে নিয়ে শপিংমলে শপিং করার ফুটেজে ভয়েস ওভারে গুড প্যারেন্টিং নিয়ে কথা বলতে! কথা বলা তো নয় বলা যায় এক রকম জ্ঞান দিচ্ছিলো আর কি। আমি খেয়াল করলাম, এই কথাগুলো আমার পরিচিত! কথাগুলো এমন- ‘বাবা মায়ের সাধ্য থাকলেও তাদের উচিত না বাচ্চাকে সব কিনে দেয়া। ঈদের শপিং এ তার ৩ বছরের বাচ্চাকে অপশন দিয়েছেন হয় জামা নিতে পারবে না হয় খেলনা।’’
এরপর পরী লিখেছেন, ‘এই কথাগুলো আমাকেও বলা হয়েছিলো। ওই যে যিনি আমাকে গুড প্যারেন্টিং নিয়ে উপদেশ দিতেন। উনি আমাকে এটাও বলেছিলেন, যে তার বাচ্চারা ছোটবেলায় বাইরে গেলে চিপস কিনতে চাইলেও নাকি তাদের তখন কিনে দেয়া হতো না। পরের দিন দিত। এতে নাকি বাচ্চার তার বাবা মায়ের সমর্থের উপর আস্থা আসে। বাচ্চা নাকি এতে অভাব বুঝতে শেখে। যাইহোক তারা তাই-ই শিখছে, মানে ওই ‘অভাব’ আর কি।
সরি ভাই! আমার মোটেও এই ধরনের প্যারেন্টিং বোধগম্যে হলো না। এই যে একটা বিষয়, ছোট্ট একটা বাচ্চা ২/৩ বছরের, ওরে তুমি অভাব শেখাও! কেমনে? তুমি তো ওরে মনুষত্ব শেখাবা। তবেই ও অভাব না শিখে অভাববোধ শিখবে। বাবা মায়ের সাধ্য সমর্থ্যের সঠিক মূল্যায়ন করতে শিখবে। না হলে বড় হয়ে তোমার মতোই ধোকাবাজি শিখবে।’ সবশেষে পরী লেখেন, ‘ভাই আমি বুঝিনা কোনও টোকাইও চায় তার বাচ্চাকে অন্তত ঈদের সময় দুনিয়াটা কিনে দিতে। আর আপনার সাধ্য আছে নিউ মার্কেট থেকে কেনাকাটার তাহলে আপনি নিশ্চয়ই বাচ্চাকে নিয়ে দুবাই চলে যাবেন না তাই না। এতে আপনার বাচ্চার কোমল মন ছোট অনুভব করে। অভাববোধ শেখাতে গিয়ে আপনি তাকে কৃপণ্যতা শেখাচ্ছেন।
হ্যাঁ, আমি আমার ছেলেকে একদম ছোট থেকেই খেলনার দোকানে ছেড়ে দিই। আর বলি, ‘আমার বাজান তোমার যা কিছু ভালো লাগে তুমি নিতে পারো।’ ফলে আমি ওর খুশি হওয়া দেখি। আমি দেখি কত লোভনীয় হার্মফুল টয় (পিস্তল, বন্দুক ইত্যাদি) ও ধরে না। ব্যাস, এতটুকুই শিক্ষা এই বয়সের জন্য যথেষ্ট। এক বস্তা খেলনা কিনে যখন সবাইকে ভাগ করে দেয়! ব্যাস, এতটুকু মন উদার হওয়াটাই ওর এই বয়সের জন্য যথেষ্ট। আমি জানি প্রত্যেক মায়ের বা বাচ্চাদের বড় হওয়ার জার্নি এক রকম নয়। শুধু এইটুকু বলার, আপনার সোশ্যাল কোনো কম্পিটিশনের মধ্যে বাচ্চদের ফেলবেন না প্লিজ।’