মব সহিংসতার জন্য সরকারের দুর্বলতাই দায়ী: রাশেদ খান

গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান মন্তব্য করেছেন, দেশের চলমান মব সহিংসতার পেছনে সরকারের দুর্বলতাই মূল প্রেরণা হিসেবে কাজ করছে। বিতর্কিত প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে জনগণের হাতে লাঞ্ছনার পর গ্রেপ্তার করা হলেও, এর দায় এড়াতে পারে না সরকার— এমনটাই মনে করেন তিনি।

সোমবার (২৩ জুন) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে রাশেদ খান বলেন, “একতরফা নির্বাচন, বিচারহীনতা ও দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের রক্ষার সংস্কৃতি থেকেই দেশে মবোক্রেসির জন্ম হচ্ছে। সরকার দুর্নীতিবাজ নির্বাচন কমিশন, ডামি এমপি ও মাফিয়াদের বিচার না করে বরং তাদের পুনর্বাসন করছে, যার ফলে জনমনে ক্ষোভ বাড়ছে এবং মানুষ মবের মধ্যে ন্যায়বিচার খুঁজছে।”

তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন, “মব তৈরি হওয়ার জন্য কি সরকারই রসদ জোগাচ্ছে না? বিতর্কিত একতরফা তিনটি নির্বাচনের সঙ্গে জড়িত কমিশন, সচিব, ডিসি, এসপি, ডামি ও স্বতন্ত্র নামধারী এমপি ও মন্ত্রীদের কেন আইনের আওতায় আনা হচ্ছে না?”

রাশেদ খান অভিযোগ করেন, “সরকারের উপদেষ্টারা সাবের-মান্নানসহ অনেক বিতর্কিত এমপির জামিন করিয়েছেন ও পুনর্বাসন করছেন। যাদের অর্থ ও ক্ষমতাশালী মহলের সঙ্গে সম্পর্ক আছে, তারা ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়ে গেছে। যেসব মাফিয়া ও ব্যবসায়ী গোষ্ঠী শেখ হাসিনার ‘অবৈধ সাম্রাজ্য’ গঠনে সহায়তা করেছে, তারাও রক্ষা পাচ্ছে।”

তিনি বলেন, “অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছ থেকে যে বিপ্লবী পদক্ষেপ জনগণ আশা করেছিল, তা এখনও দেখা যাচ্ছে না। এখন পর্যন্ত আওয়ামী লীগের ৩০০০ ‘মাথাওয়ালা’ নেতাকর্মী কিংবা শেখ পরিবারের কাউকেই গ্রেপ্তার করা হয়নি। গণহত্যার সঙ্গে জড়িতদেরও ধরা হয়নি। তাহলে কীভাবে এই সরকার গণহত্যার বিচার করবে?”

রাশেদ খান মনে করেন, যতদিন না সরকার আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করবে, ততদিন সমাজে মবোক্রেসি থামবে না। তার মতে, “মব তৈরি ও বিস্তারের দায় সরকারের ওপরই বর্তায়।”




পটুয়াখালী জেলা নির্বাচন অফিসে দুদকের অভিযান

সেবা নিতে এসে ভোগান্তি, ঘুষ, দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগে পটুয়াখালী সিনিয়র জেলা নির্বাচন অফিসে হঠাৎ অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সোমবার (২৩ জুন) সকাল ১০টার দিকে দুদকের পটুয়াখালী জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক তাপস বিশ্বাসের নেতৃত্বে একটি দল এ অভিযান পরিচালনা করে।

অভিযানের সময় জেলা সিনিয়র নির্বাচন অফিসার খান আ.বি. সাহানুরসহ অন্যান্য কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। বেশ কিছু সময় ধরে অফিসের নথিপত্র ও সেবাপ্রক্রিয়া খতিয়ে দেখা হয় এবং একাধিক সেবাগ্রহীতার সঙ্গে সরাসরি কথা বলে তাদের অভিজ্ঞতা শোনা হয়।

দুদকের সহকারী পরিচালক তাপস বিশ্বাস জানান, কমিশনের হেড অফিসের নির্দেশেই দেশের বিভিন্ন জেলার নির্বাচন অফিসে ধারাবাহিকভাবে এই অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। তিনি বলেন, “আজকের অভিযানে পটুয়াখালী জেলা নির্বাচন অফিসে বেশ কিছু অসামঞ্জস্য লক্ষ্য করা গেছে। সেবাগ্রহীতাদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য অনুসারে কিছু গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে আমরা তদন্ত চালাবো।”

আরো পড়ুন : শাপলা কাব অ্যাওয়ার্ড জিতে দেশসেরা পটুয়াখালীর সুন্নাহ

তিনি আরও বলেন, “অনেকেই অভিযোগ করেছেন সেবা পেতে ঘুষ দিতে হয়েছে, কেউ কেউ আবার অভিযোগ করেছেন নির্ধারিত সময়ের চেয়ে বেশি দেরি হচ্ছে, কেউ আবার সঠিক সেবা পাচ্ছেন না। এসব অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে প্রয়োজনীয় তদন্ত ও ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রধান কার্যালয়ে প্রতিবেদন পাঠানো হবে।”

এছাড়াও অফিসে কর্মরতদের আচরণ, সেবাদানের মান, আবেদন নিষ্পত্তির সময়সীমা ও স্বচ্ছতা নিয়ে নানা প্রশ্নের মুখে পড়ে নির্বাচন অফিস। অভিযানকালে বেশ কিছু নথিপত্র ও দলিল যাচাই করে তাৎক্ষণিক কিছু নির্দেশনাও দেওয়া হয়।

দুদক সূত্রে জানা গেছে, শুধু পটুয়াখালী নয়, দেশজুড়ে বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে জনসেবায় ঘুষ-দুর্নীতি বন্ধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। কমিশন মনে করছে, এসব অভিযান নিয়মিত হলে সাধারণ মানুষ সরকারি সেবা গ্রহণে আরও উৎসাহী হবে এবং দুর্নীতিবাজদের শিকারে পরিণত হবে না।

অভিযানের সময় নির্বাচন অফিসে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে এক ধরনের অস্বস্তি ও উদ্বেগ দেখা যায়। তবে নির্বাচন অফিসের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য জানানো হয়নি।

স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা দুদকের এই অভিযানকে স্বাগত জানিয়েছেন এবং আশা প্রকাশ করেছেন, নির্বাচন অফিসের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে নিয়মিত তদারকি জারি থাকবে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



শাপলা কাব অ্যাওয়ার্ড জিতে দেশসেরা পটুয়াখালীর সুন্নাহ

বাংলাদেশ স্কাউটস আয়োজিত কাব কার্নিভাল ২০২৫-এ কলাপাড়ার কৃতী শিক্ষার্থী উম্মে হাবিবা সুন্নাহ শাপলা কাব অ্যাওয়ার্ড গ্রহণ করে অনন্য গৌরব অর্জন করেছে। সোমবার (২৩ জুন) বেলা সাড়ে ১১টায় রাজধানীতে আয়োজিত কাব কার্নিভালের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মো. ইউনূসের হাত থেকে পুরস্কার গ্রহণ করে সুন্নাহ।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের শাপলা কাব অ্যাওয়ার্ড মূল্যায়নে বরিশাল অঞ্চলে প্রথম স্থান অর্জন করে সুন্নাহ। সে বর্তমানে বাংলাদেশ নৌবাহিনী স্কুল অ্যান্ড কলেজ পটুয়াখালীতে ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে অধ্যয়নরত। তার প্রাথমিক শিক্ষা জীবন শুরু হয় কলাপাড়ার মঙ্গলসুখ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে, যেখান থেকে এই মূল্যায়নে অংশ নেয় এবং অসাধারণ সাফল্য অর্জন করে।

উম্মে হাবিবা সুন্নাহ’র গ্রামের বাড়ি কলাপাড়া উপজেলার লালুয়া ইউনিয়নের চারিপাড়া গ্রামে। তার পিতা আহসান হাবিব চুন্নু বরিশালে কর্মরত ব্র্যাকের একজন এলাকা ব্যবস্থাপক এবং মা রাবেয়া সুলতানা রিপা একজন স্কুল শিক্ষিকা।

সাফল্য সম্পর্কে সুন্নাহ বলেন, “এ অর্জন আমার পিতা-মাতা ও শিক্ষকদের উৎসাহ আর ভালোবাসার ফল। ভবিষ্যতে আমি একজন চিকিৎসক হয়ে অসহায় মানুষের সেবা করতে চাই। সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন।”

মঙ্গলসুখ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাজমুস সাকিব খান কনা বলেন, “আমার স্কুল থেকে সুন্নাহ বরিশাল অঞ্চলে প্রথম হয়ে যে সম্মান এনে দিয়েছে, তা আমাদের জন্য গর্বের বিষয়। আমি তার উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করি।”

আরো পড়ুন : পটুয়াখালীতে ৯ মামলার আসামি জলিল ডাকাত গ্রেফতার

বাংলাদেশ স্কাউটস কলাপাড়া উপজেলা সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ রবিউল ইসলাম বলেন, “২০২৪ সালে কলাপাড়া উপজেলার ২৭ জন শিক্ষার্থী শাপলা কাব অ্যাওয়ার্ড ও ১০ জন প্রেসিডেন্ট অ্যাওয়ার্ড মূল্যায়নে উত্তীর্ণ হয়েছেন। এর মধ্যে উম্মে হাবিবা সুন্নাহ বরিশাল অঞ্চলে প্রথম হয়েছে। কলাপাড়ার স্কাউটস কার্যক্রমে আমাদের নিরবচ্ছিন্ন প্রয়াস অব্যাহত রয়েছে।”

উল্লেখ্য, শাপলা কাব অ্যাওয়ার্ড হচ্ছে বাংলাদেশ স্কাউটসের সর্বোচ্চ কাব পর্যায়ের স্বীকৃতি, যা জাতীয় পর্যায়ে অভূতপূর্ব অর্জন হিসেবে বিবেচিত। সুন্নাহর এই অর্জন কেবল কলাপাড়া নয়, বরিশাল তথা গোটা দেশের জন্য গর্বের।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



বরিশালে ব্যাটারি রিকশা বন্ধের দাবিতে প্যাডেল চালকদের মানববন্ধন

বরিশাল নগরীর ব্যস্ততম সড়কগুলোতে ব্যাটারি চালিত অটোরিকশা নিষিদ্ধ করার দাবিতে মানববন্ধন করেছেন প্যাডেল চালিত রিকশা শ্রমিকরা।

সোমবার (২৩ জুন) সকাল ১১টার দিকে নগরীর অশ্বিনী কুমার হলের সামনে সদর রোডে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। প্যাডেল চালিত রিকশা শ্রমিক ইউনিয়নের ব্যানারে আয়োজিত কর্মসূচিতে সংগঠনের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।

সংগঠনের সভাপতি মো. ধলু মিয়া বলেন, “সদর রোডসহ নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে ব্যাটারি চালিত রিকশা চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকলেও তা কার্যকর হচ্ছে না। এসব রিকশা অবাধে চলাচল করছে, যার অধিকাংশই লাইসেন্সবিহীন।”

সাধারণ সম্পাদক চাঁন মিয়া বলেন, “সদর রোড, লাইন রোড, কাটপট্টি রোড, গির্জা মহল্লা, চকবাজার ও কাকলির মোড়সহ ব্যস্ত এলাকায় ব্যাটারি রিকশা বন্ধের জন্য আমরা বহুদিন ধরে দাবি জানিয়ে আসছি। কিন্তু প্রশাসনের কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেই।”

সহ-সাধারণ সম্পাদক আবু কালাম অভিযোগ করেন, “ব্যাটারি চালিত অটোরিকশার কারণে প্যাডেল চালকদের আয়ের পথ সংকুচিত হচ্ছে। যানজট বাড়ছে, দুর্ঘটনার হারও বেড়েছে।”

নেতৃবৃন্দ আরও জানান, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন শহরে প্রধান সড়কে এসব রিকশা নিষিদ্ধ হলেও বরিশালে তা অবাধে চলাচল করছে। তারা দাবি করেন, “অন্যান্য শহরে নিষিদ্ধ হওয়া অটো রিকশাগুলো বরিশালে এনে চালানো হচ্ছে। ফলে নগরীর পরিবহন ব্যবস্থা বিশৃঙ্খল হয়ে উঠছে।”

তাদের হুঁশিয়ারি, পাঁচটি প্রধান সড়কে ব্যাটারি রিকশা বন্ধ না হলে তারা কঠোর আন্দোলনে যাবেন।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা ইরানের, পাল্টা জবাব ইসরায়েলের

ইসরায়েলের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে একযোগে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এই হামলার দায় স্বীকার করেছে। পাল্টা জবাবে ইসরায়েলও তেহরানসহ ইরানের একাধিক স্থানে আঘাত হানে। মধ্যপ্রাচ্যে পরিস্থিতি একপ্রকার যুদ্ধাবস্থার রূপ নিয়েছে।

সোমবার (২৩ জুন) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা ও ইরানি সংবাদ সংস্থা তাসনিমের বরাতে জানা যায়, ইরান থেকে উৎক্ষেপণ করা ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন ইসরায়েলের অন্তত পাঁচটি শহরে আঘাত হানে। লক্ষ্যবস্তুগুলোর মধ্যে সাফাদ, তেল আবিব, আশকেলন, আশদোদ এবং বেইসানের মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকা রয়েছে।

হামলার সময় ইসরায়েলের বিভিন্ন এলাকায় সাইরেন বাজতে শুরু করে, যার ফলে আতঙ্কে মানুষজন তেল আবিবসহ বিভিন্ন শহরের ভূগর্ভস্থ আশ্রয়কেন্দ্রে ছুটে যান। ইসরায়েলি সরকার নাগরিকদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে নির্দেশ দিয়েছে এবং নতুন করে বিমান হামলার সতর্কতা জারি করেছে।

তাসনিম সংবাদমাধ্যমের দাবি, হামলায় কঠিন ও তরল জ্বালানিচালিত ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের পাশাপাশি এমন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে যা ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেদ করতে সক্ষম।

এদিকে ইরানের হামলার কিছুক্ষণের মধ্যেই ইসরায়েল পাল্টা আঘাত হানে। আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তেহরানের অধ্যাপক ফোয়াদ ইযাদি জানান, একটি হাসপাতালের পাশে ইসরায়েলি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে এবং সেখানে ধোঁয়া দেখা গেছে। তবে এখন পর্যন্ত হতাহত সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, ইরান থেকে আরও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের আশঙ্কা রয়েছে এবং জনগণকে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে বলা হয়েছে।

এই সংঘাতে পরিস্থিতি ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা আশঙ্কা করছেন, এ ধরনের পাল্টাপাল্টি হামলা পুরো অঞ্চলকে অনিয়ন্ত্রিত সংঘর্ষের দিকে ঠেলে দিতে পারে।




গৌরনদীতে দুই ব্যবসায়ীকে মারধর, বিক্ষোভে উত্তাল সরিকল বাজার

বরিশালের গৌরনদী উপজেলার সরিকল বন্দরে দুই ব্যবসায়ীকে মারধরের প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে ওঠে স্থানীয় বাজার। আজ সোমবার সকালে হামলাকারীদের বিচারের দাবিতে ব্যবসায়ীরা তাদের প্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখে মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রবিবার (২২ জুন) দিবাগত রাতে ফুটপাতে দোকান বসানোকে কেন্দ্র করে সরিকল বন্দরের ফল ব্যবসায়ী পিয়াল হোসেনকে মারধর করে সরিকল ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর হোসেন মৃধার ছেলে যুবদল কর্মী পলাশ মৃধা ও তার সহযোগীরা।

এই ঘটনার প্রতিবাদ করলে ফাহিম হার্ডওয়ার স্টোরের মালিক মো. মান্নাকেও মারধর করে তারা। মান্নার অভিযোগ, হামলার সময় তার দোকানের ক্যাশ থেকে প্রায় দুই লাখ টাকা লুট করে নেয় দুর্বৃত্তরা। হামলার সময় বাজারের অন্যান্য ব্যবসায়ীরা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা দ্রুত পালিয়ে যায়।

আহত ব্যবসায়ী মান্না বলেন, “হামলাকারীদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা না থাকলে বাজারে বেচাকেনা করা কঠিন হয়ে পড়বে।”

হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে পলাশ মৃধা বলেন, “আমরা রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের শিকার। একটি চক্র পরিকল্পিতভাবে আমাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে।”

এ বিষয়ে গৌরনদী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. ইউনুস মিয়া জানান, “রাতে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। এখন পর্যন্ত কেউ থানায় লিখিত অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫


 


 




ভোলা হাসপাতাল যেন পোকামাকড়ের আক্রমণে বন্দি

ভোলা জেলার একমাত্র প্রধান চিকিৎসা কেন্দ্র ভোলা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল বর্তমানে যেন পোকামাকড় ও ময়লার দখলে চলে গেছে। প্রায় ২২ লাখ মানুষের এই স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রের অবস্থা এতটাই শোচনীয় যে, হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে তেলাপোকা ও ছারপোকার উপদ্রবে রীতিমতো অতিষ্ঠ রোগী ও স্বজনরা।

বিশেষ করে নারী ও শিশু ওয়ার্ডে পোকামাকড়ের উপদ্রব ভয়াবহ। রোগীদের শয্যার নিচে, দেয়ালের ফাঁকে ও মেঝেতে ঘুরে বেড়ানো পোকামাকড় রোগীদের কামড়াচ্ছে, খাবারে উঠে আসছে—আর রাতে এই উপদ্রব বেড়ে যাচ্ছে কয়েকগুণ।

ভোলার দৌলতখান উপজেলার বাসিন্দা আব্দুল মমিন বলেন, “চিকিৎসা নিতে এসে পোকামাকড়ের সঙ্গে যুদ্ধ করে বেঁচে থাকতে হচ্ছে। ছারপোকার কামড়ে শুয়েও থাকা যায় না। রোগী হয়ে এসেছি, এখন আরও অসুস্থ হয়ে যাচ্ছি।”

সদর উপজেলার ফাতেমা বেগম জানান, “রাতে ঘুমানোর সময় তেলাপোকা মুখে উঠে, কামড় দেয় ছারপোকা। খাবারেও পোকা উঠে যায়—তবুও সেই খাবার খেতে বাধ্য হচ্ছি।”

রোগীর স্বজন নারগিছ বেগম ও সুরমা আক্তার জানান, টয়লেটগুলো দুর্গন্ধময় ও ব্যবহারের অযোগ্য। দরজা নেই, পানি নেই, পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের দেখা যায় না। একজন টয়লেট ব্যবহার করলে অন্যজনকে বাইরে দাঁড়িয়ে থাকতে হয় নিরাপত্তার জন্য।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিন গড়ে ১,০০০ থেকে ১,২০০ জন রোগী বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসে, আর ভর্তি থাকে ধারণক্ষমতার চেয়ে দুই-তিন গুণ বেশি রোগী। অথচ হাসপাতালের ১৫ জন সরকারি ও ২৫ জন আউটসোর্সিং পরিচ্ছন্নতাকর্মীর কাজ নিয়ে রয়েছে ব্যাপক অভিযোগ।

হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা. তায়েবুর রহমান বলেন, “পোকামাকড় মারতে স্প্রে প্রয়োগ শুরু হয়েছে। প্রতিটি ওয়ার্ডে ধাপে ধাপে ওষুধ প্রয়োগ করা হচ্ছে। আশা করি দুই সপ্তাহের মধ্যে পরিস্থিতির উন্নতি হবে।”

তত্ত্বাবধায়ক ডা. আবু সুফিয়ান রুস্তম বলেন, “পরিচ্ছন্নতাকর্মী রয়েছে, কিন্তু আউটসোর্সিং কর্মীদের নিয়ে কিছু সমস্যা আছে। আমরা স্প্রে ছিটানো শুরু করেছি এবং এতে কিছুটা উন্নতিও এসেছে।”

তবে স্থানীয়দের দাবি, বছরের পর বছর ধরে এমন দুরবস্থার কথা জেনে-শুনেও স্থায়ী কোনও ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।


“এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /”




আবারও কলম বিরতিতে এনবিআর কর্মকর্তা-কর্মচারীরা

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কর্মকর্তারা আবারও কলম বিরতি শুরু করেছেন। এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমানকে অপসারণ, ‘গোলামী আইন’ খ্যাত অধ্যাদেশ বাতিল এবং কর্মকর্তাদের ‘হয়রানিমূলক’ বদলি বন্ধের দাবিতে সোমবার আগারগাঁওয়ে এনবিআর ভবনে এই কর্মসূচি শুরু হয়।

এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদের ডাকে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে অংশ নিতে সকাল থেকে শতাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী হাজির হন। অনেকে প্রতিবাদস্বরূপ কাফনের কাপড় পরে অবস্থান নেন। প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল—
“গোলামী আইন বাতিল কর”, “বদলির নামে প্রহসন মানি না”, “জুলুমবাজি বন্ধ কর” ইত্যাদি।

রবিবার এনবিআরের আয়কর বিভাগে উপকর কমিশনার পর্যায়ে পাঁচ কর্মকর্তার বদলিকে আন্দোলন দমনের চেষ্টা বলেই দাবি করেছে এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদ। তারা বলছে, সরকারি বিধি অনুযায়ী বদলির পর যোগদানের জন্য ৫ কর্মদিবস সময় দেওয়ার নিয়ম থাকলেও এবার তা মানা হয়নি।

গত ১২ মে সরকার এনবিআরকে দুই ভাগ করার একটি অধ্যাদেশ জারি করে। এরপর এনবিআর কর্মকর্তারা ২৬ মে পর্যন্ত অবস্থান কর্মসূচি ও কলম বিরতির ডাক দেন। সরকার তখন জানায়, এনবিআর বিলুপ্ত নয়, বরং এটিকে স্বাধীন ও বিশেষায়িত বিভাগ হিসেবে গড়ে তোলা হবে। এতে কলম বিরতি স্থগিত হলেও চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অসহযোগিতা চলমান রাখার ঘোষণা দেয় সংস্কার পরিষদ।

সরকার গত ২০ জুন এনবিআরের কাঠামোগত সংস্কার সমন্বয়ের জন্য ছয় সদস্যের কমিটি গঠন করে, যার নেতৃত্বে রয়েছেন ব্যারিস্টার মুতাসিম বিল্লাহ ফারুকী। তবে এই কমিটিকে ‘একপেশে’ বলে উল্লেখ করে তা প্রত্যাখ্যান করেছে আন্দোলনকারীরা।

শনিবার জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদের সভাপতি অতিরিক্ত কমিশনার হাছান মুহম্মদ তারেক রিকাবদার ও মহাসচিব অতিরিক্ত কর কমিশনার মিজ সেহেলা সিদ্দিকা জানান, চেয়ারম্যান অপসারণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।

“এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /”




একীভূত হচ্ছে ৫ ইসলামী ব্যাংক, আসছে ‘সরকারি মালিকানার সুপার ব্যাংক’

বাংলাদেশ ব্যাংক দেশের পাঁচটি ইসলামী ব্যাংককে একীভূত করার পরিকল্পনায় চূড়ান্ত রোডম্যাপ প্রকাশ করেছে। ইতিমধ্যে এই ব্যাংকগুলোর ফরেনসিক অডিট ও অ্যাসেট কোয়ালিটি রিভিউ (AQR) সম্পন্ন হয়েছে এবং একীভূতকরণের মাধ্যমে একটি সুসংগঠিত ও কার্যকর ব্যাংকিং কাঠামো গড়ে তোলার প্রস্তুতি চলছে।

যেসব ব্যাংক একীভূত হচ্ছে
এদের মধ্যে রয়েছে :

  • ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক
  • গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক
  • ইউনিয়ন ব্যাংক
  • সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক
  • এক্সিম ব্যাংক

এই ব্যাংকগুলোর আর্থিক দুরবস্থার প্রেক্ষিতে, বাংলাদেশ ব্যাংক নতুন পর্ষদ গঠন করেছে। এক্সিম ব্যতীত বাকিগুলোতে ইতোমধ্যে স্বতন্ত্র পরিচালক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুরের নেতৃত্বে ব্যাংকগুলোর এমডি ও চেয়ারম্যানদের সঙ্গে বৈঠক করে প্রাথমিক রোডম্যাপ ঘোষণা করা হয়েছে। এতে বলা হয়, ফরেনসিক অডিটের প্রতিবেদন চলতি মাসেই প্রকাশ পাবে। এরপর, শ্রেণিবিন্যাস, প্রভিশন ঘাটতি ও মূলধনের ভিত্তিতে ব্যাংকগুলোর সক্ষমতা যাচাই করে একীভূত প্রক্রিয়া শুরু হবে জুলাই মাস থেকে এবং অক্টোবরের মধ্যে শেষ হবে। একীভূত ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ১০ শতাংশের নিচে রাখার জন্য খারাপ ঋণগুলো হস্তান্তর করা হবে সম্পদ ব্যবস্থাপনা কোম্পানির (AMC) কাছে। এ ছাড়া সরকার ও বিদেশি উন্নয়ন সহযোগীরা মূলধন জোগান দেবে। ব্যাংকের শাখা কমানো, জনবল হ্রাস ও পরবর্তী ধাপে বেসরকারি খাতে শেয়ার ছাড়া হবে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ব্যাংক একীভূত করে মূল সমস্যার সমাধান সম্ভব নয় যদি সুশাসন, খেলাপি ঋণ ও প্রশাসনিক দুর্বলতার মূল কারণ দূর না করা হয়। ড. মুস্তফা কে মুজেরীর মতে, শুধুমাত্র দুর্বল ব্যাংক একত্র করলে শক্তিশালী ব্যাংক তৈরি হবে—এমন নিশ্চয়তা নেই।

বাংলাদেশ ব্যাংক আশ্বস্ত করেছে, প্রাথমিকভাবে কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীকে চাকরিচ্যুত করা হবে না এবং বেতনও কমানো হবে না। তবে ভবিষ্যতে কার্যকরভাবে ব্যবস্থাপনার জন্য প্রশাসক নিয়োগের চিন্তা রয়েছে।

ব্যাংকগুলোর বর্তমান চিত্র

  • শাখা সংখ্যা: ৭৭৯
  • উপশাখা: ৬৯৮
  • গ্রাহক সংখ্যা: প্রায় ৯২ লাখ
  • মোট ঋণ: ২ লাখ ১৫ হাজার কোটি টাকা
  • মোট আমানত: ১ লাখ ৪৫ হাজার কোটি টাকা
  • খেলাপি ঋণ: ১ লাখ ৪৭ হাজার কোটি টাকা
  • প্রভিশন ঘাটতি: ৭৪ হাজার ৫০১ কোটি টাকা

অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, একীভূতকরণ কার্যকর করতে হলে স্বচ্ছতা, দক্ষতা ও নীতিমালার যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।

“এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /”




নতুন বাজেটে কালো টাকা বৈধ করার সুযোগ বাতিল: যা বললেন অর্থ উপদেষ্টা

২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য অনুমোদিত নতুন বাজেটে অপ্রদর্শিত অর্থ বা কালো টাকা সাদা করার সুযোগ সম্পূর্ণভাবে বাতিল করা হয়েছে। রোববার (২২ জুন) বিকেলে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানিয়েছেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ।

তিনি জানান, প্রস্তাবিত বাজেটে অ্যাপার্টমেন্ট বা ফ্ল্যাট কেনা এবং ভবন নির্মাণে বাড়তি কর পরিশোধের মাধ্যমে কালো টাকা বৈধ করার সুযোগ রাখা হয়েছিল। তবে বিভিন্ন মহলের দাবি ও প্রতিক্রিয়ার প্রেক্ষিতে চূড়ান্ত বাজেট অনুমোদনের সময় সেই প্রস্তাব বাতিল করা হয়েছে।

এ বিষয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান বলেন, “প্রাথমিক বাজেটে বাড়তি করের মাধ্যমে কালো টাকা সাদা করার প্রস্তাব ছিল। কিন্তু তা বাদ দেওয়া হয়েছে। ফলে এখন আর এই ধরনের কোনো সুযোগ থাকছে না।”

এর আগে সকালে উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকার বাজেট অনুমোদন করা হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। আগামী ১ জুলাই থেকে রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশের মাধ্যমে নতুন বাজেট কার্যকর হবে।

জুলাই অভ্যুত্থানের পর গঠিত বর্তমান প্রশাসনের বাস্তবতায় এবার সংসদের বাইরে বাজেট উপস্থাপন করেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। ২ জুন বাজেটের মূল বক্তব্য রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার মাধ্যম বিটিভিসহ বিভিন্ন টিভি চ্যানেলে সম্প্রচারিত হয়। বাজেট ঘোষণার পর অর্থ মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে ১৯ জুন পর্যন্ত নাগরিকদের মতামত সংগ্রহ করা হয়।

উল্লেখ্য, গণতান্ত্রিক সরকারব্যবস্থায় বাজেট সাধারণত জাতীয় সংসদে উত্থাপন ও পাস হয়। সংসদীয় আলোচনার মাধ্যমে বাজেটের বিভিন্ন দিক নিয়ে মতবিনিময় করা হয়। তবে চলমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় এবার সে প্রক্রিয়া অনুসরণ করা সম্ভব হয়নি।